রাখিবন্ধনে সুন্দরবন বাঁচানোর বার্তা

রাখিবন্ধনে সুন্দরবন বাঁচানোর বার্তা

সুন্দরী গাছে রাখি পরাচ্ছেন সুন্দরবনের পশ্চিমবঙ্গের অংশের বাসিন্দারা। ছবি: জি নিউজ

সুন্দরবন প্রকৃতির তাণ্ডব থেকে রক্ষা করে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে। সুন্দরবনের সুন্দরী গাছ নষ্ট হলে শুধু সুন্দরবন নয়, বিস্তীর্ণ এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হবে। তাই সুন্দরীগাছকে রাখি পরিয়ে নাগরিকদের কাছে পরিবেশ বাঁচানোর বার্তা বন দপ্তরের।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের রাখিবন্ধন উৎসব শুধু ভাইবোনের স্নেহের বন্ধনেই এখন সীমিত নেই, হয়ে উঠেছে বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে বার্তা দেয়ার হাতিয়ারও।

রাখিবন্ধন উৎসব উপলক্ষে রোববার ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য বন দপ্তরের উদ্যোগে সুন্দরীগাছে রাখি পরান পরিবেশবাদীরা। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনের অস্তিত্ব রক্ষার বার্তা দেয়া হয় অভিনব এ পন্থায়।

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণাঞ্চলের সুরক্ষায় সুন্দরবনের ভূমিকা অপরিসীম। অঞ্চলটিতে পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে আগেই ‘সেভ ম্যানগ্রোভ’ কর্মসূচি নেয় রাজ্য বন দপ্তর, যার ধারাবাহিকতায় হয় গাছকে রাখি পরানোর আয়োজন।

পশ্চিমবঙ্গের বন দপ্তরের মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, ‘বন দপ্তরের পক্ষ থেকে নাগরিকদের সচেতনতা বাড়াতে রাখিবন্ধন উৎসবে ম্যানগ্রোভের গাছে রাখি পরানোর আয়োজন করা হয়। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্প্রীতি গড়ে তুলতে হয় এ আয়োজন।’

সম্প্রতি ইয়াস ঘূর্ণিঝড়ে সুন্দরবনের ব্যাপক ক্ষতি হয়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সে সময় বলেন, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে প্রকৃতি সহায়।

মুখ্যমন্ত্রীর সে কথা মাথায় রেখে, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে রাজ্য বন দপ্তর স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে নতুন করে বৃক্ষরোপণ শুরু করেছে সুন্দরবনে।

এ প্রকল্পের আওতায় উত্তর ২৪ পরগনা, মেদিনীপুরের ৫১০ একর জমিতে সুন্দরীগাছ লাগানো হবে বলে বন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

সুন্দরবনকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করে, লোনা জলের অরণ্য। আর সুন্দরবন প্রকৃতির তাণ্ডব থেকে রক্ষা করে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে।

সুন্দরবনের সুন্দরীগাছ নষ্ট হলে শুধু সুন্দরবন নয়, বিস্তীর্ণ এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হবে। তাই সুন্দরীগাছকে রাখি পরিয়ে নাগরিকদের কাছে পরিবেশ বাঁচানোর বার্তা বন দপ্তরের।

আরও পড়ুন:
সুন্দরবন বাঁচাতে প্রকল্প, দুর্নীতি ছাড়া বাস্তবায়নের আশা
বাঘের হামলা, নিহত দুই বনজীবীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ
সুন্দরবন বাড়াতে কৃত্রিম ম্যানগ্রোভের উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রী
সুন্দরবনে হরিণের মাংসসহ বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার
ইয়াস: জোয়ারে ভেসে এলো ৬টি হরিণ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বছরের ব্যবধানে কুয়াকাটায় ৩ গুণ মৃত ডলফিন

বছরের ব্যবধানে কুয়াকাটায় ৩ গুণ মৃত ডলফিন

কুয়াকাটা সৈকতে চলতি বছর ভেসেছে ২১টি মৃত ডলফিন। ছবি: নিউজবাংলা

কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটি জানায়, এ বছর মোট ২১টি মৃত ডলফিন কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এসেছে। ২০২০ সালে কুয়াকাটাসংলগ্ন উপকূলে ভেসে এসেছিল আটটি মৃত ডলফিন। সেগুলো মাটিচাপা দেয়া হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও উদ্ঘাটন করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

কুয়াকাটা সৈকতে চলতি বছরের ৯ মাসে ভেসে এসেছে ২১টি মৃত ডলফিন। গত বছরের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় তিন গুণ।

সামুদ্রিক পরিবেশের জন্যও উপকারী প্রাণীটির এমন মৃত্যু উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন পরিবেশবিদরা।

কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির সদস্য আবুল হোসেন রাজু জানান, বৃহস্পতিবার সকালে জোয়ারের পানিতে কুয়াকাটার গঙ্গামতি চরের তেত্রিশকানিসংলগ্ন সৈকতে একটি মৃত ডলফিন ভেসে আসে। প্রায় পাঁচ ফুট দৈর্ঘ্যের ডলফিনটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। স্থানীয় জেলেরা ডলফিনটি দেখে খবর দিলে কমিটির সদস্যরা গিয়ে ডলফিনটি মাটিচাপা দেন।

এ কমিটির আরেক সদস্য কে এম বাচ্চু জানান, গত ৯ সেপ্টেম্বর সকালে সৈকতের জিরো পয়েন্টসংলগ্ন সানসেট পয়েন্টে একটি মৃত ডলফিন ভেসে আসে। আগের দিন সকালে সৈকতের গঙ্গামতি এলাকায় ছয় ফুট দৈর্ঘে্যর আরেকটি মৃত ডলফিন পাওয়া যায়। একই দিন দুপুরে জিরো পয়েন্টের পশ্চিম পাশে মেলে আরেকটি মৃত ডলফিন।

তিনি আরও জানান, কমিটির সদস্যদের সহায়তায় ডলফিনগুলোকে উদ্ধার করে মাটিচাপা দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে এ বছর মোট ২১টি মৃত ডলফিন কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এলো।

এর আগে শুধু আগস্টে সৈকতে ভেসে আসে ১০টি মৃত ডলফিন। আর ২০২০ সালে কুয়াকাটাসংলগ্ন উপকূলে ভেসে এসেছিল আটটি মৃত ডলফিন। যেগুলো মাটিচাপা দেয়া হলেও মারা যাবার প্রকৃত কারণ এখনও উদ্ঘাটন করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

গত বছর মৃত ডলফিন ভেসে আসা নিয়ে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি পাঁচটি কারণ জানিয়েছিল। তার ভিত্তিতে কিছু সুপারিশও করেছিল। তবে তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

বছরের ব্যবধানে কুয়াকাটায় ৩ গুণ মৃত ডলফিন


এ ছাড়া ডলফিনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে বিস্তারিত পরীক্ষাও করা হয়নি। বরং ভেসে আসা ডলফিন থেকে নমুনা না নিয়েই তা মাটিচাপা দেয়া হয়। অবশ্য গত ৯ সেপ্টেম্বর ভেসে আসা ডলফিনের নমুনা নিয়ে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।

ডলফিনের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান না করেই মাটিচাপা দেয়ার বিষয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয়রাও। তারা জানান, ডলফিনগুলোর ময়নাতদন্ত করে মৃত্যুর কারণ জেনে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এসব মৃত ডলফিনের অধিকাংশেরই লেজ থাকে জালে প্যাঁচানো। আবার কিছু কিছু ডলফিনের মুখে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাওয়া যায়। তবে কিছু ডলফিন সৈকতে আসে অর্ধগলিত অবস্থায়। সেগুলোর শরীরে কিছু বোঝার উপায় থাকে না।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক বলেন, ‘কী কারণে ডলফিন মারা যাচ্ছে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে এগুলো সংরক্ষণ করে মৃত্যুর কারণ বের করতে মৎস্য ও বন বিভাগকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

‘ইতোমধ্যে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ওয়ার্ল্ডফিশের সহায়তায় মৎস্য ও বন বিভাগ মৃত ডলফিনগুলো পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানতে পেরেছি।’

কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘ডলফিনের মৃত্যুর কারণ তদন্তে যে ধরনের মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি ও লোকবল থাকা দরকার, তা মৎস্য অধিদপ্তরের নেই। এ কারণে এগুলো সংরক্ষণ করা সম্ভব হয় না। কোনো উপায় না থাকায় মৃত ডলফিনগুলো মাটিচাপা দিতে বলা হচ্ছে স্থানীয়দের।’


বছরের ব্যবধানে কুয়াকাটায় ৩ গুণ মৃত ডলফিন


তদন্ত প্রতিবেদনের বাস্তবায়ন নেই

গত বছর মৃত ডলফিন ভেসে আসার ঘটনায় জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত দল করেছিল। সেই তদন্ত দলে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।

সরেজমিন তদন্ত শেষে এই দলের দেয়া প্রতিবেদনে পাঁচটি কারণ বলা হয়। সেগুলো হলো, মাছ ধরার জাহাজগুলোর বেহুন্দি জালে আটকা পড়া, জাহাজের পাখার আঘাত পাওয়া, রাক্ষুসে সামুদ্রিক প্রাণীর আক্রমণ, সামুদ্রিক দূষণ এবং প্রাকৃতিক কারণ।

এই পাঁচটি কারণের মধ্যে সামুদ্রিক দূষণের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়, পানির ভৌত ও রাসায়নিক মান ভালো ও গ্রহণযোগ্য মাত্রায় রয়েছে। এ কারণে ডলফিনগুলো পানি দূষিত বা বিষক্রিয়ায় মারা যায়নি।

বাকি চারটি কারণের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে বেহুন্দি জালে আটকা পড়া এবং জাহাজের পাখায় আঘাত পাওয়া। গভীর সাগরে মাছ শিকারে পেতে রাখা বড় জালে এসব ডলফিন আটকে পড়ে মারা যেতে পারে অথবা সাগরে বড় বড় জাহাজের পাখনায় ধাক্কা খেয়েও মারা যেতে পারে।

কমিটির সুপারিশে এসব মৃত ডলফিনের ময়নাতদন্তের কথা উল্লেখ থাকলেও আজ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্লাহ জানান, ময়নাতদন্ত বন বিভাগ আর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের করার কথা। জেলা মৎস্য অফিসের পক্ষে এটা করা সম্ভব নয়। আমরা তাদের বলেছি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমাদের খুঁজে বের করা উচিত কেন এগুলো এভাবে মারা যাচ্ছে। তারপর ব্যবস্থা নিতে হবে।’

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ডলফিন মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও অজানা। মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনে মৃত ডলফিনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

খেপুপাড়া মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে কেউ ফোন ধরেননি।

বছরের ব্যবধানে কুয়াকাটায় ৩ গুণ মৃত ডলফিন


ডলফিন নিয়ে বিশেষজ্ঞের মতামত

মৎস্য অধিদপ্তর বরিশালের সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পের উপপরিচালক কামরুল ইসলাম জানান, ভেসে আসা এসব ডলফিন বঙ্গোপসাগরের অগভীর অঞ্চলে থাকে। ২০-২৫ মিনিট পরপর এরা অক্সিজেন নিতে পানির ওপরে আসে। তখনও এরা মূলত দুর্ঘটনার শিকার হয়।

তিনি আরও জানান, বঙ্গোপসাগরে দুই প্রজাতির ডলফিন পাওয়া যায়। একটি হলো বটল নোজ (বোতলের মতো মুখ) এবং আরেকটি হলো হাম্পব্যাক ডলফিন (পিঠের দিকটা সামান্য ভাঁজ ও কুঁজো)। কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে আসা মৃত ডলফিনগুলো হলো হাম্পব্যাক ডলফিন।

ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরের অগভীর অঞ্চলে এই প্রজাতির ডলফিন বেশি দেখা যায়। এর পিঠের অংশ সামান্য উঁচু, তাই একে কুঁজো ডলফিন বলা হয়। এর সামনের চোয়াল বেশ লম্বা এবং ৩০-৩৪টি দাঁতযুক্ত।

ইকোফিশ-২ প্রকল্পের সহকারী গবেষক সাগরিকা স্মৃতি জানান, মৃত ডলফিনের অন্ত্রের একটি অংশ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে এবং অপর একটি অংশ বন অধিদপ্তরের পরীক্ষাগারে পাঠানো হচ্ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডলফিনটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

বছরের ব্যবধানে কুয়াকাটায় ৩ গুণ মৃত ডলফিন

তিনি বলেন, ‘ডলফিনসহ এ অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় স্থানীয় জেলেদের ব্যাপক হারে সচেতন করাতে হবে। কারণ সাগরে মাছ শিকারের সময় জেলেরা এসব ডলফিনকে না বুঝে এবং ভয় ও আতঙ্কে আঘাত করতে পারেন। পাশাপাশি সাগরকে দূষণমুক্ত রাখতে হবে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সাজেদুল হক বলেন, ‘ডলফিন পরিবেশের জন্য অনেক উপকারী। এভাবে ডলফিনের মৃত্যু হতে থাকলে পরিবেশের ওপর এর খারাপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
সুন্দরবন বাঁচাতে প্রকল্প, দুর্নীতি ছাড়া বাস্তবায়নের আশা
বাঘের হামলা, নিহত দুই বনজীবীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ
সুন্দরবন বাড়াতে কৃত্রিম ম্যানগ্রোভের উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রী
সুন্দরবনে হরিণের মাংসসহ বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার
ইয়াস: জোয়ারে ভেসে এলো ৬টি হরিণ

শেয়ার করুন

৮০ বছর পর দেশে ফিরছে নীলগাই, দুই শাবকের জন্ম

৮০ বছর পর দেশে ফিরছে নীলগাই, দুই শাবকের জন্ম

গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে প্রথমবারের মতো দুটি নীলগাইয়ের শাবক জন্ম নিয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

সাফারি পার্ক সূত্রে জানা যায়, দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে এক সময় অবাধ বিচরণ ছিল নীলগাইয়ের। ১৯৪০ সালের আগ বাংলাদেশে নীলগাই দেখা যেত। বনাঞ্চল উজাড় হওয়া, বসবাসের পরিবেশ হারানো, খাদ্য সংকট ও অবাধে শিকারের কারণে পরিবেশে প্রাণীটির সংখ্যা কমতে থেকে এক সময় নীলগাইয়ের নাম ওঠে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর তালিকায়।

গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে প্রথমবারের মতো দুটি নীলগাইয়ের শাবক জন্ম নিয়েছে।

গত ১ আগস্ট শাবক দুটির জন্ম হয় বলে শুক্রবার সংবাদমাধ্যমকে জানায় সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ।

এই দুই শাবকের জন্মের পর প্রায় ৮০ বছর আগে বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্তপ্রায় নীলগাইয়ের আবার প্রকৃতিতে ফিরে আসার সম্ভাবনা দেখছে সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ।

সাফারি পার্ক সূত্রে জানা যায়, দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে এক সময় অবাধ বিচরণ ছিল নীলগাইয়ের। ১৯৪০ সালের আগ বাংলাদেশে নীলগাই দেখা যেত। বনাঞ্চল উজাড় হওয়া, বসবাসের পরিবেশ হারানো, খাদ্য সংকট ও অবাধে শিকারের কারণে পরিবেশে প্রাণীটির সংখ্যা কমতে থেকে এক সময় নীলগাইয়ের নাম ওঠে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর তালিকায়।

পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, এই দুটি নীলগাই শাবক মিলিয়ে বাংলাদেশে নীলগাইয়ের সংখ্যা চারটি। সাফারি পার্কের বাইরে দেশে আর কোথাও এ প্রাণী এখন নেই।

পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক তবিবুর রহমান জানান, ২০১৯ সালের ২২ জানুয়ারি নওগাঁর মান্দা উপজেলার জোতবাজার এলাকায় একটি নীলগাইকে ধরে এলাকাবাসী। এটিকে জবাই করার প্রস্তুতি নিলে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় রাজশাহীর বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ পুরুষ নীলগাইটি উদ্ধার করে। চিকিৎসা শেষে ওই বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুরের রামসাগর জাতীয় উদ্যানে নীলগাইটিকে স্থানান্তর করা হয়।

অন্যদিকে, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা গ্রামের মামুদপুর-ঠুঠাপাড়া বর্ডার এলাকার বাসিন্দারা একটি নীলগাই দেখতে পায়। তারা এটিকে ধরে জবাই করার প্রস্তুতি নিলে বিজিবি-৫৩-এর (মামুদপুর বিওপির) সদস্যরা ওই মাদী নীলগাইকে উদ্ধার করে রাজশাহীর বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে। পরে এটিকে সাফারি পার্কে আনা হয়।

এরপর দিনাজপুরের রামসাগর জাতীয় উদ্যান থেকে পুরুষ নীলগাইটিকে প্রজননের জন্য সাফারী পার্কে আনা হয় বলেও জানান পার্কের এই কর্মকর্তা।

পার্কের ওয়াইল্ডলাইফ সুপারভাইজার সারোয়ার হোসেন খান জানান, হেমন্ত থেকে শীতকালের শুরু পর্যন্ত নীলগাইয়ের প্রজনন সময়। এর গর্ভধারণ কাল গড়ে ২৪৩ দিন এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে নীলগাই যমজ বাচ্চা প্রসব করে। ক্ষেত্র বিশেষে একটি থেকে তিনটি শাবকও প্রসব করে থাকে।

জন্মের ৪০ মিনিটের ভেতর দাঁড়াতে পারে এরা। পুরুষ নীলগাই তিন বছর এবং মাদী নীলগাই দুই বছরের মধ্যে প্রজননক্ষম হয়ে ওঠে। এই প্রাণীর গড় আয়ু ২১ বছর।

পুরুষ নীলগাইয়ের বর্ণ গাঢ় ধূসর, অনেকটা কালচে রঙের। অনেক সময় নীলচে আভা দেখা যায় বলে এদের নীলগাই নামকরণ হয়েছে। শুধুমাত্র পুরুষ নীলগাইয়ের দুটি কৌণিক, মসৃণ ও সামনের দিকে কিঞ্চিত বাকানো শিং থাকে। এদের দৈর্ঘ্য ৫২-৫৮ইঞ্চি, শিংয়ের দৈর্ঘ্য ৮-১২ইঞ্চি।

মাদী নীলগাই এবং শাবকের রং লালচে বাদামী, তবে খুরের ওপরের লোম সাদা। ঠোঁট, থুতনি, কানের ভেতরের দিক ও লেজের নীচের অংশ সাদা।

নীলগাই ছোট ছোট পাহাড় আর ঝোপ-জঙ্গলপূর্ণ মাঠে চরে বেড়াতে পছন্দ করে। ঘন বন এরা এড়িয়ে চলে। ৪-১০ সদস্যের দল নিয়ে এরা ঘুরে বেড়ায়। তবে দলে কখনও কখনও ২০ বা তার বেশি সদস্যও থাকতে পারে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কের প্রকল্প পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী বলেন, ‘উদ্ধার করা নীলগাই দুটি ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে বলে আমাদের ধারণা। এরা জুটি বাঁধার ১১ মাস ১১ দিন পর ১ আগস্ট দুটি ফুটফুটে বাচ্চা জন্ম দেয়। বর্তমানে শাবক দুটি সুস্থ আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ নীলগাই শূন্য হলেও ভারতে লাখের ওপর নীলগাই রয়েছে। আমরা আশা করছি দেশের বিলুপ্ত প্রায় প্রাণীর তালিকায় থাকা নীলগাই গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কের মাধ্যমে আবারও প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরে আসবে।’

আরও পড়ুন:
সুন্দরবন বাঁচাতে প্রকল্প, দুর্নীতি ছাড়া বাস্তবায়নের আশা
বাঘের হামলা, নিহত দুই বনজীবীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ
সুন্দরবন বাড়াতে কৃত্রিম ম্যানগ্রোভের উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রী
সুন্দরবনে হরিণের মাংসসহ বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার
ইয়াস: জোয়ারে ভেসে এলো ৬টি হরিণ

শেয়ার করুন

টেকসই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে প্রধামন্ত্রীর ছয় দফা

টেকসই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে প্রধামন্ত্রীর ছয় দফা

শনিবার ‘মেজর ইকোনমিজ ফোরাম অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লাইমেট’ শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ওয়াশিংটন ডিসিতে জলবায়ুবিষয়ক এক শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, বন্যা ও খরার প্রভাব ছাড়াও ১১ লাখ রোহিঙ্গা জোরপূর্বক মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়ার কারণে বাংলাদেশ গুরুতর জলবায়ু প্রভাবের সম্মুখীন হচ্ছে।’

আগামী প্রজন্মের জন্য টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে বিশ্বের প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ লক্ষ্যে ছয় দফা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রেখেছেন সরকারপ্রধান।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ডাকা ‘মেজর ইকোনমিজ ফোরাম অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লাইমেট’ শিরোনামে শীর্ষ সম্মেলনে শনিবার দেয়া ভাষণে এ প্রস্তাব রাখেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর রাখা প্রস্তাবগুলোর মধ্যে আছে:

১. প্রধান কার্বন নির্গমনকারী দেশগুলোকে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখার লক্ষ্যে তাদের কার্বন নির্গমন হ্রাস করার জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে।

২. জলবায়ু তহবিলের জন্য উন্নত দেশগুলোর বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলারের অঙ্গীকার পূরণ করতে হবে এবং অভিযোজন ও প্রশমনের মধ্যে ৫০:৫০ বিতরণ করতে হবে।

৩. উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রযুক্তি হস্তান্তরের পাশাপাশি সবচেয়ে কার্যকর জ্বালানি সমাধান নিয়ে উন্নত দেশগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।

৪. নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে উত্তরণের ক্ষেত্রে জাতি-রাষ্ট্রগুলোর সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন অগ্রাধিকারগুলোর হিসাব নেয়া এবং তাদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে লোকসান ও ক্ষতির বিষয়গুলো বিবেচনা করা উচিত।

৫. সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, বন্যা ও খরার কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব সব দেশের ভাগ করে নেয়া দরকার।

৬. পরবর্তী প্রজন্মের জন্য টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোকে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে বিশ্বব্যাপী সব অংশীজনের সঙ্গে কাজ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী নভেম্বরে গ্লাসগোতে অনুষ্ঠেয় কপ২৬ সম্মেলনে দৃঢ় ও তাৎপর্যপূর্ণ ফলাফল কামনা করেন এবং এ লক্ষ্যে সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার জন্য বিশ্বের প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, বন্যা ও খরার প্রভাব ছাড়াও ১১ লাখ রোহিঙ্গা জোরপূর্বক মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়ার কারণে বাংলাদেশ গুরুতর জলবায়ু প্রভাবের সম্মুখীন হচ্ছে।’

জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন ও প্রশমন প্রচেষ্টায় তার সরকার অগ্রণী হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ সম্প্রতি একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও হালনাগাদ করা এনডিসি জমা দিয়েছে।’

বাংলাদেশ বিশ্বের সর্বাধিক বিস্তৃত অভ্যন্তরীণ সৌরশক্তি কর্মসূচি গ্রহণ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে, যা জলবায়ু ঝুঁকি থেকে জলবায়ু সহিষ্ণুতা এবং তা থেকে জলবায়ু সমৃদ্ধি পর্যন্ত একটি যাত্রা।”

জলবায়ু ঝুঁকি ফোরাম (সিভিএফ) এবং ভি-২০-এর সভাপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর স্বার্থ তুলে ধরা।’

তিনি আরও বলেন, ঢাকায় গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপ্টেশনের দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমেও বাংলাদেশ সেরা অনুশীলন ভাগ করে নেয়।

আরও পড়ুন:
সুন্দরবন বাঁচাতে প্রকল্প, দুর্নীতি ছাড়া বাস্তবায়নের আশা
বাঘের হামলা, নিহত দুই বনজীবীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ
সুন্দরবন বাড়াতে কৃত্রিম ম্যানগ্রোভের উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রী
সুন্দরবনে হরিণের মাংসসহ বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার
ইয়াস: জোয়ারে ভেসে এলো ৬টি হরিণ

শেয়ার করুন

‘সিআরবি রক্ষা করতে হবে চট্টগ্রামের স্বার্থে’

‘সিআরবি রক্ষা করতে হবে চট্টগ্রামের স্বার্থে’

সমাবেশে নাগরিক সমাজ চট্টগ্রামের কো-চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান বলেন, ‘সিআরবি চট্টগ্রামের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট করে কোনো উন্নয়ন হতে পারে না। সিআরবি রক্ষা করতে হবে চট্টগ্রামের স্বার্থে।’

চট্টগ্রামের সিআরবি রক্ষার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি ও সমাবেশ করেছেন সর্বস্তরের নাগরিকরা।

ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে শুক্রবার বিকেলে আন্দোলনকারী সংগঠন নাগরিক সমাজের আয়োজনে কর্মসূচি পালন হয়।

সমাবেশে নাগরিক সমাজ চট্টগ্রামের কো-চেয়ারম্যান ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, ‘সিআরবি চট্টগ্রামের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট করে কোনো উন্নয়ন হতে পারে না। সিআরবি রক্ষা করতে হবে চট্টগ্রামের স্বার্থে।’

তিনি আর বলেন, ‘সিআরবি রক্ষার আন্দোলন পরিবেশ রক্ষার মানবিক আন্দোলন। পরিবেশর রক্ষা হলে মানুষ বাঁচবে। মানুষের প্রতি, দেশের প্রতি যাদের দায়বদ্ধতা নেই, তারাই সিআরবিতে হাসপাতাল চায়। যে কোন মূল্যে সিআরবি রক্ষা করা হবে।’

নাগরিক সমাজ চট্টগ্রামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন।

উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউনুস, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহাজাহান চৌধুরী, ঋত্বিক নয়ন, আবৃত্তি শিল্পী প্রনব চৌধুরী, সাবেক ছাত্র নেতা আরফাতুল রহমান ঝিনুক,তাপস দেসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
সুন্দরবন বাঁচাতে প্রকল্প, দুর্নীতি ছাড়া বাস্তবায়নের আশা
বাঘের হামলা, নিহত দুই বনজীবীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ
সুন্দরবন বাড়াতে কৃত্রিম ম্যানগ্রোভের উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রী
সুন্দরবনে হরিণের মাংসসহ বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার
ইয়াস: জোয়ারে ভেসে এলো ৬টি হরিণ

শেয়ার করুন

আগুন থেকে বাঁচতে কম্বল গায়ে বিশ্বের বৃহত্তম গাছ

আগুন থেকে বাঁচতে কম্বল গায়ে বিশ্বের বৃহত্তম গাছ

আগুন প্রতিরোধী কম্বলে মোড়ানো বিশ্বের বৃহত্তম গাছ জেনারেল শারম্যানের গোড়া। ছবি: ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস

জেনারেল শারম্যানসহ বেশ কয়েকটি গাছকে আগুনের তাপ থেকে বাঁচাতে গাছের গোড়ায় মুড়ে দেয়া হয়েছে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল। আড়াই হাজার বছরের পুরোনো গাছটির উচ্চতা ২৭৫ ফুট। আয়তনের দিক থেকেও পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জীবন্ত এক শাখার গাছ এটি।

যুক্তরাষ্ট্রে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চল পুড়ছে দাবানলে। বিশ্বের প্রাচীনতম ও সর্ববৃহৎ কয়েকটি গাছের আবাস ক্যালিফোর্নিয়ার বিখ্যাত সেকোয়া ন্যাশনাল পার্ক। ধেয়ে আসা আগুন থেকে বাঁচাতে গাছগুলোকে মুড়ে দেয়া হচ্ছে আগুন প্রতিরোধী কম্বল দিয়ে।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, পরবর্তী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিশাল বনাঞ্চলটিতে দাবানল পৌঁছে যেতে পারে বলে ধারণা করছে স্থানীয় প্রশাসন। আগুন নিয়ন্ত্রণে ৩৫০ জনের বেশি ফায়ার সার্ভিসকর্মীর পাশাপাশি কাজ করছে কয়েকটি হেলিকপ্টার আর জলবোমা ছোড়া বিমান।

বনটিতে প্রায় দুই হাজার সুউচ্চ সেকোয়া গাছ রয়েছে। সবচেয়ে উঁচু সেকোয়া গাছটির নাম জেনারেল শারম্যান। আড়াই হাজার বছরের পুরোনো গাছটির উচ্চতা ২৭৫ ফুট। আয়তনের দিক থেকেও পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জীবন্ত এক শাখার গাছ এটি।

জেনারেল শারম্যানসহ বেশ কয়েকটি গাছকে আগুনের তাপ থেকে বাঁচাতে গাছের গোড়ায় মুড়ে দেয়া হয়েছে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল।

সেকোয়া ও কিংস ক্যানিয়ন ন্যাশনাল পার্কসের মুখপাত্র রেবেকা প্যাটারসন বলেন, ‘অনেক মানুষের কাছে এই এলাকাটি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। এই বনাঞ্চলকে বাঁচাতে সবাই যার যার সাধ্যমতো কাজ করছেন।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেকোয়া গাছ প্রাকৃতিকভাবে অগ্নিপ্রতিরোধী এবং আগুনের তাপ সহ্য করে বেঁচে থাকতে বিবর্তনের মধ্য দিয়েও গেছে এসব গাছ।

বজ্রপাতের কারণে এক সপ্তাহ ধরে কলোনি ও প্যারাডাইজ এলাকায় আগুনের তীব্রতা ক্রমশ বেড়ে চলছে।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত সাড়ে সাত হাজার দাবানল হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ায়। পুড়েছে ২২ লাখ একরের বেশি বনভূমি।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপমাত্রা বেড়ে চলা ও খরা পরিস্থিতির কারণে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে অঞ্চলটিতে। প্রতি বছরই আগের চেয়ে বেশি শুষ্ক ও গরম আবহাওয়া দেখা যাচ্ছে সেখানে, যার ফলে বাড়ছে দাবানলের সংখ্যাও।

আরও পড়ুন:
সুন্দরবন বাঁচাতে প্রকল্প, দুর্নীতি ছাড়া বাস্তবায়নের আশা
বাঘের হামলা, নিহত দুই বনজীবীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ
সুন্দরবন বাড়াতে কৃত্রিম ম্যানগ্রোভের উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রী
সুন্দরবনে হরিণের মাংসসহ বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার
ইয়াস: জোয়ারে ভেসে এলো ৬টি হরিণ

শেয়ার করুন

সুন্দরবনে কাঁকড়া পরিবহনে আর বাধা নেই

সুন্দরবনে কাঁকড়া পরিবহনে আর বাধা নেই

সুন্দরবন। ফাইল ছবি

আদেশে আদালত বলেছে, এই রায় অপব্যবহার করে কেউ যাতে ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ঢুকতে না পারে, সে জন্য নির্দেশনা থাকবে। এ আদেশের ফলে সরকারের নির্ধারিত রুটে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বাইরে থেকে কাঁকড়া সংগ্রহ করে তা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে খুলনায় আনা যাবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।

সুন্দরবনের দুবলার চর এবং ওই এলাকা থেকে খুলনা পর্যন্ত সরকারঘোষিত রুটে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় কাঁকড়া পরিবহনে বন অধিদপ্তরের তথা সরকারের নিষেধাজ্ঞা অবৈধ বলে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট।

আদেশে আদালত বলেছে, এই রায় অপব্যবহার করে কেউ যাতে ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ঢুকতে না পারে, সে জন্য নির্দেশনা থাকবে।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ পর্যবেক্ষণসহ এ রায় দেয়। জাহান আলী গাজীসহ ৮ জনের রিটের শুনানি নিয়ে জারি করা রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে এ রায় দেয় আদালত।

এ আদেশের ফলে সরকারের নির্ধারিত রুটে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বাইরে থেকে কাঁকড়া সংগ্রহ করে তা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে খুলনায় আনা যাবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট চঞ্চল কুমার বিশ্বাস ও অ্যাডভোকেট আল ফয়সাল সিদ্দিকী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

আইনজীবী অ্যাডভোকেট আল ফয়সাল সিদ্দিকী বলেন, নিবন্ধিত ট্রলারে পশুর নদী ব্যবহার করে দুবলার চর থেকে সব ধরনের মাছ পরিবহনের অনুমতি আছে বন বিভাগের। তবে কাঁকড়া বহনের অনুমতি দেওয়া হচ্ছিল না। ফলে কাঁকড়া ধরার পর খুলনা আনতে দেরি হওয়ায় অনেক কাঁকড়া মারা যেত।

এ অবস্থায় অন্যদের মতো ইঞ্জিনচালিত নৌকায় কাঁকড়া পরিবহনের অনুমতি চেয়ে ২০১৮ সালের ১২ আগস্ট প্রধান বন সংরক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে আবেদন করেন দাকোপ ও বটিয়াঘাটাসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার কাঁকড়া আহরণকারী জেলেরা।

কিন্তু বন বিভাগ ওই আবেদনে সাড়া না দেওয়ায় জেলেরা ওই বছরই হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। হাইকোর্ট ৩০ দিনের মধ্যে ওই আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়।

এরপর বন বিভাগ থেকে ওই বছরের ৫ ডিসেম্বর আবেদনকারীদের জানায় যে কাঁকড়া পরিবহনের অনুমতি দেয়া হবে না। এরপর বন বিভাগের ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ২০১৯ সালে রিট আবেদন করেন। হাইকোর্ট রুল জারি করে। এই রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে এ রায় দেয় হাইকোর্ট।

আরও পড়ুন:
সুন্দরবন বাঁচাতে প্রকল্প, দুর্নীতি ছাড়া বাস্তবায়নের আশা
বাঘের হামলা, নিহত দুই বনজীবীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ
সুন্দরবন বাড়াতে কৃত্রিম ম্যানগ্রোভের উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রী
সুন্দরবনে হরিণের মাংসসহ বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার
ইয়াস: জোয়ারে ভেসে এলো ৬টি হরিণ

শেয়ার করুন

জলবায়ু বান্ধব এসি তৈরি হচ্ছে দেশে: পরিবেশমন্ত্রী

জলবায়ু বান্ধব এসি তৈরি হচ্ছে দেশে: পরিবেশমন্ত্রী

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন

পরিবেশমন্ত্রী জানান, ওজোনস্তর সুরক্ষায় চালু হওয়া হাইড্রোক্লোরোফ্লোরোকার্বন ফেজ আউট ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান স্টেজ-২ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশে উৎপাদিত এয়ারকুলার বিদেশে রপ্তানির দ্বার উন্মুক্ত হবে।

দেশে জলবায়ুবান্ধব শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। সরকারের চালু করা হাইড্রোক্লোরোফ্লোরোকার্বন ফেজ আউট ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান স্টেজ-২ এর আওতায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার বিশ্ব ওজোন দিবস উপলক্ষে পরিবেশ অধিদপ্তরে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। ‘মন্ট্রিল প্রটোকল মেনে ওজোনস্তর রক্ষা করি, নিরাপদ খাদ্য ও প্রতিষেধকের শীতল বিশ্ব গড়ি’ প্রতিপাদ্যে দিনটি উদযাপিত হচ্ছে।

এ সময় পরিবেশমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘ওজোনস্তর সুরক্ষায় বাংলাদেশে চালু হওয়া হাইড্রোক্লোরোফ্লোরোকার্বন ফেজ আউট ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান স্টেজ-২ এ জলবায়ু বান্ধব বিকল্প প্রযুক্তিকে উৎসাহিত করা হয়েছে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশে উৎপাদিত এয়ারকুলার বিদেশে রপ্তানির দ্বার উন্মুক্ত হবে।

‘এ লক্ষ্যে সরকার রেফ্রিজারেশন ও এয়ারকন্ডিশনিং পণ্য উৎপাদকদের জন্য ট্যাক্স ও ভ্যাট প্রদানের ক্ষেত্রে বিশেষ সুযোগ প্রদান করছে। সরকার রপ্তানি উন্নয়নের লক্ষ্যে তৈরী পোশাক শিল্পের পর অন্যতম সেক্টর হিসেবে রেফ্রিজারেশনকে এগিয়ে নিচ্ছে। রূপান্তরিত এসিগুলো বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হলে দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানির সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ওজোনস্তর রক্ষায় গৃহীত ভিয়েনা কনভেনশন এবং মন্ট্রিল প্রটোকলের সফলতার এক গর্বিত অংশীদার। চলমান মহামারি মোকাবিলায় খাদ্য ও টিকা সংরক্ষণে রেফ্রিজারেশন পদ্ধতি যুগোপযোগি ও পরিবেশবান্ধব করার ক্ষেত্রে মন্ট্রিল প্রটোকলের ভূমিকা প্রশংসনীয়।

‘বাংলাদেশ মন্ট্রিল প্রটোকল বাস্তবায়নের সকল ধাপ যথাসময়ে সঠিকভাবে অতিক্রম করেছে এবং প্রটোকলের বাধ্যবাধকতা প্রতিপালন করছে।

হাইড্রোক্লোরোফ্লোরোকার্বন এর ওজোনস্তর ক্ষয়ের সক্ষমতা অত্যন্ত কম হলেও এর বৈশ্বিক উষ্ণতা সৃষ্টির ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি। তাই বর্তমানে এয়ারকন্ডিশনার, অগ্নি নির্বাপন ও ফোম সেক্টরে ব্যবহৃত এইচসিএফসি ফেজ আউট করার কাজ চলছে।’

পরিবেশমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘২০১৬ সালে কিগালি সংশোধনীর মাধ্যমে শুধু ওজোনস্তর রক্ষাকল্পেই নয়, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায়ও মন্ট্রিল প্রটোকল একইভাবে সাফল্য লাভ করবে। মন্ট্রিল প্রটোকল অত্যন্ত সফলভাবে বাস্তবায়নের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১২ এবং ২০১৭ সালে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্তৃক বাংলাদেশ প্রশংসিত ও পুরস্কৃত হয়েছে।

‘এ ছাড়া ওজোনস্তর ক্ষয়কারী দ্রব্যের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও আমদানি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশন, জাতিসংঘ পরিবেশ এবং ওজোন সেক্রেটারিয়েট ২০১৯ সালে পরিবেশ অধিদপ্তর- কে পুরস্কৃত করে।’

অনুষ্ঠানে ইনোভেশন পুরস্কার ২০২০, জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার ২০২০ এবং পরিবেশ অলিম্পিয়াড পুরস্কার ২০২১ প্রদান করেন পরিবেশমন্ত্রী।

আরও পড়ুন:
সুন্দরবন বাঁচাতে প্রকল্প, দুর্নীতি ছাড়া বাস্তবায়নের আশা
বাঘের হামলা, নিহত দুই বনজীবীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ
সুন্দরবন বাড়াতে কৃত্রিম ম্যানগ্রোভের উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রী
সুন্দরবনে হরিণের মাংসসহ বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার
ইয়াস: জোয়ারে ভেসে এলো ৬টি হরিণ

শেয়ার করুন