৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল মেক্সিকো

৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল মেক্সিকো

মেক্সিকোতে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন। ছবি: এএফপি

মেক্সিকোতে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ১। দেশটির প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাদো এক ভিডিও বার্তায় বলেন, মাত্রা কিছুটা বেশি হলেও ভূমিকম্পে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

মেক্সিকোতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় শহর আকাপুলকোর কাছে রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।

মঙ্গলবারের ওই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে একজনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে দেশটি।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়, ভূমিকম্পের কেন্দ্র শহরের কাছাকাছি থাকায় রাজধানীর কয়েক শ কিলোমিটার দূরের ভবনগুলোও কেঁপে ওঠে।

দেশটির জাতীয় ভূতত্ত্ব সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল গুয়েরো রাজ্যের আকাপুলকো থেকে মাত্র ১১ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে।

গেরেরো রাজ্যের গভর্নর হেক্টর আস্তুডিলো দেশটির এক সংবাদমাধ্যমকে জানান, কাছের শহর কয়ুকা দে বেনিতেজে বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে এক ব্যক্তি নিহত হন।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাদো এক ভিডিও বার্তায় বলেন, মাত্রা কিছুটা বেশি হলেও ভূমিকম্পে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

সংবাদমাধ্যম এএফপির এক প্রতিনিধি জানান, আকাপুলকোতে বেশ কিছু বিদ্যুৎ-টেলিফোনের খুঁটি পড়ে গেছে, গির্জাসহ বেশ কিছু ভবনের ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় কিছু যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মেক্সিকো সিটির একজন পর্যটক বলেন, ‘আমি গোসলের সময় হঠাৎ প্রচণ্ডভাবে কেঁপে উঠলাম। ভয় পেয়ে চিৎকার করে দৌড়ে বের হয়ে গেছি।’

আতঙ্কে তার ৮৬ বছর বয়সী মাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন বলেও জানান তিনি।

আকাপুলকোর মেয়র অ্যাডেলা রোমান বলেন, ভূকম্পনটি শহরে ‘নার্ভাস ব্রেকডাউন’ সৃষ্টি করেছে।

আফটার শক থাকায় মানুষ প্রচণ্ড রকম চিন্তিত।’

তিনি আরও জানান, আবাসিক এলাকায় অনেক গ্যাসের লাইনে লিক ধরা পড়েছে।

মেক্সিকো শহরের মেয়র ক্লডিয়া শেইনবাম টুইটে জানান, রাজধানীতে গুরুতর ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর নেই।

যেসব এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে সেগুলোতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সংযোগ ফিরিয়ে আনতে কাজ করা হচ্ছে।

১৯৮৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর মেক্সিকোতে ৮.১ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়। সে সময় ধসে পড়ে শ শ ভবন।

আরও পড়ুন:
হাইতিতে বড় ভূমিকম্প, সুনামির সতর্কতা
চট্টগ্রামে মৃদু ভূমিকম্প
আলাস্কায় ৮.২ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা
ঢাকাসহ কয়েক জেলায় ভূমিকম্প
‘১০ মাত্রার ভূমিকম্পের ক্ষতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে হবে’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সংরক্ষিত বনে প্রশিক্ষণ একাডেমি চায় না সংসদীয় কমিটি

সংরক্ষিত বনে প্রশিক্ষণ একাডেমি চায় না সংসদীয় কমিটি

কক্সবাজারের কলাতলীর শুকনাছড়ি এলাকায় এই বনভূমিতেই সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ একাডেমি করার জায়গা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণের চূড়ান্ত ছাড়পত্র না দিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করতে সুপারিশ করা হয়েছে। সংসদীয় কমিটি বলেছে, তারা প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণের বিপক্ষে নয়, কিন্তু সেটি সংরক্ষিত বনভূমির জায়গায় করা যাবে না।

কক্সবাজারে সংরক্ষিত বনভূমির ৭০০ একর জায়গায় জুড়ে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণের বিরোধিতা করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি।

পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে ওই প্রকল্পের চূড়ান্ত ছাড়পত্র না দিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করার সুপারিশ করেছে তারা। সংসদীয় কমিটি বলেছে, তারা প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণের বিপক্ষে নয়, কিন্তু সেটি সংরক্ষিত বনভূমির জায়গায় করা যাবে না।

রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে একাদশ জাতীয় সংসদের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ২২তম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন পরিবেশন, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, নাজিম উদ্দিন আহমেদ, তানভীর শাকিল জয়, খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন এবং মো. শাহীন চাকলাদার।

বৈঠকে ফিজিবিলিটি স্টাডি অফ ট্রান্সবাউন্ডারি ওয়াইল্ড লাইফ করিডোর ইন চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্ট অ্যান্ড কক্সবাজার উইথ মিয়ানমার অ্যান্ড ইন্ডিয়া শীর্ষক প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগ; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি; আসন্ন কপ-২৬ সম্মেলনের প্রস্তুতি এবং বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঝুঁকিভাতা দেয়ার প্রস্তাবনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

কমিটি পরিবেশ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে পরিবহনসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সুবিধা দিতেও সুপারিশ করে স্থায়ী কমিটি।

২০২১-২০২২ অর্থ-বছরে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতেও তাগিদ দেয়া হয়।

বনবিভাগে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ঝুঁকি ভাতা জাতীয় বেতন স্কেল, ২০০৯ অনুযায়ী না দিয়ে বেতন স্কেল, ২০১৫ অনুযায়ী দিতে সরকারের প্রতি সুপারিশ রাখে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

বৈঠকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষকসহ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
হাইতিতে বড় ভূমিকম্প, সুনামির সতর্কতা
চট্টগ্রামে মৃদু ভূমিকম্প
আলাস্কায় ৮.২ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা
ঢাকাসহ কয়েক জেলায় ভূমিকম্প
‘১০ মাত্রার ভূমিকম্পের ক্ষতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে হবে’

শেয়ার করুন

চরে ছাড়া হলো রাসেলস ভাইপার, ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

চরে ছাড়া হলো রাসেলস ভাইপার, ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

কুষ্টিয়ার গড়াই নদীতে ভেসে আসা বিষধর রাসেলস ভাইপারকে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশনের সহসভাপতি শাহাবউদ্দীন মিলন জানান, সাপটি বেশ অসুস্থ ছিল। ছেড়ে দেয়ার পর এটি ধীরগতিতে যেতে থাকে। এর প্রজননজনিত অসুস্থতা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কুষ্টিয়া শহরের মঙ্গলবাড়ীয়ায় গড়াই নদীর তীরে আসা রাসেলস ভাইপারকে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেয়া নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে প্রকৃতিপ্রেমী ও স্থানীয়দের মধ্যে।

প্রকৃতিপ্রেমীরা বলছেন, পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীর বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। সব প্রাণীকেই বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

অন্যদিকে বিষধর রাসেলস ভাইপারকে ছেড়ে দেয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ অনেকেই। তাদের দাবি, মানুষের জীবন আগে। বিষধর সাপ মেরে ফেলাই মঙ্গল বলছেন তারা।

পদ্মার প্রধান শাখা নদী গড়াইয়ের তীরে কুষ্টিয়ার মঙ্গলবাড়ীয়া থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে ধরা হয় রাসেলস ভাইপারটিকে। এটি কাশবনে জড়িয়ে ছিল।

মো. মৃদুল নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা ছোট ঠেলা জাল দিয়ে সাপটিকে ধরে তার বাড়ি নিয়ে যান। তিনি সাপটিকে অজগরের বাচ্চা মনে করে বিক্রির চিন্তা করছিলেন।

পরে কুষ্টিয়া বন বিভাগের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন, এটি রাসেলস ভাইপার; বিশ্বের অন্যতম বিষধর সাপ।

বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশনের সহসভাপতি শাহাবউদ্দীন মিলন সাপটিকে প্রকৃতিতে ছেড়ে দিয়েছেন।

শাহাবউদ্দীন বলেন, ‘শনিবার বিকেলে মঙ্গলবাড়িয়া থেকে রাসেলস ভাইপারটি নিয়ে ভেড়ামারা গোলাপনগরে পদ্মা নদীর ওপারে দুর্গম চরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছে রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাপটিকে ছেড়ে দেয়া হয়।’

তিনি জানান, সাপটি বেশ অসুস্থ ছিল। ছেড়ে দেয়ার পর এটি ধীরগতিতে যেতে থাকে। এর প্রজননজনিত অসুস্থতা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চরে ছাড়া হলো রাসেলস ভাইপার, ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা
গড়াই নদীতীরের কাশবন থেকে উদ্ধার করা বিষধর সাপ রাসেলস ভাইপার। ছবি: নিউজবাংলা

শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘সৃষ্টিকর্তা প্রতিটি প্রাণীকে শৃঙ্খলে সাজিয়ে রেখেছেন। ইকোসিস্টেম টিকিয়ে রাখতে প্রকৃতিতে প্রতিটি প্রাণীকেই বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

‘রাসেলস ভাইপারটি তার আবাস ছেড়ে ভুল করে চলে এসেছিল। এ জন্য আমরা আবার তার উপযোগী পরিবেশে ছেড়ে এসেছি।’

কুষ্টিয়া সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা ছালেহ শোয়াইব খান জানান, বিলুপ্তপ্রায় সাপটি বন্যার পানিতে ভারত থেকে ভেসে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘এটা প্রকৃতি থেকে যেমন ধরা হয়েছে, তেমনি প্রকৃতিতেই ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বাস উপযোগী দুর্গম চরাঞ্চলেই সাপটিকে অবমুক্ত করা হয়েছে।’

এদিকে বিষধর সাপটিকে নিয়ে মঙ্গলবাড়ীয়া এলাকার বাসিন্দা এবং কুষ্টিয়ার হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মিলন মণ্ডল বলেন, ‘সবার আগে দরকার মানুষের জীবন রক্ষা করা। ধর্মেও জীবন রক্ষায় গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সেখানে এত বিষধর সাপ ধরে ছেড়ে দেয়া বোকামি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সাপ আবারও পানিতে ভেসে চলে আসতে পারে; মানুষের জীবনহানি করতে পারে।’

স্থানীয় এক সাংবাদিক বলেন, ‘এত বিষধর সাপটিকে হত্যা না করে ছেড়ে দিয়ে ভণ্ডামি করা হয়েছে। লোক দেখানো প্রকৃতিপ্রেম।’

আশিক হোসেন সেতু নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘সাপটাকে ছেড়ে না দিয়ে মেরে ফেলাই ভালো ছিল।’

এ সাপ সম্পর্কে সচেতন করতে মাইকিং করার দাবি জানান খাদেমুল ইসলাম নামের স্থানীয় একজন।

পদ্মা অববাহিকা দিয়ে বন্যার পানির সঙ্গে ভেসে আসতে শুরু করেছে বিষধর সাপ রাসেলস ভাইপার। শরীয়তপুরে পদ্মার চরে গত বছর ভারত থেকে আসা সাপের প্রজাতিটির দেখা মেলার পর এ বছর এর আনাগোনা বেড়েছে।

সাপটি দেশে চন্দ্রবোড়া নামে পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম Daboia russelii

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভেনোম রিসোর্স সেন্টারের প্রশিক্ষক ও গবেষক বোরহান বিশ্বাস জানান, ভারত থেকে ২০১০-১১ সালের দিকে পদ্মার অববাহিকা ধরে রাসেলস ভাইপার বাংলাদেশে এসেছে। রাজশাহীতে প্রথম রাসেলস ভাইপারের দেখা মেলে। এরপর পাবনা, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, মুন্সিগঞ্জ ও শরীয়তপুরে দেখা মিলেছে। চাঁদপুরেও বিষধর সাপটি পাওয়া গেছে।

তিনি আরও জানান, রাসেলস ভাইপার বছরে ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরের এলাকায়ও যেতে পারে। তারা নদীর পানিতে চলার সময় কচুরিপানায় ভেসে থাকে। নদীর তীরবর্তী ২০০ মিটারের মধ্যে সাধারণত আবাস গড়ে এরা। তীরের ধানক্ষেত তাদের থাকার জন্য সবচেয়ে পছন্দের জায়গা। সাধারণত লোকালয়ে যায় না এ সাপ।

সঠিক তথ্য না থাকলেও নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মৌখিক হিসাবে এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক রাসেলস ভাইপার পাওয়া গেছে।

দেখামাত্রই এসব সাপ পিটিয়ে মেরে ফেলছেন স্থানীয়রা।

কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর পাড়ে গত সপ্তাহে একটি রাসেলস ভাইপার পিটিয়ে মারা হয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে হরিপুরে পাওয়া গেছে একটি মরা রাসেলস ভাইপার।

আরও পড়ুন:
হাইতিতে বড় ভূমিকম্প, সুনামির সতর্কতা
চট্টগ্রামে মৃদু ভূমিকম্প
আলাস্কায় ৮.২ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা
ঢাকাসহ কয়েক জেলায় ভূমিকম্প
‘১০ মাত্রার ভূমিকম্পের ক্ষতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে হবে’

শেয়ার করুন

পর্যটকদের বর্জ্যে সয়লাব হাওর

পর্যটকদের বর্জ্যে সয়লাব হাওর

টাঙ্গুয়ার হাওরের পারে-পানিতে ভাসতে দেখা যায় পর্যটকদের ফেলা বর্জ্য। ছবি: নিউজবাংলা

হাওরের নৌকাচালক আবুল হোসেন বলেন, ‘মানুষকে নৌকায় ওঠার আগে আমরা বলে দেই যে ময়লাগুলো নির্ধারিত জায়গায় ফেলতে। তারা আমার কথা শোনেন না। প্যাকেট-বোতল আর ভাত-তরকারি সবই হাওরে ফেলেন।’

করোনায় দীর্ঘ সময় ঘরবন্দি থাকা প্রকৃতিপ্রেমীরা এখন ছুটে বেড়াচ্ছেন সাগর থেকে পাহাড়ে। তবে পাহাড় ও জলাশয়ের মিতালি দেখতে দেশের পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য সুনামগঞ্জের তাহিরপুর। সেখানেই আছে বাংলার কাশ্মীর খ্যাত নিলাদ্রি লেক ও দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠাপানির স্পট টাঙ্গুয়ার হাওর।

সরকারি বিধিনিষেধ শেষে সেখানে ছুটির দিনে উপচে পড়া ভিড় তো থাকেই, কর্মদিবসেও পর্যটকদের আনাগোনায় চাঙা থাকে এলাকা। তবে যে প্রকৃতি দেখে মানুষ মন জুড়িয়ে নিচ্ছেন, যেখান থেকে নিঃশ্বাস নিচ্ছেন প্রাণ ভরে, সে প্রকৃতিকে তারাই আবার দূষিত করছেন বর্জ্যে।

টাঙ্গুয়ার হাওর ও নিলাদ্রি লেকে গত দুই দিন ঘুরে দেখা গেছে, যেখানে-সেখানে পড়ে আছে প্লাস্টিকের বোতল, নানা খাদ্যপণ্যের প্যাকেট এমনকি মাস্কও। এসব বর্জ্য গিয়ে মিশছে জলাশয়ে। তাতে যেমন পর্যটন স্পটের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে, তেমন দূষিত হচ্ছে পরিবেশও।

পর্যটকদের বর্জ্যে সয়লাব হাওর

বন্ধুদের নিয়ে কুমিল্লা থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরতে যান ফাইয়াজ ফাহিম। তিনি বলেন, ‘এখানে প্রথমবার এসেছি ঘুরতে। সত্যিই সুন্দর জায়গা। এই সৌন্দর্যটা আমাদেরই ধরে রাখতে হবে।

‘তবে সবচেয়ে খারাপ বিষয়, হাওরে অনেক পর্যটক আসেন, আমিও একজন পর্যটক, কিন্তু চিপস খাচ্ছেন সেই প্যাকেটটা পানিতে ফেলছেন, পানি খাচ্ছেন সেই বোতলটা পানিতে ফেলছেন। এটা পরিবেশের জন্য খারাপ। আমরা চাইব এগুলো বন্ধ করা হোক। এসব যারা করবে তাদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা উচিত।’

স্থানীয় নৌকাচালক আবুল হোসেন বলেন, ‘মানুষকে নৌকায় ওঠার আগে আমরা বলে দেই যে ময়লাগুলো নির্ধারিত জায়গায় ফেলতে। তারা আমার কথা শোনেন না। যার যেখানে ইচ্ছা ফেলতে থাকেন। আমাদের কিছু বলার থাকে না। তারা প্যাকেট-বোতল আর ভাত-তরকারি সবই হাওরে ফেলেন। আমরা দেখলে না করি, কিন্তু কে শোনে কার কথা।’

পর্যটকদের বর্জ্যে সয়লাব হাওর

নিলাদ্রি লেক এলাকার বাসিন্দা অরিন্দ দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মানুষ ঘুরতে আসেন, খুব ভালো লাগে। সুনামগঞ্জকে মানুষ চেনেন। তবে আরেক দিকে খারাপ লাগে যে তারা এসে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে ময়লা-আবর্জনা ফেলেন। টেকেরঘাটের পাড় আর পানির অবস্থাটা দেখেন, কীভাবে ময়লা ফেলে রেখেছে। প্রশাসনের উচিত এখানে নজরদারি বাড়ানো।’

এ বিষয়ে কথা হয় বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সিলেট শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিমের সঙ্গে।

পর্যটকদের বর্জ্যে সয়লাব হাওর

তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও কিছুদিন আগে টাঙ্গুয়ার হাওরে গিয়েছি। এখানে রাতে উচ্চ শব্দে গান বাজানো, খাবার খেয়ে বর্জ্যগুলো পানিতে ফেলা হয়। এতে করে টাঙ্গুয়ার হাওর এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।

‘আমি মনে করি এখানে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। একজন সহকারী কমিশনারের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত টহল বাড়াতে হবে, যাতে করে এসব বন্ধ করা যায়।’

তিনি আরও বলেন, ময়লা-আবর্জনা-প্লাস্টিক ফেলার জন্য মাঝি ও তার সহযোগীদের প্রশিক্ষণ দেয়া জরুরি, যেন তাদের মাধ্যমে পর্যটকরা সচেতন হন। সেই সঙ্গে দেশের বৃহত্তম রামসার সাইট হওয়ায় টাঙ্গুয়ার হাওর সংরক্ষণে পর্যটকদের আনাগোনাও নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।

পর্যটকদের বর্জ্যে সয়লাব হাওর

তাহিরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রায়হান কবির বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত এখানে অভিযান চালাচ্ছি। গত বৃহস্পতিবারও আমরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছি।

‘তবে টাঙ্গুয়ার হাওরটি বিশাল হওয়ায় এবং হাওরের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে পর্যটকরা আসায় নিয়ন্ত্রণ করা কষ্টসাধ্য। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা নিয়মিত এখানে মাইকিং-মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি এবং সেটি অব্যাহত থাকবে।’

আরও পড়ুন:
হাইতিতে বড় ভূমিকম্প, সুনামির সতর্কতা
চট্টগ্রামে মৃদু ভূমিকম্প
আলাস্কায় ৮.২ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা
ঢাকাসহ কয়েক জেলায় ভূমিকম্প
‘১০ মাত্রার ভূমিকম্পের ক্ষতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে হবে’

শেয়ার করুন

মায়া হরিণ ফিরল সুন্দরবনে

মায়া হরিণ ফিরল সুন্দরবনে

সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে আসা একটি মায়া হরিণ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। ছবি: নিউজবাংলা

চাঁদপাই রে‌ঞ্জের এ‌সিএফ এনামুল হক ব‌লেন, ‘নেটে আটকা পড়ে হরিণটির বেঁধে যাওয়ার স্থানে সামান্য ক্ষতের সৃষ্টি হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে প্রায় দুই ঘণ্টা পর হরিণটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়। পরে হরিণটিকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়।’

সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে আসা একটি মায়া হরিণ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ।

পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের জয়মনি এলাকার গাজী বাড়ির পেছন থেকে রোববার সকাল ৬টার দিকে হরিণটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে হরিণটিকে চাঁদপাই রেঞ্জ অফিসে নিয়ে আসা হয়।

বন বিভাগের প্রতিনিধি মিজানুর রহমান বলেন, ‘মায়া হরিণটি পুরুষ। এর ওজন আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ কেজি হবে।'

চাঁদপাই রে‌ঞ্জের এ‌সিএফ এনামুল হক ব‌লেন, ‘নেটে আটকা পড়ে হরিণটির বেঁধে যাওয়ার স্থানে সামান্য ক্ষতের সৃষ্টি হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে প্রায় দুই ঘণ্টা পর হরিণটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়। পরে চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মায়া হরিণটিকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়।’

উদ্ধারকাজে বন বিভাগ থেকে চাঁদপাই স্টেশন কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান, বন বিভাগ প্রতিনিধি মিজানুর রহমান, ওহিবুল ইসলাম, সিপিজি সদস্য এনামুল সরদার, সপন মোল্যা ছিলেন।

আরও পড়ুন:
হাইতিতে বড় ভূমিকম্প, সুনামির সতর্কতা
চট্টগ্রামে মৃদু ভূমিকম্প
আলাস্কায় ৮.২ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা
ঢাকাসহ কয়েক জেলায় ভূমিকম্প
‘১০ মাত্রার ভূমিকম্পের ক্ষতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে হবে’

শেয়ার করুন

প্রাকৃতিক হাসপাতাল ধ্বংস করে বাণিজ্যিক নয়

প্রাকৃতিক হাসপাতাল ধ্বংস করে বাণিজ্যিক নয়

প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশে আনু মুহাম্মদ।

খাদক ও ঘাতক চক্রের হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে সিআরবি রক্ষার আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে বলেও মনে করেন আনু মুহাম্মদ।

দেশে হাসপাতাল দরকার। কিন্তু সেটা প্রাকৃতিক হাসপাতালকে ধ্বংস করে বাণিজ্যিক হাসপাতাল নয় বলে মনে করেন তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘মানুষের প্রাকৃতিক জায়গাকে নষ্ট করে ব্যবসা করে মুনাফার জন্য কিছু লোককে হাসপাতালের নামে দখলের বৈধতা দেয়া হচ্ছে। এটার বিরুদ্ধে আমাদের কঠিন প্রতিরোধ অবশ্যই অব্যাহত রাখতে হবে।’

শনিবার রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত জাতীয় জাদুঘরের সামনে চট্টগ্রামের ফুসফুস-খ্যাত সিআরবিতে বেসরকারি হাসপাতাল ও বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের প্রতিবাদে আয়োজিত এক ‘প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশে’ এসব কথা বলেন তিনি।

সাংস্কৃতিক সংগঠন সমগীত সংস্কৃতি প্রাঙ্গণ, বটতলা, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, লীলা ব্যান্ড, মাদল এবং শিল্পী কফিল আহমেদ যৌথভাবে এ সমাবেশের আয়োজন করে।

সমাবেশে আনু মুহাম্মদ বলেন, শুধু সিআরবি নয়, বরং সারা দেশই এ ধরনের লুণ্ঠন, আগ্রাসন, দখল, উন্নয়নের নামে বিকৃত উন্মাদনার শিকারে পরিণত হয়েছে। বলা হয়, হাসপাতাল মানুষের অসুস্থতার জন্য। কিন্তু ঢাকা শহরের বুড়িগঙ্গা নদী যদি নর্দমায় পরিণত না হতো, ঢাকা শহরে যদি গাছপালা ও উন্মুক্ত জায়গা থাকত তাহলে মানুষের এত অসুস্থতা তৈরি হতো না।

লুটতরাজদের স্বার্থই সরকারের স্বার্থ দাবি করে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছরে আমরা এমন একটি দেশ পেয়েছি, যেখানে জীবন-জীবিকা সবকিছুর জন্য আমাদের রাস্তায় নামতে হয়। সরকার বধির, কালা, অন্ধ। তার সামনে শুধু মুনাফা, লুটেরা, লুটতরাজ কোটিপতিরাই রয়েছে।’

খাদক ও ঘাতক চক্রের হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে সিআরবি রক্ষার আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে বলেও মনে করেন আনু মোহাম্মদ।

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন লেখক ও গবেষক রেহনুমা আহমেদ, শিল্পী কফিল আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজিমউদ্দিন খান, বেলার নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, গণসংহতি আন্দোলনের আবুল হাসান রুবেল প্রমুখ।

উন্মুক্ত এই প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশে গান ও নাটক পরিবেশন করে লীলা ব্যান্ড, সহজিয়া, মাদল, বক্ররেখা, ভাটিয়াল শহুরে, সমগীত, বটতলা, প্রাচ্যনাট, থিয়েটার বায়ান্ন, বনফুল এবং চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।

এ ছাড়া এককভাবে গান, নাচ, আবৃত্তি, ছবি আঁকা, পারফর্মিং আর্টসহ নানান সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন শিল্পী সুমন হালদার, আশরাফুল হাসান, জিয়া শিকদার, নাসির আহমেদ, হাবিবুল্লাহ পাপ্পু, অমল আকাশ, ইয়াসমিন জাহান নূপুর, ফারহা নাজ মুন, ইশরাত শিউলি এবং অনন্যা লাবণী।

আরও পড়ুন:
হাইতিতে বড় ভূমিকম্প, সুনামির সতর্কতা
চট্টগ্রামে মৃদু ভূমিকম্প
আলাস্কায় ৮.২ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা
ঢাকাসহ কয়েক জেলায় ভূমিকম্প
‘১০ মাত্রার ভূমিকম্পের ক্ষতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে হবে’

শেয়ার করুন

গাড়ির কালো ধোঁয়া দেখবে কে

গাড়ির কালো ধোঁয়া দেখবে কে

কালো ধোঁয়া ছেড়ে ছুটে চলেছে ঢাকার মধ্যে চলাচল করা একটি বাস। ছবিটি মিরপুর এলাকা থেকে তুলেছেন সাইফুল ইসলাম।

রাজধানীর বাতাসে দূষণ এখন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। যানবাহন থেকে বের হওয়া কালো ধোঁয়া এর প্রধান উৎস। কিন্তু এটি নিয়ন্ত্রণের দায় কার? বিআরটিএ, পরিবেশ অধিদপ্তর নাকি ট্রাফিক পুলিশ?

সকাল ১০টা। রাজধানীর মৌচাক-মালিবাগ মোড়ে জ্যামে থেমে আছে ছোট বড় অনেক গাড়ি। হুট করে জ্যাম ছাড়লেই কে কাকে রেখে ছুটবে এই প্রতিযোগিতা। তবে জ্যামে আটকে থাকা বাসগুলো যেন কালো ধোঁয়ার ফোয়ারা ছুটিয়ে চলছে।

এমন দৃশ্য এখন ঢাকার প্রায় সব জায়গাতেই।

মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ অনুযায়ী, স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক বা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ধোঁয়া নির্গত হলে তা জরিমানাসহ শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

২০০২ সালের ৩১ ডিসেম্বর টু স্ট্রোক বেবি ট্যাক্সিসহ পুরাতন যানবাহন বন্ধের পর এক দিনে ঢাকার বায়ুতে দূষণের মাত্রা কমে যায় প্রায় ৩০ শতাংশ। তবে ২০১৩ সাল থেকে তা আবারও বাড়তে থাকে। গত আট বছরে সেই দূষণ বাড়তে বাড়তে তা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ২০২০ সালের জরিপে দেখা গেছে, রাজধানীর বাতাসকে দূষণে ভারী করে তুলছে যানবাহনের ধোঁয়া। বায়ুদূষণের জন্য এখন ৫০ ভাগ দায়ী মূলত তরল জ্বালানি পোড়ানোর মাধ্যমে তৈরি হওয়া এই ধোঁয়া। আর এই তালিকায় আছে বাস, লেগুনা, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মাইক্রোবাস।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ও বায়ুদূষণ বিষয়ক গবেষক অধ্যাপক আবদুস সালাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের গাড়িগুলো থেকে প্রচুর পরিমাণ ধোঁয়া আসে। আমাদের আশপাশের কারখানা, নির্মাণকাজ আর যেসব ময়লা আগুনে পোড়ানো হয়, সেখান থেকেও ধোঁয়া আসে। আমরা যদি পদক্ষেপ নেই, তবেই নির্মল বাতাস আশা করতে পারি।’

এক সময় ঢাকায় বায়ুদূষণের সবচেয়ে বড় উৎস ছিল ইটের ভাটা। প্রায় ৫৮ ভাগ বায়ুদূষণ ঘটত ইটের ভাটা থেকে। তবে রাজধানীর বাতাসকে এখন বিষিয়ে তুলছে যানবাহনের ধোঁয়া।

গাড়ির কালো ধোঁয়া দেখবে কে
সন্তানকে বায়ুদূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে মায়ের প্রচেষ্টা। ছবি: সাইফুল ইসলাম

গত এক সপ্তাহে রাজধানীর কয়েকটি প্রধান সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, মিনিবাস ও লেগুনা থেকে ধোঁয়া নির্গত হওয়ার পরিমাণ বেশি। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মতিঝিলগামী অনেক বাস থেকে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়।

সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হিসাব অনুযায়ী, দেশে মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ির সংখ্যা ৪ লাখ ৮১ হাজার ২৯টি, যেগুলো থেকে কালো বিষাক্ত ধোঁয়া বের হয়। ফিটনেসবিহীন গাড়ি থেকে যে কালো ধোঁয়া বের হয়, তার সুক্ষ্ম কণা বাতাসে মিলে তৈরি করছে কালো কার্বন, যা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, রাজধানীতে ফিটনেসবিহীন গাড়ির কালো ধোঁয়া ও নির্মাণকাজ থেকে প্রচুর ধুলা বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে, যা নিঃশ্বাসের সঙ্গে শরীরে ঢুকছে।

মাত্রার চেয়ে বেশি কালো ধোঁয়া ছড়ায় যেসব যান, তা জব্দ করাসহ বায়ুদূষণ রোধে ২০২০ সালের ১৩ জানুয়ারি ৯ দফা নির্দেশনা দেয় উচ্চ আদালত। এরপর গত ২৪ নভেম্বর এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত।

গত কয়েক বছরে ঢাকার রাস্তায় তৈরি হয়েছে কালো ধোঁয়ার আধিক্য। সেই সঙ্গে ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও রাস্তার পাশে জমে থাকা ধুলা রাজধানীর বায়ুকে দিন দিন বিষিয়ে তুলেছে। ঢাকায় গত ১৬ বছরে মাত্র কয়েক দিনের জন্য নির্মল বাতাসের দেখা পাওয়া গিয়েছিল এ বছর জুলাই মাসে। আর সেটি সম্ভব হয় লকডাউন ও ঈদের ছুটির কারণে।

২০২১ সালের হিসাবে, দেশে নিবন্ধিত মোটরযান আছে ৪৭ লাখ ২৯ হাজার ৩৯৩টি। এর মধ্যে রাজধানীতে রয়েছে ১৬ লাখের বেশি গাড়ি। ২০২০ সাল থেকে প্রায় ২ লাখ বেশি গাড়ি এক বছরে নিবন্ধিত হয়েছে।

মূলত ফিটনেসবিহীন এবং মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন থেকে কালো ধোঁয়া বেশি ছড়ায়। যানবাহনের ফিটনেস সনদ দিয়ে থাকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআরটিএ-এর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করি। তবে কালো ধোঁয়া নির্গত হয় যেসব গাড়ি থেকে, সেটি পরিমাপ করার যন্ত্র এখন আমাদের কাছে নেই। তাই আমরা সেই বিষয়ে আলাদা করে অভিযান করি না বা করতেও পারি না।’

গাড়ির কালো ধোঁয়া দেখবে কে
ঢাকার বাতাস দূষণ নিয়ে প্রায়ই খবরের শিরোনাম হয়। ছবি: সাইফুল ইসলাম

পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে এমন অভিযান করা হয় জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘সাধারণত যখন পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করে, তখন তারা এমন যন্ত্র নিয়ে করে থাকে। আমরা এই যন্ত্র তাদের থেকে নেয়ার পরিকল্পনা করছি।’

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জিয়াউল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা অভিযান পরিচালনা করছি। পরিবেশ বিধিমালা এই বছরের জানুয়ারিতে সংশোধন করা হয়েছে।’

গাড়ির কালো ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণের একটা বড় দায়িত্ব থাকে ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর। তবে রাস্তায় দেখা গেছে, ট্রাফিক পুলিশের সামনে দিয়েই গাড়ি কালো ধোঁয়া নির্গত করে চলে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ফিটনেসবিহীন গাড়ি আটক করা হলেও সেটি ছাড় পেয়ে যাচ্ছে।

হাতিরঝিলে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা সাইফুল আলম অনেকটা বিরক্তি নিয়ে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভাই ঢাকায় এখন রাস্তায় বের হওয়া দায়। আগে শুধু জ্যামের অজুহাত ছিল। এখন ঠিকমত নিঃশ্বাস নিতে পারি না।’

রাজধানীর রামপুরা থেকে বাড্ডা হয়ে কুড়িল যাবার রাস্তায় সকাল ও বিকেলের একটা বড় সময় জ্যাম থাকে। জ্যামের সঙ্গে থাকে গাড়ির কালো ধোঁয়ার আধিক্য। এই রুটে কয়েকটি স্থানে ট্রাফিক দায়িত্বে থাকলেও দূষণ নিয়ন্ত্রণে আলাদা কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি।

গুলশান বিভাগের ট্রাফিকে উপপুলিশ কমিশনার মো. রবিউল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রতিদিন আমাদের সার্বিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আমরা ফিটনেস সার্টিফিকেট দেখি। এটা আমাদের রেগুলার ওয়ার্ক। কালো ধোঁয়া কোনো গাড়ি থেকে নির্গত হলেই আমরা সেটিকে আটক করি। সেটির ফিটনেস কাগজ দেখি। এটা চলমান প্রক্রিয়া।

‘তবে পরিবেশকেন্দ্রিক কালো ধোঁয়ার যে প্রভাব, সেটি নিয়ে আমরা আলাদা অভিযান করি না। আমাদের ট্রাফিক যারা আছেন, তারা যদি দেখেন কোনো গাড়ি থেকে কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে, তবে সেটিকে তারা আটক করেন। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়।’

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ডিন ও বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) পরিচালক অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এক সময় ঢাকায় বায়ুদূষণের সবচেয়ে বড় উৎস ছিল ইটের ভাটা। প্রায় ৫৮ ভাগ বায়ুদূষণ ঘটত ইটের ভাটা থেকে। কিন্তু এখন ইটের ভাটার দূষণকে ছাড়িয়ে গেছে নির্মাণকাজ এবং গাড়ির ধোঁয়া। সড়ক নির্মাণ ও মেগা প্রজেক্টের কারণে প্রায় ৩০ ভাগ বায়ুদূষণ হচ্ছে। ইটের ভাটা থেকে এখন ৩০ ভাগ, যানবাহন থেকে ১৫ ভাগ, বর্জ্য পোড়ানো থেকে ৯ ভাগ দূষণ হয়।’

আরও পড়ুন:
হাইতিতে বড় ভূমিকম্প, সুনামির সতর্কতা
চট্টগ্রামে মৃদু ভূমিকম্প
আলাস্কায় ৮.২ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা
ঢাকাসহ কয়েক জেলায় ভূমিকম্প
‘১০ মাত্রার ভূমিকম্পের ক্ষতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে হবে’

শেয়ার করুন

চায়না দোয়ারির দৌরাত্ম্যে হুমকির মুখে মৎস্যসম্পদ

চায়না দোয়ারির দৌরাত্ম্যে হুমকির মুখে মৎস্যসম্পদ

জেলেরা জানান, চীনের এ জালে মাছ ধরতে কোনো খাবার বা টোপ দিতে হয় না। সহজে মাছ ধরা পড়ে বলে আয় বেশি, পরিশ্রমও কম। নদীর মিঠা পানির সব ধরনের মাছ সূক্ষ্ম এই জালে ধরা পড়ছে।

মাদারীপুরে নদ-নদী, খাল-বিলসহ বিভিন্ন জলাশয়ে মাছ ধরতে বেশ কিছু দিন ধরে ‘চায়না দোয়ারি’ বা ঘন বুননের এক ধরনের জাল ব্যবহার করছেন জেলেরা। এ জালে ধরা পড়ছে ছোট-বড় মাছ ও পোনা। এমনকি মাছের ডিমও উঠে আসছে।

চায়না দোয়ারির কারণে হুমকির মুখে পড়ছে জেলার মৎস্য সম্পদ। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এ ধারা অব্যাহত থাকলে মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে সরকারের কোনো উদ্যোগই কাজে আসবে না। মুক্ত জলাশয়গুলো হয়ে পড়বে মাছ শূন্য।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ‘চায়না দোয়ারি’ জব্দ ও অভিযুক্তদের জরিমানা করা হয়েছে। তবে এসব অভিযানে থামেনি মৎস্য শিকারিদের দৌরাত্ম্য।

জেলার বিভিন্ন নদীপাড়ের বাসিন্দা ও জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি প্রায় ৬০ থেকে ৮০ ফুট লম্বা একেকটি চায়না দোয়ারির দাম ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা। অতি সূক্ষ্ম ও ঘন এ জালের বৈশিষ্ট্য হলো নদ-নদী, বিল-বাওর বা অন্যান্য জলাশয়ে মাটির সাথে লম্বা-লম্বিভাবে লেগে থাকে এবং দুই দিক থেকেই মাছ ঢুকতে পারে।

তারা আরও জানান, চীনের এ জালে মাছ ধরতে কোনো খাবার বা টোপ দিতে হয় না। সহজে মাছ ধরা পড়ে বলে আয় বেশি, পরিশ্রমও কম। নদীর মিঠা পানির সব ধরনের মাছ সূক্ষ্ম এই জালে ধরা পড়ছে।

নদীতে পানি বেশি থাকলেও ডিমওয়ালা চিংড়ি, পুঁটি, টেংরা, কই, শিং, মাগুর, তেলাপিয়া, বেলে, বোয়াল, শোল, টাকিসহ প্রাকৃতিক সব মাছই ধরা পড়ছে।

জেলেরা জানান, মাছের ডিমও এ জালে আটকে যায়। এ ছাড়া কুচিয়া, ব্যাঙ, সাপসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীও উঠে আসে। খাওয়া না যাওয়ায় এগুলো অবাধে মারা পড়ছে।

মাদারীপুর সিনিয়র সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তপন মজুমদার বলেন, ‘স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সহযোগিতায় নিষিদ্ধ চায়না দোয়ারির বিরুদ্ধে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, উদ্বুদ্ধকরণ সভা, মোবাইল কোর্ট ও অভিযান অব্যাহত আছে। এভাবে মৎস্য সম্পদ ধ্বংস করতে দেওয়া হবে না।’

মাদারীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বাবুল কৃষ্ণ ওঝা বলেন, ‘অবৈধ চায়না দোয়ারি বিল-বাওর, নদী-নালা, খাল ও মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য সম্পদের জন্য হুমকি স্বরূপ। ১৭টি অভিযানে ২২২টি চায়না দোয়ারি জব্দ ও নষ্ট করা হয়েছে। একটি মামলা ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটি বেআইনি কাজ। এর বিরুদ্ধে জেলাব্যাপী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
হাইতিতে বড় ভূমিকম্প, সুনামির সতর্কতা
চট্টগ্রামে মৃদু ভূমিকম্প
আলাস্কায় ৮.২ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা
ঢাকাসহ কয়েক জেলায় ভূমিকম্প
‘১০ মাত্রার ভূমিকম্পের ক্ষতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে হবে’

শেয়ার করুন