৯/১১ হামলায় সৌদি-সংশ্লিষ্টতার নথি প্রকাশ যুক্তরাষ্ট্রের

৯/১১ হামলায় সৌদি-সংশ্লিষ্টতার নথি প্রকাশ যুক্তরাষ্ট্রের

৯/১১ হামলায় সৌদি নাগরিকের সংশ্লিষ্টতার নথি প্রকাশ করল এফবিআই। ছবি: এএফপি

নথিতে ৯/১১-এর সন্ত্রাসী হামলায় সৌদি আরবের নাগরিকদের জড়িত থাকার কথা বলা হলেও ওই হামলা পরিকল্পনায় সৌদি সরকারের সম্পৃক্ততার উল্লেখ প্রতিবেদনের কোথাও করেনি এফবিআই।

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সৌদি নাগরিকদের সঙ্গে ৯/১১-এর সন্ত্রাসী হামলাকারীদের যোগাযোগের নথি প্রকাশ করেছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই।

৯/১১-এর হামলার ২০ বছর পূর্তির পরদিন রোববার এফবিআই অপ্রকাশিত নথি জনসমক্ষে হাজির করে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে ৯/১১-এর সন্ত্রাসী হামলার তদন্ত নথি প্রকাশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে চাপ দিয়ে আসছিলেন নিহতদের স্বজনরা।

তাদের ভাষ্য, সৌদি সরকার ৯/১১-এর হামলার বিষয়টি জানত। কিন্তু তারা হামলা ঠেকানোর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

স্বজনরা সম্প্রতি এও জানান, নথি প্রকাশ না করে হামলার ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নিউ ইয়র্কে নিহতদের স্মৃতিস্তম্ভে উপস্থিত হওয়া উচিত হবে না বাইডেনের।

নথিতে ৯/১১-এর সন্ত্রাসী হামলায় সৌদি আরবের নাগরিকদের জড়িত থাকার কথা বলা হলেও ওই হামলা পরিকল্পনায় সৌদি সরকারের সম্পৃক্ততার উল্লেখ প্রতিবেদনের কোথাও করেনি এফবিআই।

৯/১১-এ ১৯ জন আত্মঘাতী হামলকারীর ১৫ জনই সৌদি আরবের নাগরিক ছিলেন।

অপ্রকাশিত নথি প্রকাশে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগকে আগেই স্বাগত জানায় ওয়াশিংটনে সৌদি দূতাবাস।

একই সঙ্গে হামলাকারীদের সঙ্গে সৌদি রাজতন্ত্রের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ‘মিথ্যা ও বিদ্বেষপ্রসূত’ বলে নাকচ করে সৌদি আরব।

দুই দশক আগে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সকালে যুক্তরাষ্ট্রে চারটি সমন্বিত সন্ত্রাসী হামলা হয়।

সন্ত্রাসীরা যুক্তরাষ্ট্রের চারটি বিমান ছিনতাই করে বিমানগুলোকে ক্ষেপণাস্ত্রের মতো ব্যবহার করে নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও ভার্জিনিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর পেন্টাগনের ভবনে আঘাত করে।

ওই হামলায় আল-কায়েদার ১৯ সদস্য ছাড়াও প্রায় ৩ হাজার বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়।

৯/১১ হামলায় সৌদি-সংশ্লিষ্টতার নথি প্রকাশ যুক্তরাষ্ট্রের

ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের শনিবার স্মরণ করে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: এএফপি

বেশ কয়েকটি সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে ১৬ পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করে এফবিআই।

সৌদি আরবের কয়েকজন নাগরিকের সঙ্গে নাওয়াফ আল-হাজমি ও খালিদ আল-মিধার নামে দুই বিমান ছিনতাইকারীর যোগাযোগের উল্লেখ রয়েছে ওই সব নথিতে।

২০০০ সালে শিক্ষার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে ওই ছিনতাইকারীরা।

এফবিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, লস অ্যাঞ্জেলেসের সৌদি কনস্যুলেটে প্রায়ই যেতেন ওমর আল-বায়োমি নামের এক ব্যক্তি।

ওই দুই বিমান ছিনতাইকারীকে উল্লেখযোগ্য লজিস্টিক্যাল সহায়তা দেন বায়োমি।

সূত্র এফবিআইকে জানায়, কনস্যুলেটে বায়োমি বিশেষ খাতির পেতেন।

এফবিআই জানায়, বিমান ছিনতাইকারী হাজমি ও মিধারকে অনুবাদ, ভ্রমণ, থাকার জায়গা, অর্থসহায়তা থেকে শুরু করে আরও অনেক সহায়তা দেন বায়োমি।

এফবিআইয়ের নথিতে আরও বলা হয়, হাজমি ও মিধারের সঙ্গে লস অ্যাঞ্জেলেসের কিং ফাহাদ মসজিদের ইমাম ফাহাদ আল-থুমাইরির যোগাযোগ ছিল।

বিভিন্ন সূত্র ফাহাদকে ‘চরমপন্থি মতবাদের’ ধারক হিসেবে উল্লেখ করে।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, বায়োমি ও ফাহাদ দুজনই ৯/১১ হামলার আগেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়েন।

সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলায় নিহতদের পরিবারের সাম্প্রতিক মামলা ও তদন্ত নথি প্রকাশে আইনসভা কংগ্রেসের জোরালো চাপের পরিপ্রেক্ষিতে ৩ সেপ্টেম্বর ৯/১১ হামলার নথি প্রকাশে এফবিআইকে নির্দেশ দেন বাইডেন।

একই সঙ্গে ওই হামলায় সৌদি আরবের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতার বিষয়ও প্রকাশ করতে বলা হয়।

ওই সময় নির্বাহী এক আদেশে বলা হয়, ‘আর কয়েক দিন পরেই ৯/১১-এর সন্ত্রাসী হামলার ২০ বছর পূর্তি।

‘ওই হামলায় জড়িতদের বিষয়ে সরকারি অনুসন্ধানে কী পাওয়া গেছে, তা জানার অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের রয়েছে।’

নির্দেশে বলা হয়, ‘আগামী ছয় মাসে ধাপে ধাপে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে।

‘পুরো গোয়েন্দা নথি প্রকাশ করলে তা জাতীয় নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের হামলা ঠেকানোর ক্ষমতা ব্যাহত করতে পারে।

‘তাই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মধ্যে ভারসাম্য রেখে নথি প্রকাশ করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
৯/১১ হামলা: বিচার শুরু করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র
আফগান যুদ্ধের সমাপ্তির মধ্যে ৯/১১ স্মরণে যুক্তরাষ্ট্র
৭ মাস পর শির সঙ্গে ফোনালাপ বাইডেনের
যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল খোলার পর শিশুদের মধ্যে করোনার রেকর্ড
২ দশকে পশ্চিমা আগ্রাসনের বলি ৯ লাখ মানুষ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘সেনারা গ্রামে ঢুকলেই জঙ্গলে পালিয়ে যাই’

‘সেনারা গ্রামে ঢুকলেই জঙ্গলে পালিয়ে যাই’

সশস্ত্র প্রতিরোধ দমনে কঠোর অবস্থানে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। ছবি: এএফপি

খাইন থু বলেন, ‘কয়েকটি জায়গায় খাবার পানির সংকটে পড়ি আমরা। কখনও সারা দিনে এক বেলা খাবার জোটে, আবার কখনও শুধু লবণ দিয়ে ভাত খেতে হয় আমাদের।’

মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমে সাগাইং অঞ্চলের এক গ্রামে বাস খাইন থুর। চলতি বছরের জুনে দেশটির সেনাবাহিনী গ্রামটিতে অভিযান চালালে প্রথম বাড়িঘর ছেড়ে জঙ্গলে পালাতে বাধ্য হন খাইন থুসহ গ্রামের আরও অনেক বাসিন্দা।

সেনাবাহিনীর গ্রামে ঢোকার খবরে এরপর বেশ কয়েকবার বাড়ি ছেড়ে পালান খাইন থু। ঠিক কতবার পালিয়েছেন, তার হিসাব এখন আর রাখেন না তিনি। তবে ১৫ বারের কম হবে না বলে ধারণা খাইন থুর।

আল-জাজিরাকে তিনি বলেন, ‘সেনারা গ্রামে ঢুকলেই আমরা জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যাই।

‘আমরা বনে লুকিয়ে থাকি। সেনারা চলে গেলে গ্রামে ফিরে আসি।’

খাইন থু জানান, দিনের পর দিন বন-জঙ্গলে লুকিয়ে থাকার কারণে মৌলিক চাহিদা পূরণ দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, ‘কয়েকটি জায়গায় খাবার পানির সংকটে পড়ি আমরা। কখনো সারা দিনে এক বেলা খাবার জোটে, আবার কখনো শুধু লবণ দিয়ে ভাত খেতে হয় আমাদের।’

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আয়ে চান বলেন, ‘আমরা শান্তিতে নেই। আমরা কাজ করতে পারি না। লোকজনের অর্থসহায়তার ওপর আমাদের নির্ভর করে থাকতে হয়।

‘সেনারা গ্রামে হানা দিলে আমরা নিরাপদ জায়গার খোঁজে দৌড়াতে থাকি।’

তিনি বলেন, ‘গ্রামে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি আমাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আমরা ঠিকমতো ঘুমাতে বা খেতে পারি না।’

১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

এর পরই সামরিক জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের জনগণের সশস্ত্র প্রতিরোধ গত কয়েক মাসে বৃদ্ধি পায়।

প্রতিরোধ দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। গ্রামাঞ্চলে সশস্ত্র প্রতিরোধের জবাবে পুরো গ্রাম তছনছ করে নির্বিচারে প্রতিরোধকারীদের গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে বাড়িঘর।

এপ্রিল থেকে সাগাইং অঞ্চল সামরিক জান্তাবিরোধী প্রতিরোধের উল্লেখযোগ্য রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

মিয়ানমারের ছায়া সরকার ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্টের (এনইউজি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাগাইং অঞ্চলে এখন পর্যন্ত মোট ১০৯ জনকে হত্যা করেছে সেনাবাহিনী।

জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে ১৯ সেপ্টেম্বর ওই প্রতিবেদন জমা দেয় এনইউজি।

নিহত সশস্ত্র যোদ্ধা ও বেসামরিক নাগরিকদের সবাই পুরুষ। এদের মধ্যে ৭৩ জন সাগাইং অঞ্চলের দেপায়িন ও কানি পৌরসভার বাসিন্দা।

সেনাবাহিনী গ্রামগুলোতে কয়েক দিন পরপরই হানা দেয়ায় নারীরাও সংঘর্ষের প্রভাব থেকে মুক্ত নন।

চলতি মাসে কানিসহ সাগাইং অঞ্চলের ১০টি পৌরসভায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেয় সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর সদস্যরা আক্রমণ আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে এমনটা করে থাকতে পারেন বলে শঙ্কা গ্রামবাসীর।

১৪ জুন দেপায়িন পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত খাইন থুর সাতপেয়ারকিন গ্রামে সহিংসতা শুরু হয়। ওই দিন এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করে সেনাবাহিনী। এর আগের দিন পার্শ্ববর্তী গ্রামে সেনাবাহিনী নিয়োগকৃত প্রশাসকের দুই মেয়েকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম মিয়ানমার নাউয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাগাইং অঞ্চলের ১১টি গ্রাম থেকে ১০ হাজার মানুষ সংঘর্ষ এড়াতে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

অধিকার সংস্থা অ্যাসিসটেন্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্সের (এএপিপি) তথ্য অনুযায়ী, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জান্তা সরকার হটাতে মিয়ানমারজুড়ে চলমান অসহযোগ আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে এখন পর্যন্ত এগারো শর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

জান্তা সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করতে বড় বড় শহরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রদেশে অনেকে হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছে।

কেউ জাতিগত সম্প্রদায় নিয়ে গঠিত সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দিয়েছে আবার অনেকে স্থানীয় প্রতিরোধ গ্রুপেও অংশ নেয়।

আরও পড়ুন:
৯/১১ হামলা: বিচার শুরু করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র
আফগান যুদ্ধের সমাপ্তির মধ্যে ৯/১১ স্মরণে যুক্তরাষ্ট্র
৭ মাস পর শির সঙ্গে ফোনালাপ বাইডেনের
যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল খোলার পর শিশুদের মধ্যে করোনার রেকর্ড
২ দশকে পশ্চিমা আগ্রাসনের বলি ৯ লাখ মানুষ

শেয়ার করুন

ভারতে নারী বিচারক বাড়ছে : বিচারপতি নাগারত্ন

ভারতে নারী বিচারক বাড়ছে : বিচারপতি নাগারত্ন

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিভি নাগারত্ন বলেন, ‘আইন ব্যবস্থায় নারীদের উপস্থিতি সমাজের চিরাচরিত ধারণা ভাঙছে। এ উপস্থিতি সমাজের অন্যান্য ক্ষেত্রেও তাদের গুরুত্ব বৃদ্ধি করছে। বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সিদ্ধান্ত গ্রহণে মুখ্য ভূমিকা পালন করছেন নারীরা।’

ভারতে নারী বিচারকদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এতে সমগ্র বিচারব্যবস্থার ওপর সাধারণ নারীদের আস্থা বাড়বে, একই সঙ্গে সমাজে লিঙ্গবৈষম্য কমবে বলে মনে করেন দেশটির সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিভি নাগারত্ন।

সম্প্রতি ভারতের সুপ্রিম কোর্টে শপথ নিয়েছেন ৯ নতুন বিচারপতি। প্রথমবারে একসঙ্গে তিন নারী বিচারপতি পেয়েছে দেশটি। নারী বিচারপতিদের অভ্যর্থনা জানাতে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন সর্বোচ্চ আদালতের নারী আইনজীবীরা। সেই অনুষ্ঠানে বিভি নাগারত্ন এসব কথা বলেন।

নাগারত্ন বলেন, ‘আইনব্যবস্থায় নারীদের উপস্থিতি সমাজের চিরাচরিত ধারণাগুলো ভাঙছে। এ উপস্থিতি সমাজের অন্যান্য ক্ষেত্রেও তাদের গুরুত্ব বৃদ্ধি করছে। বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে সিদ্ধান্ত গ্রহণে মুখ্য ভূমিকা পালন করছেন নারীরা।’

এ ছাড়া বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর উপস্থিতি বাড়লে সমাজে লিঙ্গবৈষম্য কমবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিভি নাগারত্ন ভারতের সাবেক প্রধান বিচারপতির মেয়ে। এত দিন তিনি কর্ণাটক হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি তিনি হতে পারেন।

যদিও তত দিনে তার মেয়াদ আর বেশি দিন বাকি থাকবে না। ৩৬ দিন মেয়াদে তিনি প্রধান বিচারপতি হবেন। তবে তার হাত ধরে নজিরবিহীন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে ভারতের ইতিহাসে।

বিভি নাগারত্ন ছাড়াও বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন হিমা কোহলি ও বেলা এম ত্রিবেদী।

হিমা কোহলি

হিমা কোহলি ২০০৬ সালে দিল্লি হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন। পরে সেখানেই স্থায়ী পদে জায়গা পান। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তেলেঙ্গানা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন। ২০২৪-এর ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পদে থাকবেন।

বেলা এম ত্রিবেদী

বেলা এম ত্রিবেদী গুজরাট হাইকোর্টের বিচারপতি ছিলেন। ২০১১ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে হাইকোর্টে নিযুক্ত হন। একই বছর রাজস্থান হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে বদলি হন।

২০১৬ সালে আবার গুজরাট হাইকোর্টে ফিরে আসেন। ২০০৩ সাল থেকে ২০০৬ পর্যন্ত গুজরাট সরকারের আইনসচিব হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। সুপ্রিম কোর্টে তার মেয়াদ শেষ হবে ২০২৫ সালের ১০ জুন।

আরও পড়ুন:
৯/১১ হামলা: বিচার শুরু করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র
আফগান যুদ্ধের সমাপ্তির মধ্যে ৯/১১ স্মরণে যুক্তরাষ্ট্র
৭ মাস পর শির সঙ্গে ফোনালাপ বাইডেনের
যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল খোলার পর শিশুদের মধ্যে করোনার রেকর্ড
২ দশকে পশ্চিমা আগ্রাসনের বলি ৯ লাখ মানুষ

শেয়ার করুন

আরও রুশ ক্ষেপণাস্ত্র কিনবে তুরস্ক

আরও রুশ ক্ষেপণাস্ত্র কিনবে তুরস্ক

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। ছবি: এএফপি

রাশিয়ার থেকে এস-ফোর হানড্রেড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ফের কিনলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়বে। ওয়াশিংটন নতুন করে তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে।

রাশিয়ার কাছ থেকে এস-ফোর হানড্রেড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার দ্বিতীয় ব্যাচও কিনতে চায় তুরস্ক।

সিবিএস নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এমনটাই জানিয়েছেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

রাশিয়া থেকে ওই প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ফের কিনলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়বে। ওয়াশিংটন নতুন করে তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, নিজেদের যুদ্ধবিমান এফ-থার্টি ফাইভের জন্য হুমকি রাশিয়া নির্মিত এস-ফোর হানড্রেড। এ ছাড়া এটি ন্যাটোর বড় পরিসরের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্যও হুমকি।

অন্যদিকে আঙ্কারা জানিয়েছে, ন্যাটোভুক্ত কোনো দেশের সন্তোষজনক শর্তের ওপর তুরস্কের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কেনা হবে না।

সাক্ষাৎকারে এরদোয়ান বলেন, ‘কী ধরনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আমাদের থাকবে, কোন দেশ থেকে কোন মাত্রায় সেসব কেনা হবে, এসব শর্ত দিয়ে কোনো দেশকে তুরস্কের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাতে দেয়া হবে না।’

তিনি বলেন, ‘কেউ তুরস্কের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। এ বিষয়ে আমাদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।’

রাশিয়ার এস-ফোর হানড্রেড ক্ষেপণাস্ত্র কেনার পর গত বছরের ডিসেম্বরে তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রধান ইসমাইল দেমিরসহ চার কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।

এস-ফোর হানড্রেড ক্ষেপণাস্ত্র ডেলিভারির বিষয়ে রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যে আলোচনা চলছে।

এ বিষয়ে উভয় দেশের আলোচনা শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র তুরস্কের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি বারবার দিয়ে আসছে।

এরদোয়ানের সাক্ষাৎকারের পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ‘এস-ফোর হানড্রেড ব্যবস্থা না কিনতে আমরা তুরস্ককে বিভিন্নভাবে অনুরোধ করি। রাশিয়ার সামরিক সরঞ্জাম আরও না কেনার আহ্বান জানাই।’

ওই মুখপাত্র জানান, যুক্তরাষ্ট্র তুরস্ককে মিত্র ও বন্ধু হিসেবে দেখে। মতভেদ সত্ত্বেও দুই দেশের অংশীদারত্ব শক্তিশালী করার পন্থা খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র।

আরও পড়ুন:
৯/১১ হামলা: বিচার শুরু করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র
আফগান যুদ্ধের সমাপ্তির মধ্যে ৯/১১ স্মরণে যুক্তরাষ্ট্র
৭ মাস পর শির সঙ্গে ফোনালাপ বাইডেনের
যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল খোলার পর শিশুদের মধ্যে করোনার রেকর্ড
২ দশকে পশ্চিমা আগ্রাসনের বলি ৯ লাখ মানুষ

শেয়ার করুন

আদালত নিয়ে মন্তব্য : সমালোচনায় ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী

আদালত নিয়ে মন্তব্য : সমালোচনায়  ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর উপনির্বাচনে রোববার ভোট প্রচার করতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিপ্লব দেবের সমালোচনা করে বলেন, ‘ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, আদালত কী করবে? উনি কাউকে মানেন না। এটাতো ধ্বংসাত্মক মনোভাব।’

আদালত নিয়ে মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।

রোববার বিজেপি নেতা বিপ্লব দেবের একটি ভিডিও নেট মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

সেখানে আগরতলার রবীন্দ্রভবনে ত্রিপুরার সিভিল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের অনুষ্ঠানে আদালত নিয়ে বিপ্লবের বিতর্কিত মন্তব্যটি শোনা যায়।

বিপ্লব বলেন, ‘অনেকে বলেন, আদালত অবমাননা হয়ে যাবে। আদালত অবমাননার দায়ে কারও জেল হয়েছে? আমি তো আছি। জেলে গেলে আমি যাব। এটা এত সহজ নয়।’

তাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘যিনি সরকার চালান, তার হাতেই সব ক্ষমতা। জেলে যাওয়ার জন্য পুলিশ চাই। পুলিশ তো মুখ্যমন্ত্রীর অধীনে। তারা বলবে, আমরা কাউকে খুঁজে পাইনি। তখন আদালত কী করবে?’

মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের এমন বক্তব্যে হতবাক হয়েছেন আইনজীবী থেকে শুরু করে নাগরিক সমাজ।

দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর উপনির্বাচনে রোববার ভোট প্রচার করতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিপ্লবের সমালোচনা করে বলেন, ‘ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, আদালত কী করবে? উনি কাউকে মানেন না। এটাতো ধ্বংসাত্মক মনোভাব।’

বিপ্লব দেবের মন্তব্যের সমালোচনা করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় টুইট করে বলেন, ‘গোটা দেশের কলঙ্ক বিপ্লব দেব। নির্লজ্জভাবে গণতন্ত্রকে নিয়ে উপহাস করছেন। বিচার ব্যবস্থাকেও ছাড়ছেন না। সুপ্রিমকোর্ট কি এ ধরনের অসম্মানজনক মন্তব্যে নজর দেবে?’

অতীতেও একাধিকবার বিতর্কিত মন্তব্য করে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব সমালোচনার মুখে পড়েছেন। একই সঙ্গে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বও বিপ্লব দেবেই আস্থা রেখেছেন।

তবে সম্প্রতি তৃণমূল ত্রিপুরায় সংগঠন তৈরি করতে সক্রিয় হলে বিপ্লব দেবের সরকারের বাঁধার মুখে পড়ে। সভা-সমিতি বন্ধে এরই মধ্যে ত্রিপুরার বিভিন্ন জায়গাতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করে বলা হয়, সরকারের জারি করা ১৪৪ ধারা ভেঙে বিপ্লব দেব নিজেই সভায় অংশগ্রহণ করছেন অথচ বিরোধীদের কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
৯/১১ হামলা: বিচার শুরু করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র
আফগান যুদ্ধের সমাপ্তির মধ্যে ৯/১১ স্মরণে যুক্তরাষ্ট্র
৭ মাস পর শির সঙ্গে ফোনালাপ বাইডেনের
যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল খোলার পর শিশুদের মধ্যে করোনার রেকর্ড
২ দশকে পশ্চিমা আগ্রাসনের বলি ৯ লাখ মানুষ

শেয়ার করুন

করোনার সামান্য সংক্রমণেও মস্তিষ্কের ক্ষতি

করোনার সামান্য সংক্রমণেও মস্তিষ্কের ক্ষতি

গবেষণায় দুই গ্রুপের মানুষের মস্তিষ্কের গ্রে ম্যাটারে পার্থক্য দেখতে পান বিজ্ঞানীরা। বিশেষ করে মস্তিষ্কে ফ্রন্টাল ও টেমপোরাল লোবস নামে পরিচিত অংশে করোনা আক্রান্ত গ্রুপের গ্রে ম্যাটারের ঘনত্ব কম ধরা পড়ে।

করোনাভাইরাস ১৮ মাসের বেশি সময় ধরে বিশ্বব্যাপী মানুষকে হুমকির মধ্যে রেখেছে। এটির সংক্রমণের সময় এমনকি পরেও স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি নানা ধরনের শারীরিক জটিলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে আক্রান্ত মানুষ।

মস্তিষ্কসহ পুরো শরীরে করোনার ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে গবেষণা জারি রেখেছেন বিজ্ঞানীরা। বার্ধক্যের মতো জৈবিক প্রক্রিয়ায় ভাইরাসটি দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনে এরই মধ্যে বলা হয়েছে।

টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক জেসিকা বারনার্ড বলেন, ‘আমার আগের গবেষণা বার্ধক্যের সঙ্গে স্বাভাবিক মস্তিষ্ক পরিবর্তন ঘিরে ছিল।

‘এ পরিবর্তন মধ্য বয়সি ও তার চেয়ে বেশি বয়সি ব্যক্তিদের চিন্তা ও চলাফেরার ক্ষমতায় পরিবর্তন আনে।

‘তবে সম্প্রতি বিভিন্ন গবেষণায় জানা গেছে, করোনায় সংক্রমিত হওয়ার পর শরীর ও মস্তিষ্কের ওপর এর প্রভাব কয়েক মাস বা তারও বেশি সময় ধরে থাকতে পারে।

‘এটি জানার পর আমার গবেষণা দল বার্ধক্যের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় করোনা কীভাবে প্রভাব ফেলে, তা অনুসন্ধানে আগ্রহী হয়।’

সায়েন্স এলার্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের আগস্টে করোনা হওয়া ব্যক্তিদের মস্তিষ্কে পরিবর্তন নিয়ে প্রাথমিক তবে বড় আকারের গবেষণা করেন বিজ্ঞানীরা। ওই গবেষণা স্নায়ুবিজ্ঞানীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

গবেষণাটিতে ইউকে বায়োব্যাংক নামের হাতের নাগালে থাকা ডেটাবেজের ওপর নির্ভর করেন বিজ্ঞানীরা। ইউকে বায়োব্যাংকে ২০১৪ সালে ৪৫ হাজারের বেশি মানুষের ব্রেন ইমেজিং ডেটা ছিল। এর অর্থ করোনা মহামারির আগে ওই সব ব্যক্তির সবার বেইজলাইন ডেটা ও ব্রেন ইমেজিং ইউকে বায়োব্যাংকে রয়েছে।

ওই সব ব্যক্তির ব্রেন ইমেজিং ডেটা বিশ্লেষণ করেন গবেষণা দলটি। এরপর ওই ব্যক্তিদের মধ্যে যারা করোনায় আক্রান্ত হন, তাদের ব্রেন স্ক্যান করা হয়।

করোনায় আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তি ও আক্রান্ত না হওয়া ব্যক্তিদের আলাদা করেন গবেষকরা। দুই গ্রুপের বয়স, লিঙ্গ, বেইজলাইন টেস্ট ডেটা ও অবস্থানের ওপর সতর্ক নজর রাখেন তারা। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থানের মতো রোগের অন্যান্য ঝুঁকির ওপরও লক্ষ রাখা হয়।

গবেষণায় দুই গ্রুপের মানুষের মস্তিষ্কের গ্রে ম্যাটারে পার্থক্য দেখতে পান বিজ্ঞানীরা।

বিশেষ করে মস্তিষ্কে ফ্রন্টাল ও টেমপোরাল লোবস নামে পরিচিত অংশে করোনা আক্রান্ত গ্রুপের গ্রে ম্যাটারের ঘনত্ব কম ধরা পড়ে।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণত গ্রে ম্যাটারের ঘনত্বে পরিবর্তন আসে। তবে করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ পরিবর্তন বেশি ছিল।

গবেষণায় আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় উঠে আসে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বেশি অসুস্থ ব্যক্তি ও ভাইরাসটির সংক্রমণ শরীরে কম হওয়া ব্যক্তির মস্তিষ্কে পরিবর্তন একই ছিল।

অর্থাৎ করোনার ভয়াবহ ও মৃদু জটিলতায় ভোগা ব্যক্তিদের মস্তিষ্কে গ্রে ম্যাটারের ঘনত্ব একই পরিমাণে কমে যায়।

গবেষকরা আরও জানতে পারেন, করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা তথ্য প্রক্রিয়াকরণে বেশি সময় নেন, যা ভাইরাসটিতে আক্রান্ত না হওয়া ব্যক্তিরা নেন না।

আরও পড়ুন:
৯/১১ হামলা: বিচার শুরু করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র
আফগান যুদ্ধের সমাপ্তির মধ্যে ৯/১১ স্মরণে যুক্তরাষ্ট্র
৭ মাস পর শির সঙ্গে ফোনালাপ বাইডেনের
যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল খোলার পর শিশুদের মধ্যে করোনার রেকর্ড
২ দশকে পশ্চিমা আগ্রাসনের বলি ৯ লাখ মানুষ

শেয়ার করুন

‘গুলাব’ মোকাবিলায় প্রস্তুত পশ্চিমবঙ্গ

‘গুলাব’ মোকাবিলায় প্রস্তুত পশ্চিমবঙ্গ

স্যাটেলাইট চিত্রে ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, গুলাবের প্রভাবে মঙ্গল ও বুধবার পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলার সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে মেদিনীপুর, ২৪ পরগনাসহ হাওড়া এবং হুগলিতে ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’। ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার গতি নিয়ে রোববার সন্ধ্যায় ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রভাগ কলিঙ্গপত্তম এলাকা দিয়ে প্রবেশ করে।

পশ্চিমবঙ্গের ওপর এর প্রভাব সরাসরি না পড়লেও ওড়িশার পাশে অবস্থানের কারণে রাজ্যটির সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় গুলাবের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছে আবহাওয়া দপ্তর। তাই ঝড় মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, গুলাবের প্রভাবে মঙ্গল ও বুধবার পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলার সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে মেদিনীপুর, ২৪ পরগনাসহ হাওড়া ও হুগলিতে ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

সূত্রটি আরও জানায়, ঘূর্ণিঝড় শেষে ঘূর্ণাবর্তটি নিম্নচাপ আকারে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে আছড়ে পড়বে। ঝড়ের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল থাকবে। এ কারণে উপকূলবর্তী অঞ্চলে সতর্কতা সংকেত জারি করা হয়েছে।

গুলাবের কারণে বুধবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। উপকূল অঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। সব পঞ্চায়েতকে শুকনা খাবার ও পানি মজুত করতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া পর্যটকদের দীঘা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বলা হয়েছে। হোটেলগুলোকেও খালি করার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। পুলিশ ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা সমুদ্র উপকূল অঞ্চল নজরদারিতে রাখছেন।

গুলাব মোকাবিলায় কলকাতার রাজ্য সচিবালয় নবান্নসহ জেলা, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়েও ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি সতর্ক থাকছেন দমকল বাহিনী ও কলকাতা করপোরেশনের সদস্যরা। ঝড়ের কারণে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যের সব সরকারি কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গুলাব মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। জমে থাকা পানি থেকে যেন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, তার জন্য ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় গুলাবের কারণে আগেই রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ২৮টি রেল চলাচল বাতিলসহ একাধিক রেলের যাত্রাপথ ঘুরিয়ে চলাচলের নির্দেশ দিয়েছে ভারতীয় পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন:
৯/১১ হামলা: বিচার শুরু করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র
আফগান যুদ্ধের সমাপ্তির মধ্যে ৯/১১ স্মরণে যুক্তরাষ্ট্র
৭ মাস পর শির সঙ্গে ফোনালাপ বাইডেনের
যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল খোলার পর শিশুদের মধ্যে করোনার রেকর্ড
২ দশকে পশ্চিমা আগ্রাসনের বলি ৯ লাখ মানুষ

শেয়ার করুন

দেশের জন্য কাঁদলেন সেই আফগান নারী সাংবাদিক

দেশের জন্য কাঁদলেন সেই আফগান নারী সাংবাদিক

বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বেহেশতা আরগান্দ। ছবি: বিবিসি

আফগান সাংবাদিক বেহেশতা আরগান্দ বলেন, ‘তালেবানের প্রতি আমার বার্তা হচ্ছে, আপনারা পুরো আফগানিস্তান দখল করেছেন। তবে একদিন আপনারা জানবেন, একটি শক্তিশালী প্রজন্ম আপনারা হারিয়েছেন।

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ তালেবানের হাতে চলে যায়।

এর দুই দিন পর তালেবানের জ্যেষ্ঠ নেতা আব্দুল হক হাম্মাদের সাক্ষাৎকার নেন আফগান সংবাদমাধ্যম টোলোনিউজের সাংবাদিক বেহেশতা আরগান্দ।

তালেবানের আগের শাসনামলে এ ধরনের ঘটনা ছিল অকল্পনীয়। নারীদের ঘরের বাইরে কাজ করার অনুমতি সেই সময় ছিল না।

সে জায়গায় আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর এক নারী সাংবাদিককে তালেবান নেতার সাক্ষাৎকার দেয়ার ঘটনা হতবাক করে বিশ্বকে।

তালেবান নেতার সাক্ষাৎকারের বিষয়ে আরগান্দ বলেছিলেন, ‘এটি নেয়া দুরূহ ছিল। আফগান নারীদের স্বার্থে আমি ঝুঁকিপূর্ণ কাজটি করেছিলাম।

‘সে সময় নিজেকে বোঝাই, কাউকে না কাউকে শুরু করতে হবে। তালেবানের ভয়ে আমরা যদি ঘরেই থাকি, কাজে না যাই, তখন তারা (তালেবান) বলবে, নারীরা কাজ করতে চায় না।’

তিনি বলেন, “তালেবানের ওই নেতাকে আমি বলেছিলাম, ‘আমরা আমাদের অধিকার চাই। চাকরি করতে চাই। সমাজে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে চাই'।”

ওই সাক্ষাৎকার দেখে শুধু আফগানরাই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাস করা মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয় এই ভেবে যে এবার হয়তো নারী ইস্যুতে অবস্থান নমনীয় করবে কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠীটি। শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হবেন না আফগান নারীরা। নির্দ্বিধায় ঘরের বাইরে কাজ করতে পারবেন তারা।

১৭ আগস্টের ওই সাক্ষাৎকারের দুই দিন পর আরেকটি যুগান্তকারী কাজ করেন ২৪ বছর বয়সী আরগান্দ। তালেবানের প্রাণনাশের চেষ্টার হাত থেকে বেঁচে যাওয়া মালালা ইউসুফজাইয়ের সাক্ষাৎকার নেন তিনি।

আফগানিস্তানের কোনো টেলিভিশনকে ওই প্রথম সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা।

আফগানিস্তানের প্রেক্ষাপটে ঐতিহাসিক দুটি দৃষ্টান্ত স্থাপনের পর হঠাৎ জানা গেল পরিবারসহ দেশ ছাড়ছেন আরগান্দ।

কারণ জানতে চাইলে সে সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘দেশ ছাড়ছি, কারণ লাখ লাখ আফগানের মতো আমিও তালেবানকে ভয় পাচ্ছি।’

শুরুতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, দেশ ছেড়ে কাতারে অবস্থান করছেন আরগান্দ।

তবে সোমবার বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, কাতার নয়, আলবেনিয়ায় গেছেন আরগান্দ।

বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আরগান্দ জানান, সব কিছুই হারিয়েছেন তিনি। তালেবান একটি পুরো প্রজন্মকে নির্বাসিত করেছে।

দেশের জন্য কাঁদলেন সেই আফগান নারী সাংবাদিক

তিনি বলেন, ‘তালেবান নেতার সাক্ষাৎকার নেয়ার সময় ভয়ে আমার হাত কাঁপছিল। কারণ ওই প্রথম তালেবানের কোনো নেতাকে সামনাসামনি দেখি আমি।’

আরগান্দ বলেন, ‘সাক্ষাৎকারটির কথা ভাবলে এখনও আমি ভয় পাই।'

আলবেনিয়ার সমুদ্রতীরবর্তী এক শহরে এ মুহূর্তে প্রায় ৭০০ আফগান অবস্থান করছেন।

আফগানিস্তানের সাহসী এই নারী সাংবাদিক বলেন, ‘আমি এর আগে কখনো সমুদ্র দেখিনি। আলবেনিয়া খুব সুন্দর একটি দেশ।

‘আলবেনিয়ার সুন্দর এক জায়গায় আফগানরা বসবাস করছেন।

‘তবে আলবেনিয়া কেন, বিশ্বের সব জায়গা স্বর্গে পরিণত হলেও তা আমাকে আনন্দ দেবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমার আত্মা, হৃদয় পড়ে রয়েছে আফগানিস্তানে। বিশ্বের অন্য কোনো জায়গায় নয়।’

আলবেনিয়া ইউরোপের অন্যতম দরিদ্র দেশ। চার হাজারের বেশি আফগান নিতে পারবে না বলে জানিয়েছে আলবেনিয়া সরকার।

আলবেনিয়ায় থাকা আফগানদের বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডায় ভিসার জন্য আবেদন করেছেন। তাদের ভিসা প্রক্রিয়া শেষ হতে এক বছরের বেশি সময় লাগতে পারে।

আরগান্দ বলেন, ‘তালেবানের প্রতি আমার বার্তা হচ্ছে, আপনারা পুরো আফগানিস্তান দখল করেছেন।

‘তবে একদিন আপনারা জানবেন, একটি শক্তিশালী প্রজন্ম আপনারা হারিয়েছেন।'

তিনি বলেন, ‘আমি কখনো ভাবিনি, আমাকে দেশ ছাড়তে হবে। আমি সব হারিয়েছি। ছোটবেলা থেকে আমি আমার স্বপ্ন পূরণে সংগ্রাম করেছি। আমার সব অর্জনই এখন শূন্য।

‘আমি প্রকৃত অর্থেই আমার কাজকে ভালোবাসি। সাংবাদিকতাকে ভীষণ মিস করছি।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে আরগান্দ বলেন, ‘আমি কেবল আশা করতে পারি, একদিন আমি আমার দেশে ফিরতে পারব।’

আরও পড়ুন:
৯/১১ হামলা: বিচার শুরু করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র
আফগান যুদ্ধের সমাপ্তির মধ্যে ৯/১১ স্মরণে যুক্তরাষ্ট্র
৭ মাস পর শির সঙ্গে ফোনালাপ বাইডেনের
যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল খোলার পর শিশুদের মধ্যে করোনার রেকর্ড
২ দশকে পশ্চিমা আগ্রাসনের বলি ৯ লাখ মানুষ

শেয়ার করুন