সাপের বিষে আছে করোনার ওষুধ!

সাপের বিষে আছে করোনার ওষুধ!

দক্ষিণ আমেরিকার আতঙ্ক পিট ভাইপার প্রজাতির সাপ জারারাকুসু। ছবি: সংগৃহীত

জারারাকুসুর বিষের আণবিক উপাদান বা মলিকিউল হলো এক ধরনের পেপটাইড বা দলবদ্ধ অ্যামিনো অ্যাসিড। এটি অন্য কোনো কোষে আঘাত করা ছাড়াই করোনাভাইরাসের পিএলপ্রো এনজাইম বা উৎসেচকের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারে। ভাইরাসের বংশবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ এই পিএলপ্রো উৎসেচক।

বিশেষ এক ধরনের সাপের বিষে প্রাপ্ত একটি উপাদান দিয়ে করোনাভাইরাসের বংশবিস্তার রোধ করা সম্ভব বলে মনে করছেন ব্রাজিলের গবেষকরা।

ধারণা সত্যি হলে কোভিড নাইনটিনের ওষুধ আবিষ্কারের পথে এটি সম্ভাব্য প্রথম উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। তবে এ জন্য সাপ ধরার বা পালার প্রয়োজন হবে না। গবেষণাগারেও উপাদানটি তৈরি করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ব্রাজিলের জারারাকুসু সাপের বিষের একটি আণবিক উপাদান করোনার বিস্তারকে বাধাগ্রস্ত করে। বানরের কোষে ওই উপাদান প্রয়োগের ফলে ভাইরাসের বিস্তারের সক্ষমতা ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো গেছে।

বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী মলিকিউলসে গত মাসে গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের অন্যতম লেখক ইউনিভার্সিটি অফ সাও পাওলোর অধ্যাপক রাফায়েল গুইদো বলেন, ‘ভাইরাসের খুব গুরুত্বপূর্ণ আমিষের অংশটিকে বাড়তে বাধা দিয়েছে সাপের বিষের ওই উপাদানটি।’

পিট ভাইপার প্রজাতির সাপ জারারাকুসু। এর বাস দক্ষিণ আমেরিকায়। অঞ্চলটির অন্যতম ‌আতঙ্ক সাপের বিষ মারাত্মক বিষাক্ত। একেকটি লম্বায় সোয়া দুই মিটার পর্যন্ত হতে পারে। বলিভিয়া, প্যারাগুয়ে আর আর্জেন্টিনাতেও দেখা মেলে এই সাপের।

জারারাকুসুর বিষের আণবিক উপাদান বা মলিকিউল হলো এক ধরনের পেপটাইড বা দলবদ্ধ অ্যামিনো অ্যাসিড। এটি অন্য কোনো কোষে আঘাত করা ছাড়াই করোনাভাইরাসের পিএলপ্রো এনজাইম বা উৎসেচকের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারে। ভাইরাসের বংশবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ এই পিএলপ্রো উৎসেচক।

ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী গুণের জন্য পরিচিত পেপটাইড রাসায়নিক সংশ্লেষণের মাধ্যমে গবেষণাগারেও তৈরি করা সম্ভব বলে জানান গুইদো।

অর্থাৎ এটি তৈরিতে সাপ ধরা বা পালার কোনো দরকার হবে না। অর্থাৎ পরিবেশ বা প্রাণীর ক্ষতি করা ছাড়াই এ ওষুধ তৈরি করা সম্ভব।

পরবর্তী ধাপে ডোজভেদে উপাদানটির কার্যকারিতার পার্থক্য নির্ণয় করবেন গবেষকরা। মানবকোষেও এটি পরীক্ষা হবে, তবে কবে, তা এখনও অস্পষ্ট।

আরও পড়ুন:
ডাবের পানি লবণের মিশ্রণে করোনা সারে না

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ইট্রাসক্যান সভ্যতার উৎপত্তি কোথায়

ইট্রাসক্যান সভ্যতার উৎপত্তি কোথায়

দুই ইট্রাসক্যান মানুষের সমাধি। ছবি: সায়েন্স এলার্ট

ইতালির ১২টি স্থান থেকে প্রাপ্ত প্রায় দুই হাজার বছর পুরোনো জেনোমিক ডেটার তথ্য অনুযায়ী, ইট্রাসক্যান সভ্যতার রহস্যময় মানুষরা আনাতোলিয়া (বর্তমানে তুরস্কের অঞ্চল) থেকে আসেনি। প্রাচীন রোমের কাছে বাস করা মানুষের সঙ্গে ইট্রাসক্যানদের জিনগত মিল পাওয়া গেছে।

প্রাচীন ইট্রাসক্যান সভ্যতার উৎপত্তি কোথায়, এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছে তর্ক-বিতর্ক। ইতালিতে সম্প্রতি ওই সভ্যতার মানুষের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।

দেহাবশেষের ডিএনএ পরীক্ষা করে অবশেষে ওই বিতর্কের সমাপ্তি ঘটেছে বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা।

সায়েন্স এলার্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, একসময় বিশেষজ্ঞদের ধারণা ছিল, আনাতোলিয়া বা আজিয়ান থেকে ইট্রাসক্যানরা ইতালিতে স্থানান্তরিত হয়। আর তাদের সংস্কৃতি গ্রিকদের থেকে পাওয়া।

এ ধারণা আধুনিক যুগের বিশেষজ্ঞরা মানতে রাজি ছিলেন না। কারণ স্থানান্তরের বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ববিদরা তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য প্রমাণ পাননি।

ইতালির ১২টি স্থান থেকে প্রাপ্ত প্রায় দুই হাজার বছর পুরোনো জেনোমিক ডেটার তথ্য অনুযায়ী, ইট্রাসক্যান সভ্যতার রহস্যময় মানুষরা আনাতোলিয়া (বর্তমানে তুরস্কের অঞ্চল) থেকে আসেনি। প্রাচীন রোমের কাছে বাস করা মানুষের সঙ্গে ইট্রাসক্যানদের জিনগত মিল পাওয়া গেছে।

নিউলিথিক যুগের শেষে ও ব্রোঞ্জ যুগের শুরুতে স্তেপ অঞ্চল থেকে প্রাচীন রোম অঞ্চলে স্থানান্তর হওয়া গবাদিপশু পালকরা ইট্রাসক্যানদের পূর্বপুরুষ।

স্তেপ অঞ্চলে ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষার উদ্ভব হয় বলে ধারণা করা হয়।

বিজ্ঞানীদের গবেষণা ইট্রাসক্যান সভ্যতা সম্পর্কে আরেকটি রহস্যের উদঘাটন করে। তা হলো, ওই সভ্যতার মানুষের নন ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষা (এখন বিলুপ্ত) কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত টিকে ছিল।

ইতালির ইউনিভার্সিটি অফ ফ্লোরেন্সের নৃবিজ্ঞানী ডেভিড ক্যারামেলি বলেন, ‘জিন ভাষার সমান-এ সাধারণ ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকা ইট্রাসক্যান মানুষের ভাষা।’

ইট্রাসক্যানদের সম্পর্কে আরও অনেক কিছু জানা বাকি। কেবল তাদের অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

ইট্রাসক্যানরা অসাধারণ কারিগর, দক্ষ ধাতুকর্মী ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন মানুষ। তাদের বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ভাষা সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের আংশিক ধারণা রয়েছে।

ইট্রাসক্যানদের বিলুপ্ত ভাষা তাদের উৎপত্তির অনুসন্ধান জটিল করে তোলে।

আরও পড়ুন:
ডাবের পানি লবণের মিশ্রণে করোনা সারে না

শেয়ার করুন

করোনার সামান্য সংক্রমণেও মস্তিষ্কের ক্ষতি

করোনার সামান্য সংক্রমণেও মস্তিষ্কের ক্ষতি

গবেষণায় দুই গ্রুপের মানুষের মস্তিষ্কের গ্রে ম্যাটারে পার্থক্য দেখতে পান বিজ্ঞানীরা। বিশেষ করে মস্তিষ্কে ফ্রন্টাল ও টেমপোরাল লোবস নামে পরিচিত অংশে করোনা আক্রান্ত গ্রুপের গ্রে ম্যাটারের ঘনত্ব কম ধরা পড়ে।

করোনাভাইরাস ১৮ মাসের বেশি সময় ধরে বিশ্বব্যাপী মানুষকে হুমকির মধ্যে রেখেছে। এটির সংক্রমণের সময় এমনকি পরেও স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি নানা ধরনের শারীরিক জটিলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে আক্রান্ত মানুষ।

মস্তিষ্কসহ পুরো শরীরে করোনার ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে গবেষণা জারি রেখেছেন বিজ্ঞানীরা। বার্ধক্যের মতো জৈবিক প্রক্রিয়ায় ভাইরাসটি দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনে এরই মধ্যে বলা হয়েছে।

টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক জেসিকা বারনার্ড বলেন, ‘আমার আগের গবেষণা বার্ধক্যের সঙ্গে স্বাভাবিক মস্তিষ্ক পরিবর্তন ঘিরে ছিল।

‘এ পরিবর্তন মধ্য বয়সি ও তার চেয়ে বেশি বয়সি ব্যক্তিদের চিন্তা ও চলাফেরার ক্ষমতায় পরিবর্তন আনে।

‘তবে সম্প্রতি বিভিন্ন গবেষণায় জানা গেছে, করোনায় সংক্রমিত হওয়ার পর শরীর ও মস্তিষ্কের ওপর এর প্রভাব কয়েক মাস বা তারও বেশি সময় ধরে থাকতে পারে।

‘এটি জানার পর আমার গবেষণা দল বার্ধক্যের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় করোনা কীভাবে প্রভাব ফেলে, তা অনুসন্ধানে আগ্রহী হয়।’

সায়েন্স এলার্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের আগস্টে করোনা হওয়া ব্যক্তিদের মস্তিষ্কে পরিবর্তন নিয়ে প্রাথমিক তবে বড় আকারের গবেষণা করেন বিজ্ঞানীরা। ওই গবেষণা স্নায়ুবিজ্ঞানীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

গবেষণাটিতে ইউকে বায়োব্যাংক নামের হাতের নাগালে থাকা ডেটাবেজের ওপর নির্ভর করেন বিজ্ঞানীরা। ইউকে বায়োব্যাংকে ২০১৪ সালে ৪৫ হাজারের বেশি মানুষের ব্রেন ইমেজিং ডেটা ছিল। এর অর্থ করোনা মহামারির আগে ওই সব ব্যক্তির সবার বেইজলাইন ডেটা ও ব্রেন ইমেজিং ইউকে বায়োব্যাংকে রয়েছে।

ওই সব ব্যক্তির ব্রেন ইমেজিং ডেটা বিশ্লেষণ করেন গবেষণা দলটি। এরপর ওই ব্যক্তিদের মধ্যে যারা করোনায় আক্রান্ত হন, তাদের ব্রেন স্ক্যান করা হয়।

করোনায় আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তি ও আক্রান্ত না হওয়া ব্যক্তিদের আলাদা করেন গবেষকরা। দুই গ্রুপের বয়স, লিঙ্গ, বেইজলাইন টেস্ট ডেটা ও অবস্থানের ওপর সতর্ক নজর রাখেন তারা। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থানের মতো রোগের অন্যান্য ঝুঁকির ওপরও লক্ষ রাখা হয়।

গবেষণায় দুই গ্রুপের মানুষের মস্তিষ্কের গ্রে ম্যাটারে পার্থক্য দেখতে পান বিজ্ঞানীরা।

বিশেষ করে মস্তিষ্কে ফ্রন্টাল ও টেমপোরাল লোবস নামে পরিচিত অংশে করোনা আক্রান্ত গ্রুপের গ্রে ম্যাটারের ঘনত্ব কম ধরা পড়ে।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণত গ্রে ম্যাটারের ঘনত্বে পরিবর্তন আসে। তবে করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ পরিবর্তন বেশি ছিল।

গবেষণায় আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় উঠে আসে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বেশি অসুস্থ ব্যক্তি ও ভাইরাসটির সংক্রমণ শরীরে কম হওয়া ব্যক্তির মস্তিষ্কে পরিবর্তন একই ছিল।

অর্থাৎ করোনার ভয়াবহ ও মৃদু জটিলতায় ভোগা ব্যক্তিদের মস্তিষ্কে গ্রে ম্যাটারের ঘনত্ব একই পরিমাণে কমে যায়।

গবেষকরা আরও জানতে পারেন, করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা তথ্য প্রক্রিয়াকরণে বেশি সময় নেন, যা ভাইরাসটিতে আক্রান্ত না হওয়া ব্যক্তিরা নেন না।

আরও পড়ুন:
ডাবের পানি লবণের মিশ্রণে করোনা সারে না

শেয়ার করুন

আমেরিকায় সবচেয়ে পুরোনো পায়ের ছাপ নিউ মেক্সিকোয়

আমেরিকায় সবচেয়ে পুরোনো পায়ের ছাপ নিউ মেক্সিকোয়

এই পায়ের ছাপগুলো ২৩ হাজার ও ২১ হাজার বছরের ভেতরকার বলে ধারণা বিজ্ঞানীদের। ছবি: বোর্নমাউথ ইউনিভার্সিটি

২৩ হাজার ও ২১ হাজার বছরের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে মানুষের বেশ কয়েকটি পায়ের ছাপ আবিষ্কার করেছেন যুক্তরাজ্যের একদল বিজ্ঞানী।

এশিয়ার মানুষ উত্তর আমেরিকায় কবে নাগাদ পৌঁছেছিল, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে।

মহাদেশটিতে পাওয়া পাথরের বিভিন্ন উপাদান দেখে ১৬ হাজার বছরেরও আগে মানুষ সেখানে যায় বলে একদল গবেষক দাবি করে আসছেন।

তবে এ নিয়ে বরাবরই সন্দেহ পোষণ করে আসছেন বেশ কয়েকজন গবেষক।

সম্প্রতি বিজ্ঞানীদের এক আবিষ্কার আগের গবেষকদের দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৩ হাজার ও ২১ হাজার বছরের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে মানুষের বেশ কয়েকটি পায়ের ছাপ আবিষ্কার করেছেন যুক্তরাজ্যের একদল বিজ্ঞানী।

তাদের ধারণা, কমপক্ষে সাত হাজার বছর আগে উত্তর আমেরিকায় মানুষ বসতি গড়ে।

এমনটা হলে মহাদেশটিতে কবে বসতি স্থাপন হয়, সে সম্পর্কে প্রচলিত মত পাল্টে যাবে।

গবেষকদলের ধারণা, অন্য মহাদেশ থেকে ওই সময় উত্তর আমেরিকায় ব্যাপক হারে মানুষজন আসে, যেটি সম্পর্কে এখনও জানা যায়নি।

এসব মানুষ সম্ভবত বিলুপ্ত হয়ে গেছে বলেও ধারণা গবেষকদের।

নিউ মেক্সিকোর হোয়াইট স্যান্ডস এলাকার নরম কাদামাটিতে মানুষের পায়ের ছাপগুলো পাওয়া যায়।

পায়ের ছাপের মাপ দেখে গবেষকরা মনে করছেন, সেগুলো কিশোর ও কম বয়সি শিশুদের পায়ের ছাপ। তাদের পায়ের ছাপের পাশাপাশি কখনও কখনও প্রাপ্তবয়স্কদেরও পায়ের ছাপ পাওয়া গেছে।

এ ছাপগুলো দেখে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আদি বাসিন্দাদের জীবন কেমন ছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন গবেষকরা।

কিশোররা সে সময় অনাবিষ্কৃত মহাদেশটিতে কী করছিল, তা নিশ্চিত নন বিজ্ঞানীরা। তবে বয়স্কদের শিকারে তারা সহযোগিতা করতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

গবেষকদলের সদস্য ও যুক্তরাজ্যের বোর্নমাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. স্যালি রেনল্ডস বলেন, ‘সে সময় খুব অল্প সময়ের ভেতর শিকার করা জন্তুদের খাবার উপযোগী করা হতো।

‘এ জন্য আগুন জ্বালানো হতো। জন্তুদের চর্বি গলানো হতো। এসব কাজের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি কাঠ, পানিসহ অন্যান্য জিনিসপত্র সম্ভবত শিশু-কিশোররাই সরবরাহ করত।’

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষকদলের আরেক সদস্য ম্যাথিউ বেনেট বলেন, ‘উত্তর আমেরিকায় মানুষের বসতি স্থাপনা ঘিরে নানা বিতর্ক থাকার বড় কারণ- এ বিষয়ে পরিষ্কার ডাটা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।’

আরও পড়ুন:
ডাবের পানি লবণের মিশ্রণে করোনা সারে না

শেয়ার করুন

শিশুদের মলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের অপ্রত্যাশিত উপস্থিতি

শিশুদের মলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের অপ্রত্যাশিত উপস্থিতি

সাম্প্রতিক গবেষণায় এক বছর বয়সী শিশুদের মলে উল্লেখযোগ্য হারে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়। ছবি: সংগৃহীত

মাইক্রোপ্লাস্টিক পেটে গেলে শরীরে কী ধরনের প্রভাব পড়ে, তা এখনও অজানা। তবে এটির যে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব নেই, তা আগের মতো বলা যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, সেল মেমব্রেন থেকে সংবহনতন্ত্রে প্রবেশ করতে পারে মাইক্রোপ্লাস্টিক। এতে কোষের স্বাভাবিক ক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।

মাইক্রোপ্লাস্টিক কোথায় নেই? বরফে ঢাকা অ্যান্টার্কটিকার সমতল থেকে শুরু করে সাগরের গভীর তলদেশ সর্বত্রই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়।

প্লাস্টিকের বাটিতে খাবার খাওয়ার কারণে আমাদের মলেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

তবে একই এলাকায় বসবাসরত প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে শিশুদের পেটে সম্প্রতি নতুন এক প্রাথমিক গবেষণায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি বেশি পাওয়া যায়।

সায়েন্স এলার্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরে গড়ে এক বছর বয়সি ছয়টি শিশুর মলে ১০ জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির চেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।

গবেষণা অনুসন্ধানে বলা হয়, প্লাস্টিকের তৈরি চুষনি চোষা ও পাত্রে খাদ্যগ্রহণ, প্লাস্টিকের খেলনা মুখে দেয়ায় প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে শিশুরা প্লাস্টিকের সান্নিধ্যে বেশি আসে।

গবেষণাপত্রে গবেষকরা বলেন, ‘আমাদের গবেষণায় শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের মলে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়।

‘এ বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে আমরা মনে করি।’

মাইক্রোপ্লাস্টিক পেটে গেলে শরীরে কী ধরনের প্রভাব পড়ে, তা এখনও অজানা। তবে এটির যে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব নেই, তা আগের মতো বলা যাচ্ছে না।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, সেল মেমব্রেন থেকে সংবহনতন্ত্রে প্রবেশ করতে পারে মাইক্রোপ্লাস্টিক। এতে কোষের স্বাভাবিক ক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।

নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির শিশু বিশেষজ্ঞ কুরুনথাচালাম কান্নানের নেতৃত্বাধীন গবেষণা দলটি মানবদেহের সংস্পর্শে আসা দুই ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক মূল্যায়নে আগ্রহী ছিলেন।

এদের একটি পলিথিলিন টেরেফথালেট (পিইটি), যা খাবার প্যাকেটজাত ও পোশাক তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। অন্যটি খেলনা ও বোতলে ব্যবহৃত পলিকার্বনেট (পিসি)।

এক বছর বয়সি ছয়টি শিশু ও ১০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মলের নমুনা সংগ্রহ করেন গবেষকরা। পাশাপাশি তিনটি নবজাতকের কালো রঙের প্রথম মলের নমুনাও সংগ্রহ করা হয়।

প্রতিটি মলের নমুনায় কমপক্ষে এক ধরনের প্লাস্টিক পাওয়া যায়। তবে প্রাপ্তবয়স্ক ও এক বছর বয়সি শিশুদের মলের মধ্যকার পার্থক্য লক্ষণীয় ছিল।

গবেষকরা বলেন, ‘অনুসন্ধানে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের মলে দুই ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্যাটার্নের উল্লেখযোগ্য পার্থক্য আমাদের নজরে পড়ে।

‘প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে শিশুদের মলে পলিথিলিন টেরেফথালেট উল্লেখযোগ্য হারে বেশি ছিল।

‘অবশ্য তাদের মলে পলিকার্বনেট মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য ছিল না।’

গবেষকরা আরও জানান, প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে এক বছর বয়সি শিশুদের মলে পলিথিলিন টেরেফথালেটের উপস্থিতি গড়ে ১০ গুণের বেশি ছিল।

আরও পড়ুন:
ডাবের পানি লবণের মিশ্রণে করোনা সারে না

শেয়ার করুন

চাঁদে বরফ খুঁজতে রোবট পাঠাচ্ছে নাসা

চাঁদে বরফ খুঁজতে রোবট পাঠাচ্ছে নাসা

সৌর জগতের অন্যতম শীতল অঞ্চল চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করবে রোভার ভাইপার। ছবি: নাসা

সৌর জগতের অন্যতম শীতল অঞ্চল চাঁদের দক্ষিণ মেরু। বেশ কিছু গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ধারণা মিলেছে যে, চাঁদের মেরু অঞ্চলের খাদে কয়েক শ কোটি টন বরফ সংরক্ষিত আছে। অঞ্চলটিতে কখনও সূর্যের আলো পড়েনি এবং তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ২২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচেও থাকে।

চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পানিতে তৈরি বরফের অস্তিত্ব আছে কি না, তা নিশ্চিতে একটি রোবটিক রোভার পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ২০২৩ সালে চাঁদের নোবিলে ক্রেটারের পশ্চিম প্রান্তে অবতরণ করবে রোবটটি।

৭৩ কিলোমিটার চওড়া নোবিলে ক্রেটার খাদটি প্রায় স্থায়ীভাবে ছায়ায় ঢাকা।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভোলাটাইলস ইনভেস্টিগেটিং পোলার এক্সপ্লোরেশন রোভার, সংক্ষেপে ভাইপার মিশন নামের ওই অভিযানের মাধ্যমে চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। কারণ পর্যাপ্ত পরিমাণ বরফের সন্ধান মিললে এবং খননযোগ্য হলে তা খাবার পানি ও মহাকাশযানের জ্বালানির চাহিদার গুরুত্বপূর্ণ উৎস হতে পারে।

চাঁদে অবস্থানরত অবস্থায় চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে মহাকাশযান জ্বালানি নিতে পারলে মহাকাশভ্রমণের খরচ অনেক কমে আসবে।

২০১৮ সালের এক প্রতিবেদনে আভাস দেয়া হয়, চন্দ্রপৃষ্ঠে রকেটের জ্বালানির কেজিপ্রতি খরচ পড়বে ৫০০ ডলার। আর পৃথিবী থেকে চাঁদের কক্ষপথে সেই একই পরিমাণ জ্বালানি পাঠানোর খরচ হবে ২০ গুণ বেশি, প্রায় ১০ হাজার ডলার।

চলতি দশকেই চন্দ্রপৃষ্ঠে নভোচারীদের পাঠাতে চায় নাসা। সংস্থাটির আর্টেমিজ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রথম নারী ও প্রথম মিশ্র বর্ণের কোনো ব্যক্তি চাঁদে পা রাখতে যাচ্ছে।

গবেষকদের প্রত্যাশা, পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহটিতে মানুষের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির পথ খুলে দিতে পারে এ কর্মসূচি।

ভাইপারের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও ক্যালিফোর্নিয়ায় নাসার এমিজ রিসার্চ সেন্টারের কর্মকর্তা ড্যানিয়েল অ্যান্ড্রুজ জানান, ২০২৩ সালের অভিযানের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারবেন যে চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে পানির বরফ খনন মানুষের জন্য কতটা কঠিন কিংবা সহজ হতে পারে।

সৌর জগতের অন্যতম শীতল অঞ্চল চাঁদের দক্ষিণ মেরু। বেশ কিছু গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ধারণা মিলেছে যে, চাঁদের মেরু অঞ্চলের খাদে কয়েক শ কোটি টন বরফ সংরক্ষিত আছে। অঞ্চলটিতে কখনও সূর্যের আলো পড়েনি এবং তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ২২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচেও থাকে।

ড্যানিয়েল অ্যান্ড্রুস জানান, চন্দ্রপৃষ্ঠের ঠিক কোথায় বরফ আছে, এর ঘনত্ব কেমন, গভীরতা কত- এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর মিলতে ভাইপার অভিযানের মাধ্যমে।

এ অভিযানে পরিচালনায় সক্ষম রোভারের নকশা তৈরি প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন ভাইপারের প্রধান প্রকল্প বিজ্ঞানী অ্যান্থনি কোলাপ্রিট। তিনি বলেন, ‘চাঁদের দক্ষিণ মেরু মানুষের জন্য একেবারেই অপরিচিত।

‘একে তো বিশাল বিশাল গর্ত আছে সেখানে, যার কাছে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টও শিশু; তার ওপর ভয়ঙ্কর শীতল রাত আর তারপর দিনে উষ্ণ পরিবেশে কাজ করার উপযোগী রোভার তৈরি করতে হবে।’

রোভারটি পাঠানো হবে যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গভিত্তিক বেসরকারি মহাকাশযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রোবটিকের তৈরি একটি মহাকাশযানের মাধ্যমে। নাসার কমার্শিয়াল লুনার পেলোড সার্ভিসেসের অধীনে ভাইপার রোভারটি সরবরাহ করতে অ্যাস্ট্রোবটিক।

এ জন্য ২০২০ সালের জুনে প্রায় ২০ কোটি ডলারের একটি চুক্তি পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে চলতি মাসে ওরিয়ন ক্যাপসুলের কাঠামো তৈরি সম্পন্ন করেছে নাসা। ১৯৭২ সালের পর প্রথমবার চাঁদে মানুষ পাঠানোর অভিযানে অংশ নেয়া নভোচারীরা চড়বেন এই ক্যাপসুলে।

আরও পড়ুন:
ডাবের পানি লবণের মিশ্রণে করোনা সারে না

শেয়ার করুন

স্তন ক্যানসার রোধে অ্যাস্ট্রাজেনেকার যুগান্তকারী সাফল্য

স্তন ক্যানসার রোধে অ্যাস্ট্রাজেনেকার যুগান্তকারী সাফল্য

অ্যাস্ট্রাজেনেকার এনহার্টু ট্রায়ালে এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, ওশেনিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার অন্তত ৫০০ রোগীকে পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়।

বিশ্বে প্রতি আটজনে অন্তত একজন নারী স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন। জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউটের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশেও প্রতিবছর দেড় লাখের বেশি মানুষ স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন।

এবার স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সাফল্যের দাবি করেছে গবেষণাভিত্তিক বায়োফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকা। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের আবিষ্কৃত একটি ওষুধ স্তন ক্যানসারে প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতির চেয়ে ৭২ শতাংশ বেশি কার্যকর। তাদের ওষুধ রোগীর শরীরে প্রয়োগ করলে মৃত্যুর ঝুঁকি এবং রোগটি ছড়িয়ে পড়া অনেকাংশেই কমে যায়।

ব্রিটিশ ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিটি দাবি করছে, স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে তাদের ‘এনহার্টু’ ট্রায়ালে যুগান্তকারী ফলাফল দেখা গেছে। রোগীকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এটি শক্তিশালী প্রমাণ দিয়েছে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানা গেছে, অ্যাস্ট্রাজেনেকার এই এনহার্টু ট্রায়ালে এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, ওশেনিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার অন্তত ৫০০ রোগীকে পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়।

ইনডিপেন্ডেন্টের খবর- ট্রায়ালে অংশ নেওয়া রোগীদের মধ্যে ৭৫ শতাংশের শরীরেই স্তন ক্যানসার আর বাড়তে পারেনি। সেই তুলনায় ট্রাস্টুজুমাব এমটানসাইন (টি-ডিএম১) নামে প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে মাত্র ৩৪.১ শতাংশের শরীরে এমন সাড়া মিলেছে। এনহার্টু পদ্ধতিতে রোগটি না বাড়ার সময়সীমা ৭.২ মাস থেকে ২৫.১ মাসে উন্নীত হয়েছে।

তিন ধাপের এই ট্রায়ালে অংশ নেওয়ার ১২ মাস পর অ্যাস্ট্রাজেনেকার এনহার্টু গ্রহণ করা রোগীদের মধ্যে ৯৪.১ শতাংশ বেঁচে ছিলেন। আর ট্রাস্টুজুমাব এমটানসাইন গ্রহণ করাদের মধ্যে বেঁচেছিলেন ৮৫.৯ শতাংশ।

ট্রায়ালের ফলাফলের কথা জানিয়ে অ্যাস্ট্রাজেনেকার অঙ্কোলজি বিভাগের নির্বাহী উপপ্রধান সুসান গ্যালব্রেইথ বলেছেন, ‘এই ফল যুগান্তকারী।’

আরও পড়ুন:
ডাবের পানি লবণের মিশ্রণে করোনা সারে না

শেয়ার করুন

ইতিহাস গড়ে পৃথিবীতে ৪ মহাকাশ পর্যটক

ইতিহাস গড়ে পৃথিবীতে ৪ মহাকাশ পর্যটক

মহাকাশে রওনা দেয়ার আগে প্রথম চার বেসামরিক পর্যটক ক্রিস সেমব্রোস্কি, শন প্রক্টর, জ্যারেড আইজ্যাকম্যান ও হ্যালে আর্সেনক্স। ছবি: ইন্সপিরেশান ফোর (বাম থেকে ডানে)।

আরোহীরা ছিলেন পৃথিবীর কক্ষপথ ঘুরে আসা প্রথম বেসরকারি দল, যাদের সবাই সাধারণ মানুষ। তাদের সঙ্গে ছিল না কোনো পেশাদার নভোচারী।

শুধু বেড়ানোর উদ্দেশ্যে মহাকাশে যাওয়া বিশ্বের প্রথম চার অপেশাদার ও বেসামরিক নভোচারী ফিরে এসেছেন পৃথিবীতে। তিন দিন কক্ষপথে কাটানোর পর আটলান্টিকের ফ্লোরিডা উপকূলে স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় অবতরণ করে তাদের বহনকারী ক্যাপসুলটি।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ক্যাপসুলটির পানিতে আছড়ে পড়া ঠেকাতে চারটি প্যারাসুটের মাধ্যমে সেটির গতি ধীর করে আনা হয়। ক্যাপসুলটি নিয়ন্ত্রিতভাবে পানি স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যায় কয়েকটি নৌকা, যেগুলোতে করে তীরে ফেরেন নভোচারীরা।

এর মাধ্যমে সফলভাবে সম্পন্ন হলো মহাকাশযাত্রায় প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশযান প্রস্তুতকারক ও মহাকাশযাত্রা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের এ ফ্লাইটের নাম ‘ইন্সপিরেশান ফোর’।

এর আরোহীরা ছিলেন পৃথিবীর কক্ষপথ ঘুরে আসা প্রথম বেসরকারি দল, যাদের সবাই সাধারণ মানুষ। তাদের সঙ্গে ছিল না কোনো পেশাদার নভোচারী।

এ নিয়ে স্পেসএক্স মহাকাশে তিনটি সফল যাত্রা পরিচালনা করেছে, যা মহাকাশ পর্যটনের জন্য আরেকটি মাইলফলক।

গত বুধবার ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে একটি ড্রাগন ক্যাপসুলে চড়ে রওনা দেন ওই চারজন। দলটির নেতৃত্বে ছিল ৩৮ বছর বয়সী আমেরিকান ধনকুবের ও দক্ষ পাইলট জ্যারেড আইজ্যাকম্যান। তিন সঙ্গীসহ চারজনের অভিযাত্রিক দলটির মহাকাশযাত্রার পুরো খরচ বহন করেছেন তিনি।

অবতরণের পরই আইজ্যাকম্যানকে বেতারে বলতে শোনা যায়, ‘অবিশ্বাস্য একটি যাত্রা শেষ করে এলাম আমরা।’

ই-কমার্সভিত্তিক প্রতিষ্ঠান শিফটফোর পেমেন্টসের প্রধান নির্বাহী জ্যারেড আইজ্যাকম্যান। মহাকাশ ভ্রমণে তার খরচের অঙ্ক গোপন রাখা হয়েছে।

টাইম ম্যাগাজিনের হিসাব অনুযায়ী, ক্রু ড্রাগনের চারটি আসনের জন্য আরেক ধনকুবের ও স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ককে খরচ বাবদ প্রায় ২০ কোটি ডলার দিয়েছেন আইজ্যাকম্যান।

প্রতিযোগিতার আয়োজন করে নিজের তিন সঙ্গী বাছাই করে নিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। সৌভাগ্যবানরা হলেন স্বাস্থ্যকর্মী ২৯ বছর বয়সী হ্যালে আর্সেনক্স, ৪২ বছর বয়সী তথ্য প্রকৌশলী ক্রিস সেমব্রোস্কি ও ৫১ বছর বয়সী শিক্ষক শন প্রক্টর।

এদের মধ্যে আর্সেনক্স মহাকাশভ্রমণকারী সর্বকনিষ্ঠ আমেরিকান এবং কৃত্রিম পা ও টাইটানিয়াম রডযুক্ত বাম পা নিয়ে মহাকাশে যাওয়া প্রথম ব্যক্তি। শৈশবে প্রাণঘাতী ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধে জয়ী তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের মেমফিসে সেন্ট জুডি চিলড্রেনস রিসার্চ হসপিটালে ক্যানসারের চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন তিনি। বর্তমানে সেখানেই কর্মরত।

মহাকাশভ্রমণে ছয় মাস প্রশিক্ষণ নিয়েছে চারজনের দলটি। তাদের নিয়ে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের (আইএসএস) চেয়েও ১৬০ কিলোমিটার উঁচু থেকে পৃথিবীকে দিনে ১৫ বারের বেশি প্রদক্ষিণ করেছে স্পেসএক্সের ড্রাগন ক্যাপসুল।

পৃথিবী থেকে ৫৭৫ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত গিয়েছে সেটি; যায়নি আইএসএসের কাছে।

আরও পড়ুন:
ডাবের পানি লবণের মিশ্রণে করোনা সারে না

শেয়ার করুন