নারীদের বিক্ষোভের ছবি তোলায় সাংবাদিকদের পেটাল তালেবান

নারীদের বিক্ষোভের ছবি তোলায় সাংবাদিকদের পেটাল তালেবান

বুধবার আফগান সাংবাদিক নেমাতুল্লাহ নাকদি (বামে) ও তাকি দারইয়াবি তালেবানের নির্যাতনের শিকার হন। ছবি: এএফপি

কেন পেটানো হচ্ছে, ফটোসাংবাদিক নেমাতুল্লাহ নাকদির এ প্রশ্নের জবাবে তালেবানের এক সদস্য বলেন, ‘তোমাকে শিরশ্ছেদ করা হচ্ছে না, এটা তোমার ভাগ্য।’

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বুধবার নারীদের বিক্ষোভ চলাকালে প্রতিবেদন তৈরি করছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এ সময় তালেবান যোদ্ধারা বিক্ষোভস্থলে পৌঁছে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিকদের মধ্যে দুজনকে পরে তালেবান নির্মমভাবে পেটায় বলে বার্তা সংস্থা এএফপির বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

বুধবার কাবুলে এক থানার সামনে শিক্ষা ও কাজের অধিকারের দাবি নিয়ে বিক্ষোভ করে একদল আফগান নারী।

ওই বিক্ষোভের খবর সংগ্রহে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইতিলাত রোজে কর্মরত নেমাতুল্লাহ নাকদি ও তাকি দারইয়াবি ঘটনাস্থলে যান।

নাকদি বলেন, ‘বিক্ষোভের ছবি তোলার সময় তালেবানের এক যোদ্ধা আমাদের ছবি তুলতে নিষেধ করে।

‘পরে তালেবানের আরও কয়েকজন সদস্য এসে সব ফটোগ্রাফারকে গ্রেপ্তার করে এবং আমাদের ফোন কেড়ে নেয়।’

নাকদি জানান, তালেবান তার ক্যামেরাও কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে। তবে ভিড়ের মধ্যে অন্য একজনকে কোনোমতে তার ক্যামেরাটি দিয়ে দিতে সক্ষম হন তিনি।

নির্যাতিত ওই দুই সাংবাদিকের ভাষ্য, বিক্ষোভস্থল থেকে তাদের থানায় নেয়া হয়। বিক্ষোভ আয়োজনের অভিযোগে সেখানে তাদের উপর্যুপরি ঘুষি মারা হয়।

এ ছাড়া লাঠি, চাবুক ও বৈদ্যুতিক তার দিয়ে ওই সাংবাদিকদের পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়।

ফটোগ্রাফার নাকদি বলেন, ‘তালেবানের এক সদস্য আমার মাথায় পা তুলে দেয়। দেয়ালে আমার মুখ জোরে ঘষে দেয়।

‘তারা (তালেবান) আমার মাথায় লাথি দেয়। একপর্যায়ে মনে হয়েছিল, তারা আমাকে মেরেই ফেলবে।’

কেন পেটানো হচ্ছে, নাকদির এ প্রশ্নের জবাবে তালেবানের এক সদস্য বলেন, ‘তোমাকে শিরশ্ছেদ করা হচ্ছে না, এটা তোমার ভাগ্য।’

পেটানোর পর নাকদিকে জনবহুল এক সেলে নেয়া হয়। সেখানে তিনি তার সহকর্মী দারইয়াবির দেখা পান।

দারইয়াবি এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের এত যন্ত্রণা হচ্ছিল যে চলতে পারছিলাম না।’

সেলে নেয়ার কয়েক ঘণ্টা পর দুই সাংবাদিককে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই ছেড়ে দেয় তালেবান।

নারীদের বিক্ষোভের ছবি তোলায় সাংবাদিকদের পেটাল তালেবান

কাবুলের রাস্তায় নারীদের বিক্ষোভ। ছবি: এএফপি

তাকি বলেন, ‘তালেবান আমাদের সঙ্গে শত্রুর মতো ব্যবহার করে।’

সাংবাদিক নির্যাতনের বিষয়ে তালেবানের কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি।

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের পর তালেবান অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের অঙ্গীকার করলেও ছোটখাটো বিক্ষোভ এখন তারা সহ্য করতে পারছে না।

বিচার মন্ত্রণালয় অনুমতি না দিলে যেকোনো ধরনের বিক্ষোভ বেআইনি হিসেবে দেখা হবে বলে বুধবার রাতে ঘোষণা দেয় তালেবান।

আরও পড়ুন:
৯/১১-এর দিন শপথ ‘নেবে’ তালেবান
তালেবানের কাছে প্রকৃত শরিয়া আইন চান মেহবুবা মুফতি
তালেবান ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তানকে ফলো নয়: বাংলাদেশ
বিদেশি কর্মকর্তাদের দেশে ফেরার আহ্বান আখুন্দের
ক্ষমা চাইলেন আশরাফ ঘানি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দেশের জন্য কাঁদলেন সেই আফগান নারী সাংবাদিক

দেশের জন্য কাঁদলেন সেই আফগান নারী সাংবাদিক

বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বেহেশতা আরগান্দ। ছবি: বিবিসি

আফগান সাংবাদিক বেহেশতা আরগান্দ বলেন, ‘তালেবানের প্রতি আমার বার্তা হচ্ছে, আপনারা পুরো আফগানিস্তান দখল করেছেন। তবে একদিন আপনারা জানবেন, একটি শক্তিশালী প্রজন্ম আপনারা হারিয়েছেন।

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ তালেবানের হাতে চলে যায়।

এর দুই দিন পর তালেবানের জ্যেষ্ঠ নেতা আব্দুল হক হাম্মাদের সাক্ষাৎকার নেন আফগান সংবাদমাধ্যম টোলোনিউজের সাংবাদিক বেহেশতা আরগান্দ।

তালেবানের আগের শাসনামলে এ ধরনের ঘটনা ছিল অকল্পনীয়। নারীদের ঘরের বাইরে কাজ করার অনুমতি সেই সময় ছিল না।

সে জায়গায় আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর এক নারী সাংবাদিককে তালেবান নেতার সাক্ষাৎকার দেয়ার ঘটনা হতবাক করে বিশ্বকে।

তালেবান নেতার সাক্ষাৎকারের বিষয়ে আরগান্দ বলেছিলেন, ‘এটি নেয়া দুরূহ ছিল। আফগান নারীদের স্বার্থে আমি ঝুঁকিপূর্ণ কাজটি করেছিলাম।

‘সে সময় নিজেকে বোঝাই, কাউকে না কাউকে শুরু করতে হবে। তালেবানের ভয়ে আমরা যদি ঘরেই থাকি, কাজে না যাই, তখন তারা (তালেবান) বলবে, নারীরা কাজ করতে চায় না।’

তিনি বলেন, “তালেবানের ওই নেতাকে আমি বলেছিলাম, ‘আমরা আমাদের অধিকার চাই। চাকরি করতে চাই। সমাজে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে চাই'।”

ওই সাক্ষাৎকার দেখে শুধু আফগানরাই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাস করা মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয় এই ভেবে যে এবার হয়তো নারী ইস্যুতে অবস্থান নমনীয় করবে কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠীটি। শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হবেন না আফগান নারীরা। নির্দ্বিধায় ঘরের বাইরে কাজ করতে পারবেন তারা।

১৭ আগস্টের ওই সাক্ষাৎকারের দুই দিন পর আরেকটি যুগান্তকারী কাজ করেন ২৪ বছর বয়সী আরগান্দ। তালেবানের প্রাণনাশের চেষ্টার হাত থেকে বেঁচে যাওয়া মালালা ইউসুফজাইয়ের সাক্ষাৎকার নেন তিনি।

আফগানিস্তানের কোনো টেলিভিশনকে ওই প্রথম সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা।

আফগানিস্তানের প্রেক্ষাপটে ঐতিহাসিক দুটি দৃষ্টান্ত স্থাপনের পর হঠাৎ জানা গেল পরিবারসহ দেশ ছাড়ছেন আরগান্দ।

কারণ জানতে চাইলে সে সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘দেশ ছাড়ছি, কারণ লাখ লাখ আফগানের মতো আমিও তালেবানকে ভয় পাচ্ছি।’

শুরুতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, দেশ ছেড়ে কাতারে অবস্থান করছেন আরগান্দ।

তবে সোমবার বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, কাতার নয়, আলবেনিয়ায় গেছেন আরগান্দ।

বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আরগান্দ জানান, সব কিছুই হারিয়েছেন তিনি। তালেবান একটি পুরো প্রজন্মকে নির্বাসিত করেছে।

দেশের জন্য কাঁদলেন সেই আফগান নারী সাংবাদিক

তিনি বলেন, ‘তালেবান নেতার সাক্ষাৎকার নেয়ার সময় ভয়ে আমার হাত কাঁপছিল। কারণ ওই প্রথম তালেবানের কোনো নেতাকে সামনাসামনি দেখি আমি।’

আরগান্দ বলেন, ‘সাক্ষাৎকারটির কথা ভাবলে এখনও আমি ভয় পাই।'

আলবেনিয়ার সমুদ্রতীরবর্তী এক শহরে এ মুহূর্তে প্রায় ৭০০ আফগান অবস্থান করছেন।

আফগানিস্তানের সাহসী এই নারী সাংবাদিক বলেন, ‘আমি এর আগে কখনো সমুদ্র দেখিনি। আলবেনিয়া খুব সুন্দর একটি দেশ।

‘আলবেনিয়ার সুন্দর এক জায়গায় আফগানরা বসবাস করছেন।

‘তবে আলবেনিয়া কেন, বিশ্বের সব জায়গা স্বর্গে পরিণত হলেও তা আমাকে আনন্দ দেবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমার আত্মা, হৃদয় পড়ে রয়েছে আফগানিস্তানে। বিশ্বের অন্য কোনো জায়গায় নয়।’

আলবেনিয়া ইউরোপের অন্যতম দরিদ্র দেশ। চার হাজারের বেশি আফগান নিতে পারবে না বলে জানিয়েছে আলবেনিয়া সরকার।

আলবেনিয়ায় থাকা আফগানদের বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডায় ভিসার জন্য আবেদন করেছেন। তাদের ভিসা প্রক্রিয়া শেষ হতে এক বছরের বেশি সময় লাগতে পারে।

আরগান্দ বলেন, ‘তালেবানের প্রতি আমার বার্তা হচ্ছে, আপনারা পুরো আফগানিস্তান দখল করেছেন।

‘তবে একদিন আপনারা জানবেন, একটি শক্তিশালী প্রজন্ম আপনারা হারিয়েছেন।'

তিনি বলেন, ‘আমি কখনো ভাবিনি, আমাকে দেশ ছাড়তে হবে। আমি সব হারিয়েছি। ছোটবেলা থেকে আমি আমার স্বপ্ন পূরণে সংগ্রাম করেছি। আমার সব অর্জনই এখন শূন্য।

‘আমি প্রকৃত অর্থেই আমার কাজকে ভালোবাসি। সাংবাদিকতাকে ভীষণ মিস করছি।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে আরগান্দ বলেন, ‘আমি কেবল আশা করতে পারি, একদিন আমি আমার দেশে ফিরতে পারব।’

আরও পড়ুন:
৯/১১-এর দিন শপথ ‘নেবে’ তালেবান
তালেবানের কাছে প্রকৃত শরিয়া আইন চান মেহবুবা মুফতি
তালেবান ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তানকে ফলো নয়: বাংলাদেশ
বিদেশি কর্মকর্তাদের দেশে ফেরার আহ্বান আখুন্দের
ক্ষমা চাইলেন আশরাফ ঘানি

শেয়ার করুন

নারী অধিকারকর্মী কমলা ভাসিনের প্রয়াণ

নারী অধিকারকর্মী কমলা ভাসিনের প্রয়াণ

ভারতীয় নারী অধিকারকর্মী ও লেখক কমলা ভাসিন আর নেই। ছবি: সংগৃহীত

কমলা ভাসিনের মৃত্যুর খবর জানিয়ে ভারতীয় নারী অধিকারকর্মী কবিতা শ্রীবাস্তব টুইটবার্তায় বলেন, ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে কাজ করতে ভালোবাসতেন কমলা। কমলা, আপনি চিরদিন আমাদের হৃদয়ে থাকবেন। নারীসমাজ কমলার অন্তিম যাত্রায় গভীরভাবে শোকাহত।’

ভারতের প্রখ্যাত নারী অধিকারকর্মী ও লেখক কমলা ভাসিন আর নেই।

শুক্রবার দিবাগত রাতে তার মৃত্যু হয় বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

কমলা ভাসিনের মৃত্যুর খবর জানিয়ে ভারতীয় আরেক নারী অধিকারকর্মী কবিতা শ্রীবাস্তব টুইটবার্তায় বলেন, ‘শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে আমাদের প্রাণপ্রিয় বন্ধু কমলা ভাসিন চলে গেছেন। কমলার প্রয়াণ ভারতসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় নারী আন্দোলনে বড় ধরনের আঘাত।’

তিনি বলেন, ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে কাজ করতে ভালোবাসতেন কমলা। কমলা, আপনি চিরদিন আমাদের হৃদয়ে থাকবেন। নারীসমাজ কমলার অন্তিম যাত্রায় গভীরভাবে শোকাহত।’

৭০-এর দশকে ভারতের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় নারী আন্দোলনে আলোচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হন কমলা।

গ্রামীণ ও আদিবাসী সুবিধাবঞ্চিত নারীদের নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যে ২০০২ সালে ‘সঙ্গত’ নামে নারীবাদী নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।

মঞ্চনাটক, গান ও অন্যান্য শিল্পকলার মাধ্যমে নারীদের বঞ্চনার কথা তুলে ধরে সঙ্গত।

নারীবাদ ও জেন্ডার তত্ত্ব নিয়ে বেশ কয়েকটি বই লেখেন কমলা, যেগুলো ৩০টির বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

কয়েক দশক ধরে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদ-বিক্ষোভে ‘আজাদি’ স্লোগান দেয়া হয়ে আসছে।

পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে কমলাই প্রথম ওই স্লোগানকে হাজির করেন, যা পরে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

আরও পড়ুন:
৯/১১-এর দিন শপথ ‘নেবে’ তালেবান
তালেবানের কাছে প্রকৃত শরিয়া আইন চান মেহবুবা মুফতি
তালেবান ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তানকে ফলো নয়: বাংলাদেশ
বিদেশি কর্মকর্তাদের দেশে ফেরার আহ্বান আখুন্দের
ক্ষমা চাইলেন আশরাফ ঘানি

শেয়ার করুন

আদিবাসী শিশু হত্যায় ক্ষমা চাইলেন ক্যাথলিক বিশপরা

আদিবাসী শিশু হত্যায় ক্ষমা চাইলেন ক্যাথলিক বিশপরা

চলতি বছরের মে মাসে কানাডার পরিত্যক্ত এই স্কুল থেকে ২১৫টি আদিবাসী শিশুর দেহাবশেষ পাওয়া যায়। ছবি: ক্যামলুপস দিজ উইক

শুক্রবার কানাডিয়ান কনফারেন্স অফ ক্যাথলিক বিশপস এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আদিবাসী শিশুদের ওপর আমাদের সম্প্রদায়ের কয়েকজন সদস্য ভয়াবহ শারীরিক, মানসিক, আধ্যাত্মিক, সাংস্কৃতিক ও যৌন নির্যাতন চালিয়েছে। আমরা ওই সব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করছি।’

কানাডায় ক্যাথলিক গির্জা পরিচালিত আবাসিক স্কুলে শতবর্ষ ধরে আদিবাসী শিশু নির্যাতনের ঘটনায় অবশেষে ক্ষমা চেয়েছেন দেশটির বিশপ সম্প্রদায়।

অবশ্য ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস এখনও ওই সব ঘটনায় কোনো ক্ষমা চাননি।

আল জাজিরার শনিবারের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

শুক্রবার কানাডিয়ান কনফারেন্স অফ ক্যাথলিক বিশপস এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আদিবাসী শিশুদের ওপর আমাদের সম্প্রদায়ের কয়েকজন সদস্য ভয়াবহ শারীরিক, মানসিক, আধ্যাত্মিক, সাংস্কৃতিক ও যৌন নির্যাতন চালিয়েছে।

‘আমরা ওই সব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করছি।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘গির্জা পরিচালিত বিভিন্ন আবাসিক স্কুল কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে ওই সব নির্যাতনের ঘটনায় আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়েছে।

‘তাদের পাশাপাশি আমরা, কানাডার ক্যাথলিক বিশপ সম্প্রদায় দ্ব্যর্থহীনভাবে আদিবাসী শিশুদের ওপর অত্যাচারের ঘটনায় অনুতাপ ও দুঃখ প্রকাশ করছি।’

কানাডা সরকারের নীতি অনুযায়ী ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে লাখখানেক আদিবাসী শিশুকে জোর করে পরিবার থেকে আলাদা করে ক্যাথলিক গির্জা পরিচালিত আবাসিক স্কুলে ভর্তি করানো হতো।

১৮৩১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বলবৎ থাকা ওই নীতির কারণে প্রায় দেড় লাখ আদিবাসী শিশু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়।

মূলধারার সংস্কৃতি আত্মস্থ করাতে ক্যাথলিক গির্জা পরিচালিত ওই সব স্কুলে শিশুদের মাথার চুল কেটে দেয়া হতো।

স্কুলে নিজেদের ভাষায় কথা বলা নিষেধ ছিল ওই শিশুদের। নিজেদের সংস্কৃতিচর্চারও অনুমতি ছিল না তাদের।

ওই ঘটনাকে পরে ‘সাংস্কৃতিক গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

চলতি বছরের মে মাসে রাডার জরিপের সময় কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া অঙ্গরাজ্যে পরিত্যক্ত এক আবাসিক স্কুল থেকে ২১৫টি আদিবাসী শিশুর দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।

ওই শিশুরা ক্যামলুপস ইন্ডিয়ান রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল। ১৯৭৮ সালে স্কুলটি বন্ধ করা হয়।

সে সময় কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছিলেন, ‘ভয়াবহ এ আবিষ্কার আমার হৃদয় ভেঙে দিয়েছে। এটি আমাদের দেশের ইতিহাসের কালো ও লজ্জাজনক অধ্যায় স্মরণ করিয়ে দেয়।’

এ ছাড়া ওই ঘটনায় মনোবেদনা প্রকাশ করেন পোপ ফ্রান্সিস। তবে তিনি কোনো ক্ষমা চাননি।

এরপর গত কয়েক মাসে দেশটির বিভিন্ন আবাসিক স্কুল প্রাঙ্গণে আরও হাজারখানেকের মতো আদিবাসী শিশুর দেহাবশেষ মেলে।

ক্যাথলিক গির্জা পরিচালিত আবাসিক স্কুলগুলো নিয়ে কয়েক বছর আগে তদন্ত করে কানাডিয়ান ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন (টিআরসি)।

২০১৫ সালে কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, শিশুরা ওই সব স্কুলে অপুষ্টিতে ভুগত। নিয়মিত তাদের পেটানো ও গালাগাল দেয়া হতো।

আরও পড়ুন:
৯/১১-এর দিন শপথ ‘নেবে’ তালেবান
তালেবানের কাছে প্রকৃত শরিয়া আইন চান মেহবুবা মুফতি
তালেবান ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তানকে ফলো নয়: বাংলাদেশ
বিদেশি কর্মকর্তাদের দেশে ফেরার আহ্বান আখুন্দের
ক্ষমা চাইলেন আশরাফ ঘানি

শেয়ার করুন

মেক্সিকোর তিন-চতুর্থাংশ অঞ্চলে সমলিঙ্গের বিয়ে বৈধ

মেক্সিকোর তিন-চতুর্থাংশ অঞ্চলে সমলিঙ্গের বিয়ে বৈধ

সমলিঙ্গের বিয়ে বৈধ হয়েছে মেক্সিকোর তিন-চতুর্থাংশ অঞ্চলে। ছবি: এএফপি

মেক্সিকোর সোনোরা অঙ্গরাজ্যের কংগ্রেস বৃহস্পতিবার সমলিঙ্গের বিয়ের পক্ষে ২৬টি ও বিপক্ষে সাতটি ভোট দেয়।

সমলিঙ্গের বিয়ে বৈধ করেছে মেক্সিকোর সোনোরা অঙ্গরাজ্যের কংগ্রেস।

অঙ্গরাজ্যটির আইনসভা কংগ্রেসে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সমলিঙ্গের বিয়ের পক্ষে বেশি ভোট পড়ে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সোনোরা অঙ্গরাজ্যে সমলিঙ্গের বিয়ে বৈধ করার মধ্য দিয়ে মেক্সিকোর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ অঞ্চল এই আইনের আওতায় এলো।

মেক্সিকোর উত্তরাঞ্চলে বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে গঠিত সোনোরা। সীমান্তে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আরিজোনা ও নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্য।

বৃহস্পতিবার সোনোরার আইনপ্রণেতারা সমলিঙ্গের বিয়ের পক্ষে ২৬টি ও বিপক্ষে সাতটি ভোট দেন।

মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত দেশটির অন্যতম রক্ষণশীল অঙ্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত কোয়েরেতারোও বুধবার নিজেদের আইন পরিবর্তন করে সমলিঙ্গের বিয়ের অনুমোদন দেয়।

মেক্সিকোভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির ৩২টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে সমলিঙ্গের অনুমোদন দেয়া কোয়েরেতারো ২৩তম অঙ্গরাজ্য।

২০০৯ সালে মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটি প্রথম সমলিঙ্গের বিয়ের বৈধতা দেয়।

এর পরই বিয়ের সমতা ও এলজিবিটি সম্প্রদায়ের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার হয় মেক্সিকোর বাকি অঞ্চল।

মেক্সিকোর বামপন্থি প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাদোরের রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল রিজেনারেশন মুভমেন্টের (মরিনা) অনেক কর্মী সমলিঙ্গের বিয়েসহ অন্যান্য অধিকারের কড়া সমর্থক।

রাজধানী মেক্সিকো সিটির পাশাপাশি আগুয়াসকালিয়েনতিস, বাহা ক্যালিফোর্নিয়া, বাহা ক্যালিফোর্নিয়া সুর, কামপেচি, চিয়াপাস, চিহুয়াহুয়া, কোয়াহুইলা, কলিমা, হিদ্যালগোসহ অন্যান্য অঙ্গরাজ্যেও সমলিঙ্গের বিয়ে গত কয়েক বছরে বৈধ ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুন:
৯/১১-এর দিন শপথ ‘নেবে’ তালেবান
তালেবানের কাছে প্রকৃত শরিয়া আইন চান মেহবুবা মুফতি
তালেবান ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তানকে ফলো নয়: বাংলাদেশ
বিদেশি কর্মকর্তাদের দেশে ফেরার আহ্বান আখুন্দের
ক্ষমা চাইলেন আশরাফ ঘানি

শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে ৭৫ নারী শিল্পীকে নিয়ে আর্ট ক্যাম্প

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে ৭৫ নারী শিল্পীকে নিয়ে আর্ট ক্যাম্প

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হয়েছে আর্ট ক্যাম্প। ছবি: সংগৃহীত

আর্ট ক্যাম্পের চিত্রকর্মগুলো নিয়ে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার ১ নম্বর গ্যালারিতে শুরু হবে মাসব্যাপী প্রদর্শনী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ৭৫ নারী শিল্পীর অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী আর্ট ক্যাম্প।

একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় বুধবার উদ্বোধন হয় ‘শেখ হাসিনা: বিশ্বজয়ী নন্দিত নেতা’ শীর্ষক এ ক্যাম্পের।

শিল্পকলা একাডেমির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর ভাবনা ও পরিকল্পনায় দুই দিনের এই আর্ট ক্যাম্পে শিল্পী ফরিদা জামান, নাইমা হক, রোকেয়া সুলতানা, কুহু প্লামনডন, কনক চাঁপা চাকমা, আইভি জামান, ফারজানা আহমেদ শান্তা, সীমা ইসলাম, জয়া শাহরীন হক ও সৈয়দা মাহবুবা করিমসহ ৭৫ জন নারী শিল্পী অংশ নিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে ৭৫ নারী শিল্পীকে নিয়ে আর্ট ক্যাম্প
‘শেখ হাসিনা: বিশ্বজয়ী নন্দিত নেতা’ শীর্ষক আর্টক্যাম্পে অংশ নেয়া চিত্রশিল্পীরা। ছবি: সংগৃহীত

২৩ সেপ্টেম্বর শেষ হবে এ আর্ট ক্যাম্প। এরপর ক্যাম্পের চিত্রকর্মগুলো নিয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার ১ নম্বর গ্যালারিতে শুরু হবে মাসব্যাপী প্রদর্শনী।

আরও পড়ুন:
৯/১১-এর দিন শপথ ‘নেবে’ তালেবান
তালেবানের কাছে প্রকৃত শরিয়া আইন চান মেহবুবা মুফতি
তালেবান ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তানকে ফলো নয়: বাংলাদেশ
বিদেশি কর্মকর্তাদের দেশে ফেরার আহ্বান আখুন্দের
ক্ষমা চাইলেন আশরাফ ঘানি

শেয়ার করুন

কিশোরীকে গণধর্ষণ, অপ্রাপ্তবয়স্কসহ ২৬ আসামি গ্রেপ্তার

কিশোরীকে গণধর্ষণ, অপ্রাপ্তবয়স্কসহ ২৬ আসামি গ্রেপ্তার

প্রতীকী ছবি

গত জানুয়ারিতে প্রথমবার মেয়েটিকে ধর্ষণ করে মূল অভিযুক্ত এবং পুরো ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করে। এরপর ভিডিওটি প্রকাশের ভয় দেখিয়ে সে এবং বাকিরা মিলে বারবার মেয়েটিকে বিভিন্ন এলাকায় ডাকত এবং ধর্ষণ করত। শেষ পর্যন্ত বুধবার রাতে দোম্বিভালির মানপাড়া থানায় হাজির হয়ে অভিযোগ জানায় মেয়েটি; নাম উল্লেখ করে ২৯ জনের।

নয় মাস ধরে ১৫ বছরের এক কিশোরীকে গণর্ধষণের পর প্রকাশ্যে এসেছে বর্বর এ ঘটনা। জানা গেছে, ২৯ জন পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে তাকে। অভিযুক্তদের মধ্যে দুইজন অপ্রাপ্তবয়স্ক।

গা শিউড়ে ওঠার মতো এ ঘটনা ঘটেছে ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের থানে জেলায়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বারবার ধর্ষণের শিকার হয়েছে মেয়েটি।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, থানের দোম্বিভালি এলাকায় এ ঘটনায় অপ্রাপ্তবয়স্ক দুইজনসহ ২৬ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনজন পলাতক।

পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার দাত্তা কারালে জানান, মূল অভিযুক্ত অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেটি ধর্ষণের শিকার মেয়েটির বন্ধু ছিল। গত জানুয়ারিতে প্রথমবার সে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে এবং পুরো ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করে।

এরপর ভিডিওটি প্রকাশের ভয় দেখিয়ে মূল অভিযুক্ত এবং বাকিরা মিলে বারবার মেয়েটিকে বিভিন্ন এলাকায় ডাকত এবং ধর্ষণ করত।

শেষ পর্যন্ত বুধবার রাতে দোম্বিভালির মানপাড়া থানায় হাজির হয়ে নিজে অভিযোগ জানায় মেয়েটি। এরপরই প্রকাশ্যে আসে ঘটনাটি। ধর্ষণের ঘটনায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ করেছে সে।

ধর্ষণের শিকার মেয়েটি বর্তমানে একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।

এ ঘটনায় গণধর্ষণ ও যৌন অপরাধের বিরুদ্ধে শিশুসুরক্ষা আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, যেসব স্থানে মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে, সেসব স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তদন্তের জন্য ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের ডেকে পাঠানো হয়েছে। ভিডিওসহ অন্যান্য প্রমাণও সংগ্রহ করেছে পুলিশ।

অভিযুক্তদের প্রায় সবাই একই এলাকার বাসিন্দা এবং ধর্ষণের শিকার মেয়েটি ও মূল অভিযুক্তের পরিচিত।

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন মহারাষ্ট্রের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতা দেবেন্দ্র ফড়নাভিস।

এনসিপির আইনপ্রণেতা বিদ্যা চাভান জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের কয়েকজন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্য। তাদের রাজনৈতিক পরিচয় যেন ধর্ষণের বিচারে বাধা না হয়, তা নিশ্চিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বানও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
৯/১১-এর দিন শপথ ‘নেবে’ তালেবান
তালেবানের কাছে প্রকৃত শরিয়া আইন চান মেহবুবা মুফতি
তালেবান ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তানকে ফলো নয়: বাংলাদেশ
বিদেশি কর্মকর্তাদের দেশে ফেরার আহ্বান আখুন্দের
ক্ষমা চাইলেন আশরাফ ঘানি

শেয়ার করুন

মণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুর

মণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুর

জেলার পূজা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক তুহিন চাকী বলেন, ‘আগামী ৬ অক্টোবর মহালয়ার মাধ্যমে দুর্গোৎসব শুরু হওয়ার কথা। এখন এ ঘটনা ঘটল।’

কুষ্টিয়ায় একটি পূজামণ্ডপে ভাঙচুর চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা, ভেঙে ফেলা হয়েছে দুর্গাপূজার জন্য নবনির্মিত বেশ কিছু প্রতিমা।

শহরের আড়ুয়াপাড়ার আইকা সংঘ পূজামণ্ডপে মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিউজবাংলাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি- তদন্ত) নিশিকান্ত সরকার।

দুর্গাপূজা আয়োজনে ওই মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষের দিকে ছিল বলে জানায় জেলার পূজা উদযাপন পরিষদ। পুরোনো কোনো বিরোধের জেরে দুর্বৃত্তরা এই কাজ করেছে বলে ধারণা পরিষদের নেতাদের।

এর সাংগঠনিক সম্পাদক তুহিন চাকী জানান, মঙ্গলবার রাত ৩টার পর মণ্ডপ কমিটির লোকজন প্রতিমা ঢেকে রেখে বাড়ি চলে যান। বুধবার সকাল ৭টার দিকে এলাকার এক নারী মণ্ডপের পাশে একটি প্রতিমার মাথা পড়ে থাকতে দেখে সংশ্লিষ্টদের খবর দেন।

পরে মণ্ডপ কমিটির সদস্যরা গিয়ে দেখেন, দুর্গা, লক্ষ্মী, স্বরস্বতী, কার্তিক ও অসুরের প্রতিমা ভেঙে ফেলা হয়েছে।

তুহিন বলেন, ‘আগামী ৬ অক্টোবর মহালয়ার মাধ্যমে দুর্গোৎসব শুরু হওয়ার কথা। এখন এ ঘটনা ঘটল। সবগুলো প্রতিমার ক্ষতি করা হয়েছে।’

তিনি ও মণ্ডপ কমিটির নেতারা জানিয়েছেন, স্থানীয় এক পৌর কাউন্সিলরের সঙ্গে এলাকার একটি গোষ্ঠির দ্বন্দ্বের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের ধারণা।

আরও পড়ুন:
৯/১১-এর দিন শপথ ‘নেবে’ তালেবান
তালেবানের কাছে প্রকৃত শরিয়া আইন চান মেহবুবা মুফতি
তালেবান ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তানকে ফলো নয়: বাংলাদেশ
বিদেশি কর্মকর্তাদের দেশে ফেরার আহ্বান আখুন্দের
ক্ষমা চাইলেন আশরাফ ঘানি

শেয়ার করুন