‘নিউ ইয়র্কের রাস্তায় নায়াগ্রা ফলস’, ৪ অঙ্গরাজ্যে ৪৩ মৃত্যু

‘নিউ ইয়র্কের রাস্তায় নায়াগ্রা ফলস’, ৪ অঙ্গরাজ্যে ৪৩ মৃত্যু

নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে পানিতে তলিয়ে যাওয়া একটি সড়ক। ছবি: এএফপি

অনলাইনে প্রকাশিত বিভিন্ন ফুটেজে পানির তোড়ে রাস্তাঘাটে ভেসে যাওয়া গাড়ি থেকে মানুষের আর্তনাদ শোনা গেছে। পানি উঠে যাওয়ায় গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথে আটকে থেকেছে ট্রেন, বাস ও বিমানযাত্রীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় চার অঙ্গরাজ্যে আকস্মিক বন্যা ও কয়েকটি টর্নেডোর আঘাতে প্রাণ গেছে কমপক্ষে ৪৩ জনের। এসব অঞ্চলে জারি রয়েছে জরুরি অবস্থা।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, নজিরবিহীন বৃষ্টিপাত হয়েছে নিউ ইয়র্ক ও নিউজার্সিতে। পেনসিলভানিয়া, কানেকটিকাটসহ চারটি অঙ্গরাজ্যে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন দেড় লাখের বেশি মানুষ।

নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল বলেন, ‘আমাদের জানা ছিল না যে গত রাতে ৮টা ৫০ থেকে ৯টা ৫০-এর মধ্যে স্বর্গের দরজা খুলে যাবে আর নিউ ইয়র্কের রাস্তায় নায়াগ্রা ফলসের মতো পানি দেখব আমরা।’

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, আকস্মিক অতি বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট বন্যায় বিভিন্ন ভবনের বেজমেন্ট আর গাড়িতে আটকা পড়েন অনেক মানুষ।

সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে নিউজার্সিতে। সেখানে মারা গেছে ২৩ জন। অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর ফিল মারফি জানান, এদের বেশিরভাগই গাড়িতে ছিলেন। পানির উচ্চতা বাড়তে থাকায় দম আটকে মৃত্যু হয় তাদের।

নিউ ইয়র্কে মারা গেছে দুই বছরের এক শিশুসহ কমপক্ষে ১৪ জন। এদের মধ্যে ১১ জনের মৃত্যু হয় ভবনের বেজমেন্টে আটকা পড়ে, পানিতে ডুবে।

অনলাইনে প্রকাশিত বিভিন্ন ফুটেজে পানির তোড়ে রাস্তাঘাটে ভেসে যাওয়া গাড়ি থেকে মানুষের আর্তনাদ শোনা গেছে।

পানি উঠে যাওয়ায় গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথে আটকে থেকেছে ট্রেন, বাস ও বিমানযাত্রীরা।

আবহাওয়াবিদদের সমালোচনা করে নিউ ইয়র্ক শহরের মেয়র বিল ডি ব্লাসিও বলেন, ‘আবহাওয়ার পূর্বাভাস কয়েক মিনিটে কৌতুকে পরিণত হয়েছে। আমাদের বলা হয়েছিল যে, দিনভর তিন থেকে ছয় ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। অথচ এক ঘণ্টাতেই রেকর্ড তিন দশমিক ১৫ ইঞ্চি বৃষ্টি হয়ে গেল।

‘আমাদের এখন জনগণকে বলা শুরু করতে হবে যে, সব পরিস্থিতিতেই ধারণার চেয়েও আক্ষরিক অর্থেই বেশি খারাপ অবস্থার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে আপনাদের।’

আর্থিক ক্ষতি খতিয়ে দেখতে শুরু করেছেন বাসিন্দারা। নিউজার্সিতে টর্নেডোতে গুঁড়িয়ে গেছে অঙ্গরাজ্যটির সবচেয়ে বড় দুগ্ধজাত পণ্যের খামার। মারা গেছে অনেকগুলো গরু।

প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ধ্বংসযজ্ঞ ‘জীবন-মৃত্যুর বিষয়’ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। দুর্যোগ মোকাবিলায় ‘নজিরবিহীন তহবিল’ দরকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে হারিকেন ইডার প্রভাবে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয় লুইজিয়ানা ও মিসিসিপি অঙ্গরাজ্য। স্থানীয় সময় রোববার ঝড়টি আঘাত হানার পর থেকে এখনও লুইজিয়ানায় বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ৯ লাখ বাড়িঘর। শুক্রবার অঙ্গরাজ্যটির দুর্যোগকবলিত এলাকা পরিদর্শনের কথা রয়েছে বাইডেনের।

অন্যদিকে দাবানলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি অব্যাহত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে।

সম্প্রতি বিরূপ আবহাওয়ার সাক্ষী হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চল। ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চল, এশিয়ার চীন, ভারত, আফগানিস্তান, আফ্রিকার নাইজারে বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দাবদাহ ও দাবানলে বিপর্যস্ত উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপ।

অতি বৃষ্টি, বন্যা, খরাসহ সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতাকে দায়ী করেছেন পরিবেশবিদরা। কয়লা, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়ানোর কারণে শিল্প বিপ্লবের পর থেকে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বেড়েছে এক দশমিক দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আরও পড়ুন:
গ্রিনল্যান্ডের বরফের চূড়ায় প্রথম বৃষ্টির পরশ
তুরস্কে বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৭০
তুরস্কে আকস্মিক বন্যায় প্রাণ গেল ৩৮ জনের
ভয়াবহতম বন্যার মাস পেরোতেই নতুন বিপর্যয়ে চীন
আলজেরিয়ায় দাবানলে প্রাণহানি বেড়ে ৬৫

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিসিএস প্রশাসন একাডেমির লিজ বাতিলের দাবিতে সমাবেশ

বিসিএস প্রশাসন একাডেমির লিজ বাতিলের দাবিতে সমাবেশ

মেরিন ড্রাইভ সড়কে রোববার বিকেলে মানবপ্রাচীরে অংশ নেন এলাকাবাসীসহ পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতাকর্মী। ছবি: নিউজবাংলা

বাপা কক্সবাজারের সভাপতি বলেন, ‘কক্সবাজারের সংরক্ষিত বনে প্রশাসন একাডেমি গড়ে উঠলে এই অঞ্চলের পশুপাখি উদ্বাস্তু হয়ে যাবে। নতুন করে ৭০০ একর বনভূমি ধ্বংস করা হলে মানুষের নিঃশ্বাস নেয়াও বন্ধ হয়ে যাবে। দ্রুত লিজ বাতিল না হলে আরও কঠোর আন্দোলন ঘোষণা করা হবে।’

কক্সবাজারের কলাতলীর দরিয়া নগরের শুকনাছড়ির ৭০০ একর বনভূমিতে বিসিএস প্রশাসন একাডেমির লিজ বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন পরিবেশবাদীরা।

মেরিন ড্রাইভ সড়কে রোববার বিকেলে মানবপ্রাচীরসহ সমাবেশ করেছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

মেরিন ড্রাইভ সড়কের শুকনাছড়িতে মুখে কালো পতাকা বেঁধে মানবপ্রাচীরে অংশ নেন এলাকাবাসীসহ পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতাকর্মী।

মানবপ্রাচীর কর্মসূচি শেষে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাপা কক্সবাজারের সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী।

বক্তব্য দেন বাপা কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ ও সাংগঠনিক সম্পাদক এইচএম নজরুল ইসলামসহ অনেকে।

ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, ‘সংরক্ষিত বনে প্রশাসন একাডেমি গড়ে উঠলে এই অঞ্চলের পশুপাখি উদ্বাস্তু হয়ে যাবে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কারণে এরই মধ্যে হাতিসহ পশুপাখির বিশাল আবাসস্থল ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রতিনিয়ত মারা পড়ছে হাতি।

‘নতুন করে ৭০০ একর বনভূমি ধ্বংস করা হলে মানুষের নিঃশ্বাস নেয়াও বন্ধ হয়ে যাবে। দ্রুত লিজ বাতিল না হলে আরও কঠোর আন্দোলন ঘোষণা করা হবে।’

বিসিএস প্রশাসন একাডেমির লিজ বাতিলের দাবিতে সমাবেশ
মেরিন ড্রাইভ সড়কে রোববার বিকেলে মানবপ্রাচীরে অংশ নেন এলাকাবাসীসহ পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতাকর্মী। ছবি: নিউজবাংলা

কলিম উল্লাহ বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণ করতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক সংলগ্ন শুকনাছড়ির রক্ষিত বনভূমির ৭০০ একর জমি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এলাকাটি প্রতিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন।’

তিনি বলেন, ‘বিপন্ন এশীয় বন্যহাতিসহ দেশের অনেক বিপন্নপ্রায় বন্যপ্রাণীর নিরাপদ বসতি কক্সবাজারের এই বনভূমি। এখানে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণের যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তা স্পষ্টত পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। এডমিন একাডেমির নামে দেয়া বন্দোবস্ত শিগগিরই বাতিল করতে হবে।’

সমাবেশে বলা হয়, ১৯৯০ সালে জারি করা ভূমি মন্ত্রণালয়ের একটি পরিপত্রে উল্লেখ রয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড় ও পাহাড়ের ঢাল বন্দোবস্তযোগ্য নয়। ওই জমি বনায়নের জন্য ব্যবহার করবে বনবিভাগ। বন আইন অনুযায়ী, এ ধরনের রক্ষিত বনে কোন ধরনের স্থাপনা করা নিষিদ্ধ।

কলিম উল্লাহ আরও বলেন, ‘ভূমি মন্ত্রণালয় দেশের অন্যতম জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ সংরক্ষিত এ বনভূমিকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে খাসজমি হিসেবে দেখিয়েছে। ঝিলংজা মৌজার এ বনভূমি যে খাসজমি নয়, তা সরকারি নথি ও রেকর্ডেই আছে।’

তিনি বলেন, ‘ভূমি মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব মালিকানাধীন ছাড়া যেকোন জমি কাউকে দিতে হলে তা আগে অধিগ্রহণ করতে হবে। ভূমি মন্ত্রণালয় এ ধরনের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বরং চার হাজার ৮০০ কোটি টাকা মূল্যের ৭০০ একর জমি মাত্র এক লাখ টাকায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে দেয়া হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের এ ধরনের কাজে রাষ্ট্রের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।’

বাপা জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি কর্মচারীরা যথেচ্ছভাবে ক্ষমতা, সরকারি অর্থ ও সম্পদের ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন। দুর্নীতি ও অনিয়মের নতুন নতুন পথ নির্মাণ করছেন। কক্সবাজারে নতুন প্রশাসন একাডেমি এমন আরেকটি উদ্যোগ।’

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সেভ দ্যা নেচার অফ বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলা সভাপতি ওমর ফয়েজ হৃদয়, বাপা নেতা সমীর পাল, জসিম উদ্দিন, ঈসমাইল সাজ্জাদ, এম ওসমান আলী, আজিম নিহাদ, মোহাম্মদ হোসাইন, দোলন ধর, পারভেজ মোশাররফ, শহিদুল ইসলাম শাহেদসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
গ্রিনল্যান্ডের বরফের চূড়ায় প্রথম বৃষ্টির পরশ
তুরস্কে বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৭০
তুরস্কে আকস্মিক বন্যায় প্রাণ গেল ৩৮ জনের
ভয়াবহতম বন্যার মাস পেরোতেই নতুন বিপর্যয়ে চীন
আলজেরিয়ায় দাবানলে প্রাণহানি বেড়ে ৬৫

শেয়ার করুন

সুরমা যেন আবর্জনার ভাগাড়

সুরমা যেন আবর্জনার ভাগাড়

সিলেট নগরের কুশীঘাট থেকে টুকেরবাজার প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়েই সুরমাকে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করা হয়েছে। এই এলাকা ঘুরে দেখা গেছে একেবারে বিবর্ণ হয়ে গেছে সুরমা। নদীর পানিতে ভাসছে অসংখ্য আবর্জনার স্তুপ।

দেখে মনে হতে পারে একটা ড্রেন; আবর্জনার ভাগাড়ও মনে হতে পারে। এমনই দশা সিলেট নগরের বুক চিড়ে বয়ে চলা সুরমা নদীর। যেন নগরীর সব কদর্যতা ধারণ করে আছে সুরমা।

তার উপর নদীর দুই তীর দখল করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য স্থাপনা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসেবেই, সিলেটে সুরমার দুই তীর দখল করে রেখেছেন ১১১ দখলদার। তারা গড়ে তুলেছেন দুই শতাধিক স্থাপনা। তবে পরিবেশকর্মীদের হিসাবে দখলদারের সংখ্যা আরও বেশি।

অব্যাহত দখল ও দূষণে হুমকির মুখে দেশের দীর্ঘতম এই নদী।

বিশ্বের সব দেশের মতো পালিত হচ্ছে বিশ্ব নদী দিবস। প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের শেষ রোববার পালিত হয় এই দিবস। এবার দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ‘মানুষের জন্য নদী’।

নদী দিবসে যেন সুরমা তার দুঃখ মেলে ধরেছে। শুষ্ক মৌসুমে এমনিতেই শুকিয়ে মরা খালে পরিণত হয় সুরমা। হেঁটেই পার হওয়া যায় নদীর এপার থেকে ওপার। পলি জমে গজিয়ে ওঠে চর। এর মধ্যে তীর দখল ও নদীতে বর্জ্যের কারণে এখন মৃতপ্রায় সুরমা। বর্ষায় তীর উপচে পানি ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের জনপদে। দেখা দেয় বন্যা।

সিলেট নগরের কুশীঘাট থেকে টুকেরবাজার প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়েই সুরমাকে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করা হয়েছে। এই এলাকা ঘুরে দেখা গেছে একেবারে বিবর্ণ হয়ে গেছে সুরমা। নদীর পানিতে ভাসছে অসংখ্য আবর্জনার স্তুপ।

নগরীর কাজীর বাজার মাছের আড়তে গিয়ে দেখা যায় ককশিট ও মাছের খাঁচা ভাসছে নদীতে। বাজারের সব আবর্জনা সরাসরি ফেলে দেয়া হয় নদীতে।

কাজীরবাজারের মাছের আড়তের শৌচাগারের পাইপ সরাসরি নামানো হয়েছে নদীতে। সরেজমিন দেখা গেছে, নদীতে গিয়ে পড়ছে শৌচাগারের ময়লা। এছাড়া পাশের বস্তির টয়লেটের ময়লার পাইপও নদীতে সরসরি লিংক করা সুরমায়।

একইভাবে সিলেটের পাইকারী বাজার কালীঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে পেঁয়াজ-রসুনের খোসা ভেসে যাচ্ছে নদীতে। কালীঘাটের সব আবর্জনা সরাসরি নদীতে ফেলা হয় বলে জানালেন ওই এলাকার পরিচ্ছন্নতাকর্মী আবুল হোসেন।

তিনি জানান, সিটি করপোরেশনের গাড়ি এসে যে আবর্জনা নিয়ে যায় তার চেয়ে পাঁচগুণ আবর্জনা ফেলা হয় নদীতে। নদীর পানি দিন দিন দুষিত হয়ে পড়ছে। ওই পানি হাতে লাগলে চুলকায়।

নগরীর মাছিমপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গৃহস্থালির যাবতীয় ময়লা ফেলা হচ্ছে নদীতে। আবার পাশেই দলবেঁধে নদীতে গোসল করছেন এলাকার লোকজন।

নগরীতে বর্জ্য ব্যবস্থা গড়ে না ওঠা ও পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এমনটি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আবার নগরবাসীর সচেতনতার অভাবকেও দায়ী করেছেন তারা।

এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক এমরান হোসেন বলেন, ‘নদীর এ চিত্র আমাকেও পীড়া দেয়। আমাদের অফিসটাও নদীর পাশেই। সিলেট সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি আছে। তারা চাইলে নদীর পানি দূষণ রোধ ও আবর্জনা ফেললে ব্যবস্থা নিতে পারত, কিন্তু তারা সেটি করছে না। তারা যদি ব্যবস্থা নেয় তাদেরকে আমাদের পক্ষ থেকেও সহযোগিতা করা যাবে।’

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু মানুষের অভ্যাস পরিবর্তন হচ্ছে না। সবার আগে অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। সচেতন হতে হবে। সচেতন হলেই আমাদের নদী রক্ষা করা সম্ভব।’

পরিবেশ অধিদপ্তরের বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি তাদের দায়িত্ব। তারা এ ব্যপারে ব্যবস্থা নিতে পারে।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) সিলেটের সমন্বয়ক শাহ শাহেদা জানান, ১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে নদী, খাল, পুকুর ভরাট ও দূষণ করা যাবে না, এমনকি শ্রেণি পরিবর্তণ করা যাবে না বলে উল্লেখ রয়েছে। একইভাবে ২০১৩ সালের পানি অধিকার আইনেও পানি নিষ্কাশনে বাধা দেয়া যাবে না বা দূষণ করা যাবে না বলে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া ২০০০ সালের জলাধার আইনেও নদীর শ্রেনী পরিবর্তন করা যাবে না বলে উল্লেখ রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সিলেট সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকা থেকে ময়লা-আবর্জনা ফেলে নদীর পানি দূষণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি। এসব তথ্য সংগ্রহ হলেই বেলার পক্ষ থেকে আইনী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

বন্ধ উচ্ছেদ অভিযান

২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সুরমা নদীর দখলদারের চিহ্নিত করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এর মধ্যে সিলেট নগরে সুরমা নদীর ১১১ দখলদারকে চিহ্নিত করা হয়। তারা নদীর ৩ হাজার ৬০০ মিটার জায়গা দখর করে রেখেছেন বলে জানা যায়।

পাউবোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নদীর তীর দখল করে নির্মাণ করা অবৈধ স্থাপনায় আছে চাউলের আড়ত, মাইকের দোকান, কাপড়-জুতার দোকান, সেলুন, ফার্নিচার, সোনার দোকান, ফাস্টফুডের দোকান ও মাংসের দোকান। তবে প্রকৃত চিত্র এর চেয়ে আরও ভয়াবহ বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তালিকা করার পর ২০১৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর সারা দেশে একযোগে নদী তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু হয়। সিলেট নগরসহ কয়েকটি উপজেলায় চলে এই অভিযান। তবে একমাস পরেই এই উচ্ছেদ অভিযান মাঝপথে থেমে যায়।

উচ্ছেদ অভিযান থেমে যাওয়ার পর দখলমুক্ত হওয়া অনেক জায়গায় আবারও অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠছে।

এ ব্যাপারে পাউবো সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ শহীদুজ্জামান সরকার বলেন, ‘প্রকৃত দখলদারের সংখ্যা তালিকার চেয়েও বেশি সন্দেহ নেই। উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ হয়নি। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। অভিযান সব সময় চলবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিছু কিছু জায়গায় পুনরায় দখল হচ্ছে। বিষয়টি আমাদের নোটিসে আছে। যে কোনো সময় সেগুলো আবার উচ্ছেদ করা হবে।’

মৃতপ্রায় বেহাল সুরমার বিষয়ে নদী সুরক্ষার আন্তর্জাতিক অ্যালায়েন্সের সদস্য সুরমা রিভার ওয়াটার কিপার আব্দুল করিম কিম বলেন, ‘অব্যাহত দখল ও দূষণে এই নদী এখন অস্তিত্ব সঙ্কটে। নদীর দূষণ ও দখল ঠেকাতে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
গ্রিনল্যান্ডের বরফের চূড়ায় প্রথম বৃষ্টির পরশ
তুরস্কে বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৭০
তুরস্কে আকস্মিক বন্যায় প্রাণ গেল ৩৮ জনের
ভয়াবহতম বন্যার মাস পেরোতেই নতুন বিপর্যয়ে চীন
আলজেরিয়ায় দাবানলে প্রাণহানি বেড়ে ৬৫

শেয়ার করুন

নদী বাঁচানোর দাবিতে ‘নদী পরিভ্রমণ’

নদী বাঁচানোর দাবিতে ‘নদী পরিভ্রমণ’

মানুষ বাচাঁতে ও পরিবেশ-প্রতিবেশ ঠিক রাখতে এখনই নদীগুলোকে বাঁচানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ শাখা। ছবি: নিউজবাংলা

বাপার হবিগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, ‘নদীগুলো আজ নানামুখী অত্যাচারের চরম বিপর্যযের শিকার হচ্ছে। নদী নিয়ে ব্যবসা করা হচ্ছে। নদী দখল ও হত্যা করে আর্থিক ফায়দা লুটছে একশ্রেণির ক্ষতিকর মানুষ। নদীর উপর স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। যে কারণে নদী আজ মহাসঙ্কটাপন্ন।’

দখল-দূষণসহ নানা কারণে হবিগঞ্জ অধিকাংশ নদীই এখন বিলিন হয়ে গেছে। অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে জেলার সবগুলো বড় নদী। তাই মানুষ বাচাঁতে ও পরিবেশ-প্রতিবেশ ঠিক রাখতে এখনই নদীগুলোকে বাঁচানোর দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদিরা।

রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) ‘বিশ্ব নদী দিবস’। এবার নদী দিবসের প্রতিপাদ্য ‘মানুষের জন্য নদী’।

এ উপলক্ষে শনিবার হবিগঞ্জের খোয়াই নদীতে ‘নদী পরিভ্রমণ’ কর্মসূচি পালন করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ শাখা ও খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার।

এ সময় সংক্ষিপ্ত এক পথসভায় বক্তারা বলেন, বহু বছর ধরেই খোয়াই নদীর নাব্যতার ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। খোয়াই নদী খনন না হওয়াতে নদীর তলায় পলি ও বালি জমে স্থানে স্থানে চড়া পরেছে। নদীর তলদেশ শহর থেকে ১২ থেকে ১৫ ফুট উঁচু হয়ে উঠেছে। যে কারণে নদীকে শহর থেকে অন্তত ১০ ফুট গভীরে নিতে দ্রুত খনন করতে হবে।

তারা অভিযোগ করেন, খোয়াই নদী থেকে যন্ত্র দ্বারা অপরিকল্পিত-অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের কারণে নদী সংকটাপন্ন অবস্থায় আছে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পরেছে নদীর বিভিন্ন স্থানের বাঁধ। নদীতে বর্জ্য ফেলার কারণে দুষিত হচ্ছে পানি। অবৈধভাবে মাটি-বালু উত্তোলন বন্ধ না করলে পরিবেশ আরও বিপর্যয়ের মূখে পড়বে।

নদী বাঁচানোর দাবিতে ‘নদী পরিভ্রমণ’

বাপার হবিগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, ‘নদীগুলো আজ নানামুখী অত্যাচারের চরম বিপর্যযের শিকার হচ্ছে। নদী নিয়ে ব্যবসা করা হচ্ছে। নদী দখল ও হত্যা করে আর্থিক ফায়দা লুটছে একশ্রেণির ক্ষতিকর মানুষ। নদীর উপর স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। যে কারণে নদী আজ মহাসঙ্কটাপন্ন।’

মুক্তিযুদ্ধা মোহাম্মদ আলী মুমিন বলেন, ‘আমরা যখন নৌকা পরিভ্রমণে গিয়েছি। তখন খোয়াই মুখ থেকে মশাজান পর্যন্ত নদীতে অগণিত ড্রেজার মেশিন চোখে পরেছে। অবৈধ বালু, মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে।

‘এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে নদী, তীরবর্তী বাড়িঘর-রাস্তাঘাট ও পরিবেশের। দ্রুত এসব বন্ধ না করলে খোয়াই নদী খুব শিগগিরই বিলিন হয়ে যাবে। তখন কৃষিজমিতে সেচ ব্যহতসহ বিভিন্ন বিপর্য নেমে আসবে জেলাজুড়ে।’

কর্মসূচিতে আরও অংশ নেন বিশিষ্ট রাজনীতিক ও সাবেক জনপ্রতিনিধি হাবিবুর রহমান, বিজন বিহারী দাস, চিকিৎসক ও পরিবেশকর্মী এসএস আল-আমীন সুমন, আফরোজা ছিদ্দিকা, তারুণ্য সোসাইটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম।

আরও পড়ুন:
গ্রিনল্যান্ডের বরফের চূড়ায় প্রথম বৃষ্টির পরশ
তুরস্কে বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৭০
তুরস্কে আকস্মিক বন্যায় প্রাণ গেল ৩৮ জনের
ভয়াবহতম বন্যার মাস পেরোতেই নতুন বিপর্যয়ে চীন
আলজেরিয়ায় দাবানলে প্রাণহানি বেড়ে ৬৫

শেয়ার করুন

জলবায়ু শরণার্থীদের টেকসই পুনর্বাসনের দাবি

জলবায়ু শরণার্থীদের টেকসই পুনর্বাসনের দাবি

ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ চেঞ্জ মেকার ও সেভ ফিউচার বাংলাদেশ নামে ২টি পরিবেশবাদী সংগঠন এ মানববন্ধনের আয়োজন করে। ছবি: নিউজবাংলা

মানববন্ধনে ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ চেঞ্জমেকার সংগঠনের ঢাকা জেলার সভাপতি সাদিয়া আফরোজ বলেন, ‘একটি দেশ বা অঞ্চলের আবহাওয়া ও জলবায়ু সেখানে মানুষের জীবিকা, জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির ওপর প্রভাব রাখে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ বর্তমানে জনজীবন ও প্রাণীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।’

জলবায়ু পরিবর্তনে দায় না থাকলেও এর প্রভাবে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ। এর নেতিবাচক প্রভাবে অনেকেই শরণার্থীতে পরিণত হচ্ছে।

তাদের টেকসই পুনর্বাসনসহ জীবনমান উন্নয়নে বেশকিছু দাবি করেছেন পরিবেশবাদীরা।

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে এ দাবি করা হয়। ‘ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ চেঞ্জমেকার’ ও ‘সেভ ফিউচার বাংলাদেশ’ নামে দুটি পরিবেশবাদী সংগঠন এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।

জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় গণজাগরণ তৈরি করতে ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী ‘গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক’ কর্মসূচি উপলক্ষে এ মানববন্ধন করা হয়।

মানববন্ধনে ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ চেঞ্জমেকার সংগঠনের ঢাকা জেলার সভাপতি সাদিয়া আফরোজ বলেন, ‘একটি দেশ বা অঞ্চলের আবহাওয়া ও জলবায়ু সেখানে মানুষের জীবিকা, জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির ওপর প্রভাব রাখে।

‘বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ প্রকৃতির বিভিন্ন অসামঞ্জস্যতা জনজীবন ও প্রাণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী এখন বিলুপ্তির পথে।’

‘সেভ ফিউচার বাংলাদেশ’-এর সমন্বয়ক নয়ন সরকার বলেন, ১৬ কোটি মানুষের বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। আমাদের জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ শিশু। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের কারণে শিশুরা অনিরাপদ ও অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে।’

তিনি বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে হিমালয়ের বরফ গলতে থাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। এতে ঘূর্ণিঝড়, খরা, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা ও মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধির মতো দুর্যোগও বাড়ছে।

বিভিন্ন গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, সমুদ্রের উচ্চতা এক মিটার বাড়লে বাংলাদেশের ২০ শতাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে ২০৫০ সালের মধ্যে ২ কোটিরও বেশি মানুষ জলবায়ু উদ্বাস্তু হতে পারে।

মানববন্ধনে অন্য বক্তারা বলেন, খুব দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই সবাইকে সচেতন হতে হবে। পরিবেশবান্ধব পণ্য ও যন্ত্রাংশ ব্যবহারের দিকে নজর দিতে হবে।

মানববন্ধনে সরকারের কাছে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো,

. জলবায়ু শরণার্থীদের টেকসই পুর্নবাসন করতে হবে।

. উপকূল এলাকাজুড়ে টেকসই ব্লক ও বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। ... স্থায়ীভাবে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে হবে।

. উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে হবে।

. এ ছাড়া দেশের পাহাড়, বনাঞ্চল, গাছপালা, বন্য প্রাণী ও নদনদী সর্বোপরি পরিবেশ রক্ষা ও সংরক্ষণ করতে হবে।

বৈশ্বিক উদ্যোগের বিষয়ে মানববন্ধনে বলা হয়,

.প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হবে।

. অভিযোজন ক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতা করতে হবে।

. বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রিতে নামিয়ে আনতে হবে।

. কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

. সবুজ জলবায়ু তহবিলে যে অর্থ বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি রয়েছে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

. ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

আরও পড়ুন:
গ্রিনল্যান্ডের বরফের চূড়ায় প্রথম বৃষ্টির পরশ
তুরস্কে বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৭০
তুরস্কে আকস্মিক বন্যায় প্রাণ গেল ৩৮ জনের
ভয়াবহতম বন্যার মাস পেরোতেই নতুন বিপর্যয়ে চীন
আলজেরিয়ায় দাবানলে প্রাণহানি বেড়ে ৬৫

শেয়ার করুন

কুয়াকাটা সৈকতে ফের মৃত ডলফিন

কুয়াকাটা সৈকতে ফের মৃত ডলফিন

কুয়াকাটা সৈকতে সাতদিনের মাথায় ভেসে এসেছে আরেকটি মৃত ডলফিন। ছবি: নিউজবাংলা

কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটি জানায়, এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর আরেকটি মৃত ডলফিন ভেসে আসে এই সৈকতে। সেটির লেজ জালে প্যাঁচানো ছিল। এ নিয়ে চলতি বছর ২২টি মৃত ডলফিন কুয়াকাটায় ভেসে এসেছে।

সাত দিনের মাথায় কুয়াকাটা সৈকতে আবারও ভেসে এসেছে একটি মৃত ডলফিন।

সৈকতের তেত্রিশকানি পয়েন্টে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে ৫ ফুট লম্বা ডলফিনটি ভেসে আসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির সদস্যদের খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে যান।

কমিটির সদস্য কে এম বাচ্চু জানান, ডলফিনটির শরীরের উপরিভাগের চামড়া অনেকটা উঠে গেছে, তবে অর্ধগলিত না। ডলফিনটির মাথায় আঘাতের চিহ্ন আছে। ধারণা করা হচ্ছে, জেলেদের আঘাতে এটির মৃত্যু হয়েছে।

কমিটির আরেক সদস্য আবুল হোসেন রাজু জানান, এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর আরেকটি মৃত ডলফিন ভেসে আসে এই সৈকতে। সেটির লেজ জালে প্যাঁচানো ছিল। এ নিয়ে চলতি বছর ২২টি মৃত ডলফিন কুয়াকাটায় ভেসে এসেছে।

পটুয়াখালীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘মৃত্যুর কারণ জানতে ডলফিনের ময়নাতদন্তের চেষ্টা করা হবে। সে লক্ষ্যে ঘটনাস্থলে এরই মধ্যে বিট কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে।

‘এর আগেও একাধিক মৃত ডলফিন সৈকতে ভেসে এসেছিল । বিষয়টি আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। এর আগে পাওয়া একটি মৃত ডলফিনের অংশ পরীক্ষার জন্য আমরা মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের দপ্তরে পাঠিয়েছি। সেটির রিপোর্ট এখনও আসেনি।’

ডলফিন নিয়ে কাজ করা ইকোফিশ-২ প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ মীর মোহাম্মদ আলীর মতে, সাগরের পরিবেশের পরিবর্তনের কারণেও এসব ডলফিন মারা যেতে পারে। তবে এটিই কারণ কি না তা জানতে প্রচুর গবেষণা দরকার। এ ছাড়া সাগরে খাদ্যের অভাব বা অক্সিজেনের স্বল্পতার অভাবেও ডলফিনগুলো মারা যেতে পারে।

কুয়াকাটা সৈকতে ফের মৃত ডলফিন

প্রকল্পের আরেক বিশেষজ্ঞ সাগরিকা স্মৃতি জানান, সাগরে মাছ ধরার সময় জালে এসব ডলফিন পেঁচিয়ে গেলে জেলেরা শক্ত কোনো বস্তু দিয়ে এগুলোকে আঘাত করে। অনেক সময় প্যাঁচানো জাল কেটে দেয়। তখন এরা মারা যায়। মৃতদেহ ভাসতে ভাসতে তীরে আসে। এ জন্য জেলেদের সচেতন করতে হবে।

স্মৃতি আরও জানান, সচেতন করতে এরই মধ্যে কুয়াকাটায় জেলেদের নিয়ে একাধিক মিটিং ও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্লাহ জানান, এক বছর আগে ডলফিন মারা যাবার কারণ উদঘাটনে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটির সুপারিশে পাঁচটি কারণের মধ্যে অন্যতম প্রধান দুটি কারণকে দায়ী করা হয়েছিল।

কারণ দুটি হলো সাগরে জেলেদের জালে ডলফিন আটকে যাওয়া ও বড় জাহাজের পাখনায় ডলফিনের আঘাত পাওয়া।

এমদাদুল্লাহ আরও জানান, ওই দুই কারণ নিয়ে কাজ করতে সুপারিশ করা হয়েছিল। সেগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি।

আরও পড়ুন:
গ্রিনল্যান্ডের বরফের চূড়ায় প্রথম বৃষ্টির পরশ
তুরস্কে বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৭০
তুরস্কে আকস্মিক বন্যায় প্রাণ গেল ৩৮ জনের
ভয়াবহতম বন্যার মাস পেরোতেই নতুন বিপর্যয়ে চীন
আলজেরিয়ায় দাবানলে প্রাণহানি বেড়ে ৬৫

শেয়ার করুন

বায়ুদূষণে বছরে ৭০ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু

বায়ুদূষণে বছরে ৭০ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু

বায়ু দূষণে বেশি ভুগছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো। ছবি: সংগৃহীত

বায়ুদূষণ মানুষের স্বাস্থ্যের যে ব্যাপক ক্ষতি করছে, তার ‘পরিষ্কার প্রমাণ’ রয়েছে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। আর ক্ষতির পরিমাণ ধারণার চেয়ে অনেক বেশি বলে সংগঠনটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বায়ুদূষণে সবচেয়ে বেশি ভুগছে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলো।

বায়ুদূষণের কারণে ফুসফুসে ক্যানসার, হৃৎপিণ্ডজনিত সমস্যা, স্ট্রোক ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ৭০ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

বায়ুদূষণজনিত মৃত্যু কমাতে ২০০৫ সালের পর প্রথমবারের মতো বায়ুমান নির্ধারণে নতুন গাইডলাইন নির্ধারণ করেছে ডব্লিউএইচও।

এই গাইডলাইন অনুযায়ী ১৯৪টি সদস্য রাষ্ট্রকে নভেম্বরে কোপ২৬ সম্মেলনের আগেই বায়ুদূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন রোধে পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতিসংঘের আওতাধীন সংস্থাটি।

এর উদ্দেশ্য বায়ুর নানা দূষণ কমিয়ে আনা। সেই সঙ্গে বায়ুর সঙ্গে মিশ্রিত অতি ক্ষুদ্র পদার্থ ও নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড হ্রাস করা, যা জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোয় তৈরি হয়।

ডব্লিউএইচও বলেছে, ‘মানব স্বাস্থ্যের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি বায়ুদূষণ অন্যতম ভয়াবহ পরিবেশগত ঝুঁকি।’

বায়ুদূষণ মানুষের স্বাস্থ্যের যে ব্যাপক ক্ষতি করছে তার ‘পরিষ্কার প্রমাণ’ রয়েছে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। আর ক্ষতির পরিমাণ ধারণার চেয়ে অনেক বেশি বলে সংগঠনটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বায়ুদূষণে সবচেয়ে বেশি ভুগছে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলো। কারণ এসব দেশ জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর বেশি নির্ভরশীল।

যানবাহনের ধোঁয়া ও গ্যাসজাতীয় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ। আর বায়ুতে অতিক্ষুদ্র কণাগুলো গঠিত হয় বায়ুতে মিশে থাকা বিভিন্ন রাসায়নিকের বিক্রিয়ার ফলে। এসব রাসায়নিকের উৎস রঙের ব্যবহার, বিভিন্ন ধরনের জীবাণুনাশক তরল ও দ্রবণ।

আরও পড়ুন:
গ্রিনল্যান্ডের বরফের চূড়ায় প্রথম বৃষ্টির পরশ
তুরস্কে বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৭০
তুরস্কে আকস্মিক বন্যায় প্রাণ গেল ৩৮ জনের
ভয়াবহতম বন্যার মাস পেরোতেই নতুন বিপর্যয়ে চীন
আলজেরিয়ায় দাবানলে প্রাণহানি বেড়ে ৬৫

শেয়ার করুন

বিদেশে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ বন্ধ করছে চীন

বিদেশে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ বন্ধ করছে চীন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে বুধবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং বক্তব্য রাখেন ভিডিও বার্তার মাধ্যমে। ছবি: এএফপি

বিভিন্ন দেশে কয়লা জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্প বন্ধের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি বেইজিং। কিন্তু এ পদক্ষেপে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় অনেক দেশে কয়লাভিত্তিক কারখানার কর্মপরিধি সীমিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কয়েক বছরের মধ্যে ২০২১ সালেই প্রথম ছয় মাসে কয়লাভিত্তিক কোনো প্রকল্পে তহবিল দেয়নি বেইজিং।

জ্বালানি হিসেবে কয়লা ব্যবহার করা হবে, বহির্বিশ্বে এমন কোনো প্রকল্পে আর বিনিয়োগ করবে না চীন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে বুধবারের বক্তব্যে এ আশ্বাস দেন চীনের প্রেসিডেন্ট চি শিনপিং।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে কার্বন নিঃসরণ কমাতে চীনের এ পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদী বিশ্ব সম্প্রদায়।

অধিবেশনে ভিডিও বার্তায় শিনপিং বলেন, ‘অন্য দেশের কল্যাণে চীনের সহযোগিতামূলক প্রকল্প অব্যাহত থাকবে। পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি ব্যবহারে ন্যূনতম কার্বন নিঃসরণ ঘটে, এমন প্রকল্পে সাহায্য জোরদার করব আমরা। একই সঙ্গে কোনো দেশে নতুন করে কয়লা জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ করব না।’

চীনের প্রেসিডেন্টের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

উচ্চাভিলাষী বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে চীনের বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ রয়েছে। এশিয়া ও ইউরোপকে সড়ক, রেল ও নৌপথে যুক্ত করতে বেইজিংয়ের এ নিউ সিল্ক রোড প্রকল্পও বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অংশ।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ন্ত্রণে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে বিশ্ব সম্প্রদায়। এ অবস্থায় বিভিন্ন দেশে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ বন্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে দীর্ঘদিন ধরেই চাপের মুখে ছিল চীন।

বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় বেশিরভাগ উন্নয়নশীলসহ অনেকগুলো দেশে রেল, সড়ক, বন্দর ও কয়লাভিত্তিক কারখানা গড়ে তুলতে বিনিয়োগ করেছে চীন।

বিভিন্ন দেশে কয়লা জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্প বন্ধের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি বেইজিং। কিন্তু এ পদক্ষেপে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় অনেক দেশে কয়লাভিত্তিক কারখানার কর্মপরিধি সীমিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কয়েক বছরের মধ্যে ২০২১ সালেই প্রথম ছয় মাসে কয়লাভিত্তিক কোনো প্রকল্পে তহবিল দেয়নি বেইজিং।

চীন নিজেও বিশ্বের অন্যতম গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণকারী দেশ। অভ্যন্তরীণ জ্বালানির চাহিদা মেটাতেও কয়লার ওপর ব্যাপক নির্ভরশীল দেশটি।

২০৩০ সালের আগেই সর্বোচ্চ কার্বন নিঃসরণ শেষে ২০৬০ সালের মধ্যে চীনকে কার্বন নিরপেক্ষ দেশে পরিণত করা হবে বলে গত বছর আশ্বাস দিয়েছিলেন বেইজিং।

চিনপিংয়ের আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। জলবায়ু পরিবর্তন ও করোনাভাইরাস মহামারিসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় বিশ্বনেতাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
গ্রিনল্যান্ডের বরফের চূড়ায় প্রথম বৃষ্টির পরশ
তুরস্কে বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৭০
তুরস্কে আকস্মিক বন্যায় প্রাণ গেল ৩৮ জনের
ভয়াবহতম বন্যার মাস পেরোতেই নতুন বিপর্যয়ে চীন
আলজেরিয়ায় দাবানলে প্রাণহানি বেড়ে ৬৫

শেয়ার করুন