চিলিতে জুরাসিক যুগের ‘উড়ন্ত ড্রাগনের’ জীবাশ্ম

চিলিতে জুরাসিক যুগের ‘উড়ন্ত ড্রাগনের’ জীবাশ্ম

এক যুগ গবেষণার পর জীবাশ্মটি র‍্যাম্ফোরিনকাইন টেরোসর বলে নিশ্চিত হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ছবি: সংগৃহীত

প্রায় এক যুগের গবেষণার পর জীবাশ্মটি র‍্যাম্ফোরিনকাইন টেরোসর বলে নিশ্চিত হন বিজ্ঞানীরা। প্রাণীটির ডানা লম্বায় প্রায় দুই মিটার। এর একটি লম্বা লেজ ও তীক্ষ্ন নাক ছিল।

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলিতে জুরাসিক যুগের একটি ‘ডানাওয়াল সরীসৃপ’ বা ‘উড়ন্ত ড্রাগনের’ দেহাবশেষের খোঁজ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

‌বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, উড়ন্ত সরীসৃপটি ডাইনোসরের টেরোসর গোত্রের মধ্যে পড়ে। জীবাশ্মটি ১৬ কোটি বছর আগের কোনো ডাইনোসরের।

বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী আক্তা পালেওনতোলোজিকা পলোনিকে বলা হয়, জীবাশ্মটি প্রথম মাটি খুঁড়ে বের করা হয়েছিল ২০০৯ সালে, বর্তমান আতাকামা মরুভূমি থেকে।

আতাকামা মরু জাদুঘরের প্রাকৃতিক ইতিহাস ও সংস্কৃতিবিষয়ক পরিচালক ওসভালডো রোজাস জীবাশ্মটির প্রথম সন্ধান পান। পরে এটি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন ইউনিভার্সিটি অফ চিলির বিজ্ঞানীরা।

প্রায় এক যুগ গবেষণার পর জীবাশ্মটি র‍্যাম্ফোরিনকাইন টেরোসর বলে নিশ্চিত হন বিজ্ঞানীরা। প্রাগৈতিহাসিক নিদর্শনের জন্য সুপরিচিত দক্ষিণ গোলার্ধ্বের গন্ডোয়ানায় এটি এ ধরনের প্রথম কোনো জীবের দেহাবশেষ।

ইউনিভার্সিটি অফ চিলির গবেষক জোনাটান অ্যালারকন জানান, প্রাণীটির ডানা লম্বায় প্রায় দুই মিটার। এর একটি লম্বা লেজ ও তীক্ষ্ন নাক ছিল।

তিনি বলেন, ‘এযাবৎকালে সমগোত্রীয় যত প্রাণীর সন্ধান মিলেছে, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রশস্ত এটি।’

চিলিতেও সবচেয়ে প্রাচীন টেরোসরের জীবাশ্ম এটি। এর আগে উত্তর গোলার্ধ্বে এ ধরনের ডাইনোসরের জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছিল।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধ্বের প্রাণীদের স্থান পরিবর্তনের বিষয়ে বিশদে জানার পথ উন্মুক্ত হতে পারে টেরোসরটি আবিষ্কারের ফলে।

অ্যালারকন বলেন, ‘এ ধরনের টেরোসর কিউবাতেও ছিল। তবে সেগুলো উপকূলীয় প্রাণী ছিল বলে ধারণা করা হয়। সবমিলিয়ে মনে হচ্ছে যে উত্তর ও দক্ষিণের প্রাণীরা হয় নিজেদের আবাস পরিবর্তন করেছিল বা কোনো কারণে এসে কিছু সময় পর ফিরেও গিয়েছিল।’

চিলির বিশাল আতাকামা মরুভূমি এক সময় প্রশান্ত মহাসাগরের নিচে ছিল। কয়েক শ কোটি বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা কমে বর্তমানে এটি বালু ও পাথরে পরিপূর্ণ শুষ্ক একটি অঞ্চল, যার সঙ্গে চাঁদের পৃষ্ঠের মিল খুঁজে পান বিজ্ঞানীরা।

আরও পড়ুন:
বৃহত্তম ডাইনোসরের তালিকায় নতুন প্রজাতি
চিলিতে নতুন প্রজাতির ডাইনোসরের দেহাবশেষ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ইতিহাস গড়ে পৃথিবীতে ৪ মহাকাশ পর্যটক

ইতিহাস গড়ে পৃথিবীতে ৪ মহাকাশ পর্যটক

মহাকাশে রওনা দেয়ার আগে প্রথম চার বেসামরিক পর্যটক ক্রিস সেমব্রোস্কি, শন প্রক্টর, জ্যারেড আইজ্যাকম্যান ও হ্যালে আর্সেনক্স। ছবি: ইন্সপিরেশান ফোর (বাম থেকে ডানে)।

আরোহীরা ছিলেন পৃথিবীর কক্ষপথ ঘুরে আসা প্রথম বেসরকারি দল, যাদের সবাই সাধারণ মানুষ। তাদের সঙ্গে ছিল না কোনো পেশাদার নভোচারী।

শুধু বেড়ানোর উদ্দেশ্যে মহাকাশে যাওয়া বিশ্বের প্রথম চার অপেশাদার ও বেসামরিক নভোচারী ফিরে এসেছেন পৃথিবীতে। তিন দিন কক্ষপথে কাটানোর পর আটলান্টিকের ফ্লোরিডা উপকূলে স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় অবতরণ করে তাদের বহনকারী ক্যাপসুলটি।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ক্যাপসুলটির পানিতে আছড়ে পড়া ঠেকাতে চারটি প্যারাসুটের মাধ্যমে সেটির গতি ধীর করে আনা হয়। ক্যাপসুলটি নিয়ন্ত্রিতভাবে পানি স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যায় কয়েকটি নৌকা, যেগুলোতে করে তীরে ফেরেন নভোচারীরা।

এর মাধ্যমে সফলভাবে সম্পন্ন হলো মহাকাশযাত্রায় প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশযান প্রস্তুতকারক ও মহাকাশযাত্রা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের এ ফ্লাইটের নাম ‘ইন্সপিরেশান ফোর’।

এর আরোহীরা ছিলেন পৃথিবীর কক্ষপথ ঘুরে আসা প্রথম বেসরকারি দল, যাদের সবাই সাধারণ মানুষ। তাদের সঙ্গে ছিল না কোনো পেশাদার নভোচারী।

এ নিয়ে স্পেসএক্স মহাকাশে তিনটি সফল যাত্রা পরিচালনা করেছে, যা মহাকাশ পর্যটনের জন্য আরেকটি মাইলফলক।

গত বুধবার ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে একটি ড্রাগন ক্যাপসুলে চড়ে রওনা দেন ওই চারজন। দলটির নেতৃত্বে ছিল ৩৮ বছর বয়সী আমেরিকান ধনকুবের ও দক্ষ পাইলট জ্যারেড আইজ্যাকম্যান। তিন সঙ্গীসহ চারজনের অভিযাত্রিক দলটির মহাকাশযাত্রার পুরো খরচ বহন করেছেন তিনি।

অবতরণের পরই আইজ্যাকম্যানকে বেতারে বলতে শোনা যায়, ‘অবিশ্বাস্য একটি যাত্রা শেষ করে এলাম আমরা।’

ই-কমার্সভিত্তিক প্রতিষ্ঠান শিফটফোর পেমেন্টসের প্রধান নির্বাহী জ্যারেড আইজ্যাকম্যান। মহাকাশ ভ্রমণে তার খরচের অঙ্ক গোপন রাখা হয়েছে।

টাইম ম্যাগাজিনের হিসাব অনুযায়ী, ক্রু ড্রাগনের চারটি আসনের জন্য আরেক ধনকুবের ও স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ককে খরচ বাবদ প্রায় ২০ কোটি ডলার দিয়েছেন আইজ্যাকম্যান।

প্রতিযোগিতার আয়োজন করে নিজের তিন সঙ্গী বাছাই করে নিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। সৌভাগ্যবানরা হলেন স্বাস্থ্যকর্মী ২৯ বছর বয়সী হ্যালে আর্সেনক্স, ৪২ বছর বয়সী তথ্য প্রকৌশলী ক্রিস সেমব্রোস্কি ও ৫১ বছর বয়সী শিক্ষক শন প্রক্টর।

এদের মধ্যে আর্সেনক্স মহাকাশভ্রমণকারী সর্বকনিষ্ঠ আমেরিকান এবং কৃত্রিম পা ও টাইটানিয়াম রডযুক্ত বাম পা নিয়ে মহাকাশে যাওয়া প্রথম ব্যক্তি। শৈশবে প্রাণঘাতী ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধে জয়ী তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের মেমফিসে সেন্ট জুডি চিলড্রেনস রিসার্চ হসপিটালে ক্যানসারের চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন তিনি। বর্তমানে সেখানেই কর্মরত।

মহাকাশভ্রমণে ছয় মাস প্রশিক্ষণ নিয়েছে চারজনের দলটি। তাদের নিয়ে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের (আইএসএস) চেয়েও ১৬০ কিলোমিটার উঁচু থেকে পৃথিবীকে দিনে ১৫ বারের বেশি প্রদক্ষিণ করেছে স্পেসএক্সের ড্রাগন ক্যাপসুল।

পৃথিবী থেকে ৫৭৫ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত গিয়েছে সেটি; যায়নি আইএসএসের কাছে।

আরও পড়ুন:
বৃহত্তম ডাইনোসরের তালিকায় নতুন প্রজাতি
চিলিতে নতুন প্রজাতির ডাইনোসরের দেহাবশেষ

শেয়ার করুন

৯০ দিন পর পৃথিবীতে ৩ চীনা নভোচারী

৯০ দিন পর পৃথিবীতে ৩ চীনা নভোচারী

পৃথিবী ছাড়ার আগে তাং হোনবো, নিয়ে হাইশেং ও লিউ বোমিং। ফাইল ছবি

মহাকাশে থাকাকালীন তিন নভোচারী পৃথিবীতে পরীক্ষামূলকভাবে তথ্য সরবরাহ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটাসহ দৈনন্দিন নানা কাজ সম্পন্ন করেছেন। তারা এই তিন মাস ছিলেন স্পেস স্টেশনটির কেন্দ্রীয় অংশ তিয়ানহে মডিউলে।

মহাকাশে চীনের দীর্ঘতম অভিযানে ইতি টেনে পৃথিবীতে ফিরেছেন তিন নভোচারী। পৃথিবী থেকে প্রায় ৩৮০ কিলোমিটার উচ্চতায় চীনের মহাকাশ স্টেশনের তিয়ানহে মডিউলে ৯০ দিন কাটিয়েছেন তারা।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, শেনঝৌ-১২ মহাকাশযানে চড়ে বৃহস্পতিবার স্পেস স্টেশন থেকে পৃথিবীর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন তিন নভোচারী। চীনের ইনার মঙ্গোলিয়া অঞ্চলের গোবি মরুভূমিতে স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে সফল অবতরণ করেন তারা।

নভোচারীরা হলেন নিয়ে হাইশেং, লিউ বোমিং ও তাং হোনবো। চলতি বছরের ১৭ জুন পৃথিবী থেকে মহাকাশের উদ্দেশে পাড়ি দেন তারা। গোবি মরুভূমি থেকেই রওনা দিয়েছিল তাদের বহনকারী মহাকাশযানটি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সফল এই অভিযানের ফলে মহাকাশে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠল চীন।

চীনের গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছে, মহাকাশে থাকাকালীন তিন নভোচারী পৃথিবীতে পরীক্ষামূলকভাবে তথ্য সরবরাহ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটাসহ দৈনন্দিন নানা কাজ সম্পন্ন করেছেন।

তারা এই তিন মাস ছিলেন স্পেস স্টেশনটির কেন্দ্রীয় অংশ তিয়ানহে মডিউলে। সেখানে প্রত্যেক নভোচারীর জন্য পৃথক থাকার জায়গা, মহাকাশে চলতে সক্ষম বিশেষ নকশার ট্রেডমিল-বাইসাইকেলসহ শরীরচর্চাকেন্দ্র ইত্যাদি রয়েছে।

গত কয়েক বছরে মহাকাশ গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বেইজিং। এমনকি বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে চাঁদের সবচেয়ে দূরের অংশে একটি রোবটচালিত রোভারও পাঠিয়েছে চীন।

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) অংশ নেই বলে নিজস্ব মহাকাশ কেন্দ্র নির্মাণ করতে হয়েছে চীনকে।

পৃথিবীর কক্ষপথে আইএসএস পরিচালিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে; অংশীদারিত্বে আছে রাশিয়া, ইউরোপ, কানাডা ও জাপান। সেখানে চীনকে কোনো ধরনের সহযোগিতা দেয়া হয় না।

আরও পড়ুন:
বৃহত্তম ডাইনোসরের তালিকায় নতুন প্রজাতি
চিলিতে নতুন প্রজাতির ডাইনোসরের দেহাবশেষ

শেয়ার করুন

পেশাদার নভোচারী ছাড়াই প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইটে মহাকাশে ৪ পর্যটক

পেশাদার নভোচারী ছাড়াই প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইটে মহাকাশে ৪ পর্যটক

মহাকাশে রওনা দেয়ার আগে প্রথম চার বেসামরিক পর্যটক ক্রিস সেমব্রোস্কি, শন প্রক্টর, জ্যারেড আইজাকম্যান ও হ্যালে আর্সেনক্স। ছবি: ইন্সপিরেশান ফোর (বাম থেকে ডানে)।

মহাকাশে প্রথম বেসামরিক অভিযাত্রিক দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ৩৮ বছর বয়সী আমেরিকান ধনকুবের ও দক্ষ পাইলট জ্যারেড আইজাকম্যান। মহাকাশভ্রমণে সঙ্গী নির্বাচনে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলেন তিনি। প্রতিযোগিতায় জয়ী তিনজনকে নিয়ে মহাকাশে গেছেন আইজ্যাকম্যান। নিজেরসহ বাকি তিনজনের যাত্রার খরচও তিনি বহন করছেন।

প্রথমবারের মতো বেড়ানোর উদ্দেশ্যে মহাকাশে গেলেন চার বেসামরিক পর্যটক। তাদের সঙ্গে নেই কোনো পেশাদার নভোচারী।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে একটি ড্রাগন ক্যাপসুলে চড়ে স্থানীয় সময় বুধবার রওনা দেন তারা। পৃথিবী প্রদক্ষিণ করবেন পরবর্তী তিনদিন। এরপর ফিরে আসবেন নিজস্ব পরিমণ্ডলে।

মহাকাশযাত্রায় প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইটটি পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশযান প্রস্তুতকারক ও মহাকাশযাত্রা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। সফরটির নাম দেয়া হয়েছে ‘ইন্সপিরেশান ফোর’।

এ ঘটনার মধ্য দিয়ে শুরু হলো সাধারণ মানুষের মহাকাশভ্রমণ; মহাকাশবিজ্ঞান ও পর্যটনের ইতিহাসে যুক্ত হলো নতুন অধ্যায়। এযাবৎকালের অন্যতম উচ্চাভিলাষী পর্যটন মিশন ছিল এটি।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরে আসা প্রথম বেসরকারি ফ্লাইটে অভিযাত্রী ছিলেন চারজন। এদের মধ্যে তিনজনই ‘সাধারণ মানুষ’ এবং অপরজন তাদের পৃষ্ঠপোষক।

মহাকাশে প্রথম বেসামরিক অভিযাত্রিক দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ৩৮ বছর বয়সী আমেরিকান ধনকুবের ও দক্ষ পাইলট জ্যারেড আইজাকম্যান। মহাকাশভ্রমণে সঙ্গী নির্বাচনে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলেন তিনি।

প্রতিযোগিতায় জয়ী তিনজনকে নিয়ে মহাকাশে গেছেন আইজ্যাকম্যান। নিজেরসহ বাকি তিনজনের যাত্রার খরচও তিনি বহন করছেন।

আইজ্যাকম্যানের সঙ্গী ২৯ বছর বয়সী হ্যালে আর্সেনক্স। মহাকাশভ্রমণকারী সর্বকনিষ্ঠ আমেরিকান এবং কৃত্রিম পা ও টাইটানিয়াম রডযুক্ত বাম পা নিয়ে মহাকাশে যাওয়া প্রথম ব্যক্তিও তিনি।

শৈশবে প্রাণঘাতী ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধে জয়ী আর্সেনক্স পেশায় একজন স্বাস্থ্যকর্মী। যুক্তরাষ্ট্রের টেনেজি অঙ্গরাজ্যের মেমফিসে সেন্ট জুডি চিলড্রেনস রিসার্চ হসপিটালে ক্যানসারের চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন তিনি; বর্তমানে সেখানেই কর্মরত।

নিজের পকেট থেকে হাসপাতালটিতে ১০ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছেন আইজ্যাকম্যান। আরও ১০ কোটি ডলার অনুদান দেয়ার জন্য তহবিল সংগ্রহের চেষ্টাও করছেন।

আইজ্যাকম্যান ও আর্সেনক্সের দুই সঙ্গী ৪২ বছর বয়সী তথ্য প্রকৌশলী ক্রিস সেমব্রোস্কি ও ৫১ বছর বয়সী শিক্ষক শন প্রক্টর।

মহাকাশভ্রমণে ছয় মাস প্রশিক্ষণ নিয়েছে চারজনের দলটি। তাদের নিয়ে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের (আইএসএস) চেয়েও ১৬০ কিলোমিটার উঁচু থেকে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করবে স্পেসএক্সের ড্রাগন ক্যাপসুল। ভ্রমণ শেষে চলতি সপ্তাহে ফ্লোরিডা উপকূলে অবতরণ করবে ক্যাপসুলটি।

এর আগে চলতি বছর নিজস্ব মহাকাশযানে চড়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বাইরে গিয়েছিলেন দুই ধনকুবের ব্যবসায়ী স্যার রিচার্ড ব্র্যানসন ও জেফ বেজোস।

আগামী মাসে এক রুশ চলচ্চিত্র পরিচালক ও অভিনেত্রী বেড়াতে যাবেন আইএসএসে; পরের ফ্লাইটটি যাবে নতুন বছরের শুরুতে।

আরও পড়ুন:
বৃহত্তম ডাইনোসরের তালিকায় নতুন প্রজাতি
চিলিতে নতুন প্রজাতির ডাইনোসরের দেহাবশেষ

শেয়ার করুন

৪ কোটি বছর আগে সাহারায় থাকত চারপেয়ে তিমি

৪ কোটি বছর আগে সাহারায় থাকত চারপেয়ে তিমি

মিসরের মনসুরা ইউনিভার্সিটিতে সাজিয়ে রাখা চারপেয়ে তিমির জীবাশ্ম, সামনে প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীটির একটি কাল্পনিক ছবি। ছবি: সিবিএস নিউজ

যে অঞ্চলে জীবাশ্মটির সন্ধান মিলেছিল, প্রাগৈতিহাসিককালে সে অঞ্চলে ছিল গভীর সাগর। বিশালদেহী ফিওমিসেটাস আনুবিস লম্বায় নয় ফুট হলেও এর ওজন ছিল প্রায় ৬০০ কেজি। দৈহিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে দীর্ঘ খুলি ও নাক উল্লেখযোগ্য, যা থেকে ধারণা মেলে যে তীক্ষ্ন ঘ্রাণ ও শ্রবণশক্তির অধিকারী ছিল প্রাণীটি; শিকারকে আঁকড়ে ধরে চিবিয়ে খেত।

সাহারা মরুভূমির মিসর অংশে প্রাগৈতিহাসিক যুগের একটি চারপেয়ে তিমির জীবাশ্ম আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। ধারণা করা হচ্ছে, প্রাণীটির জীবনকাল ছিল চার কোটি ৩০ লাখ বছর আগে।

ওয়েস্টার্ন ডেজার্টের মাটি খুঁড়ে ১০ বছরেরও বেশি সময় আগে জীবাশ্মটি বের করে আনা হয়েছিল। কিন্তু এটি কোন প্রাণীর দেহাবশেষ, তা এতদিন ছিল অজানা।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, কালের বিবর্তনে বর্তমানে সমুদ্রের সর্ববৃহৎ বাসিন্দা হিসেবে যে তিমির রাজত্ব, সেই তিমিরই পূর্বসূরি ছিল চারপেয়ে প্রাণীটি যার দেহাবশেষ পেয়েছেন গবেষকরা।

ডাঙা আর সাগর- দুই জায়গাতেই বিচরণ করত বলে প্রাগৈতিহাসিক তিমিটি আধা-জলজ প্রাণী হিসেবে পরিচিত।

গবেষণায় নেতৃত্ব দেয়া জীবাশ্মবিদ হাশেম সালাম জানান, এটি পুরোপুরি শিকারি প্রাণী ছিল বলে এর বৈশিষ্ট্য থেকে প্রমাণ মিলেছে।

মিসরীয় দেবতা আনুবিসের নামে নাম রাখা হয়েছে তিমির জীবাশ্মটির, ফিওমিসেটাস আনুবিস। প্রাচীন মিসরের পুরাণে উল্লেখিত আনুবিস ছিলেন মৃত্যুর দেবতা।

মিসরের মনসুরা ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সালাম বলেন, ‘আনুবিস নাম বেছে নেয়ার কারণ হলো, প্রাণীটির চোয়াল অনেক শক্তিশালী ছিল। একেকটি কামড়ে প্রাণ কেড়ে নেয়ার ক্ষমতা রাখত তিমিটি।’

বিশালদেহী ফিওমিসেটাস আনুবিস লম্বায় নয় ফুট হলেও এর ওজন ছিল প্রায় ৬০০ কেজি। এর দৈহিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে দীর্ঘ খুলি ও নাক উল্লেখযোগ্য। এ থেকে ধারণা মেলে, তীক্ষ্ন ঘ্রাণ ও শ্রবণশক্তির অধিকারী ছিল প্রাণীটি; শিকারকে আঁকড়ে ধরে চিবিয়ে খেত তারা।

ওয়েস্টার্ন ডেজার্টে ফিওমিসেটাস আনুবিসের জীবাশ্মের প্রথম সন্ধান মেলে ২০০৮ সালে। মিশরীয় পরিবেশবিদরা এটির খোঁজ পান। কিন্তু জীবাশ্মটি কোন প্রাণীর, সে বিষয়ে প্রাপ্ত তথ্য ও গবেষণার ফল গত মাসেই একটি প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছেন গবেষকরা।

বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী প্রসিডিংস অফ দ্য রয়্যাল সোসাইটি বিতে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, যে অঞ্চলে জীবাশ্মটির সন্ধান মিলেছিল, প্রাগৈতিহাসিককালে সে অঞ্চলে ছিল গভীর সাগর।

সালাম চানান, ২০১৭ সাল পর্যন্ত জীবাশ্মটি নিয়ে কোনোরকম পরীক্ষানিরীক্ষা হয়নি। কারণ গবেষণার জন্য সেরা ও মেধাবী মিসরীয় জীবাশ্মবিদদের এক জায়গায় আনতে চেয়েছিলেন তিনি।

সালাম বলেন, ‘মিসরের ইতিহাসে এবারই প্রথম কেবল দেশের বিজ্ঞানীদের নিয়ে কোনো মেরুদণ্ডী প্রাণীর জীবাশ্ম বিশ্লেষণ করেছি আমরা। পুরোপুরি নতুন একটি প্রজাতি আবিষ্কার করেছি এবং চারপেয়ে তিমির একটি জাতের সন্ধান পেয়েছি।’

গবেষকদের মতে, তিমির বিবর্তন নিয়ে গবেষণার পথ খুলে দিয়েছে এ জীবাশ্ম। ডাঙার তৃণভোজী স্তন্যপায়ী থেকে তিমিরা কেন, কীভাবে এখনকার মাংসাশী ও পুরোপুরি সামুদ্রিক প্রাণীতে পরিণত হলো, সেটাই জানতে চান তারা।

ধারণা করা হচ্ছে, ১ কোটি বছরেরও বেশি সময় ধরে তিমিদের এ বিবর্তন ঘটেছে।

মিসরের ওয়েস্টার্ন ডেজার্ট অঞ্চল আগে থেকেই আরবি ভাষায় ‘ওয়াদি আল-হিতান’ নামে পরিচিত, যার বাংলা করলে দাঁড়ায় তিমির উপত্যকা। জনপ্রিয় এই পর্যটনকেন্দ্র মিসরের একমাত্র প্রাকৃতিক বিশ্ব ঐতিহ্য, যেখানে প্রাগৈতিহাসিক আরেকটি তিমির জীবাশ্ম রয়েছে।

নতুন আবিষ্কৃত চারপেয়ে তিমিটি ‘প্রোটিসিটিডস’ পরিবারের। বিলুপ্ত আধা-জলজ এই তিমির বাস ছিল ৫ কোটি ৯০ লাখ থেকে ৩ কোটি ৩০ লাখ বছর আগে।

সালাম জানান, এ ধরনের তিমি দীর্ঘক্ষণ শুষ্ক ডাঙায় হাঁটতে পারত। আবার পানিতেও শিকার করত।

নিউইয়র্ক ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির স্তন্যপায়ী প্রাণীর বিবর্তন ইতিহাসের বিশেষজ্ঞ জোনাথন গিজলার বলেন, ‘প্রাচীনকালে যেসব তিমি চার পা ব্যবহার করত বলে আমরা জানি, সেগুলোর মধ্যেও এটি নতুন প্রজাতি।’

তার ধারণা, তিমি কখন, কীভাবে, কেন ডাঙা থেকে আলাদা হয়েছে, সে বিষয়ে আভাস মিলতে পারে মিসরের যে এলাকায় জীবাশ্মটি পাওয়া গেছে- সেখান থেকে। গবেষণায় যুক্ত ছিলেন না গিজলার।

বিশ্বে এখন পর্যন্ত যত তিমির জীবাশ্ম আবিষ্কার হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন জীবাশ্মটি প্রায় ৫ কোটি বছরের পুরোনো। পাকিস্তান ও ভারতের কোনো এলাকায় সেটি জন্মেছিল বলে ধারণা করা হয়।

কিন্তু ডাঙা থেকে কীভাবে সমুদ্রের স্থায়ী বাসিন্দায় পরিণত হলো তিমি, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি গবেষকরা।

আরও পড়ুন:
বৃহত্তম ডাইনোসরের তালিকায় নতুন প্রজাতি
চিলিতে নতুন প্রজাতির ডাইনোসরের দেহাবশেষ

শেয়ার করুন

মুটিয়ে যাওয়ার মূল কারণ অতিরিক্ত খাবার নয়: গবেষণা

মুটিয়ে যাওয়ার মূল কারণ অতিরিক্ত খাবার নয়: গবেষণা

প্রতীকী ছবি

আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ‘গ্লাইসেমিক ফুডসের’ আধিক্য ওজন বৃদ্ধির মূল কারণ। রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, এমন খাবারকে বলা হয় গ্লাইসেমিক ফুড। প্রক্রিয়াজাত খাবার, বিশেষ করে অল্প সময়ে দ্রুত হজমযোগ্য শর্করায় বেড়ে যায় ওজন।

শারীরিক স্থূলতা বা উচ্চতার তুলনায় বেশি ওজন বা মোটা হওয়ার মূল কারণ অতিরিক্ত খাওয়া নয়। নতুন গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে, স্থূলতার মহামারির জন্য দায়ী আধুনিক খাদ্যাভ্যাস।

সায়েন্স ডেইলির প্রতিবেদনে বলা হয়, আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ‘গ্লাইসেমিক ফুডসের’ আধিক্য ওজন বৃদ্ধির প্রবণতার মূল কারণ। রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, এমন খাবারকে বলা হয় গ্লাইসেমিক ফুড।

প্রক্রিয়াজাত খাবার, বিশেষ করে অল্প সময়ে দ্রুত হজমযোগ্য শর্করা গ্লাইসেমিক ফুড এর অন্যতম উদাহরণ। এসব খাবার খাওয়ার কারণে মানবদেহে হরমোন নিঃসরণে প্রভাব পড়ে, যা আমাদের বিপাকক্রিয়াকে আমূল বদলে দিতে পারে। এরই ফলে দেহে চর্বির পরিমাণ বাড়ে, ওজন বাড়ে, ব্যক্তি মোটা হয়ে যায়।

গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী দ্য আমেরিকান জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশানে।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র সিডিসির বিজ্ঞানীরা বলছেন, আমেরিকান জনগণের ৪০ শতাংশের বেশি শারীরিক স্থূলতায় ভুগছেন। তাদের মধ্যে বাড়ছে হৃদরোগ, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, টাইপ টু ডায়াবেটিস ও কয়েক ধরনের ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা।

নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের ২০২০-২০২৫ সালের ডায়েটারি গাইডলাইনে বলা হয়েছে, ওজন কমাতে হলে ‘প্রাপ্তবয়স্কদের ক্যালরি বেশি- এমন খাবার খাওয়া ও কোমল পানীয় পান করা কমাতে হবে। বাড়াতে হবে শরীরচর্চা।’

স্বাস্থ্য রক্ষায় ওজন নিয়ন্ত্রণের কয়েক শ বছরের পুরোনো দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটেছে এই নির্দেশনায়।

আধুনিককালে অতি সুস্বাদু, বাজারে বিপুল জনপ্রিয় আর সস্তা প্রক্রিয়াজাত খাবার ঘিরে রেখেছে মানুষকে। প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি ক্যালরি খেয়ে ফেলা হয় সহজেই। এই ভারসাম্যহীনতা আরও বেড়ে যায় শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার জীবনচর্চায় অভ্যস্ততার কারণে।

কম খাওয়া আর অধিক শরীরচর্চা দৈনন্দিন জীবনে অন্তর্ভুক্ত করতে স্বাস্থ্যবিদরা কয়েক দশক ধরে বলে আসলেও তা আমলে নিচ্ছে না মানুষ। ফলে বাড়ছে শারীরিক স্থূলতা ও অতিরিক্ত ওজনজনিত স্বাস্থ্য জটিলতা।

গবেষকরা বলছেন, আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে খাদ্যতালিকায় ভারসাম্য রক্ষার বিকল্প পথ খুঁজতে হবে।

যেমন শর্করা-ইনসুলিনের হিসাবভিত্তিক তালিকায় স্থূলতা ও অতিরিক্ত ওজনের বিষয়টি বেশি স্পষ্ট; এটি দীর্ঘমেয়াদে ওজন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কৌশল গ্রহণেও সহায়ক।

আরও পড়ুন:
বৃহত্তম ডাইনোসরের তালিকায় নতুন প্রজাতি
চিলিতে নতুন প্রজাতির ডাইনোসরের দেহাবশেষ

শেয়ার করুন

টিকা না নিলে ১১ গুণ বেশি মৃত্যুঝুঁকি: গবেষণা

টিকা না নিলে ১১ গুণ বেশি মৃত্যুঝুঁকি: গবেষণা

করোনা প্রতিরোধী টিকা না নিলে ১১ গুণ বেশি মৃত্যুঝুঁকি থাকে বলে গবেষণা প্রতিবেদনে জানায় সিডিসি। ছবি: এএফপি

সিডিসির পরিচালক রশেল ওয়েলেন্সকি বলেন, ‘দুমাস আগে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট দেশজুড়ে প্রভাব বিস্তারকারী ভাইরাস ছিল। ওই সময় যারা টিকা নেননি, তারা সাড়ে চার গুণ বেশি করোনায় আক্রান্ত হন, ১০ গুণ বেশি হাসপাতালে ভর্তি হন ও ১১ গুণ বেশি ভাইরাসে মৃত্যুবরণ করেন।’

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নেয়া ব্যক্তিদের চেয়ে টিকা না নেয়া ব্যক্তিরা ১১ গুণ বেশি মৃত্যুঝুঁকিতে থাকেন।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) শুক্রবার নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে।

সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনাসৃষ্ট শারীরিক জটিলতা প্রতিরোধে টিকার কার্যকারিতা এ গবেষণার মাধ্যমে ফের হাজির করল সিডিসি।

শুক্রবার এক ব্রিফিংয়ে সিডিসির পরিচালক রশেল ওয়েলেন্সকি বলেন, ‘দুমাস আগে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট দেশজুড়ে প্রভাব বিস্তারকারী ভাইরাস ছিল।

‘ওই সময় যারা টিকা নেননি, তারা সাড়ে চার গুণ বেশি করোনায় আক্রান্ত হন, ১০ গুণ বেশি হাসপাতালে ভর্তি হন ও ১১ গুণ বেশি ভাইরাসে মৃত্যুবরণ করেন।’

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ১৩টি অঞ্চলে কোভিড-১৯-এর সংক্রমণ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিডিসি।

সিডিসি তাদের গবেষণা প্রতিবেদনে জানায়, ডেল্টা ধরনের আঘাতে ব্যাপক সংক্রমণের সময় টিকার সব ডোজ নেয়া ব্যক্তিরাও করোনায় বেশি আক্রান্ত হন।

বিজ্ঞানীরা আশা করেছিলেন, সংক্রমণ মোকাবিলায় টিকা সর্বোচ্চ কার্যকর হলে জুনের শেষ সময় থেকে পুরো জুলাই মাসে টিকার সব ডোজ নেয়া ব্যক্তিদের ১০ শতাংশ ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হবেন।

তবে টিকার সব ডোজ নেয়ার পরও ১৮ শতাংশ ব্যক্তির দেহে করোনার উপস্থিতি পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে গবেষকদের ভাষ্য, সার্স-কোভ-২-এর ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণের বিরুদ্ধে টিকার প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্ভাব্য কমে যাওয়ায় আক্রান্তের ওই হার সংগতিপূর্ণ।

টিকাকে আরও কার্যকর করতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা দেশজুড়ে বুস্টার ডোজের পরিকল্পনা করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) প্রথমে ফাইজারের টিকার বুস্টার ডোজের অনুমোদন দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফাইজার ছাড়াও মডার্না ও জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকারও বুস্টার ডোজ জনগণকে দেয়ার অনুমতি দেয়া হতে পারে বলে মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের প্রধান চিকিৎসাবিষয়ক উপদেষ্টা অ্যান্থনি ফাউচি বলেছিলেন, করোনার প্রাদুর্ভাব প্রতিহত ও টিকার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে রয়েছে ইসরায়েল।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে টিকার বুস্টার ডোজ অনুমোদন দেয়ার আহ্বান জানান।

ফাউচি বলেন, ‘আগের গবেষণা টিকা নেয়ার পর করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার হার কমে যাওয়ার কথা বলে।

‘সাম্প্রতিক গবেষণা ও ইসরায়েলের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আমার মনে হয়েছে, টিকার বুস্টার ডোজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার চাইতে করোনায় আক্রান্ত হওয়াই উল্লেখযোগ্য হারে কমাতে সক্ষম।’

আরও পড়ুন:
বৃহত্তম ডাইনোসরের তালিকায় নতুন প্রজাতি
চিলিতে নতুন প্রজাতির ডাইনোসরের দেহাবশেষ

শেয়ার করুন

করোনার চেয়ে টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় বেশি ভুগছে কিশোররা

করোনার চেয়ে টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় বেশি ভুগছে কিশোররা

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার চেয়ে টিকার বিরল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় বেশি ভুগছে কিশোররা। ছবি: এএফপি

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী যুক্তরাষ্ট্রের কিশোরদের ওপর করোনা টিকার প্রভাব গবেষণা করেন ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার অধ্যাপক ড. ট্র্যাসি হোগ ও তার সহকর্মীরা। গবেষণায় জানা যায়, ফাইজার/বায়োএনটেক টিকার দুটি ডোজ নেয়ার পর ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সী স্বাস্থ্যবান কিশোরদের হৃৎপিণ্ডের ব্যথায় ভোগার হার প্রতি ১০ লাখে ১৬২ দশমিক ২ শতাংশ।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার চেয়ে এই ভাইরাস প্রতিরোধী ফাইজার/বায়োএনটেকের টিকার বিরল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে স্বাস্থ্যবান কিশোররা।

টিকা নেয়ার পর হৃৎপিণ্ডের পেশিতে ব্যথা নিয়ে তারা হাসপাতালেও ভর্তি হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা সম্প্রতি এমনটাই দাবি করেন বলে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

মেডিক্যাল ডেটা বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেন, কোনো ধরনের শারীরিক জটিলতা না থাকা ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোররা করোনা টিকা নেয়ার পর হৃৎপিণ্ডের পেশির প্রদাহে বেশি ভোগে।

টিকা নেয়ার চার মাস পর ওই কিশোররা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার চেয়ে চার থেকে ছয় গুণ কম করোনায় আক্রান্ত হয়।

গবেষকরা জানান, ফাইজার/বায়োএনটেকের টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার কয়েক দিনের মধ্যে বিরল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভোগে বেশির ভাগ কিশোর।

একই ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মডার্নার টিকার ক্ষেত্রেও দেখা যায়। প্রায় ৮৬ শতাংশ কিশোরকে টিকা নেয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া লাগে।

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী যুক্তরাষ্ট্রের কিশোরদের ওপর করোনা টিকার প্রভাব গবেষণা করেন ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার অধ্যাপক ড. ট্র্যাসি হোগ ও তার সহকর্মীরা।

গবেষণায় জানা যায়, ফাইজার/বায়োএনটেক টিকার দুটি ডোজ নেয়ার পর ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সী স্বাস্থ্যবান কিশোরদের হৃৎপিণ্ডের ব্যথায় ভোগার হার প্রতি ১০ লাখে ১৬২ দশমিক ২ শতাংশ।

এ ছাড়া ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্বাস্থ্যবান কিশোরদের হৃৎপিণ্ডের ব্যথায় ভোগার হার প্রতি ১০ লাখে ৯২ শতাংশ।

একই বয়সী কিশোরীদের ক্ষেত্রে এ হার যথাক্রমে ১৩ দশমিক ৪ ও ১৩ শতাংশ।

গবেষকরা জানান, টিকা নেয়ার ১২০ দিন পর ওই কিশোরদের মধ্যে করোনা শনাক্তের হার প্রতি ১০ লাখে প্রায় ৪৪ শতাংশ।

অর্থাৎ টিকা নেয়ার পর করোনা শনাক্তের চেয়ে কিশোররা চার থেকে ছয় গুণ বেশি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভোগে।

এ ছাড়া গবেষণার বরাতে দ্য টেলিগ্রাফ টুইটবার্তায় জানায়, করোনা টিকা নেয়ার পর কিশোররা হৃৎপিণ্ডের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় করোনার চেয়ে ছয় গুণ বেশি ভোগে।

ইউনিভার্সিটি অফ সাউদাম্পটনের পেডিয়াট্রিক ইমিউনোলজি ও সংক্রামক ব্যাধির অধ্যাপক সল ফাউস্ট বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকদের এ দাবি যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে।

‘যুক্তরাজ্যে কিশোরদের টিকা দেয়ার আগে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’

যুক্তরাজ্যের টিকাদান কার্যক্রমসংক্রান্ত যৌথ কমিশন (জেসিভিআই) এখনও ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোরদের করোনা টিকা দেয়ার অনুমোদন দেয়নি।

আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে যুক্তরাজ্যের মেডিক্যাল কর্মকর্তারা।

অধ্যাপক ফাউস্ট বলেন, ‘টিকা নেয়ার পর হৃৎপিণ্ডে ব্যথার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেশ বিরল।

‘আমরা টিকার প্রথম বা দ্বিতীয় ডোজ পরিবর্তন করতে পারি। ঝুঁকি একেবারে এড়াতে দুটি ডোজের মিশ্রণও ঘটাতে পারি।’

আরও পড়ুন:
বৃহত্তম ডাইনোসরের তালিকায় নতুন প্রজাতি
চিলিতে নতুন প্রজাতির ডাইনোসরের দেহাবশেষ

শেয়ার করুন