ভিডিও গেমসে ‘মেয়েলি পুরুষ’ বাদ দেয়ার নির্দেশ চীনের

ভিডিও গেমসে ‘মেয়েলি পুরুষ’ বাদ দেয়ার নির্দেশ চীনের

চীনের ভিডিও গেমস জায়ান্ট টেনসেন্টের ওপর জারি হয়েছে নতুন নিষেধাজ্ঞা। ছবি: এএফপি

নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে মূলত গেমসে পুরুষদের উপস্থাপনের ধরন নিয়ে। হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক গেং সং বলেন, ‘চীনের রাজনৈতিক শ্রেণির একাংশের মধ্যে এমন ধারণা প্রচলিত আছে যে মেয়েলি পুরুষরা শারীরিকভাবে দুর্বল ও আবেগসর্বস্ব। এমন পুরুষরা জাতিকে রক্ষায় অক্ষম।’

ভিডিও গেমসের কনটেন্ট থেকে ‘মেয়েলি পুরুষ চরিত্র’ বাদ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে চীন। দেশের প্রযুক্তিখাতে চীনা সরকারের নতুন বিধিনিষেধ এটি।

তরুণদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি, জেন্ডারবিষয়ক আদর্শ ও প্রযুক্তির ইতিবাচক দিকের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বেইজিং।

ফ্রান্স টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের কয়েক শ কোটি ডলারের গেমিং খাতে শীর্ষ দুই প্রতিষ্ঠান টেনসেন্ট ও নেটইজের ওপর আরোপ হয়েছে নতুন নিষেধাজ্ঞা। এ খাতে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে আলোচনায় বুধবার প্রতিষ্ঠান দুটির প্রতিনিধিদের ডেকে পাঠায় বেইজিং।

এর আগে সপ্তাহে সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টা ভিডিও গেমস খেলা যাবে বলে শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য সময় বেঁধে দেয় সরকার।

নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে মূলত গেমসে পুরুষদের উপস্থাপনের ধরন নিয়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির বর্ষীয়ান ও প্রবীণ নেতারা পুরুষদের ভাবমূর্তি রক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

সম্প্রতি চীনের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রোগ্রামিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের কনটেন্টে পুরুষ চরিত্রগুলোকে ‘পুরুষালী’ হিসেবে উপস্থাপনে জোর দিতে শুরু করেছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া গত বুধবার জানায়, ‘লাভ বাড়াতে যেসব কনটেন্টে অশ্লীলতা, সহিংসতা ও মেয়েলিপনার মতো অস্বাস্থ্যকর প্রচার চালানো হয়, সেগুলো বন্ধ করতে হবে।’

নির্দেশ অমান্যে কঠোর শাস্তি মিলবে বলেও সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক গেং সং বলেন, ‘চীনের রাজনৈতিক শ্রেণির একাংশের মধ্যে এমন ধারণা প্রচলিত আছে যে মেয়েলি পুরুষরা শারীরিকভাবে দুর্বল ও আবেগসর্বস্ব। এমন পুরুষরা জাতিকে রক্ষায় অক্ষম। সে ধারণার বশবর্তী হয়েই নতুন পদক্ষেপগুলো নেয়া হয়েছে।’

বিশ্বে ভিডিও গেমসের সর্ববৃহৎ বাজার চীনের। পরবর্তী প্রজন্ম অনলাইনে আসক্ত হয়ে পড়ায় দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে আসাসহ নানা সমস্যায় ভুগছে বলে খাতটিতে সম্প্রতি বিধিনিষেধ আরোপ করতে শুরু করে বেইজিং।

অনলাইন গেমসের নীতিমালা পরিবর্তন ও আসক্তি ঠেকানোর পদক্ষেপ নিতেও গেমিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ফ্রি ফায়ার-পাবজি গেমসে বখে যাচ্ছে শিশুরা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

তালেবানের বিরুদ্ধে রাজপথে ১৩ আফগান কিশোরী

তালেবানের বিরুদ্ধে রাজপথে ১৩ আফগান কিশোরী

আফগানিস্তানে শূন্য পড়ে আছে মেয়েদের স্কুল। ছবি: টোলো নিউজ

তালেবানের নিষেধাজ্ঞার ফলে সায়েদুল শুহাদা গার্লস হাই স্কুলেই শিক্ষাবঞ্চিত কয়েক হাজার ছাত্রী। স্কুল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, স্কুলটিতে প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি রয়েছে। সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্লাস করতে পারছে না প্রায় পাঁচ হাজার ছাত্রী।

আফগানিস্তানে মেয়েশিশু ও কিশোরীদের স্কুলে যেতে নিষেধের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত শহরের ছোট্ট একদল কিশোরী। শাসক দল তালেবানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নেয়া ১৩ কিশোরীর সবার বয়স ছিল ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে।

তালেবানশাসিত সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী, শনিবার থেকে আফগানিস্তানে ছাত্র ও শিক্ষকদের নিয়ে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পাঠদান শুরু হয়েছে। ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের শিক্ষা কার্যক্রমে ফেরার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে নির্দেশনায়।

তিন দিন ধরে মেয়েদের স্কুলগুলো শিক্ষার্থীশূন্য। এ অবস্থায় সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তের প্রকাশ্য বিরোধিতা করে কয়েকজন শিক্ষার্থী।

যদিও যে এলাকায় বিক্ষোভটি হয়েছে, সেখানে তালেবান তেমন সক্রিয় নয় বলে তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভের খবর গোষ্ঠীটির কাছে পৌঁছায়নি। বিক্ষোভের খবর প্রচারে স্থানীয় সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়েছিল শিক্ষার্থীরা।

বিক্ষোভে অংশ নেয়া ১৭ বছর বয়সী নার্গিস জামশেদ বলে, ‘তালেবানকে যত দ্রুত সম্ভব আমাদের স্কুলগুলো খুলে দেয়ার অনুরোধ করছি। স্কুলে না যাওয়ার অর্থ হলো, আমরা আরও পিছিয়ে পড়ব।’

১৮ বছরের শারারা শারওয়ারি বলে, ‘প্রতিটি মেয়েকে স্কুলে ফিরতে দেয়া হোক। প্রত্যেক নারীকে তাদের কর্মক্ষেত্রে ফিরতে দেয়া হোক। এই একটিই দাবি আমাদের।’

আফগানিস্তানের টোলো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েকজন ছাত্রও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার অনুমতি দেয়ার অনুরোধ করেছে।

আহমেদ নামের এক শিক্ষার্থী বলে, ‘আমাদের স্কুল তো খুলে গেছে। মেয়েদের স্কুলগুলো খুলে দেয়া হলেও খুব ভালো হতো। ওদেরও দ্রুত শ্রেণিকক্ষে ফেরা দরকার।’

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তালেবানের এ সিদ্ধান্তের কারণে দেশজুড়ে লাখো ছাত্রীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

কাবুলের পশ্চিমে সায়েদুল শুহাদা গার্লস হাই স্কুলের ছাত্রী ফাতিমা জানায়, তার স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে আইনজীবী হওয়ার। কিন্তু সে স্বপ্ন দেখাও এখন নিষেধ।

ফাতিমা বলে, ‘আমার মনে হচ্ছে না যে আমি আফগানিস্তানের নাগরিক। মনে হচ্ছে আমাকে কয়েদির মতো ঘরে বন্দি করে রাখা হয়েছে।’

তালেবানের নিষেধাজ্ঞার ফলে সায়েদুল শুহাদা গার্লস হাই স্কুলেই শিক্ষাবঞ্চিত কয়েক হাজার ছাত্রী। স্কুল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, স্কুলটিতে প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি রয়েছে। সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্লাস করতে পারছে না প্রায় পাঁচ হাজার ছাত্রী।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক আকিলা তাওয়াক্কুলি জানান, ষষ্ঠ ও এর ওপরের শ্রেণিগুলোর চার হাজার ৭৪৫ জন শিক্ষার্থী এখন ঘরবন্দি।

আফগানিস্তানের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ১৪ হাজার ৯৮টি স্কুল রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত স্কুল পাঁচ হাজার ৩৮৫টি, সপ্তম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত রয়েছে তিন হাজার ৭৮১টি স্কুলে এবং দশম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত স্কুল রয়েছে চার হাজার ৯৩২টি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির স্কুলগুলোর মধ্যে সাড়ে ১৩ শতাংশ, সপ্তম থেকে নবম শ্রেণির স্কুলগুলোর মধ্যে সাড়ে ১৫ শতাংশ এবং দশম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত স্কুলগুলোর মধ্যে ২৮ শতাংশ মেয়েদের স্কুল।

সংস্কৃতি ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের সাংস্কৃতিক কমিশনের সদস্য সাইদ খোস্তি বলেন, ‘কিছু কারিগরি সমস্যা আছে। নীতি প্রণয়ন ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে সমস্যার গোড়া থেকে সমাধান করতে হবে।

‘কীভাবে মেয়েদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা দরকার। এসব সমস্যার সমাধান হলেই মেয়েরা স্কুলে ফিরবে।’

ছাত্রীরা বলছে, তালেবান বদলে গেছে বলে দাবি করলেও তাদের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে আরও বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে নারী ও কিশোরীদের অধিকার।

এর আগে শুক্রবার আফগানিস্তানের নারী মন্ত্রণালয় স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয় শাসক গোষ্ঠী। রোববার রাজধানী কাবুলে নগর প্রশাসনের নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও বাড়িতে থাকার আদেশ দেয় তালেবান।

নব্বইয়ের দশকে প্রথম দফার শাসনামলেও নারীদের শিক্ষাগ্রহণ, জীবিকা উপার্জনসহ সব মৌলিক অধিকার বাতিল করেছিল তালেবান।

আরও পড়ুন:
ফ্রি ফায়ার-পাবজি গেমসে বখে যাচ্ছে শিশুরা

শেয়ার করুন

সরকারি চাকরিজীবী নারীদের ঘরে থাকার আদেশ তালেবানের

সরকারি চাকরিজীবী নারীদের ঘরে থাকার আদেশ তালেবানের

কাবুলে তালেবানের বন্ধ করে দেয়া নারী মন্ত্রণালয়ের বাইরে রোববারের এ বিক্ষোভ স্থায়ী হয় মাত্র ১০ মিনিট। ছবি: এপি

এ আদেশের ফলে কত নারী চাকরিচ্যুত হবেন, তা জানা নেই বলে জানিয়েছেন কাবুলের মেয়র। তিনি বলেন, ‘কিছু কাজ আছে, যেগুলো পুরুষরা পারে না। সেসব কাজে নারী কর্মীদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হবে, কারণ এর অন্য বিকল্প নেই।’

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে নগর প্রশাসনের নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাড়িতে থাকার আদেশ দিয়েছে নতুন শাসকদল তালেবান।

কাবুলের অন্তর্বর্তী মেয়র হামদুল্লাহ নামোনি দায়িত্ব গ্রহনের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে জানান, কোনো পদের জন্য পুরুষ কর্মী না পাওয়া গেলে শুধু ওই পদে নারী কর্মীকে বহাল রাখা হবে।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, নারীদের ওপর তালেবানের বিধিনিষেধ জারির ধারাবাহিকতায় রোববার আসে এ ঘোষণা। মেয়র জানান, কাবুলের নগর প্রশাসনের সব বিভাগ মিলে পদ প্রায় তিন হাজার, যার এক-তৃতীয়াংশেই কর্মরত ছিলেন নারীরা।

নামোনি জানান, আপাতত এই নারী কর্মীদের ঘরে থাকার আদেশ দেয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা আসার আগ পর্যন্ত এই আদেশ বহাল থাকবে। নকশা ও প্রকৌশলবিষয়ক বিভাগ ও নারীদের পাবলিক টয়লেটগুলো রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে পর্যাপ্ত পুরুষ কর্মী পাওয়া না গেলে ব্যতিক্রম ঘটতে পারে।

এ আদেশের ফলে কত নারী চাকরিচ্যুত হবেন, তা জানা নেই বলে জানিয়েছেন কাবুলের মেয়র। তিনি বলেন, ‘কিছু কাজ আছে, যেগুলো পুরুষরা পারে না। সেসব কাজে নারী কর্মীদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হবে, কারণ এর অন্য বিকল্প নেই।’

এর আগে শুক্রবার আফগানিস্তানের নারী মন্ত্রণালয় স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয় শাসকগোষ্ঠী। এর প্রতিবাদে আজ বন্ধ হয়ে যাওয়া নারী মন্ত্রণালয়ের বাইরে কয়েকজন নারী বিক্ষোভ করেন। জনজীবনে নারীদের অংশগ্রহণ করতে দেয়ার দাবি জানান তারা।

বিক্ষোভে অংশ নেয়া ৩০ বছর বয়সী বশিরা তাওয়ানা বলেন, ‘কেন তালেবান আমাদের সব অধিকার হরন করছে? আমাদের আর সন্তানদের অধিকার আদায়ের জন্য এখানে এসেছি।’

বিক্ষোভকারীদের একটি ব্যানারে লেখা ছিল, ‘যে সমাজে নারীরা সক্রিয় নয়, সেটা মৃত সমাজ।’

কিন্তু ওই বিক্ষোভ স্থায়ী হয় মাত্র ১০ মিনিট। এক ব্যক্তির সঙ্গে রাস্তাতেই আলোচনার পর বিক্ষোভে অংশ নেয়া নারীরা গাড়িতে চড়ে চলে যান। সে সময় কাছেই দুটি গাড়িতে তালেবান সদস্যরা অবস্থান করছিল।

অন্যদিকে, তালেবানের নির্দেশনা অনুযায়ী শনিবার থেকে মেয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষিকা ছাড়াই আফগানিস্তানের স্কুলগুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

গত মাসে কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর নারী অধিকার নিয়ে নানা আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত কোনো কথাই রাখছে না গোষ্ঠীটি। নব্বইয়ের দশকের শাসনামলের মতোই নারীদের শিক্ষাগ্রহণ, জীবিকা উপার্জনসহ সব মৌলিক অধিকার একে একে বাতিল করছে তারা।

আরও পড়ুন:
ফ্রি ফায়ার-পাবজি গেমসে বখে যাচ্ছে শিশুরা

শেয়ার করুন

কিশোরী চাচাতো বোনকে বিয়ে করতে গিয়ে কারাগারে

কিশোরী চাচাতো বোনকে বিয়ে করতে গিয়ে কারাগারে

বাল্যবিয়ের আসর থেকে গ্রেপ্তার বর। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি বসির আহম্মেদ বাদল জানান, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর দুই সন্তানের জনক মোশারফের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার ১৩ বছর বয়সী চাচাতো বোনের বিয়ে ঠিক হয়। সেই বিয়ের আসরে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে কিশোরী চাচাতো বোনকে বিয়ে করতে যাওয়ায় দুই সন্তানের জনককে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

উপজেলার আয়নাতলী গ্রামে শনিবার রাত ১০ টার দিকে বাল্যবিয়ের আসরে অভিযান চালিয়ে এই দণ্ড দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হেলেনা পারভীন।

নিউজবাংলাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বসির আহম্মেদ বাদল।

তিনি জানান, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের ছয় মাস পর ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার মোশারফের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার ১৩ বছর বয়সী চাচাতো বোনের বিয়ে ঠিক হয়।

বিয়ের জন্য কিশোরীকে নালিতাবাড়ীর আয়নাতলী গ্রামে তার নানার বাড়ি নেয়া হয়। সেখানে শনিবার রাতে বিয়ের আয়োজন চলছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ইউএনও হেলেনা পারভীন বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে মোশারফ হোসেনকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

তিনি বলেন, ‘পূর্ণ বয়স্ক ছেলের সঙ্গে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরী মেয়ের বিয়ের আয়োজন অমানবিক।’

ওসি বসির আহম্মেদ জানান, মোশারফকে রোববার সকালে শেরপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ফ্রি ফায়ার-পাবজি গেমসে বখে যাচ্ছে শিশুরা

শেয়ার করুন

আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে শ্মশানের জায়গা দখলের অভিযোগ

আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে শ্মশানের জায়গা দখলের অভিযোগ

নওগাঁয় শ্মশানের জায়গা দখলের অভিযোগ। ছবি: নিউজবাংলা।

স্থানীয় লোকজন জানান, শ্মশান হিসেবে ব্যবহৃত পুকুরপাড় ও সংলগ্ন জমির বেশ কিছু অংশ দুই মাস আগে কেটে জলাশয় বড় করেন আওয়ামী লীগ নেতা খালেকুজ্জামান। এ ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

নওগাঁর নিয়ামতপুরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মহাশ্মশানের জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে বারবার স্থানীয় প্রশাসনে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না স্থানীয় লোকজন। উল্টো ওই আওয়ামী লীগ নেতাই নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন বলে জানান তারা।

স্থানীয় লোকজন জানান, চন্দননগর দরগাপাড়া ও তাতিহার গ্রামে তিন শতাধিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সরকারি লালমাটি পুকুরের উত্তরপাড়ের প্রায় ৬০ শতাংশ জমি মহাশ্মশান হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন তারা।

প্রায় ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে সরকারি পুকুরটি লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও চন্দননগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খালেকুজ্জামান। দুই মাস আগে শ্মশান হিসেবে ব্যবহৃত পুকুরপাড় ও সংলগ্ন জমির বেশ কিছু অংশ কেটে পুকুরে পরিণত করেন তিনি।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যরা জানান, বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় চন্দননগর গ্রামের বাসিন্দা মতিলাল পাহান বলেন, ‘ওই শ্মশানে স্বজনদের মৃতদেহ সৎকার করতে গেলে সাবেক চেয়ারম্যান ও তার লোকজন বাধা দেন। তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।’

তাতিহার গ্রামের বাসিন্দা রুপেন সরদার বলেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষরা ওই জায়গা শ্মশান হিসেবে ব্যবহার করেছেন। আমরাও ছোটবেলা থেকে জায়গাটিকে শ্মশান হিসেবেই চিনি। হঠাৎ করে খালেকুজ্জামান প্রভাব খাটিয়ে শ্মশানের জায়গাটি দখল করে নিয়েছেন। থানায় অভিযোগ করায় এখন ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।’

স্থানীয় চন্দননগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান বলেন, ‘অভিযোগ পেয়ে তিনি দুই পক্ষের সঙ্গে বসার চেষ্টা করেছিলেন। তবে খালেকুজ্জামান সালিশে বসতে রাজি না হওয়ায় বিষয়টি ওই অবস্থাতেই রয়েছে। বিষয়টির দ্রুত একটা সমাধান হওয়া উচিত।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খালেকুজ্জামান বলেন, ‘তারা আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন। যে জায়গার কথা বলা হচ্ছে, সেটা শ্মশান নয়। ওই জায়গা খাস সম্পত্তি। কোনো দিনই ওই জায়গা কবরস্থান কিংবা শ্মশান ছিল না। শ্মশানের জায়গা হলে আমি কোনো দিনই জবরদস্তি করতাম না।

‘আমি ২০ বছর ধরে চন্দননগরের চেয়ারম্যান ছিলাম। কেউ প্রমাণ দিতে পারবে না আমি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের অধিকার নষ্ট করেছি। এগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট।’

এ বিষয়ে নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জয়া মারীয়া পেরেরা বলেন, ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মহাশ্মশানের জায়গা দখলের বিষয়ে তদন্তের জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (এসি ল্যান্ড) নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
ফ্রি ফায়ার-পাবজি গেমসে বখে যাচ্ছে শিশুরা

শেয়ার করুন

নারী মন্ত্রণালয় পাল্টে ‘ন্যায়-অন্যায়’ মন্ত্রণালয় করল তালেবান

নারী মন্ত্রণালয় পাল্টে ‘ন্যায়-অন্যায়’ মন্ত্রণালয় করল তালেবান

কাবুলে নারী মন্ত্রণালয়ের সাবেক নারী কর্মীরা ভবনে ঢুকতে গেলে তালেবানের বাধার মুখে পড়েন তারা। ছবি: সংগৃহীত

গত ৭ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রিসভা ঘোষণা করেছে তালেবান। তালিকায় ন্যায়ের প্রচার ও অন্যায় প্রতিরোধে ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রীর নাম ছিল; ছিল না নারী মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর নাম। কিন্তু মন্ত্রণালয়টির অস্তিত্বই মুছে দেয়া হবে- এমন কিছুও তখন জানায়নি তালেবান।

আফগানিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত বেসামরিক সরকারের নারী মন্ত্রণালয়ের নাম, কাজ বদলে দিয়েছে তালেবান সরকার। আফগান নারী মন্ত্রণালয় হয়েছে ‘ন্যায়-অন্যায়’ মন্ত্রণালয়, যার কাজ হবে ‘মোরাল পুলিশিং’ বা নীতিগত বিধিনিষেধ আরোপ ও বাস্তবায়ন করা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, রাজধানী কাবুলে অবস্থিত নারী মন্ত্রণালয় ভবনের সাইনবোর্ড শুক্রবার পালটে দেয় নতুন প্রশাসন। তার জায়গায় বসে তালেবানের ‘মোরাল পুলিশিং’বিষয়ক একটি সাইনবোর্ড।

নতুন সাইনবোর্ডে ফার্সি ভাষার আফগান উপভাষা দারি ও আরবির সমন্বয়ে লেখা নতুন মন্ত্রণালয়ের নামের ইংরেজি করলে দাঁড়ায়- ‘মিনিস্ট্রিজ অফ প্রেয়ার অ্যান্ড গাইডেন্স অ্যান্ড দ্য প্রমোশন অফ ভার্চু অ্যান্ড প্রিভেনশন অফ ভাইস।

এর বাংলা হতে পারে- ‘নামাজ ও নির্দেশনা এবং ন্যায়ের প্রচার ও অন্যায়ের প্রতিরোধবিষয়ক মন্ত্রণালয়’।

আগের নারী মন্ত্রণালয়ের সাবেক নারী কর্মীরা ভবনে ঢুকতে গেলে তাদের বাধা দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। তারা জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরেই কর্মক্ষেত্রে যোগ দেয়ার চেষ্টা করছিলেন তারা।

দেশের চলমান পরিস্থিতিতে নানা বাধা পেরিয়ে বাড়ি থেকে কোনোরকমে কর্মক্ষেত্রে পৌঁছেছিলেন তারা। কিন্তু এখন কাজে যোগ না দিয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে তাদের। বৃহস্পতিবার ভবনের প্রবেশপথে তালাই ঝুলিয়ে দিয়েছে প্রশাসন।

এক নারী বলেন, ‘আমার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আমি। নারী মন্ত্রণালয়ে কাজ করতাম। এখন সেই মন্ত্রণালয়ই থাকছে না। আফগান নারী হিসেবে তাহলে কী করব আমি? কিভাবে পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেব?’

এ বিষয়ে কথা বলতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া দেননি তালেবানের মুখপাত্র।

আফগানিস্তান থেকে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক জোটের সেনা প্রত্যাহার চলতে থাকার মধ্যেই গত মাসে দেশটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় কট্টরপন্থি তালেবান।

এর আগে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে আফগানিস্তানে ধর্মভিত্তিক গোষ্ঠীটির প্রথম দফার শাসনামলে মেয়েশিশুদের স্কুলে যাওয়া, নারীদের শিক্ষাগ্রহণ ও জীবিকা উপার্জনের অধিকার ছিল না।

নব্বইয়ের দশকের সেই তালেবান সরকারের আমলেও ন্যায়ের প্রচার আর অন্যায় প্রতিরোধ মন্ত্রণালয় ছিল। ওই মন্ত্রণালয় গোষ্ঠীটির আদর্শ দৈনন্দিন জনজীবনে বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করত।

মূলত তালেবানের দৃষ্টিকোণ থেকে শরিয়াহ আইনের বাস্তবায়ন দেখাই ছিল মন্ত্রণালয়টির কাজ। কঠিন রক্ষণশীল পোশাক-পরিচ্ছদের বিধান, প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড ও বেত্রাঘাতের মাধ্যমে শাস্তি কার্যকরের মতো কাজগুলো করতো ওই মন্ত্রণালয়।

গত ৭ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রিসভা ঘোষণা করেছে তালেবান। তালিকায় ন্যায়ের প্রচার ও অন্যায় প্রতিরোধে ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রীর নাম ছিল; ছিল না নারী মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর নাম।

কিন্তু মন্ত্রণালয়টির অস্তিত্বই মুছে দেয়া হবে- এমন কিছুও তখন জানায়নি তালেবান।

চলতি সপ্তাজে এক জ্যেষ্ঠ তালেবান নেতা জানান, সরকারের কোনো মন্ত্রণালয়ে পুরুষদের সঙ্গে নারী কর্মীদের কাজের অনুমতি দেয়া হবে না।

এদিকে, আফগানিস্তানের সব স্কুলে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম শনিবার থেকে শুরুর নির্দেশ দিয়েছে শাসক দল তালেবান। কিন্তু শুক্রবারের এ নির্দেশনায় শুধু পুরুষ শিক্ষক ও ছেলেশিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে। মেয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষিকাদের করণীয় উল্লেখ নেই নির্দেশনায়।

আরও পড়ুন:
ফ্রি ফায়ার-পাবজি গেমসে বখে যাচ্ছে শিশুরা

শেয়ার করুন

১৮ বছর পর ক্যাডবেরির বিজ্ঞাপনে বিপরীত ভূমিকায় নারী

১৮ বছর পর ক্যাডবেরির বিজ্ঞাপনে বিপরীত ভূমিকায় নারী

চকলেট যে শুধু শিশুদের জন্য নয়, এ ধারণা পাল্টে দেয়ার জন্য সাধুবাদ কুড়িয়েছিল নিউইয়র্কভিত্তিক ব্রিটিশ বিজ্ঞাপনী সংস্থা ওগিলভি। নতুন শতকে একই পণ্যের বিজ্ঞাপন নতুন আঙ্গিকে টেলিভিশনের পর্দায় নিয়ে এসেছে ক্যাডবেরি ও ওগিলভি, যেখানে পাল্টে গেছে জেন্ডার ভূমিকা।

বহুজাতিক কনফেকশনারি জায়ান্ট ক্যাডবেরির নব্বইয়ের দশকের একটি বিজ্ঞাপন সাড়া জাগিয়েছিল ভারত উপমহাদেশে। ফুলেল পোশাকে ভারতীয় মডেল শিমোনা রাশিকে ওই বিজ্ঞাপনে দেখা গিয়েছিল ক্রিকেট ম্যাচ চলাকালীন স্টেডিয়ামে দর্শকের সারিতে বসে চকলেট খেতে।

প্রায় দুই দশক পর নতুন করে বিজ্ঞাপনটি তৈরি করেছে ক্যাডবেরি ডেইরি মিল্ক ইন্ডিয়া। মডেলরা তো আলাদা বটেই, সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ার মতো বিষয়টি হলো- নতুন বিজ্ঞাপনে উল্টে গেছে নারী ও পুরুষের ভূমিকা।

১৯৯৩ সালের বিজ্ঞাপনটিতে বন্ধুর শেষ ব্যাটে দলের বিজয় নিশ্চিতের পর নিরাপত্তা ক্যামেরাকে ফাঁকি দিয়ে নাচতে নাচতে মাঠে ঢুকে গিয়েছিলেন শিমোনা। খেলোয়াড়ের ভূমিকায় সে সময় মাঠে ছিলেন শুধু পুরুষরাই।

বিজ্ঞাপনটি নির্মাণ করেছিল নিউইয়র্কভিত্তিক ব্রিটিশ বিজ্ঞাপনী সংস্থা ওগিলভি। চকলেট যে শুধু শিশুদের জন্য নয়, এ ধারণা পাল্টে দেয়া বিজ্ঞাপনের জন্য বেশ সাধুবাদ কুড়িয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।

বড়রাও যখন-তখন যে কোনো সময়, এমনকি সুসংবাদে মিষ্টিমুখের বদলেও চকলেট খেয়ে মুখ মিষ্টি করতে পারেন- সে ধারণারই প্রবর্তন করেছিল ওগিলভি।

নতুন শতকে একই পণ্যের বিজ্ঞাপন নতুন আঙ্গিকে টেলিভিশনের পর্দায় নিয়ে এসেছে ক্যাডবেরি ও ওগিলভি। এতে ভারতে ক্রিকেটকে পুরুষের খেলা হিসেবে প্রচলিত জনমত পাল্টে দিতে ব্যাটসম্যান, ফিল্ডার, উইকেট কিপারের ভূমিকায় দেখানো হয়েছে নারীদের।

শেষ ছক্কায় ম্যাচ জেতানো নারীকে স্বাগত জানাতে দর্শকের আসনে থেকে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে নাচতে নাচতে মাঠে ঢোকেন তার পুরুষ বন্ধু, জড়িয়ে ধরেন নারী ব্যাটসম্যানকে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবারও ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে নতুন এ বিজ্ঞাপন। ক্যাডবেরি-ওগিলভির নতুন-পুরোনো দুটি বিজ্ঞাপনই পেয়েছে কোটি কোটি শেয়ার।

পুরোনো বিজ্ঞাপনের মতোই নতুন বিজ্ঞাপনেরও থিম- ‘ওয়াক্ত বাদলা হ্যায়, জিন্দেগি কা সোয়াদ নেহি’; যার বাংলা করলে দাঁড়ায়- ‘সময় বদলেছে, জীবনের স্বাদ নয়’।

আরও পড়ুন:
ফ্রি ফায়ার-পাবজি গেমসে বখে যাচ্ছে শিশুরা

শেয়ার করুন

শুধু ছাত্র-শিক্ষকদের স্কুলে যাওয়ার নির্দেশ তালেবানের

শুধু ছাত্র-শিক্ষকদের স্কুলে যাওয়ার নির্দেশ তালেবানের

কাবুলের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একই শ্রেণিকক্ষে বসা পুরুষ ও নারী শিক্ষার্থীদের মাঝে পর্দা দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনার ছবি প্রথমে ভাইরাল হয় টুইটারে। ছবি: টোলো নিউজ

নব্বইয়ের দশকে আফগানিস্তানে প্রথম দফার শাসনামলে মেয়েশিশু ও নারীদের শিক্ষা গ্রহণ ও জীবিকা উপার্জন নিষিদ্ধ করেছিল তালেবান। তবে গত মাসে বেসামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দ্বিতীয়বার দেশের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর প্রথম থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল গোষ্ঠীটি।

আফগানিস্তানের সব স্কুলে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম শনিবার থেকে শুরুর নির্দেশ দিয়েছে শাসক দল তালেবান। তবে শুধু পুরুষ শিক্ষক ও ছেলেশিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে।

তালেবান সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ বিষয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। বিবৃতিতে একই বয়সী মেয়েশিশু ও কিশোরীদের শিক্ষা গ্রহণ নিয়ে কিছু বলা হয়নি।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, মেয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষিকাদের নিয়ে কোনো নির্দেশনা না থাকায় নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে আফগান জনমনে।

শরিয়াহ আইনের নামে আফগান নারী ও মেয়েশিশুদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের শঙ্কা বাস্তব হতে চলেছে বলে মনে করছেন অনেকে।

নব্বইয়ের দশকে আফগানিস্তানে প্রথম দফার শাসনামলে মেয়েশিশু ও নারীদের শিক্ষা গ্রহণ ও জীবিকা উপার্জন নিষিদ্ধ করেছিল তালেবান। তবে গত মাসে বেসামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দ্বিতীয়বার দেশের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর প্রথম থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল গোষ্ঠীটি।

কয়েকটি প্রদেশে বিভিন্ন পেশাজীবী আফগান নারীদের মধ্যে বেশির ভাগই এখনও কাজে ফেরার অনুমতি পাননি। ব্যতিক্রম কেবল স্বাস্থ্য বিভাগ, হাসপাতাল আর শিক্ষা খাতে কর্মরত নারীরা।

চলতি মাসের শুরুতে মুখ ও পুরো শরীর ঢাকা পোশাক পরে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া আফগান তরুণীদের শ্রেণিকক্ষে যাওয়ার অনুমতি দেয় তালেবান সরকার।

তবে নিষিদ্ধ করা হয় সহশিক্ষা কার্যক্রম। সে সময় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে একই শ্রেণিকক্ষে বসা পুরুষ ও নারী শিক্ষার্থীদের মাঝে পর্দা দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনার ছবি প্রকাশ হয় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে।

পুরুষ শিক্ষকদের জন্যও মেয়ে ও নারী শিক্ষার্থীদের পড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তালেবান সরকারের নতুন শিক্ষামন্ত্রী কট্টরপন্থি শাইখ আব্দুলবাকি হাক্কানি দায়িত্ব নেয়ার পরই শরিয়াহ আইন অনুযায়ী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন:
ফ্রি ফায়ার-পাবজি গেমসে বখে যাচ্ছে শিশুরা

শেয়ার করুন