গ্রিনল্যান্ডের বরফের চূড়ায় প্রথম বৃষ্টির পরশ

গ্রিনল্যান্ডের বরফের চূড়ায় প্রথম বৃষ্টির পরশ

গ্রিনল্যান্ডের সব বরফ গলে গেলে সারা পৃথিবীতে সমুদ্রের উচ্চতা বাড়বে প্রায় ছয় মিটার। ছবি: এএফপি

বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাবে এ বৃষ্টি, যা উদ্বেগজনক বলে মত বিজ্ঞানীদের। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে গত ১২ হাজার বছরের মধ্যে এখনই সবচেয়ে দ্রুতগতিতে গলছে গ্রিনল্যান্ডের বরফ। ২০১৯ সালে প্রতি মিনিটে অঞ্চলটি প্রায় ১০ লাখ টন বরফ হারিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

ইতিহাসে প্রথমবার বৃষ্টি পড়েছে বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের ‘আইস ক্যাপ’, বা বরফের চূড়ায়।

আর্কটিক ও আটলান্টিকের মাঝামাঝিতে অবস্থিত গ্রিনল্যান্ড। সেখানকার তিন হাজার ২১৬ মিটার বা ১০ হাজার ৫৫১ ফুট উচ্চতার পর্বতটিতে তাপমাত্রা সাধারণত হিমাঙ্কের নিচে থাকে।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, অঞ্চলটিতে আকস্মিক স্বভাববিরুদ্ধ এ আবহাওয়া জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাবের নতুন সতর্কবার্তা।

ইউএস ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের সামিট স্টেশন জানায়, গত ১৪ আগস্ট গ্রিনল্যান্ডের বরফে ঢাকা চূড়ায় বৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু বৃষ্টিপাতের পরিমাণ জানা যায়নি।

অঞ্চলটিতে বৃষ্টিপাত অপ্রত্যাশিত বলে প্রস্তুতি না থাকায় আকস্মিক ওই বৃষ্টি রেকর্ড করা যায়নি বলে জানান বিজ্ঞানীরা।

তবে সে সময় গ্রিনল্যান্ডজুড়ে মেঘ থেকে ৭০০ কোটি টন পানি নিঃসরণ হয়েছে বলে জানা গেছে।

গ্রিনল্যান্ডে অস্বাভাবিক গরমের তিন দিনে হয় ওই বৃষ্টি। সে সময় অঞ্চলটির তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। এর ফলে দ্বীপের বড় অংশে বরফ গলতে দেখা গেছে সে সময়।

যুক্তরাজ্যের আয়তনের প্রায় চার গুণ গ্রিনল্যান্ডের আয়তন।

বিজ্ঞানীদের মতে, মানবসৃষ্ট কারণে কার্বন নিঃসরণ বেড়ে চলায় পৃথিবী উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এর প্রভাবে গলছে বরফ, বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা।

১৯৯৪ সাল থেকে গ্রিনল্যান্ডের কয়েক ট্রিলিয়ন টন বরফ গলে গিয়ে বেড়েছে সমুদ্রের উচ্চতা; ঝুঁকির মুখে ফেলেছে সারা বিশ্বের সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলের কোটি মানুষকে।

এরই মধ্যে সমুদ্রের উচ্চতা ২০ সেন্টিমিটার বেড়েছে এবং চলতি শতকের শেষ নাগাদ উচ্চতা বাড়তে পারে আরও ২৮ থেকে ১০০, এমনকি ২০০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত।

গ্রিনল্যান্ডের সব বরফ গলে গেলে সারা পৃথিবীতে সমুদ্রের উচ্চতা বাড়বে প্রায় ছয় মিটার। ‌তবে এমনটা ঘটতে কয়েক শ, এমনকি হাজার বছরও সময় লেগে যেতে পারে।

গত ১২ হাজার বছরের মধ্যে এখনই সবচেয়ে দ্রুতগতিতে গলছে গ্রিনল্যান্ডের বরফ। ২০১৯ সালে প্রতি মিনিটে অঞ্চলটি প্রায় ১০ লাখ টন বরফ হারিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

আরও পড়ুন:
তুরস্কে বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৭০
তুরস্কে আকস্মিক বন্যায় প্রাণ গেল ৩৮ জনের
ভয়াবহতম বন্যার মাস পেরোতেই নতুন বিপর্যয়ে চীন
আলজেরিয়ায় দাবানলে প্রাণহানি বেড়ে ৬৫
চীনে বন্যায় প্রাণহানি ৩ গুণ বেড়ে ৩০২

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নদী বাঁচানোর দাবিতে ‘নদী পরিভ্রমণ’

নদী বাঁচানোর দাবিতে ‘নদী পরিভ্রমণ’

মানুষ বাচাঁতে ও পরিবেশ-প্রতিবেশ ঠিক রাখতে এখনই নদীগুলোকে বাঁচানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ শাখা। ছবি: নিউজবাংলা

বাপার হবিগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, ‘নদীগুলো আজ নানামুখী অত্যাচারের চরম বিপর্যযের শিকার হচ্ছে। নদী নিয়ে ব্যবসা করা হচ্ছে। নদী দখল ও হত্যা করে আর্থিক ফায়দা লুটছে একশ্রেণির ক্ষতিকর মানুষ। নদীর উপর স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। যে কারণে নদী আজ মহাসঙ্কটাপন্ন।’

দখল-দূষণসহ নানা কারণে হবিগঞ্জ অধিকাংশ নদীই এখন বিলিন হয়ে গেছে। অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে জেলার সবগুলো বড় নদী। তাই মানুষ বাচাঁতে ও পরিবেশ-প্রতিবেশ ঠিক রাখতে এখনই নদীগুলোকে বাঁচানোর দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদিরা।

রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) ‘বিশ্ব নদী দিবস’। এবার নদী দিবসের প্রতিপাদ্য ‘মানুষের জন্য নদী’।

এ উপলক্ষে শনিবার হবিগঞ্জের খোয়াই নদীতে ‘নদী পরিভ্রমণ’ কর্মসূচি পালন করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ শাখা ও খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার।

এ সময় সংক্ষিপ্ত এক পথসভায় বক্তারা বলেন, বহু বছর ধরেই খোয়াই নদীর নাব্যতার ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। খোয়াই নদী খনন না হওয়াতে নদীর তলায় পলি ও বালি জমে স্থানে স্থানে চড়া পরেছে। নদীর তলদেশ শহর থেকে ১২ থেকে ১৫ ফুট উঁচু হয়ে উঠেছে। যে কারণে নদীকে শহর থেকে অন্তত ১০ ফুট গভীরে নিতে দ্রুত খনন করতে হবে।

তারা অভিযোগ করেন, খোয়াই নদী থেকে যন্ত্র দ্বারা অপরিকল্পিত-অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের কারণে নদী সংকটাপন্ন অবস্থায় আছে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পরেছে নদীর বিভিন্ন স্থানের বাঁধ। নদীতে বর্জ্য ফেলার কারণে দুষিত হচ্ছে পানি। অবৈধভাবে মাটি-বালু উত্তোলন বন্ধ না করলে পরিবেশ আরও বিপর্যয়ের মূখে পড়বে।

নদী বাঁচানোর দাবিতে ‘নদী পরিভ্রমণ’

বাপার হবিগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, ‘নদীগুলো আজ নানামুখী অত্যাচারের চরম বিপর্যযের শিকার হচ্ছে। নদী নিয়ে ব্যবসা করা হচ্ছে। নদী দখল ও হত্যা করে আর্থিক ফায়দা লুটছে একশ্রেণির ক্ষতিকর মানুষ। নদীর উপর স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। যে কারণে নদী আজ মহাসঙ্কটাপন্ন।’

মুক্তিযুদ্ধা মোহাম্মদ আলী মুমিন বলেন, ‘আমরা যখন নৌকা পরিভ্রমণে গিয়েছি। তখন খোয়াই মুখ থেকে মশাজান পর্যন্ত নদীতে অগণিত ড্রেজার মেশিন চোখে পরেছে। অবৈধ বালু, মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে।

‘এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে নদী, তীরবর্তী বাড়িঘর-রাস্তাঘাট ও পরিবেশের। দ্রুত এসব বন্ধ না করলে খোয়াই নদী খুব শিগগিরই বিলিন হয়ে যাবে। তখন কৃষিজমিতে সেচ ব্যহতসহ বিভিন্ন বিপর্য নেমে আসবে জেলাজুড়ে।’

কর্মসূচিতে আরও অংশ নেন বিশিষ্ট রাজনীতিক ও সাবেক জনপ্রতিনিধি হাবিবুর রহমান, বিজন বিহারী দাস, চিকিৎসক ও পরিবেশকর্মী এসএস আল-আমীন সুমন, আফরোজা ছিদ্দিকা, তারুণ্য সোসাইটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম।

আরও পড়ুন:
তুরস্কে বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৭০
তুরস্কে আকস্মিক বন্যায় প্রাণ গেল ৩৮ জনের
ভয়াবহতম বন্যার মাস পেরোতেই নতুন বিপর্যয়ে চীন
আলজেরিয়ায় দাবানলে প্রাণহানি বেড়ে ৬৫
চীনে বন্যায় প্রাণহানি ৩ গুণ বেড়ে ৩০২

শেয়ার করুন

জলবায়ু শরণার্থীদের টেকসই পুনর্বাসনের দাবি

জলবায়ু শরণার্থীদের টেকসই পুনর্বাসনের দাবি

ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ চেঞ্জ মেকার ও সেভ ফিউচার বাংলাদেশ নামে ২টি পরিবেশবাদী সংগঠন এ মানববন্ধনের আয়োজন করে। ছবি: নিউজবাংলা

মানববন্ধনে ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ চেঞ্জমেকার সংগঠনের ঢাকা জেলার সভাপতি সাদিয়া আফরোজ বলেন, ‘একটি দেশ বা অঞ্চলের আবহাওয়া ও জলবায়ু সেখানে মানুষের জীবিকা, জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির ওপর প্রভাব রাখে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ বর্তমানে জনজীবন ও প্রাণীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।’

জলবায়ু পরিবর্তনে দায় না থাকলেও এর প্রভাবে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ। এর নেতিবাচক প্রভাবে অনেকেই শরণার্থীতে পরিণত হচ্ছে।

তাদের টেকসই পুনর্বাসনসহ জীবনমান উন্নয়নে বেশকিছু দাবি করেছেন পরিবেশবাদীরা।

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে এ দাবি করা হয়। ‘ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ চেঞ্জমেকার’ ও ‘সেভ ফিউচার বাংলাদেশ’ নামে দুটি পরিবেশবাদী সংগঠন এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।

জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় গণজাগরণ তৈরি করতে ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী ‘গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক’ কর্মসূচি উপলক্ষে এ মানববন্ধন করা হয়।

মানববন্ধনে ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ চেঞ্জমেকার সংগঠনের ঢাকা জেলার সভাপতি সাদিয়া আফরোজ বলেন, ‘একটি দেশ বা অঞ্চলের আবহাওয়া ও জলবায়ু সেখানে মানুষের জীবিকা, জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির ওপর প্রভাব রাখে।

‘বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ প্রকৃতির বিভিন্ন অসামঞ্জস্যতা জনজীবন ও প্রাণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী এখন বিলুপ্তির পথে।’

‘সেভ ফিউচার বাংলাদেশ’-এর সমন্বয়ক নয়ন সরকার বলেন, ১৬ কোটি মানুষের বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। আমাদের জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ শিশু। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের কারণে শিশুরা অনিরাপদ ও অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে।’

তিনি বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে হিমালয়ের বরফ গলতে থাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। এতে ঘূর্ণিঝড়, খরা, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা ও মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধির মতো দুর্যোগও বাড়ছে।

বিভিন্ন গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, সমুদ্রের উচ্চতা এক মিটার বাড়লে বাংলাদেশের ২০ শতাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে ২০৫০ সালের মধ্যে ২ কোটিরও বেশি মানুষ জলবায়ু উদ্বাস্তু হতে পারে।

মানববন্ধনে অন্য বক্তারা বলেন, খুব দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই সবাইকে সচেতন হতে হবে। পরিবেশবান্ধব পণ্য ও যন্ত্রাংশ ব্যবহারের দিকে নজর দিতে হবে।

মানববন্ধনে সরকারের কাছে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো,

. জলবায়ু শরণার্থীদের টেকসই পুর্নবাসন করতে হবে।

. উপকূল এলাকাজুড়ে টেকসই ব্লক ও বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। ... স্থায়ীভাবে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে হবে।

. উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে হবে।

. এ ছাড়া দেশের পাহাড়, বনাঞ্চল, গাছপালা, বন্য প্রাণী ও নদনদী সর্বোপরি পরিবেশ রক্ষা ও সংরক্ষণ করতে হবে।

বৈশ্বিক উদ্যোগের বিষয়ে মানববন্ধনে বলা হয়,

.প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হবে।

. অভিযোজন ক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতা করতে হবে।

. বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রিতে নামিয়ে আনতে হবে।

. কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

. সবুজ জলবায়ু তহবিলে যে অর্থ বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি রয়েছে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

. ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

আরও পড়ুন:
তুরস্কে বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৭০
তুরস্কে আকস্মিক বন্যায় প্রাণ গেল ৩৮ জনের
ভয়াবহতম বন্যার মাস পেরোতেই নতুন বিপর্যয়ে চীন
আলজেরিয়ায় দাবানলে প্রাণহানি বেড়ে ৬৫
চীনে বন্যায় প্রাণহানি ৩ গুণ বেড়ে ৩০২

শেয়ার করুন

কুয়াকাটা সৈকতে ফের মৃত ডলফিন

কুয়াকাটা সৈকতে ফের মৃত ডলফিন

কুয়াকাটা সৈকতে সাতদিনের মাথায় ভেসে এসেছে আরেকটি মৃত ডলফিন। ছবি: নিউজবাংলা

কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটি জানায়, এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর আরেকটি মৃত ডলফিন ভেসে আসে এই সৈকতে। সেটির লেজ জালে প্যাঁচানো ছিল। এ নিয়ে চলতি বছর ২২টি মৃত ডলফিন কুয়াকাটায় ভেসে এসেছে।

সাত দিনের মাথায় কুয়াকাটা সৈকতে আবারও ভেসে এসেছে একটি মৃত ডলফিন।

সৈকতের তেত্রিশকানি পয়েন্টে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে ৫ ফুট লম্বা ডলফিনটি ভেসে আসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির সদস্যদের খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে যান।

কমিটির সদস্য কে এম বাচ্চু জানান, ডলফিনটির শরীরের উপরিভাগের চামড়া অনেকটা উঠে গেছে, তবে অর্ধগলিত না। ডলফিনটির মাথায় আঘাতের চিহ্ন আছে। ধারণা করা হচ্ছে, জেলেদের আঘাতে এটির মৃত্যু হয়েছে।

কমিটির আরেক সদস্য আবুল হোসেন রাজু জানান, এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর আরেকটি মৃত ডলফিন ভেসে আসে এই সৈকতে। সেটির লেজ জালে প্যাঁচানো ছিল। এ নিয়ে চলতি বছর ২২টি মৃত ডলফিন কুয়াকাটায় ভেসে এসেছে।

পটুয়াখালীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘মৃত্যুর কারণ জানতে ডলফিনের ময়নাতদন্তের চেষ্টা করা হবে। সে লক্ষ্যে ঘটনাস্থলে এরই মধ্যে বিট কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে।

‘এর আগেও একাধিক মৃত ডলফিন সৈকতে ভেসে এসেছিল । বিষয়টি আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। এর আগে পাওয়া একটি মৃত ডলফিনের অংশ পরীক্ষার জন্য আমরা মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের দপ্তরে পাঠিয়েছি। সেটির রিপোর্ট এখনও আসেনি।’

ডলফিন নিয়ে কাজ করা ইকোফিশ-২ প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ মীর মোহাম্মদ আলীর মতে, সাগরের পরিবেশের পরিবর্তনের কারণেও এসব ডলফিন মারা যেতে পারে। তবে এটিই কারণ কি না তা জানতে প্রচুর গবেষণা দরকার। এ ছাড়া সাগরে খাদ্যের অভাব বা অক্সিজেনের স্বল্পতার অভাবেও ডলফিনগুলো মারা যেতে পারে।

কুয়াকাটা সৈকতে ফের মৃত ডলফিন

প্রকল্পের আরেক বিশেষজ্ঞ সাগরিকা স্মৃতি জানান, সাগরে মাছ ধরার সময় জালে এসব ডলফিন পেঁচিয়ে গেলে জেলেরা শক্ত কোনো বস্তু দিয়ে এগুলোকে আঘাত করে। অনেক সময় প্যাঁচানো জাল কেটে দেয়। তখন এরা মারা যায়। মৃতদেহ ভাসতে ভাসতে তীরে আসে। এ জন্য জেলেদের সচেতন করতে হবে।

স্মৃতি আরও জানান, সচেতন করতে এরই মধ্যে কুয়াকাটায় জেলেদের নিয়ে একাধিক মিটিং ও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্লাহ জানান, এক বছর আগে ডলফিন মারা যাবার কারণ উদঘাটনে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটির সুপারিশে পাঁচটি কারণের মধ্যে অন্যতম প্রধান দুটি কারণকে দায়ী করা হয়েছিল।

কারণ দুটি হলো সাগরে জেলেদের জালে ডলফিন আটকে যাওয়া ও বড় জাহাজের পাখনায় ডলফিনের আঘাত পাওয়া।

এমদাদুল্লাহ আরও জানান, ওই দুই কারণ নিয়ে কাজ করতে সুপারিশ করা হয়েছিল। সেগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি।

আরও পড়ুন:
তুরস্কে বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৭০
তুরস্কে আকস্মিক বন্যায় প্রাণ গেল ৩৮ জনের
ভয়াবহতম বন্যার মাস পেরোতেই নতুন বিপর্যয়ে চীন
আলজেরিয়ায় দাবানলে প্রাণহানি বেড়ে ৬৫
চীনে বন্যায় প্রাণহানি ৩ গুণ বেড়ে ৩০২

শেয়ার করুন

বায়ুদূষণে বছরে ৭০ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু

বায়ুদূষণে বছরে ৭০ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু

বায়ু দূষণে বেশি ভুগছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো। ছবি: সংগৃহীত

বায়ুদূষণ মানুষের স্বাস্থ্যের যে ব্যাপক ক্ষতি করছে, তার ‘পরিষ্কার প্রমাণ’ রয়েছে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। আর ক্ষতির পরিমাণ ধারণার চেয়ে অনেক বেশি বলে সংগঠনটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বায়ুদূষণে সবচেয়ে বেশি ভুগছে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলো।

বায়ুদূষণের কারণে ফুসফুসে ক্যানসার, হৃৎপিণ্ডজনিত সমস্যা, স্ট্রোক ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ৭০ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

বায়ুদূষণজনিত মৃত্যু কমাতে ২০০৫ সালের পর প্রথমবারের মতো বায়ুমান নির্ধারণে নতুন গাইডলাইন নির্ধারণ করেছে ডব্লিউএইচও।

এই গাইডলাইন অনুযায়ী ১৯৪টি সদস্য রাষ্ট্রকে নভেম্বরে কোপ২৬ সম্মেলনের আগেই বায়ুদূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন রোধে পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতিসংঘের আওতাধীন সংস্থাটি।

এর উদ্দেশ্য বায়ুর নানা দূষণ কমিয়ে আনা। সেই সঙ্গে বায়ুর সঙ্গে মিশ্রিত অতি ক্ষুদ্র পদার্থ ও নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড হ্রাস করা, যা জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোয় তৈরি হয়।

ডব্লিউএইচও বলেছে, ‘মানব স্বাস্থ্যের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি বায়ুদূষণ অন্যতম ভয়াবহ পরিবেশগত ঝুঁকি।’

বায়ুদূষণ মানুষের স্বাস্থ্যের যে ব্যাপক ক্ষতি করছে তার ‘পরিষ্কার প্রমাণ’ রয়েছে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। আর ক্ষতির পরিমাণ ধারণার চেয়ে অনেক বেশি বলে সংগঠনটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বায়ুদূষণে সবচেয়ে বেশি ভুগছে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলো। কারণ এসব দেশ জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর বেশি নির্ভরশীল।

যানবাহনের ধোঁয়া ও গ্যাসজাতীয় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ। আর বায়ুতে অতিক্ষুদ্র কণাগুলো গঠিত হয় বায়ুতে মিশে থাকা বিভিন্ন রাসায়নিকের বিক্রিয়ার ফলে। এসব রাসায়নিকের উৎস রঙের ব্যবহার, বিভিন্ন ধরনের জীবাণুনাশক তরল ও দ্রবণ।

আরও পড়ুন:
তুরস্কে বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৭০
তুরস্কে আকস্মিক বন্যায় প্রাণ গেল ৩৮ জনের
ভয়াবহতম বন্যার মাস পেরোতেই নতুন বিপর্যয়ে চীন
আলজেরিয়ায় দাবানলে প্রাণহানি বেড়ে ৬৫
চীনে বন্যায় প্রাণহানি ৩ গুণ বেড়ে ৩০২

শেয়ার করুন

বিদেশে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ বন্ধ করছে চীন

বিদেশে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ বন্ধ করছে চীন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে বুধবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং বক্তব্য রাখেন ভিডিও বার্তার মাধ্যমে। ছবি: এএফপি

বিভিন্ন দেশে কয়লা জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্প বন্ধের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি বেইজিং। কিন্তু এ পদক্ষেপে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় অনেক দেশে কয়লাভিত্তিক কারখানার কর্মপরিধি সীমিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কয়েক বছরের মধ্যে ২০২১ সালেই প্রথম ছয় মাসে কয়লাভিত্তিক কোনো প্রকল্পে তহবিল দেয়নি বেইজিং।

জ্বালানি হিসেবে কয়লা ব্যবহার করা হবে, বহির্বিশ্বে এমন কোনো প্রকল্পে আর বিনিয়োগ করবে না চীন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে বুধবারের বক্তব্যে এ আশ্বাস দেন চীনের প্রেসিডেন্ট চি শিনপিং।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে কার্বন নিঃসরণ কমাতে চীনের এ পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদী বিশ্ব সম্প্রদায়।

অধিবেশনে ভিডিও বার্তায় শিনপিং বলেন, ‘অন্য দেশের কল্যাণে চীনের সহযোগিতামূলক প্রকল্প অব্যাহত থাকবে। পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি ব্যবহারে ন্যূনতম কার্বন নিঃসরণ ঘটে, এমন প্রকল্পে সাহায্য জোরদার করব আমরা। একই সঙ্গে কোনো দেশে নতুন করে কয়লা জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ করব না।’

চীনের প্রেসিডেন্টের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

উচ্চাভিলাষী বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে চীনের বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ রয়েছে। এশিয়া ও ইউরোপকে সড়ক, রেল ও নৌপথে যুক্ত করতে বেইজিংয়ের এ নিউ সিল্ক রোড প্রকল্পও বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অংশ।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ন্ত্রণে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে বিশ্ব সম্প্রদায়। এ অবস্থায় বিভিন্ন দেশে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ বন্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে দীর্ঘদিন ধরেই চাপের মুখে ছিল চীন।

বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় বেশিরভাগ উন্নয়নশীলসহ অনেকগুলো দেশে রেল, সড়ক, বন্দর ও কয়লাভিত্তিক কারখানা গড়ে তুলতে বিনিয়োগ করেছে চীন।

বিভিন্ন দেশে কয়লা জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্প বন্ধের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি বেইজিং। কিন্তু এ পদক্ষেপে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় অনেক দেশে কয়লাভিত্তিক কারখানার কর্মপরিধি সীমিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কয়েক বছরের মধ্যে ২০২১ সালেই প্রথম ছয় মাসে কয়লাভিত্তিক কোনো প্রকল্পে তহবিল দেয়নি বেইজিং।

চীন নিজেও বিশ্বের অন্যতম গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণকারী দেশ। অভ্যন্তরীণ জ্বালানির চাহিদা মেটাতেও কয়লার ওপর ব্যাপক নির্ভরশীল দেশটি।

২০৩০ সালের আগেই সর্বোচ্চ কার্বন নিঃসরণ শেষে ২০৬০ সালের মধ্যে চীনকে কার্বন নিরপেক্ষ দেশে পরিণত করা হবে বলে গত বছর আশ্বাস দিয়েছিলেন বেইজিং।

চিনপিংয়ের আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। জলবায়ু পরিবর্তন ও করোনাভাইরাস মহামারিসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় বিশ্বনেতাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
তুরস্কে বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৭০
তুরস্কে আকস্মিক বন্যায় প্রাণ গেল ৩৮ জনের
ভয়াবহতম বন্যার মাস পেরোতেই নতুন বিপর্যয়ে চীন
আলজেরিয়ায় দাবানলে প্রাণহানি বেড়ে ৬৫
চীনে বন্যায় প্রাণহানি ৩ গুণ বেড়ে ৩০২

শেয়ার করুন

দাবানল-মহামারির মধ্যে শক্তিশালী ভূমিকম্প অস্ট্রেলিয়ায়

দাবানল-মহামারির মধ্যে শক্তিশালী ভূমিকম্প অস্ট্রেলিয়ায়

অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটি অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প হলেও এতে গুরুতর ক্ষতি হয়নি। ছবি: এএফপি

ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে অস্ট্রেলিয়ায় ভূমিকম্প, বিশেষ করে শক্তিশালী কম্পন বেশ বিরল। ভূগর্ভে টেকটনিক প্লেটের মাঝখানে অবস্থিত মহাদেশটি। তবে গড়ে প্রতি ১০ বছরে একবার দেশটিতে ছয় মাত্রার ওপর ভূমিকম্প হয়ে থাকে।

পাঁচ দশমিক নয় মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী মেলবোর্নের বেশ কয়েকটি ভবন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় বুধবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে আঘাত হানে ভূমিকম্পটি। উৎসস্থল ছিল ভিক্টোরিয়া রাজ্যের রাজধানীর অদূরে অবস্থিত ম্যান্সফিল্ডে।

ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জিওসায়েন্সেস অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে উৎস ছিল বলে কম্পনের তীব্রতা ছিল বেশি।

ভূমিকম্পের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে প্রতিবেশি সাউথ অস্ট্রেলিয়া আর নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।

পরে চার আর তিন দশমিক এক মাত্রার দুটি আফটারশকও অনুভূত হয় অঞ্চলটিতে। আরও আফটারশকের আশঙ্কায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলেছে ভিক্টোরিয়ার জরুরি সেবা বিভাগ।

অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটি অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প হলেও এতে গুরুতর ক্ষতি হয়নি। কেউ গুরুতর আহতও হয়নি বলে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন।

ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে অস্ট্রেলিয়ায় ভূমিকম্প, বিশেষ করে শক্তিশালী কম্পন বেশ বিরল। ভূগর্ভে টেকটনিক প্লেটের মাঝখানে অবস্থিত মহাদেশটি। তবে গড়ে প্রতি ১০ বছরে একবার দেশটিতে ছয় মাত্রার ওপর ভূমিকম্প হয়ে থাকে।

অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় বৃহৎ শহর মেলবোর্নের জনসংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ। করোনাভাইরাস মহামারির প্রকোপ বৃদ্ধিতে লকডাউন চলছে শহরটিতে।

এ ছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাবে আগে থেকেই বিপর্যস্ত দেশটি। তীব্র দাবদাহ চলছে অস্ট্রেলিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। সিডনিশহ বিভিন্ন শহর ও অঞ্চলে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে সম্প্রতি।

গত বছরের ভয়াবহ দাবানলের পর এ বছরও তাপমাত্রার তীব্রতা আর শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে বিভিন্ন জায়গায় জ্বলছে আগুন।

আরও পড়ুন:
তুরস্কে বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৭০
তুরস্কে আকস্মিক বন্যায় প্রাণ গেল ৩৮ জনের
ভয়াবহতম বন্যার মাস পেরোতেই নতুন বিপর্যয়ে চীন
আলজেরিয়ায় দাবানলে প্রাণহানি বেড়ে ৬৫
চীনে বন্যায় প্রাণহানি ৩ গুণ বেড়ে ৩০২

শেয়ার করুন

২০০ বছর ধরে ছায়া দিচ্ছে ‘বাঘমারা’ বটগাছ

২০০ বছর ধরে ছায়া দিচ্ছে ‘বাঘমারা’ বটগাছ

নীলফামারীর ‘বাঘমারা’ বটগাছটি ২০০ বছর ধরে ছায়া দিচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা

নীলফামারী সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অহিদুল ইসলাম জানান, এসব বটগাছ ৫০০ বছরের বেশি সময় বেঁচে থাকার রেকর্ড আছে। এগুলোকে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

নীলফামারীর ২০০ বছরের পুরোনো ‘বাঘমারা’ বটগাছ যেন ইতিহাস হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। বটগাছটি কে লাগিয়েছিলেন তার সম্পর্কে কোনো সঠিক তথ্য নেই।

তবে স্থানীয় লোকজন জানান, ৫০ বছর আগে এই এলাকার একটি বাড়িতে বাঘ ঢুকেছিল। এ সময় বাঘটি পিটিয়ে হত্যা করে ওই বটগাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এরপর থেকেই বটগাছটি ‘বাঘমারা’ নামে পরিচিতি পায়।

গাছটি লাগানোর বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সুমতিবালা বলেন, ‘আমার শ্বশুরের দাদা গাছটি লাগিয়েছিল বলে পারিবারিক সূত্রে জেনেছি। এখন এটির বয়স আনুমানিক ২০০ বছর। প্রজন্মের পর প্রজন্ম দেখে আসছে এই গাছটি।’

২০০ বছর ধরে ছায়া দিচ্ছে ‘বাঘমারা’ বটগাছ

জেলার তিন উপজেলার সংযোগস্থলে বটগাছটির অবস্থান। গাছটির একদিক দিয়ে সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন, অন্যদিকে জলঢাকা উপজেলার ধর্মপাল ইউনিয়ন এবং আরেকদিকে ডোমার উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নে চলাচল করা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিশাল আকৃতির গাছটির ডালপালা দিন দিন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রচণ্ড গরমে যারা এই পথে চলাচল করেন তারা একটু হলেও বটগাছের নিচে জিরিয়ে নেন।

হরিণচড়া ইউনিয়নের শেওটগাড়ি গ্রামের শিক্ষক আব্দুল ওয়াদুদ জানান, এটি অনেক পুরোনো বটগাছ। গাছটি ঘিরেই চলাচলের এই পথ তৈরি হয়েছে। এটি ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে।

সোনারায় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমনী কান্ত বলেন, ‘বটপাকুরের বিয়েও হয়েছে অনেক আগে। এই বটগাছটির সঠিক বয়স কেউ বলতে না পারলেও সবার ধারণা ২০০ বছরের কম নয়। এখানে মানুষ আড্ডা দেন, বসে থাকেন, সময় কাটিয়ে আনন্দ পান।’

নীলফামারী সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অহিদুল ইসলাম জানান, এসব বটগাছ ৫০০ বছরেরও বেশি সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকার রেকর্ড আছে। এগুলোকে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, ‘এত বড় বটগাছ এখন আর চোখে পড়ে না। স্থানীয় লোকজন ভালোভাবে গাছটির রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছে।’

আরও পড়ুন:
তুরস্কে বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৭০
তুরস্কে আকস্মিক বন্যায় প্রাণ গেল ৩৮ জনের
ভয়াবহতম বন্যার মাস পেরোতেই নতুন বিপর্যয়ে চীন
আলজেরিয়ায় দাবানলে প্রাণহানি বেড়ে ৬৫
চীনে বন্যায় প্রাণহানি ৩ গুণ বেড়ে ৩০২

শেয়ার করুন