ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে ২ নারী

ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে ২ নারী

ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে নাম লেখানো অ্যান ইদালগো (বামে) ও মেরি ল্যু পেন। ছবি: সংগৃহীত

বিভিন্ন জনমত জরিপে আভাস মিলছে যে ২০১৭ সালের নির্বাচনের মতো ২০২২ সালেও মূল প্রতিযোগিতা হবে মেরি ল্যু পেন আর ইম্যানুয়েল মাখোঁর মধ্যে। অ্যান ইদালগোকে নিয়ে এখনও নিশ্চিত নয় ফ্রান্স। তবে ইদালগোর যুক্তি- সবসময়েই জনমত জরিপকে ভুল প্রমাণ করে এসেছেন তিনি।

ফ্রান্সে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইম্যানুয়েল মাখোঁকে হারানোর দৌড়ে এবার নাম লিখিয়েছেন দুই বর্ষীয়ান নারী রাজনীতিবিদ। রোববার থেকে প্রচার শুরু করেছেন কট্টর ডানপন্থি ন্যাশনাল র‍্যালির মেরি ল্যু পেন ও প্যারিসের সমাজবাদী মেয়র অ্যান ইদালগো।

টার্কিশ রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশনের (টিআরটি) প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী বছরের এপ্রিলে দুই দফা ভোটের পর জানা যাবে, কে হবেন পরের প্রেসিডেন্ট। পেন বা ইদালগো, কোনো একজনেরও যদি ভাগ্যের শিঁকে ছেড়ে, তাহলে ইতিহাসে প্রথমবার নারী প্রেসিডেন্ট পাবে ফ্রান্স।

এরই মধ্যে নিজেদের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে জনপ্রিয়তাও পেতে শুরু করেছেন দুই নারী। শেষ পর্যন্ত জয় কার হবে, তা এখনই অনুমান করা যাচ্ছে না। তবে এখন পর্যন্ত মাখোঁর সঙ্গে লড়াইয়ে সবচেয়ে এগিয়ে তারাই।

মেরি ল্যু পেন

৫৩ বছর বয়সী এই কট্টর ডানপন্থি নারী নির্বাচনি প্রচার শুরু করেছেন দক্ষিণের শহর ফ্রেজাস থেকে।

অভিবাসীবিরোধী মনোভাবের জন্য ব্যাপক পরিচিত ল্যু পেন ফ্রান্সের কিছু অংশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অঞ্চলগুলোকে ‘তালেবানের আখড়া’ আখ্যা দিয়েছেন তিনি।

করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে রেস্তোরাঁ, বারসহ বদ্ধ বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে প্রবেশ করতে হলে টিকাগ্রহণ অথবা করোনা নেগেটিভ থাকার প্রমাণ দেখানো বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দিয়েছেন মাখোঁ। মাখোঁর এ পদক্ষেপকে পুঁজি করে বিরোধীদের সমর্থন পাওয়ারও চেষ্টা করছেন ল্যু পেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা টিকার বিরুদ্ধে নই। কিন্তু টিকা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিস্বাধীনতায় বিশ্বাস করি আমরা। কে টিকা নেবে, কে নেবে না- সে সিদ্ধান্ত তার ওপরেই ছেড়ে দেয়া উচিত।’

ল্যু পেনের বিশেষ কাউন্সিলর ফিলিপ অলিভিয়ার জানান, মধ্যপন্থি ভোটারদের সমর্থনও চান এই নারী রাজনীতিক। এজন্য সম্প্রতি বরাবরের গাঢ় নীল পোশাকের বদলে হালকা নীল পোশাক পরতে শুরু করেছেন তিনি। কারণ নির্বাচনকালীন এ সময়ে মধ্যপন্থিদের মধ্যে নিজেকে ‘কম পক্ষপাতদুষ্ট ও অনমনীয়’ দেখাতে চান তিনি।

অ্যান ইদালগো

নরম্যান্ডি অঞ্চলের রুয়েন শহর থেকে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন ৬২ বছর বয়সী ইদালগো।

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের প্রশাসনিক দায়িত্ব নেয়া প্রথম নারী তিনি। প্যারিসের মেয়র হন ২০১৪ সালে। বর্তমানে সোশ্যালিস্ট পার্টির মনোনয়নে সবচেয়ে এগিয়ে তিনি।

কট্টর অভিবাসনবিরোধী ল্যু পেনের বিপরীতে জনসমর্থন আদায়ে পারিবারিক অভিবাসনের ইতিহাস আর নিজের হিস্প্যানিক বংশপরিচয়কে পুঁজি করেছেন হিদালগো।

স্বৈরাচারী স্প্যানিশ জেনারেল ফ্রান্সিসকো ফ্রাঙ্কোর শাসনামলে স্পেন থেকে পালিয়ে ফ্রান্সে আশ্রয় নেয় ইদালগোর পরিবার। সে সময় ইদালগোর বয়স ছিল মাত্র দুই বছর।

৬০ বছরের ব্যবধানে ফরাসি সমাজে বৈষম্য বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেসব সুবিধা শৈশবে আমি ফ্রান্সে পেয়েছিলাম, তার সবটা এদেশের এখনকার সব শিশুর জন্য নিশ্চিত করতে চাই আমি।’

কর্মজীবী শ্রেণির নারী হিসেবে সামাজিক বিভাজন নির্মূলে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন ইদালগো। বামপন্থি শাসনে হতাশ শ্রমিক সম্প্রদায়ের সমর্থনও বাড়ছে তার প্রতি।

নির্বাচনি প্রচারে পরিবেশবান্ধব পদক্ষেপের ওপর জোর দিচ্ছেন হিদালগো; ফ্রান্স ছেড়ে বাইরে স্থানান্তরিত শিল্পকারখানাগুলোকে দেশে ফিরিয়ে আনা, বেতনকাঠামো বৃদ্ধি ও শিক্ষার মানোন্নয়নের ওপরেও দিচ্ছেন গুরুত্ব।

নিজের পক্ষপাতহীন ভাবমূর্তির প্রচারে পুরো গ্রীষ্ম ফ্রান্সের প্রত্যন্ত গ্রাম ও মফস্বলে ঘুরে বেড়িয়েছেন ইদালগো।

করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে এবং পরিবেশ দূষণ কমাতে সড়কে সাইকেলের জন্য আলাদা লেন তৈরি হয়েছে তারই উদ্যোগে।

তবে ভোটের রাজনীতিতে জিততে ইদালগোর এসব পদক্ষেপ কতটা কাজে দেবে, সে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়। দলের পূর্ণ সমর্থন পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী হলেও বামপন্থিদের মধ্যে বিভেদের কারণে মনোনয়ন পেতে বাধার মুখে পড়তে পারেন তিনি।

মাখোঁ কি পুনঃনির্বাচন করবেন?

ফ্রান্সের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল মাখোঁ। তিনি আবারও নির্বাচনে দাঁড়াবেন বলে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেননি। তবে চলতি মাসে মার্সেইল শহরে সফরের সময়ে শত-কোটি ডলারের উন্নয়নমূলক বিনিয়োগের আশ্বাস দেন তিনি, যেগুলো তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বলেই মনে করা হচ্ছে।

বিভিন্ন জনমত জরিপে আভাস মিলছে যে ২০১৭ সালের নির্বাচনের মতো ২০২২ সালেও মূল প্রতিযোগিতা হবে পেন আর মাখোঁর মধ্যে। ইদালগোকে নিয়ে এখনও নিশ্চিত নয় ফ্রান্স।

তবে প্যারিসে দেয়া বক্তব্যে ইদালগোর যুক্তি- সবসময়েই জনমত জরিপকে ভুল প্রমাণ করে এসেছেন তিনি।

আরও পড়ুন:
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হতে লড়বেন প্যারিস মেয়র ইদালগো
রেস্তোরাঁ-সিনেমা হলে হেলথ পাস, ফ্রান্সে লাখো মানুষের বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নারী অধিকারকর্মী কমলা ভাসিনের প্রয়াণ

নারী অধিকারকর্মী কমলা ভাসিনের প্রয়াণ

ভারতীয় নারী অধিকারকর্মী ও লেখক কমলা ভাসিন আর নেই। ছবি: সংগৃহীত

কমলা ভাসিনের মৃত্যুর খবর জানিয়ে ভারতীয় নারী অধিকারকর্মী কবিতা শ্রীবাস্তব টুইটবার্তায় বলেন, ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে কাজ করতে ভালোবাসতেন কমলা। কমলা, আপনি চিরদিন আমাদের হৃদয়ে থাকবেন। নারীসমাজ কমলার অন্তিম যাত্রায় গভীরভাবে শোকাহত।’

ভারতের প্রখ্যাত নারী অধিকারকর্মী ও লেখক কমলা ভাসিন আর নেই।

শুক্রবার দিবাগত রাতে তার মৃত্যু হয় বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

কমলা ভাসিনের মৃত্যুর খবর জানিয়ে ভারতীয় আরেক নারী অধিকারকর্মী কবিতা শ্রীবাস্তব টুইটবার্তায় বলেন, ‘শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে আমাদের প্রাণপ্রিয় বন্ধু কমলা ভাসিন চলে গেছেন। কমলার প্রয়াণ ভারতসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় নারী আন্দোলনে বড় ধরনের আঘাত।’

তিনি বলেন, ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে কাজ করতে ভালোবাসতেন কমলা। কমলা, আপনি চিরদিন আমাদের হৃদয়ে থাকবেন। নারীসমাজ কমলার অন্তিম যাত্রায় গভীরভাবে শোকাহত।’

৭০-এর দশকে ভারতের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় নারী আন্দোলনে আলোচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হন কমলা।

গ্রামীণ ও আদিবাসী সুবিধাবঞ্চিত নারীদের নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যে ২০০২ সালে ‘সঙ্গত’ নামে নারীবাদী নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।

মঞ্চনাটক, গান ও অন্যান্য শিল্পকলার মাধ্যমে নারীদের বঞ্চনার কথা তুলে ধরে সঙ্গত।

নারীবাদ ও জেন্ডার তত্ত্ব নিয়ে বেশ কয়েকটি বই লেখেন কমলা, যেগুলো ৩০টির বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

কয়েক দশক ধরে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদ-বিক্ষোভে ‘আজাদি’ স্লোগান দেয়া হয়ে আসছে।

পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে কমলাই প্রথম ওই স্লোগানকে হাজির করেন, যা পরে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

আরও পড়ুন:
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হতে লড়বেন প্যারিস মেয়র ইদালগো
রেস্তোরাঁ-সিনেমা হলে হেলথ পাস, ফ্রান্সে লাখো মানুষের বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

আদিবাসী শিশু হত্যায় ক্ষমা চাইলেন ক্যাথলিক বিশপরা

আদিবাসী শিশু হত্যায় ক্ষমা চাইলেন ক্যাথলিক বিশপরা

চলতি বছরের মে মাসে কানাডার পরিত্যক্ত এই স্কুল থেকে ২১৫টি আদিবাসী শিশুর দেহাবশেষ পাওয়া যায়। ছবি: ক্যামলুপস দিজ উইক

শুক্রবার কানাডিয়ান কনফারেন্স অফ ক্যাথলিক বিশপস এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আদিবাসী শিশুদের ওপর আমাদের সম্প্রদায়ের কয়েকজন সদস্য ভয়াবহ শারীরিক, মানসিক, আধ্যাত্মিক, সাংস্কৃতিক ও যৌন নির্যাতন চালিয়েছে। আমরা ওই সব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করছি।’

কানাডায় ক্যাথলিক গির্জা পরিচালিত আবাসিক স্কুলে শতবর্ষ ধরে আদিবাসী শিশু নির্যাতনের ঘটনায় অবশেষে ক্ষমা চেয়েছেন দেশটির বিশপ সম্প্রদায়।

অবশ্য ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস এখনও ওই সব ঘটনায় কোনো ক্ষমা চাননি।

আল জাজিরার শনিবারের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

শুক্রবার কানাডিয়ান কনফারেন্স অফ ক্যাথলিক বিশপস এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আদিবাসী শিশুদের ওপর আমাদের সম্প্রদায়ের কয়েকজন সদস্য ভয়াবহ শারীরিক, মানসিক, আধ্যাত্মিক, সাংস্কৃতিক ও যৌন নির্যাতন চালিয়েছে।

‘আমরা ওই সব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করছি।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘গির্জা পরিচালিত বিভিন্ন আবাসিক স্কুল কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে ওই সব নির্যাতনের ঘটনায় আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়েছে।

‘তাদের পাশাপাশি আমরা, কানাডার ক্যাথলিক বিশপ সম্প্রদায় দ্ব্যর্থহীনভাবে আদিবাসী শিশুদের ওপর অত্যাচারের ঘটনায় অনুতাপ ও দুঃখ প্রকাশ করছি।’

কানাডা সরকারের নীতি অনুযায়ী ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে লাখখানেক আদিবাসী শিশুকে জোর করে পরিবার থেকে আলাদা করে ক্যাথলিক গির্জা পরিচালিত আবাসিক স্কুলে ভর্তি করানো হতো।

১৮৩১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বলবৎ থাকা ওই নীতির কারণে প্রায় দেড় লাখ আদিবাসী শিশু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়।

মূলধারার সংস্কৃতি আত্মস্থ করাতে ক্যাথলিক গির্জা পরিচালিত ওই সব স্কুলে শিশুদের মাথার চুল কেটে দেয়া হতো।

স্কুলে নিজেদের ভাষায় কথা বলা নিষেধ ছিল ওই শিশুদের। নিজেদের সংস্কৃতিচর্চারও অনুমতি ছিল না তাদের।

ওই ঘটনাকে পরে ‘সাংস্কৃতিক গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

চলতি বছরের মে মাসে রাডার জরিপের সময় কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া অঙ্গরাজ্যে পরিত্যক্ত এক আবাসিক স্কুল থেকে ২১৫টি আদিবাসী শিশুর দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।

ওই শিশুরা ক্যামলুপস ইন্ডিয়ান রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল। ১৯৭৮ সালে স্কুলটি বন্ধ করা হয়।

সে সময় কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছিলেন, ‘ভয়াবহ এ আবিষ্কার আমার হৃদয় ভেঙে দিয়েছে। এটি আমাদের দেশের ইতিহাসের কালো ও লজ্জাজনক অধ্যায় স্মরণ করিয়ে দেয়।’

এ ছাড়া ওই ঘটনায় মনোবেদনা প্রকাশ করেন পোপ ফ্রান্সিস। তবে তিনি কোনো ক্ষমা চাননি।

এরপর গত কয়েক মাসে দেশটির বিভিন্ন আবাসিক স্কুল প্রাঙ্গণে আরও হাজারখানেকের মতো আদিবাসী শিশুর দেহাবশেষ মেলে।

ক্যাথলিক গির্জা পরিচালিত আবাসিক স্কুলগুলো নিয়ে কয়েক বছর আগে তদন্ত করে কানাডিয়ান ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন (টিআরসি)।

২০১৫ সালে কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, শিশুরা ওই সব স্কুলে অপুষ্টিতে ভুগত। নিয়মিত তাদের পেটানো ও গালাগাল দেয়া হতো।

আরও পড়ুন:
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হতে লড়বেন প্যারিস মেয়র ইদালগো
রেস্তোরাঁ-সিনেমা হলে হেলথ পাস, ফ্রান্সে লাখো মানুষের বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

মেক্সিকোর তিন-চতুর্থাংশ অঞ্চলে সমলিঙ্গের বিয়ে বৈধ

মেক্সিকোর তিন-চতুর্থাংশ অঞ্চলে সমলিঙ্গের বিয়ে বৈধ

সমলিঙ্গের বিয়ে বৈধ হয়েছে মেক্সিকোর তিন-চতুর্থাংশ অঞ্চলে। ছবি: এএফপি

মেক্সিকোর সোনোরা অঙ্গরাজ্যের কংগ্রেস বৃহস্পতিবার সমলিঙ্গের বিয়ের পক্ষে ২৬টি ও বিপক্ষে সাতটি ভোট দেয়।

সমলিঙ্গের বিয়ে বৈধ করেছে মেক্সিকোর সোনোরা অঙ্গরাজ্যের কংগ্রেস।

অঙ্গরাজ্যটির আইনসভা কংগ্রেসে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সমলিঙ্গের বিয়ের পক্ষে বেশি ভোট পড়ে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সোনোরা অঙ্গরাজ্যে সমলিঙ্গের বিয়ে বৈধ করার মধ্য দিয়ে মেক্সিকোর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ অঞ্চল এই আইনের আওতায় এলো।

মেক্সিকোর উত্তরাঞ্চলে বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে গঠিত সোনোরা। সীমান্তে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আরিজোনা ও নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্য।

বৃহস্পতিবার সোনোরার আইনপ্রণেতারা সমলিঙ্গের বিয়ের পক্ষে ২৬টি ও বিপক্ষে সাতটি ভোট দেন।

মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত দেশটির অন্যতম রক্ষণশীল অঙ্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত কোয়েরেতারোও বুধবার নিজেদের আইন পরিবর্তন করে সমলিঙ্গের বিয়ের অনুমোদন দেয়।

মেক্সিকোভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির ৩২টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে সমলিঙ্গের অনুমোদন দেয়া কোয়েরেতারো ২৩তম অঙ্গরাজ্য।

২০০৯ সালে মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটি প্রথম সমলিঙ্গের বিয়ের বৈধতা দেয়।

এর পরই বিয়ের সমতা ও এলজিবিটি সম্প্রদায়ের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার হয় মেক্সিকোর বাকি অঞ্চল।

মেক্সিকোর বামপন্থি প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাদোরের রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল রিজেনারেশন মুভমেন্টের (মরিনা) অনেক কর্মী সমলিঙ্গের বিয়েসহ অন্যান্য অধিকারের কড়া সমর্থক।

রাজধানী মেক্সিকো সিটির পাশাপাশি আগুয়াসকালিয়েনতিস, বাহা ক্যালিফোর্নিয়া, বাহা ক্যালিফোর্নিয়া সুর, কামপেচি, চিয়াপাস, চিহুয়াহুয়া, কোয়াহুইলা, কলিমা, হিদ্যালগোসহ অন্যান্য অঙ্গরাজ্যেও সমলিঙ্গের বিয়ে গত কয়েক বছরে বৈধ ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুন:
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হতে লড়বেন প্যারিস মেয়র ইদালগো
রেস্তোরাঁ-সিনেমা হলে হেলথ পাস, ফ্রান্সে লাখো মানুষের বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে ৭৫ নারী শিল্পীকে নিয়ে আর্ট ক্যাম্প

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে ৭৫ নারী শিল্পীকে নিয়ে আর্ট ক্যাম্প

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হয়েছে আর্ট ক্যাম্প। ছবি: সংগৃহীত

আর্ট ক্যাম্পের চিত্রকর্মগুলো নিয়ে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার ১ নম্বর গ্যালারিতে শুরু হবে মাসব্যাপী প্রদর্শনী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ৭৫ নারী শিল্পীর অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী আর্ট ক্যাম্প।

একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় বুধবার উদ্বোধন হয় ‘শেখ হাসিনা: বিশ্বজয়ী নন্দিত নেতা’ শীর্ষক এ ক্যাম্পের।

শিল্পকলা একাডেমির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর ভাবনা ও পরিকল্পনায় দুই দিনের এই আর্ট ক্যাম্পে শিল্পী ফরিদা জামান, নাইমা হক, রোকেয়া সুলতানা, কুহু প্লামনডন, কনক চাঁপা চাকমা, আইভি জামান, ফারজানা আহমেদ শান্তা, সীমা ইসলাম, জয়া শাহরীন হক ও সৈয়দা মাহবুবা করিমসহ ৭৫ জন নারী শিল্পী অংশ নিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে ৭৫ নারী শিল্পীকে নিয়ে আর্ট ক্যাম্প
‘শেখ হাসিনা: বিশ্বজয়ী নন্দিত নেতা’ শীর্ষক আর্টক্যাম্পে অংশ নেয়া চিত্রশিল্পীরা। ছবি: সংগৃহীত

২৩ সেপ্টেম্বর শেষ হবে এ আর্ট ক্যাম্প। এরপর ক্যাম্পের চিত্রকর্মগুলো নিয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার ১ নম্বর গ্যালারিতে শুরু হবে মাসব্যাপী প্রদর্শনী।

আরও পড়ুন:
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হতে লড়বেন প্যারিস মেয়র ইদালগো
রেস্তোরাঁ-সিনেমা হলে হেলথ পাস, ফ্রান্সে লাখো মানুষের বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

কিশোরীকে গণধর্ষণ, অপ্রাপ্তবয়স্কসহ ২৬ আসামি গ্রেপ্তার

কিশোরীকে গণধর্ষণ, অপ্রাপ্তবয়স্কসহ ২৬ আসামি গ্রেপ্তার

প্রতীকী ছবি

গত জানুয়ারিতে প্রথমবার মেয়েটিকে ধর্ষণ করে মূল অভিযুক্ত এবং পুরো ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করে। এরপর ভিডিওটি প্রকাশের ভয় দেখিয়ে সে এবং বাকিরা মিলে বারবার মেয়েটিকে বিভিন্ন এলাকায় ডাকত এবং ধর্ষণ করত। শেষ পর্যন্ত বুধবার রাতে দোম্বিভালির মানপাড়া থানায় হাজির হয়ে অভিযোগ জানায় মেয়েটি; নাম উল্লেখ করে ২৯ জনের।

নয় মাস ধরে ১৫ বছরের এক কিশোরীকে গণর্ধষণের পর প্রকাশ্যে এসেছে বর্বর এ ঘটনা। জানা গেছে, ২৯ জন পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে তাকে। অভিযুক্তদের মধ্যে দুইজন অপ্রাপ্তবয়স্ক।

গা শিউড়ে ওঠার মতো এ ঘটনা ঘটেছে ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের থানে জেলায়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বারবার ধর্ষণের শিকার হয়েছে মেয়েটি।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, থানের দোম্বিভালি এলাকায় এ ঘটনায় অপ্রাপ্তবয়স্ক দুইজনসহ ২৬ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনজন পলাতক।

পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার দাত্তা কারালে জানান, মূল অভিযুক্ত অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেটি ধর্ষণের শিকার মেয়েটির বন্ধু ছিল। গত জানুয়ারিতে প্রথমবার সে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে এবং পুরো ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করে।

এরপর ভিডিওটি প্রকাশের ভয় দেখিয়ে মূল অভিযুক্ত এবং বাকিরা মিলে বারবার মেয়েটিকে বিভিন্ন এলাকায় ডাকত এবং ধর্ষণ করত।

শেষ পর্যন্ত বুধবার রাতে দোম্বিভালির মানপাড়া থানায় হাজির হয়ে নিজে অভিযোগ জানায় মেয়েটি। এরপরই প্রকাশ্যে আসে ঘটনাটি। ধর্ষণের ঘটনায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ করেছে সে।

ধর্ষণের শিকার মেয়েটি বর্তমানে একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।

এ ঘটনায় গণধর্ষণ ও যৌন অপরাধের বিরুদ্ধে শিশুসুরক্ষা আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, যেসব স্থানে মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে, সেসব স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তদন্তের জন্য ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের ডেকে পাঠানো হয়েছে। ভিডিওসহ অন্যান্য প্রমাণও সংগ্রহ করেছে পুলিশ।

অভিযুক্তদের প্রায় সবাই একই এলাকার বাসিন্দা এবং ধর্ষণের শিকার মেয়েটি ও মূল অভিযুক্তের পরিচিত।

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন মহারাষ্ট্রের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতা দেবেন্দ্র ফড়নাভিস।

এনসিপির আইনপ্রণেতা বিদ্যা চাভান জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের কয়েকজন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্য। তাদের রাজনৈতিক পরিচয় যেন ধর্ষণের বিচারে বাধা না হয়, তা নিশ্চিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বানও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হতে লড়বেন প্যারিস মেয়র ইদালগো
রেস্তোরাঁ-সিনেমা হলে হেলথ পাস, ফ্রান্সে লাখো মানুষের বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

মণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুর

মণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুর

জেলার পূজা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক তুহিন চাকী বলেন, ‘আগামী ৬ অক্টোবর মহালয়ার মাধ্যমে দুর্গোৎসব শুরু হওয়ার কথা। এখন এ ঘটনা ঘটল।’

কুষ্টিয়ায় একটি পূজামণ্ডপে ভাঙচুর চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা, ভেঙে ফেলা হয়েছে দুর্গাপূজার জন্য নবনির্মিত বেশ কিছু প্রতিমা।

শহরের আড়ুয়াপাড়ার আইকা সংঘ পূজামণ্ডপে মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিউজবাংলাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি- তদন্ত) নিশিকান্ত সরকার।

দুর্গাপূজা আয়োজনে ওই মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষের দিকে ছিল বলে জানায় জেলার পূজা উদযাপন পরিষদ। পুরোনো কোনো বিরোধের জেরে দুর্বৃত্তরা এই কাজ করেছে বলে ধারণা পরিষদের নেতাদের।

এর সাংগঠনিক সম্পাদক তুহিন চাকী জানান, মঙ্গলবার রাত ৩টার পর মণ্ডপ কমিটির লোকজন প্রতিমা ঢেকে রেখে বাড়ি চলে যান। বুধবার সকাল ৭টার দিকে এলাকার এক নারী মণ্ডপের পাশে একটি প্রতিমার মাথা পড়ে থাকতে দেখে সংশ্লিষ্টদের খবর দেন।

পরে মণ্ডপ কমিটির সদস্যরা গিয়ে দেখেন, দুর্গা, লক্ষ্মী, স্বরস্বতী, কার্তিক ও অসুরের প্রতিমা ভেঙে ফেলা হয়েছে।

তুহিন বলেন, ‘আগামী ৬ অক্টোবর মহালয়ার মাধ্যমে দুর্গোৎসব শুরু হওয়ার কথা। এখন এ ঘটনা ঘটল। সবগুলো প্রতিমার ক্ষতি করা হয়েছে।’

তিনি ও মণ্ডপ কমিটির নেতারা জানিয়েছেন, স্থানীয় এক পৌর কাউন্সিলরের সঙ্গে এলাকার একটি গোষ্ঠির দ্বন্দ্বের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের ধারণা।

আরও পড়ুন:
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হতে লড়বেন প্যারিস মেয়র ইদালগো
রেস্তোরাঁ-সিনেমা হলে হেলথ পাস, ফ্রান্সে লাখো মানুষের বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

নারীদের ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের বিশেষ উদ্যোগ

নারীদের ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের বিশেষ উদ্যোগ

নারীদের ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দিতে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। ছবি: নিউজবাংলা

দেড় বছরে আটটি কেন্দ্রে ত্রিশজন করে ছয়টি ব্যাচে মোট ১ হাজার ৪৪০ জন নারীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় সনদ দেয়া হবে।

দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে দেড় হাজার নারীকে মোটর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দেবে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর।

রাজধানীতে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের সাথে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রাম চন্দ্র দাস ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে সই করেন।

কর্মকর্তারা জানান, আয়বর্ধক প্রকল্পের মাধ্যমে এ প্রশিক্ষণ হবে। সাতটি বিভাগীয় শহর ও পাবনা জেলায় নারীদের মোটর ড্রাইভিং এবং বেসিক মেইন্টেইন্স বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

আগামী দেড় বছরে আটটি কেন্দ্রে ত্রিশজন করে ছয়টি ব্যাচে মোট ১ হাজার ৪৪০ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় সনদ দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হতে লড়বেন প্যারিস মেয়র ইদালগো
রেস্তোরাঁ-সিনেমা হলে হেলথ পাস, ফ্রান্সে লাখো মানুষের বিক্ষোভ

শেয়ার করুন