ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন

আফগান পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিষ্পত্তির আহ্বান

আফগান পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিষ্পত্তির আহ্বান

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা ১৩তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেন। ছবি: সংগৃহীত

শীর্ষ সম্মেলন শেষে গৃহীত ‘নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্রে’ মানবিক পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং নারী, শিশু এবং সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়া হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে পাঁচ দেশের ব্রিকস সম্মেলনে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিষ্পত্তির আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এই শীর্ষ সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে বলা হয়, ‘একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্ত-আফগান সংলাপ হোক যাতে স্থিতিশীলতা, শান্তি, আইনশৃঙ্খলা সুনিশ্চিত করা যায়। যদিও শীর্ষ সম্মেলনের আলোচ্য বিষয় ছিল ‘ধারাবাহিকতা, একত্রীকরণ এবং ঐকমত্যের জন্য সহযোগিতা’।

শীর্ষ সম্মেলন শেষে গৃহীত ‘নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্রে’ মানবিক পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং নারী, শিশু এবং সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

পাঁচ দেশের গোষ্ঠী (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা) তাদের ঘোষণাপত্রে ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অগ্রাধিকারসহ সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর আফগান ভূখণ্ডকে সন্ত্রাসী অভয়ারণ্য হিসেবে ব্যবহার করা এবং অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর চেষ্টাকে প্রতিহত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা ১৩তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেন।

শীর্ষ সম্মেলনে এই বিষয়ে খুব জোরালো বক্তব্য দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য একটি অস্থিতিশীল আফগানিস্তানের সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। বলেন, আফগানিস্তান তার প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য হুমকি, মাদক পাচার ও সন্ত্রাসের উৎস হওয়া উচিত নয়। আফগানিস্তানের নাগরিকরা তাদের রাষ্ট্র কেমন হবে তা নির্ধারণ করার অধিকার প্রয়োগ করার যোগ্য। তিনি বলেন, আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সেনা প্রত্যাহার নতুন সংকট সৃষ্টি করেছে।

‘বৈশ্বিক নিরাপত্তা মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে এবং কৌশলগত স্থিতিশীলতার ব্যবস্থা নিম্নগামী হয়ে গেছে। আঞ্চলিক দ্বন্দ্বগুলো থামেনি।’

পুতিন বলেন, ‘দেশের মানুষ যে ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য এবং পরম্পরাগত ঐতিহ্য অনুসরণ করেছে তা বিবেচনায় না নিয়ে তথাকথিত গণতন্ত্র গড়ে তোলা যায় না। পরিবর্তনের এ ধরনের প্রয়াসের ফলে অস্থিতিশীলতা ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।’

এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ব্রিকস গত দেড় দশকে অনেক সাফল্য অর্জন করেছে। মোদি তার ভাষণে বলেন, ‘আজ আমরা বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতির জন্য একটি প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর।’ তিনি তার সভাপতিত্বকালে ভারতকে পূর্ণ সহযোগিতা দেয়ার জন্য সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।

আরও পড়ুন:
৯/১১-এর দিন শপথ ‘নেবে’ তালেবান
তালেবানের কাছে প্রকৃত শরিয়া আইন চান মেহবুবা মুফতি
তালেবান ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তানকে ফলো নয়: বাংলাদেশ
বিদেশি কর্মকর্তাদের দেশে ফেরার আহ্বান আখুন্দের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মমতার ইতালি সফর আটকে দিল বিজেপি সরকার

মমতার ইতালি সফর আটকে দিল বিজেপি সরকার

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

তৃণমূল নেতা সৌগত রায় বলেন, ‘অত্যন্ত লজ্জার ব্যাপার। নেতিবাচক সিদ্ধান্ত। কেন্দ্রের অনুমতি নেয়া শুধুমাত্র ফর্মালিটি। এই কাজের নিন্দা করছি। জয়শংকর আগে পররাষ্ট্র সচিব ছিলেন। এখন বিজেপির পার্টি লাইন ফলো করছেন।’

ইতালির রোমে ধর্মগুরুদের বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফরে অনুমতি দেয়নি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এক চিঠিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘মুখ্যমন্ত্রী পদের অংশগ্রহণের জন্য অনুষ্ঠানটি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’

নিয়ম অনুযায়ী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ওই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি প্রয়োজন হয়।

কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ভয় পেয়ে মমতার বিদেশ যাওয়া নিয়ে রাজনীতি করছে বলে মনে করেন তৃণমূলের একাংশ।

বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা সৌগত রায় বলেন, ‘অত্যন্ত লজ্জার ব্যাপার। নেতিবাচক সিদ্ধান্ত। কেন্দ্রের অনুমতি নেয়া শুধুমাত্র ফর্মালিটি। এই কাজের নিন্দা করছি। জয়শংকর আগে পররাষ্ট্র সচিব ছিলেন। এখন বিজেপির পার্টি লাইন ফলো করছেন।’

এ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘এটি স্পর্শকাতর বিষয়। শান্তির আড়ালে বহু জায়গায় বহু কিছু ঘটে। একজন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য রাখা হয় তো যথেষ্ট নয়, বিদেশ মন্ত্রক এমনটা মনে করে থাকতে পারে। সেজন্য অনুমতি দেয়নি।’

বিশ্বশান্তি নিয়ে সারা বিশ্বে কাজ করে ইতালির রোমের বেসরকারি সংস্থা কমিউনিটি অফ সন্ত এগিডিও। সামাজিক ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৬ ও ৭ অক্টোবর নিজেদের সম্মেলনে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল তারা।

ওই অনুযায়ী বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে উপস্থিত থাকার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। হঠাৎ শুক্রবার গভীর রাতে সফরে সম্মতি না দিয়ে নবান্নে চিঠি পাঠায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মমতা ছাড়াও সম্মেলনে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ পেয়েছেন পোপ ফ্রান্সিস, জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল ও মিশরের ইমাম।

আরও পড়ুন:
৯/১১-এর দিন শপথ ‘নেবে’ তালেবান
তালেবানের কাছে প্রকৃত শরিয়া আইন চান মেহবুবা মুফতি
তালেবান ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তানকে ফলো নয়: বাংলাদেশ
বিদেশি কর্মকর্তাদের দেশে ফেরার আহ্বান আখুন্দের

শেয়ার করুন

সত্যিকারের ‘জেমস বন্ড’ হলেন ডেনিয়েল ক্রেগ

সত্যিকারের ‘জেমস বন্ড’ হলেন ডেনিয়েল ক্রেগ

ডেনিয়েল ক্রেগ

যুক্তরাজ্যের রাজকীয় নৌবাহিনীর প্রধান র‌্যাডাকিন জানান, সত্যিকারের বন্ডের মতই দেশকে নিরাপদ রাখতে রাজকীয় বাহিনীর নৌ কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত নানা ধরনের অভিযানে অংশ নেন। প্রযুক্তি আর দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তারা বন্ডের মতোই অপ্রতিরোধ্য।

জেমস বন্ড হয়ে রূপালী পর্দা কাঁপাচ্ছেন ডেনিয়েল ক্রেগ। এবার যুক্তরাজ্যের রাজকীয় নৌবাহিনীর কর্মকর্তা হয়ে সত্যিকারের বন্ডের বেশে আবির্ভূত হলেন জিরো জিরো সেভেন খ্যাত এই তারকা।

সিনেমার পর্দায় বিশ্বখ্যাত ‘জেমস বন্ড’ চরিত্রটিও একজন ব্রিটিশ নৌবাহিনী কমান্ডরের। বিশ্বজুড়ে একের পর এক অভিযানের মধ্য দিয়ে ব্রিটেনকে নিরাপদ রাখাই তার লক্ষ্য।

গত ১৫ বছর ধরে পর্দার জেমস বন্ড হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ডেনিয়েল ক্রেগও রাজকীয় নৌবাহিনীতে কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। এক বিবৃতিতে ক্রেগের নিয়োগ প্রসঙ্গে রাজকীয় বাহিনীর প্রধান এডমিরাল স্যার টনি র‌্যাডাকিন বলেছেন, ‘সম্মানিত কমান্ডার ডেনিয়েল ক্রেগকে স্বাগত জানিয়ে আমি আনন্দিত।’

র‌্যাডাকিন জানান, সত্যিকারের বন্ডের মতই দেশকে নিরাপদ রাখতে রাজকীয় বাহিনীর নৌ কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত নানা ধরনের অভিযানে অংশ নেন। প্রযুক্তি আর দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তারা বন্ডের মতোই অপ্রতিরোধ্য।

বিবৃতিতে জানানো হয়, কমান্ডার পদবি গ্রহণের মধ্য দিয়ে সম্মানের দিক থেকে রাজকীয় নৌবাহিনী পরিবারে ডেনিয়েল ক্রেগ এখন সপ্তম সর্বোচ্চ ব্যাক্তিত্ব।

সম্প্রতি জেমস বন্ড সিরিজের ‘নো টাইম টু ডাই’ সিজনে অংশ নিয়ে রূপালী পর্দায় পঞ্চমবারের মত বন্ড হলেন ডেনিয়েল ক্রেগ। এই সিনেমাটিতে ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর নতুন কিছু প্রযুক্তিকে হাজির করা হয়েছে পৃথিবীর সামনে।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘নো টাইম টু ডাই’ সিনেমাটিতে তাদের ৪৫ এয়ার ডিফেন্সের এইচএমএস ড্রাগন নামে একটি নতুন ডেস্ট্রয়ারকে হাজির করা হয়েছে। ৮ হাজার টন ওজন এবং ১৫২ মিটার দীর্ঘ এই যুদ্ধজাহাজটিতে বিশ্বের আধুনিকতম বিভিন্ন প্রযুক্তি সংযুক্ত করা হয়েছে। গত জুলাইয়ে স্কটল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সামরিক মহড়ায় অগ্রসরমান একটি মিসাইলকে লাখ লাখ টুকরোয় ছিন্ন ভিন্ন করে দিয়েছে এই জাহাজের নিরাপত্তা প্রযুক্তি।

নতুন নিয়োগের মধ্য দিয়ে অবৈতনিক কর্মকর্তা হলেও ডেনিয়েল ক্রেগ নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন।

রাজকীয় নৌ বাহিনীর প্রধান র‌্যাডাকিন বলেন, ‘আমাদের সম্মিানিত অবৈতনিক কর্মকর্তারা বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রদূতের ভূমিকা পালন ছাড়াও এই বাহিনীর শক্তিমত্তাকে সারা বিশ্বের সামনে তুলে ধরেন।’

আরও পড়ুন:
৯/১১-এর দিন শপথ ‘নেবে’ তালেবান
তালেবানের কাছে প্রকৃত শরিয়া আইন চান মেহবুবা মুফতি
তালেবান ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তানকে ফলো নয়: বাংলাদেশ
বিদেশি কর্মকর্তাদের দেশে ফেরার আহ্বান আখুন্দের

শেয়ার করুন

নিজেদের অবস্থান তালেবানকে জানাল যুক্তরাষ্ট্র-ভারত

নিজেদের অবস্থান তালেবানকে জানাল যুক্তরাষ্ট্র-ভারত

হোয়াইট হাউজে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: পিটিআই

যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কাবুল পতনের পর তালেবান যেসব অঙ্গীকার করেছিল, তা তাদের মানতে হবে। আফগানিস্তান থেকে দেশি-বিদেশি সব নাগরিককে নিরাপদে দেশত্যাগের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া নারী, শিশু ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সবাইকে প্রাপ্য মর্যাদা দিতে হবে।’

অঙ্গীকার অনুযায়ী কাজ করতে এবং নারী, শিশু, জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ সব আফগান নাগরিকের অধিকারের প্রতি সম্মান জানাতে তালেবান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র।

হোয়াইট হাউসে স্থানীয় সময় শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রথম সরাসরি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়।

এর পরই যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের পক্ষ থেকে যৌথ এক বিবৃতিতে তালেবান সরকারের প্রতি ওই আহ্বান জানানো হয় বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত তালেবানকে অবশ্যই মানতে হবে বলে বৈঠকে একমত পোষণ করেন বাইডেন ও মোদি।

গত মাসে তালেবানের হাতে কাবুল পতনের দুই সপ্তাহ পর ৩০ আগস্ট জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রেজল্যুশন ২৫৯৩ (২০২১) গৃহীত হয়।

এতে বলা হয়, অন্য দেশে হামলা চালাতে আফগানিস্তানের মাটি ফের কোনো গোষ্ঠীকে ব্যবহার করতে দেয়া যাবে না।

একই সঙ্গে আফগান ভূখণ্ডে সন্ত্রাসীদের আশ্রয় বা প্রশিক্ষণ কর্মকাণ্ড চালানোর অনুমতি না দেয়া এবং কোনো ধরনের সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা বা অর্থায়ন না করার কথাও ওই রেজল্যুশনে বলা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কাবুল পতনের পর তালেবান যেসব অঙ্গীকার করেছিল, তা তাদের মানতে হবে।

‘আফগানিস্তান থেকে দেশি-বিদেশি সব নাগরিককে নিরাপদে দেশত্যাগের ব্যবস্থা করতে হবে।

‘এ ছাড়া নারী, শিশু ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সবাইকে প্রাপ্য মর্যাদা দিতে হবে।’

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের মাধ্যমে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ তালেবানের হাতে চলে যায়। চলতি মাসের শুরুতে নিজেদের ৩৩ নেতা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে তালেবান।

আরও পড়ুন:
৯/১১-এর দিন শপথ ‘নেবে’ তালেবান
তালেবানের কাছে প্রকৃত শরিয়া আইন চান মেহবুবা মুফতি
তালেবান ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তানকে ফলো নয়: বাংলাদেশ
বিদেশি কর্মকর্তাদের দেশে ফেরার আহ্বান আখুন্দের

শেয়ার করুন

জাতিসংঘে কথা বলতে মিয়ানমারের প্রতিনিধি নেই

জাতিসংঘে কথা বলতে মিয়ানমারের প্রতিনিধি নেই

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনে মিয়ানমারের কেউ থাকছেন না। ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘে মিয়ানমারের বর্তমান রাষ্ট্রদূত কিয়াও মোয়ে তুন বলেন, ‘জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তাদের তালিকা থেকে নিজের নাম সরিয়ে নিয়েছি। আমি এবারের সাধারণ বিতর্কে অংশ নেব না।’

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনে মিয়ানমার থেকে কেউ প্রতিনিধিত্ব করছেন না।

সংস্থাটির এক মুখপাত্র স্থানীয় সময় শুক্রবার এ তথ্য জানান বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক বলেন, ‘এবারের অধিবেশনে মিয়ানমার থেকে কেউ কথা বলছেন না।’

জাতিসংঘে মিয়ানমারের বর্তমান রাষ্ট্রদূত কিয়াও মোয়ে তুন। দেশটির নির্বাচিত সাবেক স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি তাকে নিয়োগ দিয়েছিলেন।

সোমবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের শেষ দিনে সংস্থাটির ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের সামনে মোয়ে তুনের বক্তৃতা দেয়ার কথা ছিল।

তবে কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র মোয়ে তুনের বিষয়ে এক ধরনের ঐকমত্যে পৌঁছেছে।

রাশিয়া ও চীনের ভাষ্য, জাতিসংঘে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের পদে মোয়ে তুন থাকতে পারবেন যদি তিনি সংস্থাটির উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে অংশ না নেন।

মোয়ে তুন রয়টার্সকে বলেন, ‘জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তাদের তালিকা থেকে নিজের নাম সরিয়ে নিয়েছি।

‘আমি এবারের সাধারণ বিতর্কে অংশ নেব না।’

তিনি বলেন, ‘আমাকে নিয়ে রাশিয়া, চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ জাতিসংঘের কয়েকটি সদস্য রাষ্ট্রের ঐকমত্যের বিষয়ে অবগত রয়েছি।’

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারের জান্তা সরকার জাতিসংঘে তাদের রাষ্ট্রদূত হিসেবে সামরিক কর্মকর্তা অং থুরেইনের নাম প্রস্তাব করে।

একই সঙ্গে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত হিসেবে মোয়ে তুনকে জাতিসংঘের স্বীকৃতি নবায়ন করতে বলা হয়।

সামরিক অভ্যুত্থানের বিরোধিতা করায় মোয়ে তুনকে হত্যা বা জখমের পরিকল্পনা মিয়ানমারের জান্তা সরকার করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে গত মাসে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ তালেবানের হাতে যাওয়ার পর জাতিসংঘে দেশটির প্রতিনিধিত্ব নিয়েও আলোচনা উঠেছে।

জাতিসংঘের মুখপাত্র দুজারিক বলেন, ‘সোমবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে আফগানিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করবেন গোলাম এম ইসাকজাই।’

জাতিসংঘে আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে তালেবানের হাতে ক্ষমতাচ্যুত পশ্চিমা সমর্থিত দেশটির সাবেক সরকারের নিয়োগ পেয়েছিলেন ইসাকজাই।

নবগঠিত তালেবানের অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি সোমবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণের আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়েছিলেন।

এ জন্য জাতিসংঘে আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে তালেবানের মুখপাত্র সুহেইল শাহীনকে মনোনয়নও দেন মুত্তাকি।

সাধারণত বছরের অক্টোবর বা নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়াসহ জাতিসংঘের ৯ সদস্যের এক কমিটি সংস্থাটির স্বীকৃতি নিয়ে আলোচনায় বসে।

তাই তালেবান মনোনীত প্রার্থীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি ওই কমিটি।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের নিয়ম অনুযায়ী, সংস্থাটির ৯ সদস্যের ওই কমিটি সিদ্ধান্ত না নেয়া পর্যন্ত মোয়ে তুন ও ইসাকজাই উভয়ই সংস্থাটিতে নিজ নিজ দেশকে প্রতিনিধিত্ব করবেন।

আরও পড়ুন:
৯/১১-এর দিন শপথ ‘নেবে’ তালেবান
তালেবানের কাছে প্রকৃত শরিয়া আইন চান মেহবুবা মুফতি
তালেবান ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তানকে ফলো নয়: বাংলাদেশ
বিদেশি কর্মকর্তাদের দেশে ফেরার আহ্বান আখুন্দের

শেয়ার করুন

কংগ্রেস পচা ডোবা, তৃণমূলই সমুদ্র

কংগ্রেস পচা ডোবা, তৃণমূলই সমুদ্র

কংগ্রেসনেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

শনিবার তৃণমূলের মুখপত্র জাগো বাংলার সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, ‘এখনকার কংগ্রেস ব্যর্থ, দিশাহীন। তৃণমূলকে হারাতে এরা সিপিএমের সঙ্গে জোট করে বিজেপিকে সুবিধা করে দেয়ার চেষ্টা করছে। কংগ্রেসের ঐতিহ্যের পতাকা তো তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে। এটাই সমুদ্র। পচা ডোবা আজ অপ্রাসঙ্গিক।’

‘কংগ্রেসের ঐতিহ্যের পতাকা তো তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে। এটাই সমুদ্র। পচা ডোবা আজ অপ্রাসঙ্গিক।’ কংগ্রেসকে পচা ডোবার সঙ্গে তুলনা করে তৃণমূলের মুখপত্র জাগো বাংলার সম্পাদকীয়তে এমন মন্তব্য করা হয়েছে।

শনিবার দলের মুখপত্রে প্রকাশিত হয়েছে, ‘এখনকার কংগ্রেস ব্যর্থ, দিশাহীন। তৃণমূলকে হারাতে এরা সিপিএমের সঙ্গে জোট করে বিজেপিকে সুবিধা করে দেয়ার চেষ্টা করছে। কংগ্রেসের ঐতিহ্যের পতাকা তো তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে। এটাই সমুদ্র। পচা ডোবা আজ অপ্রাসঙ্গিক।’

শুক্রবার ভবানীপুরে ভোটের প্রচারে গিয়ে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন তৃণমূল নেত্রীও।

তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতাসীন বিজেপির প্রতিহিংসার রাজনীতির পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই, ইডি দিয়ে নারদা ঘুষ কেলেঙ্কারি, চিটফান্ড কেলেঙ্কারি, কয়লা পাচারকাণ্ডের তদন্ত প্রসঙ্গে অভিযোগ করে বলেন, ‘সিপিএম বাংলায় কত বছর রাজনীতি করেছে? ৩৪ বছর। কত অন্যায় করেছে? ওদের বিরুদ্ধে সিবিআই মামলা করেছে? কিছু বলেনি। শুধু চিদাম্বরমের গায়ে হাত দিয়েছে। কিন্তু কংগ্রেসের মাথায়, গায়ে হাত দেয় নি।’

‘আমাদের দলের কে বাদ আছে? যে পার্টিটা সব থেকে সৎ, সবার চেয়ে নির্ভীকভাবে লড়াই করে। তাদের সবাইকে ডেকে পাঠাচ্ছে। সৌগত রায়ের মত মানুষকে ডেকে পাঠাচ্ছে। পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ডেকে পাঠাচ্ছে। ছেলে, মেয়ে বাড়ির কাজের লোকেদের পর্যন্ত ডাকছে।’

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণে গিয়ে বলেছেন, ‘কংগ্রেসের মতো দল ঘরে বসে গেলেও তৃণমূল আরও শক্তি বাড়িয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়বে।’

সম্প্রতি নারদা ঘুষ কেলেঙ্কারি, চিটফান্ড কেলেঙ্কারি, কয়লা পাচার ইত্যাদি মামলায় তৃণমূলের একাধিক নেতাকর্মীকে ডেকে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ইডি, সিবিআই। আর কেন্দ্রে মোদিবিরোধী জোটের নেতৃত্বের প্রশ্ন তৃণমূলের সামনে ঝুলিয়ে রেখে নীরব অবস্থানে রয়েছে কংগ্রেস। আর বিজেপি নানাভাবে তৃণমূলকে কোনঠাসা করার চেষ্টা করছে।

কংগ্রেসের এই অবস্থানকে ধাক্কা দিয়ে সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে বিজেপিবিরোধী জোটের নেতৃত্ব তৃণমূল কংগ্রেস দিতে চায় বলে নানাভাবে কংগ্রেসকে বার্তা দেয়া হচ্ছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত।

তৃণমূলের এই অবস্থানে কেন্দ্রে বিজেপিবিরোধী জোট প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, ‘বিরোধী ঐক্য যখন জমাট বাঁধছে, তাতে নরেন্দ্র মোদির আতঙ্ক বাড়ছে। সেই আতঙ্ক কাটানোর দায়িত্ব নিয়েছেন দিদি। সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বিরোধী শিবিরের বৈঠক করেছেন, আবার তাদের অপরাধী বানাচ্ছেন। বিরোধী ঐক্যে ফাটল ধরলে বিজেপিরই লাভ হবে।’

আরও পড়ুন:
৯/১১-এর দিন শপথ ‘নেবে’ তালেবান
তালেবানের কাছে প্রকৃত শরিয়া আইন চান মেহবুবা মুফতি
তালেবান ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তানকে ফলো নয়: বাংলাদেশ
বিদেশি কর্মকর্তাদের দেশে ফেরার আহ্বান আখুন্দের

শেয়ার করুন

নারী অধিকারকর্মী কমলা ভাসিনের প্রয়াণ

নারী অধিকারকর্মী কমলা ভাসিনের প্রয়াণ

ভারতীয় নারী অধিকারকর্মী ও লেখক কমলা ভাসিন আর নেই। ছবি: সংগৃহীত

কমলা ভাসিনের মৃত্যুর খবর জানিয়ে ভারতীয় নারী অধিকারকর্মী কবিতা শ্রীবাস্তব টুইটবার্তায় বলেন, ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে কাজ করতে ভালোবাসতেন কমলা। কমলা, আপনি চিরদিন আমাদের হৃদয়ে থাকবেন। নারীসমাজ কমলার অন্তিম যাত্রায় গভীরভাবে শোকাহত।’

ভারতের প্রখ্যাত নারী অধিকারকর্মী ও লেখক কমলা ভাসিন আর নেই।

শুক্রবার দিবাগত রাতে তার মৃত্যু হয় বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

কমলা ভাসিনের মৃত্যুর খবর জানিয়ে ভারতীয় আরেক নারী অধিকারকর্মী কবিতা শ্রীবাস্তব টুইটবার্তায় বলেন, ‘শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে আমাদের প্রাণপ্রিয় বন্ধু কমলা ভাসিন চলে গেছেন। কমলার প্রয়াণ ভারতসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় নারী আন্দোলনে বড় ধরনের আঘাত।’

তিনি বলেন, ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে কাজ করতে ভালোবাসতেন কমলা। কমলা, আপনি চিরদিন আমাদের হৃদয়ে থাকবেন। নারীসমাজ কমলার অন্তিম যাত্রায় গভীরভাবে শোকাহত।’

৭০-এর দশকে ভারতের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় নারী আন্দোলনে আলোচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হন কমলা।

গ্রামীণ ও আদিবাসী সুবিধাবঞ্চিত নারীদের নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যে ২০০২ সালে ‘সঙ্গত’ নামে নারীবাদী নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।

মঞ্চনাটক, গান ও অন্যান্য শিল্পকলার মাধ্যমে নারীদের বঞ্চনার কথা তুলে ধরে সঙ্গত।

নারীবাদ ও জেন্ডার তত্ত্ব নিয়ে বেশ কয়েকটি বই লেখেন কমলা, যেগুলো ৩০টির বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

কয়েক দশক ধরে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদ-বিক্ষোভে ‘আজাদি’ স্লোগান দেয়া হয়ে আসছে।

পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে কমলাই প্রথম ওই স্লোগানকে হাজির করেন, যা পরে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

আরও পড়ুন:
৯/১১-এর দিন শপথ ‘নেবে’ তালেবান
তালেবানের কাছে প্রকৃত শরিয়া আইন চান মেহবুবা মুফতি
তালেবান ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তানকে ফলো নয়: বাংলাদেশ
বিদেশি কর্মকর্তাদের দেশে ফেরার আহ্বান আখুন্দের

শেয়ার করুন

আমেরিকায় সবচেয়ে পুরোনো পায়ের ছাপ নিউ মেক্সিকোয়

আমেরিকায় সবচেয়ে পুরোনো পায়ের ছাপ নিউ মেক্সিকোয়

এই পায়ের ছাপগুলো ২৩ হাজার ও ২১ হাজার বছরের ভেতরকার বলে ধারণা বিজ্ঞানীদের। ছবি: বোর্নমাউথ ইউনিভার্সিটি

২৩ হাজার ও ২১ হাজার বছরের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে মানুষের বেশ কয়েকটি পায়ের ছাপ আবিষ্কার করেছেন যুক্তরাজ্যের একদল বিজ্ঞানী।

এশিয়ার মানুষ উত্তর আমেরিকায় কবে নাগাদ পৌঁছেছিল, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে।

মহাদেশটিতে পাওয়া পাথরের বিভিন্ন উপাদান দেখে ১৬ হাজার বছরেরও আগে মানুষ সেখানে যায় বলে একদল গবেষক দাবি করে আসছেন।

তবে এ নিয়ে বরাবরই সন্দেহ পোষণ করে আসছেন বেশ কয়েকজন গবেষক।

সম্প্রতি বিজ্ঞানীদের এক আবিষ্কার আগের গবেষকদের দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৩ হাজার ও ২১ হাজার বছরের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে মানুষের বেশ কয়েকটি পায়ের ছাপ আবিষ্কার করেছেন যুক্তরাজ্যের একদল বিজ্ঞানী।

তাদের ধারণা, কমপক্ষে সাত হাজার বছর আগে উত্তর আমেরিকায় মানুষ বসতি গড়ে।

এমনটা হলে মহাদেশটিতে কবে বসতি স্থাপন হয়, সে সম্পর্কে প্রচলিত মত পাল্টে যাবে।

গবেষকদলের ধারণা, অন্য মহাদেশ থেকে ওই সময় উত্তর আমেরিকায় ব্যাপক হারে মানুষজন আসে, যেটি সম্পর্কে এখনও জানা যায়নি।

এসব মানুষ সম্ভবত বিলুপ্ত হয়ে গেছে বলেও ধারণা গবেষকদের।

নিউ মেক্সিকোর হোয়াইট স্যান্ডস এলাকার নরম কাদামাটিতে মানুষের পায়ের ছাপগুলো পাওয়া যায়।

পায়ের ছাপের মাপ দেখে গবেষকরা মনে করছেন, সেগুলো কিশোর ও কম বয়সি শিশুদের পায়ের ছাপ। তাদের পায়ের ছাপের পাশাপাশি কখনও কখনও প্রাপ্তবয়স্কদেরও পায়ের ছাপ পাওয়া গেছে।

এ ছাপগুলো দেখে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আদি বাসিন্দাদের জীবন কেমন ছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন গবেষকরা।

কিশোররা সে সময় অনাবিষ্কৃত মহাদেশটিতে কী করছিল, তা নিশ্চিত নন বিজ্ঞানীরা। তবে বয়স্কদের শিকারে তারা সহযোগিতা করতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

গবেষকদলের সদস্য ও যুক্তরাজ্যের বোর্নমাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. স্যালি রেনল্ডস বলেন, ‘সে সময় খুব অল্প সময়ের ভেতর শিকার করা জন্তুদের খাবার উপযোগী করা হতো।

‘এ জন্য আগুন জ্বালানো হতো। জন্তুদের চর্বি গলানো হতো। এসব কাজের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি কাঠ, পানিসহ অন্যান্য জিনিসপত্র সম্ভবত শিশু-কিশোররাই সরবরাহ করত।’

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষকদলের আরেক সদস্য ম্যাথিউ বেনেট বলেন, ‘উত্তর আমেরিকায় মানুষের বসতি স্থাপনা ঘিরে নানা বিতর্ক থাকার বড় কারণ- এ বিষয়ে পরিষ্কার ডাটা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।’

আরও পড়ুন:
৯/১১-এর দিন শপথ ‘নেবে’ তালেবান
তালেবানের কাছে প্রকৃত শরিয়া আইন চান মেহবুবা মুফতি
তালেবান ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তানকে ফলো নয়: বাংলাদেশ
বিদেশি কর্মকর্তাদের দেশে ফেরার আহ্বান আখুন্দের

শেয়ার করুন