তালেবানের ‘ইসলামি আমিরাত’ বর্জনের আহ্বান মুসলিম সংগঠনের

তালেবানের ‘ইসলামি আমিরাত’ বর্জনের আহ্বান মুসলিম সংগঠনের

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে কথিত ইসলামি আমিরাতের পতাকার পাশে দুজন তালেবান যোদ্ধা। ছবি: এএফপি

আইএমএসডির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত তালেবানের কর্মকাণ্ড সার্বক্ষণিক নজরদারির মধ্যে রাখা। তালেবান এবারের শাসনে মানুষের স্বাধীনতা এবং নারী-শিশুদের অধিকার রক্ষার যে অঙ্গীকার করেছে সেটিও পর্যবেক্ষণ করা দরকার। কেননা গোষ্ঠীটির আগের আমলে আফগানিস্তান পৃথিবী বুকেই একটি দোজখে পরিণত হয়েছিল।’

আফগানিস্তানে কট্টর ধর্মীয় গোষ্ঠী তালেবানের কথিত ইসলামি আমিরাত প্রতিষ্ঠার চেষ্টাকে বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে ভারতের মুসলমানদের একটি সংগঠন। তারা বলছে, আফগানিস্তানের মানুষ তালেবানের ইসলামি রাষ্ট্র চায় না, তারা শান্তি চায়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইন্ডিয়ান মুসলিমস ফর সেকুলার ডেমোক্রেসি (আইএমএসডি) নামে ওই সংগঠনটি সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভারতের মুসলমানদের অবশ্যই আফগানিস্তানে ইসলামি আমিরাত প্রতিষ্ঠার চেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করা উচিত।

আইএমএসডি তাদের বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা এর আগে দখলদার যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনীর পুতুল সরকার এবং পরে প্রতিক্রিয়াশীল তালেবানের কাছে বন্দি হয়ে পড়া অসহায় আফগান নাগরিকদের প্রতি সংহতি জানাই। তালেবান তাদের আগের শাসনামলে সবচেয়ে কিছু মৌলিক মানবাধিকার ও আফগান জনগণের স্বাধীনতাকে পদদলিত করেছিল।’

ভারতীয় মুসলমানদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনটি বলছে, পৃথিবীর কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনেরই তালেবানের কাবুল দখলকে স্বাগত জানানো উচিত নয়।

আইএমএসডির বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত তালেবানের কর্মকাণ্ড সার্বক্ষণিক নজরদারির মধ্যে রাখা। তালেবান এবারের শাসনে মানুষের স্বাধীনতা এবং নারী-শিশুদের অধিকার রক্ষার যে অঙ্গীকার করেছে সেটিও পর্যবেক্ষণ করা দরকার। কেননা গোষ্ঠীটির আগের আমলে আফগানিস্তান পৃথিবী বুকেই একটি দোজখে পরিণত হয়েছিল।’

কাবুল দখলের পর ইতোমধ্যে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছে তালেবান। তবে সেটা গতানুগতিক ধারায় নয়। সবার আগে ঘোষণা করা হয়েছে অর্থমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তালেবান সরকারের অর্থমন্ত্রী হচ্ছেন গুল আগা। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হতে যাচ্ছেন সাদর ইব্রাহিম।

এর আগে ১৯ আগস্ট গোষ্ঠীটির মুখপাত্র ওয়াহিদুল্লাহ হাশিমি জানান, আফগানিস্তান পরিচালনায় গণতন্ত্রের কোনো সম্পৃক্ততা রাখবে না তালেবান।

নারীরা শিক্ষাগ্রহণ করবেন কি না, কী ধরনের পোশাক পরবেন, সেসব সিদ্ধান্ত নেবেন ওলামারা (ধর্মীয় শিক্ষাবিদ)।

তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিকব্যবস্থার ছিটেফোঁটাও থাকবে না শাসনব্যবস্থায়। কারণ আমাদের দেশে এর কোনো ভিত্তিই নেই।

‘আফগানিস্তানে কী ধরনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা দাঁড় করানো হবে, তা নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না। কারণ এটা স্পষ্ট। শরিয়াহ আইন অনুযায়ী দেশ চলবে। কথা শেষ।’

১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান।

২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের মুখে কাবুল ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হওয়া কওমি মাদ্রাসার ছাত্র, শিক্ষকদের নিয়ে গঠিত সশস্ত্র গোষ্ঠীটি সম্প্রতি দেশটির সঙ্গে চুক্তিতে আসে। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহার করে।

কাবুল দখলের আগে তালেবান চীনের সঙ্গে বৈঠক করে এসেছে। সেখানে এক পক্ষ আরেক পক্ষের পাশে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছিল।

তালেবানের বিরোধিতা করছে না রাশিয়াও; বরং মস্কো থেকে এক প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছে, তালেবানই দেশটির জন্য ভালো বলে তারা মনে করছে।

অবশ্য জার্মানি জানিয়ে দিয়েছে, শরিয়া আইনে দেশ চালালে আফগানিস্তানে তারা সহায়তা বন্ধ করে দেবে। পশ্চিমা আরও কিছু দেশ অর্থ সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
অর্থসংকটের আফগানিস্তানে টাকা বন্ধ বিশ্বব্যাংকেরও
তালেবান আতঙ্কে আছে আফগান ক্রিকেটাররা: নাভিন
নারী ফুটবলারসহ ৭৫ আফগান খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ায়
কর্মজীবী নারীদের ঘরে থাকতে বলল তালেবান
উদ্ধার যত তাড়াতাড়ি, তত ভালো: বাইডেন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

তালেবানের ওপর চাপ সৃষ্টিতে বিশ্ব একজোট: ব্লিঙ্কেন

তালেবানের ওপর চাপ সৃষ্টিতে বিশ্ব একজোট: ব্লিঙ্কেন

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি, তালেবান ইস্যুতে পাকিস্তান, চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যের মধ্যে শক্তিশালী ঐক্য রয়েছে। তালেবান বলেছে, তাদের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বৈধতা দরকার, সহযোগিতার দরকার। তালেবানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্পর্ক গোষ্ঠীটির কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভর করছে।’

তালেবানের ওপর চাপ সৃষ্টিতে বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ বলে মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন।

পাকিস্তান, চীন ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলাপ শেষে তার এমনটা মনে হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ সভা শেষে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহুমদ কুরেশির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ব্লিঙ্কেন।

এর আগে বুধবার বিকেলে আফগানিস্তান ইস্যুতে চীন ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গেও আলাপ করেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ব্লিঙ্কেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি, তালেবান ইস্যুতে পাকিস্তান, চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যের মধ্যে শক্তিশালী ঐক্য রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তালেবান বলেছে, তাদের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বৈধতা দরকার, সহযোগিতার দরকার।

‘তালেবানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্পর্ক গোষ্ঠীটির কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভর করছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেন জানান, যুক্তরাষ্ট্র চায় দীর্ঘ ২০ বছর ধরে বিদেশিদের সহযোগিতা করা আফগান ও বাইরের দেশের নাগরিকদের নিরাপদে আফগানিস্তান ত্যাগের ব্যবস্থা করুক তালেবান।

পাশাপাশি নারী-শিশু ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজনের অধিকারের প্রতি যাতে তালেবান সম্মান জানায়, তাও চায় ওয়াশিংটন।

এ ছাড়া আল-কায়েদার মতো চরমপন্থি অন্যান্য সংগঠনকে তালেবান যেন আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করতে না দেয়, সেদিকেও ওয়াশিংটন দৃষ্টি রাখছে বলে ফের জানান ব্লিঙ্কেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুরেশির সঙ্গে আলাপে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক সমন্বয়ের গুরুত্বের ওপর জোর দেন ব্লিঙ্কেন।

এর আগে তালেবানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক স্থাপন ও আফগানিস্তানের সম্পদের ওপর পশ্চিমা দেশ ও সংস্থার স্থগিতাদেশ তুলে দিতে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়।

তবে চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুরেশি জানান, তালেবানের নতুন সরকারকে তাড়াহুড়ো করে স্বীকৃতি দেয়ার কিছু নেই।

ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে আলোচনার শুরুতে কুরেশি বলেন, ‘শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে আমাদের লক্ষ্য অর্জনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার পথ খুঁজে বের করতে হবে।’

তালেবানের সঙ্গে এরই মধ্যে কাজ করার আগ্রহের কথা জানিয়েছে চীন ও রাশিয়া। তবে গোষ্ঠীটিকে এখনই স্বীকৃতি দিতে চায় না দেশ দুটি।

এ ছাড়া তালেবানের পৃষ্ঠপোষকতায় আফগানিস্তানে ফের জঙ্গিবাদ উত্থানের শঙ্কায় রয়েছে চীন ও রাশিয়া।

গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে তালেবানের হাতে কাবুলের পতন হয়।

দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার একপর্যায়ে চলতি মাসের শুরুতে বিতর্কিত ও সন্ত্রাসী তালিকায় থাকা নেতাদের নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে তালেবান।

অঙ্গীকার অনুযায়ী অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন না করায় দেশে-বিদেশে সমালোচনার মুখে রয়েছে কট্টরপন্থি ইসলামি গোষ্ঠীটি।

আরও পড়ুন:
অর্থসংকটের আফগানিস্তানে টাকা বন্ধ বিশ্বব্যাংকেরও
তালেবান আতঙ্কে আছে আফগান ক্রিকেটাররা: নাভিন
নারী ফুটবলারসহ ৭৫ আফগান খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ায়
কর্মজীবী নারীদের ঘরে থাকতে বলল তালেবান
উদ্ধার যত তাড়াতাড়ি, তত ভালো: বাইডেন

শেয়ার করুন

দিল্লির আদালতে গোলাগুলি, গ্যাংস্টারসহ নিহত ৪

দিল্লির আদালতে গোলাগুলি, গ্যাংস্টারসহ নিহত ৪

গোলাগুলির পর দিল্লি আদালতের চিত্র। ছবি: আনন্দবাজার

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, বেশ কিছু অপরাধে জড়িত কুখ্যাত গ্যাংস্টার জিতেন্দর গোগী দিল্লির তিহার কারাগারে ছিলেন। তাকে রোহিনীর আদালতে তোলার সময় প্রতিদ্বন্দ্বী তিল্লু গ্যাংয়ের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়। হামলাকারীরা আইনজীবীর পোশাকে প্রকাশ্যে গুলি চালায়।

ভারতের দিল্লিতে আদালতের ভেতর গোলাগুলির ঘটনায় এক গ্যাংস্টারসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন কয়েকজন।

দেশটির একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার এ গোলাগুলি হয়।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ঘটনার ফুটেজে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। পুলিশ সদস্য ও আইনজীবীদের হুড়াহুড়ি করতে দেখা গেছে।

উত্তর দিল্লির রোহিনীতে আদালত চত্বরের ভেতর গ্যাংস্টার জিতেন্দর গোগী প্রতিদ্বন্দ্বী একটি গ্যাং সদস্যদের হাতে নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

গোলাগুলিতে নিহত চারজনের মধ্যে দুই হামলাকারীও রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারা নিরাপত্তাকর্মীদের হাতে নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, বেশ কিছু অপরাধে জড়িত কুখ্যাত গ্যাংস্টার জিতেন্দর গোগী দিল্লির তিহার কারাগারে ছিলেন। তাকে রোহিনীর আদালতে তোলার সময় প্রতিদ্বন্দ্বী তিল্লু গ্যাংয়ের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়। হামলাকারীরা আইনজীবীর পোশাকে প্রকাশ্যে গুলি চালায়।

গোলাগুলির ঘটনায় আদালত চত্বরে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঘাটতির বিষয়টি ধরা পড়েছে।

ঘটনায় জড়িত দুটি গ্যাংয়ের সদস্যরা কয়েক বছর ধরে সংঘর্ষে লিপ্ত ছিল বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র। তাদের সে সংঘর্ষে নিহত হয় ২৫ জনের বেশি মানুষ।

সবশেষ সংঘর্ষে নিহত জিতেন্দর গোগী ওরফে জিতেন্দর মানকে গত বছরের মার্চে গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশ। ওই গ্রেপ্তারকে বড় ব্যাপার হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

আরও পড়ুন:
অর্থসংকটের আফগানিস্তানে টাকা বন্ধ বিশ্বব্যাংকেরও
তালেবান আতঙ্কে আছে আফগান ক্রিকেটাররা: নাভিন
নারী ফুটবলারসহ ৭৫ আফগান খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ায়
কর্মজীবী নারীদের ঘরে থাকতে বলল তালেবান
উদ্ধার যত তাড়াতাড়ি, তত ভালো: বাইডেন

শেয়ার করুন

২ হাজার নারীর কাপড় ৬ মাস ধুয়ে দেয়ার শর্তে জামিন

২ হাজার নারীর কাপড় ৬ মাস ধুয়ে দেয়ার শর্তে জামিন

ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার আসামিকে ৬ মাস গ্রামের সব নারীর কাপড় ধোয়ার শর্তে জামিন দিয়েছে ভারতীয় এক আদালত। ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস

বিহারের মধুবনী জেলার পুলিশ কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার সিং জানান, পেশায় ধোপা লালনকে চলতি বছরের এপ্রিলে ধর্ষণচেষ্টাসহ অন্য অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।

ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার এক আসামিকে সম্প্রতি শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছে ভারতের এক আদালত।

শর্তটি হচ্ছে, কোনো পারিশ্রমিক ছাড়া ওই আসামিকে টানা ছয় মাস তার গ্রামের সব নারীর কাপড় ধুয়ে ইস্ত্রি করে দিতে হবে।

বুধবার আদালতের নির্দেশে বলা হয়, ভারতের বিহার রাজ্যের মাঝোর গ্রামের প্রায় দুই হাজার নারীকে ছয় মাস ধরে বিনা মূল্যে লন্ড্রিসেবা দেবেন ধর্ষণচেষ্টার আসামি ২০ বছর বয়সি লালন কুমার।

আর এ জন্য প্রয়োজনীয় ডিটারজেন্টসহ অন্যান্য সামগ্রী লালনকেই কিনতে হবে।

বিহারের মধুবনী জেলার পুলিশ কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার সিং বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, পেশায় ধোপা লালনকে চলতি বছরের এপ্রিলে ধর্ষণচেষ্টাসহ অন্য অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।

এখন পর্যন্ত লালনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারের তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।

বিহারের মাঝোর গ্রাম পরিষদের প্রধান নাসিমা খাতুন বলেন, ‘আদালতের সিদ্ধান্তে গ্রামের সব নারী খুশি।’

তিনি বলেন, ‘এটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। এতে নারীদের প্রতি সম্মান বাড়বে। পাশাপাশি তাদের আত্মমর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে সহযোগিতা করবে।’

লালন আদালতের নির্দেশ ঠিকঠাক মেনে চলছে কি না, তা নজরদারির অন্যতম দায়িত্বে রয়েছেন নাসিমা।

মাঝোর গ্রামে বসবাসরত নারীদের ভাষ্য, নারীর ওপর সংঘটিত অপরাধ নিয়ে নিজেদের সম্প্রদায়ের ভেতর আলোচনার ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে আদালতের ওই নির্দেশ, যা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

মাঝোর গ্রামের বাসিন্দা অঞ্জুম পারভিন বলেন, ‘এটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। ভিন্নধর্মী এ শাস্তি সমাজকে নতুন বার্তা দিয়েছে।’

২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বাসে ২৩ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় পুরো দেশ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।

ওই ঘটনার ১৩ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই ছাত্রীর মৃত্যু হয়। গত বছরের ২০ মার্চ অভিযুক্ত চার ব্যক্তির ফাঁসি হয়।

দিল্লির ওই ঘটনার পর কঠোর শাস্তির বিধান রেখে ধর্ষণ আইন সংস্কার করে ভারত। তা সত্ত্বেও দেশটিতে ধর্ষণের হার উল্লেখযোগ্য হারে বেশি।

গত বছর ভারতের ২৮ হাজারের বেশি নারী-শিশু ধর্ষণের শিকার হয়।

আরও পড়ুন:
অর্থসংকটের আফগানিস্তানে টাকা বন্ধ বিশ্বব্যাংকেরও
তালেবান আতঙ্কে আছে আফগান ক্রিকেটাররা: নাভিন
নারী ফুটবলারসহ ৭৫ আফগান খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ায়
কর্মজীবী নারীদের ঘরে থাকতে বলল তালেবান
উদ্ধার যত তাড়াতাড়ি, তত ভালো: বাইডেন

শেয়ার করুন

শিশুদের মলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের অপ্রত্যাশিত উপস্থিতি

শিশুদের মলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের অপ্রত্যাশিত উপস্থিতি

সাম্প্রতিক গবেষণায় এক বছর বয়সী শিশুদের মলে উল্লেখযোগ্য হারে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়। ছবি: সংগৃহীত

মাইক্রোপ্লাস্টিক পেটে গেলে শরীরে কী ধরনের প্রভাব পড়ে, তা এখনও অজানা। তবে এটির যে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব নেই, তা আগের মতো বলা যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, সেল মেমব্রেন থেকে সংবহনতন্ত্রে প্রবেশ করতে পারে মাইক্রোপ্লাস্টিক। এতে কোষের স্বাভাবিক ক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।

মাইক্রোপ্লাস্টিক কোথায় নেই? বরফে ঢাকা অ্যান্টার্কটিকার সমতল থেকে শুরু করে সাগরের গভীর তলদেশ সর্বত্রই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়।

প্লাস্টিকের বাটিতে খাবার খাওয়ার কারণে আমাদের মলেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

তবে একই এলাকায় বসবাসরত প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে শিশুদের পেটে সম্প্রতি নতুন এক প্রাথমিক গবেষণায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি বেশি পাওয়া যায়।

সায়েন্স এলার্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরে গড়ে এক বছর বয়সি ছয়টি শিশুর মলে ১০ জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির চেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।

গবেষণা অনুসন্ধানে বলা হয়, প্লাস্টিকের তৈরি চুষনি চোষা ও পাত্রে খাদ্যগ্রহণ, প্লাস্টিকের খেলনা মুখে দেয়ায় প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে শিশুরা প্লাস্টিকের সান্নিধ্যে বেশি আসে।

গবেষণাপত্রে গবেষকরা বলেন, ‘আমাদের গবেষণায় শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের মলে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়।

‘এ বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে আমরা মনে করি।’

মাইক্রোপ্লাস্টিক পেটে গেলে শরীরে কী ধরনের প্রভাব পড়ে, তা এখনও অজানা। তবে এটির যে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব নেই, তা আগের মতো বলা যাচ্ছে না।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, সেল মেমব্রেন থেকে সংবহনতন্ত্রে প্রবেশ করতে পারে মাইক্রোপ্লাস্টিক। এতে কোষের স্বাভাবিক ক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।

নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির শিশু বিশেষজ্ঞ কুরুনথাচালাম কান্নানের নেতৃত্বাধীন গবেষণা দলটি মানবদেহের সংস্পর্শে আসা দুই ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক মূল্যায়নে আগ্রহী ছিলেন।

এদের একটি পলিথিলিন টেরেফথালেট (পিইটি), যা খাবার প্যাকেটজাত ও পোশাক তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। অন্যটি খেলনা ও বোতলে ব্যবহৃত পলিকার্বনেট (পিসি)।

এক বছর বয়সি ছয়টি শিশু ও ১০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মলের নমুনা সংগ্রহ করেন গবেষকরা। পাশাপাশি তিনটি নবজাতকের কালো রঙের প্রথম মলের নমুনাও সংগ্রহ করা হয়।

প্রতিটি মলের নমুনায় কমপক্ষে এক ধরনের প্লাস্টিক পাওয়া যায়। তবে প্রাপ্তবয়স্ক ও এক বছর বয়সি শিশুদের মলের মধ্যকার পার্থক্য লক্ষণীয় ছিল।

গবেষকরা বলেন, ‘অনুসন্ধানে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের মলে দুই ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্যাটার্নের উল্লেখযোগ্য পার্থক্য আমাদের নজরে পড়ে।

‘প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে শিশুদের মলে পলিথিলিন টেরেফথালেট উল্লেখযোগ্য হারে বেশি ছিল।

‘অবশ্য তাদের মলে পলিকার্বনেট মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য ছিল না।’

গবেষকরা আরও জানান, প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে এক বছর বয়সি শিশুদের মলে পলিথিলিন টেরেফথালেটের উপস্থিতি গড়ে ১০ গুণের বেশি ছিল।

আরও পড়ুন:
অর্থসংকটের আফগানিস্তানে টাকা বন্ধ বিশ্বব্যাংকেরও
তালেবান আতঙ্কে আছে আফগান ক্রিকেটাররা: নাভিন
নারী ফুটবলারসহ ৭৫ আফগান খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ায়
কর্মজীবী নারীদের ঘরে থাকতে বলল তালেবান
উদ্ধার যত তাড়াতাড়ি, তত ভালো: বাইডেন

শেয়ার করুন

মেক্সিকোর তিন-চতুর্থাংশ অঞ্চলে সমলিঙ্গের বিয়ে বৈধ

মেক্সিকোর তিন-চতুর্থাংশ অঞ্চলে সমলিঙ্গের বিয়ে বৈধ

সমলিঙ্গের বিয়ে বৈধ হয়েছে মেক্সিকোর তিন-চতুর্থাংশ অঞ্চলে। ছবি: এএফপি

মেক্সিকোর সোনোরা অঙ্গরাজ্যের কংগ্রেস বৃহস্পতিবার সমলিঙ্গের বিয়ের পক্ষে ২৬টি ও বিপক্ষে সাতটি ভোট দেয়।

সমলিঙ্গের বিয়ে বৈধ করেছে মেক্সিকোর সোনোরা অঙ্গরাজ্যের কংগ্রেস।

অঙ্গরাজ্যটির আইনসভা কংগ্রেসে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সমলিঙ্গের বিয়ের পক্ষে বেশি ভোট পড়ে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সোনোরা অঙ্গরাজ্যে সমলিঙ্গের বিয়ে বৈধ করার মধ্য দিয়ে মেক্সিকোর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ অঞ্চল এই আইনের আওতায় এলো।

মেক্সিকোর উত্তরাঞ্চলে বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে গঠিত সোনোরা। সীমান্তে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আরিজোনা ও নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্য।

বৃহস্পতিবার সোনোরার আইনপ্রণেতারা সমলিঙ্গের বিয়ের পক্ষে ২৬টি ও বিপক্ষে সাতটি ভোট দেন।

মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত দেশটির অন্যতম রক্ষণশীল অঙ্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত কোয়েরেতারোও বুধবার নিজেদের আইন পরিবর্তন করে সমলিঙ্গের বিয়ের অনুমোদন দেয়।

মেক্সিকোভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির ৩২টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে সমলিঙ্গের অনুমোদন দেয়া কোয়েরেতারো ২৩তম অঙ্গরাজ্য।

২০০৯ সালে মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটি প্রথম সমলিঙ্গের বিয়ের বৈধতা দেয়।

এর পরই বিয়ের সমতা ও এলজিবিটি সম্প্রদায়ের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার হয় মেক্সিকোর বাকি অঞ্চল।

মেক্সিকোর বামপন্থি প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাদোরের রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল রিজেনারেশন মুভমেন্টের (মরিনা) অনেক কর্মী সমলিঙ্গের বিয়েসহ অন্যান্য অধিকারের কড়া সমর্থক।

রাজধানী মেক্সিকো সিটির পাশাপাশি আগুয়াসকালিয়েনতিস, বাহা ক্যালিফোর্নিয়া, বাহা ক্যালিফোর্নিয়া সুর, কামপেচি, চিয়াপাস, চিহুয়াহুয়া, কোয়াহুইলা, কলিমা, হিদ্যালগোসহ অন্যান্য অঙ্গরাজ্যেও সমলিঙ্গের বিয়ে গত কয়েক বছরে বৈধ ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুন:
অর্থসংকটের আফগানিস্তানে টাকা বন্ধ বিশ্বব্যাংকেরও
তালেবান আতঙ্কে আছে আফগান ক্রিকেটাররা: নাভিন
নারী ফুটবলারসহ ৭৫ আফগান খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ায়
কর্মজীবী নারীদের ঘরে থাকতে বলল তালেবান
উদ্ধার যত তাড়াতাড়ি, তত ভালো: বাইডেন

শেয়ার করুন

তালেবান সরকার নিয়ে হতাশ এরদোয়ান

তালেবান সরকার নিয়ে হতাশ এরদোয়ান

জাতিসংঘে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। ছবি: এএফপি

নিউ ইয়র্কে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেন, ‘কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর তালেবানের পদক্ষেপের দিকে তাকালে আমরা দেখি, দুঃখজনকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনে ব্যর্থ হয়েছে গোষ্ঠীটি।’

আফগানিস্তানে চলতি মাসের শুরুতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে তালেবান। তবে অঙ্গীকার অনুযায়ী তাদের সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক নয়।

কট্টরপন্থি এ গোষ্ঠী সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করলে তাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী তুরস্ক।

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ সভায় উপস্থিত হওয়ার পর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বৃহস্পতিবার এসব মন্তব্য করেন বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল তালেবানের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। আর শেষ সময়ে দোহা চুক্তি অনুযায়ী বিদেশি সেনা দেশটি ত্যাগ করে।

এর পরপরই কাবুল বিমানবন্দর পরিচালনায় কাতারের সঙ্গে কাজ করছে ন্যাটোভুক্ত দেশ তুরস্ক।

কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর সরকার পরিচালনা ঘিরে বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছিল তালেবান। সেসব বার্তাকে সে সময় স্বাগতও জানিয়েছিল তুরস্ক।

তবে একই সঙ্গে দেশটি জানিয়েছিল, কথার ওপর নয়, বরং কাজের ওপর তালেবানকে স্বীকৃতি দেয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে।

নিউ ইয়র্কে এরদোয়ান বলেন, ‘কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর তালেবানের পদক্ষেপের দিকে তাকালে আমরা দেখি, দুঃখজনকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনে ব্যর্থ হয়েছে গোষ্ঠীটি।

‘তালেবান সরকারের নেতৃত্বে পরিবর্তনের সম্ভাবনার কিছু ইঙ্গিত কেবল দেখা যাচ্ছে। হয়তো আফগানিস্তানে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন হতে পারে।

‘তবে সেই পরিবর্তন এখনও দৃশ্যমান নয়। এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেয়া হলে তালেবানের সঙ্গে মিলে একসঙ্গে কীভাবে কাজ করা যায়, সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করতে পারি।’

এরদোয়ানের মন্তব্যের আগে তালেবানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন কাবুলে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত সিহাদ এরগিনে।

সাক্ষাতের পর এরগিনে টুইটবার্তায় বলেন, ‘আফগান জনগণের প্রতি সহযোগিতা অব্যাহত রাখা ও আফগানিস্তানের সঙ্গে তুরস্কের ঐতিহাসিক সম্পর্ক পুনর্নির্মাণের অঙ্গীকার করা হয়েছে।’

চলতি মাসের শুরুতে বিতর্কিত ও সন্ত্রাসী তালিকায় থাকা নেতাদের নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে তালেবান। এ সরকারে নেই কোনো নারী বা জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কোনো নেতা।

আরও পড়ুন:
অর্থসংকটের আফগানিস্তানে টাকা বন্ধ বিশ্বব্যাংকেরও
তালেবান আতঙ্কে আছে আফগান ক্রিকেটাররা: নাভিন
নারী ফুটবলারসহ ৭৫ আফগান খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ায়
কর্মজীবী নারীদের ঘরে থাকতে বলল তালেবান
উদ্ধার যত তাড়াতাড়ি, তত ভালো: বাইডেন

শেয়ার করুন

আফগানিস্তানের স্বাস্থ্যখাত বাঁচাতে সহায়তা দেবে জাতিসংঘ

আফগানিস্তানের স্বাস্থ্যখাত বাঁচাতে সহায়তা দেবে জাতিসংঘ

আফগানিস্তানের নানগাড়ার প্রদেশের একটি হাসপাতাল। ছবি: এএফপি

জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তা মার্টিন গ্রিফিথ বলেন, ‘আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য সেবা ভেঙে পড়তে দেয়াটা খুব বিপর্যয়কর হবে। দেশটির অনেক মানুষ প্রসূতি ও যুদ্ধাহতদের চিকিৎসার মতো জরুরি সেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।’

আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য খাত পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে এমন আশঙ্কায় দেশটিতে ৪৫ মিলিয়ন ডলারের জরুরি সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘ। সম্প্রতি কাবুলে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেডরোস আধানম গেব্রিয়েসুসের একটি উচ্চ পর্যায়ের সফরের পরেই এমন ঘোষণা দিল সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানের সংবাদমাধ্যম টোলো নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের শীর্ষ কর্মকর্তা মার্টিন গ্রিফিথ বুধবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য সেবা ভেঙে পড়তে দেয়াটা খুব বিপর্যয়কর হবে। দেশটি অনেক মানুষ প্রসূতি ও যুদ্ধাহতদের চিকিৎসার মতো জরুরি সেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।’

জাতিসংঘের এই জরুরি সহায়তা যত দ্রুত সম্ভব আফগানিস্তানে পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়াহিদ মারজুহ।

তিনি জানিয়েছেন, টাকার অভাবে কয়েক মাস ধরে চিকিৎসকদের বেতন দিতে পারছে না স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে দপ্তরটি ওষুধ সংকটেও ভুগছে।

আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য খাতে সহায়তা দেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তালেবান সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রীও।

গত ২০ বছর ধরে বিদেশি অনুদানের ওপর নির্ভরশীল আফগানিস্তান। তালেবান নিয়ন্ত্রণ নেয়ার আগেই দেশটির মোট জনগোষ্ঠীর অর্ধেক বা প্রায় দুই কোটি মানুষ বিদেশি ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। নগদ অর্থ, খাদ্যসংকট আর তীব্র খরার কারণে এ সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

এর ওপর গত মাসে পশ্চিমা সমর্থিত বেসামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে জোরপূর্বক রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ নেয় কট্টরপন্থি তালেবান। এরপর যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ কাবুলের জন্য নিয়মিত অর্থ সহায়তা বাতিলের ঘোষণা দেয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

তবে ইতোমধ্যেই দারিদ্র্য ও ক্ষুধায় জর্জরিত আফগানদের জন্য ১১০ কোটি ডলার সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।

আরও পড়ুন:
অর্থসংকটের আফগানিস্তানে টাকা বন্ধ বিশ্বব্যাংকেরও
তালেবান আতঙ্কে আছে আফগান ক্রিকেটাররা: নাভিন
নারী ফুটবলারসহ ৭৫ আফগান খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ায়
কর্মজীবী নারীদের ঘরে থাকতে বলল তালেবান
উদ্ধার যত তাড়াতাড়ি, তত ভালো: বাইডেন

শেয়ার করুন