করোনাভাইরাস: জীবনযাপনের ছন্দ ফিরছে পশ্চিমবঙ্গে

করোনাভাইরাস: জীবনযাপনের ছন্দ ফিরছে পশ্চিমবঙ্গে

পশ্চিমবঙ্গের একটি বুথে করোনা শনাক্তের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন নাগরিকরা। ছবি: সংগৃহীত

শুক্রবারের রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের বুলেটিন অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে মোট ৬৮৬ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে মোট ১১ জনের। এসময় রাজ্যের অনান্য জেলাগুলোর মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগণায় ৪৫ জন, হাওড়ায় ৪৮ জন, হুগলিতে ৪২ জন, নদীয়ায় ৪৫ জন এবং পার্বত্য শহর দার্জিলিংয়ে ৪৯ জন করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হয়েছেন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যেও পশ্চিমবঙ্গে সংক্রমণের প্রকোপ কমার সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিক হচ্ছে পরিবহন ব্যবস্থা। ছন্দে ফিরছে জনজীবন। সংক্রমণের পাশাপাশি কমছে করোনা আক্রান্তের মৃত্যুর সংখ্যাও। তবে চিন্তায় রেখেছে কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগণার করোনা পরিস্থিতি।

সংক্রমণের নিরিখে জেলাগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে কলকাতা। গত ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়েছেন ১১০ জন। মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের।

একই সময়ে উত্তর ২৪ পরগণায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১০৯ জন। মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের।

শুক্রবারের রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের বুলেটিন অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে মোট ৬৮৬ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে মোট ১১ জনের।

এসময় রাজ্যের অনান্য জেলাগুলোর মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগণায় ৪৫ জন, হাওড়ায় ৪৮ জন, হুগলিতে ৪২ জন, নদীয়ায় ৪৫ জন এবং পার্বত্য শহর দার্জিলিংয়ে ৪৯ জন করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হয়েছেন।

রাজ্যে মোট করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৫০ হাজার ৬৬৪ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৭১৫ জন। এ পর্যন্ত মোট করোনা মুক্ত হয়েছেন ১৫ লাখ ২৩ হাজার ৪৮৭ জন। সুস্থতার হার ৯৮ দশমিক ২৫ শতাংশ।

বর্তমানে করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৮ হাজার ৬৯৪ জন। করোনা রোগী চিহ্নিত করতে ব্যাপক হারে চলছে পরীক্ষা। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৩ হাজার ৫০ জনের করোনা পরীক্ষার কথা জানানো হয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তরের বুলেটিনে।

আরও পড়ুন:
করোনা: সাড়ে ৪ মাস পর মৃত্যুশূন্য ময়মনসিংহ বিভাগ
৭৭ দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যু, শনাক্ত ৩১৬৭
করোনা আক্রান্তদের ৯০ শতাংশই গ্রামের
এক দিনে মৃত্যু ৮৮, শনাক্ত ৩৪৩৬
পশ্চিমবঙ্গের ভোট সহিংসতার তদন্ত গড়াল সুপ্রিম কোর্টে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ইট্রাসক্যান সভ্যতার উৎপত্তি কোথায়

ইট্রাসক্যান সভ্যতার উৎপত্তি কোথায়

দুই ইট্রাসক্যান মানুষের সমাধি। ছবি: সায়েন্স এলার্ট

ইতালির ১২টি স্থান থেকে প্রাপ্ত প্রায় দুই হাজার বছর পুরোনো জেনোমিক ডেটার তথ্য অনুযায়ী, ইট্রাসক্যান সভ্যতার রহস্যময় মানুষরা আনাতোলিয়া (বর্তমানে তুরস্কের অঞ্চল) থেকে আসেনি। প্রাচীন রোমের কাছে বাস করা মানুষের সঙ্গে ইট্রাসক্যানদের জিনগত মিল পাওয়া গেছে।

প্রাচীন ইট্রাসক্যান সভ্যতার উৎপত্তি কোথায়, এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছে তর্ক-বিতর্ক। ইতালিতে সম্প্রতি ওই সভ্যতার মানুষের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।

দেহাবশেষের ডিএনএ পরীক্ষা করে অবশেষে ওই বিতর্কের সমাপ্তি ঘটেছে বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা।

সায়েন্স এলার্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, একসময় বিশেষজ্ঞদের ধারণা ছিল, আনাতোলিয়া বা আজিয়ান থেকে ইট্রাসক্যানরা ইতালিতে স্থানান্তরিত হয়। আর তাদের সংস্কৃতি গ্রিকদের থেকে পাওয়া।

এ ধারণা আধুনিক যুগের বিশেষজ্ঞরা মানতে রাজি ছিলেন না। কারণ স্থানান্তরের বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ববিদরা তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য প্রমাণ পাননি।

ইতালির ১২টি স্থান থেকে প্রাপ্ত প্রায় দুই হাজার বছর পুরোনো জেনোমিক ডেটার তথ্য অনুযায়ী, ইট্রাসক্যান সভ্যতার রহস্যময় মানুষরা আনাতোলিয়া (বর্তমানে তুরস্কের অঞ্চল) থেকে আসেনি। প্রাচীন রোমের কাছে বাস করা মানুষের সঙ্গে ইট্রাসক্যানদের জিনগত মিল পাওয়া গেছে।

নিউলিথিক যুগের শেষে ও ব্রোঞ্জ যুগের শুরুতে স্তেপ অঞ্চল থেকে প্রাচীন রোম অঞ্চলে স্থানান্তর হওয়া গবাদিপশু পালকরা ইট্রাসক্যানদের পূর্বপুরুষ।

স্তেপ অঞ্চলে ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষার উদ্ভব হয় বলে ধারণা করা হয়।

বিজ্ঞানীদের গবেষণা ইট্রাসক্যান সভ্যতা সম্পর্কে আরেকটি রহস্যের উদঘাটন করে। তা হলো, ওই সভ্যতার মানুষের নন ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষা (এখন বিলুপ্ত) কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত টিকে ছিল।

ইতালির ইউনিভার্সিটি অফ ফ্লোরেন্সের নৃবিজ্ঞানী ডেভিড ক্যারামেলি বলেন, ‘জিন ভাষার সমান-এ সাধারণ ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকা ইট্রাসক্যান মানুষের ভাষা।’

ইট্রাসক্যানদের সম্পর্কে আরও অনেক কিছু জানা বাকি। কেবল তাদের অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

ইট্রাসক্যানরা অসাধারণ কারিগর, দক্ষ ধাতুকর্মী ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন মানুষ। তাদের বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ভাষা সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের আংশিক ধারণা রয়েছে।

ইট্রাসক্যানদের বিলুপ্ত ভাষা তাদের উৎপত্তির অনুসন্ধান জটিল করে তোলে।

আরও পড়ুন:
করোনা: সাড়ে ৪ মাস পর মৃত্যুশূন্য ময়মনসিংহ বিভাগ
৭৭ দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যু, শনাক্ত ৩১৬৭
করোনা আক্রান্তদের ৯০ শতাংশই গ্রামের
এক দিনে মৃত্যু ৮৮, শনাক্ত ৩৪৩৬
পশ্চিমবঙ্গের ভোট সহিংসতার তদন্ত গড়াল সুপ্রিম কোর্টে

শেয়ার করুন

তালেবানের ‘প্রতিহিংসার’ বলি শিশু

তালেবানের ‘প্রতিহিংসার’ বলি শিশু

তালেবান যোদ্ধাদের হাতে প্রাণ হারায় এক শিশু। ছবি: এএনআই

পাঞ্জশির অবজারভার টুইটবার্তায় বলে, ‘শিশুটির বাবা তালেবানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ-সংগ্রামে অংশ নেন- এই সন্দেহে কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠীটির যোদ্ধারা পাঞ্জশিরের পার্শ্ববর্তী তাখার প্রদেশে তাকে হত্যা করে।’

আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় তাখার প্রদেশে এক শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে তালেবান।

শিশুটির বাবা আফগান প্রতিরোধ বাহিনীর সন্দেহভাজন সদস্য হওয়ায় তাকে প্রাণ হারাতে হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

তালেবানের হাতে শিশুহত্যার ঘটনা প্রথম প্রকাশ করে পাঞ্জশির অবজারভার। মূলত পাঞ্জশির ও আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয় স্বাধীন এই সংবাদমাধ্যমটিতে।

পাঞ্জশির অবজারভার টুইটবার্তায় বলে, ‘শিশুটির বাবা তালেবানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ-সংগ্রামে অংশ নেন- এই সন্দেহে কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠীটির যোদ্ধারা পাঞ্জশিরের পার্শ্ববর্তী তাখার প্রদেশে তাকে হত্যা করে।’

গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে আফগানিস্তান দখল করে তালেবান। এর আগে একটি ছাড়া দেশটির ৩৪টি প্রদেশের সবই গোষ্ঠীটির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ভৌগোলিক অবস্থানগত সুবিধা ও স্থানীয় লোকজনের তীব্র তালেবানবিরোধী মনোভাবের কারণে পাঞ্জশির উপত্যকা বারবার দখলের চেষ্টাও ব্যর্থ হয় তালেবান।

আফগানিস্তান দখলের পর একমাত্র পাঞ্জশির প্রদেশেই স্থানীয় লোকজন শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলে। আশপাশের প্রদেশ থেকেও সশস্ত্র তালেবানবিরোধী যোদ্ধারা প্রতিরোধ বাহিনীতে যোগ দেন।

কাবুল পতনের পর সপ্তাহ খানেক ধরে চলে প্রতিরোধ বাহিনীর সঙ্গে তালেবান যোদ্ধাদের তীব্র লড়াই। লড়াইয়ের একপর্যায়ে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীটির হাতে পাঞ্জশিরের পতন হয়।

তালেবানের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে নেয়া বা কথা বলা ভিন্ন মতাবলম্বীদের আফগানিস্তানে কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে।

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় তালেবান। এরপরই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা শুরু করে গোষ্ঠীটি। এর অংশ হিসেবে নারী, জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপেরও ঘোষণা দেয় তালেবান।

তবে বিশ্লেষকদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক মহলের স্বীকৃতি আদায়ের লক্ষ্যে তালেবান কাবুল পতনের পরপরই কিছুটা নমনীয় অবস্থান বিশ্বকে দেখায়। আগের শাসনামলে ফিরে না যাওয়ার কথাও তারা বলে। তবে কতটুকু তারা এসব অবস্থান বাস্তবায়ন করতে পারবে, তা নিয়ে সন্দেহ থেকে যাচ্ছে।

তাদের ভাষ্য, কথার ওপর নয়, বরং কাজের ওপরই তালেবানের মূল্যায়ন হবে।

দেশি-বিদেশি মহলকে তুষ্ট করার লক্ষ্যে শুরুতে অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের ঘোষণা দিলেও তালেবানের নতুন সরকারে শেষ পর্যন্ত কোনো নারীকে দেখা যায়নি। ছিল না জাতিগত সম্প্রদায়ের কোনো নেতাও।

সাংবাদিক, ভিন্ন মতাবলম্বী বেসামরিক নাগরিক থেকে শুরু করে পাঞ্জশিরে তালেবানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ লড়াইয়ে অংশ নেয়া বা সমর্থন করা ব্যক্তিদের ওপর চলতি মাসের শুরু থেকেই গোষ্ঠীটি চড়াও হয় বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদনে বলা হয়।

আরও পড়ুন:
করোনা: সাড়ে ৪ মাস পর মৃত্যুশূন্য ময়মনসিংহ বিভাগ
৭৭ দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যু, শনাক্ত ৩১৬৭
করোনা আক্রান্তদের ৯০ শতাংশই গ্রামের
এক দিনে মৃত্যু ৮৮, শনাক্ত ৩৪৩৬
পশ্চিমবঙ্গের ভোট সহিংসতার তদন্ত গড়াল সুপ্রিম কোর্টে

শেয়ার করুন

জার্মান পার্লামেন্টে এমপি হলেন দুই ট্রান্সজেন্ডার

জার্মান পার্লামেন্টে এমপি হলেন দুই ট্রান্সজেন্ডার

ট্রান্সজেন্ডার টেসা গ্যানসেরার (বামে) ও নাইক স্ল্যাউয়িক জার্মান পার্লামেন্টে গ্রিন পার্টিকে প্রতিনিধিত্ব করবেন। ছবি: এএফপি

৪৪ বছর বয়সি গ্যানসেরার বলেন, ‘গ্রিন পার্টির জন্য এটি ঐতিহাসিক জয়। একই সঙ্গে ট্রান্সজেন্ডারদের অধিকারের দাবিতে চলমান আন্দোলন এবং এ সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষের জন্যও এ জয় স্মরণীয়।’

জার্মানির এবারের সাধারণ নির্বাচনে পরিবেশবাদী দল গ্রিন পার্টির দুজন ট্রান্সজেন্ডার রাজনীতিক জয় পেয়েছেন।

এই প্রথম পার্লামেন্টে ট্রান্সজেন্ডার সংসদ সদস্য দেখতে যাচ্ছে জার্মানি। ঐতিহাসিক এ ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই দেশটিতে সাড়া ফেলেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

রোববার অনুষ্ঠিত এবারের নির্বাচনে জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের রক্ষণশীল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের (সিডিইউ) সঙ্গে মধ্য-বামপন্থি সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এসপিডি) হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়।

সামান্য ব্যবধানে মেরকেলের দলকে হারিয়ে জয়ী হয়েছে সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি।

নির্বাচনে মোট ভোটের ১৪.৮ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে গ্রিন পার্টি। সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি ও ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন পায় যথাক্রমে ২৬ শতাংশ ও ২৪.৫ শতাংশ ভোট।

২০১৭ সালের নির্বাচনে গ্রিন পার্টি ৮.৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিল।

জার্মানির নতুন ত্রিমুখী জোট সরকারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে যাচ্ছে গ্রিন পার্টি। আর এই গ্রিন পার্টির হয়েই লড়াই করেন টেসা গ্যানসেরার ও নাইক স্ল্যাউয়িক।

৪৪ বছর বয়সি গ্যানসেরার রয়টার্সকে বলেন, ‘গ্রিন পার্টির জন্য এটি ঐতিহাসিক জয়।

‘একই সঙ্গে ট্রান্সজেন্ডারদের অধিকারের দাবিতে চলমান আন্দোলন এবং এ সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষের জন্যও এ জয় স্মরণীয়।’

দুই ছেলে সন্তানের মা গ্যানসেরার চান, লেসবিয়ান মায়েদের সন্তান দত্তক নেয়ার বিধান রেখে আইন পরিবর্তন করা হোক।

জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলীয় নর্থ রাইন-ওয়েস্টফ্যালিয়া রাজ্যের একটি আসন থেকে নির্বাচনে দাঁড়ান স্ল্যাউয়িক।

জয়ের খবর শুনে স্ল্যাউয়িক জানান, নির্বাচনের ফল অবিশ্বাস্য।

ইনস্টাগ্রামে স্ল্যাউয়িক বলেন, ‘আমার এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য হচ্ছে, নির্বাচনের এই ঐতিহাসিক ফলে জার্মানির পরবর্তী সংসদের সদস্য হতে যাচ্ছি আমি।

হোমোফোবিয়া ও ট্রান্সফোবিয়ার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে কর্মপরিকল্পনার আহ্বান জানিয়েছেন স্ল্যাউয়িক। এ ছাড়া জার্মানির বৈষম্যবিরোধী আইনও উন্নত করতে চান তিনি।

১৯৬৯ সালে জার্মানিতে সমকামিতায় বৈধতা দেয়া হয়। আর ২০১৭ সালে সমলিঙ্গের বিয়ে অনুমোদন পায়।

আরও পড়ুন:
করোনা: সাড়ে ৪ মাস পর মৃত্যুশূন্য ময়মনসিংহ বিভাগ
৭৭ দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যু, শনাক্ত ৩১৬৭
করোনা আক্রান্তদের ৯০ শতাংশই গ্রামের
এক দিনে মৃত্যু ৮৮, শনাক্ত ৩৪৩৬
পশ্চিমবঙ্গের ভোট সহিংসতার তদন্ত গড়াল সুপ্রিম কোর্টে

শেয়ার করুন

কানাডায় খনিতে আটকা ৩৯ শ্রমিক

কানাডায় খনিতে আটকা ৩৯ শ্রমিক

খনির মালিকানা প্রতিষ্ঠান বলছে, এ ঘটনায় শ্রমিকদের কেউ আহত হননি। তাদের কাছে পর্যাপ্ত খাবার ও পানি রয়েছে। তাদের দ্রুতই উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

কানাডার পূর্বাঞ্চল ওন্টারিও প্রদেশের একটি খনিতে ৩৯ জন শ্রমিক আটকা পড়েছেন। এক দুর্ঘটনায় খনিটির প্রধান যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় এসব মাইনার বের হতে পারছেন না।

স্থানীয় সময় রোববার বিকেলে এ ঘটনা ঘটলেও ২৪ ঘণ্টা পর সোমবার সন্ধ্যায় খনির মালিকানা প্রতিষ্ঠান ব্রাজিলের ভালে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

খনির মালিকানা প্রতিষ্ঠান বলছে, এ ঘটনায় শ্রমিকদের কেউ আহত হননি। তাদের কাছে পর্যাপ্ত খাবার ও পানি রয়েছে। তাদের দ্রুতই উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, খনিতে ভারী একটি স্কুপ বাকেট ছিড়ে পড়েছে। এর ফলে খনিতে মূল যাতায়াত ব্যবস্থা অকেজো হয়ে পড়েছে। তবে উদ্ধারকারী ক্রুরা আকটে পড়া খনি শ্রমিকদের কাছে পৌঁছাতে পেরেছেন। তাদেরকে বিকল্প উপায়ে বের করে আনার চেষ্টা চলছে।

ভালের মুখপাত্র দানিকা পাগনুত্তি রেডিও কানাডাকে বলেন, ‘খনিতে প্রধান যোগাযোগ ব্যবস্থায় দুর্ঘটনার সময় ওই রাস্তায় কেউ ছিলেন না।’

ওন্টারিও প্রদেশের প্রধান প্রশাসক ডগ ফোর্ড এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারছি যে, এই উদ্ধার অভিযানে কিছুটা সময় লাগবে। তবে এটা শুনে স্বস্তি পাচ্ছি যে, আটকে পড়া খনি শ্রমিকদের কেউ আহত হননি।’

ওই ঘটনার পর খনিটিতে সব ধরনের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ভালে জানিয়েছে, উৎপাদন কার্যক্রম আবার শুরু করা যায় কি না এ ব্যাপারে পর্যালোচনা করা হবে।

ওন্টারিওর সাডবারির টটেন নামক নিকেলের খনিটি ১৯৭২ সালে বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। তবে ভালে সেখানে ২০১৪ সালে আবার কার্যক্রম শুরু করে। খনিটি থেকে ২০২১ সালে ৩ হাজার ৬০০ টন নিকেল আহরণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
করোনা: সাড়ে ৪ মাস পর মৃত্যুশূন্য ময়মনসিংহ বিভাগ
৭৭ দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যু, শনাক্ত ৩১৬৭
করোনা আক্রান্তদের ৯০ শতাংশই গ্রামের
এক দিনে মৃত্যু ৮৮, শনাক্ত ৩৪৩৬
পশ্চিমবঙ্গের ভোট সহিংসতার তদন্ত গড়াল সুপ্রিম কোর্টে

শেয়ার করুন

তালেবান আতঙ্কে ফেসবুক-টুইটার ছাড়ার হিড়িক

তালেবান আতঙ্কে ফেসবুক-টুইটার ছাড়ার হিড়িক

তালেবানের প্রতিশোধের ভয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়ছেন আফগানরা। ছবি: এএফপি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী হারিস বলেন, ‘কারো অনুরোধে বা অর্থের জন্য তালেবানের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমি কখনো কোনো পোস্ট করিনি। আমি গণতন্ত্রের পক্ষে। সাবেক প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির সমর্থক ছিলাম না। ঘানির সমালোচনা করেও অনেক পোস্ট করেছি।’

তালেবান আফগানিস্তানের দখল নেয়ার আগে দেশটিতে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী ছিলেন। সামাজিক মাধ্যমে তারা তালেবানের নীতির কড়া সমালোচনা করতেন।

১৫ আগস্ট তালেবানের হাতে কাবুল পতনের পর গোষ্ঠীটির যোদ্ধাদের প্রতিহিংসামূলক হামলার ভয়ে ওই আফগানরা তালেবানবিরোধী আগের সব ছবি ও টুইট মুছে ফেলেন।

আবার এদের মধ্যে অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নিজেদের অ্যাকাউন্টও সরিয়ে নেন।

তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াই করা বা পশ্চিমা দেশ সমর্থিত সাবেক সরকারকে সহায়তা করাসহ সব আফগানকে সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা গোষ্ঠীটির নেতারা দিলেও তাদের আশ্বাসবাণীতে ভরসা রাখতে পারছেন না অনেকে।

আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার একপর্যায়ে দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে ভিন্নমতাবলম্বী বেসামরিক নাগরিকদের তালেবানের হাতে প্রাণ হারানোর খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়।

গত সপ্তাহে তালেবানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব এক অডিও বার্তায় স্বীকার করেন, গোষ্ঠীটির যোদ্ধারা প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে কয়েকজন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছেন।

এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী দুই আফগানের সঙ্গে কথা বলে বিবিসি।

এদের একজন আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল ও অন্যজন দেশটির গুরুত্বপূর্ণ এক শহরের বাসিন্দা।

এবারের তালেবান শাসনের আগে উভয়ই প্রভাবশালী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মাস খানেক আগেও তাদের লাখ লাখ ফলোয়ার ছিল।

তালেবানের হামলার লক্ষ্যে পরিণত হওয়ার শঙ্কায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ওই দুই আফগান নিজেদের অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলেছেন।

ওই দুজনের সঙ্গে কথা বলে বিবিসি। নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের প্রকৃত নাম প্রকাশ করা হয়নি।

কাবুলে বসবাসরত ফিদা তালেবানের কট্টর সমালোচক। গোষ্ঠীটির নীতি বা কর্মকাণ্ড নিয়ে একসময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা করতেন তিনি।

তালেবানের ভয়ে পশ্চিমা দেশে রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য যেসব আফগান আবেদন করেছেন, তাদের মধ্যে ফিদাও রয়েছেন।

তিনি বলেন, “আত্মীয়স্বজন আমাকে বলেছেন, ‘দখলদারদের’ বিরুদ্ধে তালেবানের যুদ্ধের সমালোচনা করায় আমার জীবন এখন হুমকিতে।

‘তালেবান সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা দিলেও তারা কাউকে ক্ষমা করবে না'।"

ফিদা জানান, তালেবান যোদ্ধারা যেসব আফগানকে ‘দেখা মাত্রই মাথায় গুলি করার’ তালিকা প্রস্তুত করেছে, সেখানে তার নামও রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘দেশে দিনের পর দিন আতঙ্কে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো।’

তালেবাননিয়ন্ত্রিত এক শহরে বাস করেন হারিস। তিনি জানান, কাবুল পতনের দুই দিন পর তিনি তার অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলেন। জীবনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে থাকায় তিনিও দেশত্যাগ করবেন।

শুধু হারিসই নন, তার মতো আরও শত শত তরুণ আফগান শিগগিরই দেশ ছাড়বেন।

হারিস জানান, কারো অনুরোধে বা অর্থের জন্য তালেবানের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি কখনো কোনো পোস্ট করেননি।

তিনি বলেন, ‘আমি গণতন্ত্রের পক্ষে। সাবেক প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির সমর্থক ছিলাম না। ঘানির সমালোচনা করেও অনেক পোস্ট করেছি।’

তালেবান সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পরও কেন দেশ ছাড়তে চাইছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি নিরাপদ বোধ করছি না।

‘তালেবান যোদ্ধারা এখনও লোকজনকে টার্গেট করে হত্যা করছে। বিরোধীদের হন্যে হয়ে খুঁজছে।’

হারিস বলেন, ‘তালেবানের অত্যাচার সবে শুরু হয়েছে। সামনে আরও অনেক কিছু দেখবে বিশ্ব।’

আরও পড়ুন:
করোনা: সাড়ে ৪ মাস পর মৃত্যুশূন্য ময়মনসিংহ বিভাগ
৭৭ দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যু, শনাক্ত ৩১৬৭
করোনা আক্রান্তদের ৯০ শতাংশই গ্রামের
এক দিনে মৃত্যু ৮৮, শনাক্ত ৩৪৩৬
পশ্চিমবঙ্গের ভোট সহিংসতার তদন্ত গড়াল সুপ্রিম কোর্টে

শেয়ার করুন

যা হলো কৃষকদের ‘ভারত বনধে’

যা হলো কৃষকদের ‘ভারত বনধে’

তিনটি বিতর্কিত কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন ভারতের কৃষকরা। ছবি: এএফপি

দশ মাস কেটে গেছে কৃষক আন্দোলনের। এখনও কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতেই অনড় আন্দোলনকারী কৃষকরা। বিল প্রত্যাহারের দাবিতেই সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সারাদেশ জুড়ে বনধের ডাক দিয়েছিল ৪০টি কৃষক সংগঠনের সংযুক্ত কিষান মোর্চা।

দশ মাসের আন্দোলনে মারা গেছেন ৫৩৭ কৃষক। তবু ঘুম ভাঙেনি সরকারের। তাই এবার আন্দোলনের আরেক ধাপ।

সংযুক্ত কিষান মোর্চার ডাকে সোমবার ১২ ঘণ্টার ভারত বনধের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, উত্তরাখণ্ড, ঝাড়খণ্ড ও কেরলে।

পাঞ্জাবের অন্তত ৩৫০টি জায়গায় রেল ও পথ অবরোধ করে বনধের সমর্থকরা।

হরিয়ানার একমাত্র জিন্ড জেলাতেই রাস্তা রেল অবরোধ করে কৃষকরা। দেড় কিলোমিটার রাস্তাজুড়ে যানজট তৈরি হয় দিল্লি-গুরুগ্রাম সড়কে। পাঞ্জাব ও হরিয়ানা দিয়ে চলা ১৪টি ট্রেন বাতিল করে দিতে হয়েছে। বেশ কিছু ট্রেন মাঝপথেই থামিয়ে দিতে হয়।

দশ মাস কেটে গিয়েছে কৃষক আন্দোলনের। এখনও কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতেই অনড় আন্দোলনকারী কৃষকরা। বিল প্রত্যাহারের দাবিতেই সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সারাদেশ জুড়ে বনধের ডাক দিয়েছিল ৪০টি কৃষক সংগঠনের সংযুক্ত কিষান মোর্চা।

মোর্চার পক্ষ থেকে বনধের সময় কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের স্কুল, অফিস, বাজার, কারখানাসহ সব প্রতিষ্ঠানই এবং সরকারি ও বেসরকারি যানবাহন চলাচলও বন্ধের আবেদন জানানো হয়েছিল।

এদিন মোটামুটি শান্তিপূর্নভাবে কাটলেও তামিলনাড়ুতে বনধ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়।

চেন্নাইয়ের আন্না সালাই এলাকায় বনধ সমর্থকরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করে। এরপরই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।

ভারত বনধের প্রভাব পড়তে দেখা গেছে রাজধানীতেও।

গুরুগ্রাম-দিল্লি সীমানায় দেখা গেছে দেড় কিলোমিটার জুড়ে ব্যাপক যানজট। এছাড়া নাশকতার আশঙ্কায় দিল্লি পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানরা গাড়ি চেকিং করায় এবং বনধের সমর্থকরা পথ অবরোধ করায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়।

সকালে দিল্লির যন্তরমন্তরে বিভিন্ন রাজ্য থেকে কৃষক সংগঠনের নেতারা বনধের সমর্থনে সভা করেন। কর্নাটকেও কৃষকদের সমর্থনে পথে নামে একাধিক সংগঠন। বনধের সমর্থনে কর্নাটকের একাধিক সংগঠন ব্যাঙ্গালোরে কালাবুর্গি সেন্ট্রাল বাস স্ট্যান্ডের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।

এদিন ভোরেই বন্ধ করে দেয়া হয় পাঞ্জাব-হরিয়ানা সীমানার শম্ভু সীমান্ত। গাজিপুর সীমান্তে বিশাল সমাবেশ হয় কৃষকদের। বনধের জেরে অশান্তির আশঙ্কায় উত্তরপ্রদেশ থেকে গাজিপুরগামী সমস্ত যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

হরিয়ানার কুরুক্ষেত্রে আন্দোলনকারীরা দিল্লি-অমৃতসর জাতীয় সড়ক বন্ধ করে দেয়। দক্ষিণের রাজ্য কেরলে বনধ ছিলো সর্বাত্মক। তবে মহারাষ্ট্রের মুম্বাইতে বনধের বিশেষ প্রভাব দেখা যায়নি।

বিরোধী দলগুলো, বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন, কৃষক সংগঠন, সামাজিক সংগঠন, শিক্ষক ও ছাত্র সংগঠনসহ প্রায় ৩০০টি সংগঠন ভারত বনধে সমর্থন জানিয়েছিল।

আরও পড়ুন:
করোনা: সাড়ে ৪ মাস পর মৃত্যুশূন্য ময়মনসিংহ বিভাগ
৭৭ দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যু, শনাক্ত ৩১৬৭
করোনা আক্রান্তদের ৯০ শতাংশই গ্রামের
এক দিনে মৃত্যু ৮৮, শনাক্ত ৩৪৩৬
পশ্চিমবঙ্গের ভোট সহিংসতার তদন্ত গড়াল সুপ্রিম কোর্টে

শেয়ার করুন

বিতর্কের মুখে আটকে গেল ‘ইনস্টাগ্রাম কিডস’

বিতর্কের মুখে আটকে গেল ‘ইনস্টাগ্রাম কিডস’

প্রতীকী ছবি

ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২০ সালে কিশোরীদের কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে নিজেদের শরীর নিয়ে তাদের মধ্যে আফসোস তৈরি হয় কি না। এতে ৩২ শতাংশের উত্তর ছিল, ভীষণ আফসোস হয়; ২২ শতাংশ নিজেদের শরীর নিয়ে আত্মতৃপ্তির কথা জানায়; ৪৬ শতাংশের মতে, তাদের ওপর কোনো প্রভাব পড়েনি।

ছবি ও ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ ইনস্টাগ্রামে ১৩ বছরের কমবয়সীদের প্রবেশাধিকার দেয়ার পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়েছে। শিশুদের সামাজিক যোগাযোগের এ প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতে দেয়ার জন্য ইনস্টাগ্রাম কিডস নামে নতুন একটি সংস্করণ তৈরির কাজ চলছিল।

ইনস্টাগ্রামের প্রধান অ্যাডাম মোজেরির বরাত দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইনস্টাগ্রামের সত্ত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান ফেসবুক ‘অভিভাবক, বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর পরামর্শ ও দাবিদাওয়া’ আমলে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের ফাঁস করা ফেসবুকের অভ্যন্তরীণ গবেষণায় ‘কিশোরীদের ওপর ইনস্টাগ্রামের নেতিবাচক প্রভাব’ প্রকাশের পর আসে এ সিদ্ধান্ত।

ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২০ সালে কিশোরীদের কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে নিজেদের শরীর নিয়ে তাদের মধ্যে আফসোস তৈরি হয় কি না। এতে ৩২ শতাংশের উত্তর ছিল, ভীষণ আফসোস হয়; ২২ শতাংশ নিজেদের শরীর নিয়ে আত্মতৃপ্তির কথা জানায়; ৪৬ শতাংশের মতে, তাদের ওপর কোনো প্রভাব পড়েনি।

যদিও সাম্প্রতিক একটি ব্লগ পোস্টে ফেসবুকের প্রধান গবেষক প্রতিতি রায়চৌধুরী দাবি করেছিলেন, ‘কৌশলগত দিক থেকে জরিপটি উপলব্ধিতে ত্রুটি রয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের’। ‘মাত্র ৪০ শতাংশ কিশোর-কিশোরীর তথ্যের ওপর নির্ভর করা হয়েছে জরিপে’ এবং ‘প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন নিশ্চিতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইনস্টাগ্রামের নেতিবাচক দিক তুলে ধরা হয়েছে’ বলে দাবি করেন তিনি।

ইনস্টাগ্রামে অ্যাকাউন্ট খুলতে হলে ন্যূনতম বয়স হতে হয় ১৩ বছর। কিন্তু মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে অনেক শিশুই প্ল্যাটফর্মটির অপব্যবহার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ অবস্থায় সংকটের ‘বাস্তব সমাধান’ হিসেবে শিশুদের জন্য ইনস্টাগ্রাম কিডস চালুর পরিকল্পনা নিয়েছিল ফেসবুক। বলা হচ্ছিল, এতে মিথ্যা বলে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করতে হবে না শিশুদের। একই সঙ্গে শিশুদের জন্য নতুন প্ল্যাটফর্মটির কনটেন্টও থাকবে তাদের বয়স অনুযায়ী পরিশীলিত।

চলতি বছরের এপ্রিলে ক্যাম্পেইন ফর আ কমার্শিয়াল-ফ্রি চাইল্ডহুড নামের একটি কর্মসূচি থেকে ‘ছবিভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে ইনস্টাগ্রামকে শিশুদের স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য বিপজ্জনক আখ্যায়িত করা হয়। কর্মসূচির পক্ষে ৯৯ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান স্বাক্ষরিত খোলা চিঠিতে ইনস্টাগ্রাম কিডস প্রকল্প বাতিলের আহ্বান জানানো হয়।

নতুন এক ব্লগ পোস্টে মোজেরি জানান, ১০ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের জন্য ইনস্টাগ্রামের একটি সংস্করণ চালু করা বাস্তব সমাধান বলে এখনও মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘পরিচয়পত্রবিহীন শিশুদের বয়স যাচাইয়ের কাজের জন্য অ্যাপের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করার চেয়ে ইনস্টাগ্রামের নতুন সংস্করণ চালু করাই অধিক কার্যকর সিদ্ধান্ত। কারণ বাস্তবতা হচ্ছে, শিশুরা ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করছে।’

ইনস্টাগ্রাম কিডসের কাজ স্থগিত থাকলেও বিদ্যমান অ্যাপে ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের অ্যাকাউন্টগুলো যেন অভিভাবকরা তত্ত্বাবধান করতে পারেন, তা নিশ্চিতে কাজ করছে ইনস্টাগ্রাম। এ বিষয়ে কয়েক মাসের মধ্যেই আরও ঘোষণা আসবে বলেও জানিয়েছেন মোজেরি।

আরও পড়ুন:
করোনা: সাড়ে ৪ মাস পর মৃত্যুশূন্য ময়মনসিংহ বিভাগ
৭৭ দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যু, শনাক্ত ৩১৬৭
করোনা আক্রান্তদের ৯০ শতাংশই গ্রামের
এক দিনে মৃত্যু ৮৮, শনাক্ত ৩৪৩৬
পশ্চিমবঙ্গের ভোট সহিংসতার তদন্ত গড়াল সুপ্রিম কোর্টে

শেয়ার করুন