স্যাটেলাইটের ছবিতে পাক সীমান্তে হাজারো আফগান

স্যাটেলাইটের ছবিতে পাক সীমান্তে হাজারো আফগান

দেশ ছাড়তে মরিয়া হাজার হাজার আফগান পাকিস্তান সীমান্তে অপেক্ষা করেন বলে স্যাটেলাইটের ছবিতে দেখা যায়। ছবি: এনডিটিভি

স্যাটেলাইট ইমেজের মাধ্যমে এনডিটিভি জানিয়েছে, গত সপ্তাহেও আফগানিস্তানের স্পিন বলদাক শহরের পাকিস্তান সীমান্তে হাজার হাজার আফগান দেশ ছাড়ার উদ্দেশ্যে অসহায়ভাবে অপেক্ষা করেন।

দীর্ঘ দুই দশক পর গত মাসে ফের তালেবানের দখলে যায় আফগানিস্তান। এর পরই হাজার হাজার ভীতসন্ত্রস্ত আফগান কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভিড় করে।

কাঠফাটা রোদে তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন এই আশায়, কোনোমতে বিমানে চড়ে বিদেশে পাড়ি দিতে পারলেই দেখতে হবে না তালেবানের দমনমূলক শাসন।

কাবুল বিমানবন্দরে দেশ ছাড়তে মরিয়া আফগানদের ছবি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়।

তবে সম্প্রতি স্যাটেলাইটের ছবিতে দেখা যায়, শুধু কাবুল বিমানবন্দর নয়, পাকিস্তান, ইরান, উজবেকিস্তান ও তাজিকিস্তান সীমান্ত দিয়েও দেশ ছাড়তে মরিয়া ছিলেন হাজারো আফগান।

স্যাটেলাইট ইমেজের মাধ্যমে এনডিটিভি জানিয়েছে, গত সপ্তাহেও আফগানিস্তানের স্পিন বলদাক শহরের পাকিস্তান সীমান্তে হাজার হাজার আফগান দেশ ছাড়ার উদ্দেশ্যে অসহায়ভাবে অপেক্ষা করেন।

স্পিন বলদাকের চমন সীমান্ত আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম ক্রসিং।

পরিবারের সদস্য ও মালপত্র নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহে এই সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তানের উদ্দেশে দেশ ছাড়া আফগানদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে থাকে।

কাবুল এবং আফগানিস্তানের অন্যান্য শহরে পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি ছেড়ে এই আফগানরা প্রাণের মায়ায় সীমান্তের দিকে ছোটেন। সম্প্রতি ওই সীমান্ত বন্ধ করে দেয় পাকিস্তান সরকার।

৬ সেপ্টেম্বর স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তোলা ছবিগুলোতে দেখা যায়, চমন সীমান্তের আফগানিস্তান অংশে দেশটির বিপুল সংখ্যক নাগরিক জড়ো হয়েছেন।

সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আফগানদের এ ভিড় দেখে বোঝা যায়, ২০ বছর পর তালেবানের ফের ক্ষমতা দখলে কী পরিমাণ আতঙ্কে রয়েছেন আফগানরা।

তালেবানের ভয়ে পরদেশে শরণার্থী শিবিরে মানবেতর জীবন কাটাতেও রাজি তারা।

১৫ আগস্ট কাবুল ঘিরে ফেলার একপর্যায়ে পুরো আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান।

শুরুতে নারী ইস্যুসহ অন্যান্য ইস্যুতে নমনীয় অবস্থানের অঙ্গীকার করেছিল তালেবান। ২০ বছর আগের শাসনামলে পুরোপুরি ফিরবে না বলেও জানান সংগঠনটির নেতারা।

তবে তালেবানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে এ ধরনের কোনো ইঙ্গিত এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
কোনো প্রতিশ্রুতিই রাখছে না তালেবান: জাতিসংঘ
নগদ অর্থ নেই, ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করছেন আফগানরা
তালেবান শাসনে প্রথম ফ্লাইট গেল পাকিস্তান
বিশ্ববিদ্যালয়ে আফগান নারীরা পড়তে পারবেন, তবে...
আফগানিস্তান নিয়ে ভারত-অস্ট্রেলিয়ার এক সুর

শেয়ার করুন

মন্তব্য

তালেবানের ‘প্রতিহিংসার’ বলি শিশু

তালেবানের ‘প্রতিহিংসার’ বলি শিশু

তালেবান যোদ্ধাদের হাতে প্রাণ হারায় এক শিশু। ছবি: এএনআই

পাঞ্জশির অবজারভার টুইটবার্তায় বলে, ‘শিশুটির বাবা তালেবানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ-সংগ্রামে অংশ নেন- এই সন্দেহে কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠীটির যোদ্ধারা পাঞ্জশিরের পার্শ্ববর্তী তাখার প্রদেশে তাকে হত্যা করে।’

আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় তাখার প্রদেশে এক শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে তালেবান।

শিশুটির বাবা আফগান প্রতিরোধ বাহিনীর সন্দেহভাজন সদস্য হওয়ায় তাকে প্রাণ হারাতে হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

তালেবানের হাতে শিশুহত্যার ঘটনা প্রথম প্রকাশ করে পাঞ্জশির অবজারভার। মূলত পাঞ্জশির ও আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয় স্বাধীন এই সংবাদমাধ্যমটিতে।

পাঞ্জশির অবজারভার টুইটবার্তায় বলে, ‘শিশুটির বাবা তালেবানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ-সংগ্রামে অংশ নেন- এই সন্দেহে কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠীটির যোদ্ধারা পাঞ্জশিরের পার্শ্ববর্তী তাখার প্রদেশে তাকে হত্যা করে।’

গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে আফগানিস্তান দখল করে তালেবান। এর আগে একটি ছাড়া দেশটির ৩৪টি প্রদেশের সবই গোষ্ঠীটির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ভৌগোলিক অবস্থানগত সুবিধা ও স্থানীয় লোকজনের তীব্র তালেবানবিরোধী মনোভাবের কারণে পাঞ্জশির উপত্যকা বারবার দখলের চেষ্টাও ব্যর্থ হয় তালেবান।

আফগানিস্তান দখলের পর একমাত্র পাঞ্জশির প্রদেশেই স্থানীয় লোকজন শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলে। আশপাশের প্রদেশ থেকেও সশস্ত্র তালেবানবিরোধী যোদ্ধারা প্রতিরোধ বাহিনীতে যোগ দেন।

কাবুল পতনের পর সপ্তাহ খানেক ধরে চলে প্রতিরোধ বাহিনীর সঙ্গে তালেবান যোদ্ধাদের তীব্র লড়াই। লড়াইয়ের একপর্যায়ে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীটির হাতে পাঞ্জশিরের পতন হয়।

তালেবানের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে নেয়া বা কথা বলা ভিন্ন মতাবলম্বীদের আফগানিস্তানে কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে।

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় তালেবান। এরপরই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা শুরু করে গোষ্ঠীটি। এর অংশ হিসেবে নারী, জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপেরও ঘোষণা দেয় তালেবান।

তবে বিশ্লেষকদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক মহলের স্বীকৃতি আদায়ের লক্ষ্যে তালেবান কাবুল পতনের পরপরই কিছুটা নমনীয় অবস্থান বিশ্বকে দেখায়। আগের শাসনামলে ফিরে না যাওয়ার কথাও তারা বলে। তবে কতটুকু তারা এসব অবস্থান বাস্তবায়ন করতে পারবে, তা নিয়ে সন্দেহ থেকে যাচ্ছে।

তাদের ভাষ্য, কথার ওপর নয়, বরং কাজের ওপরই তালেবানের মূল্যায়ন হবে।

দেশি-বিদেশি মহলকে তুষ্ট করার লক্ষ্যে শুরুতে অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের ঘোষণা দিলেও তালেবানের নতুন সরকারে শেষ পর্যন্ত কোনো নারীকে দেখা যায়নি। ছিল না জাতিগত সম্প্রদায়ের কোনো নেতাও।

সাংবাদিক, ভিন্ন মতাবলম্বী বেসামরিক নাগরিক থেকে শুরু করে পাঞ্জশিরে তালেবানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ লড়াইয়ে অংশ নেয়া বা সমর্থন করা ব্যক্তিদের ওপর চলতি মাসের শুরু থেকেই গোষ্ঠীটি চড়াও হয় বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদনে বলা হয়।

আরও পড়ুন:
কোনো প্রতিশ্রুতিই রাখছে না তালেবান: জাতিসংঘ
নগদ অর্থ নেই, ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করছেন আফগানরা
তালেবান শাসনে প্রথম ফ্লাইট গেল পাকিস্তান
বিশ্ববিদ্যালয়ে আফগান নারীরা পড়তে পারবেন, তবে...
আফগানিস্তান নিয়ে ভারত-অস্ট্রেলিয়ার এক সুর

শেয়ার করুন

তালেবান আতঙ্কে ফেসবুক-টুইটার ছাড়ার হিড়িক

তালেবান আতঙ্কে ফেসবুক-টুইটার ছাড়ার হিড়িক

তালেবানের প্রতিশোধের ভয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়ছেন আফগানরা। ছবি: এএফপি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী হারিস বলেন, ‘কারো অনুরোধে বা অর্থের জন্য তালেবানের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমি কখনো কোনো পোস্ট করিনি। আমি গণতন্ত্রের পক্ষে। সাবেক প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির সমর্থক ছিলাম না। ঘানির সমালোচনা করেও অনেক পোস্ট করেছি।’

তালেবান আফগানিস্তানের দখল নেয়ার আগে দেশটিতে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী ছিলেন। সামাজিক মাধ্যমে তারা তালেবানের নীতির কড়া সমালোচনা করতেন।

১৫ আগস্ট তালেবানের হাতে কাবুল পতনের পর গোষ্ঠীটির যোদ্ধাদের প্রতিহিংসামূলক হামলার ভয়ে ওই আফগানরা তালেবানবিরোধী আগের সব ছবি ও টুইট মুছে ফেলেন।

আবার এদের মধ্যে অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নিজেদের অ্যাকাউন্টও সরিয়ে নেন।

তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াই করা বা পশ্চিমা দেশ সমর্থিত সাবেক সরকারকে সহায়তা করাসহ সব আফগানকে সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা গোষ্ঠীটির নেতারা দিলেও তাদের আশ্বাসবাণীতে ভরসা রাখতে পারছেন না অনেকে।

আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার একপর্যায়ে দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে ভিন্নমতাবলম্বী বেসামরিক নাগরিকদের তালেবানের হাতে প্রাণ হারানোর খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়।

গত সপ্তাহে তালেবানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব এক অডিও বার্তায় স্বীকার করেন, গোষ্ঠীটির যোদ্ধারা প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে কয়েকজন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছেন।

এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী দুই আফগানের সঙ্গে কথা বলে বিবিসি।

এদের একজন আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল ও অন্যজন দেশটির গুরুত্বপূর্ণ এক শহরের বাসিন্দা।

এবারের তালেবান শাসনের আগে উভয়ই প্রভাবশালী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মাস খানেক আগেও তাদের লাখ লাখ ফলোয়ার ছিল।

তালেবানের হামলার লক্ষ্যে পরিণত হওয়ার শঙ্কায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ওই দুই আফগান নিজেদের অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলেছেন।

ওই দুজনের সঙ্গে কথা বলে বিবিসি। নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের প্রকৃত নাম প্রকাশ করা হয়নি।

কাবুলে বসবাসরত ফিদা তালেবানের কট্টর সমালোচক। গোষ্ঠীটির নীতি বা কর্মকাণ্ড নিয়ে একসময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা করতেন তিনি।

তালেবানের ভয়ে পশ্চিমা দেশে রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য যেসব আফগান আবেদন করেছেন, তাদের মধ্যে ফিদাও রয়েছেন।

তিনি বলেন, “আত্মীয়স্বজন আমাকে বলেছেন, ‘দখলদারদের’ বিরুদ্ধে তালেবানের যুদ্ধের সমালোচনা করায় আমার জীবন এখন হুমকিতে।

‘তালেবান সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা দিলেও তারা কাউকে ক্ষমা করবে না'।"

ফিদা জানান, তালেবান যোদ্ধারা যেসব আফগানকে ‘দেখা মাত্রই মাথায় গুলি করার’ তালিকা প্রস্তুত করেছে, সেখানে তার নামও রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘দেশে দিনের পর দিন আতঙ্কে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো।’

তালেবাননিয়ন্ত্রিত এক শহরে বাস করেন হারিস। তিনি জানান, কাবুল পতনের দুই দিন পর তিনি তার অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলেন। জীবনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে থাকায় তিনিও দেশত্যাগ করবেন।

শুধু হারিসই নন, তার মতো আরও শত শত তরুণ আফগান শিগগিরই দেশ ছাড়বেন।

হারিস জানান, কারো অনুরোধে বা অর্থের জন্য তালেবানের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি কখনো কোনো পোস্ট করেননি।

তিনি বলেন, ‘আমি গণতন্ত্রের পক্ষে। সাবেক প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির সমর্থক ছিলাম না। ঘানির সমালোচনা করেও অনেক পোস্ট করেছি।’

তালেবান সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পরও কেন দেশ ছাড়তে চাইছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি নিরাপদ বোধ করছি না।

‘তালেবান যোদ্ধারা এখনও লোকজনকে টার্গেট করে হত্যা করছে। বিরোধীদের হন্যে হয়ে খুঁজছে।’

হারিস বলেন, ‘তালেবানের অত্যাচার সবে শুরু হয়েছে। সামনে আরও অনেক কিছু দেখবে বিশ্ব।’

আরও পড়ুন:
কোনো প্রতিশ্রুতিই রাখছে না তালেবান: জাতিসংঘ
নগদ অর্থ নেই, ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করছেন আফগানরা
তালেবান শাসনে প্রথম ফ্লাইট গেল পাকিস্তান
বিশ্ববিদ্যালয়ে আফগান নারীরা পড়তে পারবেন, তবে...
আফগানিস্তান নিয়ে ভারত-অস্ট্রেলিয়ার এক সুর

শেয়ার করুন

কৃষকদের ‘ভারত বনধ্’, অচল দিল্লি সীমান্ত

কৃষকদের ‘ভারত বনধ্’, অচল দিল্লি সীমান্ত

কৃষকদের ‘ভারত বনধ্’ কর্মসূচির ফলে গুরগাওঁ ও নয়ডার সঙ্গে দিল্লি সীমান্তে তৈরি হয় বিশাল যানজট। ছবি: এনডিটিভি

তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে গত বছরের নভেম্বর থেকে চলছে কৃষকদের আন্দোলন। টানা ১০ মাস বাড়ি ফেরেননি বিক্ষোভরত লাখো কৃষক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘতম সময় ধরে চলা বিক্ষোভ এটি।

১০ মাস পর নতুন গতি পেল ভারতের কৃষক আন্দোলন। বিতর্কিত তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে সোমবার ভোর থেকে শুরু হয় ‘ভারত বনধ্’ কর্মসূচি। পাঞ্জাব ও হরিয়ানার হাজারো কৃষকের অবস্থান ধর্মঘটে অচল রাজধানী দিল্লির সীমান্ত। বাতিল হয়েছে বেশ কয়েকটি ট্রেন।

পার্লামেন্টে আইন তিনটি অনুমোদন পাওয়ার এক বছর পূর্ণ হওয়ার দিনে ‘ভারত বনধ’ বা দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দেয় সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা (এসকেএম)। ৪০টি কৃষক ইউনিয়নের জোট এসকেএমের ডাকে বেশ কয়েকটি জাতীয় মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেন আন্দোলনরত কৃষকরা।

এসকেএম জানায়, কর্মসূচির আওতায় বন্ধ থাকবে সারা ভারতের স্কুল, কলেজ, সরকারি, বেসরকারি অফিস-আদালত ও অন্যান্য কর্মক্ষেত্র, দোকানপাট, কলকারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ সবকিছু। কেবল জরুরি সেবা চালু রাখতে দেয়া হবে বলে জানায় জোটটি।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় ভোর ছয়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত হয় এ বিক্ষোভ। গাজিপুরের আন্দোলনস্থলের কাছে দিল্লি-মিরাট এক্সপ্রেসওয়ে বন্ধ করে দেন বিক্ষুব্ধ কৃষকরা। এতে উত্তর প্রদেশ থেকে বের হওয়া যানবাহন মাঝপথেই আটকা পড়ে। গুরগাওঁ ও নয়ডার সঙ্গে দিল্লি সীমান্তে তৈরি হয় বিশাল যানজট।

রাজধানীতে প্রবেশের পথে সব যানবাহনে দিল্লি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা তল্লাশি করায় যানজট আরও দীর্ঘ হয়। বন্ধ ছিল পাঞ্জাব ও হরিয়ানার শম্ভু সীমান্তও।

প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ অনেকগুলো রাজনৈতিক দল ও বেশ কয়েকটি রাজ্য সরকারও কৃষকদের এ আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছে।

কংগ্রেস দলটির প্রত্যেক কর্মী, রাজ্য শাখার প্রধান ও অন্যান্য নেতাদের ভারত বনধ্-এ যোগ দেয়ার আহ্বান জানায়।

পাঞ্জাব কংগ্রেসের প্রধান নভজ্যোৎ সিং সিধু দলীয় কর্মীদের বিক্ষোভরত কৃষকদের সঙ্গে থাকার আহ্বান জানান।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে তিনি লেখেন, ‘ন্যায় ও অন্যায়ের লড়াইয়ে নিরপেক্ষ থাকার সুযোগ নেই। তিনটি অসাংবিধানিক কালো আইনের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি নিয়ে লড়াই করতে কংগ্রেসের প্রতিটি কর্মীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি আমরা।’

উত্তর প্রদেশের বহুজন সমাজ পার্টির প্রধান মায়াবতী জানান, শান্তিপূর্ণ ভারত বনধ্ কর্মসূচিতে তার দলেরও সমর্থন আছে।

তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে গত বছরের নভেম্বর থেকে চলছে এ কৃষক আন্দোলন। টানা ১০ মাস বাড়ি ফেরেননি বিক্ষোভরত লাখো কৃষক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘতম সময় ধরে চলা বিক্ষোভ এটি।

যাবতীয় প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে নিজেদের দাবি আদায়ে অনড় কৃষকরা। তীব্র শীত, দাবদাহ, ঝড়-বৃষ্টি, এমনকি করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেও রাজধানী নয়া দিল্লিসংলগ্ন প্রধান মহাসড়কগুলোতে তাঁবু খাটিয়ে থাকছেন তারা।

ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের (বিকেইউ) প্রধান রাকেশ তিকাইত রোববার বলেন, ‘প্রয়োজনে আরও ১০ বছর বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত কৃষকরা। তাও কলঙ্কজনক এ আইন বাতিল হবে না।

‘কৃষিমন্ত্রী আমাদের আলোচনার জন্য ডাকছেন। আলোচনায় বসতে আমাদের সমস্যা নেই। খালি সময় আর জায়গা বললেই হবে। কিন্তু তিনি বলছেন যে এসব আইন নাকি আমাদেরই স্বার্থে। তাহলে ১০ বছর লাগলেও এ জায়গা থেকে নড়ছি না আমরা।’

গত বছরের সেপ্টেম্বরে পার্লামেন্টে পাস হয় তিনটি কৃষি আইন। কৃষকদের দাবি, এসব আইনের ফলে বস্তুত কৃষি খাতের বেসরকারিকরণ ঘটবে এবং খাতটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে। কারণ আইনগুলোতে সরকার নিয়ন্ত্রিত পাইকারি বাজারের চেয়েও কম দামে পণ্য কেনার সুযোগ দেয়া হয়েছে ক্রেতাদের। এতে উৎপাদক পর্যায়ে ন্যূনতম দামও মিলবে না বলে শঙ্কা কৃষকদের।

ক্ষুদ্র চাষিদের মতে, বড় বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দৌড়ে পিছিয়ে পড়বেন তারা। এতে গম ও চালের মতো প্রধান শস্যগুলো অনেক কম দামে বিক্রি করতে হবে তাদের।

যদিও মোদি সরকারের দাবি, কৃষি আইন সংস্কারের ফলে কৃষকদের জন্য নতুন সুযোগ ও ভালো দাম পাওয়ার পথ উন্মুক্ত হবে।

এসকেএম জোটের অভিমন্যু কোহারের বরাত দিয়ে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ১০ মাস ধরে মোদি সরকার কৃষকদের দাবি ও বিক্ষোভ উপেক্ষা করছে। তাই বাধ্য হয়েই সরকারের নীতিমালার বিরুদ্ধে সব অঞ্চল, শ্রেণির, বয়সের কৃষক ও কৃষিপণ্যের বাণিজ্যে সংশ্লিষ্টদের ভারত বনধ্ কর্মসূচিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাতে হয়েছে।

কোহার বলেন, ‘সরকার দাবি করছে যে, বিরোধী দলশাসিত দুই থেকে তিনটি রাজ্যেই নাকি বিক্ষোভ হচ্ছে। কিন্তু আজ আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন যে সারা দেশের মানুষের সমর্থন রয়েছে আমাদের প্রতি। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী, আসাম থেকে গুজরাট পর্যন্ত ছড়িয়েছে এ আন্দোলন।’

হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ আর কর্ণাটকসহ মোদির দল বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোর কৃষকরাও আন্দোলনে যোগ দিয়েছে বলে জানান কোহার।

চলতি মাসের শুরুতে ভারতের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ রাজ্য উত্তর প্রদেশে একটি সমাবেশে যোগ দেয় পাঁচ লাখের বেশি কৃষক। চলমান কৃষক আন্দোলনে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় কর্মসূচি সেটি।

সব কর্মসূচিই শান্তিপূর্ণ থাকবে বলে আগেই আশ্বাস দিয়েছে কৃষক ইউনিয়নগুলো। এ পর্যন্ত বেশিরভাগ আন্দোলন শান্তিপূর্ণ হলেও চলতি বছরের জানুয়ারিতে একটি ট্রাক্টর মিছিলের সময় সংঘর্ষে প্রাণ যায় কমপক্ষে একজনের; আহত হয় ৮০ জনের বেশি পুলিশ সদস্য।

প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন ওই সহিংসতার জন্য কৃষকদের দায়ী করেছিল মোদি প্রশাসন। কৃষকদের দাবি ছিল, অনুপ্রবেশকারীদের দিয়ে সহিংস পরিস্থিতি তৈরি করে কৃষকদের ন্যায্য আন্দোলন বন্ধের অপচেষ্টা ছিল সেটি।

১৩০ কোটি জনসংখ্যার দেশ ভারতের অর্ধেক বাসিন্দাই জীবিকা অর্জনের জন্য কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। দেশটির দুই দশমিক সাত ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির প্রায় ১৫ শতাংশই কৃষিনির্ভর।

আরও পড়ুন:
কোনো প্রতিশ্রুতিই রাখছে না তালেবান: জাতিসংঘ
নগদ অর্থ নেই, ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করছেন আফগানরা
তালেবান শাসনে প্রথম ফ্লাইট গেল পাকিস্তান
বিশ্ববিদ্যালয়ে আফগান নারীরা পড়তে পারবেন, তবে...
আফগানিস্তান নিয়ে ভারত-অস্ট্রেলিয়ার এক সুর

শেয়ার করুন

ভারতে নারী বিচারক বাড়ছে : বিচারপতি নাগারত্ন

ভারতে নারী বিচারক বাড়ছে : বিচারপতি নাগারত্ন

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিভি নাগারত্ন বলেন, ‘আইন ব্যবস্থায় নারীদের উপস্থিতি সমাজের চিরাচরিত ধারণা ভাঙছে। এ উপস্থিতি সমাজের অন্যান্য ক্ষেত্রেও তাদের গুরুত্ব বৃদ্ধি করছে। বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সিদ্ধান্ত গ্রহণে মুখ্য ভূমিকা পালন করছেন নারীরা।’

ভারতে নারী বিচারকদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এতে সমগ্র বিচারব্যবস্থার ওপর সাধারণ নারীদের আস্থা বাড়বে, একই সঙ্গে সমাজে লিঙ্গবৈষম্য কমবে বলে মনে করেন দেশটির সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিভি নাগারত্ন।

সম্প্রতি ভারতের সুপ্রিম কোর্টে শপথ নিয়েছেন ৯ নতুন বিচারপতি। প্রথমবারে একসঙ্গে তিন নারী বিচারপতি পেয়েছে দেশটি। নারী বিচারপতিদের অভ্যর্থনা জানাতে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন সর্বোচ্চ আদালতের নারী আইনজীবীরা। সেই অনুষ্ঠানে বিভি নাগারত্ন এসব কথা বলেন।

নাগারত্ন বলেন, ‘আইনব্যবস্থায় নারীদের উপস্থিতি সমাজের চিরাচরিত ধারণাগুলো ভাঙছে। এ উপস্থিতি সমাজের অন্যান্য ক্ষেত্রেও তাদের গুরুত্ব বৃদ্ধি করছে। বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে সিদ্ধান্ত গ্রহণে মুখ্য ভূমিকা পালন করছেন নারীরা।’

এ ছাড়া বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর উপস্থিতি বাড়লে সমাজে লিঙ্গবৈষম্য কমবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিভি নাগারত্ন ভারতের সাবেক প্রধান বিচারপতির মেয়ে। এত দিন তিনি কর্ণাটক হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি তিনি হতে পারেন।

যদিও তত দিনে তার মেয়াদ আর বেশি দিন বাকি থাকবে না। ৩৬ দিন মেয়াদে তিনি প্রধান বিচারপতি হবেন। তবে তার হাত ধরে নজিরবিহীন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে ভারতের ইতিহাসে।

বিভি নাগারত্ন ছাড়াও বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন হিমা কোহলি ও বেলা এম ত্রিবেদী।

হিমা কোহলি

হিমা কোহলি ২০০৬ সালে দিল্লি হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন। পরে সেখানেই স্থায়ী পদে জায়গা পান। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তেলেঙ্গানা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন। ২০২৪-এর ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পদে থাকবেন।

বেলা এম ত্রিবেদী

বেলা এম ত্রিবেদী গুজরাট হাইকোর্টের বিচারপতি ছিলেন। ২০১১ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে হাইকোর্টে নিযুক্ত হন। একই বছর রাজস্থান হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে বদলি হন।

২০১৬ সালে আবার গুজরাট হাইকোর্টে ফিরে আসেন। ২০০৩ সাল থেকে ২০০৬ পর্যন্ত গুজরাট সরকারের আইনসচিব হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। সুপ্রিম কোর্টে তার মেয়াদ শেষ হবে ২০২৫ সালের ১০ জুন।

আরও পড়ুন:
কোনো প্রতিশ্রুতিই রাখছে না তালেবান: জাতিসংঘ
নগদ অর্থ নেই, ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করছেন আফগানরা
তালেবান শাসনে প্রথম ফ্লাইট গেল পাকিস্তান
বিশ্ববিদ্যালয়ে আফগান নারীরা পড়তে পারবেন, তবে...
আফগানিস্তান নিয়ে ভারত-অস্ট্রেলিয়ার এক সুর

শেয়ার করুন

আদালত নিয়ে মন্তব্য : সমালোচনায় ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী

আদালত নিয়ে মন্তব্য : সমালোচনায়  ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর উপনির্বাচনে রোববার ভোট প্রচার করতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিপ্লব দেবের সমালোচনা করে বলেন, ‘ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, আদালত কী করবে? উনি কাউকে মানেন না। এটাতো ধ্বংসাত্মক মনোভাব।’

আদালত নিয়ে মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।

রোববার বিজেপি নেতা বিপ্লব দেবের একটি ভিডিও নেট মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

সেখানে আগরতলার রবীন্দ্রভবনে ত্রিপুরার সিভিল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের অনুষ্ঠানে আদালত নিয়ে বিপ্লবের বিতর্কিত মন্তব্যটি শোনা যায়।

বিপ্লব বলেন, ‘অনেকে বলেন, আদালত অবমাননা হয়ে যাবে। আদালত অবমাননার দায়ে কারও জেল হয়েছে? আমি তো আছি। জেলে গেলে আমি যাব। এটা এত সহজ নয়।’

তাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘যিনি সরকার চালান, তার হাতেই সব ক্ষমতা। জেলে যাওয়ার জন্য পুলিশ চাই। পুলিশ তো মুখ্যমন্ত্রীর অধীনে। তারা বলবে, আমরা কাউকে খুঁজে পাইনি। তখন আদালত কী করবে?’

মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের এমন বক্তব্যে হতবাক হয়েছেন আইনজীবী থেকে শুরু করে নাগরিক সমাজ।

দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর উপনির্বাচনে রোববার ভোট প্রচার করতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিপ্লবের সমালোচনা করে বলেন, ‘ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, আদালত কী করবে? উনি কাউকে মানেন না। এটাতো ধ্বংসাত্মক মনোভাব।’

বিপ্লব দেবের মন্তব্যের সমালোচনা করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় টুইট করে বলেন, ‘গোটা দেশের কলঙ্ক বিপ্লব দেব। নির্লজ্জভাবে গণতন্ত্রকে নিয়ে উপহাস করছেন। বিচার ব্যবস্থাকেও ছাড়ছেন না। সুপ্রিমকোর্ট কি এ ধরনের অসম্মানজনক মন্তব্যে নজর দেবে?’

অতীতেও একাধিকবার বিতর্কিত মন্তব্য করে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব সমালোচনার মুখে পড়েছেন। একই সঙ্গে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বও বিপ্লব দেবেই আস্থা রেখেছেন।

তবে সম্প্রতি তৃণমূল ত্রিপুরায় সংগঠন তৈরি করতে সক্রিয় হলে বিপ্লব দেবের সরকারের বাঁধার মুখে পড়ে। সভা-সমিতি বন্ধে এরই মধ্যে ত্রিপুরার বিভিন্ন জায়গাতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করে বলা হয়, সরকারের জারি করা ১৪৪ ধারা ভেঙে বিপ্লব দেব নিজেই সভায় অংশগ্রহণ করছেন অথচ বিরোধীদের কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
কোনো প্রতিশ্রুতিই রাখছে না তালেবান: জাতিসংঘ
নগদ অর্থ নেই, ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করছেন আফগানরা
তালেবান শাসনে প্রথম ফ্লাইট গেল পাকিস্তান
বিশ্ববিদ্যালয়ে আফগান নারীরা পড়তে পারবেন, তবে...
আফগানিস্তান নিয়ে ভারত-অস্ট্রেলিয়ার এক সুর

শেয়ার করুন

‘গুলাব’ মোকাবিলায় প্রস্তুত পশ্চিমবঙ্গ

‘গুলাব’ মোকাবিলায় প্রস্তুত পশ্চিমবঙ্গ

স্যাটেলাইট চিত্রে ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, গুলাবের প্রভাবে মঙ্গল ও বুধবার পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলার সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে মেদিনীপুর, ২৪ পরগনাসহ হাওড়া এবং হুগলিতে ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’। ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার গতি নিয়ে রোববার সন্ধ্যায় ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রভাগ কলিঙ্গপত্তম এলাকা দিয়ে প্রবেশ করে।

পশ্চিমবঙ্গের ওপর এর প্রভাব সরাসরি না পড়লেও ওড়িশার পাশে অবস্থানের কারণে রাজ্যটির সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় গুলাবের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছে আবহাওয়া দপ্তর। তাই ঝড় মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, গুলাবের প্রভাবে মঙ্গল ও বুধবার পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলার সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে মেদিনীপুর, ২৪ পরগনাসহ হাওড়া ও হুগলিতে ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

সূত্রটি আরও জানায়, ঘূর্ণিঝড় শেষে ঘূর্ণাবর্তটি নিম্নচাপ আকারে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে আছড়ে পড়বে। ঝড়ের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল থাকবে। এ কারণে উপকূলবর্তী অঞ্চলে সতর্কতা সংকেত জারি করা হয়েছে।

গুলাবের কারণে বুধবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। উপকূল অঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। সব পঞ্চায়েতকে শুকনা খাবার ও পানি মজুত করতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া পর্যটকদের দীঘা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বলা হয়েছে। হোটেলগুলোকেও খালি করার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। পুলিশ ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা সমুদ্র উপকূল অঞ্চল নজরদারিতে রাখছেন।

গুলাব মোকাবিলায় কলকাতার রাজ্য সচিবালয় নবান্নসহ জেলা, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়েও ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি সতর্ক থাকছেন দমকল বাহিনী ও কলকাতা করপোরেশনের সদস্যরা। ঝড়ের কারণে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যের সব সরকারি কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গুলাব মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। জমে থাকা পানি থেকে যেন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, তার জন্য ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় গুলাবের কারণে আগেই রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ২৮টি রেল চলাচল বাতিলসহ একাধিক রেলের যাত্রাপথ ঘুরিয়ে চলাচলের নির্দেশ দিয়েছে ভারতীয় পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন:
কোনো প্রতিশ্রুতিই রাখছে না তালেবান: জাতিসংঘ
নগদ অর্থ নেই, ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করছেন আফগানরা
তালেবান শাসনে প্রথম ফ্লাইট গেল পাকিস্তান
বিশ্ববিদ্যালয়ে আফগান নারীরা পড়তে পারবেন, তবে...
আফগানিস্তান নিয়ে ভারত-অস্ট্রেলিয়ার এক সুর

শেয়ার করুন

পাকিস্তানের প্রশংসায় তালেবান

পাকিস্তানের প্রশংসায় তালেবান

তালেবানের মুখপাত্র ও আফগানিস্তানের অন্তবর্তীকালীন সরকারের ডেপুটি তথ্যমন্ত্রী জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। ফাইল ছবি

আফগানিস্তানের অন্তবর্তীকালীন সরকারের ডেপুটি তথ্যমন্ত্রী জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, তালেবান নেতৃত্বাধীন আফগানিস্তানের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি ইসলামাবাদ যে আহ্বান রেখেছে তা প্রশংসনীয়।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমর্থন দেয়ায় পাকিস্তানের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন তালেবানের মুখপাত্র ও আফগানিস্তানের অন্তবর্তীকালীন সরকারের ডেপুটি তথ্যমন্ত্রী জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ।

পাকিস্তান টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তালেবান নেতৃত্বাধীন আফগানিস্তানের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি ইসলামাবাদ যে আহ্বান রেখেছে তা প্রশংসনীয়।

জাবিহুল্লাহ বলেন, ‘পাকিস্তান আমাদের প্রতিবেশী দেশ। আফগানিস্তান বিষয়ে পাকিস্তান যে অবস্থান নিয়েছে তাতে আমরা কৃতজ্ঞ।’

তালেবান সরকারের এই মন্ত্রী বলেন, অন্যান্য দেশের সঙ্গেও সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় আফগানিস্তান। ব্যবসা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে চায়।

জাবিহুল্লাহ বলেন, ‘আমরা আশা করি, আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আফগানিস্তানকে সমর্থন দেয়া অব্যাহত রাখবে।’

আন্তর্জাতিক অনেক ফোরাম ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপগুলোতে তালেবানের পক্ষে বিভিন্ন দেশের সমর্থন দেয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন জাবিহুল্লাহ।

তিনি জানান, কাতার, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ আফগানিস্তান নিয়ে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে। ছয় দিন আগে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে চীন ও রাশিয়াও আফগানিস্তানের পক্ষে কথা বলেছে।

সাক্ষাৎকারে আফগানিস্তানের পার্বত্য এলাকা পাঞ্জশির নিয়েও কথা বলেন তালেবান সরকারের মন্ত্রীসভার এই সদস্য। জানান, পাঞ্জশিরে যুদ্ধ শেষ হয়েছে। তালেবান কারও সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে চায় না।

তিনি বলেন, ‘সময় এসেছে আফগানিস্তানের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য কাজ করা। আফগানিস্তানে শান্তি অর্জনের পর আমাদের অগ্রাধিকার হবে অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধি করা।’

তবে জাবিহুল্লাহ এটাও মনে করে দেন যে, কেউ যদি আফগানিস্তানে আক্রমণ করে বা সরকারের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ায় তাহলে উপযুক্ত শাস্তি দেয়া হবে।

দুই দশক পর আবার আফগানিস্তান দখল করে তালেবান জানায়, তারা ২০ বছর আগের অবস্থানে নেই। সহনশীলতার কথা বলেছিল কট্টর ইসলামি গোষ্ঠীটি। শত্রুদের সবাইকে ক্ষমা করে দেয়ার কথা জানায় তারা। সবাইকে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের আশ্বাস দেয়। সরকারে নারী প্রতিনিধিত্ব রাখারও ইঙ্গিত দেয়।

তালেবানের এসব আশ্বাসের বাস্তবের কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে তালেবান যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘোষণা করেছে, সেখানে বেশির ভাগ সদস্যই পশতু জাতিগোষ্ঠীর; মন্ত্রিসভায় নেই কোনো নারী সদস্য। এমনকি নারী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও মানা করে দিয়েছে তারা।

বর্তমান পরিস্থিতিতে তালেবান সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ বিশ্বের স্বীকৃতি আদায় এবং দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা।

আর যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব বলছে, স্বীকৃতি পেতে হলে তালেবানকে আগে সবার অংশগ্রহণমূলক সরকার গঠন করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে মানবাধিকার ও নারী অধিকার।

আরও পড়ুন:
কোনো প্রতিশ্রুতিই রাখছে না তালেবান: জাতিসংঘ
নগদ অর্থ নেই, ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করছেন আফগানরা
তালেবান শাসনে প্রথম ফ্লাইট গেল পাকিস্তান
বিশ্ববিদ্যালয়ে আফগান নারীরা পড়তে পারবেন, তবে...
আফগানিস্তান নিয়ে ভারত-অস্ট্রেলিয়ার এক সুর

শেয়ার করুন