কীটপতঙ্গের ঘাতক কৃত্রিম আলো?

কীটপতঙ্গের ঘাতক কৃত্রিম আলো?

যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডশায়ারের সড়কে রাতে জ্বলছে এলইডি লাইট। ছবি: ডগলাস বোয়েস

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোর ব্যবহারের কারণে যে স্থানীয় পোকামাকড়ের বসতিতে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে, তা এখন প্রমাণিত। পোকামাকড় কমে যাওয়ায় পাখি আর অন্যান্য বন্যপ্রাণীর খাবারের সংকট তৈরি হচ্ছে।

গত কয়েক দশকে আশঙ্কাজনক হারে কমেছে কীটপতঙ্গ, যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পথে বড় ঝুঁকি বলে মনে করা হচ্ছে।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, কীটপতঙ্গের এভাবে কমে যাওয়ার বড় কারণ হতে পারে আলো দূষণ।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, পোকামাকড়ের সংখ্যা কমতে থাকার পেছনে আধুনিক যুগের লাইট এমিটিং ডায়োড বা এলইডি লাইটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে যেগুলো সড়কে ব্যবহার করা হয়, সেগুলোকে সবচেয়ে বেশি দায়ী করছেন গবেষকরা।

যুক্তরাজ্যের একটি গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে, সড়কে ব্যবহৃত কৃত্রিম এলইডি লাইটের কারণে বদলে গেছে নিশাচর পোকার আচরণ। শুঁয়োপোকা কমে এসেছে অর্ধেকে।

জলবায়ু পরিবর্তন, বনাঞ্চল ধ্বংস, কীটনাশকের অতি ব্যবহার, নদী দূষণসহ বিভিন্ন কারণে আগে থেকেই উল্লেখযোগ্য হারে কমছিল পোকামাকড়। এর ওপর রাতে কৃত্রিম আলোর ব্যবহার আগুনে ঘি ঢেলেছে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

যদিও রাতে কৃত্রিম আলো ব্যবহারের কারণে কীটপতঙ্গ কী পরিমাণে কমেছে, সে সংখ্যা এখনও স্পষ্ট নয়।

বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী সায়েন্স অ্যাডভান্সেসে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোর ব্যবহারের কারণে যে স্থানীয় পোকামাকড়ের বসতিতে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে, তা এখন প্রমাণিত। পোকামাকড় কমে যাওয়ায় পাখি আর অন্যান্য বন্যপ্রাণীর খাবারের সংকট তৈরি হচ্ছে।

ইউকে সেন্টার ফর ইকোলজি অ্যান্ড হাইড্রোলজির প্রধান গবেষক ডগলাস বোয়েস বলেন, ‘কীটপতঙ্গরা বেশ বিপদে আছে। এর প্রমাণ পেয়েছি আমরা। এমন অবস্থায় নেতিবাচক প্রভাবগুলো কমাতে যা কিছু করণীয়, সেগুলো করে ফেলা দরকার।’

গবেষকরা মনে করছেন, সড়কে রাতে জ্বালানো কৃত্রিম আলোর কারণে নিশাচর কীটপতঙ্গের ডিম পাড়া ও ডিমে তা দেয়া ব্যাহত হয়। কারণ তারা ভাবে আলোতে তাদের বাদুর বা অন্য প্রাণী দেখে ফেলবে; খেয়েও ফেলবে।

আবার যেসব শুঁয়োপোকা এলইডি আলোর নিচে জন্মায়, সেগুলোর খাওয়া-দাওয়ার অভ্যাস বদলে যায়।

এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সমাধানের পথও বলে দিয়েছেন গবেষকরা। তারা বলছেন, জননিরাপত্তায় বিঘ্ন না ঘটিয়েই পোকামাকড় রক্ষার বাস্তব উপায় আছে।

উদাহরণ হিসেবে তারা ভোররাতে আলোর তীব্রতা কমিয়ে দেয়া, ক্ষতিকর রশ্মির মাত্রা কমাতে মোশন সেন্সর বা কালার ফিল্টার ব্যবহারের কথা বলেছেন।

স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি ও সরীসৃপের তুলনায় মৌমাছি, পিঁপড়া, গুবরে পোকা আট গুণ দ্রুততায় বিলুপ্ত হয় বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে মশা, মাছি, তেলাপোকার মতো ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ বাড়ে অস্বাভাবিকভাবে।

আরও পড়ুন:
গুহায় সিংহশাবকের দেহাবশেষ ২৮ হাজার বছর আগের
বিজ্ঞানমনস্করাও হতে পারেন ‘অন্ধবিশ্বাসী’
৮৯ কোটি বছর আগের পাথরে প্রাচীনতম প্রাণীর জীবাশ্ম
পৃথিবী গোল না হয়ে সমতল হলে কী হতো?
মানসিক প্রশান্তি পেতে লেখালেখি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

চাঁদে বরফ খুঁজতে রোবট পাঠাচ্ছে নাসা

চাঁদে বরফ খুঁজতে রোবট পাঠাচ্ছে নাসা

সৌর জগতের অন্যতম শীতল অঞ্চল চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করবে রোভার ভাইপার। ছবি: নাসা

সৌর জগতের অন্যতম শীতল অঞ্চল চাঁদের দক্ষিণ মেরু। বেশ কিছু গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ধারণা মিলেছে যে, চাঁদের মেরু অঞ্চলের খাদে কয়েক শ কোটি টন বরফ সংরক্ষিত আছে। অঞ্চলটিতে কখনও সূর্যের আলো পড়েনি এবং তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ২২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচেও থাকে।

চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পানিতে তৈরি বরফের অস্তিত্ব আছে কি না, তা নিশ্চিতে একটি রোবটিক রোভার পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ২০২৩ সালে চাঁদের নোবিলে ক্রেটারের পশ্চিম প্রান্তে অবতরণ করবে রোবটটি।

৭৩ কিলোমিটার চওড়া নোবিলে ক্রেটার খাদটি প্রায় স্থায়ীভাবে ছায়ায় ঢাকা।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভোলাটাইলস ইনভেস্টিগেটিং পোলার এক্সপ্লোরেশন রোভার, সংক্ষেপে ভাইপার মিশন নামের ওই অভিযানের মাধ্যমে চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। কারণ পর্যাপ্ত পরিমাণ বরফের সন্ধান মিললে এবং খননযোগ্য হলে তা খাবার পানি ও মহাকাশযানের জ্বালানির চাহিদার গুরুত্বপূর্ণ উৎস হতে পারে।

চাঁদে অবস্থানরত অবস্থায় চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে মহাকাশযান জ্বালানি নিতে পারলে মহাকাশভ্রমণের খরচ অনেক কমে আসবে।

২০১৮ সালের এক প্রতিবেদনে আভাস দেয়া হয়, চন্দ্রপৃষ্ঠে রকেটের জ্বালানির কেজিপ্রতি খরচ পড়বে ৫০০ ডলার। আর পৃথিবী থেকে চাঁদের কক্ষপথে সেই একই পরিমাণ জ্বালানি পাঠানোর খরচ হবে ২০ গুণ বেশি, প্রায় ১০ হাজার ডলার।

চলতি দশকেই চন্দ্রপৃষ্ঠে নভোচারীদের পাঠাতে চায় নাসা। সংস্থাটির আর্টেমিজ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রথম নারী ও প্রথম মিশ্র বর্ণের কোনো ব্যক্তি চাঁদে পা রাখতে যাচ্ছে।

গবেষকদের প্রত্যাশা, পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহটিতে মানুষের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির পথ খুলে দিতে পারে এ কর্মসূচি।

ভাইপারের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও ক্যালিফোর্নিয়ায় নাসার এমিজ রিসার্চ সেন্টারের কর্মকর্তা ড্যানিয়েল অ্যান্ড্রুজ জানান, ২০২৩ সালের অভিযানের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারবেন যে চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে পানির বরফ খনন মানুষের জন্য কতটা কঠিন কিংবা সহজ হতে পারে।

সৌর জগতের অন্যতম শীতল অঞ্চল চাঁদের দক্ষিণ মেরু। বেশ কিছু গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ধারণা মিলেছে যে, চাঁদের মেরু অঞ্চলের খাদে কয়েক শ কোটি টন বরফ সংরক্ষিত আছে। অঞ্চলটিতে কখনও সূর্যের আলো পড়েনি এবং তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ২২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচেও থাকে।

ড্যানিয়েল অ্যান্ড্রুস জানান, চন্দ্রপৃষ্ঠের ঠিক কোথায় বরফ আছে, এর ঘনত্ব কেমন, গভীরতা কত- এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর মিলতে ভাইপার অভিযানের মাধ্যমে।

এ অভিযানে পরিচালনায় সক্ষম রোভারের নকশা তৈরি প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন ভাইপারের প্রধান প্রকল্প বিজ্ঞানী অ্যান্থনি কোলাপ্রিট। তিনি বলেন, ‘চাঁদের দক্ষিণ মেরু মানুষের জন্য একেবারেই অপরিচিত।

‘একে তো বিশাল বিশাল গর্ত আছে সেখানে, যার কাছে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টও শিশু; তার ওপর ভয়ঙ্কর শীতল রাত আর তারপর দিনে উষ্ণ পরিবেশে কাজ করার উপযোগী রোভার তৈরি করতে হবে।’

রোভারটি পাঠানো হবে যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গভিত্তিক বেসরকারি মহাকাশযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রোবটিকের তৈরি একটি মহাকাশযানের মাধ্যমে। নাসার কমার্শিয়াল লুনার পেলোড সার্ভিসেসের অধীনে ভাইপার রোভারটি সরবরাহ করতে অ্যাস্ট্রোবটিক।

এ জন্য ২০২০ সালের জুনে প্রায় ২০ কোটি ডলারের একটি চুক্তি পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে চলতি মাসে ওরিয়ন ক্যাপসুলের কাঠামো তৈরি সম্পন্ন করেছে নাসা। ১৯৭২ সালের পর প্রথমবার চাঁদে মানুষ পাঠানোর অভিযানে অংশ নেয়া নভোচারীরা চড়বেন এই ক্যাপসুলে।

আরও পড়ুন:
গুহায় সিংহশাবকের দেহাবশেষ ২৮ হাজার বছর আগের
বিজ্ঞানমনস্করাও হতে পারেন ‘অন্ধবিশ্বাসী’
৮৯ কোটি বছর আগের পাথরে প্রাচীনতম প্রাণীর জীবাশ্ম
পৃথিবী গোল না হয়ে সমতল হলে কী হতো?
মানসিক প্রশান্তি পেতে লেখালেখি

শেয়ার করুন

স্তন ক্যানসার রোধে অ্যাস্ট্রাজেনেকার যুগান্তকারী সাফল্য

স্তন ক্যানসার রোধে অ্যাস্ট্রাজেনেকার যুগান্তকারী সাফল্য

অ্যাস্ট্রাজেনেকার এনহার্টু ট্রায়ালে এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, ওশেনিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার অন্তত ৫০০ রোগীকে পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়।

বিশ্বে প্রতি আটজনে অন্তত একজন নারী স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন। জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউটের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশেও প্রতিবছর দেড় লাখের বেশি মানুষ স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন।

এবার স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সাফল্যের দাবি করেছে গবেষণাভিত্তিক বায়োফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকা। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের আবিষ্কৃত একটি ওষুধ স্তন ক্যানসারে প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতির চেয়ে ৭২ শতাংশ বেশি কার্যকর। তাদের ওষুধ রোগীর শরীরে প্রয়োগ করলে মৃত্যুর ঝুঁকি এবং রোগটি ছড়িয়ে পড়া অনেকাংশেই কমে যায়।

ব্রিটিশ ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিটি দাবি করছে, স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে তাদের ‘এনহার্টু’ ট্রায়ালে যুগান্তকারী ফলাফল দেখা গেছে। রোগীকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এটি শক্তিশালী প্রমাণ দিয়েছে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানা গেছে, অ্যাস্ট্রাজেনেকার এই এনহার্টু ট্রায়ালে এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, ওশেনিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার অন্তত ৫০০ রোগীকে পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়।

ইনডিপেন্ডেন্টের খবর- ট্রায়ালে অংশ নেওয়া রোগীদের মধ্যে ৭৫ শতাংশের শরীরেই স্তন ক্যানসার আর বাড়তে পারেনি। সেই তুলনায় ট্রাস্টুজুমাব এমটানসাইন (টি-ডিএম১) নামে প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে মাত্র ৩৪.১ শতাংশের শরীরে এমন সাড়া মিলেছে। এনহার্টু পদ্ধতিতে রোগটি না বাড়ার সময়সীমা ৭.২ মাস থেকে ২৫.১ মাসে উন্নীত হয়েছে।

তিন ধাপের এই ট্রায়ালে অংশ নেওয়ার ১২ মাস পর অ্যাস্ট্রাজেনেকার এনহার্টু গ্রহণ করা রোগীদের মধ্যে ৯৪.১ শতাংশ বেঁচে ছিলেন। আর ট্রাস্টুজুমাব এমটানসাইন গ্রহণ করাদের মধ্যে বেঁচেছিলেন ৮৫.৯ শতাংশ।

ট্রায়ালের ফলাফলের কথা জানিয়ে অ্যাস্ট্রাজেনেকার অঙ্কোলজি বিভাগের নির্বাহী উপপ্রধান সুসান গ্যালব্রেইথ বলেছেন, ‘এই ফল যুগান্তকারী।’

আরও পড়ুন:
গুহায় সিংহশাবকের দেহাবশেষ ২৮ হাজার বছর আগের
বিজ্ঞানমনস্করাও হতে পারেন ‘অন্ধবিশ্বাসী’
৮৯ কোটি বছর আগের পাথরে প্রাচীনতম প্রাণীর জীবাশ্ম
পৃথিবী গোল না হয়ে সমতল হলে কী হতো?
মানসিক প্রশান্তি পেতে লেখালেখি

শেয়ার করুন

ইতিহাস গড়ে পৃথিবীতে ৪ মহাকাশ পর্যটক

ইতিহাস গড়ে পৃথিবীতে ৪ মহাকাশ পর্যটক

মহাকাশে রওনা দেয়ার আগে প্রথম চার বেসামরিক পর্যটক ক্রিস সেমব্রোস্কি, শন প্রক্টর, জ্যারেড আইজ্যাকম্যান ও হ্যালে আর্সেনক্স। ছবি: ইন্সপিরেশান ফোর (বাম থেকে ডানে)।

আরোহীরা ছিলেন পৃথিবীর কক্ষপথ ঘুরে আসা প্রথম বেসরকারি দল, যাদের সবাই সাধারণ মানুষ। তাদের সঙ্গে ছিল না কোনো পেশাদার নভোচারী।

শুধু বেড়ানোর উদ্দেশ্যে মহাকাশে যাওয়া বিশ্বের প্রথম চার অপেশাদার ও বেসামরিক নভোচারী ফিরে এসেছেন পৃথিবীতে। তিন দিন কক্ষপথে কাটানোর পর আটলান্টিকের ফ্লোরিডা উপকূলে স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় অবতরণ করে তাদের বহনকারী ক্যাপসুলটি।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ক্যাপসুলটির পানিতে আছড়ে পড়া ঠেকাতে চারটি প্যারাসুটের মাধ্যমে সেটির গতি ধীর করে আনা হয়। ক্যাপসুলটি নিয়ন্ত্রিতভাবে পানি স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যায় কয়েকটি নৌকা, যেগুলোতে করে তীরে ফেরেন নভোচারীরা।

এর মাধ্যমে সফলভাবে সম্পন্ন হলো মহাকাশযাত্রায় প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশযান প্রস্তুতকারক ও মহাকাশযাত্রা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের এ ফ্লাইটের নাম ‘ইন্সপিরেশান ফোর’।

এর আরোহীরা ছিলেন পৃথিবীর কক্ষপথ ঘুরে আসা প্রথম বেসরকারি দল, যাদের সবাই সাধারণ মানুষ। তাদের সঙ্গে ছিল না কোনো পেশাদার নভোচারী।

এ নিয়ে স্পেসএক্স মহাকাশে তিনটি সফল যাত্রা পরিচালনা করেছে, যা মহাকাশ পর্যটনের জন্য আরেকটি মাইলফলক।

গত বুধবার ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে একটি ড্রাগন ক্যাপসুলে চড়ে রওনা দেন ওই চারজন। দলটির নেতৃত্বে ছিল ৩৮ বছর বয়সী আমেরিকান ধনকুবের ও দক্ষ পাইলট জ্যারেড আইজ্যাকম্যান। তিন সঙ্গীসহ চারজনের অভিযাত্রিক দলটির মহাকাশযাত্রার পুরো খরচ বহন করেছেন তিনি।

অবতরণের পরই আইজ্যাকম্যানকে বেতারে বলতে শোনা যায়, ‘অবিশ্বাস্য একটি যাত্রা শেষ করে এলাম আমরা।’

ই-কমার্সভিত্তিক প্রতিষ্ঠান শিফটফোর পেমেন্টসের প্রধান নির্বাহী জ্যারেড আইজ্যাকম্যান। মহাকাশ ভ্রমণে তার খরচের অঙ্ক গোপন রাখা হয়েছে।

টাইম ম্যাগাজিনের হিসাব অনুযায়ী, ক্রু ড্রাগনের চারটি আসনের জন্য আরেক ধনকুবের ও স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ককে খরচ বাবদ প্রায় ২০ কোটি ডলার দিয়েছেন আইজ্যাকম্যান।

প্রতিযোগিতার আয়োজন করে নিজের তিন সঙ্গী বাছাই করে নিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। সৌভাগ্যবানরা হলেন স্বাস্থ্যকর্মী ২৯ বছর বয়সী হ্যালে আর্সেনক্স, ৪২ বছর বয়সী তথ্য প্রকৌশলী ক্রিস সেমব্রোস্কি ও ৫১ বছর বয়সী শিক্ষক শন প্রক্টর।

এদের মধ্যে আর্সেনক্স মহাকাশভ্রমণকারী সর্বকনিষ্ঠ আমেরিকান এবং কৃত্রিম পা ও টাইটানিয়াম রডযুক্ত বাম পা নিয়ে মহাকাশে যাওয়া প্রথম ব্যক্তি। শৈশবে প্রাণঘাতী ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধে জয়ী তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের মেমফিসে সেন্ট জুডি চিলড্রেনস রিসার্চ হসপিটালে ক্যানসারের চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন তিনি। বর্তমানে সেখানেই কর্মরত।

মহাকাশভ্রমণে ছয় মাস প্রশিক্ষণ নিয়েছে চারজনের দলটি। তাদের নিয়ে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের (আইএসএস) চেয়েও ১৬০ কিলোমিটার উঁচু থেকে পৃথিবীকে দিনে ১৫ বারের বেশি প্রদক্ষিণ করেছে স্পেসএক্সের ড্রাগন ক্যাপসুল।

পৃথিবী থেকে ৫৭৫ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত গিয়েছে সেটি; যায়নি আইএসএসের কাছে।

আরও পড়ুন:
গুহায় সিংহশাবকের দেহাবশেষ ২৮ হাজার বছর আগের
বিজ্ঞানমনস্করাও হতে পারেন ‘অন্ধবিশ্বাসী’
৮৯ কোটি বছর আগের পাথরে প্রাচীনতম প্রাণীর জীবাশ্ম
পৃথিবী গোল না হয়ে সমতল হলে কী হতো?
মানসিক প্রশান্তি পেতে লেখালেখি

শেয়ার করুন

৯০ দিন পর পৃথিবীতে ৩ চীনা নভোচারী

৯০ দিন পর পৃথিবীতে ৩ চীনা নভোচারী

পৃথিবী ছাড়ার আগে তাং হোনবো, নিয়ে হাইশেং ও লিউ বোমিং। ফাইল ছবি

মহাকাশে থাকাকালীন তিন নভোচারী পৃথিবীতে পরীক্ষামূলকভাবে তথ্য সরবরাহ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটাসহ দৈনন্দিন নানা কাজ সম্পন্ন করেছেন। তারা এই তিন মাস ছিলেন স্পেস স্টেশনটির কেন্দ্রীয় অংশ তিয়ানহে মডিউলে।

মহাকাশে চীনের দীর্ঘতম অভিযানে ইতি টেনে পৃথিবীতে ফিরেছেন তিন নভোচারী। পৃথিবী থেকে প্রায় ৩৮০ কিলোমিটার উচ্চতায় চীনের মহাকাশ স্টেশনের তিয়ানহে মডিউলে ৯০ দিন কাটিয়েছেন তারা।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, শেনঝৌ-১২ মহাকাশযানে চড়ে বৃহস্পতিবার স্পেস স্টেশন থেকে পৃথিবীর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন তিন নভোচারী। চীনের ইনার মঙ্গোলিয়া অঞ্চলের গোবি মরুভূমিতে স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে সফল অবতরণ করেন তারা।

নভোচারীরা হলেন নিয়ে হাইশেং, লিউ বোমিং ও তাং হোনবো। চলতি বছরের ১৭ জুন পৃথিবী থেকে মহাকাশের উদ্দেশে পাড়ি দেন তারা। গোবি মরুভূমি থেকেই রওনা দিয়েছিল তাদের বহনকারী মহাকাশযানটি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সফল এই অভিযানের ফলে মহাকাশে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠল চীন।

চীনের গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছে, মহাকাশে থাকাকালীন তিন নভোচারী পৃথিবীতে পরীক্ষামূলকভাবে তথ্য সরবরাহ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটাসহ দৈনন্দিন নানা কাজ সম্পন্ন করেছেন।

তারা এই তিন মাস ছিলেন স্পেস স্টেশনটির কেন্দ্রীয় অংশ তিয়ানহে মডিউলে। সেখানে প্রত্যেক নভোচারীর জন্য পৃথক থাকার জায়গা, মহাকাশে চলতে সক্ষম বিশেষ নকশার ট্রেডমিল-বাইসাইকেলসহ শরীরচর্চাকেন্দ্র ইত্যাদি রয়েছে।

গত কয়েক বছরে মহাকাশ গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বেইজিং। এমনকি বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে চাঁদের সবচেয়ে দূরের অংশে একটি রোবটচালিত রোভারও পাঠিয়েছে চীন।

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) অংশ নেই বলে নিজস্ব মহাকাশ কেন্দ্র নির্মাণ করতে হয়েছে চীনকে।

পৃথিবীর কক্ষপথে আইএসএস পরিচালিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে; অংশীদারিত্বে আছে রাশিয়া, ইউরোপ, কানাডা ও জাপান। সেখানে চীনকে কোনো ধরনের সহযোগিতা দেয়া হয় না।

আরও পড়ুন:
গুহায় সিংহশাবকের দেহাবশেষ ২৮ হাজার বছর আগের
বিজ্ঞানমনস্করাও হতে পারেন ‘অন্ধবিশ্বাসী’
৮৯ কোটি বছর আগের পাথরে প্রাচীনতম প্রাণীর জীবাশ্ম
পৃথিবী গোল না হয়ে সমতল হলে কী হতো?
মানসিক প্রশান্তি পেতে লেখালেখি

শেয়ার করুন

পেশাদার নভোচারী ছাড়াই প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইটে মহাকাশে ৪ পর্যটক

পেশাদার নভোচারী ছাড়াই প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইটে মহাকাশে ৪ পর্যটক

মহাকাশে রওনা দেয়ার আগে প্রথম চার বেসামরিক পর্যটক ক্রিস সেমব্রোস্কি, শন প্রক্টর, জ্যারেড আইজাকম্যান ও হ্যালে আর্সেনক্স। ছবি: ইন্সপিরেশান ফোর (বাম থেকে ডানে)।

মহাকাশে প্রথম বেসামরিক অভিযাত্রিক দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ৩৮ বছর বয়সী আমেরিকান ধনকুবের ও দক্ষ পাইলট জ্যারেড আইজাকম্যান। মহাকাশভ্রমণে সঙ্গী নির্বাচনে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলেন তিনি। প্রতিযোগিতায় জয়ী তিনজনকে নিয়ে মহাকাশে গেছেন আইজ্যাকম্যান। নিজেরসহ বাকি তিনজনের যাত্রার খরচও তিনি বহন করছেন।

প্রথমবারের মতো বেড়ানোর উদ্দেশ্যে মহাকাশে গেলেন চার বেসামরিক পর্যটক। তাদের সঙ্গে নেই কোনো পেশাদার নভোচারী।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে একটি ড্রাগন ক্যাপসুলে চড়ে স্থানীয় সময় বুধবার রওনা দেন তারা। পৃথিবী প্রদক্ষিণ করবেন পরবর্তী তিনদিন। এরপর ফিরে আসবেন নিজস্ব পরিমণ্ডলে।

মহাকাশযাত্রায় প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইটটি পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশযান প্রস্তুতকারক ও মহাকাশযাত্রা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। সফরটির নাম দেয়া হয়েছে ‘ইন্সপিরেশান ফোর’।

এ ঘটনার মধ্য দিয়ে শুরু হলো সাধারণ মানুষের মহাকাশভ্রমণ; মহাকাশবিজ্ঞান ও পর্যটনের ইতিহাসে যুক্ত হলো নতুন অধ্যায়। এযাবৎকালের অন্যতম উচ্চাভিলাষী পর্যটন মিশন ছিল এটি।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরে আসা প্রথম বেসরকারি ফ্লাইটে অভিযাত্রী ছিলেন চারজন। এদের মধ্যে তিনজনই ‘সাধারণ মানুষ’ এবং অপরজন তাদের পৃষ্ঠপোষক।

মহাকাশে প্রথম বেসামরিক অভিযাত্রিক দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ৩৮ বছর বয়সী আমেরিকান ধনকুবের ও দক্ষ পাইলট জ্যারেড আইজাকম্যান। মহাকাশভ্রমণে সঙ্গী নির্বাচনে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলেন তিনি।

প্রতিযোগিতায় জয়ী তিনজনকে নিয়ে মহাকাশে গেছেন আইজ্যাকম্যান। নিজেরসহ বাকি তিনজনের যাত্রার খরচও তিনি বহন করছেন।

আইজ্যাকম্যানের সঙ্গী ২৯ বছর বয়সী হ্যালে আর্সেনক্স। মহাকাশভ্রমণকারী সর্বকনিষ্ঠ আমেরিকান এবং কৃত্রিম পা ও টাইটানিয়াম রডযুক্ত বাম পা নিয়ে মহাকাশে যাওয়া প্রথম ব্যক্তিও তিনি।

শৈশবে প্রাণঘাতী ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধে জয়ী আর্সেনক্স পেশায় একজন স্বাস্থ্যকর্মী। যুক্তরাষ্ট্রের টেনেজি অঙ্গরাজ্যের মেমফিসে সেন্ট জুডি চিলড্রেনস রিসার্চ হসপিটালে ক্যানসারের চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন তিনি; বর্তমানে সেখানেই কর্মরত।

নিজের পকেট থেকে হাসপাতালটিতে ১০ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছেন আইজ্যাকম্যান। আরও ১০ কোটি ডলার অনুদান দেয়ার জন্য তহবিল সংগ্রহের চেষ্টাও করছেন।

আইজ্যাকম্যান ও আর্সেনক্সের দুই সঙ্গী ৪২ বছর বয়সী তথ্য প্রকৌশলী ক্রিস সেমব্রোস্কি ও ৫১ বছর বয়সী শিক্ষক শন প্রক্টর।

মহাকাশভ্রমণে ছয় মাস প্রশিক্ষণ নিয়েছে চারজনের দলটি। তাদের নিয়ে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের (আইএসএস) চেয়েও ১৬০ কিলোমিটার উঁচু থেকে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করবে স্পেসএক্সের ড্রাগন ক্যাপসুল। ভ্রমণ শেষে চলতি সপ্তাহে ফ্লোরিডা উপকূলে অবতরণ করবে ক্যাপসুলটি।

এর আগে চলতি বছর নিজস্ব মহাকাশযানে চড়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বাইরে গিয়েছিলেন দুই ধনকুবের ব্যবসায়ী স্যার রিচার্ড ব্র্যানসন ও জেফ বেজোস।

আগামী মাসে এক রুশ চলচ্চিত্র পরিচালক ও অভিনেত্রী বেড়াতে যাবেন আইএসএসে; পরের ফ্লাইটটি যাবে নতুন বছরের শুরুতে।

আরও পড়ুন:
গুহায় সিংহশাবকের দেহাবশেষ ২৮ হাজার বছর আগের
বিজ্ঞানমনস্করাও হতে পারেন ‘অন্ধবিশ্বাসী’
৮৯ কোটি বছর আগের পাথরে প্রাচীনতম প্রাণীর জীবাশ্ম
পৃথিবী গোল না হয়ে সমতল হলে কী হতো?
মানসিক প্রশান্তি পেতে লেখালেখি

শেয়ার করুন

৪ কোটি বছর আগে সাহারায় থাকত চারপেয়ে তিমি

৪ কোটি বছর আগে সাহারায় থাকত চারপেয়ে তিমি

মিসরের মনসুরা ইউনিভার্সিটিতে সাজিয়ে রাখা চারপেয়ে তিমির জীবাশ্ম, সামনে প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীটির একটি কাল্পনিক ছবি। ছবি: সিবিএস নিউজ

যে অঞ্চলে জীবাশ্মটির সন্ধান মিলেছিল, প্রাগৈতিহাসিককালে সে অঞ্চলে ছিল গভীর সাগর। বিশালদেহী ফিওমিসেটাস আনুবিস লম্বায় নয় ফুট হলেও এর ওজন ছিল প্রায় ৬০০ কেজি। দৈহিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে দীর্ঘ খুলি ও নাক উল্লেখযোগ্য, যা থেকে ধারণা মেলে যে তীক্ষ্ন ঘ্রাণ ও শ্রবণশক্তির অধিকারী ছিল প্রাণীটি; শিকারকে আঁকড়ে ধরে চিবিয়ে খেত।

সাহারা মরুভূমির মিসর অংশে প্রাগৈতিহাসিক যুগের একটি চারপেয়ে তিমির জীবাশ্ম আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। ধারণা করা হচ্ছে, প্রাণীটির জীবনকাল ছিল চার কোটি ৩০ লাখ বছর আগে।

ওয়েস্টার্ন ডেজার্টের মাটি খুঁড়ে ১০ বছরেরও বেশি সময় আগে জীবাশ্মটি বের করে আনা হয়েছিল। কিন্তু এটি কোন প্রাণীর দেহাবশেষ, তা এতদিন ছিল অজানা।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, কালের বিবর্তনে বর্তমানে সমুদ্রের সর্ববৃহৎ বাসিন্দা হিসেবে যে তিমির রাজত্ব, সেই তিমিরই পূর্বসূরি ছিল চারপেয়ে প্রাণীটি যার দেহাবশেষ পেয়েছেন গবেষকরা।

ডাঙা আর সাগর- দুই জায়গাতেই বিচরণ করত বলে প্রাগৈতিহাসিক তিমিটি আধা-জলজ প্রাণী হিসেবে পরিচিত।

গবেষণায় নেতৃত্ব দেয়া জীবাশ্মবিদ হাশেম সালাম জানান, এটি পুরোপুরি শিকারি প্রাণী ছিল বলে এর বৈশিষ্ট্য থেকে প্রমাণ মিলেছে।

মিসরীয় দেবতা আনুবিসের নামে নাম রাখা হয়েছে তিমির জীবাশ্মটির, ফিওমিসেটাস আনুবিস। প্রাচীন মিসরের পুরাণে উল্লেখিত আনুবিস ছিলেন মৃত্যুর দেবতা।

মিসরের মনসুরা ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সালাম বলেন, ‘আনুবিস নাম বেছে নেয়ার কারণ হলো, প্রাণীটির চোয়াল অনেক শক্তিশালী ছিল। একেকটি কামড়ে প্রাণ কেড়ে নেয়ার ক্ষমতা রাখত তিমিটি।’

বিশালদেহী ফিওমিসেটাস আনুবিস লম্বায় নয় ফুট হলেও এর ওজন ছিল প্রায় ৬০০ কেজি। এর দৈহিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে দীর্ঘ খুলি ও নাক উল্লেখযোগ্য। এ থেকে ধারণা মেলে, তীক্ষ্ন ঘ্রাণ ও শ্রবণশক্তির অধিকারী ছিল প্রাণীটি; শিকারকে আঁকড়ে ধরে চিবিয়ে খেত তারা।

ওয়েস্টার্ন ডেজার্টে ফিওমিসেটাস আনুবিসের জীবাশ্মের প্রথম সন্ধান মেলে ২০০৮ সালে। মিশরীয় পরিবেশবিদরা এটির খোঁজ পান। কিন্তু জীবাশ্মটি কোন প্রাণীর, সে বিষয়ে প্রাপ্ত তথ্য ও গবেষণার ফল গত মাসেই একটি প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছেন গবেষকরা।

বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী প্রসিডিংস অফ দ্য রয়্যাল সোসাইটি বিতে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, যে অঞ্চলে জীবাশ্মটির সন্ধান মিলেছিল, প্রাগৈতিহাসিককালে সে অঞ্চলে ছিল গভীর সাগর।

সালাম চানান, ২০১৭ সাল পর্যন্ত জীবাশ্মটি নিয়ে কোনোরকম পরীক্ষানিরীক্ষা হয়নি। কারণ গবেষণার জন্য সেরা ও মেধাবী মিসরীয় জীবাশ্মবিদদের এক জায়গায় আনতে চেয়েছিলেন তিনি।

সালাম বলেন, ‘মিসরের ইতিহাসে এবারই প্রথম কেবল দেশের বিজ্ঞানীদের নিয়ে কোনো মেরুদণ্ডী প্রাণীর জীবাশ্ম বিশ্লেষণ করেছি আমরা। পুরোপুরি নতুন একটি প্রজাতি আবিষ্কার করেছি এবং চারপেয়ে তিমির একটি জাতের সন্ধান পেয়েছি।’

গবেষকদের মতে, তিমির বিবর্তন নিয়ে গবেষণার পথ খুলে দিয়েছে এ জীবাশ্ম। ডাঙার তৃণভোজী স্তন্যপায়ী থেকে তিমিরা কেন, কীভাবে এখনকার মাংসাশী ও পুরোপুরি সামুদ্রিক প্রাণীতে পরিণত হলো, সেটাই জানতে চান তারা।

ধারণা করা হচ্ছে, ১ কোটি বছরেরও বেশি সময় ধরে তিমিদের এ বিবর্তন ঘটেছে।

মিসরের ওয়েস্টার্ন ডেজার্ট অঞ্চল আগে থেকেই আরবি ভাষায় ‘ওয়াদি আল-হিতান’ নামে পরিচিত, যার বাংলা করলে দাঁড়ায় তিমির উপত্যকা। জনপ্রিয় এই পর্যটনকেন্দ্র মিসরের একমাত্র প্রাকৃতিক বিশ্ব ঐতিহ্য, যেখানে প্রাগৈতিহাসিক আরেকটি তিমির জীবাশ্ম রয়েছে।

নতুন আবিষ্কৃত চারপেয়ে তিমিটি ‘প্রোটিসিটিডস’ পরিবারের। বিলুপ্ত আধা-জলজ এই তিমির বাস ছিল ৫ কোটি ৯০ লাখ থেকে ৩ কোটি ৩০ লাখ বছর আগে।

সালাম জানান, এ ধরনের তিমি দীর্ঘক্ষণ শুষ্ক ডাঙায় হাঁটতে পারত। আবার পানিতেও শিকার করত।

নিউইয়র্ক ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির স্তন্যপায়ী প্রাণীর বিবর্তন ইতিহাসের বিশেষজ্ঞ জোনাথন গিজলার বলেন, ‘প্রাচীনকালে যেসব তিমি চার পা ব্যবহার করত বলে আমরা জানি, সেগুলোর মধ্যেও এটি নতুন প্রজাতি।’

তার ধারণা, তিমি কখন, কীভাবে, কেন ডাঙা থেকে আলাদা হয়েছে, সে বিষয়ে আভাস মিলতে পারে মিসরের যে এলাকায় জীবাশ্মটি পাওয়া গেছে- সেখান থেকে। গবেষণায় যুক্ত ছিলেন না গিজলার।

বিশ্বে এখন পর্যন্ত যত তিমির জীবাশ্ম আবিষ্কার হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন জীবাশ্মটি প্রায় ৫ কোটি বছরের পুরোনো। পাকিস্তান ও ভারতের কোনো এলাকায় সেটি জন্মেছিল বলে ধারণা করা হয়।

কিন্তু ডাঙা থেকে কীভাবে সমুদ্রের স্থায়ী বাসিন্দায় পরিণত হলো তিমি, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি গবেষকরা।

আরও পড়ুন:
গুহায় সিংহশাবকের দেহাবশেষ ২৮ হাজার বছর আগের
বিজ্ঞানমনস্করাও হতে পারেন ‘অন্ধবিশ্বাসী’
৮৯ কোটি বছর আগের পাথরে প্রাচীনতম প্রাণীর জীবাশ্ম
পৃথিবী গোল না হয়ে সমতল হলে কী হতো?
মানসিক প্রশান্তি পেতে লেখালেখি

শেয়ার করুন

মুটিয়ে যাওয়ার মূল কারণ অতিরিক্ত খাবার নয়: গবেষণা

মুটিয়ে যাওয়ার মূল কারণ অতিরিক্ত খাবার নয়: গবেষণা

প্রতীকী ছবি

আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ‘গ্লাইসেমিক ফুডসের’ আধিক্য ওজন বৃদ্ধির মূল কারণ। রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, এমন খাবারকে বলা হয় গ্লাইসেমিক ফুড। প্রক্রিয়াজাত খাবার, বিশেষ করে অল্প সময়ে দ্রুত হজমযোগ্য শর্করায় বেড়ে যায় ওজন।

শারীরিক স্থূলতা বা উচ্চতার তুলনায় বেশি ওজন বা মোটা হওয়ার মূল কারণ অতিরিক্ত খাওয়া নয়। নতুন গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে, স্থূলতার মহামারির জন্য দায়ী আধুনিক খাদ্যাভ্যাস।

সায়েন্স ডেইলির প্রতিবেদনে বলা হয়, আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ‘গ্লাইসেমিক ফুডসের’ আধিক্য ওজন বৃদ্ধির প্রবণতার মূল কারণ। রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, এমন খাবারকে বলা হয় গ্লাইসেমিক ফুড।

প্রক্রিয়াজাত খাবার, বিশেষ করে অল্প সময়ে দ্রুত হজমযোগ্য শর্করা গ্লাইসেমিক ফুড এর অন্যতম উদাহরণ। এসব খাবার খাওয়ার কারণে মানবদেহে হরমোন নিঃসরণে প্রভাব পড়ে, যা আমাদের বিপাকক্রিয়াকে আমূল বদলে দিতে পারে। এরই ফলে দেহে চর্বির পরিমাণ বাড়ে, ওজন বাড়ে, ব্যক্তি মোটা হয়ে যায়।

গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী দ্য আমেরিকান জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশানে।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র সিডিসির বিজ্ঞানীরা বলছেন, আমেরিকান জনগণের ৪০ শতাংশের বেশি শারীরিক স্থূলতায় ভুগছেন। তাদের মধ্যে বাড়ছে হৃদরোগ, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, টাইপ টু ডায়াবেটিস ও কয়েক ধরনের ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা।

নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের ২০২০-২০২৫ সালের ডায়েটারি গাইডলাইনে বলা হয়েছে, ওজন কমাতে হলে ‘প্রাপ্তবয়স্কদের ক্যালরি বেশি- এমন খাবার খাওয়া ও কোমল পানীয় পান করা কমাতে হবে। বাড়াতে হবে শরীরচর্চা।’

স্বাস্থ্য রক্ষায় ওজন নিয়ন্ত্রণের কয়েক শ বছরের পুরোনো দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটেছে এই নির্দেশনায়।

আধুনিককালে অতি সুস্বাদু, বাজারে বিপুল জনপ্রিয় আর সস্তা প্রক্রিয়াজাত খাবার ঘিরে রেখেছে মানুষকে। প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি ক্যালরি খেয়ে ফেলা হয় সহজেই। এই ভারসাম্যহীনতা আরও বেড়ে যায় শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার জীবনচর্চায় অভ্যস্ততার কারণে।

কম খাওয়া আর অধিক শরীরচর্চা দৈনন্দিন জীবনে অন্তর্ভুক্ত করতে স্বাস্থ্যবিদরা কয়েক দশক ধরে বলে আসলেও তা আমলে নিচ্ছে না মানুষ। ফলে বাড়ছে শারীরিক স্থূলতা ও অতিরিক্ত ওজনজনিত স্বাস্থ্য জটিলতা।

গবেষকরা বলছেন, আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে খাদ্যতালিকায় ভারসাম্য রক্ষার বিকল্প পথ খুঁজতে হবে।

যেমন শর্করা-ইনসুলিনের হিসাবভিত্তিক তালিকায় স্থূলতা ও অতিরিক্ত ওজনের বিষয়টি বেশি স্পষ্ট; এটি দীর্ঘমেয়াদে ওজন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কৌশল গ্রহণেও সহায়ক।

আরও পড়ুন:
গুহায় সিংহশাবকের দেহাবশেষ ২৮ হাজার বছর আগের
বিজ্ঞানমনস্করাও হতে পারেন ‘অন্ধবিশ্বাসী’
৮৯ কোটি বছর আগের পাথরে প্রাচীনতম প্রাণীর জীবাশ্ম
পৃথিবী গোল না হয়ে সমতল হলে কী হতো?
মানসিক প্রশান্তি পেতে লেখালেখি

শেয়ার করুন