‘আমেরিকানদের মুখ দেখতে চাই না আর’

‘আমেরিকানদের মুখ দেখতে চাই না আর’

আপাদমস্তক ঢাকা পোশাক পরা এ আফগান নারীরা সম্প্রতি তালেবানের সহিংসতায় গৃহহীন হন। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্র উদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা লঙ্ঘন করায় ক্ষুব্ধ শিরিন বলেন, ‘বিদেশিরা আমাদের ময়লার মতো ব্যবহার করেছে। তাদের সঙ্গে থাকার চেয়ে বরং নতুন তালেবান শাসকদের অধীনেই থাকব আমি। প্রত্যেক আফগানকে অপমান করেছে আমেরিকানরা।’

কাবুল বিমানবন্দরেই টানা পাঁচ দিন, পাঁচ রাত থেকেছেন আফগান শিক্ষিকা শিরিন তাবরিক। যখনই কোনো বিমান ছেড়েছে, প্রতিবার তাতে ওঠার চেষ্টায় ছিলেন মরিয়া। প্রতিবার চেষ্টা ভেস্তে গেছে।

রাগ, দুঃখ, অপমানে শেষ পর্যন্ত হাল ছেড়ে গ্রামে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিরিন। ফিরছেন তালেবানশাসিত নতুন ও অনাকাঙ্ক্ষিত এক জীবনে।

একই বিড়ম্বনার শিকার ধাত্রী শাগুফতা দস্তগীর। আফগানদের সাহায্য করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল পশ্চিমা বিশ্ব, তাতে আস্থা হারিয়ে বাড়ি ফিরছেন তিনিও।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, তালেবানশাসিত আফগানিস্তান ছাড়তে চাওয়া অনেক মানুষ যে চরম বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে, তারই প্রতিফলন এসব গল্প।

লাখখানেক আফগান কাবুল বিমানবন্দর হয়ে দেশ ছেড়ে পালাতে সক্ষম হয়েছে। বিপরীতে স্বপ্ন ভেঙেছে কয়েক লাখ মানুষের, যারা বিমানবন্দর থেকে ফিরে গেছেন তালেবানের অন্ধকার শাসনে।

ক্ষমতাচ্যুত আফগান সরকারের সাবেক এক কর্মকর্তার দ্বিতীয় স্ত্রী শিরিন। দুই স্ত্রীকে ফেলে স্বামী দেশ ছেড়ে পালিয়ে পাকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছেন আরও ছয় মাস আগেই। প্রথম স্ত্রী আর তাদের তিন সন্তানের সঙ্গে এতদিন থাকছিলেন শিরিন; হয়েছেন বিদ্রুপের শিকার।

তালেবানশাসিত আফগানিস্তানে নিজের ভবিষ্যৎ জানা নেই ৪৩ বছর বয়সী এ নারীর।

সাধারণ আফগানদের শঙ্কা, পশ্চিমা বিশ্ব সমর্থিত ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে যুক্ত ছিল যারা, ২০ বছর পর ক্ষমতায় ফিরে তাদের ওপর প্রতিশোধ নেবে তালেবান যোদ্ধারা।

সবচেয়ে আতঙ্কে নারীরা। মৃত্যুর চেয়েও তাদের বড় ভয় শোষণ আর বঞ্চনার জীবন। নব্বইয়ের দশকে প্রথম দফায় ক্ষমতায় থাকাকালীন শিক্ষা গ্রহণ, জীবিকা উপার্জনসহ সব ধরনের মৌলিক অধিকার নারীদের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল তালেবান।

চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয় দফায় দেশের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর এক সংবাদ সম্মেলনে নারীর অধিকার রক্ষা ও তাদের নতুন সরকারে অংশ নিতে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছিল তালেবান। শরিয়াহ আইন অনুযায়ী এসব সুযোগ দেয়া হবে বলে আশ্বাস দেয়া হলেও এর অর্থ এখনও অস্পষ্ট।

তালেবান আশ্বাস কতটা রক্ষা করবে, তা নিয়ে সন্দিহান আফগান নারীরা।

এরই মধ্যে অনেক জায়গায় তালেবান যোদ্ধারা নারীদের জোরপূর্বক বিয়ে ও প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত করছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

এমন অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র উদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা লঙ্ঘন করায় ক্ষুব্ধ শিরিন বলেন, ‘বিদেশিরা আমাদের ময়লার মতো ব্যবহার করেছে। তাদের সঙ্গে থাকার চেয়ে বরং নতুন তালেবান শাসকদের অধীনেই থাকব আমি।

‘প্রত্যেক আফগানকে অপমান করেছে আমেরিকানরা। আমি ভালো পরিবারের মেয়ে। অথচ পাঁচটা রাত আমাকে খোলা আকাশের নিচে রাস্তায় কাটাতে হয়েছে। মনে হচ্ছে যে, আমি ভিক্ষা করছি। তাও এমন কিছু লোকের কাছে ভিক্ষা চেয়েছি, যারা নারী-শিশুদের মানুষ বলেই মনে করে না।’

শিরিন জানান, তার কাছে পাকিস্তানে যাওয়ার জন্য বৈধ সব কাগজপত্র ছিল। কিন্তু বিমানবন্দরে বিদেশি নাগরিকদের জন্য এক রকম নিয়ম, আর আফগানদের জন্য আরেক নিয়ম।

তিনি বলেন, ‘বিদেশি একটা মানুষকে কোথাও থামানো হয়নি, তাদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকুক বা না থাকুক। আমার কাছে সব কাগজ থাকা সত্ত্বেও আমাকে কেন আমেরিকানরা আটকাচ্ছে? আমার পথ আটকানোর তারা কারা?’

দ্বৈত নাগরিকত্বধারী অনেক আফগানেরও পথ রোধ করা হচ্ছে বলে খবর মিলেছে। বিপরীতে পশ্চিমা নাগরিকদের বিমানবন্দরে পৌঁছাতে খুব একটা বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে না।

তবে যেসব আফগান দেশ ছাড়তে পেরেছেন, তারা বিদেশি সেনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতাই জানিয়েছেন।

আফগানদের দেশে থেকে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তালেবান। গোষ্ঠীটি বলছে, দেশ চালাতে এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য সাধারণ আফগানদের সহযোগিতা তাদের প্রয়োজন। আশ্বাসে কিছু সাবেক সরকারি কর্মী কাজে ফিরলেও বাকিরা আত্মগোপনে।

দেশ ছাড়ার আশা হারালেও হতাশ হতে রাজি নন শিরিন। দেশে থেকেই কিছু করতে চান তিনি।

শিরিন জানান, উত্তরাঞ্চলীয় ফারিয়াব প্রদেশে নিজের গ্রামের বাড়িতে ফিরে যাবেন।

তিনি বলেন, ‘হয়তো সেখানেই আমার জন্য ভালো কিছু অপেক্ষা করছে। কিছু কৃষিজমি আছে। গম আর ফলফলাদি উৎপাদন করব সেখানে। একটা কুয়াও আছে। আর কিছু লাগবে না যতদিন বেঁচে আছি।

‘আমেরিকানরা চলে যাক, মরে যাক। আর কোনোদিন তাদের মুখ দেখতে চাই না এ দেশে।’

অন্যদিকে মাজার-ই-শরিফ প্রদেশের বাসিন্দা ছিলেন ২৯ বছর বয়সী শাগুফতা দস্তগীর। পেশায় প্রশিক্ষিত ধাত্রী শাগুফতা ইংরেজি ও জার্মান ভাষায় দক্ষ। জার্মানিভিত্তিক একটি বেসরকারি সাহায্য সংস্থায় কাজ করার অভিজ্ঞতাও আছে তার।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সংস্থাটির কার্যালয় বন্ধ হয়ে গেলেও ছোট ছোট প্রকল্পে কাজ করছিলেন শাগুফতা। বেতনও পাচ্ছিলেন।

তিনি জানান, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে ২০ জনের বেশি আফগান কর্মীকে জার্মানিতে পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছিল জার্মান দূতাবাস।

গত মাসে মাজার-ই-শরিফ দখলে তালেবানের সহিংস অভিযান শুরু হয়। তখন থেকেই দূতাবাস আর যে সাহায্য সংস্থায় কাজ করতেন, তাদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।

এরপর দেশ ছাড়ার আশায় বাবা আর ভাইয়ের সঙ্গে সোজা কাবুল বিমানবন্দরে পৌঁছান শাগুফতা। ভেবেছিলেন বিমানবন্দরে সহযোগিতা পেয়ে হয়তো দেশ ছাড়তে পারবেন।

তিনি বলেন, ‘পুরো রাস্তায় ঝুঁকি ছিল। কয়েক মাইল পরপরই তালেবান যোদ্ধারা আমাদের গাড়ি থামিয়েছে। আমরা বলেছি যে কাবুলে পরিবারের কাছে যাচ্ছি আমরা। তখন তারা আমাদের দিকে তাকিয়ে হেসেছিল। নিজ বাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছি বলে আমাদের বোকা, গাধা বলেছিল।’

শিরিনের মতো শাগুফতাও বিমানবন্দরে ঢুকতে পারেননি। চার দিন, তিন রাত অপেক্ষা করে বাড়িতে ফিরছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘মাজার-ই-শরিফেই ফিরে যাব। রাগ হচ্ছে না, বরং এখন ক্লান্ত বোধ করছি খুব। জার্মানদের খুব পছন্দ করতাম। এখন পশ্চিমাদের অন্য রূপ দেখলাম।’

জার্মান একটি কূটনীতিক সূত্র বলেছে, কাবুল বিমানবন্দরে নৈরাজ্যের কারণে গত কয়েক দিন ধরে বিমানবন্দরের প্রবেশপথে কার্যক্রম ছিল খুব সীমিত।

সাড়ে পাঁচ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেয়ার পর কাবুল বিমানবন্দরে উদ্ধার অভিযানে ইতি টেনেছে বার্লিন। এসব মানুষের মধ্যে আফগান নাগরিক চার হাজার এক শর বেশি।

অথচ এর আগে স্থানীয় আফগান কর্মী, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীসহ ১০ হাজার মানুষকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিল জার্মানি।

শাগুফতা বলেন, ‘বিমানবন্দরে মরিয়া মানুষের ভিড় দেখে আমার মনে হয়েছে যে আমরা পরিত্যক্ত। অথচ আল্লাহ জানেন, বিদেশিদের কোনো ক্ষতি সাধারণ বেসামরিক আফগানরা করেনি।’

আরও পড়ুন:
আফগান মন্ত্রী এখন ডেলিভারি ম্যান
যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় আইএসের ‘পরিকল্পনাকারী’ নিহত
কাবুলে বিস্ফোরণ: নিহত বেড়ে ১৭০
কাবুলে আরও হামলার শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র
কাবুল বিস্ফোরণ: আটকে পড়া বাংলাদেশিরা ভীতসন্ত্রস্ত

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নারী অধিকারকর্মী কমলা ভাসিনের প্রয়াণ

নারী অধিকারকর্মী কমলা ভাসিনের প্রয়াণ

ভারতীয় নারী অধিকারকর্মী ও লেখক কমলা ভাসিন আর নেই। ছবি: সংগৃহীত

কমলা ভাসিনের মৃত্যুর খবর জানিয়ে ভারতীয় নারী অধিকারকর্মী কবিতা শ্রীবাস্তব টুইটবার্তায় বলেন, ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে কাজ করতে ভালোবাসতেন কমলা। কমলা, আপনি চিরদিন আমাদের হৃদয়ে থাকবেন। নারীসমাজ কমলার অন্তিম যাত্রায় গভীরভাবে শোকাহত।’

ভারতের প্রখ্যাত নারী অধিকারকর্মী ও লেখক কমলা ভাসিন আর নেই।

শুক্রবার দিবাগত রাতে তার মৃত্যু হয় বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

কমলা ভাসিনের মৃত্যুর খবর জানিয়ে ভারতীয় আরেক নারী অধিকারকর্মী কবিতা শ্রীবাস্তব টুইটবার্তায় বলেন, ‘শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে আমাদের প্রাণপ্রিয় বন্ধু কমলা ভাসিন চলে গেছেন। কমলার প্রয়াণ ভারতসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় নারী আন্দোলনে বড় ধরনের আঘাত।’

তিনি বলেন, ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে কাজ করতে ভালোবাসতেন কমলা। কমলা, আপনি চিরদিন আমাদের হৃদয়ে থাকবেন। নারীসমাজ কমলার অন্তিম যাত্রায় গভীরভাবে শোকাহত।’

৭০-এর দশকে ভারতের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় নারী আন্দোলনে আলোচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হন কমলা।

গ্রামীণ ও আদিবাসী সুবিধাবঞ্চিত নারীদের নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যে ২০০২ সালে ‘সঙ্গত’ নামে নারীবাদী নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।

মঞ্চনাটক, গান ও অন্যান্য শিল্পকলার মাধ্যমে নারীদের বঞ্চনার কথা তুলে ধরে সঙ্গত।

নারীবাদ ও জেন্ডার তত্ত্ব নিয়ে বেশ কয়েকটি বই লেখেন কমলা, যেগুলো ৩০টির বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

কয়েক দশক ধরে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদ-বিক্ষোভে ‘আজাদি’ স্লোগান দেয়া হয়ে আসছে।

পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে কমলাই প্রথম ওই স্লোগানকে হাজির করেন, যা পরে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

আরও পড়ুন:
আফগান মন্ত্রী এখন ডেলিভারি ম্যান
যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় আইএসের ‘পরিকল্পনাকারী’ নিহত
কাবুলে বিস্ফোরণ: নিহত বেড়ে ১৭০
কাবুলে আরও হামলার শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র
কাবুল বিস্ফোরণ: আটকে পড়া বাংলাদেশিরা ভীতসন্ত্রস্ত

শেয়ার করুন

আদিবাসী শিশু হত্যায় ক্ষমা চাইলেন ক্যাথলিক বিশপরা

আদিবাসী শিশু হত্যায় ক্ষমা চাইলেন ক্যাথলিক বিশপরা

চলতি বছরের মে মাসে কানাডার পরিত্যক্ত এই স্কুল থেকে ২১৫টি আদিবাসী শিশুর দেহাবশেষ পাওয়া যায়। ছবি: ক্যামলুপস দিজ উইক

শুক্রবার কানাডিয়ান কনফারেন্স অফ ক্যাথলিক বিশপস এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আদিবাসী শিশুদের ওপর আমাদের সম্প্রদায়ের কয়েকজন সদস্য ভয়াবহ শারীরিক, মানসিক, আধ্যাত্মিক, সাংস্কৃতিক ও যৌন নির্যাতন চালিয়েছে। আমরা ওই সব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করছি।’

কানাডায় ক্যাথলিক গির্জা পরিচালিত আবাসিক স্কুলে শতবর্ষ ধরে আদিবাসী শিশু নির্যাতনের ঘটনায় অবশেষে ক্ষমা চেয়েছেন দেশটির বিশপ সম্প্রদায়।

অবশ্য ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস এখনও ওই সব ঘটনায় কোনো ক্ষমা চাননি।

আল জাজিরার শনিবারের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

শুক্রবার কানাডিয়ান কনফারেন্স অফ ক্যাথলিক বিশপস এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আদিবাসী শিশুদের ওপর আমাদের সম্প্রদায়ের কয়েকজন সদস্য ভয়াবহ শারীরিক, মানসিক, আধ্যাত্মিক, সাংস্কৃতিক ও যৌন নির্যাতন চালিয়েছে।

‘আমরা ওই সব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করছি।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘গির্জা পরিচালিত বিভিন্ন আবাসিক স্কুল কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে ওই সব নির্যাতনের ঘটনায় আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়েছে।

‘তাদের পাশাপাশি আমরা, কানাডার ক্যাথলিক বিশপ সম্প্রদায় দ্ব্যর্থহীনভাবে আদিবাসী শিশুদের ওপর অত্যাচারের ঘটনায় অনুতাপ ও দুঃখ প্রকাশ করছি।’

কানাডা সরকারের নীতি অনুযায়ী ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে লাখখানেক আদিবাসী শিশুকে জোর করে পরিবার থেকে আলাদা করে ক্যাথলিক গির্জা পরিচালিত আবাসিক স্কুলে ভর্তি করানো হতো।

১৮৩১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বলবৎ থাকা ওই নীতির কারণে প্রায় দেড় লাখ আদিবাসী শিশু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়।

মূলধারার সংস্কৃতি আত্মস্থ করাতে ক্যাথলিক গির্জা পরিচালিত ওই সব স্কুলে শিশুদের মাথার চুল কেটে দেয়া হতো।

স্কুলে নিজেদের ভাষায় কথা বলা নিষেধ ছিল ওই শিশুদের। নিজেদের সংস্কৃতিচর্চারও অনুমতি ছিল না তাদের।

ওই ঘটনাকে পরে ‘সাংস্কৃতিক গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

চলতি বছরের মে মাসে রাডার জরিপের সময় কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া অঙ্গরাজ্যে পরিত্যক্ত এক আবাসিক স্কুল থেকে ২১৫টি আদিবাসী শিশুর দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।

ওই শিশুরা ক্যামলুপস ইন্ডিয়ান রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল। ১৯৭৮ সালে স্কুলটি বন্ধ করা হয়।

সে সময় কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছিলেন, ‘ভয়াবহ এ আবিষ্কার আমার হৃদয় ভেঙে দিয়েছে। এটি আমাদের দেশের ইতিহাসের কালো ও লজ্জাজনক অধ্যায় স্মরণ করিয়ে দেয়।’

এ ছাড়া ওই ঘটনায় মনোবেদনা প্রকাশ করেন পোপ ফ্রান্সিস। তবে তিনি কোনো ক্ষমা চাননি।

এরপর গত কয়েক মাসে দেশটির বিভিন্ন আবাসিক স্কুল প্রাঙ্গণে আরও হাজারখানেকের মতো আদিবাসী শিশুর দেহাবশেষ মেলে।

ক্যাথলিক গির্জা পরিচালিত আবাসিক স্কুলগুলো নিয়ে কয়েক বছর আগে তদন্ত করে কানাডিয়ান ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন (টিআরসি)।

২০১৫ সালে কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, শিশুরা ওই সব স্কুলে অপুষ্টিতে ভুগত। নিয়মিত তাদের পেটানো ও গালাগাল দেয়া হতো।

আরও পড়ুন:
আফগান মন্ত্রী এখন ডেলিভারি ম্যান
যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় আইএসের ‘পরিকল্পনাকারী’ নিহত
কাবুলে বিস্ফোরণ: নিহত বেড়ে ১৭০
কাবুলে আরও হামলার শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র
কাবুল বিস্ফোরণ: আটকে পড়া বাংলাদেশিরা ভীতসন্ত্রস্ত

শেয়ার করুন

মেক্সিকোর তিন-চতুর্থাংশ অঞ্চলে সমলিঙ্গের বিয়ে বৈধ

মেক্সিকোর তিন-চতুর্থাংশ অঞ্চলে সমলিঙ্গের বিয়ে বৈধ

সমলিঙ্গের বিয়ে বৈধ হয়েছে মেক্সিকোর তিন-চতুর্থাংশ অঞ্চলে। ছবি: এএফপি

মেক্সিকোর সোনোরা অঙ্গরাজ্যের কংগ্রেস বৃহস্পতিবার সমলিঙ্গের বিয়ের পক্ষে ২৬টি ও বিপক্ষে সাতটি ভোট দেয়।

সমলিঙ্গের বিয়ে বৈধ করেছে মেক্সিকোর সোনোরা অঙ্গরাজ্যের কংগ্রেস।

অঙ্গরাজ্যটির আইনসভা কংগ্রেসে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সমলিঙ্গের বিয়ের পক্ষে বেশি ভোট পড়ে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সোনোরা অঙ্গরাজ্যে সমলিঙ্গের বিয়ে বৈধ করার মধ্য দিয়ে মেক্সিকোর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ অঞ্চল এই আইনের আওতায় এলো।

মেক্সিকোর উত্তরাঞ্চলে বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে গঠিত সোনোরা। সীমান্তে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আরিজোনা ও নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্য।

বৃহস্পতিবার সোনোরার আইনপ্রণেতারা সমলিঙ্গের বিয়ের পক্ষে ২৬টি ও বিপক্ষে সাতটি ভোট দেন।

মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত দেশটির অন্যতম রক্ষণশীল অঙ্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত কোয়েরেতারোও বুধবার নিজেদের আইন পরিবর্তন করে সমলিঙ্গের বিয়ের অনুমোদন দেয়।

মেক্সিকোভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির ৩২টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে সমলিঙ্গের অনুমোদন দেয়া কোয়েরেতারো ২৩তম অঙ্গরাজ্য।

২০০৯ সালে মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটি প্রথম সমলিঙ্গের বিয়ের বৈধতা দেয়।

এর পরই বিয়ের সমতা ও এলজিবিটি সম্প্রদায়ের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার হয় মেক্সিকোর বাকি অঞ্চল।

মেক্সিকোর বামপন্থি প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাদোরের রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল রিজেনারেশন মুভমেন্টের (মরিনা) অনেক কর্মী সমলিঙ্গের বিয়েসহ অন্যান্য অধিকারের কড়া সমর্থক।

রাজধানী মেক্সিকো সিটির পাশাপাশি আগুয়াসকালিয়েনতিস, বাহা ক্যালিফোর্নিয়া, বাহা ক্যালিফোর্নিয়া সুর, কামপেচি, চিয়াপাস, চিহুয়াহুয়া, কোয়াহুইলা, কলিমা, হিদ্যালগোসহ অন্যান্য অঙ্গরাজ্যেও সমলিঙ্গের বিয়ে গত কয়েক বছরে বৈধ ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুন:
আফগান মন্ত্রী এখন ডেলিভারি ম্যান
যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় আইএসের ‘পরিকল্পনাকারী’ নিহত
কাবুলে বিস্ফোরণ: নিহত বেড়ে ১৭০
কাবুলে আরও হামলার শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র
কাবুল বিস্ফোরণ: আটকে পড়া বাংলাদেশিরা ভীতসন্ত্রস্ত

শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে ৭৫ নারী শিল্পীকে নিয়ে আর্ট ক্যাম্প

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে ৭৫ নারী শিল্পীকে নিয়ে আর্ট ক্যাম্প

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হয়েছে আর্ট ক্যাম্প। ছবি: সংগৃহীত

আর্ট ক্যাম্পের চিত্রকর্মগুলো নিয়ে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার ১ নম্বর গ্যালারিতে শুরু হবে মাসব্যাপী প্রদর্শনী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ৭৫ নারী শিল্পীর অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী আর্ট ক্যাম্প।

একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় বুধবার উদ্বোধন হয় ‘শেখ হাসিনা: বিশ্বজয়ী নন্দিত নেতা’ শীর্ষক এ ক্যাম্পের।

শিল্পকলা একাডেমির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর ভাবনা ও পরিকল্পনায় দুই দিনের এই আর্ট ক্যাম্পে শিল্পী ফরিদা জামান, নাইমা হক, রোকেয়া সুলতানা, কুহু প্লামনডন, কনক চাঁপা চাকমা, আইভি জামান, ফারজানা আহমেদ শান্তা, সীমা ইসলাম, জয়া শাহরীন হক ও সৈয়দা মাহবুবা করিমসহ ৭৫ জন নারী শিল্পী অংশ নিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে ৭৫ নারী শিল্পীকে নিয়ে আর্ট ক্যাম্প
‘শেখ হাসিনা: বিশ্বজয়ী নন্দিত নেতা’ শীর্ষক আর্টক্যাম্পে অংশ নেয়া চিত্রশিল্পীরা। ছবি: সংগৃহীত

২৩ সেপ্টেম্বর শেষ হবে এ আর্ট ক্যাম্প। এরপর ক্যাম্পের চিত্রকর্মগুলো নিয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার ১ নম্বর গ্যালারিতে শুরু হবে মাসব্যাপী প্রদর্শনী।

আরও পড়ুন:
আফগান মন্ত্রী এখন ডেলিভারি ম্যান
যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় আইএসের ‘পরিকল্পনাকারী’ নিহত
কাবুলে বিস্ফোরণ: নিহত বেড়ে ১৭০
কাবুলে আরও হামলার শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র
কাবুল বিস্ফোরণ: আটকে পড়া বাংলাদেশিরা ভীতসন্ত্রস্ত

শেয়ার করুন

কিশোরীকে গণধর্ষণ, অপ্রাপ্তবয়স্কসহ ২৬ আসামি গ্রেপ্তার

কিশোরীকে গণধর্ষণ, অপ্রাপ্তবয়স্কসহ ২৬ আসামি গ্রেপ্তার

প্রতীকী ছবি

গত জানুয়ারিতে প্রথমবার মেয়েটিকে ধর্ষণ করে মূল অভিযুক্ত এবং পুরো ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করে। এরপর ভিডিওটি প্রকাশের ভয় দেখিয়ে সে এবং বাকিরা মিলে বারবার মেয়েটিকে বিভিন্ন এলাকায় ডাকত এবং ধর্ষণ করত। শেষ পর্যন্ত বুধবার রাতে দোম্বিভালির মানপাড়া থানায় হাজির হয়ে অভিযোগ জানায় মেয়েটি; নাম উল্লেখ করে ২৯ জনের।

নয় মাস ধরে ১৫ বছরের এক কিশোরীকে গণর্ধষণের পর প্রকাশ্যে এসেছে বর্বর এ ঘটনা। জানা গেছে, ২৯ জন পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে তাকে। অভিযুক্তদের মধ্যে দুইজন অপ্রাপ্তবয়স্ক।

গা শিউড়ে ওঠার মতো এ ঘটনা ঘটেছে ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের থানে জেলায়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বারবার ধর্ষণের শিকার হয়েছে মেয়েটি।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, থানের দোম্বিভালি এলাকায় এ ঘটনায় অপ্রাপ্তবয়স্ক দুইজনসহ ২৬ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনজন পলাতক।

পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার দাত্তা কারালে জানান, মূল অভিযুক্ত অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেটি ধর্ষণের শিকার মেয়েটির বন্ধু ছিল। গত জানুয়ারিতে প্রথমবার সে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে এবং পুরো ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করে।

এরপর ভিডিওটি প্রকাশের ভয় দেখিয়ে মূল অভিযুক্ত এবং বাকিরা মিলে বারবার মেয়েটিকে বিভিন্ন এলাকায় ডাকত এবং ধর্ষণ করত।

শেষ পর্যন্ত বুধবার রাতে দোম্বিভালির মানপাড়া থানায় হাজির হয়ে নিজে অভিযোগ জানায় মেয়েটি। এরপরই প্রকাশ্যে আসে ঘটনাটি। ধর্ষণের ঘটনায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ করেছে সে।

ধর্ষণের শিকার মেয়েটি বর্তমানে একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।

এ ঘটনায় গণধর্ষণ ও যৌন অপরাধের বিরুদ্ধে শিশুসুরক্ষা আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, যেসব স্থানে মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে, সেসব স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তদন্তের জন্য ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের ডেকে পাঠানো হয়েছে। ভিডিওসহ অন্যান্য প্রমাণও সংগ্রহ করেছে পুলিশ।

অভিযুক্তদের প্রায় সবাই একই এলাকার বাসিন্দা এবং ধর্ষণের শিকার মেয়েটি ও মূল অভিযুক্তের পরিচিত।

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন মহারাষ্ট্রের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতা দেবেন্দ্র ফড়নাভিস।

এনসিপির আইনপ্রণেতা বিদ্যা চাভান জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের কয়েকজন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্য। তাদের রাজনৈতিক পরিচয় যেন ধর্ষণের বিচারে বাধা না হয়, তা নিশ্চিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বানও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
আফগান মন্ত্রী এখন ডেলিভারি ম্যান
যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় আইএসের ‘পরিকল্পনাকারী’ নিহত
কাবুলে বিস্ফোরণ: নিহত বেড়ে ১৭০
কাবুলে আরও হামলার শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র
কাবুল বিস্ফোরণ: আটকে পড়া বাংলাদেশিরা ভীতসন্ত্রস্ত

শেয়ার করুন

মণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুর

মণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুর

জেলার পূজা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক তুহিন চাকী বলেন, ‘আগামী ৬ অক্টোবর মহালয়ার মাধ্যমে দুর্গোৎসব শুরু হওয়ার কথা। এখন এ ঘটনা ঘটল।’

কুষ্টিয়ায় একটি পূজামণ্ডপে ভাঙচুর চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা, ভেঙে ফেলা হয়েছে দুর্গাপূজার জন্য নবনির্মিত বেশ কিছু প্রতিমা।

শহরের আড়ুয়াপাড়ার আইকা সংঘ পূজামণ্ডপে মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিউজবাংলাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি- তদন্ত) নিশিকান্ত সরকার।

দুর্গাপূজা আয়োজনে ওই মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষের দিকে ছিল বলে জানায় জেলার পূজা উদযাপন পরিষদ। পুরোনো কোনো বিরোধের জেরে দুর্বৃত্তরা এই কাজ করেছে বলে ধারণা পরিষদের নেতাদের।

এর সাংগঠনিক সম্পাদক তুহিন চাকী জানান, মঙ্গলবার রাত ৩টার পর মণ্ডপ কমিটির লোকজন প্রতিমা ঢেকে রেখে বাড়ি চলে যান। বুধবার সকাল ৭টার দিকে এলাকার এক নারী মণ্ডপের পাশে একটি প্রতিমার মাথা পড়ে থাকতে দেখে সংশ্লিষ্টদের খবর দেন।

পরে মণ্ডপ কমিটির সদস্যরা গিয়ে দেখেন, দুর্গা, লক্ষ্মী, স্বরস্বতী, কার্তিক ও অসুরের প্রতিমা ভেঙে ফেলা হয়েছে।

তুহিন বলেন, ‘আগামী ৬ অক্টোবর মহালয়ার মাধ্যমে দুর্গোৎসব শুরু হওয়ার কথা। এখন এ ঘটনা ঘটল। সবগুলো প্রতিমার ক্ষতি করা হয়েছে।’

তিনি ও মণ্ডপ কমিটির নেতারা জানিয়েছেন, স্থানীয় এক পৌর কাউন্সিলরের সঙ্গে এলাকার একটি গোষ্ঠির দ্বন্দ্বের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের ধারণা।

আরও পড়ুন:
আফগান মন্ত্রী এখন ডেলিভারি ম্যান
যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় আইএসের ‘পরিকল্পনাকারী’ নিহত
কাবুলে বিস্ফোরণ: নিহত বেড়ে ১৭০
কাবুলে আরও হামলার শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র
কাবুল বিস্ফোরণ: আটকে পড়া বাংলাদেশিরা ভীতসন্ত্রস্ত

শেয়ার করুন

নারীদের ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের বিশেষ উদ্যোগ

নারীদের ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের বিশেষ উদ্যোগ

নারীদের ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দিতে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। ছবি: নিউজবাংলা

দেড় বছরে আটটি কেন্দ্রে ত্রিশজন করে ছয়টি ব্যাচে মোট ১ হাজার ৪৪০ জন নারীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় সনদ দেয়া হবে।

দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে দেড় হাজার নারীকে মোটর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দেবে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর।

রাজধানীতে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের সাথে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রাম চন্দ্র দাস ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে সই করেন।

কর্মকর্তারা জানান, আয়বর্ধক প্রকল্পের মাধ্যমে এ প্রশিক্ষণ হবে। সাতটি বিভাগীয় শহর ও পাবনা জেলায় নারীদের মোটর ড্রাইভিং এবং বেসিক মেইন্টেইন্স বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

আগামী দেড় বছরে আটটি কেন্দ্রে ত্রিশজন করে ছয়টি ব্যাচে মোট ১ হাজার ৪৪০ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় সনদ দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
আফগান মন্ত্রী এখন ডেলিভারি ম্যান
যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় আইএসের ‘পরিকল্পনাকারী’ নিহত
কাবুলে বিস্ফোরণ: নিহত বেড়ে ১৭০
কাবুলে আরও হামলার শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র
কাবুল বিস্ফোরণ: আটকে পড়া বাংলাদেশিরা ভীতসন্ত্রস্ত

শেয়ার করুন