আফগানিস্তানকে মেধাশূন্য করবেন না: যুক্তরাষ্ট্রকে তালেবান

আফগানিস্তানকে মেধাশূন্য করবেন না: যুক্তরাষ্ট্রকে তালেবান

কাবুলে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। ছবি: এএফপি

তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ‘দক্ষ আফগানদের দেশ ছাড়তে বিদেশি দেশগুলো উৎসাহ দিচ্ছে। তাদের এটা বন্ধ করা উচিত। কারণ দক্ষ নাগরিকের মেধা আফগানিস্তানের দরকার।’

আফগানিস্তানে নানা খাতে দক্ষ নাগরিকদের দেশ ছাড়তে উৎসাহ না দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ।

রাজধানী কাবুলে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান বলে বিবিসি ও বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

মুজাহিদ বলেন, ‘প্রকৌশলী, চিকিৎসকসহ অন্য দক্ষ নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র তাদের দেশে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা তাদের এটা বন্ধ করতে বলেছি।’

তিনি বলেন, ‘দক্ষ আফগানদের দেশ ছাড়তে বিদেশি দেশগুলো উৎসাহ দিচ্ছে। তাদের এটা বন্ধ করা উচিত। কারণ দক্ষ নাগরিকের মেধা আফগানিস্তানের দরকার।’

তালেবানের মুখপাত্র মুজাহিদ বলেন, ‘আফগান নাগরিকদের বাড়ি, কর্মস্থল ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরা উচিত। তাদের বিপদের ঝুঁকি নেই।’

আফগান নাগরিকদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানিয়ে মুজাহিদ বলেন, ‘চলুন, একসঙ্গে বাঁচি। আমাদের যুদ্ধ শেষ হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘নারীদের চাকরি করতে স্থায়ীভাবে মানা করা হবে না। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ একটি কার্যপ্রণালি নির্ধারণ করবে, যাতে তারা ফের কাজে যোগ দিতে পারেন।

‘এ ছাড়া নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না ঘটা পর্যন্ত সরকারি নারী কর্মকর্তাদের বাড়িতেই অবস্থান করা উচিত।’

দূতাবাসের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তালেবান মুখপাত্র বলেন, ‘আপনাদের নিরাপত্তার আশ্বাস দেয়া হচ্ছে। দূতাবাস বন্ধ বা কাজ স্থগিত করার প্রয়োজন নেই।’

তিনি বলেন, ‘স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসার পাশাপাশি হাসপাতাল, স্থানীয় সরকার, টেলিভিশন ও রেডিও স্টেশন শিগগিরই চালু করা হবে।’

আফগানিস্তান থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহারে যুক্তরাষ্ট্রকে দেয়া সময়সীমা বাড়ানো হবে না বলে ফের সংবাদ সম্মেলনে জানান মুজাহিদ।

চলতি মাসের ৩১ তারিখে নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের আফগানিস্তান ছাড়তে হবে বলে জানান তিনি।

মুজাহিদ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিমান, বিমানবন্দর সবই রয়েছে। এখান থেকে তারা তাদের নাগরিক ও ঠিকাদারদের সহজেই দেশে ফেরত নিতে পারে।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জানান, ৩১ তারিখের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সব সেনাকে আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহারের বিষয়ে আশাবাদী তিনি। তবে মিত্রশক্তি ইউরোপ ও যুক্তরাজ্য তাকে ওই সময়সীমা বাড়ানোর চাপ দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ৯ দিন আগে তালেবানের হাতে আফগানিস্তান পতনের পর এখন পর্যন্ত কাবুল বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৫০ হাজার বিদেশি ও আফগান নাগরিক দেশ ছেড়েছে।

আরও পড়ুন:
প্রতিরোধ অঞ্চলে খাবার ঢুকতে দিচ্ছে না তালেবান
মোল্লা বারাদরের সঙ্গে সিআইএ প্রধানের গোপন বৈঠক
কাবুলে বিমান ছিনতাই নিয়ে ইউক্রেনের ইউটার্ন
উদ্ধার অভিযান নিয়ে চাপে যুক্তরাষ্ট্র, সময় বাড়াবে না তালেবান
আফগানিস্তান-পাকিস্তান সিরিজ স্থগিত

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নিজেদের অবস্থান তালেবানকে জানাল যুক্তরাষ্ট্র-ভারত

নিজেদের অবস্থান তালেবানকে জানাল যুক্তরাষ্ট্র-ভারত

হোয়াইট হাউজে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: পিটিআই

যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কাবুল পতনের পর তালেবান যেসব অঙ্গীকার করেছিল, তা তাদের মানতে হবে। আফগানিস্তান থেকে দেশি-বিদেশি সব নাগরিককে নিরাপদে দেশত্যাগের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া নারী, শিশু ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সবাইকে প্রাপ্য মর্যাদা দিতে হবে।’

অঙ্গীকার অনুযায়ী কাজ করতে এবং নারী, শিশু, জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ সব আফগান নাগরিকের অধিকারের প্রতি সম্মান জানাতে তালেবান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র।

হোয়াইট হাউসে স্থানীয় সময় শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রথম সরাসরি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়।

এর পরই যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের পক্ষ থেকে যৌথ এক বিবৃতিতে তালেবান সরকারের প্রতি ওই আহ্বান জানানো হয় বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত তালেবানকে অবশ্যই মানতে হবে বলে বৈঠকে একমত পোষণ করেন বাইডেন ও মোদি।

গত মাসে তালেবানের হাতে কাবুল পতনের দুই সপ্তাহ পর ৩০ আগস্ট জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রেজল্যুশন ২৫৯৩ (২০২১) গৃহীত হয়।

এতে বলা হয়, অন্য দেশে হামলা চালাতে আফগানিস্তানের মাটি ফের কোনো গোষ্ঠীকে ব্যবহার করতে দেয়া যাবে না।

একই সঙ্গে আফগান ভূখণ্ডে সন্ত্রাসীদের আশ্রয় বা প্রশিক্ষণ কর্মকাণ্ড চালানোর অনুমতি না দেয়া এবং কোনো ধরনের সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা বা অর্থায়ন না করার কথাও ওই রেজল্যুশনে বলা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কাবুল পতনের পর তালেবান যেসব অঙ্গীকার করেছিল, তা তাদের মানতে হবে।

‘আফগানিস্তান থেকে দেশি-বিদেশি সব নাগরিককে নিরাপদে দেশত্যাগের ব্যবস্থা করতে হবে।

‘এ ছাড়া নারী, শিশু ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সবাইকে প্রাপ্য মর্যাদা দিতে হবে।’

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের মাধ্যমে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ তালেবানের হাতে চলে যায়। চলতি মাসের শুরুতে নিজেদের ৩৩ নেতা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে তালেবান।

আরও পড়ুন:
প্রতিরোধ অঞ্চলে খাবার ঢুকতে দিচ্ছে না তালেবান
মোল্লা বারাদরের সঙ্গে সিআইএ প্রধানের গোপন বৈঠক
কাবুলে বিমান ছিনতাই নিয়ে ইউক্রেনের ইউটার্ন
উদ্ধার অভিযান নিয়ে চাপে যুক্তরাষ্ট্র, সময় বাড়াবে না তালেবান
আফগানিস্তান-পাকিস্তান সিরিজ স্থগিত

শেয়ার করুন

নারী অধিকারকর্মী কমলা ভাসিনের প্রয়াণ

নারী অধিকারকর্মী কমলা ভাসিনের প্রয়াণ

ভারতীয় নারী অধিকারকর্মী ও লেখক কমলা ভাসিন আর নেই। ছবি: সংগৃহীত

কমলা ভাসিনের মৃত্যুর খবর জানিয়ে ভারতীয় নারী অধিকারকর্মী কবিতা শ্রীবাস্তব টুইটবার্তায় বলেন, ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে কাজ করতে ভালোবাসতেন কমলা। কমলা, আপনি চিরদিন আমাদের হৃদয়ে থাকবেন। নারীসমাজ কমলার অন্তিম যাত্রায় গভীরভাবে শোকাহত।’

ভারতের প্রখ্যাত নারী অধিকারকর্মী ও লেখক কমলা ভাসিন আর নেই।

শুক্রবার দিবাগত রাতে তার মৃত্যু হয় বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

কমলা ভাসিনের মৃত্যুর খবর জানিয়ে ভারতীয় আরেক নারী অধিকারকর্মী কবিতা শ্রীবাস্তব টুইটবার্তায় বলেন, ‘শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে আমাদের প্রাণপ্রিয় বন্ধু কমলা ভাসিন চলে গেছেন। কমলার প্রয়াণ ভারতসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় নারী আন্দোলনে বড় ধরনের আঘাত।’

তিনি বলেন, ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে কাজ করতে ভালোবাসতেন কমলা। কমলা, আপনি চিরদিন আমাদের হৃদয়ে থাকবেন। নারীসমাজ কমলার অন্তিম যাত্রায় গভীরভাবে শোকাহত।’

৭০-এর দশকে ভারতের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় নারী আন্দোলনে আলোচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হন কমলা।

গ্রামীণ ও আদিবাসী সুবিধাবঞ্চিত নারীদের নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যে ২০০২ সালে ‘সঙ্গত’ নামে নারীবাদী নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।

মঞ্চনাটক, গান ও অন্যান্য শিল্পকলার মাধ্যমে নারীদের বঞ্চনার কথা তুলে ধরে সঙ্গত।

নারীবাদ ও জেন্ডার তত্ত্ব নিয়ে বেশ কয়েকটি বই লেখেন কমলা, যেগুলো ৩০টির বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

কয়েক দশক ধরে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদ-বিক্ষোভে ‘আজাদি’ স্লোগান দেয়া হয়ে আসছে।

পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে কমলাই প্রথম ওই স্লোগানকে হাজির করেন, যা পরে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

আরও পড়ুন:
প্রতিরোধ অঞ্চলে খাবার ঢুকতে দিচ্ছে না তালেবান
মোল্লা বারাদরের সঙ্গে সিআইএ প্রধানের গোপন বৈঠক
কাবুলে বিমান ছিনতাই নিয়ে ইউক্রেনের ইউটার্ন
উদ্ধার অভিযান নিয়ে চাপে যুক্তরাষ্ট্র, সময় বাড়াবে না তালেবান
আফগানিস্তান-পাকিস্তান সিরিজ স্থগিত

শেয়ার করুন

পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান কেনার খবর প্রত্যাখ্যান আর্জেন্টিনার

পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান কেনার খবর প্রত্যাখ্যান আর্জেন্টিনার

পাকিস্তান নির্মিত যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭এ ব্লক-থ্রি। ছবি: দ্য ডন

আর্জেন্টিনার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মন্ত্রণালয় এটা পরিষ্কার করছে যে, কোনো ধরনের সুপারসনিক যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে মন্ত্রণালয় এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে পাঁচটি বিকল্প নিয়ে প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক মূল্যায়ন চলছে।’

আর্জেন্টিনা তাদের পরবর্তী যুদ্ধ বিমান কেনার জন্য পাকিস্তানের তৈরি জেএফ-১৭ বেছে নিয়েছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে তা প্রত্যাখ্যান করেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি।

এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে আর্জেন্টিনার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়

এতে বলা হয়েছে, ‘পাবলিক ক্রেডিট অথরাইজেশন নোটের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে যে, আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যায় এমন যুদ্ধ বিমান কিনতে ২০২২ বাজেটে ৬৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

‘মন্ত্রণালয় এটা পরিষ্কার করছে যে, কোনো ধরনের সুপারসনিক যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে মন্ত্রণালয় এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে পাঁচটি বিকল্প নিয়ে প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক মূল্যায়ন চলছে।’

সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে, আর্জেন্টিনা পাকিস্তানের তৈরি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭এ ব্লক-থ্রি কেনার পরিকল্পনা করছে।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষাবিষয়ক একটি জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই যুদ্ধবিমান কেনার জন্য ২০২২ অর্থবছরে ৬৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার বরাদ্দ চেয়ে একটি খসড়া বাজেট পার্লামেন্টে পাঠিয়েছে আর্জেন্টিনা সরকার।

আর ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের কারণে অন্যান্য দেশ থেকে যুদ্ধবিমান কিনতে ব্যর্থ হওয়ার পর পাকিস্তানের কাছ থেকেই তা কেনার জন্য ভাবছে বুয়েনসআয়ার্স।

এসব প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৮২ সালে ফকল্যান্ডস যুদ্ধের পর থেকেই আর্জেন্টিনার ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা চলছে। ফলে যুক্তরাজ্যের বন্ধুপ্রতীম কোনো দেশ থেকে যুদ্ধাস্ত্র কেনা অনেকক্ষেত্রে সম্ভব হয় না আর্জেন্টিনার জন্য।

আর্জেন্টিনা ২০১৫ সালে সুইডেন ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে যুদ্ধবিমান কেনার চেষ্টা করেছিল। পরে উভয় দেশই যুক্তরাজ্যের চাপে বুয়েনসআয়ার্সের কাছে অস্ত্র বিক্রি থেকে পিছু হটে। তাই যুদ্ধ বিমান কিনতে অগত্যা পাকিস্তানমুখী হয়েছে আর্জেন্টিনা।

গত এক দশকে যুদ্ধবিমানে বেশ উৎকর্ষতা দেখিয়েছে ইসলামাবাদ। এক্ষেত্রে তাদের সহায়তা করে যাচ্ছে চীন।

যুদ্ধ বিমান জেএফ-১৭এ ব্লক-থ্রি নির্মাণ করেছে পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স ও চীনের শেংডু এয়ারক্রাফট করপোরেশন। ‘জেএফ-১৭ থান্ডার’ নামে পরিচিত এই যুদ্ধ বিমান আকাশপথে পাকিস্তানকে শক্তিশালী করেছে।

এই যুদ্ধ বিমানে যুক্তরাজ্যের যন্ত্রাংশও রয়েছে। বিপজ্জনক মুহূর্তে বিমান থেকে পাইলটের বের হয়ে আসার ইজেক্টর সিটটি তৈরি করেছে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান মার্টিন বেকার।

কী আছে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭ এ?

এক ইঞ্জিনের এই যুদ্ধবিমান বিভিন্ন কাজে লাগানো যায়। এটি পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স ও চীনের শেংডু এয়ারক্রাফট করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে তৈরি করা হচ্ছে।

আকাশপথে শত্রুপক্ষের আক্রমণ রুখে দেয়া, আকাশ থেকে ভূমিতে আক্রমণ, আকাশ পথে আক্রমণ, আকাশ থেকে পর্যবেক্ষণ-নিরীক্ষা ইত্যাদি কাজে ব্যবহার করা যায় বিমান।

এই যুদ্ধবিমানের ৫৮ শতাংশই পাকিস্তান প্রযুক্তিতে তৈরি এবং ৪২ শতাংশ চীনের প্রযুক্তি। বিমানটি নির্মাণের পুরো কাজটিই হয় পাকিস্তানের মাটিতে।

আরও পড়ুন:
প্রতিরোধ অঞ্চলে খাবার ঢুকতে দিচ্ছে না তালেবান
মোল্লা বারাদরের সঙ্গে সিআইএ প্রধানের গোপন বৈঠক
কাবুলে বিমান ছিনতাই নিয়ে ইউক্রেনের ইউটার্ন
উদ্ধার অভিযান নিয়ে চাপে যুক্তরাষ্ট্র, সময় বাড়াবে না তালেবান
আফগানিস্তান-পাকিস্তান সিরিজ স্থগিত

শেয়ার করুন

বিশ্বের চাওয়া পূরণে ‘প্রস্তুত’ তালেবান

বিশ্বের চাওয়া পূরণে ‘প্রস্তুত’ তালেবান

কাবুলের রাস্তায় নারীরা। ফাইল ছবি

আফগানিস্তানের নেতৃত্ব নিয়ে তালেবানের যে মতাদর্শ তাতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন পাকিস্তান, চীন ও রাশিয়ার তিন বিশেষ দূত। পাশাপাশি আফগানিস্তানের চলমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখে বিস্মিত হয়েছেন তারা।

আফগানিস্তানে অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন এবং নারী ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে বিশ্বনেতারা যেসব দাবি রেখেছে তা পূরণ করতে তালেবান সরকার প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন পাকিস্তান, চীন ও রাশিয়ার তিন বিশেষ দূত।

কাবুলে সম্প্রতি আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী মোল্লা হাসান আখুন্দের সঙ্গে দেখা করে তালেবানের এ ইচ্ছার কথা জানান তারা।

তালেবান সরকারের মনোভাব নিয়ে তিন বিশেষ দূতই সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বলে বৈঠকটির বিষয়ে অবগত কূটনৈতিক সূত্রগুলো দ্য ট্রিবিউন এক্সপ্রেসকে জানিয়েছে।

আফগানিস্তানের নেতৃত্ব নিয়ে তালেবানের যে মতাদর্শ তাতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন পাকিস্তান, চীন ও রাশিয়ার বিশেষ দূত। পাশাপাশি আফগানিস্তানের চলমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখে বিস্মিত হয়েছেন তারা।

বিশেষ তিন দূত আফগানিস্তানের হাটবাজার ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ঘুরে দেখেছেন। সব ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখেছেন তারা।

সূত্রগুলো বলেছে, আফগানিস্তানে ‘সবার সরকার’ গঠন করতে তালেবান যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা পূরণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠীটি সবার সঙ্গে একমত।

তবে তালেবান নেতৃত্ব জানিয়েছে, গত ২০ বছর আফগানিস্তান সরকারে যারা দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন, তারা পরিচিত মুখ হলেও তালেবান সরকারে তাদের নেয়া হবে না।

পাকিস্তান, চীন ও রাশিয়ার বিশেষ দূতদের তালেবান থেকে এটাও জানানো হয়েছে, নারী শিক্ষার প্রতি আফগানিস্তানে কোনো বাধা দেয়া হবে না। তবে এই শিক্ষা পদ্ধতি হবে ‘শরিয়াহ’ আইন অনুযায়ী।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, তালেবান নেতারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করতে চান। এ জন্য আফগানিস্তান নিয়ে বিশ্বের উদ্বেগগুলো দূর করতে চান তারা।

দুই দশক পর আবার আফগানিস্তান দখল করে তালেবান জানায়, তারা ২০ বছর আগের অবস্থানে নেই। সহনশীলতার কথা বলেছিল কট্টর ইসলামি গোষ্ঠীটি। শত্রুদের সবাইকে ক্ষমা করে দেয়ার কথা জানায় তারা। সবাইকে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের আশ্বাস দেয়। সরকারে নারী প্রতিনিধিত্ব রাখারও ইঙ্গিত দেয়।

তালেবানের এসব আশ্বাসের বাস্তবের কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে তালেবান যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘোষণা করেছে, সেখানে বেশির ভাগ সদস্যই পশতু জাতিগোষ্ঠীর; মন্ত্রিসভায় নেই কোনো নারী সদস্য। এমনকি নারী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও মানা করে দিয়েছে তারা।

আরও পড়ুন:
প্রতিরোধ অঞ্চলে খাবার ঢুকতে দিচ্ছে না তালেবান
মোল্লা বারাদরের সঙ্গে সিআইএ প্রধানের গোপন বৈঠক
কাবুলে বিমান ছিনতাই নিয়ে ইউক্রেনের ইউটার্ন
উদ্ধার অভিযান নিয়ে চাপে যুক্তরাষ্ট্র, সময় বাড়াবে না তালেবান
আফগানিস্তান-পাকিস্তান সিরিজ স্থগিত

শেয়ার করুন

তালেবানের ওপর চাপ সৃষ্টিতে বিশ্ব একজোট: ব্লিঙ্কেন

তালেবানের ওপর চাপ সৃষ্টিতে বিশ্ব একজোট: ব্লিঙ্কেন

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি, তালেবান ইস্যুতে পাকিস্তান, চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যের মধ্যে শক্তিশালী ঐক্য রয়েছে। তালেবান বলেছে, তাদের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বৈধতা দরকার, সহযোগিতার দরকার। তালেবানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্পর্ক গোষ্ঠীটির কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভর করছে।’

তালেবানের ওপর চাপ সৃষ্টিতে বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ বলে মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন।

পাকিস্তান, চীন ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলাপ শেষে তার এমনটা মনে হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ সভা শেষে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহুমদ কুরেশির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ব্লিঙ্কেন।

এর আগে বুধবার বিকেলে আফগানিস্তান ইস্যুতে চীন ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গেও আলাপ করেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ব্লিঙ্কেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি, তালেবান ইস্যুতে পাকিস্তান, চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যের মধ্যে শক্তিশালী ঐক্য রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তালেবান বলেছে, তাদের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বৈধতা দরকার, সহযোগিতার দরকার।

‘তালেবানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্পর্ক গোষ্ঠীটির কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভর করছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেন জানান, যুক্তরাষ্ট্র চায় দীর্ঘ ২০ বছর ধরে বিদেশিদের সহযোগিতা করা আফগান ও বাইরের দেশের নাগরিকদের নিরাপদে আফগানিস্তান ত্যাগের ব্যবস্থা করুক তালেবান।

পাশাপাশি নারী-শিশু ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজনের অধিকারের প্রতি যাতে তালেবান সম্মান জানায়, তাও চায় ওয়াশিংটন।

এ ছাড়া আল-কায়েদার মতো চরমপন্থি অন্যান্য সংগঠনকে তালেবান যেন আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করতে না দেয়, সেদিকেও ওয়াশিংটন দৃষ্টি রাখছে বলে ফের জানান ব্লিঙ্কেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুরেশির সঙ্গে আলাপে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক সমন্বয়ের গুরুত্বের ওপর জোর দেন ব্লিঙ্কেন।

এর আগে তালেবানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক স্থাপন ও আফগানিস্তানের সম্পদের ওপর পশ্চিমা দেশ ও সংস্থার স্থগিতাদেশ তুলে দিতে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়।

তবে চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুরেশি জানান, তালেবানের নতুন সরকারকে তাড়াহুড়ো করে স্বীকৃতি দেয়ার কিছু নেই।

ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে আলোচনার শুরুতে কুরেশি বলেন, ‘শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে আমাদের লক্ষ্য অর্জনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার পথ খুঁজে বের করতে হবে।’

তালেবানের সঙ্গে এরই মধ্যে কাজ করার আগ্রহের কথা জানিয়েছে চীন ও রাশিয়া। তবে গোষ্ঠীটিকে এখনই স্বীকৃতি দিতে চায় না দেশ দুটি।

এ ছাড়া তালেবানের পৃষ্ঠপোষকতায় আফগানিস্তানে ফের জঙ্গিবাদ উত্থানের শঙ্কায় রয়েছে চীন ও রাশিয়া।

গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে তালেবানের হাতে কাবুলের পতন হয়।

দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার একপর্যায়ে চলতি মাসের শুরুতে বিতর্কিত ও সন্ত্রাসী তালিকায় থাকা নেতাদের নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে তালেবান।

অঙ্গীকার অনুযায়ী অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন না করায় দেশে-বিদেশে সমালোচনার মুখে রয়েছে কট্টরপন্থি ইসলামি গোষ্ঠীটি।

আরও পড়ুন:
প্রতিরোধ অঞ্চলে খাবার ঢুকতে দিচ্ছে না তালেবান
মোল্লা বারাদরের সঙ্গে সিআইএ প্রধানের গোপন বৈঠক
কাবুলে বিমান ছিনতাই নিয়ে ইউক্রেনের ইউটার্ন
উদ্ধার অভিযান নিয়ে চাপে যুক্তরাষ্ট্র, সময় বাড়াবে না তালেবান
আফগানিস্তান-পাকিস্তান সিরিজ স্থগিত

শেয়ার করুন

দিল্লির আদালতে গোলাগুলি, গ্যাংস্টারসহ নিহত ৪

দিল্লির আদালতে গোলাগুলি, গ্যাংস্টারসহ নিহত ৪

গোলাগুলির পর দিল্লি আদালতের চিত্র। ছবি: আনন্দবাজার

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, বেশ কিছু অপরাধে জড়িত কুখ্যাত গ্যাংস্টার জিতেন্দর গোগী দিল্লির তিহার কারাগারে ছিলেন। তাকে রোহিনীর আদালতে তোলার সময় প্রতিদ্বন্দ্বী তিল্লু গ্যাংয়ের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়। হামলাকারীরা আইনজীবীর পোশাকে প্রকাশ্যে গুলি চালায়।

ভারতের দিল্লিতে আদালতের ভেতর গোলাগুলির ঘটনায় এক গ্যাংস্টারসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন কয়েকজন।

দেশটির একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার এ গোলাগুলি হয়।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ঘটনার ফুটেজে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। পুলিশ সদস্য ও আইনজীবীদের হুড়াহুড়ি করতে দেখা গেছে।

উত্তর দিল্লির রোহিনীতে আদালত চত্বরের ভেতর গ্যাংস্টার জিতেন্দর গোগী প্রতিদ্বন্দ্বী একটি গ্যাং সদস্যদের হাতে নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

গোলাগুলিতে নিহত চারজনের মধ্যে দুই হামলাকারীও রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারা নিরাপত্তাকর্মীদের হাতে নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, বেশ কিছু অপরাধে জড়িত কুখ্যাত গ্যাংস্টার জিতেন্দর গোগী দিল্লির তিহার কারাগারে ছিলেন। তাকে রোহিনীর আদালতে তোলার সময় প্রতিদ্বন্দ্বী তিল্লু গ্যাংয়ের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়। হামলাকারীরা আইনজীবীর পোশাকে প্রকাশ্যে গুলি চালায়।

গোলাগুলির ঘটনায় আদালত চত্বরে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঘাটতির বিষয়টি ধরা পড়েছে।

ঘটনায় জড়িত দুটি গ্যাংয়ের সদস্যরা কয়েক বছর ধরে সংঘর্ষে লিপ্ত ছিল বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র। তাদের সে সংঘর্ষে নিহত হয় ২৫ জনের বেশি মানুষ।

সবশেষ সংঘর্ষে নিহত জিতেন্দর গোগী ওরফে জিতেন্দর মানকে গত বছরের মার্চে গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশ। ওই গ্রেপ্তারকে বড় ব্যাপার হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

আরও পড়ুন:
প্রতিরোধ অঞ্চলে খাবার ঢুকতে দিচ্ছে না তালেবান
মোল্লা বারাদরের সঙ্গে সিআইএ প্রধানের গোপন বৈঠক
কাবুলে বিমান ছিনতাই নিয়ে ইউক্রেনের ইউটার্ন
উদ্ধার অভিযান নিয়ে চাপে যুক্তরাষ্ট্র, সময় বাড়াবে না তালেবান
আফগানিস্তান-পাকিস্তান সিরিজ স্থগিত

শেয়ার করুন

২ হাজার নারীর কাপড় ৬ মাস ধুয়ে দেয়ার শর্তে জামিন

২ হাজার নারীর কাপড় ৬ মাস ধুয়ে দেয়ার শর্তে জামিন

ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার আসামিকে ৬ মাস গ্রামের সব নারীর কাপড় ধোয়ার শর্তে জামিন দিয়েছে ভারতীয় এক আদালত। ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস

বিহারের মধুবনী জেলার পুলিশ কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার সিং জানান, পেশায় ধোপা লালনকে চলতি বছরের এপ্রিলে ধর্ষণচেষ্টাসহ অন্য অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।

ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার এক আসামিকে সম্প্রতি শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছে ভারতের এক আদালত।

শর্তটি হচ্ছে, কোনো পারিশ্রমিক ছাড়া ওই আসামিকে টানা ছয় মাস তার গ্রামের সব নারীর কাপড় ধুয়ে ইস্ত্রি করে দিতে হবে।

বুধবার আদালতের নির্দেশে বলা হয়, ভারতের বিহার রাজ্যের মাঝোর গ্রামের প্রায় দুই হাজার নারীকে ছয় মাস ধরে বিনা মূল্যে লন্ড্রিসেবা দেবেন ধর্ষণচেষ্টার আসামি ২০ বছর বয়সি লালন কুমার।

আর এ জন্য প্রয়োজনীয় ডিটারজেন্টসহ অন্যান্য সামগ্রী লালনকেই কিনতে হবে।

বিহারের মধুবনী জেলার পুলিশ কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার সিং বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, পেশায় ধোপা লালনকে চলতি বছরের এপ্রিলে ধর্ষণচেষ্টাসহ অন্য অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।

এখন পর্যন্ত লালনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারের তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।

বিহারের মাঝোর গ্রাম পরিষদের প্রধান নাসিমা খাতুন বলেন, ‘আদালতের সিদ্ধান্তে গ্রামের সব নারী খুশি।’

তিনি বলেন, ‘এটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। এতে নারীদের প্রতি সম্মান বাড়বে। পাশাপাশি তাদের আত্মমর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে সহযোগিতা করবে।’

লালন আদালতের নির্দেশ ঠিকঠাক মেনে চলছে কি না, তা নজরদারির অন্যতম দায়িত্বে রয়েছেন নাসিমা।

মাঝোর গ্রামে বসবাসরত নারীদের ভাষ্য, নারীর ওপর সংঘটিত অপরাধ নিয়ে নিজেদের সম্প্রদায়ের ভেতর আলোচনার ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে আদালতের ওই নির্দেশ, যা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

মাঝোর গ্রামের বাসিন্দা অঞ্জুম পারভিন বলেন, ‘এটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। ভিন্নধর্মী এ শাস্তি সমাজকে নতুন বার্তা দিয়েছে।’

২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বাসে ২৩ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় পুরো দেশ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।

ওই ঘটনার ১৩ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই ছাত্রীর মৃত্যু হয়। গত বছরের ২০ মার্চ অভিযুক্ত চার ব্যক্তির ফাঁসি হয়।

দিল্লির ওই ঘটনার পর কঠোর শাস্তির বিধান রেখে ধর্ষণ আইন সংস্কার করে ভারত। তা সত্ত্বেও দেশটিতে ধর্ষণের হার উল্লেখযোগ্য হারে বেশি।

গত বছর ভারতের ২৮ হাজারের বেশি নারী-শিশু ধর্ষণের শিকার হয়।

আরও পড়ুন:
প্রতিরোধ অঞ্চলে খাবার ঢুকতে দিচ্ছে না তালেবান
মোল্লা বারাদরের সঙ্গে সিআইএ প্রধানের গোপন বৈঠক
কাবুলে বিমান ছিনতাই নিয়ে ইউক্রেনের ইউটার্ন
উদ্ধার অভিযান নিয়ে চাপে যুক্তরাষ্ট্র, সময় বাড়াবে না তালেবান
আফগানিস্তান-পাকিস্তান সিরিজ স্থগিত

শেয়ার করুন