নিউজিল্যান্ডে ‘সন্ত্রাসী হামলা’, আইএস অনুসারী নিহত

নিউজিল্যান্ডে ‘সন্ত্রাসী হামলা’, আইএস অনুসারী নিহত

ফাইল ছবি

নিহত হামলাকারী শ্রীলঙ্কান বংশোদ্ভূত বলে জানিয়েছে পুলিশ। ২০১১ সাল থেকে তিনি নিউজিল্যান্ডে বাস করছিলেন। ২০১৬ সালে প্রথম তাকে জাতীয় নিরাপত্তায় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেন গোয়েন্দারা। হামলাকারী আইএস মতাদর্শের অনুসারী হলেও তার সঙ্গে জঙ্গিগোষ্ঠীটির কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।

নিউজিল্যান্ডের একটি সুপার মার্কেটে এক ব্যক্তির ছুরিকাঘাতে ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছে। হামলাকারীকে গুলি করে হত্যা করেছে পুলিশ।

প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আহডার্ন জানিয়েছেন, হামলাকারী ব্যক্তি জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) অনুসারী ছিলেন এবং গোষ্ঠীটির ‘সহিংস উগ্রবাদী’ মতাদর্শে বিশ্বাস করতেন।

আগে থেকেই তার ওপর পুলিশ নজরদারি করছিল বলেও জানান কিউই প্রধানমন্ত্রী।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়েস্ট অকল্যান্ডের এ ঘটনা ঘটে স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেলে। একটি সুপার মার্কেটে প্রবেশের পর হামলাকারী ব্যক্তি ছয়জনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এরপর তাকে গুলি করে পুলিশ।

আহতরা সবাই বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নিহত হামলাকারী শ্রীলঙ্কান বংশোদ্ভূত বলে জানিয়েছে পুলিশ। ২০১১ সাল থেকে তিনি নিউজিল্যান্ডে বাস করছিলেন। ২০১৬ সালে প্রথম তাকে জাতীয় নিরাপত্তায় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেন গোয়েন্দারা।

হামলাকারী আইএস মতাদর্শের অনুসারী হলেও তার সঙ্গে জঙ্গিগোষ্ঠীটির কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। স্বতঃপ্রণোদিত হয়েই হামলা চালান তিনি।

শুক্রবারের হামলার আগেই তার হামলার পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে পেরেছিলেন গোয়েন্দারা এবং প্রধানমন্ত্রীকেও অবহিত করেছিলেন।

জেসিন্ডা আহডার্ন বলেন, ‘আজ যা ঘটেছে, তা ন্যক্কারজনক। এটা অন্যায়, বিদ্বেষপ্রসূত। একজন ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে। এর সঙ্গে কোনো বিশ্বাস, সংস্কৃতি- কিছুরই সম্পর্ক নেই। আমরা বিশ্বাস ও সমর্থন করি না, এমন একটি মতাদর্শের অনুসারী ছিল ওই ব্যক্তি।

‘তাকে আমরা অনেক দিন ধরেই অব্যাহতভাবে পর্যবেক্ষণ ও নজরদারি করে আসছিলাম।

‘সে যখন হামলা চালায়, তার ওপর নজরদারির অংশ হিসেবে তখনও আশপাশেই পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিল।’

২০১৯ সালের ১৫ মার্চ ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার সাক্ষী হয় নিউজিল্যান্ড। অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত কট্টর এক শ্বেতাঙ্গ উগ্রবাদীর হামলায় ক্রাইস্টচার্চ এলাকার মসজিদে নিহত হন ৫১ জন মুসলিম।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ফের জোট সরকারেই নির্ভর করতে হচ্ছে ট্রুডোকে

ফের জোট সরকারেই নির্ভর করতে হচ্ছে ট্রুডোকে

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে স্ত্রী সোফি গ্রেগরি ও সন্তানদের নিয়ে বিজয় উদযাপনের আয়োজনে অংশ নেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় পর্যায়ে লিবারেল পার্টি পেয়েছে ১৫৬টি ইলেক্টোরাল আসন। আগে ১৫৫টি আসন ছিল দলটির। আর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ পার্টি পেয়েছে ১২১টি আসন। ৩৩৮টি আসনে পার্লামেন্টে একক সরকার গঠনে ন্যূনতম আসন দরকার ছিল ১৭০টি। ২০১৯ সালের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে বামঘেঁষা জগমিৎ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) সঙ্গে জোট সরকার গঠন করে লিবারেল পার্টি।

টানা তৃতীয় মেয়াদে কানাডার প্রধানমন্ত্রী থাকছেন জাস্টিন ট্রুডো। তবে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় এবারও একক সরকার গঠন করতে পারছে না তার দল লিবারেল পার্টি।

আগাম নির্বাচন দেয়ায় ট্রুডোর প্রধানমন্ত্রিত্ব নিয়েই টানাপোড়েনের শঙ্কার মধ্যে এবারের ভোটেও সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে উদারপন্থিরা। একই সঙ্গে হাউজ অফ কমন্সে আগের চেয়ে একটি আসন বেড়েছে তাদের।

নির্বাচনে জয়ের প্রতিক্রিয়ায় ট্রুডো বলেন, ‘আপনারা (কানাডিয়ান নাগরিক) আবারও আমাদের ক্ষমতায় এনেছেন। এর মাধ্যমে এটা স্পষ্ট যে চলমান মহামারির অশান্তি কাটিয়ে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে এগোনোর প্রশ্নে জনতার পূর্ণ সমর্থন পেয়েছি আমরা।’

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে স্ত্রী সোফি গ্রেগরি ও সন্তানদের নিয়ে বিজয় উদযাপনের আয়োজনে অংশ নেন ট্রুডো। মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে আমরা প্রস্তুত।’

বার্তা সংস্থা এএফপি ও রয়টার্সের বরাত দিয়ে ফ্রান্স টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সোমবার রাতেই পরাজয় মেনে নিয়েছেন প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা রক্ষণশীল এরিন ও’টুল। ৪৪তম সাধারণ নির্বাচনের ভোটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পেয়েছে তার দল।

১৮৬৭ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে কানাডা শাসন করে আসছে লিবারেল আর কনজারভেটিভরা। এবারের নির্বাচনপূর্ব জরিপে দল দুটির আধিপত্য ছিল প্রায় সমান।

২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার দায়িত্ব নেন ট্রুডো। সেবার কানাডার রাজনীতিতে ‘সোনার ছেলে’ খ্যাত ট্রুডোর দল পেয়েছিল নিরঙ্কুশ জয়। কিন্তু ২০১৯ সালে পরের নির্বাচনেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় লিবারেলরা।

দ্বিতীয় মেয়াদে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তার সরকারের দায়িত্ব পালনের কথা ছিল। কিন্তু মহামারি ইস্যুতে ট্রুডোর সংখ্যালঘু সরকার পার্লামেন্টে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ায় হঠাৎই আগস্টে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

আগাম নির্বাচনে জয়ের ফলে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বড় অংকের আর্থিক সহায়তা দিতে পারবে সরকার। একই সঙ্গে দ্রুতগতিতে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা কার্যক্রম পরিচালনারও সুযোগ পাবে।

স্থানীয় দুই সংবাদমাধ্যম সিবিসি ও সিটিভি জানিয়েছে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় অন্য দলের সহযোগিতা নিয়ে এবারও জোট সরকার গঠন করতে হবে ট্রুডোকে।

২০১৯ সালের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে বামঘেঁষা জগমিৎ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) সঙ্গে জোট সরকার গঠন করে লিবারেল পার্টি।

কানাডিয়ান নির্বাচন কমিশন ইলেকশন্স কানাডা জানিয়েছে, জাতীয় পর্যায়ে লিবারেল পার্টি পেয়েছে ১৫৬টি ইলেক্টোরাল আসন। আগে ১৫৫টি আসন ছিল দলটির। আর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ পার্টি পেয়েছে ১২১টি আসন। ৩৩৮টি আসনে পার্লামেন্টে একক সরকার গঠনে ন্যূনতম আসন দরকার ছিল ১৭০টি।

তবে ডাকযোগে পাঠানো ভোটের গণনা এখনও শুরু হয়নি। প্রায় আট লাখ মেইল-ইন ব্যালট গোনা শুরু হবে মঙ্গলবার। মেইল-ইন ব্যালট কমপক্ষে দুটি আসনের ফল পাল্টে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

সুদানে সামরিক অভ্যুত্থান চেষ্টা

সুদানে সামরিক অভ্যুত্থান চেষ্টা

সেনা অভ্যুত্থানের ব্যর্থ চেষ্টার পর সুদানের রাজধানী খার্তুমের স্বাভাবিক চিত্র। ছবি: এএফপি

এক সামরিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানায়, সামরিক বাহিনীর সশস্ত্র কোরের কিছু সদস্য এই বিদ্রোহের মূল হোতা। তারা সরকারি টেলিভিশন ভবনসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু শুরুতেই তাদেরকে থামিয়ে দেয়া হয়।

অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সুদানের সরকারকে উৎখাত করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনীর কিছু সদস্য। সরকার বলছে, অভ্যুত্থান করতে চাওয়া সেনা সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সুদানের সরকারি টেলিভিশনে অভ্যুত্থানকে প্রতিহত করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান হয়। চ্যানেলটিতে মঙ্গলবার সকাল থেকেই দেশাত্মবোধক গান চালানো হচ্ছে।

সরকারি টেলিভিশনে বলা হয়, ‘জনগণকে বিষয়টা অনুধাবন করতে হবে যে, অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করা হয়েছে।’

ক্ষমতাসীন দলের জ্যেষ্ঠ নেতা তাহের আবু হাজা বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, ‘ক্ষমতা দখলের প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করা হয়েছে।’

আর ক্ষমতাসীন সামরিক-বেসরকারি কাউন্সিলের সদস্য মোহামেদ আল ফাকি সুলেইমান নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেশের জনগণকে তাদের পাশে থাকার আহ্বান জানান।

এক সামরিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানায়, সামরিক বাহিনীর সশস্ত্র কোরের কিছু সদস্য এই বিদ্রোহের মূল হোতা। তারা সরকারি টেলিভিশন ভবনসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু শুরুতেই তাদেরকে থামিয়ে দেয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, বিদ্রোহীদের মধ্যে উচ্চ র‍্যাঙ্কের অফিসার ও সৈনিক ছিলেন, যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি সংখ্যাটি না জানালেও সিএনএন বলছে, গ্রেপ্তারকৃত সামরিক সদস্যের সংখ্যা প্রায় ৪০।

এ ঘটনায় রাজধানী খার্তুমে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা শিগগিরই আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন।

আল জাজিরা জানায়, খার্তুমের অবস্থা এখন স্বাভাবিক। মঙ্গলবার রাজপথে যান চলাচলও নির্বিঘ্ন আছে।

শেয়ার করুন

কঠিন চ্যালেঞ্জ সহজে জিতলেন ট্রুডো

কঠিন চ্যালেঞ্জ সহজে জিতলেন ট্রুডো

বাসায় বসে পরিবারের সবাইকে নিয়ে টেলিভিশনে নির্বাচনের ফল দেখছেন জাস্টিন ট্রুডো। ছবি: কানাডিয়ান প্রেস

করোনাভাইরাসের ধাক্কায় বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং এই মহামারি মোকাবিলায় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেশবাসীর সমর্থন পেতে নির্ধারিত সময়ের দুই বছর আগে এই নির্বাচন দেন ট্রুডো। এই নির্বাচন তার জন্য কঠিন পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

কানাডায় কঠিন চ্যালেঞ্জের আগাম নির্বাচনে সহজ জয় পেয়েছে জাস্টিন ট্রুডোর লিবারেল পার্টি। নির্বাচনে বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ে বেশি আসন পাওয়ায় দেশটির ক্ষমতায় কোনো পরিবর্তন আসছে না।

কানাডিয়ান টেলিভিশনের বরাতে ট্রুডোর দলের জয় নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

ট্রুডোর জয় নিশ্চিত করেছে কানাডার সিটিভি নিউজ। সবশেষ ফলাফলে তারা জানিয়েছে, নির্বাচনে ট্রুডোর লিবারেল পার্টি পেয়েছে ১৫৪টি আসন। আর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ পার্টি পেয়েছে ১২১টি আসন।

করোনাভাইরাসের ধাক্কায় বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং এই মহামারি মোকাবিলায় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেশবাসীর সমর্থন পেতে নির্ধারিত সময়ের দুই বছর আগে এই নির্বাচন দেন ট্রুডো।

এই নির্বাচন তার জন্য কঠিন পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছিল, কিন্তু ফলাফল বলছে যে সমর্থন লিবারেল পার্টি পেয়েছে তাতে প্রধানমন্ত্রী থাকছেন ট্রুডোই।

তবে লিবারেল পার্টি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে কি না তা জানতে আরও অপেক্ষা করা লাগবে। কানাডায় এককভাবে সরকার গঠনে ৩৩৮টি ফেডারেল আসনের মধ্যে ১৭০টি আসন পেতে হয়। সেই ম্যাজিক ফিগারে ট্রুডোর দল পৌঁছাতে পারবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী পিয়েরে ট্রুডোর সন্তান ৪৯ বছর বয়সী জাস্টিন ট্রুডো ২০১৫ সাল থেকে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন। ক্যারিশমেটিক প্রগতিশীল নেতা হিসেবে সারা বিশ্বে তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে।

প্রথম দফায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করলেও ২০১৯ সালের নির্বাচনে তা হারান ট্রুডো। সেই থেকে পার্লামেন্টে নাজুক অবস্থায় ছিল তার দল। এ কারণে ট্রুডোর সরকার নিতে পারছিল না প্রয়োজনীয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণে এবং বিভিন্ন নীতিতে পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার সরকারের দরকার লিবারেল পার্টির।

শেয়ার করুন

নভেম্বরে দুয়ার খুলছে যুক্তরাষ্ট্র

নভেম্বরে দুয়ার খুলছে যুক্তরাষ্ট্র

হোয়াইট হাউসের মহামারিবিষয়ক সমন্বয়ক জেফ জেইন্টস বলেন, ‘আকাশপথে যাত্রার নতুন নীতিমালার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসতে অথবা ফিরতে ইচ্ছুক প্রত্যেক যাত্রীকে করোনারোধী টিকার দুই ডোজ আগেই নিশ্চিত করতে হবে।’

করোনার সংক্রমণরোধে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে আরোপিত বাধা উঠে যাচ্ছে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। দুই ডোজ টিকা নেয়া ব্যক্তিরা প্রবেশ করতে পারবেন দেশটিতে।

গত বছর মার্চে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সময় আরোপিত এই নিষেধাজ্ঞা ১৮ মাস পরে তুলে দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

সোমবার হোয়াইট হাউসের মহামারিবিষয়ক সমন্বয়ক জেফ জেইন্টস এই ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘আকাশপথে যাত্রার নতুন নীতিমালার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসতে অথবা ফিরতে ইচ্ছুক প্রত্যেক যাত্রীকে করোনারোধী টিকার দুই ডোজ আগেই নিশ্চিত করতে হবে।’

সংবাদমাধ্যম বিবিসিস্ট্রেইটস টাইমসের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই এমন তথ্য।

দুই ডোজ নেয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে আসার কমপক্ষে তিন দিন আগে পাওয়া করোনার নেগেটিভ সার্টিফিকেট কর্তৃপক্ষকে দেখাতে হবে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আরও বলেন, ‘পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মিলিত হতে ও ছোট-বড় ব্যবসায় প্রাণ ফিরে পেতে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়া হচ্ছে।

‘যুক্তরাষ্ট্রের বিমানচলাচল খাতের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার পাশপাশি দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’

দেড় বছর ধরে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, ইরান ও চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। তবে মেক্সিকো ও কানাডা থেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে তেমন কোনো বাধা ছিল না।

নতুন এই নীতিমালায়, কেবল যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, বাসিন্দা ও বিদেশি নাগরিক যাদের বিশেষ ভিসার অনুমতি রয়েছে তারা যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে পারবে।

এ সপ্তায় জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনসহ ইউরোপ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা।

শেয়ার করুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নেতৃত্বে সুকান্ত মজুমদার

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নেতৃত্বে সুকান্ত মজুমদার

বিজেপির রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব নেয়া ড. সুকান্ত মজুমদার। ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গে দিলীপ ঘোষের জায়গায় রাজ্য বিজেপির সভাপতি পদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বালুরঘাটের সাংসদ ড. সুকান্ত মজুমদারকে। মঙ্গলবার সভাপতির দায়িত্ব নেবেন সুকান্ত। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা সাংগঠনিক রদবদলের এ ঘোষণা দিলেও ‘কারণ’ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করেননি।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতির পদে হঠাৎ পরিবর্তন এসেছে। মেয়াদ শেষের অনেক আগে সভাপতির চেয়ার থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে দিলীপ ঘোষকে। সে পদে বসানো হয়েছে বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদারকে।

নতুন নেতৃত্বের বিষয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটি সোমবার বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। এতে বলা হয়, দিলীপ ঘোষের জায়গায় রাজ্য বিজেপির সভাপতি পদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বালুরঘাটের সাংসদ ড. সুকান্ত মজুমদারকে। মঙ্গলবার সভাপতির দায়িত্ব নেবেন সুকান্ত।

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা সাংগঠনিক রদবদলের এ ঘোষণা দিলেও ‘কারণ’ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করেননি।

এদিকে নতুন দায়িত্ব পেয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘দিলীপদা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমাদের মূল লক্ষ্য, দলকে শক্তিশালী করা। দিলীপদা দলের যে শক্তিশালী ভিত তৈরি করে গিয়েছেন, তা মজবুত করাই আমার লক্ষ্য। বাঙালির ভবিষ্যৎ ও বাঙালির অস্তিত্বের জন্য বিজেপির শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন।’

বিজেপির রাজ্য সভাপতি হিসেবে দিলীপ ঘোষের মেয়াদ শেষের কথা ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে। তার অনেক আগেই দিলীপকে সরিয়ে দেয়ার কারণ অনুসন্ধান করছে রাজনৈতিক মহল। বিজেপিতে যখন ভাঙন শুরু হয়েছে, তখন উত্তরবঙ্গের সাংসদকে রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব দেয়ার এ ঘটনা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

বিজেপির একটি সূত্রের দাবি, রাজ্য সভাপতির পদে দিলীপ ঘোষ তার উত্তরসূরি সুকান্তকে নিজেই পছন্দ করেছেন। দিলীপ ঘোষ দায়িত্ব নেবেন মুকুল রায়ের ছেড়ে যাওয়া সর্বভারতীয় সহসভাপতি হিসেবে।

পদ বদলের ঘটনায় দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘নতুন সভাপতিকে অভিনন্দন। আমাদের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নেয়, এটাও নিয়েছে। যিনি রাজ্য সভাপতি হলেন, তিনি আমারও সভাপতি। তিনি সামনে থাকবেন, আমরা তার নেতৃত্বে কাজ করব।’

শেয়ার করুন

৫ থেকে ১১ বছর বয়সীদের ওপর কার্যকর ফাইজারের টিকা

৫ থেকে ১১ বছর বয়সীদের ওপর কার্যকর ফাইজারের টিকা

শিশুদের দেহে টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগে প্রাক-প্রাথমিক স্কুলশিক্ষার্থীদের খুব অল্প পরিমাণে ডোজ দিয়েছে ফাইজার। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি ডোজের এক-তৃতীয়াংশ দিয়ে এক ডোজ দিয়েছে শিশুদের। তাও দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার পর শিশুদের দেহে কিশোর ও তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের সমপরিমাণই করোনাবিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।

পাঁচ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের ওপর কার্যকর ফাইজার-বায়োএনটেকের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে শিশুদের দেহে টিকাটি নিরাপদ ও কার্যকর বলে প্রমাণ মিলেছে।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান ফাইজার ও জার্মানির জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বায়োএনটেক যৌথ ঘোষণায় জানায় এ খবর। বলা হয়, শিগগিরই পাঁচ থেকে ১১ বছর বয়সীদের টিকাটি প্রয়োগে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর অনুমোদন চাইবে ফাইজার।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ১২ বছর ও এর বেশি বয়সীদের টিকাটি প্রয়োগে আগেই অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কিন্তু এখন সববয়সী শিশুরা স্কুলে ফিরেছে। এমন সময়ে করোনাভাইরাসের অধিক সংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার বাড়ছে বলে উদ্বিগ্ন শিশুবিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও অভিভাবকরা। তারা শিশুদের টিকার জন্য উদগ্রীব।

শিশুদের দেহে টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগে প্রাক-প্রাথমিক স্কুলশিক্ষার্থীদের খুব অল্প পরিমাণে ডোজ দিয়েছে ফাইজার। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি ডোজের এক-তৃতীয়াংশ দিয়ে এক ডোজ দিয়েছে শিশুদের।

তাও দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার পর শিশুদের দেহে কিশোর ও তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের সমপরিমাণই করোনাবিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।

ফাইজারের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. বিল গ্রুবার বলেন, ‘শিশুদের জন্য নির্ধারিত স্বল্প পরিমাণের ডোজ নিরাপদ। টিকাগ্রহণে প্রাপ্তবয়স্করা যেমন কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভুগতে পারেন, তেমনই জ্বর, চুলকানি, হাতে ব্যথার মতো সাধারণ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া শিশুদের দেহেও দেখা যেতে পারে।

পাঁচ থেকে ১১ বছর বয়সীদের টিকাদানে জরুরি অনুমোদনের জন্য এ মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থার (এফডিএ) কাছে আবেদন করবে ফাইজার। পরে যুক্তরাজ্য আর ইউরোপের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কাছেও আবেদন করবে।

পশ্চিমা দেশগুলোর বেশিরভাগই ১২ বছরের কমবয়সীদের করোনা প্রতিরোধী টিকা এখনও দিচ্ছে না। এই বয়সী শিশুদের জন্য সঠিক ডোজের মাত্রা জানার অপেক্ষায় রয়েছে দেশগুলো।

তবে ক্যারিবীয় দেশ কিউবায় দুই বছরের বেশি বয়সী শিশুদেরও নিজস্ব গবেষণায় আবিষ্কৃত টিকা দেয়া হচ্ছে। তিন বছরের বেশি বয়সীদের জন্য চীনও নিজস্ব টিকাদানে অনুমতি দিয়েছে।

শেয়ার করুন

টিকটকের চীনা সংস্করণে শিশুদের জন্য সময় দিনে ৪০ মিনিট

টিকটকের চীনা সংস্করণে শিশুদের জন্য সময় দিনে ৪০ মিনিট

প্রতীকী ছবি

বাইটড্যান্স জানিয়েছে, আপাতত শিশু-কিশোরদের জন্য দুইনে ব্যবহারের নিয়ম কঠোর করা হচ্ছে। পরে শিশু-কিশোরদের শেখার মতো গুণগত মানসম্পন্ন কনটেন্ট প্রচারেও কাজ করবে প্রতিষ্ঠানটি।

জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মের চীনা সংস্করণ দুইনে দিনে সর্বোচ্চ ৪০ মিনিট সময় কাটাতে পারবে চীনের শিশুরা। ১৪ বছরের কমবয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে এ নিয়ম।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনে প্রতিদিন স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে যে কোনো সময় সর্বোচ্চ ৪০ মিনিট অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারবে শিশুরা।

বেইজিংভিত্তিক ইন্টারনেট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্স নিয়ন্ত্রণ করে দুইনে অ্যাপ। এক ব্লগ পোস্টে প্রতিষ্ঠানটি অ্যাপটির ইয়ুথ মোড চালু করার কথা জানিয়েছে।

স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মে এরকম নিষেধাজ্ঞা এটাই প্রথম।

জানা গেছে, নতুন নিয়মে কেবল আসল নাম ব্যবহারকারীরাই দুইনে অ্যাপ ব্যবহার করতে পারবে। এটি ব্যবহারে কোনো ন্যূনতম বয়স বেঁধে দেয়া নেই। তবে ১৮ বছরের কমবয়সীদের বৈধ অভিভাবকের অনুমতি নিয়ে অ্যাপটি ব্যবহার করতে হয়।

টিকটক ব্যবহারের ন্যূনতম বয়স ১৩ বছর।

দুইনের ইয়ুথ মোডে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা, জাদুঘরের প্রদর্শনী বা ঐতিহাসিক ব্যাখ্যাসহ শিক্ষাবিষয়ক কোনো কনটেন্ট নেই।

বাইটড্যান্স জানিয়েছে, আপাতত শিশু-কিশোরদের জন্য দুইনে ব্যবহারের নিয়ম কঠোর করা হচ্ছে। পরে শিশু-কিশোরদের শেখার মতো গুণগত মানসম্পন্ন কনটেন্ট প্রচারেও কাজ করবে প্রতিষ্ঠানটি।

গত মাসে অনলাইন ভিডিও গেমসেও শিশুদের দৈনিক সময়সীমা বেঁধে দেয় চীনা সরকার। ১৮ বছরের কমবয়সীদের জন্য সাপ্তাহিক কর্মদিবস, অর্থাৎ স্কুল খোলা থাকার দিনগুলোতে ভিডিও গেমসে সময় দেয়া নিষিদ্ধ করেছে বেইজিং। শুধু শুক্রবার আর সাপ্তাহিক ও অন্য ছুটির দিনগুলোতে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা করে ভিডিও গেমস খেলতে পারবে শিশুরা।

এর আগে ফেব্রুয়ারিতে স্কুলে মোবাইল ফোন নেয়া নিষিদ্ধ করে বেইজিং।

ইন্টারনেটে চীনের শিশু, কিশোর ও তরুণ প্রজন্ম প্রচুর বাড়তি সময় কাটাচ্ছে বলে গত তিন বছর ধরে সতর্ক করে আসছিল দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। বলা হচ্ছিল, বিষয়টি পরবর্তী প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

শেয়ার করুন