তালেবান শাসনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে মধ্যপ্রাচ্যেও

তালেবান শাসনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে মধ্যপ্রাচ্যেও

১৫ আগস্ট কাবুলে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে প্রবেশ করে তালেবান যোদ্ধারা। ফাইল ছবি

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের এক কর্মকর্তা মনে করছেন, আফগানিস্তান থেকে তাড়াহুড়ো করে বিশৃঙ্খলভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারও উপসাগরীয় দেশগুলোকে বেশ কিছু প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। পরবর্তী ২০ বছরে নিরাপত্তা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া প্রতিশ্রুতির বিশ্বাসযোগ্যতাও এখন প্রশ্নবিদ্ধ।

ভূমিকম্পের মতোই তালেবানের আফগানিস্তান দখলের প্রভাব আশপাশের অঞ্চলগুলোতে অনেক বছর থেকে যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে আর্থ-সামাজিক ও ভূরাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে তালেবানশাসিত আফগানিস্তান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, কট্টরপন্থি তালেবান সাংগঠনিক আধুনিকায়নের কথা বললেও কার্যত তারা আগের মতোই আছে। দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতা নেয়ার প্রথম মাসের তালেবান সরকার আর ২০ বছর আগে প্রথম ক্ষমতায় থাকা তালেবান সরকারের মধ্যে খুব একটা পার্থক্য দেখা যাচ্ছে না।

ওই কর্মকর্তার মতে, আফগানিস্তান থেকে তাড়াহুড়ো করে বিশৃঙ্খলভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারও পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে বেশ কিছু প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। পরবর্তী ২০ বছরে নিরাপত্তা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া প্রতিশ্রুতির বিশ্বাসযোগ্যতাও এখন প্রশ্নবিদ্ধ।

তিনি বলেন, ‘ভূমিকম্পের মতো আমাদের ওপর ভেঙে পড়েছে আফগানিস্তান। এই সংকট অনেক, অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী হবে…পরের ২০ বছর কি আমরা আসলেই যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া নিরাপত্তার ছায়ার ওপর নির্ভর করতে পারব? আমার মনে হয় যে, পরিস্থিতি এখন সত্যিই জটিল, ভীষণ জটিল।’

তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পারস্য উপসাগরবিষয়ক নীতিমালা কার্টার ডকট্রিনের সঙ্গেই সাংঘর্ষিক ছিল আফগানিস্তান অধ্যায়।

১৯৮০ সালে এ নীতিটি গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের কথা বলা হয়েছিল নীতিটিতে। মূলত বিদেশি তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতার সঙ্গে সম্পৃক্ত নীতিটি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা মনে করেন, আফগানিস্তানে দুই দশকের ‘যুদ্ধটি ছিল মূলত তাদের বিরুদ্ধে, যারা ইসলাম ধর্মকে ব্যবহার করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছিল।’ অথচ বিদেশি ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘতম এই যুদ্ধে লাখো মানুষের প্রাণ গেলেও শেষ পর্যন্ত লড়াই শেষ হয়েছে কার্যকর কোনো সমাধান ছাড়াই।

তার অনুমান, তালেবানের হঠাৎ আফগানিস্তান দখল পশ্চিম আফ্রিকা ও সাহেল অঞ্চলের নেতাদের মধ্যেও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, তালেবানের শাসন অঞ্চলটিতে ইসলামপন্থি উগ্রবাদীদের নতুন করে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে পারে।

নব্বইয়ের দশকের তুলনায় একবিংশ শতাব্দীর তালেবানের আচরণে ভিন্নতার আশা রাখাও বোকামি বলে উল্লেখ করেন ওই কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ‘এ কথা ঠিক যে, এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আগের তুলনায় আরও বেশি সংযুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছে গোষ্ঠীটি। কিন্তু তাদের মূলে কোনো পরিবর্তন আসেনি।’

তার মতে, আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতিকে সম্ভবত পাকিস্তানের জন্য জয় আর চীনের জন্য নতুন সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ন্যূনতম।

তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানকে নিয়ে ভূরাজনৈতিক লড়াই হলে একদিকে থাকবে পাকিস্তান ও চীন, অন্যদিকে থাকবে ভারত, ইরান আর রাশিয়া। এখানে যুক্তরাষ্ট্র আর কখনো কেন্দ্রীয় শক্তিতে উঠে আসতে পারবে বলে আমার মনে হয় না।’

পারস্য উপসাগরীয় অনেক দেশ এরই মধ্যে নিজেদের পররাষ্ট্র নীতিমালা ঢেলে সাজাতে শুরু করেছে। সম্ভাব্য নতুন নীতিমালায় তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতার মতো বিষয়গুলোকে বাদ দেয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ওই কর্মকর্তার মতে, ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে দেখা যেতে পারে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদেরও।

সৌদি আরব ও রাশিয়ার মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর কার্বন পরবর্তী যুগের লক্ষণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ওই কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দূরত্বের ফলে নিরাপত্তায় যেন হুমকি তৈরি না হয়, তা নিশ্চিতে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের উৎসে বৈচিত্র্য আনতে চায়।

ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির আমলেই সৌদি আরবের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। তবে সে উদ্যোগ কেবল গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানে সহযোগিতার মধ্যেই সীমিত ছিল। ভবিষ্যতে তেহরান-রিয়াদের আলোচনার পরিসর আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

পারস্য অঞ্চলে নতুন মিত্রের খোঁজে গত এক বছরে তৎপর হয়েছে বিভিন্ন দেশ। ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক তৈরি করেছে বাহরাইনসহ বেশ কয়েকটি দেশ। সিরিয়ার সঙ্গে আরব আমিরাতও কূটনৈতিক সম্পর্কে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

দীর্ঘ যুদ্ধের চাপে ‘প্রেশার কুকারে’ থাকা মধ্যপ্রাচ্যকে শান্ত করতে এসব পদক্ষেপ কাজে আসবে বলে আশাবাদী বিশ্লেষকরা।

আরও পড়ুন:
১১০ কোটি ডলার অনুদান পেতে পারে আফগানিস্তান
স্যাটেলাইটের ছবিতে পাক সীমান্তে হাজারো আফগান
কোনো প্রতিশ্রুতিই রাখছে না তালেবান: জাতিসংঘ
নগদ অর্থ নেই, ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করছেন আফগানরা
তালেবান শাসনে প্রথম ফ্লাইট গেল পাকিস্তান

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিদেশে শিক্ষাবৃত্তি পেয়েও পড়তে যেতে পারছে না আফগান শিক্ষার্থীরা

বিদেশে শিক্ষাবৃত্তি পেয়েও পড়তে যেতে পারছে না আফগান শিক্ষার্থীরা

তালেবান দেশের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর কাবুলের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একই শ্রেণিকক্ষে বসা পুরুষ ও নারী শিক্ষার্থীদের মাঝে পর্দা দিয়ে পাঠদানের ছবিটি ভাইরাল হয়। ছবি: টোলো নিউজ

প্রতি বছর ভারত, রাশিয়া, পাকিস্তান, চীন, জাপান, উজবেকিস্তান ও তুরস্কে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়ে থাকে। গত দুই দশকে বিদেশে শিক্ষাবৃত্তি পেয়ে উপকৃত হয়েছে ৪০ হাজারের বেশি আফগান শিক্ষার্থী।

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের পাসপোর্ট অফিস বন্ধ। তাই বিদেশে ভ্রমণবিষয়ক কাগজপত্র সংগ্রহের উপায় নেই। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষাবৃত্তি পাওয়া অনেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর বিদেশে যাওয়ার পথ বন্ধ।

আফগান সংবাদমাধ্যম টোলো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাসপোর্ট নবায়ন করতে না পারায় অনেক শিক্ষার্থীর ভিসা পাওয়ার পথ বন্ধ।

এমনই একজন শিক্ষার্থী নাজিউল্লাহ আরিয়ামেহর গত বছর রাশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবস্থাপনায় শিক্ষাবৃত্তি পেয়েছেন। সে সময় করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সীমান্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাশিয়ায় যেতে পারেননি তিনি।

তবে গত এক বছরে পুরোপুরি অলস বসে না থেকে অনলাইনে রুশ ভাষা শিখেছেন তিনি।

নাজিউল্লাহ বলেন, ‘আমাদের কথা শোনার কেউ নেই। অথচ গুরুতর সমস্যায় পড়েছি আমরা।’

কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, এরই মধ্যে বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্লাস শুরু হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে পাসপোর্টের কাজ শেষ করা দরকার তাদের।

মোহাম্মদ জামির রহমানি বলেন, ‘ভিসা পেতে হলে পাসপোর্ট হালনাগাদ করতে হবে। ভিসা না পেলে শিক্ষা গ্রহণ থেকেও বঞ্চিত হব আমরা।

আরেক শিক্ষার্থী সিকান্দার জামিলি বলেন, ‘বৃত্তিও হারাব… আমার মতো তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।’

এদিকে, তালেবান শাসকদলের অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে দেশেই কাজে লাগাতে চায় তারা।

তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপমন্ত্রী জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ‘দেশে এখন দক্ষ তরুণ পেশাজীবীদের দরকার। তাদের নিয়োগ দেয়ার পরিকল্পনা আছে আমাদের। কেউ বেকার বসে থাকবে না।’

বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, প্রতি বছর ভারত, রাশিয়া, পাকিস্তান, চীন, জাপান, উজবেকিস্তান ও তুরস্কে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়ে থাকে।

গত দুই দশকে বিদেশে শিক্ষাবৃত্তি পেয়ে উপকৃত হয়েছে ৪০ হাজারের বেশি আফগান শিক্ষার্থী।

আরও পড়ুন:
১১০ কোটি ডলার অনুদান পেতে পারে আফগানিস্তান
স্যাটেলাইটের ছবিতে পাক সীমান্তে হাজারো আফগান
কোনো প্রতিশ্রুতিই রাখছে না তালেবান: জাতিসংঘ
নগদ অর্থ নেই, ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করছেন আফগানরা
তালেবান শাসনে প্রথম ফ্লাইট গেল পাকিস্তান

শেয়ার করুন

পিএইচডিধারীর বদলে উপাচার্য পদে স্নাতক পাস, ৭০ শিক্ষকের পদত্যাগ

পিএইচডিধারীর বদলে উপাচার্য পদে স্নাতক পাস, ৭০ শিক্ষকের পদত্যাগ

কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য আশরাফ ঘাইরাত (বামে) ও সাবেক উপাচার্য মোহাম্মদ ওসমান বাবুরি। ছবি: খামা নিউজ এজেন্সি

কাবুলের সর্ববৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে আশরাফ ঘাইরাতের নিয়োগে সমালোচনার ঝড় বইয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে। সমালোচকরা গত বছর সাংবাদিক হত্যার সমর্থনে ঘাইরাতের করা একটি টুইট শেয়ার করছেন।

আফগানিস্তানের কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ ওসমান বাবুরিকে বরখাস্ত করেছে শাসকদল তালেবান। বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য করা হয়েছে মোহাম্মদ আশরাফ ঘাইরাতকে।

আফগান সংবাদ সংস্থা খামার বুধবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, পিএইচডি ডিগ্রিধারী উপাচার্যকে বরখাস্ত করে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে স্নাতক পাস এক ব্যক্তিকে।

বিষয়টিতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির ৭০ জন শিক্ষক একযোগে পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগকৃত শিক্ষকদের মধ্যে আছেন বেশ কয়েকজন সহকারী অধ্যাপক ও অধ্যাপক।

কাবুলের সর্ববৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে আশরাফ ঘাইরাতের নিয়োগে সমালোচনার ঝড় বইয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে। সমালোচকরা গত বছর সাংবাদিক হত্যার সমর্থনে ঘাইরাতের করা একটি টুইট শেয়ার করছেন।

তার ওপর আফগানিস্তানের অন্যতম প্রাচীন ও সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ ও বুদ্ধিবৃত্তিক পদটিতে একজন অভিজ্ঞ ও পিএইচডি ডিগ্রিধারীকে সরিয়ে স্রেফ স্নাতক পাস ব্যক্তির নিয়োগ দেয়া ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে।

এ পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে খোদ বেশ কয়েকজন তালেবান নেতাই। তাদের মতে, স্নাতক পাস ঘাইরাতের চেয়ে আরও অনেক যোগ্য ব্যক্তি ছিলেন।

ক্ষমতাচ্যুত আফগান সরকারের আমলে তৎকালীন শিক্ষা মন্ত্রণালয় আশরাফ ঘাইরাতকে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। সে সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মূল্যায়ণ সংস্থা আইইএর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান হন।

এর আগে সোমবার আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট বোরহানউদ্দিন রাব্বানির নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে তালেবান সরকার।

আফগানিস্তানের দ্বিতীয় বৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাতা রাব্বানি ২০০৯ সালে নিজ বাড়িতে আত্মঘাতী হামলায় নিহত হন। তার নামে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পাল্টে করা হয়েছে কাবুল এডুকেশন ইউনিভার্সিটি।

আরও পড়ুন:
১১০ কোটি ডলার অনুদান পেতে পারে আফগানিস্তান
স্যাটেলাইটের ছবিতে পাক সীমান্তে হাজারো আফগান
কোনো প্রতিশ্রুতিই রাখছে না তালেবান: জাতিসংঘ
নগদ অর্থ নেই, ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করছেন আফগানরা
তালেবান শাসনে প্রথম ফ্লাইট গেল পাকিস্তান

শেয়ার করুন

সরকারি চাকরিজীবী নারীদের ঘরে থাকার আদেশ তালেবানের

সরকারি চাকরিজীবী নারীদের ঘরে থাকার আদেশ তালেবানের

কাবুলে তালেবানের বন্ধ করে দেয়া নারী মন্ত্রণালয়ের বাইরে রোববারের এ বিক্ষোভ স্থায়ী হয় মাত্র ১০ মিনিট। ছবি: এপি

এ আদেশের ফলে কত নারী চাকরিচ্যুত হবেন, তা জানা নেই বলে জানিয়েছেন কাবুলের মেয়র। তিনি বলেন, ‘কিছু কাজ আছে, যেগুলো পুরুষরা পারে না। সেসব কাজে নারী কর্মীদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হবে, কারণ এর অন্য বিকল্প নেই।’

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে নগর প্রশাসনের নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাড়িতে থাকার আদেশ দিয়েছে নতুন শাসকদল তালেবান।

কাবুলের অন্তর্বর্তী মেয়র হামদুল্লাহ নামোনি দায়িত্ব গ্রহনের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে জানান, কোনো পদের জন্য পুরুষ কর্মী না পাওয়া গেলে শুধু ওই পদে নারী কর্মীকে বহাল রাখা হবে।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, নারীদের ওপর তালেবানের বিধিনিষেধ জারির ধারাবাহিকতায় রোববার আসে এ ঘোষণা। মেয়র জানান, কাবুলের নগর প্রশাসনের সব বিভাগ মিলে পদ প্রায় তিন হাজার, যার এক-তৃতীয়াংশেই কর্মরত ছিলেন নারীরা।

নামোনি জানান, আপাতত এই নারী কর্মীদের ঘরে থাকার আদেশ দেয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা আসার আগ পর্যন্ত এই আদেশ বহাল থাকবে। নকশা ও প্রকৌশলবিষয়ক বিভাগ ও নারীদের পাবলিক টয়লেটগুলো রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে পর্যাপ্ত পুরুষ কর্মী পাওয়া না গেলে ব্যতিক্রম ঘটতে পারে।

এ আদেশের ফলে কত নারী চাকরিচ্যুত হবেন, তা জানা নেই বলে জানিয়েছেন কাবুলের মেয়র। তিনি বলেন, ‘কিছু কাজ আছে, যেগুলো পুরুষরা পারে না। সেসব কাজে নারী কর্মীদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হবে, কারণ এর অন্য বিকল্প নেই।’

এর আগে শুক্রবার আফগানিস্তানের নারী মন্ত্রণালয় স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয় শাসকগোষ্ঠী। এর প্রতিবাদে আজ বন্ধ হয়ে যাওয়া নারী মন্ত্রণালয়ের বাইরে কয়েকজন নারী বিক্ষোভ করেন। জনজীবনে নারীদের অংশগ্রহণ করতে দেয়ার দাবি জানান তারা।

বিক্ষোভে অংশ নেয়া ৩০ বছর বয়সী বশিরা তাওয়ানা বলেন, ‘কেন তালেবান আমাদের সব অধিকার হরন করছে? আমাদের আর সন্তানদের অধিকার আদায়ের জন্য এখানে এসেছি।’

বিক্ষোভকারীদের একটি ব্যানারে লেখা ছিল, ‘যে সমাজে নারীরা সক্রিয় নয়, সেটা মৃত সমাজ।’

কিন্তু ওই বিক্ষোভ স্থায়ী হয় মাত্র ১০ মিনিট। এক ব্যক্তির সঙ্গে রাস্তাতেই আলোচনার পর বিক্ষোভে অংশ নেয়া নারীরা গাড়িতে চড়ে চলে যান। সে সময় কাছেই দুটি গাড়িতে তালেবান সদস্যরা অবস্থান করছিল।

অন্যদিকে, তালেবানের নির্দেশনা অনুযায়ী শনিবার থেকে মেয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষিকা ছাড়াই আফগানিস্তানের স্কুলগুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

গত মাসে কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর নারী অধিকার নিয়ে নানা আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত কোনো কথাই রাখছে না গোষ্ঠীটি। নব্বইয়ের দশকের শাসনামলের মতোই নারীদের শিক্ষাগ্রহণ, জীবিকা উপার্জনসহ সব মৌলিক অধিকার একে একে বাতিল করছে তারা।

আরও পড়ুন:
১১০ কোটি ডলার অনুদান পেতে পারে আফগানিস্তান
স্যাটেলাইটের ছবিতে পাক সীমান্তে হাজারো আফগান
কোনো প্রতিশ্রুতিই রাখছে না তালেবান: জাতিসংঘ
নগদ অর্থ নেই, ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করছেন আফগানরা
তালেবান শাসনে প্রথম ফ্লাইট গেল পাকিস্তান

শেয়ার করুন

আফগানিস্তানে সিরিজ হামলায় নিহত ৭

আফগানিস্তানে সিরিজ হামলায় নিহত ৭

জালালাবাদে বিস্ফোরণের কাছাকাছি একটি এলাকায় তালেবান সদস্যরা পরিদর্শন করছে। ছবি: এএফপি

ইসলামিক স্টেট অব খোরাসানের (আইএস-কে) দিকে ইঙ্গিত করে তালেবানের সূত্রটি বলে, ‘আইএস-কের টিকে থাকা অংশটি জালালাবাদ ও কাবুলে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে বলে মনে হচ্ছে।’

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল ও পূর্বাঞ্চলীয় শহর জালালাবাদে সিরিজ বোমা হামলায় কমপক্ষে সাতজন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছে।

তালেবান সূত্রের বরাত দিয়ে আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইসলামিক স্টেট অব খোরাসানের (আইএস-কে) দিকে ইঙ্গিত করে তালেবানের সূত্রটি বলে, ‘আইএস-কের টিকে থাকা অংশটি জালালাবাদ ও কাবুলে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে বলে মনে হচ্ছে।’

জ্যেষ্ঠ ওই সূত্র আরও জানায়, বোমা হামলার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে তালেবান। জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা হবে।

তালেবান সূত্রের খবর অনুযায়ী, ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বিস্ফোরণের সময় শনিবার এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

এদিকে কাবুলের দাশত-ই-বারচি এলাকায় দুপুরের ঠিক আগে একটি গাড়িবোমা বিস্ফোরণে কমপক্ষে দুজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তালেবান কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, জালালাবাদে টহলরত তালেবান সদস্যদের লক্ষ্য করে একটি হামলা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, শনিবার নানগারহার প্রদেশের রাজধানী জালালাবাদে অন্তত চারটি বিস্ফোরণের সময় হতাহতের ঘটনা ঘটে।

জালালাবাদের বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।

এখন পর্যন্ত কেউই বিস্ফোরণে জড়িত থাকার দায় স্বীকার করেনি।

আরও পড়ুন:
১১০ কোটি ডলার অনুদান পেতে পারে আফগানিস্তান
স্যাটেলাইটের ছবিতে পাক সীমান্তে হাজারো আফগান
কোনো প্রতিশ্রুতিই রাখছে না তালেবান: জাতিসংঘ
নগদ অর্থ নেই, ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করছেন আফগানরা
তালেবান শাসনে প্রথম ফ্লাইট গেল পাকিস্তান

শেয়ার করুন

তালেবানে কট্টরপন্থিদের মুখোমুখি সংস্কারপন্থিরা

তালেবানে কট্টরপন্থিদের মুখোমুখি সংস্কারপন্থিরা

১৫ আগস্ট কাবুলে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে প্রবেশ করে তালেবান যোদ্ধারা। ফাইল ছবি

বিশ্লেষকদের মতে, তালেবানের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত মোল্লা ওমরের মতো বলিষ্ঠ নেতা ছাড়া দলটিতে চলমান দ্বন্দ্বের অবসান ঘটানো সন্দেহাতীতভাবেই কঠিন। কোনো রকম প্রশ্ন ছাড়াই মোল্লা ওমরে আস্থা রাখতেন তালেবানের প্রত্যেক সদস্য। বর্তমান নেতা হায়বাতুল্লাহ আখুনজাদাও মোল্লা ওমরের মতোই লোকচক্ষুর আড়ালের জীবন বেছে নিলেও দলের এ সংকটে তিনি কীভাবে হাল ধরেন, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

দ্বিতীয় দফায় আফগানিস্তানের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ফাটল তীব্র হচ্ছে শাসক দল তালেবানের মধ্যে। দূরত্ব বাড়ছে কট্টরপন্থি ও তুলনামূলক উদার নেতাদের মধ্যে।

তালেবান নেতাদের ক্ষমতার দ্বন্দ্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত দুই আফগান সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, শুরুতে লড়াই পর্দার আড়ালেই চলছিল। কিন্তু গত সপ্তাহে বিভক্তির সত্যতা প্রকট হয়ে ওঠে উপ-প্রধানমন্ত্রী আব্দুল গনি বারাদারের মৃত্যুর গুজব ছড়ালে।

প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে তালেবানের দুই পক্ষের তুমুল ঝগড়া-বিবাদের পর উপ-প্রধানমন্ত্রী আব্দুল গনি বারাদার সহিংসতায় নিহত হয়েছেন বলে গুজব ছড়ায় সে সময়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই দুই আফগান বলেন, গুজব এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল যে শেষ পর্যন্ত বারাদার বেঁচে আছেন প্রমাণে একটি অডিও ও একটি হাতে লেখা বিবৃতি প্রকাশ করে তালেবান। অডিও ও লিখিত বিবৃতিতে বারাদার জানিয়েছেন যে তিনি বেঁচে আছেন, যদিও এসবের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

সবশেষ বুধবার আফগানিস্তানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলে বারাদারের একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারেও তাকে বলতে শোনা যায় যে তিনি বেঁচে আছেন। নিজের মৃত্যুর গুজব নিয়ে তিনি বলেন, ‘কাবুল থেকে অন্য অঞ্চলে সফর করছিলাম আমি। সেখানে বসে এসব গুজব প্রত্যাখ্যানের জন্য আধুনিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ ছিল না।’

যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে সক্ষম প্রথম তালেবান নেতা বারাদার। ২০২০ সালে সাবেক আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপ হয় তালেবান সহ-প্রতিষ্ঠাতার।

আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার ইস্যুতে আলোচনা ও চুক্তিতে তালেবানের প্রধান প্রতিনিধি ছিলেন বারাদার। চুক্তি অনুযায়ী সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হয় গত মাসে। এর দুই সপ্তাহ আগেই রাজধানী কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান।

তালেবান কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর সম্ভাব্য সরকারপ্রধান হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলেন বারাদার। তিনি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন করবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু সব প্রত্যাশা ধুলোয় মিশে যায় যখন পুরুষসর্বস্ব এবং কেবল তালেবানের প্রতিষ্ঠিত নেতাদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়; বাদ দেয়া হয় আদিবাসী নেতা ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু প্রতিনিধিদের।

আফগানিস্তানকে ‘ইসলামি আমিরাত’ ঘোষণা করে ৭ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রিসভার তালিকা প্রকাশ করা হয়। মন্ত্রিসভার শীর্ষ পদে বেশির ভাগ নেতা কট্টরপন্থি। তারা সম্প্রতি মুখে সব পক্ষের অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের আশ্বাস দিলেও কাজে নব্বইয়ের দশকের কঠোর শাসনের পুনরাবৃত্তি করছেন বলেও অভিযোগ মধ্যপন্থিদের।

বারাদারের বদলে অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পান তালেবানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ। তিনি জাতিসংঘের কালো তালিকাভুক্ত। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত যখন তালেবান আফগানিস্তান শাসন করেছে, সে সময় দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন হাসান আখুন্দ।

এ ছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজুদ্দিন হাক্কানি নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হাক্কানি নেটওয়ার্কের নেতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো এফবিআইয়ের ‘ওয়ান্টেড’ তালিকাভুক্ত। তাকে ধরিয়ে দিলে এক কোটি ডলার পুরস্কার দেবে এফবিআই।

কট্টরপন্থি শাসনের পরবর্তী লক্ষণ হিসেবে প্রেসিডেন্ট প্যালেস থেকে নামিয়ে ফেলা হয় আফগানিস্তানের জাতীয় পতাকা, বসানো হয় তালেবানের নিজস্ব পতাকা।

যদিও পতাকার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তালেবান কর্মকর্তা। দুটি পতাকা পাশাপাশি রাখা হতে পারে বলেও জানান তিনি।

তালেবানের অন্তর্কোন্দলের বিষয়ে অবগত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই আফগান জানান, এসব ইস্যুতে মন্ত্রিসভার কোনো এক সদস্য মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন কট্টরপন্থি বাকি মন্ত্রীরা।

তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ নেতৃত্বে ফাটলের খবর প্রত্যাখ্যান করেছেন। মঙ্গলবার এসব খবরকে ‘অপপ্রচার’ বলে দাবি করেন তালেবান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুতাকি।

কিন্তু এত সব প্রচেষ্টাতেও গুজবের অবসান ঘটছে না। কারণ গত কয়েক দিনে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন কার্যক্রমে সরকারের উপপ্রধান হিসেবে বারাদারের অনুপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

এমনকি গত রোববার কাবুল সফররত কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল-থানির সঙ্গে তালেবান সরকারের বৈঠকেও ছিলেন না উপপ্রধানমন্ত্রী। ২০ বছর পর তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের পর এটি ছিল সবচেয়ে শীর্ষ কোনো পররাষ্ট্রীয় প্রতিনিধির আফগানিস্তান সফর। তার ওপর কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালেবানের দীর্ঘ আলোচনায় বারাদার ছিলেন দোহার নিয়মিত অতিথি।

ওই বৈঠকে না থাকার বিষয়ে বুধবারের ভিডিওতে বারাদার জানিয়েছেন, কাবুলে কাতারি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের বিষয়ে আগে থেকে কিছু জানতেন না তিনি। ফলে আগেই কাবুল ছেড়েছিলেন সফরের উদ্দেশ্যে এবং পরে কাতারি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আগমনের বিষয়ে জানতে পারলেও ঠিক সময়ে কাবুলে ফিরতে পারেননি।

বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত আফগান আর বারাদারের সঙ্গে যোগাযোগে থাকা ব্যক্তিরা এপিকে জানিয়েছেন, তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুনজাদার সঙ্গে বৈঠকের জন্য দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ কান্দাহারে ছিলেন বারাদার।

অন্যদিকে আরেক তালেবান নেতা জানান, আফগানিস্তানের ২০ বছরের যুদ্ধে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা হয়নি বারাদারের। ক্লান্ত বারাদার তাই পরিবারের কাছে ফিরেছিলেন কিছু সময়ের জন্য।

বিশ্লেষকরা বলছেন, তালেবানের মধ্যে ফাটল এলেও এখনই ভাঙনের পর্যায়ে চলে যাওয়ার মতো গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

ওয়াশিংটনভিত্তিক উইলসন সেন্টারের এশিয়াবিষয়ক প্রকল্পের উপপরিচালক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ‘হাজার বিতর্ক সত্ত্বেও বছরের পর বছর তালেবানকে সব সময় একজোট দেখেছে বহির্বিশ্ব। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তাদের ঐক্যের কোনো নড়চড় হয় না। আমি মনে করি, বর্তমান অভ্যন্তরীণ মতবিরোধও সহজেই মিটিয়ে ফেলবে তারা।

‘তবে ক্ষমতায় টিকে থাকা নিয়ে, বৈধতা অর্জন নিয়ে এবং বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন নিয়ে তালেবান যে চাপে আছে, তা সহজে মেটার নয়। এসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সাংগঠনিক দিক থেকে আরও বেশি চাপের মুখে পড়বে তারা; এ ধরনের গুরুতর অভ্যন্তরীণ ঝগড়া-বিবাদও বাড়তে থাকবে।’

তবে তালেবানের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত মোল্লা ওমরের মতো বলিষ্ঠ নেতা ছাড়া দলটিতে চলমান দ্বন্দ্বের অবসান ঘটানো সন্দেহাতীতভাবেই কঠিন।

কোনো রকম প্রশ্ন ছাড়াই মোল্লা ওমরে আস্থা রাখতেন তালেবানের প্রত্যেক সদস্য। বর্তমান নেতা হায়বাতুল্লাহ আখুনজাদাও মোল্লা ওমরের মতোই লোকচক্ষুর আড়ালের জীবন বেছে নিলেও দলের এ সংকটে তিনি কীভাবে হাল ধরেন, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

আরও পড়ুন:
১১০ কোটি ডলার অনুদান পেতে পারে আফগানিস্তান
স্যাটেলাইটের ছবিতে পাক সীমান্তে হাজারো আফগান
কোনো প্রতিশ্রুতিই রাখছে না তালেবান: জাতিসংঘ
নগদ অর্থ নেই, ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করছেন আফগানরা
তালেবান শাসনে প্রথম ফ্লাইট গেল পাকিস্তান

শেয়ার করুন

গুজবের অবসান ঘটাতে বারাদারের ভিডিও বার্তা

গুজবের অবসান ঘটাতে বারাদারের ভিডিও বার্তা

আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত উপ-প্রধানমন্ত্রী আব্দুল গনি বারাদার। ফাইল ছবি

এর আগে টুইটারে তালেবানের সংস্কৃতিবিষয়ক কমিশনের এক মুখপাত্র আরটিএ টিভিতে বারাদারের সাক্ষাৎকার প্রচারিত হবে বলে জানান। ‘শত্রুপক্ষের অপপ্রচারকে মিথ্যা প্রমাণ করা হবে’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বারাদার আহত বলে গুঞ্জন শুরুর পর থেকেই এ খবর মিথ্যে বলে বারবার দাবি করছিলেন তালেবান নেতারা।

আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তী সরকারের ভারপ্রাপ্ত উপ-প্রধানমন্ত্রী আব্দুল গনি বারাদার একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে হাজির হয়ে জানিয়েছেন, তিনি সুস্থ আছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, অনলাইনে বুধবার প্রকাশিত ভিডিও সরাসরি সম্প্রচার করা হয়নি। বারাদারের একটি ভিডিও ধারণের পর তা অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছে।

দলীয় অন্তঃকোন্দল ও সংঘাতে বারাদার আহত হয়েছেন বলে যে খবর ছড়িয়েছে, তা সত্য নয় বলে ভিডিওতে বলতে শোনা যায় তালেবান সরকারের উপ-প্রধানকে।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এটা সত্য নয়; আমি ভালো আছি, সুস্থ আছি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দলের অভ্যন্তরীণ বিতর্কের খবর প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের মধ্যে এমন কিছু ঘটেনি। এসব সত্য নয়।’

আফগানিস্তানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আরটিএকে সাক্ষাৎকারটি দেন বারাদার। পরে কাতারের রাজধানী দোহায় তালেবানের রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে সাক্ষাৎকারের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে প্রকাশ করা হয়।

সংক্ষিপ্ত ভিডিওতে বারাদারকে সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর সামনে একটি সোফায় বসে থাকতে দেখা যায়। সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর হাতে আরটিএর লোগো সম্বলিত মাইক্রোফোন ছিল।

ভিডিওতে বারাদারকে একটি কাগজে লেখা কথা পড়ে শোনাতে দেখা যায়। তিনি আরও বলেন, ‘দুশ্চিন্তা করার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

এর আগে টুইটারে তালেবানের সংস্কৃতিবিষয়ক কমিশনের এক মুখপাত্র আরটিএ টিভিতে বারাদারের সাক্ষাৎকার প্রচারিত হবে বলে জানান। ‘শত্রুপক্ষের অপপ্রচারকে মিথ্যা প্রমাণ করা হবে’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বারাদার আহত বলে গুঞ্জন শুরুর পর থেকেই এ খবর মিথ্যে বলে বারবার দাবি করছিলেন তালেবান নেতারা।

এর আগে আফগানিস্তানে ক্ষমতা দখলের কৃতিত্ব নিয়ে শাসক দল তালেবান বড় ধরনের অন্তর্কোন্দলে জড়িয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়।

বলা হয়, কাবুলে প্রেসিডেন্টের বাসভবনে দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে রীতিমতো ঝগড়া ও বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছে। গত সপ্তাহে ধর্মভিত্তিক সংগঠনটির সহপ্রতিষ্ঠাতা মোল্লা আব্দুল গনি বারাদারের সঙ্গে বিবাদে জড়ান মন্ত্রিসভার এক সদস্য। প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে তর্কের একপর্যায়ে পরস্পরের প্রতি উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ও করেন তারা।

তালেবানের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি পশতু জানিয়েছে, বারাদারের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়েছেন নতুন তালেবান সরকারের শরণার্থীবিষয়ক মন্ত্রী ও নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হাক্কানি নেটওয়ার্কের অন্যতম নেতা খলিল উর-রহমান হাক্কানির। কাতারে কর্মরত এক জ্যেষ্ঠ তালেবান সদস্য ও বিবদমান দুই নেতার ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তিও বারাদার ও খলিল হাক্কানির বিবাদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গত ১৫ আগস্ট রাজধানী কাবুল দখলের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় কট্টরপন্থি তালেবান, দেশকে ঘোষণা করে ‘ইসলামিক আমিরাত’ হিসেবে। সম্ভাব্য সরকারপ্রধান হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকা আব্দুল গনি বারাদারের বদলে ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী করা হয় জাতিসংঘের কালো তালিকাভুক্ত মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দকে। বারাদার হন আখুন্দের উপপ্রধান।

সরকারের উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান বারাদার।

গত রোববার কাবুল সফররত কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল-থানির সঙ্গে বৈঠক করে তালেবান সরকার। সে বৈঠকেও ছিলেন না বারাদার।

সদ্য প্রকাশিত ভিডিওতে কারণ হিসেবে বারাদার জানান, ওই বৈঠকের সময় সফরে ছিলেন তিনি এবং ঠিক সময়ে কাবুলে ফিরতে পারেননি।

গুঞ্জন রটেছিল, তালেবানের মন্ত্রিসভায় থাকা হাক্কানি নেটওয়ার্কের সদস্যদের সঙ্গে মতপার্থক্যের জেরেই প্রকাশ্যে আসছেন না বারাদার। আফগানিস্তানের পাকিস্তান সীমান্তে সক্রিয় তালেবানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হাক্কানি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী সব আত্মঘাতী হামলার অভিযোগ রয়েছে।

তালেবান সরকারের ভারপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও হাক্কানি নেটওয়ার্কের প্রধান সিরাজুদ্দিন হাক্কানির ছোট ভাই আনাস হাক্কানিও বুধবার টুইটারে বিবৃতি দিয়ে বারাদারের সঙ্গে বিবাদের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে।

আরও পড়ুন:
১১০ কোটি ডলার অনুদান পেতে পারে আফগানিস্তান
স্যাটেলাইটের ছবিতে পাক সীমান্তে হাজারো আফগান
কোনো প্রতিশ্রুতিই রাখছে না তালেবান: জাতিসংঘ
নগদ অর্থ নেই, ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করছেন আফগানরা
তালেবান শাসনে প্রথম ফ্লাইট গেল পাকিস্তান

শেয়ার করুন

ক্ষমতা দখলের কৃতিত্ব নিয়ে অন্তর্কোন্দলে তালেবান

ক্ষমতা দখলের কৃতিত্ব নিয়ে অন্তর্কোন্দলে তালেবান

কয়েক দিন ধরে মোল্লা বারাদার লোকচক্ষুর আড়ালে থাকায় দলের মধ্যে বিবাদ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। ফাইল ছবি

সূত্রের দাবি, ২০ বছর পর আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতা দখল ও দ্বিতীয় দফায় সরকার গঠনের কৃতিত্ব কার, দ্বন্দ্বের সূত্রপাত মূলত সে প্রশ্নে। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের কাঠামো নিয়েও অসন্তুষ্ট উপপ্রধানমন্ত্রী বারাদার।

আফগানিস্তানে ক্ষমতা দখলের কৃতিত্ব নিয়ে বড় ধরনের অন্তর্কোন্দলে জড়িয়েছে শাসক দল তালেবান।

দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে রীতিমতো ঝগড়া ও বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছে বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ এক তালেবান নেতা।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ধর্মভিত্তিক সংগঠনটির সহপ্রতিষ্ঠাতা মোল্লা আব্দুল গনি বারাদারের সঙ্গে বিবাদে জড়ান মন্ত্রিসভার এক সদস্য। প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে তর্কের একপর্যায়ে পরস্পরের প্রতি উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ও করেন তারা।

গত কয়েক দিন লোকচক্ষুর আড়ালে রয়েছেন বারাদার। এ অবস্থায় তালেবানের শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যায়ে বিভেদ চলছে বলে অনিশ্চিত সূত্রে বিভিন্ন খবর শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু সংগঠনের পক্ষ থেকে সেসব খবর ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছিল তালেবান।

গত ১৫ আগস্ট রাজধানী কাবুল দখলের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় কট্টরপন্থি তালেবান, দেশকে ঘোষণা করে ‘ইসলামিক আমিরাত’ হিসেবে। তাদের নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রিসভা পুরুষ সদস্যসর্বস্ব।

এ মন্ত্রিসভা কট্টরপন্থি ও জ্যেষ্ঠ তালেবান নেতাদের নিয়ে গঠিত। এদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে গত ২০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের ওপর হামলার অভিযোগও আছে।

এতদিন সম্ভাব্য সরকারপ্রধান হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকা আব্দুল গনি বারাদারের বদলে ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী করা হয় জাতিসংঘের কালো তালিকাভুক্ত মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দকে। বারাদার হয়েছেন আখুন্দের উপপ্রধান।

তালেবানের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি পশতু জানিয়েছে, বারাদারের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে নতুন তালেবান সরকারের শরণার্থীবিষয়ক মন্ত্রী ও নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হাক্কানি নেটওয়ার্কের অন্যতম নেতা খলিল উর-রহমান হাক্কানির। এর আগে বিবাদে জড়িয়েছিলেন দুই নেতার সমর্থকরা।

কাতারে কর্মরত এক জ্যেষ্ঠ তালেবান সদস্য ও বিবদমান দুই নেতার ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তিও বারাদার ও খলিল হাক্কানির বিবাদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনা ঘটেছে গত সপ্তাহে।

সূত্রের দাবি, ২০ বছর পর আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতা দখল ও দ্বিতীয় দফায় সরকার গঠনের কৃতিত্ব কার, দ্বন্দ্বের সূত্রপাত মূলত সে প্রশ্নে। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের কাঠামো নিয়েও অসন্তুষ্ট উপপ্রধানমন্ত্রী বারাদার।

সূত্রের মতে, আফগানিস্তানের বিভিন্ন সংকট সমাধানে বারাদার তার সমকক্ষ দলনেতাদের নিয়ে সরকারের কূটনৈতিক কার্যক্রমের ওপর জোর দিতে চান। বিপরীতে তালেবান সরকারে থাকা হাক্কানি গোষ্ঠীর সদস্য ও সমর্থকরা মনে করেন, কূটনীতি নয়, লড়াই করেই সব দাবি পূরণ করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে সক্ষম প্রথম তালেবান নেতা বারাদার। ২০২০ সালে সাবেক আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপ হয় তালেবান সহপ্রতিষ্ঠাতার। এর আগে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার ইস্যুতে হওয়া দোহা চুক্তিতে তালেবানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন বারাদার।

অন্যদিকে, প্রভাবশালী হাক্কানি নেটওয়ার্ক আফগানিস্তানে সবচেয়ে সহিংস হামলার কয়েকটিতে সরাসরি জড়িত ছিল। আফগান সেনা ও তাদের পশ্চিমা মিত্রদের ওপর গত কয়েক বছরে সেসব হামলায় প্রাণ গেছে শতাধিক মানুষের। যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকায় সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত হাক্কানি নেটওয়ার্ক।

হাক্কানির নেতৃত্বে থাকা অন্যতম শীর্ষ তালেবান নেতা সিরাজুদ্দিন হাক্কানি নবগঠিত অন্তর্বর্তী আফগান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তালেবান সূত্র জানিয়েছে, বিবাদের পর রাজধানী কাবুল ছেড়ে দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ শহর কান্দাহারে গেছেন বারাদার। বর্তমানে সেখানেই অবস্থান করছেন তিনি।

বারাদারকে কিছুদিন ধরে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না বলে মাঝে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়েছিল যে তিনি মারা গেছেন। এ অবস্থায় সোমবার প্রকাশিত একটি অডিও বার্তায় বারাদারকে বলতে শোনা যায় যে তিনি সফরে আছেন। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমি যেখানেই থাকি না কেন, আমরা সবাই ভালো আছি।’

কিন্তু অডিওর কণ্ঠটি বারাদারেরই কি না, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি বিবিসি। তালেবানের বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইটে রেকর্ডটি প্রকাশ করা হয়েছে।

দলের ভেতরে কোনো কোন্দল হয়নি দাবিতে এখনও অনড় তালেবান। সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে বারাদার নিরাপদে আছেন।

কিন্তু বারাদার কোথায় আছেন, কী করছেন- সেসব প্রশ্নের উত্তরে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন তালেবান নেতারা।

এক মুখপাত্র বলেছিলেন যে তালেবানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হায়বাতুল্লাহ আখুনজাদার সঙ্গে দেখা করতে কান্দাহারে গিয়েছেন বারাদার। পরে আবার ওই মুখপাত্রই বিবিসি পশতুকে বলেন যে বারাদার ‘ক্লান্ত, তাই বিশ্রামে আছেন’।

তালেবানের এসব বিবৃতিতে বিশ্বাস না করার পেছনে যথেষ্ট যুক্তিও আছে সাধারণ আফগানদের হাতে।

২০১৫ সালে তালেবান স্বীকার করেছিল যে সংগঠনটির প্রধান প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরের মৃত্যুর বিষয়টি দুই বছরের বেশি সময় ধরে গোপন রাখা হয়েছিল। তার মৃত্যুর পরেও তার নামে বিবৃতি প্রচার অব্যাহত রেখেছিল তালেবান।

এ অবস্থায় বারাদার কাবুলে ফিরবেন এবং দলীয় বিবাদের বিষয়টি প্রত্যাখ্যানে ক্যামেরার সামনেও দাঁড়াবেন বলে বিবিসিকে নিজেদের প্রত্যাশা জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র।

জল্পনা রয়েছে তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হায়বাতুল্লাহ আখুনজাদাকে নিয়েও। কখনো প্রকাশ্যে দেখা না যাওয়া এ নেতা তালেবানের রাজনৈতিক, সামরিক ও ধর্মবিষয়ক সামগ্রিক দায়িত্বে রয়েছেন।

আরও পড়ুন:
১১০ কোটি ডলার অনুদান পেতে পারে আফগানিস্তান
স্যাটেলাইটের ছবিতে পাক সীমান্তে হাজারো আফগান
কোনো প্রতিশ্রুতিই রাখছে না তালেবান: জাতিসংঘ
নগদ অর্থ নেই, ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করছেন আফগানরা
তালেবান শাসনে প্রথম ফ্লাইট গেল পাকিস্তান

শেয়ার করুন