সূত্র মেনে একই গড়নের সব ডিম

সূত্র মেনে একই গড়নের সব ডিম

প্রতীকী ছবি

ডিমের খোলসকে বলা হয় ‘নিখুঁত আকৃতি’। একই সঙ্গে ভ্রূণকে ধারণে যথেষ্ট বড় এবং প্রাণীদেহ থেকে সবচেয়ে সহজে বের হয়ে আসার মতো যথেষ্ট ছোট; পাড়ার পর ডিমটি গড়িয়ে না গিয়ে এক জায়গায় স্থির থাকা; যথেষ্ট ওজন বহনের সক্ষমতাসহ নানা কারণে ডিমের আকৃতি বিজ্ঞানে বহুল আলোচিত একটি বিষয়।

বিশ্বজুড়ে ডিমের সুনির্দিষ্ট আকৃতির কারণ হিসেবে একটি সর্বজনীন গাণিতিক সূত্র আবিষ্কার করেছেন গবেষকরা।

কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়, রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রনমেন্ট ট্রিটমেন্ট ও ভিটা-মার্কেট লিমিটেডের গবেষকদের মতে, এই সূত্র দিয়ে প্রকৃতিতে বিদ্যমান যেকোনো পাখির ডিমের আকৃতির কারণ বর্ণনা করা সম্ভব, যা এত দিন সম্ভব হয়নি।

এগ অ্যান্ড ম্যাথ: ইনট্রোডিউসিং আ ইউনিভার্সাল ফর্মুলা ফর এগ শেপ’ শীর্ষক মূল গবেষণা প্রতিবেদনটি গত ২৩ আগস্ট প্রকাশ করে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী অ্যানালস অফ দ্য নিউ ইয়র্ক অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস।

সব প্রাণীর ডিমের একই রকম আকৃতির বিষয়টি বিশ্লেষণী দৃষ্টিকোণ থেকে বহু বছর ধরে গণিতবিদ, প্রকৌশলী ও জীববিজ্ঞানীদের আগ্রহের কারণ।

ডিমের খোলসকে বলা হয় ‘নিখুঁত আকৃতি’। একই সঙ্গে ভ্রূণকে ধারণে যথেষ্ট বড় এবং প্রাণীদেহ থেকে সবচেয়ে সহজে বের হয়ে আসার মতো যথেষ্ট ছোট বলে ডিমের বহিঃ আবরণের বিবর্তন বিজ্ঞানে বহুল আলোচিত একটি বিষয়।

আরও অবাক করার বিষয় হলো, কোনো প্রাণী ডিম পাড়ার পর ডিমটি গড়িয়ে না পড়ে এক জায়গায় স্থির থাকে। বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর জীবন শুরু হয় এই ডিম থেকে এবং এটি যথেষ্ট ওজন বহনেও সক্ষম।

সায়েন্স ডেইলির প্রতিবেদনে বলা হয়, সব প্রাণীর ডিমের খোলস বিশ্লেষণ করে বিবর্তনের বিভিন্ন পর্যায়ে চারটি জ্যামিতিক আকার পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এগুলো হলো গোলাকার, উপবৃত্তাকার, ডিম্বাকার ও সবশেষে নাশপাতির আকার।

নাশপাতির আকারের কোনো গাণিতিক সূত্র বা নাম এখনও নির্ধারণ করেননি বিজ্ঞানীরা। তাই ডিমের আকৃতির সূত্রটিকে পূর্ণাঙ্গ জ্যামিতিক রূপ দিতে তারা শেষ ধাপটিকে আখ্যায়িত করেছেন গোলক-উপবৃত্তাকার হিসেবে। যেকোনো ডিমের আকৃতি নির্ধারণের জ্যামিতিতেই গোলক-উপবৃত্তাকার প্রযোজ্য।

ডিমের খোলসের আকৃতির এই নতুন সর্বজনীন গাণিতিক সূত্র চারটি পরামিতির ওপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা হয়েছে। পরামিতিগুলো হলো ডিমের দৈর্ঘ্য, সর্বোচ্চ প্রস্থ, উল্লম্ব অক্ষের পরিবর্তন ও ডিমের দৈর্ঘ্যের প্রতি চার ভাগের এক ভাগের ব্যাস।

শুধু ডিমের আকৃতি কারণ বুঝতেই নয়, কিভাবে আর কেন ডিমের বিবর্তন হয়, তা বুঝতেও নতুন সূত্রটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। পুরো বিষয়টি বিশদে জানা সম্ভব হলে জীববিজ্ঞান ও কারিগরি ক্ষেত্রেও নতুন করে সে জ্ঞান কাজে লাগতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক গবেষক ড. ভ্যালেরি নারুশিন বলেন, ‘এই সূত্রের প্রয়োগ শিল্পকলা থেকে শুরু করে প্রযুক্তি, কৃষি, স্থাপত্য পর্যন্ত সব খাতে দেখার অপেক্ষায় আছি। বিভিন্ন অনুষদের মধ্যে এ ধরনের সমন্বিত গবেষণা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটাই নতুন গবেষণার ফলে প্রমাণ হয়েছে।’

ডিমের মৌলিক সব আকৃতির গাণিতিক বর্ণনা খাদ্য গবেষণা, যন্ত্র প্রকৌশল, কৃষি, জীববিজ্ঞান, স্থাপত্যবিজ্ঞান ও বিমান চালনা শিক্ষায় আগে থেকেই ব্যবহার হয়ে আসছে।

তবে নতুন সূত্রটি জীববিজ্ঞাননির্ভর প্রকৌশলসহ জ্ঞানের ভবিষ্যৎ বিভিন্ন স্তরের গবেষণাকে সহজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
কীটপতঙ্গের ঘাতক কৃত্রিম আলো?
পৃথিবী গোল না হয়ে সমতল হলে কী হতো?

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আমেরিকায় সবচেয়ে পুরোনো পায়ের ছাপ নিউ মেক্সিকোয়

আমেরিকায় সবচেয়ে পুরোনো পায়ের ছাপ নিউ মেক্সিকোয়

এই পায়ের ছাপগুলো ২৩ হাজার ও ২১ হাজার বছরের ভেতরকার বলে ধারণা বিজ্ঞানীদের। ছবি: বোর্নমাউথ ইউনিভার্সিটি

২৩ হাজার ও ২১ হাজার বছরের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে মানুষের বেশ কয়েকটি পায়ের ছাপ আবিষ্কার করেছেন যুক্তরাজ্যের একদল বিজ্ঞানী।

এশিয়ার মানুষ উত্তর আমেরিকায় কবে নাগাদ পৌঁছেছিল, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে।

মহাদেশটিতে পাওয়া পাথরের বিভিন্ন উপাদান দেখে ১৬ হাজার বছরেরও আগে মানুষ সেখানে যায় বলে একদল গবেষক দাবি করে আসছেন।

তবে এ নিয়ে বরাবরই সন্দেহ পোষণ করে আসছেন বেশ কয়েকজন গবেষক।

সম্প্রতি বিজ্ঞানীদের এক আবিষ্কার আগের গবেষকদের দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৩ হাজার ও ২১ হাজার বছরের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে মানুষের বেশ কয়েকটি পায়ের ছাপ আবিষ্কার করেছেন যুক্তরাজ্যের একদল বিজ্ঞানী।

তাদের ধারণা, কমপক্ষে সাত হাজার বছর আগে উত্তর আমেরিকায় মানুষ বসতি গড়ে।

এমনটা হলে মহাদেশটিতে কবে বসতি স্থাপন হয়, সে সম্পর্কে প্রচলিত মত পাল্টে যাবে।

গবেষকদলের ধারণা, অন্য মহাদেশ থেকে ওই সময় উত্তর আমেরিকায় ব্যাপক হারে মানুষজন আসে, যেটি সম্পর্কে এখনও জানা যায়নি।

এসব মানুষ সম্ভবত বিলুপ্ত হয়ে গেছে বলেও ধারণা গবেষকদের।

নিউ মেক্সিকোর হোয়াইট স্যান্ডস এলাকার নরম কাদামাটিতে মানুষের পায়ের ছাপগুলো পাওয়া যায়।

পায়ের ছাপের মাপ দেখে গবেষকরা মনে করছেন, সেগুলো কিশোর ও কম বয়সি শিশুদের পায়ের ছাপ। তাদের পায়ের ছাপের পাশাপাশি কখনও কখনও প্রাপ্তবয়স্কদেরও পায়ের ছাপ পাওয়া গেছে।

এ ছাপগুলো দেখে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আদি বাসিন্দাদের জীবন কেমন ছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন গবেষকরা।

কিশোররা সে সময় অনাবিষ্কৃত মহাদেশটিতে কী করছিল, তা নিশ্চিত নন বিজ্ঞানীরা। তবে বয়স্কদের শিকারে তারা সহযোগিতা করতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

গবেষকদলের সদস্য ও যুক্তরাজ্যের বোর্নমাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. স্যালি রেনল্ডস বলেন, ‘সে সময় খুব অল্প সময়ের ভেতর শিকার করা জন্তুদের খাবার উপযোগী করা হতো।

‘এ জন্য আগুন জ্বালানো হতো। জন্তুদের চর্বি গলানো হতো। এসব কাজের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি কাঠ, পানিসহ অন্যান্য জিনিসপত্র সম্ভবত শিশু-কিশোররাই সরবরাহ করত।’

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষকদলের আরেক সদস্য ম্যাথিউ বেনেট বলেন, ‘উত্তর আমেরিকায় মানুষের বসতি স্থাপনা ঘিরে নানা বিতর্ক থাকার বড় কারণ- এ বিষয়ে পরিষ্কার ডাটা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।’

আরও পড়ুন:
কীটপতঙ্গের ঘাতক কৃত্রিম আলো?
পৃথিবী গোল না হয়ে সমতল হলে কী হতো?

শেয়ার করুন

শিশুদের মলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের অপ্রত্যাশিত উপস্থিতি

শিশুদের মলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের অপ্রত্যাশিত উপস্থিতি

সাম্প্রতিক গবেষণায় এক বছর বয়সী শিশুদের মলে উল্লেখযোগ্য হারে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়। ছবি: সংগৃহীত

মাইক্রোপ্লাস্টিক পেটে গেলে শরীরে কী ধরনের প্রভাব পড়ে, তা এখনও অজানা। তবে এটির যে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব নেই, তা আগের মতো বলা যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, সেল মেমব্রেন থেকে সংবহনতন্ত্রে প্রবেশ করতে পারে মাইক্রোপ্লাস্টিক। এতে কোষের স্বাভাবিক ক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।

মাইক্রোপ্লাস্টিক কোথায় নেই? বরফে ঢাকা অ্যান্টার্কটিকার সমতল থেকে শুরু করে সাগরের গভীর তলদেশ সর্বত্রই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়।

প্লাস্টিকের বাটিতে খাবার খাওয়ার কারণে আমাদের মলেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

তবে একই এলাকায় বসবাসরত প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে শিশুদের পেটে সম্প্রতি নতুন এক প্রাথমিক গবেষণায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি বেশি পাওয়া যায়।

সায়েন্স এলার্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরে গড়ে এক বছর বয়সি ছয়টি শিশুর মলে ১০ জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির চেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।

গবেষণা অনুসন্ধানে বলা হয়, প্লাস্টিকের তৈরি চুষনি চোষা ও পাত্রে খাদ্যগ্রহণ, প্লাস্টিকের খেলনা মুখে দেয়ায় প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে শিশুরা প্লাস্টিকের সান্নিধ্যে বেশি আসে।

গবেষণাপত্রে গবেষকরা বলেন, ‘আমাদের গবেষণায় শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের মলে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়।

‘এ বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে আমরা মনে করি।’

মাইক্রোপ্লাস্টিক পেটে গেলে শরীরে কী ধরনের প্রভাব পড়ে, তা এখনও অজানা। তবে এটির যে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব নেই, তা আগের মতো বলা যাচ্ছে না।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, সেল মেমব্রেন থেকে সংবহনতন্ত্রে প্রবেশ করতে পারে মাইক্রোপ্লাস্টিক। এতে কোষের স্বাভাবিক ক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।

নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির শিশু বিশেষজ্ঞ কুরুনথাচালাম কান্নানের নেতৃত্বাধীন গবেষণা দলটি মানবদেহের সংস্পর্শে আসা দুই ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক মূল্যায়নে আগ্রহী ছিলেন।

এদের একটি পলিথিলিন টেরেফথালেট (পিইটি), যা খাবার প্যাকেটজাত ও পোশাক তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। অন্যটি খেলনা ও বোতলে ব্যবহৃত পলিকার্বনেট (পিসি)।

এক বছর বয়সি ছয়টি শিশু ও ১০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মলের নমুনা সংগ্রহ করেন গবেষকরা। পাশাপাশি তিনটি নবজাতকের কালো রঙের প্রথম মলের নমুনাও সংগ্রহ করা হয়।

প্রতিটি মলের নমুনায় কমপক্ষে এক ধরনের প্লাস্টিক পাওয়া যায়। তবে প্রাপ্তবয়স্ক ও এক বছর বয়সি শিশুদের মলের মধ্যকার পার্থক্য লক্ষণীয় ছিল।

গবেষকরা বলেন, ‘অনুসন্ধানে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের মলে দুই ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্যাটার্নের উল্লেখযোগ্য পার্থক্য আমাদের নজরে পড়ে।

‘প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে শিশুদের মলে পলিথিলিন টেরেফথালেট উল্লেখযোগ্য হারে বেশি ছিল।

‘অবশ্য তাদের মলে পলিকার্বনেট মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য ছিল না।’

গবেষকরা আরও জানান, প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে এক বছর বয়সি শিশুদের মলে পলিথিলিন টেরেফথালেটের উপস্থিতি গড়ে ১০ গুণের বেশি ছিল।

আরও পড়ুন:
কীটপতঙ্গের ঘাতক কৃত্রিম আলো?
পৃথিবী গোল না হয়ে সমতল হলে কী হতো?

শেয়ার করুন

চাঁদে বরফ খুঁজতে রোবট পাঠাচ্ছে নাসা

চাঁদে বরফ খুঁজতে রোবট পাঠাচ্ছে নাসা

সৌর জগতের অন্যতম শীতল অঞ্চল চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করবে রোভার ভাইপার। ছবি: নাসা

সৌর জগতের অন্যতম শীতল অঞ্চল চাঁদের দক্ষিণ মেরু। বেশ কিছু গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ধারণা মিলেছে যে, চাঁদের মেরু অঞ্চলের খাদে কয়েক শ কোটি টন বরফ সংরক্ষিত আছে। অঞ্চলটিতে কখনও সূর্যের আলো পড়েনি এবং তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ২২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচেও থাকে।

চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পানিতে তৈরি বরফের অস্তিত্ব আছে কি না, তা নিশ্চিতে একটি রোবটিক রোভার পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ২০২৩ সালে চাঁদের নোবিলে ক্রেটারের পশ্চিম প্রান্তে অবতরণ করবে রোবটটি।

৭৩ কিলোমিটার চওড়া নোবিলে ক্রেটার খাদটি প্রায় স্থায়ীভাবে ছায়ায় ঢাকা।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভোলাটাইলস ইনভেস্টিগেটিং পোলার এক্সপ্লোরেশন রোভার, সংক্ষেপে ভাইপার মিশন নামের ওই অভিযানের মাধ্যমে চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। কারণ পর্যাপ্ত পরিমাণ বরফের সন্ধান মিললে এবং খননযোগ্য হলে তা খাবার পানি ও মহাকাশযানের জ্বালানির চাহিদার গুরুত্বপূর্ণ উৎস হতে পারে।

চাঁদে অবস্থানরত অবস্থায় চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে মহাকাশযান জ্বালানি নিতে পারলে মহাকাশভ্রমণের খরচ অনেক কমে আসবে।

২০১৮ সালের এক প্রতিবেদনে আভাস দেয়া হয়, চন্দ্রপৃষ্ঠে রকেটের জ্বালানির কেজিপ্রতি খরচ পড়বে ৫০০ ডলার। আর পৃথিবী থেকে চাঁদের কক্ষপথে সেই একই পরিমাণ জ্বালানি পাঠানোর খরচ হবে ২০ গুণ বেশি, প্রায় ১০ হাজার ডলার।

চলতি দশকেই চন্দ্রপৃষ্ঠে নভোচারীদের পাঠাতে চায় নাসা। সংস্থাটির আর্টেমিজ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রথম নারী ও প্রথম মিশ্র বর্ণের কোনো ব্যক্তি চাঁদে পা রাখতে যাচ্ছে।

গবেষকদের প্রত্যাশা, পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহটিতে মানুষের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির পথ খুলে দিতে পারে এ কর্মসূচি।

ভাইপারের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও ক্যালিফোর্নিয়ায় নাসার এমিজ রিসার্চ সেন্টারের কর্মকর্তা ড্যানিয়েল অ্যান্ড্রুজ জানান, ২০২৩ সালের অভিযানের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারবেন যে চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে পানির বরফ খনন মানুষের জন্য কতটা কঠিন কিংবা সহজ হতে পারে।

সৌর জগতের অন্যতম শীতল অঞ্চল চাঁদের দক্ষিণ মেরু। বেশ কিছু গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ধারণা মিলেছে যে, চাঁদের মেরু অঞ্চলের খাদে কয়েক শ কোটি টন বরফ সংরক্ষিত আছে। অঞ্চলটিতে কখনও সূর্যের আলো পড়েনি এবং তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ২২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচেও থাকে।

ড্যানিয়েল অ্যান্ড্রুস জানান, চন্দ্রপৃষ্ঠের ঠিক কোথায় বরফ আছে, এর ঘনত্ব কেমন, গভীরতা কত- এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর মিলতে ভাইপার অভিযানের মাধ্যমে।

এ অভিযানে পরিচালনায় সক্ষম রোভারের নকশা তৈরি প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন ভাইপারের প্রধান প্রকল্প বিজ্ঞানী অ্যান্থনি কোলাপ্রিট। তিনি বলেন, ‘চাঁদের দক্ষিণ মেরু মানুষের জন্য একেবারেই অপরিচিত।

‘একে তো বিশাল বিশাল গর্ত আছে সেখানে, যার কাছে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টও শিশু; তার ওপর ভয়ঙ্কর শীতল রাত আর তারপর দিনে উষ্ণ পরিবেশে কাজ করার উপযোগী রোভার তৈরি করতে হবে।’

রোভারটি পাঠানো হবে যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গভিত্তিক বেসরকারি মহাকাশযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রোবটিকের তৈরি একটি মহাকাশযানের মাধ্যমে। নাসার কমার্শিয়াল লুনার পেলোড সার্ভিসেসের অধীনে ভাইপার রোভারটি সরবরাহ করতে অ্যাস্ট্রোবটিক।

এ জন্য ২০২০ সালের জুনে প্রায় ২০ কোটি ডলারের একটি চুক্তি পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে চলতি মাসে ওরিয়ন ক্যাপসুলের কাঠামো তৈরি সম্পন্ন করেছে নাসা। ১৯৭২ সালের পর প্রথমবার চাঁদে মানুষ পাঠানোর অভিযানে অংশ নেয়া নভোচারীরা চড়বেন এই ক্যাপসুলে।

আরও পড়ুন:
কীটপতঙ্গের ঘাতক কৃত্রিম আলো?
পৃথিবী গোল না হয়ে সমতল হলে কী হতো?

শেয়ার করুন

স্তন ক্যানসার রোধে অ্যাস্ট্রাজেনেকার যুগান্তকারী সাফল্য

স্তন ক্যানসার রোধে অ্যাস্ট্রাজেনেকার যুগান্তকারী সাফল্য

অ্যাস্ট্রাজেনেকার এনহার্টু ট্রায়ালে এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, ওশেনিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার অন্তত ৫০০ রোগীকে পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়।

বিশ্বে প্রতি আটজনে অন্তত একজন নারী স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন। জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউটের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশেও প্রতিবছর দেড় লাখের বেশি মানুষ স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন।

এবার স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সাফল্যের দাবি করেছে গবেষণাভিত্তিক বায়োফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকা। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের আবিষ্কৃত একটি ওষুধ স্তন ক্যানসারে প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতির চেয়ে ৭২ শতাংশ বেশি কার্যকর। তাদের ওষুধ রোগীর শরীরে প্রয়োগ করলে মৃত্যুর ঝুঁকি এবং রোগটি ছড়িয়ে পড়া অনেকাংশেই কমে যায়।

ব্রিটিশ ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিটি দাবি করছে, স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে তাদের ‘এনহার্টু’ ট্রায়ালে যুগান্তকারী ফলাফল দেখা গেছে। রোগীকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এটি শক্তিশালী প্রমাণ দিয়েছে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানা গেছে, অ্যাস্ট্রাজেনেকার এই এনহার্টু ট্রায়ালে এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, ওশেনিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার অন্তত ৫০০ রোগীকে পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়।

ইনডিপেন্ডেন্টের খবর- ট্রায়ালে অংশ নেওয়া রোগীদের মধ্যে ৭৫ শতাংশের শরীরেই স্তন ক্যানসার আর বাড়তে পারেনি। সেই তুলনায় ট্রাস্টুজুমাব এমটানসাইন (টি-ডিএম১) নামে প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে মাত্র ৩৪.১ শতাংশের শরীরে এমন সাড়া মিলেছে। এনহার্টু পদ্ধতিতে রোগটি না বাড়ার সময়সীমা ৭.২ মাস থেকে ২৫.১ মাসে উন্নীত হয়েছে।

তিন ধাপের এই ট্রায়ালে অংশ নেওয়ার ১২ মাস পর অ্যাস্ট্রাজেনেকার এনহার্টু গ্রহণ করা রোগীদের মধ্যে ৯৪.১ শতাংশ বেঁচে ছিলেন। আর ট্রাস্টুজুমাব এমটানসাইন গ্রহণ করাদের মধ্যে বেঁচেছিলেন ৮৫.৯ শতাংশ।

ট্রায়ালের ফলাফলের কথা জানিয়ে অ্যাস্ট্রাজেনেকার অঙ্কোলজি বিভাগের নির্বাহী উপপ্রধান সুসান গ্যালব্রেইথ বলেছেন, ‘এই ফল যুগান্তকারী।’

আরও পড়ুন:
কীটপতঙ্গের ঘাতক কৃত্রিম আলো?
পৃথিবী গোল না হয়ে সমতল হলে কী হতো?

শেয়ার করুন

ইতিহাস গড়ে পৃথিবীতে ৪ মহাকাশ পর্যটক

ইতিহাস গড়ে পৃথিবীতে ৪ মহাকাশ পর্যটক

মহাকাশে রওনা দেয়ার আগে প্রথম চার বেসামরিক পর্যটক ক্রিস সেমব্রোস্কি, শন প্রক্টর, জ্যারেড আইজ্যাকম্যান ও হ্যালে আর্সেনক্স। ছবি: ইন্সপিরেশান ফোর (বাম থেকে ডানে)।

আরোহীরা ছিলেন পৃথিবীর কক্ষপথ ঘুরে আসা প্রথম বেসরকারি দল, যাদের সবাই সাধারণ মানুষ। তাদের সঙ্গে ছিল না কোনো পেশাদার নভোচারী।

শুধু বেড়ানোর উদ্দেশ্যে মহাকাশে যাওয়া বিশ্বের প্রথম চার অপেশাদার ও বেসামরিক নভোচারী ফিরে এসেছেন পৃথিবীতে। তিন দিন কক্ষপথে কাটানোর পর আটলান্টিকের ফ্লোরিডা উপকূলে স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় অবতরণ করে তাদের বহনকারী ক্যাপসুলটি।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ক্যাপসুলটির পানিতে আছড়ে পড়া ঠেকাতে চারটি প্যারাসুটের মাধ্যমে সেটির গতি ধীর করে আনা হয়। ক্যাপসুলটি নিয়ন্ত্রিতভাবে পানি স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যায় কয়েকটি নৌকা, যেগুলোতে করে তীরে ফেরেন নভোচারীরা।

এর মাধ্যমে সফলভাবে সম্পন্ন হলো মহাকাশযাত্রায় প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশযান প্রস্তুতকারক ও মহাকাশযাত্রা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের এ ফ্লাইটের নাম ‘ইন্সপিরেশান ফোর’।

এর আরোহীরা ছিলেন পৃথিবীর কক্ষপথ ঘুরে আসা প্রথম বেসরকারি দল, যাদের সবাই সাধারণ মানুষ। তাদের সঙ্গে ছিল না কোনো পেশাদার নভোচারী।

এ নিয়ে স্পেসএক্স মহাকাশে তিনটি সফল যাত্রা পরিচালনা করেছে, যা মহাকাশ পর্যটনের জন্য আরেকটি মাইলফলক।

গত বুধবার ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে একটি ড্রাগন ক্যাপসুলে চড়ে রওনা দেন ওই চারজন। দলটির নেতৃত্বে ছিল ৩৮ বছর বয়সী আমেরিকান ধনকুবের ও দক্ষ পাইলট জ্যারেড আইজ্যাকম্যান। তিন সঙ্গীসহ চারজনের অভিযাত্রিক দলটির মহাকাশযাত্রার পুরো খরচ বহন করেছেন তিনি।

অবতরণের পরই আইজ্যাকম্যানকে বেতারে বলতে শোনা যায়, ‘অবিশ্বাস্য একটি যাত্রা শেষ করে এলাম আমরা।’

ই-কমার্সভিত্তিক প্রতিষ্ঠান শিফটফোর পেমেন্টসের প্রধান নির্বাহী জ্যারেড আইজ্যাকম্যান। মহাকাশ ভ্রমণে তার খরচের অঙ্ক গোপন রাখা হয়েছে।

টাইম ম্যাগাজিনের হিসাব অনুযায়ী, ক্রু ড্রাগনের চারটি আসনের জন্য আরেক ধনকুবের ও স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ককে খরচ বাবদ প্রায় ২০ কোটি ডলার দিয়েছেন আইজ্যাকম্যান।

প্রতিযোগিতার আয়োজন করে নিজের তিন সঙ্গী বাছাই করে নিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। সৌভাগ্যবানরা হলেন স্বাস্থ্যকর্মী ২৯ বছর বয়সী হ্যালে আর্সেনক্স, ৪২ বছর বয়সী তথ্য প্রকৌশলী ক্রিস সেমব্রোস্কি ও ৫১ বছর বয়সী শিক্ষক শন প্রক্টর।

এদের মধ্যে আর্সেনক্স মহাকাশভ্রমণকারী সর্বকনিষ্ঠ আমেরিকান এবং কৃত্রিম পা ও টাইটানিয়াম রডযুক্ত বাম পা নিয়ে মহাকাশে যাওয়া প্রথম ব্যক্তি। শৈশবে প্রাণঘাতী ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধে জয়ী তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের মেমফিসে সেন্ট জুডি চিলড্রেনস রিসার্চ হসপিটালে ক্যানসারের চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন তিনি। বর্তমানে সেখানেই কর্মরত।

মহাকাশভ্রমণে ছয় মাস প্রশিক্ষণ নিয়েছে চারজনের দলটি। তাদের নিয়ে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের (আইএসএস) চেয়েও ১৬০ কিলোমিটার উঁচু থেকে পৃথিবীকে দিনে ১৫ বারের বেশি প্রদক্ষিণ করেছে স্পেসএক্সের ড্রাগন ক্যাপসুল।

পৃথিবী থেকে ৫৭৫ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত গিয়েছে সেটি; যায়নি আইএসএসের কাছে।

আরও পড়ুন:
কীটপতঙ্গের ঘাতক কৃত্রিম আলো?
পৃথিবী গোল না হয়ে সমতল হলে কী হতো?

শেয়ার করুন

৯০ দিন পর পৃথিবীতে ৩ চীনা নভোচারী

৯০ দিন পর পৃথিবীতে ৩ চীনা নভোচারী

পৃথিবী ছাড়ার আগে তাং হোনবো, নিয়ে হাইশেং ও লিউ বোমিং। ফাইল ছবি

মহাকাশে থাকাকালীন তিন নভোচারী পৃথিবীতে পরীক্ষামূলকভাবে তথ্য সরবরাহ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটাসহ দৈনন্দিন নানা কাজ সম্পন্ন করেছেন। তারা এই তিন মাস ছিলেন স্পেস স্টেশনটির কেন্দ্রীয় অংশ তিয়ানহে মডিউলে।

মহাকাশে চীনের দীর্ঘতম অভিযানে ইতি টেনে পৃথিবীতে ফিরেছেন তিন নভোচারী। পৃথিবী থেকে প্রায় ৩৮০ কিলোমিটার উচ্চতায় চীনের মহাকাশ স্টেশনের তিয়ানহে মডিউলে ৯০ দিন কাটিয়েছেন তারা।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, শেনঝৌ-১২ মহাকাশযানে চড়ে বৃহস্পতিবার স্পেস স্টেশন থেকে পৃথিবীর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন তিন নভোচারী। চীনের ইনার মঙ্গোলিয়া অঞ্চলের গোবি মরুভূমিতে স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে সফল অবতরণ করেন তারা।

নভোচারীরা হলেন নিয়ে হাইশেং, লিউ বোমিং ও তাং হোনবো। চলতি বছরের ১৭ জুন পৃথিবী থেকে মহাকাশের উদ্দেশে পাড়ি দেন তারা। গোবি মরুভূমি থেকেই রওনা দিয়েছিল তাদের বহনকারী মহাকাশযানটি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সফল এই অভিযানের ফলে মহাকাশে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠল চীন।

চীনের গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছে, মহাকাশে থাকাকালীন তিন নভোচারী পৃথিবীতে পরীক্ষামূলকভাবে তথ্য সরবরাহ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটাসহ দৈনন্দিন নানা কাজ সম্পন্ন করেছেন।

তারা এই তিন মাস ছিলেন স্পেস স্টেশনটির কেন্দ্রীয় অংশ তিয়ানহে মডিউলে। সেখানে প্রত্যেক নভোচারীর জন্য পৃথক থাকার জায়গা, মহাকাশে চলতে সক্ষম বিশেষ নকশার ট্রেডমিল-বাইসাইকেলসহ শরীরচর্চাকেন্দ্র ইত্যাদি রয়েছে।

গত কয়েক বছরে মহাকাশ গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বেইজিং। এমনকি বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে চাঁদের সবচেয়ে দূরের অংশে একটি রোবটচালিত রোভারও পাঠিয়েছে চীন।

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) অংশ নেই বলে নিজস্ব মহাকাশ কেন্দ্র নির্মাণ করতে হয়েছে চীনকে।

পৃথিবীর কক্ষপথে আইএসএস পরিচালিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে; অংশীদারিত্বে আছে রাশিয়া, ইউরোপ, কানাডা ও জাপান। সেখানে চীনকে কোনো ধরনের সহযোগিতা দেয়া হয় না।

আরও পড়ুন:
কীটপতঙ্গের ঘাতক কৃত্রিম আলো?
পৃথিবী গোল না হয়ে সমতল হলে কী হতো?

শেয়ার করুন

পেশাদার নভোচারী ছাড়াই প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইটে মহাকাশে ৪ পর্যটক

পেশাদার নভোচারী ছাড়াই প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইটে মহাকাশে ৪ পর্যটক

মহাকাশে রওনা দেয়ার আগে প্রথম চার বেসামরিক পর্যটক ক্রিস সেমব্রোস্কি, শন প্রক্টর, জ্যারেড আইজাকম্যান ও হ্যালে আর্সেনক্স। ছবি: ইন্সপিরেশান ফোর (বাম থেকে ডানে)।

মহাকাশে প্রথম বেসামরিক অভিযাত্রিক দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ৩৮ বছর বয়সী আমেরিকান ধনকুবের ও দক্ষ পাইলট জ্যারেড আইজাকম্যান। মহাকাশভ্রমণে সঙ্গী নির্বাচনে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলেন তিনি। প্রতিযোগিতায় জয়ী তিনজনকে নিয়ে মহাকাশে গেছেন আইজ্যাকম্যান। নিজেরসহ বাকি তিনজনের যাত্রার খরচও তিনি বহন করছেন।

প্রথমবারের মতো বেড়ানোর উদ্দেশ্যে মহাকাশে গেলেন চার বেসামরিক পর্যটক। তাদের সঙ্গে নেই কোনো পেশাদার নভোচারী।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে একটি ড্রাগন ক্যাপসুলে চড়ে স্থানীয় সময় বুধবার রওনা দেন তারা। পৃথিবী প্রদক্ষিণ করবেন পরবর্তী তিনদিন। এরপর ফিরে আসবেন নিজস্ব পরিমণ্ডলে।

মহাকাশযাত্রায় প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইটটি পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশযান প্রস্তুতকারক ও মহাকাশযাত্রা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। সফরটির নাম দেয়া হয়েছে ‘ইন্সপিরেশান ফোর’।

এ ঘটনার মধ্য দিয়ে শুরু হলো সাধারণ মানুষের মহাকাশভ্রমণ; মহাকাশবিজ্ঞান ও পর্যটনের ইতিহাসে যুক্ত হলো নতুন অধ্যায়। এযাবৎকালের অন্যতম উচ্চাভিলাষী পর্যটন মিশন ছিল এটি।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরে আসা প্রথম বেসরকারি ফ্লাইটে অভিযাত্রী ছিলেন চারজন। এদের মধ্যে তিনজনই ‘সাধারণ মানুষ’ এবং অপরজন তাদের পৃষ্ঠপোষক।

মহাকাশে প্রথম বেসামরিক অভিযাত্রিক দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ৩৮ বছর বয়সী আমেরিকান ধনকুবের ও দক্ষ পাইলট জ্যারেড আইজাকম্যান। মহাকাশভ্রমণে সঙ্গী নির্বাচনে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলেন তিনি।

প্রতিযোগিতায় জয়ী তিনজনকে নিয়ে মহাকাশে গেছেন আইজ্যাকম্যান। নিজেরসহ বাকি তিনজনের যাত্রার খরচও তিনি বহন করছেন।

আইজ্যাকম্যানের সঙ্গী ২৯ বছর বয়সী হ্যালে আর্সেনক্স। মহাকাশভ্রমণকারী সর্বকনিষ্ঠ আমেরিকান এবং কৃত্রিম পা ও টাইটানিয়াম রডযুক্ত বাম পা নিয়ে মহাকাশে যাওয়া প্রথম ব্যক্তিও তিনি।

শৈশবে প্রাণঘাতী ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধে জয়ী আর্সেনক্স পেশায় একজন স্বাস্থ্যকর্মী। যুক্তরাষ্ট্রের টেনেজি অঙ্গরাজ্যের মেমফিসে সেন্ট জুডি চিলড্রেনস রিসার্চ হসপিটালে ক্যানসারের চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন তিনি; বর্তমানে সেখানেই কর্মরত।

নিজের পকেট থেকে হাসপাতালটিতে ১০ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছেন আইজ্যাকম্যান। আরও ১০ কোটি ডলার অনুদান দেয়ার জন্য তহবিল সংগ্রহের চেষ্টাও করছেন।

আইজ্যাকম্যান ও আর্সেনক্সের দুই সঙ্গী ৪২ বছর বয়সী তথ্য প্রকৌশলী ক্রিস সেমব্রোস্কি ও ৫১ বছর বয়সী শিক্ষক শন প্রক্টর।

মহাকাশভ্রমণে ছয় মাস প্রশিক্ষণ নিয়েছে চারজনের দলটি। তাদের নিয়ে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের (আইএসএস) চেয়েও ১৬০ কিলোমিটার উঁচু থেকে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করবে স্পেসএক্সের ড্রাগন ক্যাপসুল। ভ্রমণ শেষে চলতি সপ্তাহে ফ্লোরিডা উপকূলে অবতরণ করবে ক্যাপসুলটি।

এর আগে চলতি বছর নিজস্ব মহাকাশযানে চড়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বাইরে গিয়েছিলেন দুই ধনকুবের ব্যবসায়ী স্যার রিচার্ড ব্র্যানসন ও জেফ বেজোস।

আগামী মাসে এক রুশ চলচ্চিত্র পরিচালক ও অভিনেত্রী বেড়াতে যাবেন আইএসএসে; পরের ফ্লাইটটি যাবে নতুন বছরের শুরুতে।

আরও পড়ুন:
কীটপতঙ্গের ঘাতক কৃত্রিম আলো?
পৃথিবী গোল না হয়ে সমতল হলে কী হতো?

শেয়ার করুন