সাংসদদের বিরুদ্ধে তদন্তে দেরি নিয়ে প্রশ্ন ভারতের সুপ্রিম কোর্টের

সাংসদদের বিরুদ্ধে তদন্তে দেরি নিয়ে প্রশ্ন ভারতের সুপ্রিম কোর্টের

পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি জানান, ‘প্রাক্তন সাংসদসহ ৫১ জন সাংসদের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের মামলা রয়েছে। কোনো কোনো মামলা আট-দশ বছরের পুরনো। আর ১২১টি সিবিআইর মামলা রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে পুরনো মামলা ২০১০ এর। ৩৭টি মামলার তদন্ত চলছে।’  

ভারতে সংসদ সদস্য এবং বিধানসভার সদস্যদের (এমএলএ) বিরুদ্ধে মামলার দ্রুত বিচারের জন্য নির্দেশনা দেয়া যেতে পারে। তবে বিচারক স্বল্পতার কারণে এ ধরনের নির্দেশ বাস্তবায়ন সহজ হবে না। এমনটাই মনে করে সুপ্রিম ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

প্রধান বিচারপতি এনভি রামানার বেঞ্চ অবশ্য বলেছে, এ ধরনের অভিযুক্ত আইনপ্রণেতাদের মাথায় খড়গ ঝুলিয়ে রাখা উচিত নয় এবং বিচারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দেরি এড়াতে একটি নীতি তৈরি করা উচিত।

আদালত মন্তব্য করেছে, ‘এটি দ্রুত করো,ওটা দ্রুত করো-বলা সহজ, কিন্তু বিচারক কোথায়?’

বুধবার ভারত সরকারের দুই তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) ও সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনকে (সিবিআই) সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নবানের মুখে পড়তে হয়েছে। এদিন প্রধান বিচারপতি এনভি রামানা, বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় ও বিভারপরি সূর্য কান্তের ডিভিশন বেঞ্চে ছিল এ সংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলার শুনানি।

একই দিন ডিভিশন বেঞ্চের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, সংশ্লিষ্ট রাজ্যের হাইকোর্টের অনুমতি ছাড়া যেন সাংসদ-বিধায়কদের বিরুদ্ধে মামলা না তোলা হয়। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছাড়া সংশ্লিষ্ট মামলা বিচারপতি বদল না করার নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

সাংসদ-বিধায়কদের বিরুদ্ধে হওয়ার মামলার তদন্তে কেন দেরি হয়, ওই প্রশ্ন তুলে জনস্বার্থ মামলা করেছিলেন আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায়। ২০১৬ সালের করা মামলাটির শুনানি ছিল বুধবার।

সাংসদ বা বিধায়কদের বিরুদ্ধে হওয়া কোনো কোনো মামলায় ১৫ বছর কেটে গেলেও চার্জশিট পর্যন্ত জমা পড়েনি। এদিন এ প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ জানান বিচারপতিরা।

ইডি ও সিবিআইর দেয়া রিপোর্ট অনুযায়ী ৫১ জন সাংসদ ও ৭১ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে অর্থ কেলেঙ্কারির মামলা রয়েছে। অন্যদিকে ১২১ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে সিবিআইর মামলা।

পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি জানান, ‘প্রাক্তন সাংসদসহ ৫১ জন সাংসদের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের মামলা রয়েছে। কোনো কোনো মামলা আট-দশ বছরের পুরনো। আর ১২১টি সিবিআইর মামলা রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে পুরনো মামলা ২০১০ এর। ৩৭টি মামলার তদন্ত চলছে।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা অ্যাজেন্সিগুলোকে হতাশ করতে চাই না। আমরা জানি তাদের কাঁধেও বিচারপতিদের মতোই প্রবল কাজের ভার। তাই আমরা ধৈর্য ধরছি।’

আর্থিক তছরুপের মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অনেক মামলাতে শুধু সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ছাড়া আর কিছুই করা হয়নি। আর চার্জশিট না পেশ করে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার কোনো অর্থ নেই।’

সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, ‘আমি এক্ষেত্রে কোনো অজুহাত দিচ্ছি না। জানাতে চাইছি, ইডির কোনো কোনো মামলায় বিদেশ থেকে তথ্য পাওয়ার প্রয়োজন পড়ে। ওই তথ্য পেতে দেরি হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে সময় লেগে যায়।’

তিনি জানান, বিচারপতিরা মামলার একটা সময়সীমা ঠিক করে দিতে পারে। তবে কর্মী সংখ্যা কম থাকা যে মামলায় দেরি হওয়ার একটা বড় কারণ, সে কথা উল্লেখ করেছেন বিচারপতি।

মামলার শুনানিতে সলিসিটির জেনারেলকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে একটি স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে বিচারপতিদের বেঞ্চ। দুই বিশেষ নির্দেশও দিয়েছে আদালত।

প্রথমত যে রাজ্যে মামলা হয়েছে, ওই রাজ্যের হাইকোর্টের অনুমতি ছাড়া সাংসদ বা বিধায়কের বিরুদ্ধে হওয়া কোনো মামলা তোলা যাবে না।

দুই, অবসর না নেয়া পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছাড়া কোনো বিচারপতিকে সংশ্লিষ্ট মামলা থেকে সরানো যাবে না।

আরও পড়ুন:
৩৬ এর পর ভারতের এবার ৭৮
আফগানিস্তানকে দেখে শিক্ষা নেয়া উচিত: মোদিকে কাশ্মীর নেত্রী
ভারত-আফগানিস্তান বাণিজ্য চালু নিয়ে অনিশ্চয়তা
শিক্ষায় নতুন মডেল, রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক
স্ত্রী হত্যার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলেন শশী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

চুল বেশি ছোট করায় ২ কোটি রুপি জরিমানা

চুল বেশি ছোট করায় ২ কোটি রুপি জরিমানা

প্রতীকী ছবি

অভিযুক্ত সেলুনটি ভারতের একটি প্রখ্যাত চেইন হোটেলের। অভিজাত শ্রেণীর মানুষ সাধারণত এই সেলুনে চুল কাটতে যান।

ভারতের রাজধানী দিল্লির এক সেলুনে চুল কাটতে গিয়েছিলেন এক উঠতি মডেল। কিভাবে চুল কাটতে হবে নরসুন্দরকে তা বুঝিয়েও দিয়েছিলেন। কিন্তু নরসুন্দর সেই নির্দেশ না মেনে নিজের মতো করে চুলগুলো ছোট ছোট করে ছেটে ফেলেন।

শুক্রবার বিবিসি জানায়, ২০১৮ সালে চুল কাটার সেই ঘটনায় নাখোশ ওই মডেল শেষ পর্যন্ত সেলুনটির বিরুদ্ধে মামলা করেন। এবার মামলাটির রায় দিয়েছে ভারতের জাতীয় ভোক্তা-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন। রায়ে সেলুনের বিরুদ্ধে ভোক্তভোগী মডেলকে ২ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায়ের কপিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ চুলের কারণেই ভোক্তভোগী সেই নারী চুলের পণ্য উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলোতে চুক্তিভিত্তিক কাজ পেতেন। কিন্তু সেলুনটি নির্দেশ না মেনে তার চুলগুলো যাচ্ছেতাইভাবে ছোট করে দিয়েছে। এতে ওই নারীর বিপুল ক্ষতি হয়েছে।

অভিযুক্ত সেলুনটি ভারতের একটি প্রখ্যাত চেইন হোটেলের। অভিজাত শ্রেণীর মানুষ সাধারণত এই সেলুনে চুল কাটতে যান। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকলেও এখনও গণমাধ্যমের কাছে সেলুন কর্তৃপক্ষ কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

রায়ে ভোক্তা অধিকার বিষয়ক ওই আদালত জানিয়েছে, ছোট করে চুল কাটার কারণে ওই নারী মডেলের জীবনাচরণে অনেক বড় পরিবর্তন এসেছে। এ ধরনের পরিবর্তন তিনি কখনোই আশা করেননি। এতে তার মডেল হওয়ার স্বপ্নই ভেঙে গেছে।

ছোট চুল নিয়ে অনেকের হাস্যরসের কারণে মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছিলেন নারীটি। এ কারণে তিনি তার কাজেও মনোযোগ হারিয়ে ফেলেন। শেষ পর্যন্ত নিজের কর্মক্ষেত্র থেকেও তিনি ছিটকে পড়েন।

অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছিল যে, আয়নার সামনে দাঁড়ানোই বাদ দিয়েছিলেন তিনি। কর্মক্ষেত্রে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও মুখোমুখী কথা বলাই ছিল তার কাজ। কিন্তু ছোট চুলের কারণে এই কাজে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন তিনি।

সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল- চুল ছাটা নিয়ে সেলুনকে তিনি অসন্তষ্টির কথা জানালে, সেলুন কর্তৃপক্ষ তাকে বিনামূল্যে হেয়ার ট্রিটমেন্ট দেওয়ার অফার করে। কিন্তু সেই ট্রিটমেন্টও ছিল সন্দেহজনক। কারণ কিছুদিন এই ট্রিটমেন্ট নেওয়ার পর তার চুলগুলোই নষ্ট হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন:
৩৬ এর পর ভারতের এবার ৭৮
আফগানিস্তানকে দেখে শিক্ষা নেয়া উচিত: মোদিকে কাশ্মীর নেত্রী
ভারত-আফগানিস্তান বাণিজ্য চালু নিয়ে অনিশ্চয়তা
শিক্ষায় নতুন মডেল, রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক
স্ত্রী হত্যার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলেন শশী

শেয়ার করুন

আফগানিস্তানে ফিরছে মাথা, হাত-পা কাটার শাস্তি

আফগানিস্তানে ফিরছে মাথা, হাত-পা কাটার শাস্তি

তালেবানের প্রথম দফার শাসনামলে শিরশ্ছেদ ও অঙ্গচ্ছেদের মতো শাস্তি জনসম্মুখে কার্যকর করা হতো। ছবি: এএফপি

তালেবানের জ্যেষ্ঠ নেতা মোল্লা নূরুদ্দীন তুরাবি বলেন, ‘প্রকাশ্যে অঙ্গচ্ছেদ ও মাথা কেটে নেয়ার মতো দণ্ড কার্যকর করায় বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান তালেবানের তীব্র সমালোচনা করেছেন। কিন্তু আমরা তো কখনও পশ্চিমাদের আইন বা তাদের দণ্ড নিয়ে কোনো মন্তব্য করিনি।’

আফগানিস্তানে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মাথা কেটে নেয়ার (শিরশ্ছেদ) পাশাপাশি অঙ্গচ্ছেদ হিসেবে হাত ও পা কেটে ফেলার শাস্তি ফের চালু করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন তালেবান। তবে অপরাধের সাজা হিসেবে এসব দণ্ড এবার জনসম্মুখে নাও কার্যকর হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সংস্থা এপিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তালেবানের জ্যেষ্ঠ নেতা মোল্লা নূরুদ্দীন তুরাবি এসব কথা জানান।

কট্টরপন্থি ধর্মীয় সংগঠনটির প্রথম দফার শাসনামলে ১৯৯০-এর দশকে এমন কঠোর শাস্তি কার্যকরের পক্ষে অন্যতম নেতৃত্বদানকারী ছিলেন এই তুরাবি। ৬০ বছর বয়সী এই নেতা ১৯৯৬-২০০১ শাসনামলে তালেবান সরকারে বিচারবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।

১৯৯০-এর দশকে অপরাধের শাস্তি হিসেবে শিরশ্ছেদ ও অঙ্গচ্ছেদের পক্ষে সাফাই গাইলেন এই শীর্ষ নেতা। পাশাপাশি এমন কঠোর সাজার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী যে বিরোধিতা রয়েছে তাও নাকচ করে দেন তালেবানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা নূরুদ্দীন তুরাবি।

তালেবান প্রথম দফায় ক্ষমতায় থাকাকালে রাজধানী কাবুলের স্টেডিয়াম অথবা বিভিন্ন ঈদগা মাঠে শত শত নাগরিকের সামনে প্রকাশ্যে এমন সব দণ্ড কার্যকর করা হতো।

আফগানিস্তানে ফিরছে মাথা, হাত-পা কাটার শাস্তি
তালেবানের জ্যেষ্ঠ নেতা মোল্লা নূরুদ্দীন তুরাবি। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী কাবুলে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ কট্টরপন্থি নেতা তালেবান আইনের বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করতে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করেন।

তুরাবি বলেন, ‘প্রকাশ্যে অঙ্গচ্ছেদ ও মাথা কেটে নেয়ার মতো দণ্ড কার্যকর করায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান তালেবানের তীব্র সমালোচনা করেছেন। কিন্তু আমরা তো কখনও পশ্চিমাদের আইন বা তাদের দণ্ড নিয়ে কোনো মন্তব্য করিনি।’

এই তালেবান নেতা আরও বলেন, ‘কোনো দেশের সরকার আমাদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে না যে কোন ধরনের আইন আফগানিস্তানে বহাল থাকবে। আমরা ইসলামি আইন কার্যকর করব এবং কোরআনের ওপর ভিত্তি করে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করে যাবে।’

আরও পড়ুন:
৩৬ এর পর ভারতের এবার ৭৮
আফগানিস্তানকে দেখে শিক্ষা নেয়া উচিত: মোদিকে কাশ্মীর নেত্রী
ভারত-আফগানিস্তান বাণিজ্য চালু নিয়ে অনিশ্চয়তা
শিক্ষায় নতুন মডেল, রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক
স্ত্রী হত্যার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলেন শশী

শেয়ার করুন

অসমে নিহতের ঘটনায় তোপের মুখে বিজেপি

অসমে নিহতের ঘটনায় তোপের মুখে বিজেপি

অনুপ্রবেশকারীদের উচ্ছেদের নামে অসমের দরং জেলার ঢলপুরে ৮০০ পরিবারকে উচ্ছেদ করতে যায় পুলিশ। এ সময় সেখানকার মুসলমান বাঙালিদের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় নিহত হন তিনজন।

অসমে ব্রহ্মপুত্র চরের উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে নিহতের ঘটনায় তোপের মুখে পড়েছে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বিজেপি সরকার।

কথিত অনুপ্রবেশকারীদের উচ্ছেদের নামে অসমের দরং জেলার ঢলপুরের গরুখুঁটিতে চার হাজার বিঘা জমির ওপরে ৮০০ পরিবারকে উচ্ছেদ করতে যায় বিজেপি সরকারের পুলিশ। এ সময় সেখানকার মুসলমান বাঙালিদের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় নিহত হন তিনজন।

একজন গুলিবিদ্ধ গ্রামবাসীর ওপর পুলিশি অত্যাচারের ভিডিও প্রকাশ পেতেই দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়।

স্থানীয় এআইইউডিএফ বিধায়ক আশরাফুল হোসেনের অভিযোগ, ‘সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ফ্যাসিস্ট সরকার নিজের দেশের লোকদেরই হত্যা করছে।’

হাইকোর্টে মামলা চলার সময় এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযানের কড়া সমালোচনা করেছেন তিনি ।

কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকেও এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।

অমানবিক এই ‘গণহত্যার’ প্রতিবাদে কলকাতার অসম ভবনের সামনে শনিবার দুপুর ১টায় বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সংগঠন।

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার পদত্যাগ, ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত, দোষীদের শাস্তি এবং এখনই উচ্ছেদ অভিযান বন্ধের দাবিতে এই বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয়া হয়েছে।

উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে নিহতের ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।

তিনি বলেন, ‘উচ্ছেদ অভিযানের কাজ পুলিশকে দেয়া হয়েছিল, ওরা ওদের কর্তব্য করবে।’

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ভাই ও জেলা পুলিশ সুপার সুশান্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ অভিযান চলে।

ব্রহ্মপুত্রের চরে মূলত বাঙালি মুসলমানদের বাস। এই অঞ্চলের কৃষিজীবী মানুষের অনেককেই ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে দাবি করা হয়।

স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, ‘বাংলাদেশ থেকে অনেক সময় অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ঢুকলেও বহু সময়ই পরিচয়ের বিভ্রান্তির জেরে রাজ্যের কৃষিজীবী বাসিন্দাদের পুলিশি জুলুমের শিকার হতে হয়।’

আরও পড়ুন:
৩৬ এর পর ভারতের এবার ৭৮
আফগানিস্তানকে দেখে শিক্ষা নেয়া উচিত: মোদিকে কাশ্মীর নেত্রী
ভারত-আফগানিস্তান বাণিজ্য চালু নিয়ে অনিশ্চয়তা
শিক্ষায় নতুন মডেল, রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক
স্ত্রী হত্যার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলেন শশী

শেয়ার করুন

বামে আগ্রহ হারাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের যুবারা

বামে আগ্রহ হারাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের যুবারা

সিপিএম-এর যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই-এর পতাকা।

সিপিএমের রেড ভলান্টিয়ার্সের মতো বিভিন্ন কর্মসূচি রাজ্যে ব্যাপক সাড়া ফেললেও ভোটের ফলে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। তাই কর্মীদের ধরে রাখার সমস্যায় ভুগছে।

এক বছরের ব্যবধানেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সাবেক ক্ষমতাসীন দল সিপিএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই-এর প্রায় আড়াই লাখ সদস্য কমে গেছে।

বৃহস্পতিবার নদীয়ার নবদ্বীপে সংগঠনটির জেলাভিত্তিক সম্মেলনে পেশ করা একটি প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু ও সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ থেকে ২০২০ সালে যুব সংগঠনটিতে যেখানে ৭ লাখ ৪৮ হাজার ৬৬৫ সদস্য ছিলেন, সেখানে ২০২০ থেকে ২০২১ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ১৩ হাজার ১৯ জনে।

২ অক্টোবর ডিওয়াইএফআই-এর রাজ্য সম্মেলনের আগে জেলায় জেলায় সম্মেলন চলছে। এসব সম্মেলনে সংগঠনের যুব নেতৃত্ব রদবদলের পাশাপাশি চলছে সাংগঠনিক পর্যালোচনা।

রাজ্যে তৃণমূলের কাছে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের সাবেক শাসকগোষ্ঠী বামফ্রন্টের অন্যতম শরিক দল সিপিএমের অন্তর্দ্বন্দ্ব আর ক্ষয় শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় একের পর এক নির্বাচন বিপর্যয়ে বিধানসভায় দলটির উপস্থিতি শূন্যে পরিণত হয়েছে।

দলটির রেড ভলান্টিয়ার্সের মতো বিভিন্ন কর্মসূচি রাজ্যে ব্যাপক সাড়া ফেললেও ভোটের ফলে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। তাই কর্মীদের ধরে রাখার সমস্যায় ভুগছে।

যুব সংগঠনের সদস্য কমা প্রসঙ্গে লেখা হয়েছে- যখনই সংগঠন গড়ে তোলার চেষ্টা হয়েছে, তখনই ভোটে দলের বিপর্যয় দেখা গেছে। তা ছাড়া করোনাকালে সংগঠনের সদস্যদের ক্যাম্পাসমুখী করা যায়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও বিচ্ছিন্নতা বেড়েছে।

সংগঠনকে চাঙা করতে রাজ্য সম্মেলনের আগে জেলায় জেলায় ডিওয়াইএফআই-এর নেতৃত্ব বদলের কাজ চলছে। ২ অক্টোবর সিপিএমের রাজ্য যুব সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সিপিএম পলিটব্যুরো সদস্য, ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার।

আরও পড়ুন:
৩৬ এর পর ভারতের এবার ৭৮
আফগানিস্তানকে দেখে শিক্ষা নেয়া উচিত: মোদিকে কাশ্মীর নেত্রী
ভারত-আফগানিস্তান বাণিজ্য চালু নিয়ে অনিশ্চয়তা
শিক্ষায় নতুন মডেল, রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক
স্ত্রী হত্যার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলেন শশী

শেয়ার করুন

তালেবানের ওপর চাপ সৃষ্টিতে বিশ্ব একজোট: ব্লিঙ্কেন

তালেবানের ওপর চাপ সৃষ্টিতে বিশ্ব একজোট: ব্লিঙ্কেন

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি, তালেবান ইস্যুতে পাকিস্তান, চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যের মধ্যে শক্তিশালী ঐক্য রয়েছে। তালেবান বলেছে, তাদের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বৈধতা দরকার, সহযোগিতার দরকার। তালেবানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্পর্ক গোষ্ঠীটির কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভর করছে।’

তালেবানের ওপর চাপ সৃষ্টিতে বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ বলে মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন।

পাকিস্তান, চীন ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলাপ শেষে তার এমনটা মনে হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ সভা শেষে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহুমদ কুরেশির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ব্লিঙ্কেন।

এর আগে বুধবার বিকেলে আফগানিস্তান ইস্যুতে চীন ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গেও আলাপ করেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ব্লিঙ্কেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি, তালেবান ইস্যুতে পাকিস্তান, চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যের মধ্যে শক্তিশালী ঐক্য রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তালেবান বলেছে, তাদের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বৈধতা দরকার, সহযোগিতার দরকার।

‘তালেবানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্পর্ক গোষ্ঠীটির কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভর করছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেন জানান, যুক্তরাষ্ট্র চায় দীর্ঘ ২০ বছর ধরে বিদেশিদের সহযোগিতা করা আফগান ও বাইরের দেশের নাগরিকদের নিরাপদে আফগানিস্তান ত্যাগের ব্যবস্থা করুক তালেবান।

পাশাপাশি নারী-শিশু ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজনের অধিকারের প্রতি যাতে তালেবান সম্মান জানায়, তাও চায় ওয়াশিংটন।

এ ছাড়া আল-কায়েদার মতো চরমপন্থি অন্যান্য সংগঠনকে তালেবান যেন আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করতে না দেয়, সেদিকেও ওয়াশিংটন দৃষ্টি রাখছে বলে ফের জানান ব্লিঙ্কেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুরেশির সঙ্গে আলাপে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক সমন্বয়ের গুরুত্বের ওপর জোর দেন ব্লিঙ্কেন।

এর আগে তালেবানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক স্থাপন ও আফগানিস্তানের সম্পদের ওপর পশ্চিমা দেশ ও সংস্থার স্থগিতাদেশ তুলে দিতে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়।

তবে চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুরেশি জানান, তালেবানের নতুন সরকারকে তাড়াহুড়ো করে স্বীকৃতি দেয়ার কিছু নেই।

ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে আলোচনার শুরুতে কুরেশি বলেন, ‘শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে আমাদের লক্ষ্য অর্জনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার পথ খুঁজে বের করতে হবে।’

তালেবানের সঙ্গে এরই মধ্যে কাজ করার আগ্রহের কথা জানিয়েছে চীন ও রাশিয়া। তবে গোষ্ঠীটিকে এখনই স্বীকৃতি দিতে চায় না দেশ দুটি।

এ ছাড়া তালেবানের পৃষ্ঠপোষকতায় আফগানিস্তানে ফের জঙ্গিবাদ উত্থানের শঙ্কায় রয়েছে চীন ও রাশিয়া।

গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে তালেবানের হাতে কাবুলের পতন হয়।

দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার একপর্যায়ে চলতি মাসের শুরুতে বিতর্কিত ও সন্ত্রাসী তালিকায় থাকা নেতাদের নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে তালেবান।

অঙ্গীকার অনুযায়ী অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন না করায় দেশে-বিদেশে সমালোচনার মুখে রয়েছে কট্টরপন্থি ইসলামি গোষ্ঠীটি।

আরও পড়ুন:
৩৬ এর পর ভারতের এবার ৭৮
আফগানিস্তানকে দেখে শিক্ষা নেয়া উচিত: মোদিকে কাশ্মীর নেত্রী
ভারত-আফগানিস্তান বাণিজ্য চালু নিয়ে অনিশ্চয়তা
শিক্ষায় নতুন মডেল, রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক
স্ত্রী হত্যার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলেন শশী

শেয়ার করুন

দিল্লির আদালতে গোলাগুলি, গ্যাংস্টারসহ নিহত ৪

দিল্লির আদালতে গোলাগুলি, গ্যাংস্টারসহ নিহত ৪

গোলাগুলির পর দিল্লি আদালতের চিত্র। ছবি: আনন্দবাজার

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, বেশ কিছু অপরাধে জড়িত কুখ্যাত গ্যাংস্টার জিতেন্দর গোগী দিল্লির তিহার কারাগারে ছিলেন। তাকে রোহিনীর আদালতে তোলার সময় প্রতিদ্বন্দ্বী তিল্লু গ্যাংয়ের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়। হামলাকারীরা আইনজীবীর পোশাকে প্রকাশ্যে গুলি চালায়।

ভারতের দিল্লিতে আদালতের ভেতর গোলাগুলির ঘটনায় এক গ্যাংস্টারসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন কয়েকজন।

দেশটির একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার এ গোলাগুলি হয়।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ঘটনার ফুটেজে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। পুলিশ সদস্য ও আইনজীবীদের হুড়াহুড়ি করতে দেখা গেছে।

উত্তর দিল্লির রোহিনীতে আদালত চত্বরের ভেতর গ্যাংস্টার জিতেন্দর গোগী প্রতিদ্বন্দ্বী একটি গ্যাং সদস্যদের হাতে নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

গোলাগুলিতে নিহত চারজনের মধ্যে দুই হামলাকারীও রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারা নিরাপত্তাকর্মীদের হাতে নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, বেশ কিছু অপরাধে জড়িত কুখ্যাত গ্যাংস্টার জিতেন্দর গোগী দিল্লির তিহার কারাগারে ছিলেন। তাকে রোহিনীর আদালতে তোলার সময় প্রতিদ্বন্দ্বী তিল্লু গ্যাংয়ের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়। হামলাকারীরা আইনজীবীর পোশাকে প্রকাশ্যে গুলি চালায়।

গোলাগুলির ঘটনায় আদালত চত্বরে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঘাটতির বিষয়টি ধরা পড়েছে।

ঘটনায় জড়িত দুটি গ্যাংয়ের সদস্যরা কয়েক বছর ধরে সংঘর্ষে লিপ্ত ছিল বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র। তাদের সে সংঘর্ষে নিহত হয় ২৫ জনের বেশি মানুষ।

সবশেষ সংঘর্ষে নিহত জিতেন্দর গোগী ওরফে জিতেন্দর মানকে গত বছরের মার্চে গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশ। ওই গ্রেপ্তারকে বড় ব্যাপার হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

আরও পড়ুন:
৩৬ এর পর ভারতের এবার ৭৮
আফগানিস্তানকে দেখে শিক্ষা নেয়া উচিত: মোদিকে কাশ্মীর নেত্রী
ভারত-আফগানিস্তান বাণিজ্য চালু নিয়ে অনিশ্চয়তা
শিক্ষায় নতুন মডেল, রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক
স্ত্রী হত্যার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলেন শশী

শেয়ার করুন

২ হাজার নারীর কাপড় ৬ মাস ধুয়ে দেয়ার শর্তে জামিন

২ হাজার নারীর কাপড় ৬ মাস ধুয়ে দেয়ার শর্তে জামিন

ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার আসামিকে ৬ মাস গ্রামের সব নারীর কাপড় ধোয়ার শর্তে জামিন দিয়েছে ভারতীয় এক আদালত। ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস

বিহারের মধুবনী জেলার পুলিশ কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার সিং জানান, পেশায় ধোপা লালনকে চলতি বছরের এপ্রিলে ধর্ষণচেষ্টাসহ অন্য অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।

ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার এক আসামিকে সম্প্রতি শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছে ভারতের এক আদালত।

শর্তটি হচ্ছে, কোনো পারিশ্রমিক ছাড়া ওই আসামিকে টানা ছয় মাস তার গ্রামের সব নারীর কাপড় ধুয়ে ইস্ত্রি করে দিতে হবে।

বুধবার আদালতের নির্দেশে বলা হয়, ভারতের বিহার রাজ্যের মাঝোর গ্রামের প্রায় দুই হাজার নারীকে ছয় মাস ধরে বিনা মূল্যে লন্ড্রিসেবা দেবেন ধর্ষণচেষ্টার আসামি ২০ বছর বয়সি লালন কুমার।

আর এ জন্য প্রয়োজনীয় ডিটারজেন্টসহ অন্যান্য সামগ্রী লালনকেই কিনতে হবে।

বিহারের মধুবনী জেলার পুলিশ কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার সিং বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, পেশায় ধোপা লালনকে চলতি বছরের এপ্রিলে ধর্ষণচেষ্টাসহ অন্য অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।

এখন পর্যন্ত লালনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারের তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।

বিহারের মাঝোর গ্রাম পরিষদের প্রধান নাসিমা খাতুন বলেন, ‘আদালতের সিদ্ধান্তে গ্রামের সব নারী খুশি।’

তিনি বলেন, ‘এটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। এতে নারীদের প্রতি সম্মান বাড়বে। পাশাপাশি তাদের আত্মমর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে সহযোগিতা করবে।’

লালন আদালতের নির্দেশ ঠিকঠাক মেনে চলছে কি না, তা নজরদারির অন্যতম দায়িত্বে রয়েছেন নাসিমা।

মাঝোর গ্রামে বসবাসরত নারীদের ভাষ্য, নারীর ওপর সংঘটিত অপরাধ নিয়ে নিজেদের সম্প্রদায়ের ভেতর আলোচনার ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে আদালতের ওই নির্দেশ, যা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

মাঝোর গ্রামের বাসিন্দা অঞ্জুম পারভিন বলেন, ‘এটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। ভিন্নধর্মী এ শাস্তি সমাজকে নতুন বার্তা দিয়েছে।’

২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বাসে ২৩ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় পুরো দেশ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।

ওই ঘটনার ১৩ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই ছাত্রীর মৃত্যু হয়। গত বছরের ২০ মার্চ অভিযুক্ত চার ব্যক্তির ফাঁসি হয়।

দিল্লির ওই ঘটনার পর কঠোর শাস্তির বিধান রেখে ধর্ষণ আইন সংস্কার করে ভারত। তা সত্ত্বেও দেশটিতে ধর্ষণের হার উল্লেখযোগ্য হারে বেশি।

গত বছর ভারতের ২৮ হাজারের বেশি নারী-শিশু ধর্ষণের শিকার হয়।

আরও পড়ুন:
৩৬ এর পর ভারতের এবার ৭৮
আফগানিস্তানকে দেখে শিক্ষা নেয়া উচিত: মোদিকে কাশ্মীর নেত্রী
ভারত-আফগানিস্তান বাণিজ্য চালু নিয়ে অনিশ্চয়তা
শিক্ষায় নতুন মডেল, রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক
স্ত্রী হত্যার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলেন শশী

শেয়ার করুন