কাবুল বিমানবন্দরে সন্ত্রাসী হামলার শঙ্কায় সতর্কবার্তা

কাবুল বিমানবন্দরে সন্ত্রাসী হামলার শঙ্কায় সতর্কবার্তা

দেশ ছাড়তে কাবুল বিমানবন্দরে উড়োজাহাজের উপর উঠে পড়ে আফগানরা। ফাইল ছবি

অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য তাদের নাগরিকদের সতর্ক করেছে। বিমানবন্দরের বাইরে অবস্থান নেয়া নাগরিকদের দ্রুততার সঙ্গে ওই এলাকা ছাড়তে বলা হয়েছে।

আফগানিস্তানের কাবুল বিমানবন্দরে সন্ত্রাসী হামলার বড় ধরনের হুমকির কথা জানিয়ে নাগরিকদের সেখানে না যেতে সতর্কবার্তা দিয়েছে বেশ কয়েকটি দেশ।

বিবিসির বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য তাদের নাগরিকদের বিমানবন্দরে না যেতে বলেছে। বিমানবন্দরের বাইরে অবস্থান নেয়া নাগরিকদের দ্রুততার সঙ্গে ওই এলাকা ছাড়তে বলা হয়েছে।

গত ১৫ আগস্ট কাবুল দখলের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। এর পর থেকে আফগান ও বিদেশি মিলিয়ে ৮২ হাজারের বেশি মানুষ বিমানে করে দেশটি ছাড়ে।

ক্ষমতার পালাবদলে আফগানিস্তানে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও ক্ষতির শিকার হওয়ার শঙ্কায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি ছাড়তে বিমানবন্দরের ভেতর-বাইরে অপেক্ষায় আছে হাজার হাজার মানুষ।

বেঁধে দেয়া সময় ৩১ আগস্টের মধ্যে নাগরিকদের দেশে ফেরাতে তোড়জোড় শুরু করেছে বিভিন্ন দেশ।

রাষ্ট্রক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নেয়া তালেবান সময়সীমা বাড়ানোর বিপক্ষে, তবে শাসকদল হতে যাওয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীটি ৩১ আগস্টের পরও বিদেশি ও আফগানদের কাবুল ছাড়ার সুযোগ দেবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন।

কাবুল বিমানবন্দরে হামলার হুমকি নিয়ে বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যারিস পেইন বলেন, ‘সন্ত্রাসী হামলার নিত্যকার ও খুব বড় ধরনের হুমকি রয়েছে।’

এর কয়েক ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরের অ্যাবে, পূর্ব ও উত্তর গেটে অবস্থানরতদের দ্রুত সেখান থেকে চলে যেতে বলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

একই ধরনের বার্তা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আফগানিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও টালমাটাল। সন্ত্রাসী হামলার রোজকার এবং বড় ধরনের হুমকি আছে।

আরও পড়ুন:
তালেবান আতঙ্কে আছে আফগান ক্রিকেটাররা: নাভিন
মাতৃভূমিতে ফিরতে চান না হাকিম খান
কত মানুষ কাবুল ছাড়ল
নারী ফুটবলারসহ ৭৫ আফগান খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ায়
কর্মজীবী নারীদের ঘরে থাকতে বলল তালেবান

শেয়ার করুন

মন্তব্য

তালেবানে কট্টরপন্থিদের মুখোমুখি সংস্কারপন্থিরা

তালেবানে কট্টরপন্থিদের মুখোমুখি সংস্কারপন্থিরা

১৫ আগস্ট কাবুলে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে প্রবেশ করে তালেবান যোদ্ধারা। ফাইল ছবি

বিশ্লেষকদের মতে, তালেবানের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত মোল্লা ওমরের মতো বলিষ্ঠ নেতা ছাড়া দলটিতে চলমান দ্বন্দ্বের অবসান ঘটানো সন্দেহাতীতভাবেই কঠিন। কোনো রকম প্রশ্ন ছাড়াই মোল্লা ওমরে আস্থা রাখতেন তালেবানের প্রত্যেক সদস্য। বর্তমান নেতা হায়বাতুল্লাহ আখুনজাদাও মোল্লা ওমরের মতোই লোকচক্ষুর আড়ালের জীবন বেছে নিলেও দলের এ সংকটে তিনি কীভাবে হাল ধরেন, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

দ্বিতীয় দফায় আফগানিস্তানের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ফাটল তীব্র হচ্ছে শাসক দল তালেবানের মধ্যে। দূরত্ব বাড়ছে কট্টরপন্থি ও তুলনামূলক উদার নেতাদের মধ্যে।

তালেবান নেতাদের ক্ষমতার দ্বন্দ্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত দুই আফগান সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, শুরুতে লড়াই পর্দার আড়ালেই চলছিল। কিন্তু গত সপ্তাহে বিভক্তির সত্যতা প্রকট হয়ে ওঠে উপ-প্রধানমন্ত্রী আব্দুল গনি বারাদারের মৃত্যুর গুজব ছড়ালে।

প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে তালেবানের দুই পক্ষের তুমুল ঝগড়া-বিবাদের পর উপ-প্রধানমন্ত্রী আব্দুল গনি বারাদার সহিংসতায় নিহত হয়েছেন বলে গুজব ছড়ায় সে সময়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই দুই আফগান বলেন, গুজব এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল যে শেষ পর্যন্ত বারাদার বেঁচে আছেন প্রমাণে একটি অডিও ও একটি হাতে লেখা বিবৃতি প্রকাশ করে তালেবান। অডিও ও লিখিত বিবৃতিতে বারাদার জানিয়েছেন যে তিনি বেঁচে আছেন, যদিও এসবের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

সবশেষ বুধবার আফগানিস্তানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলে বারাদারের একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারেও তাকে বলতে শোনা যায় যে তিনি বেঁচে আছেন। নিজের মৃত্যুর গুজব নিয়ে তিনি বলেন, ‘কাবুল থেকে অন্য অঞ্চলে সফর করছিলাম আমি। সেখানে বসে এসব গুজব প্রত্যাখ্যানের জন্য আধুনিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ ছিল না।’

যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে সক্ষম প্রথম তালেবান নেতা বারাদার। ২০২০ সালে সাবেক আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপ হয় তালেবান সহ-প্রতিষ্ঠাতার।

আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার ইস্যুতে আলোচনা ও চুক্তিতে তালেবানের প্রধান প্রতিনিধি ছিলেন বারাদার। চুক্তি অনুযায়ী সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হয় গত মাসে। এর দুই সপ্তাহ আগেই রাজধানী কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান।

তালেবান কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর সম্ভাব্য সরকারপ্রধান হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলেন বারাদার। তিনি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন করবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু সব প্রত্যাশা ধুলোয় মিশে যায় যখন পুরুষসর্বস্ব এবং কেবল তালেবানের প্রতিষ্ঠিত নেতাদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়; বাদ দেয়া হয় আদিবাসী নেতা ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু প্রতিনিধিদের।

আফগানিস্তানকে ‘ইসলামি আমিরাত’ ঘোষণা করে ৭ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রিসভার তালিকা প্রকাশ করা হয়। মন্ত্রিসভার শীর্ষ পদে বেশির ভাগ নেতা কট্টরপন্থি। তারা সম্প্রতি মুখে সব পক্ষের অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের আশ্বাস দিলেও কাজে নব্বইয়ের দশকের কঠোর শাসনের পুনরাবৃত্তি করছেন বলেও অভিযোগ মধ্যপন্থিদের।

বারাদারের বদলে অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পান তালেবানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ। তিনি জাতিসংঘের কালো তালিকাভুক্ত। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত যখন তালেবান আফগানিস্তান শাসন করেছে, সে সময় দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন হাসান আখুন্দ।

এ ছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজুদ্দিন হাক্কানি নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হাক্কানি নেটওয়ার্কের নেতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো এফবিআইয়ের ‘ওয়ান্টেড’ তালিকাভুক্ত। তাকে ধরিয়ে দিলে এক কোটি ডলার পুরস্কার দেবে এফবিআই।

কট্টরপন্থি শাসনের পরবর্তী লক্ষণ হিসেবে প্রেসিডেন্ট প্যালেস থেকে নামিয়ে ফেলা হয় আফগানিস্তানের জাতীয় পতাকা, বসানো হয় তালেবানের নিজস্ব পতাকা।

যদিও পতাকার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তালেবান কর্মকর্তা। দুটি পতাকা পাশাপাশি রাখা হতে পারে বলেও জানান তিনি।

তালেবানের অন্তর্কোন্দলের বিষয়ে অবগত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই আফগান জানান, এসব ইস্যুতে মন্ত্রিসভার কোনো এক সদস্য মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন কট্টরপন্থি বাকি মন্ত্রীরা।

তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ নেতৃত্বে ফাটলের খবর প্রত্যাখ্যান করেছেন। মঙ্গলবার এসব খবরকে ‘অপপ্রচার’ বলে দাবি করেন তালেবান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুতাকি।

কিন্তু এত সব প্রচেষ্টাতেও গুজবের অবসান ঘটছে না। কারণ গত কয়েক দিনে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন কার্যক্রমে সরকারের উপপ্রধান হিসেবে বারাদারের অনুপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

এমনকি গত রোববার কাবুল সফররত কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল-থানির সঙ্গে তালেবান সরকারের বৈঠকেও ছিলেন না উপপ্রধানমন্ত্রী। ২০ বছর পর তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের পর এটি ছিল সবচেয়ে শীর্ষ কোনো পররাষ্ট্রীয় প্রতিনিধির আফগানিস্তান সফর। তার ওপর কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালেবানের দীর্ঘ আলোচনায় বারাদার ছিলেন দোহার নিয়মিত অতিথি।

ওই বৈঠকে না থাকার বিষয়ে বুধবারের ভিডিওতে বারাদার জানিয়েছেন, কাবুলে কাতারি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের বিষয়ে আগে থেকে কিছু জানতেন না তিনি। ফলে আগেই কাবুল ছেড়েছিলেন সফরের উদ্দেশ্যে এবং পরে কাতারি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আগমনের বিষয়ে জানতে পারলেও ঠিক সময়ে কাবুলে ফিরতে পারেননি।

বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত আফগান আর বারাদারের সঙ্গে যোগাযোগে থাকা ব্যক্তিরা এপিকে জানিয়েছেন, তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুনজাদার সঙ্গে বৈঠকের জন্য দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ কান্দাহারে ছিলেন বারাদার।

অন্যদিকে আরেক তালেবান নেতা জানান, আফগানিস্তানের ২০ বছরের যুদ্ধে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা হয়নি বারাদারের। ক্লান্ত বারাদার তাই পরিবারের কাছে ফিরেছিলেন কিছু সময়ের জন্য।

বিশ্লেষকরা বলছেন, তালেবানের মধ্যে ফাটল এলেও এখনই ভাঙনের পর্যায়ে চলে যাওয়ার মতো গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

ওয়াশিংটনভিত্তিক উইলসন সেন্টারের এশিয়াবিষয়ক প্রকল্পের উপপরিচালক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ‘হাজার বিতর্ক সত্ত্বেও বছরের পর বছর তালেবানকে সব সময় একজোট দেখেছে বহির্বিশ্ব। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তাদের ঐক্যের কোনো নড়চড় হয় না। আমি মনে করি, বর্তমান অভ্যন্তরীণ মতবিরোধও সহজেই মিটিয়ে ফেলবে তারা।

‘তবে ক্ষমতায় টিকে থাকা নিয়ে, বৈধতা অর্জন নিয়ে এবং বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন নিয়ে তালেবান যে চাপে আছে, তা সহজে মেটার নয়। এসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সাংগঠনিক দিক থেকে আরও বেশি চাপের মুখে পড়বে তারা; এ ধরনের গুরুতর অভ্যন্তরীণ ঝগড়া-বিবাদও বাড়তে থাকবে।’

তবে তালেবানের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত মোল্লা ওমরের মতো বলিষ্ঠ নেতা ছাড়া দলটিতে চলমান দ্বন্দ্বের অবসান ঘটানো সন্দেহাতীতভাবেই কঠিন।

কোনো রকম প্রশ্ন ছাড়াই মোল্লা ওমরে আস্থা রাখতেন তালেবানের প্রত্যেক সদস্য। বর্তমান নেতা হায়বাতুল্লাহ আখুনজাদাও মোল্লা ওমরের মতোই লোকচক্ষুর আড়ালের জীবন বেছে নিলেও দলের এ সংকটে তিনি কীভাবে হাল ধরেন, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

আরও পড়ুন:
তালেবান আতঙ্কে আছে আফগান ক্রিকেটাররা: নাভিন
মাতৃভূমিতে ফিরতে চান না হাকিম খান
কত মানুষ কাবুল ছাড়ল
নারী ফুটবলারসহ ৭৫ আফগান খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ায়
কর্মজীবী নারীদের ঘরে থাকতে বলল তালেবান

শেয়ার করুন

গুজবের অবসান ঘটাতে বারাদারের ভিডিও বার্তা

গুজবের অবসান ঘটাতে বারাদারের ভিডিও বার্তা

আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত উপ-প্রধানমন্ত্রী আব্দুল গনি বারাদার। ফাইল ছবি

এর আগে টুইটারে তালেবানের সংস্কৃতিবিষয়ক কমিশনের এক মুখপাত্র আরটিএ টিভিতে বারাদারের সাক্ষাৎকার প্রচারিত হবে বলে জানান। ‘শত্রুপক্ষের অপপ্রচারকে মিথ্যা প্রমাণ করা হবে’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বারাদার আহত বলে গুঞ্জন শুরুর পর থেকেই এ খবর মিথ্যে বলে বারবার দাবি করছিলেন তালেবান নেতারা।

আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তী সরকারের ভারপ্রাপ্ত উপ-প্রধানমন্ত্রী আব্দুল গনি বারাদার একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে হাজির হয়ে জানিয়েছেন, তিনি সুস্থ আছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, অনলাইনে বুধবার প্রকাশিত ভিডিও সরাসরি সম্প্রচার করা হয়নি। বারাদারের একটি ভিডিও ধারণের পর তা অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছে।

দলীয় অন্তঃকোন্দল ও সংঘাতে বারাদার আহত হয়েছেন বলে যে খবর ছড়িয়েছে, তা সত্য নয় বলে ভিডিওতে বলতে শোনা যায় তালেবান সরকারের উপ-প্রধানকে।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এটা সত্য নয়; আমি ভালো আছি, সুস্থ আছি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দলের অভ্যন্তরীণ বিতর্কের খবর প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের মধ্যে এমন কিছু ঘটেনি। এসব সত্য নয়।’

আফগানিস্তানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আরটিএকে সাক্ষাৎকারটি দেন বারাদার। পরে কাতারের রাজধানী দোহায় তালেবানের রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে সাক্ষাৎকারের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে প্রকাশ করা হয়।

সংক্ষিপ্ত ভিডিওতে বারাদারকে সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর সামনে একটি সোফায় বসে থাকতে দেখা যায়। সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর হাতে আরটিএর লোগো সম্বলিত মাইক্রোফোন ছিল।

ভিডিওতে বারাদারকে একটি কাগজে লেখা কথা পড়ে শোনাতে দেখা যায়। তিনি আরও বলেন, ‘দুশ্চিন্তা করার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

এর আগে টুইটারে তালেবানের সংস্কৃতিবিষয়ক কমিশনের এক মুখপাত্র আরটিএ টিভিতে বারাদারের সাক্ষাৎকার প্রচারিত হবে বলে জানান। ‘শত্রুপক্ষের অপপ্রচারকে মিথ্যা প্রমাণ করা হবে’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বারাদার আহত বলে গুঞ্জন শুরুর পর থেকেই এ খবর মিথ্যে বলে বারবার দাবি করছিলেন তালেবান নেতারা।

এর আগে আফগানিস্তানে ক্ষমতা দখলের কৃতিত্ব নিয়ে শাসক দল তালেবান বড় ধরনের অন্তর্কোন্দলে জড়িয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়।

বলা হয়, কাবুলে প্রেসিডেন্টের বাসভবনে দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে রীতিমতো ঝগড়া ও বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছে। গত সপ্তাহে ধর্মভিত্তিক সংগঠনটির সহপ্রতিষ্ঠাতা মোল্লা আব্দুল গনি বারাদারের সঙ্গে বিবাদে জড়ান মন্ত্রিসভার এক সদস্য। প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে তর্কের একপর্যায়ে পরস্পরের প্রতি উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ও করেন তারা।

তালেবানের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি পশতু জানিয়েছে, বারাদারের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়েছেন নতুন তালেবান সরকারের শরণার্থীবিষয়ক মন্ত্রী ও নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হাক্কানি নেটওয়ার্কের অন্যতম নেতা খলিল উর-রহমান হাক্কানির। কাতারে কর্মরত এক জ্যেষ্ঠ তালেবান সদস্য ও বিবদমান দুই নেতার ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তিও বারাদার ও খলিল হাক্কানির বিবাদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গত ১৫ আগস্ট রাজধানী কাবুল দখলের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় কট্টরপন্থি তালেবান, দেশকে ঘোষণা করে ‘ইসলামিক আমিরাত’ হিসেবে। সম্ভাব্য সরকারপ্রধান হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকা আব্দুল গনি বারাদারের বদলে ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী করা হয় জাতিসংঘের কালো তালিকাভুক্ত মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দকে। বারাদার হন আখুন্দের উপপ্রধান।

সরকারের উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান বারাদার।

গত রোববার কাবুল সফররত কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল-থানির সঙ্গে বৈঠক করে তালেবান সরকার। সে বৈঠকেও ছিলেন না বারাদার।

সদ্য প্রকাশিত ভিডিওতে কারণ হিসেবে বারাদার জানান, ওই বৈঠকের সময় সফরে ছিলেন তিনি এবং ঠিক সময়ে কাবুলে ফিরতে পারেননি।

গুঞ্জন রটেছিল, তালেবানের মন্ত্রিসভায় থাকা হাক্কানি নেটওয়ার্কের সদস্যদের সঙ্গে মতপার্থক্যের জেরেই প্রকাশ্যে আসছেন না বারাদার। আফগানিস্তানের পাকিস্তান সীমান্তে সক্রিয় তালেবানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হাক্কানি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী সব আত্মঘাতী হামলার অভিযোগ রয়েছে।

তালেবান সরকারের ভারপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও হাক্কানি নেটওয়ার্কের প্রধান সিরাজুদ্দিন হাক্কানির ছোট ভাই আনাস হাক্কানিও বুধবার টুইটারে বিবৃতি দিয়ে বারাদারের সঙ্গে বিবাদের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে।

আরও পড়ুন:
তালেবান আতঙ্কে আছে আফগান ক্রিকেটাররা: নাভিন
মাতৃভূমিতে ফিরতে চান না হাকিম খান
কত মানুষ কাবুল ছাড়ল
নারী ফুটবলারসহ ৭৫ আফগান খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ায়
কর্মজীবী নারীদের ঘরে থাকতে বলল তালেবান

শেয়ার করুন

ক্ষমতা দখলের কৃতিত্ব নিয়ে অন্তর্কোন্দলে তালেবান

ক্ষমতা দখলের কৃতিত্ব নিয়ে অন্তর্কোন্দলে তালেবান

কয়েক দিন ধরে মোল্লা বারাদার লোকচক্ষুর আড়ালে থাকায় দলের মধ্যে বিবাদ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। ফাইল ছবি

সূত্রের দাবি, ২০ বছর পর আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতা দখল ও দ্বিতীয় দফায় সরকার গঠনের কৃতিত্ব কার, দ্বন্দ্বের সূত্রপাত মূলত সে প্রশ্নে। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের কাঠামো নিয়েও অসন্তুষ্ট উপপ্রধানমন্ত্রী বারাদার।

আফগানিস্তানে ক্ষমতা দখলের কৃতিত্ব নিয়ে বড় ধরনের অন্তর্কোন্দলে জড়িয়েছে শাসক দল তালেবান।

দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে রীতিমতো ঝগড়া ও বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছে বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ এক তালেবান নেতা।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ধর্মভিত্তিক সংগঠনটির সহপ্রতিষ্ঠাতা মোল্লা আব্দুল গনি বারাদারের সঙ্গে বিবাদে জড়ান মন্ত্রিসভার এক সদস্য। প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে তর্কের একপর্যায়ে পরস্পরের প্রতি উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ও করেন তারা।

গত কয়েক দিন লোকচক্ষুর আড়ালে রয়েছেন বারাদার। এ অবস্থায় তালেবানের শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যায়ে বিভেদ চলছে বলে অনিশ্চিত সূত্রে বিভিন্ন খবর শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু সংগঠনের পক্ষ থেকে সেসব খবর ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছিল তালেবান।

গত ১৫ আগস্ট রাজধানী কাবুল দখলের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় কট্টরপন্থি তালেবান, দেশকে ঘোষণা করে ‘ইসলামিক আমিরাত’ হিসেবে। তাদের নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রিসভা পুরুষ সদস্যসর্বস্ব।

এ মন্ত্রিসভা কট্টরপন্থি ও জ্যেষ্ঠ তালেবান নেতাদের নিয়ে গঠিত। এদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে গত ২০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের ওপর হামলার অভিযোগও আছে।

এতদিন সম্ভাব্য সরকারপ্রধান হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকা আব্দুল গনি বারাদারের বদলে ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী করা হয় জাতিসংঘের কালো তালিকাভুক্ত মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দকে। বারাদার হয়েছেন আখুন্দের উপপ্রধান।

তালেবানের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি পশতু জানিয়েছে, বারাদারের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে নতুন তালেবান সরকারের শরণার্থীবিষয়ক মন্ত্রী ও নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হাক্কানি নেটওয়ার্কের অন্যতম নেতা খলিল উর-রহমান হাক্কানির। এর আগে বিবাদে জড়িয়েছিলেন দুই নেতার সমর্থকরা।

কাতারে কর্মরত এক জ্যেষ্ঠ তালেবান সদস্য ও বিবদমান দুই নেতার ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তিও বারাদার ও খলিল হাক্কানির বিবাদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনা ঘটেছে গত সপ্তাহে।

সূত্রের দাবি, ২০ বছর পর আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতা দখল ও দ্বিতীয় দফায় সরকার গঠনের কৃতিত্ব কার, দ্বন্দ্বের সূত্রপাত মূলত সে প্রশ্নে। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের কাঠামো নিয়েও অসন্তুষ্ট উপপ্রধানমন্ত্রী বারাদার।

সূত্রের মতে, আফগানিস্তানের বিভিন্ন সংকট সমাধানে বারাদার তার সমকক্ষ দলনেতাদের নিয়ে সরকারের কূটনৈতিক কার্যক্রমের ওপর জোর দিতে চান। বিপরীতে তালেবান সরকারে থাকা হাক্কানি গোষ্ঠীর সদস্য ও সমর্থকরা মনে করেন, কূটনীতি নয়, লড়াই করেই সব দাবি পূরণ করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে সক্ষম প্রথম তালেবান নেতা বারাদার। ২০২০ সালে সাবেক আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপ হয় তালেবান সহপ্রতিষ্ঠাতার। এর আগে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার ইস্যুতে হওয়া দোহা চুক্তিতে তালেবানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন বারাদার।

অন্যদিকে, প্রভাবশালী হাক্কানি নেটওয়ার্ক আফগানিস্তানে সবচেয়ে সহিংস হামলার কয়েকটিতে সরাসরি জড়িত ছিল। আফগান সেনা ও তাদের পশ্চিমা মিত্রদের ওপর গত কয়েক বছরে সেসব হামলায় প্রাণ গেছে শতাধিক মানুষের। যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকায় সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত হাক্কানি নেটওয়ার্ক।

হাক্কানির নেতৃত্বে থাকা অন্যতম শীর্ষ তালেবান নেতা সিরাজুদ্দিন হাক্কানি নবগঠিত অন্তর্বর্তী আফগান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তালেবান সূত্র জানিয়েছে, বিবাদের পর রাজধানী কাবুল ছেড়ে দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ শহর কান্দাহারে গেছেন বারাদার। বর্তমানে সেখানেই অবস্থান করছেন তিনি।

বারাদারকে কিছুদিন ধরে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না বলে মাঝে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়েছিল যে তিনি মারা গেছেন। এ অবস্থায় সোমবার প্রকাশিত একটি অডিও বার্তায় বারাদারকে বলতে শোনা যায় যে তিনি সফরে আছেন। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমি যেখানেই থাকি না কেন, আমরা সবাই ভালো আছি।’

কিন্তু অডিওর কণ্ঠটি বারাদারেরই কি না, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি বিবিসি। তালেবানের বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইটে রেকর্ডটি প্রকাশ করা হয়েছে।

দলের ভেতরে কোনো কোন্দল হয়নি দাবিতে এখনও অনড় তালেবান। সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে বারাদার নিরাপদে আছেন।

কিন্তু বারাদার কোথায় আছেন, কী করছেন- সেসব প্রশ্নের উত্তরে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন তালেবান নেতারা।

এক মুখপাত্র বলেছিলেন যে তালেবানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হায়বাতুল্লাহ আখুনজাদার সঙ্গে দেখা করতে কান্দাহারে গিয়েছেন বারাদার। পরে আবার ওই মুখপাত্রই বিবিসি পশতুকে বলেন যে বারাদার ‘ক্লান্ত, তাই বিশ্রামে আছেন’।

তালেবানের এসব বিবৃতিতে বিশ্বাস না করার পেছনে যথেষ্ট যুক্তিও আছে সাধারণ আফগানদের হাতে।

২০১৫ সালে তালেবান স্বীকার করেছিল যে সংগঠনটির প্রধান প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরের মৃত্যুর বিষয়টি দুই বছরের বেশি সময় ধরে গোপন রাখা হয়েছিল। তার মৃত্যুর পরেও তার নামে বিবৃতি প্রচার অব্যাহত রেখেছিল তালেবান।

এ অবস্থায় বারাদার কাবুলে ফিরবেন এবং দলীয় বিবাদের বিষয়টি প্রত্যাখ্যানে ক্যামেরার সামনেও দাঁড়াবেন বলে বিবিসিকে নিজেদের প্রত্যাশা জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র।

জল্পনা রয়েছে তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হায়বাতুল্লাহ আখুনজাদাকে নিয়েও। কখনো প্রকাশ্যে দেখা না যাওয়া এ নেতা তালেবানের রাজনৈতিক, সামরিক ও ধর্মবিষয়ক সামগ্রিক দায়িত্বে রয়েছেন।

আরও পড়ুন:
তালেবান আতঙ্কে আছে আফগান ক্রিকেটাররা: নাভিন
মাতৃভূমিতে ফিরতে চান না হাকিম খান
কত মানুষ কাবুল ছাড়ল
নারী ফুটবলারসহ ৭৫ আফগান খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ায়
কর্মজীবী নারীদের ঘরে থাকতে বলল তালেবান

শেয়ার করুন

আফগানিস্তানে বন্ধ ১৫৩ সংবাদমাধ্যম

আফগানিস্তানে বন্ধ ১৫৩ সংবাদমাধ্যম

ছবি: সংগৃহীত

বন্ধ হয়ে যাওয়া সংবাদমাধ্যমের কর্মকর্তারা বলছেন, তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা নেয়ার পর অর্থনৈতিক দৈন্যদশা চরমে পৌঁছেছে। সেই সঙ্গে নানা ধরনের বিধিনিষেধের কারণে হাউসগুলো চালিয়ে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

তালেবান ক্ষমতায় আসার পর আফগানিস্তানে অন্যসব কিছুর মতো মারাত্মক প্রভাব পড়ছে দেশটির সংবাদমাধ্যমেও। এক মাসের কম সময়ের মধ্যে ২০টি প্রদেশে বন্ধ হয়ে গেছে ১৫৩টি সংবাদমাধ্যম

সংবাদমাধ্যমগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, এসব সংবাদপত্র, রেডিও ও টিভি চ্যানেল বন্ধের মূল কারণ অর্থনেতিক সমস্যা এবং তালেবানের বিধিনিষেধ।

তারা বলছেন, অর্থনৈতিক সংকট সমাধান না হলে এবং বিধিনিষেধগুলো আরোপ বন্ধ না হলে আফগানিস্তানে অচিরেই আরও সংবাদমাধ্যম তাদের কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হবে।

আফগানিস্তান ফেডারেশন অফ জার্নালিস্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান হুজাতুল্লাহ মুজাদাদি বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমের স্বার্থরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সংবাদমাধ্যমের প্রতি নজর না দিলে অচিরেই দেশের বাকি সংবাদমাধ্যম বন্ধ হওয়ার সাক্ষী হতে হবে আমাদের।’

আফগানিস্তান ন্যাশনাল জার্নালিস্ট ইউনিয়নের প্রতিনিধি মাসরুর লুতফি বলেন, ‘চলমান এই (সংবাদমাধ্যম বন্ধের) ধারা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই সমস্যা তুলে ধরে উপযুক্ত উদ্যোগ নেয়ার জন্য আমরা আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সমাজ ও মানুষের স্বাধীনতা দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে।’

বন্ধ হয়ে যাওয়া মিডিয়া হাউসগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় নেয়ার পর অর্থনৈতিক দৈন্যদশা চরমে পৌঁছেছে। সেই সঙ্গে নানা ধরনের বিধিনিষেধের কারণে হাউসগুলো চালিয়ে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

সম্প্রতি আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশে বন্ধ হয়ে যায় রেডিও স্টেশন ‘মিলমা রেডিও’র কার্যক্রম। ২০১১ সালে চালু হওয়া রেডিও স্টেশনটি থেকে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও খেলাধুলাসংক্রান্ত খবর সম্প্রচার করা হতো।

‘মিলমা রেডিও’র প্রধান সম্পাদক ইয়াকুব খান মানজুর বলেন, ‘কাজের বৈরী পরিবেশ এবং অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে আমরা আমাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছি।’

মনজুর জানালেন, মিলমা রেডিওর সম্প্রচার চলত ১৩টি প্রদেশে। তাদের ছিল ৩৫ জন সংবাদকর্মী। তারা সবাই এখন চাকরিহারা।

এই রেডিওর সাবেক প্রতিবেদক জামালউদ্দিন এলহাম বলেন, ‘অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে দুর্ভাগ্যবশত আমাদের রেডিও স্টেশনটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।’

রেডিওটির আরেক প্রতিবেদক মোহাম্মদ ইকরাম শাহাব বলেন, ‘অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে রেডিও স্টেশনটি তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা আমাদের চাকরি হারালাম।’

গত ১৫ আগস্ট রাজধানী কাবুল ও প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ দখলের মধ্য দিয়ে দুই দশক পর ফের আফগানিস্তানের সবকিছু নিয়ন্ত্রণে নেয় তালেবান। এর মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও গঠন করেছে তারা।

তালেবান ক্ষমতায় এসে জানিয়েছিল, এখন তারা ২০ বছর আগের অবস্থানে নেই। আধুনিক চিন্তাধারার কথাও শোনা যাচ্ছিল কট্টর ইসলামপন্থি দলটির পক্ষ থেকে।

তালেবান জানায়, সংবাদমাধ্যমগুলো স্বাধীনভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে। তাদের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করা হবে না। শরিয়তমাফিক নিশ্চিত করা হবে নারী অধিকারও। নারীরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে। করতে পারবে চাকরিও।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসতে দেখা যাচ্ছে তালেবানকে। স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না সংবাদমাধ্যমগুলো। তালেবানের বিধিনিষেধের পাশাপাশি যোগ হয়েছে অর্থনৈতিক দৈন্যদশা। তাতে আফগানিস্তানের মিডিয়া হাউসগুলো পড়েছে কঠিন অবস্থায়। গুটিয়ে আনতে হচ্ছে কার্যক্রম।

অবশ্য তালেবান বলছে, গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টির জন্য তারা চেষ্টা করবে। যাতে করে, সাংবাদিকরা তাদের দায়িত্ব পালন করে যেতে পারেন।

আরও পড়ুন:
তালেবান আতঙ্কে আছে আফগান ক্রিকেটাররা: নাভিন
মাতৃভূমিতে ফিরতে চান না হাকিম খান
কত মানুষ কাবুল ছাড়ল
নারী ফুটবলারসহ ৭৫ আফগান খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ায়
কর্মজীবী নারীদের ঘরে থাকতে বলল তালেবান

শেয়ার করুন

তালেবান শাসনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে মধ্যপ্রাচ্যেও

তালেবান শাসনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে মধ্যপ্রাচ্যেও

১৫ আগস্ট কাবুলে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে প্রবেশ করে তালেবান যোদ্ধারা। ফাইল ছবি

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের এক কর্মকর্তা মনে করছেন, আফগানিস্তান থেকে তাড়াহুড়ো করে বিশৃঙ্খলভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারও উপসাগরীয় দেশগুলোকে বেশ কিছু প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। পরবর্তী ২০ বছরে নিরাপত্তা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া প্রতিশ্রুতির বিশ্বাসযোগ্যতাও এখন প্রশ্নবিদ্ধ।

ভূমিকম্পের মতোই তালেবানের আফগানিস্তান দখলের প্রভাব আশপাশের অঞ্চলগুলোতে অনেক বছর থেকে যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে আর্থ-সামাজিক ও ভূরাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে তালেবানশাসিত আফগানিস্তান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, কট্টরপন্থি তালেবান সাংগঠনিক আধুনিকায়নের কথা বললেও কার্যত তারা আগের মতোই আছে। দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতা নেয়ার প্রথম মাসের তালেবান সরকার আর ২০ বছর আগে প্রথম ক্ষমতায় থাকা তালেবান সরকারের মধ্যে খুব একটা পার্থক্য দেখা যাচ্ছে না।

ওই কর্মকর্তার মতে, আফগানিস্তান থেকে তাড়াহুড়ো করে বিশৃঙ্খলভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারও পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে বেশ কিছু প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। পরবর্তী ২০ বছরে নিরাপত্তা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া প্রতিশ্রুতির বিশ্বাসযোগ্যতাও এখন প্রশ্নবিদ্ধ।

তিনি বলেন, ‘ভূমিকম্পের মতো আমাদের ওপর ভেঙে পড়েছে আফগানিস্তান। এই সংকট অনেক, অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী হবে…পরের ২০ বছর কি আমরা আসলেই যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া নিরাপত্তার ছায়ার ওপর নির্ভর করতে পারব? আমার মনে হয় যে, পরিস্থিতি এখন সত্যিই জটিল, ভীষণ জটিল।’

তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পারস্য উপসাগরবিষয়ক নীতিমালা কার্টার ডকট্রিনের সঙ্গেই সাংঘর্ষিক ছিল আফগানিস্তান অধ্যায়।

১৯৮০ সালে এ নীতিটি গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের কথা বলা হয়েছিল নীতিটিতে। মূলত বিদেশি তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতার সঙ্গে সম্পৃক্ত নীতিটি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা মনে করেন, আফগানিস্তানে দুই দশকের ‘যুদ্ধটি ছিল মূলত তাদের বিরুদ্ধে, যারা ইসলাম ধর্মকে ব্যবহার করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছিল।’ অথচ বিদেশি ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘতম এই যুদ্ধে লাখো মানুষের প্রাণ গেলেও শেষ পর্যন্ত লড়াই শেষ হয়েছে কার্যকর কোনো সমাধান ছাড়াই।

তার অনুমান, তালেবানের হঠাৎ আফগানিস্তান দখল পশ্চিম আফ্রিকা ও সাহেল অঞ্চলের নেতাদের মধ্যেও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, তালেবানের শাসন অঞ্চলটিতে ইসলামপন্থি উগ্রবাদীদের নতুন করে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে পারে।

নব্বইয়ের দশকের তুলনায় একবিংশ শতাব্দীর তালেবানের আচরণে ভিন্নতার আশা রাখাও বোকামি বলে উল্লেখ করেন ওই কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ‘এ কথা ঠিক যে, এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আগের তুলনায় আরও বেশি সংযুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছে গোষ্ঠীটি। কিন্তু তাদের মূলে কোনো পরিবর্তন আসেনি।’

তার মতে, আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতিকে সম্ভবত পাকিস্তানের জন্য জয় আর চীনের জন্য নতুন সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ন্যূনতম।

তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানকে নিয়ে ভূরাজনৈতিক লড়াই হলে একদিকে থাকবে পাকিস্তান ও চীন, অন্যদিকে থাকবে ভারত, ইরান আর রাশিয়া। এখানে যুক্তরাষ্ট্র আর কখনো কেন্দ্রীয় শক্তিতে উঠে আসতে পারবে বলে আমার মনে হয় না।’

পারস্য উপসাগরীয় অনেক দেশ এরই মধ্যে নিজেদের পররাষ্ট্র নীতিমালা ঢেলে সাজাতে শুরু করেছে। সম্ভাব্য নতুন নীতিমালায় তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতার মতো বিষয়গুলোকে বাদ দেয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ওই কর্মকর্তার মতে, ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে দেখা যেতে পারে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদেরও।

সৌদি আরব ও রাশিয়ার মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর কার্বন পরবর্তী যুগের লক্ষণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ওই কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দূরত্বের ফলে নিরাপত্তায় যেন হুমকি তৈরি না হয়, তা নিশ্চিতে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের উৎসে বৈচিত্র্য আনতে চায়।

ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির আমলেই সৌদি আরবের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। তবে সে উদ্যোগ কেবল গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানে সহযোগিতার মধ্যেই সীমিত ছিল। ভবিষ্যতে তেহরান-রিয়াদের আলোচনার পরিসর আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

পারস্য অঞ্চলে নতুন মিত্রের খোঁজে গত এক বছরে তৎপর হয়েছে বিভিন্ন দেশ। ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক তৈরি করেছে বাহরাইনসহ বেশ কয়েকটি দেশ। সিরিয়ার সঙ্গে আরব আমিরাতও কূটনৈতিক সম্পর্কে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

দীর্ঘ যুদ্ধের চাপে ‘প্রেশার কুকারে’ থাকা মধ্যপ্রাচ্যকে শান্ত করতে এসব পদক্ষেপ কাজে আসবে বলে আশাবাদী বিশ্লেষকরা।

আরও পড়ুন:
তালেবান আতঙ্কে আছে আফগান ক্রিকেটাররা: নাভিন
মাতৃভূমিতে ফিরতে চান না হাকিম খান
কত মানুষ কাবুল ছাড়ল
নারী ফুটবলারসহ ৭৫ আফগান খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ায়
কর্মজীবী নারীদের ঘরে থাকতে বলল তালেবান

শেয়ার করুন

১১০ কোটি ডলার অনুদান পেতে পারে আফগানিস্তান

১১০ কোটি ডলার অনুদান পেতে পারে আফগানিস্তান

আফগানিস্তানে খাদ্য সংকটে জর্জরিত মানুষের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। ছবি: এএফপি

আফগানিস্তানে নতুনভাবে ত্রাণ ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি ডলার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় ১২ কোটি ডলার দেয়ার কথা জানিয়েছে ফ্রান্স। এক কোটি ১৫ লাখ ডলার দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে নরওয়ে।

দারিদ্র্য ও ক্ষুধায় জর্জরিত আফগানদের জন্য ১১০ কোটি ডলার সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, তালেবানের শাসনে আফগানিস্তানে শরণার্থীর ঢল সৃষ্টির আশঙ্কার মধ্যেই সোমবার জেনেভায় দাতা দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।

সেখানে আফগানদের সহযোগিতার জন্য তাৎক্ষণিক ৬০ কোটি ৬০ লাখ ডলার দরকার বলে জানিয়েছিলেন তিনি। এ অর্থের এক-তৃতীয়াংশই খাদ্য সংকট মেটাতে ব্যয় হবে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রত্যাশার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ সহযোগিতার আশ্বাস পেয়েছেন গুতেরেস। এতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।

আফগানিস্তানে নতুনভাবে ত্রাণ ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি ডলার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় ১২ কোটি ডলার দেয়ার কথা জানিয়েছে ফ্রান্স। এক কোটি ১৫ লাখ ডলার দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে নরওয়ে।

গত ২০ বছর ধরে বিদেশি অনুদানের ওপর নির্ভরশীল আফগানিস্তান। তালেবান নিয়ন্ত্রণ নেয়ার আগেই দেশটির মোট জনগোষ্ঠীর অর্ধেক বা প্রায় দুই কোটি মানুষ বিদেশি ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। নগদ অর্থ, খাদ্যসংকট আর তীব্র খরার কারণে এ সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

এর ওপর গত মাসে পশ্চিমা সমর্থিত বেসামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে জোরপূর্বক রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ নেয় কট্টরপন্থি তালেবান। এরপর যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ কাবুলের জন্য নিয়মিত অর্থ সহায়তা বাতিলের ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।

এ অবস্থায় যুদ্ধ, দুর্ভোগ আর অনিরাপত্তার মধ্যে আফগান জনতা ‘সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে’ বলে উল্লেখ করেন জাতিসংঘের মহাসচিব।

তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানের অর্থনীতি চরম সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এর ফলে মৌলিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনাও সম্ভব হচ্ছে না।’

আফগানিস্তানে থাকা খাদ্যের মজুত চলতি মাসেই শেষ হয়ে আসতে পারে বলেও জানান গুতেরেস। প্রায় দেড় কোটি আফগান দুর্ভিক্ষের মুখে বলে আগেই সতর্ক করেছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।

এদিকে প্রতিবেশী চীন, পাকিস্তান ও রাশিয়া এরই মধ্যে আফগানদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।

তিন কোটি ১০ লাখ ডলারের খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যবহৃত পণ্য পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছে বেইজিং। করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার ৩০ লাখ ডোজের প্রথম চালানও শিগগিরই পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পূর্ব এশিয়ার দেশটি।

রান্নার তেল ও ওষুধের চালান কাবুলে পাঠিয়েছে ইসলামাবাদ। এ ছাড়া বহির্বিশ্বে আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গচ্ছিত অর্থ জব্দ না রাখতে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান।

পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে তালেবানের নতুন সরকারের সম্পর্ক উন্নয়নে সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছে রাশিয়া।

আরও পড়ুন:
তালেবান আতঙ্কে আছে আফগান ক্রিকেটাররা: নাভিন
মাতৃভূমিতে ফিরতে চান না হাকিম খান
কত মানুষ কাবুল ছাড়ল
নারী ফুটবলারসহ ৭৫ আফগান খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ায়
কর্মজীবী নারীদের ঘরে থাকতে বলল তালেবান

শেয়ার করুন

তালেবান শাসনে প্রথম ফ্লাইট গেল পাকিস্তান

তালেবান শাসনে প্রথম ফ্লাইট গেল পাকিস্তান

তালেবান ক্ষমতা নেয়ার পর প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট কাবুল ছেড়েছে। ছবি: এএফপি

বিমানটি ৭০ যাত্রী নিয়ে পাকিস্তানের রাজধানীতে পৌঁছায়। যার মধ্যে বেশির ভাগই আফগান, যারা ওয়ার্ল্ড ব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজ করেন বলে জানান বিমানবন্দরের কর্মীরা।

আফগানিস্তানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়ার প্রায় এক মাস পর প্রথম একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট কাবুল ছেড়ে পাকিস্তানে পৌঁছেছে।

পশ্চিমা বিশ্বের উদ্ধারকাজ শেষ করার পর গত ৩১ আগস্ট কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান যোদ্ধারা। পশ্চিমা দেশগুলোর প্রচেষ্টায় ১ লাখ ২০ হাজার মানুষকে আফগানিস্তান থেকে বিভিন্ন দেশে নিয়ে যাওয়ার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়, পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের একটি বিমান সোমবার সকালে কাবুল থেকে উড়ে যায় ইসলামাবাদে।

বিমানটি ৭০ যাত্রী নিয়ে পাকিস্তানের রাজধানীতে পৌঁছায়। যার মধ্যে বেশির ভাগই আফগান, যারা ওয়ার্ল্ড ব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজ করেন বলে জানান বিমানবন্দরের কর্মীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৩৫ বছর বয়সী এক আফগান নারী জানান, তিনি ওয়ার্ল্ড ব্যাংকে কাজ করেন। তার গন্তব্য তাজিকিস্তানে। সেখানে যেতেই তিনি দেশ ছেড়েছেন।

‘যখন নারীদের জন্য কাজের সুযোগ দেয়া হবে এবং স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার নিশ্চয়তা দেয়া হবে তখনই আমি কাবুলে ফিরে আসব।’

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ২২ বছরের এক তরুণ জানান, তিনি এক মাসের জন্য পাকিস্তানে ঘুরতে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘ আমি খুব খুশি। দেশের জন্য খারাপ লাগলেও আমি খুশি অনেক দিন পর ঘুরতে যেতে পেরে।’

অনেকেই জানান, বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা অনেকটা কড়াকড়িভাবেই পালন করছেন তালেবান নিরাপত্তারক্ষীরা।

এর আগে বিদেশ থেকে ফ্লাইট আফগানিস্তানে গেলেও কোনো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট দেশটি ছাড়েনি।

১৫ আগস্ট কাবুল দখলের মাধ্যমে দেশটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। এরপর সশস্ত্র গোষ্ঠীটি দেশটিতে সরকার গঠন করতে শুরু করে। একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করলেও শপথ নেয়নি তালেবানের সরকার।

আরও পড়ুন:
তালেবান আতঙ্কে আছে আফগান ক্রিকেটাররা: নাভিন
মাতৃভূমিতে ফিরতে চান না হাকিম খান
কত মানুষ কাবুল ছাড়ল
নারী ফুটবলারসহ ৭৫ আফগান খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ায়
কর্মজীবী নারীদের ঘরে থাকতে বলল তালেবান

শেয়ার করুন