আফগানিস্তানকে দেখে শিক্ষা নেয়া উচিত: মোদিকে কাশ্মীর নেত্রী

আফগানিস্তানকে দেখে শিক্ষা নেয়া উচিত: মোদিকে কাশ্মীর নেত্রী

আফগানিস্তানের উদাহরণ টেনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হুঁশিয়ারি দেন কাশ্মীরের নেত্রী মেহবুবা মুফতি। ছবি: সংগৃহীত

তালেবানের দখল নিয়ে কাশ্মীরের নেত্রী মেহবুবা মুফতি বলেন, ‘আমাদের এভাবে পরীক্ষা নিলে সরকারেরই বিপদ। প্রতিবেশী দেশে কী হচ্ছে, তা দেখে শিক্ষা নেয়া উচিত সরকারের। যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী দেশকেও নিজেদের ব্যাগ গুছিয়ে আফগানিস্তান ছেড়ে পালাতে হয়েছে ‘

জম্মু-কাশ্মীরের মানুষ ধৈর্য হারালে আপনারা উবে যাবেন- আফগানিস্তানের প্রসঙ্গ টেনে এভাবেই মোদি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কাশ্মীরের নেত্রী মেহবুবা মুফতি।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনা আফগানিস্তান ছাড়ার প্রাক্কালে সে দেশের অবস্থা তুলে ধরে সেখান থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা নিতে সরকারকে বার্তা পাঠান জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন এ মুখ্যমন্ত্রী।

আফগানিস্তানের পরিস্থিতির সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীরের তুলনা টানেন পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (পিডিপি) প্রেসিডেন্ট মেহবুবা মুফতি।

ভারত সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানের হাল দেখে শিক্ষা নেয়া উচিত, যেখানে তালেবানরা গোটা দেশের ক্ষমতা দখল করে নিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী দেশকেও পালাতে বাধ্য করেছে।’

মুফতির এ মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। সমালোচনায় সরব হয়েছে বিজেপি থেকে কংগ্রেস।

২০১৯ সালে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয়ার প্রসঙ্গে ফের সরব হয়েছেন কাশ্মীরি এই নেত্রী।

তালেবানের দখল নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের এভাবে পরীক্ষা নিলে সরকারেরই বিপদ।

‘প্রতিবেশী দেশে কী হচ্ছে, তা দেখে শিক্ষা নেয়া উচিত সরকারের। যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী দেশকেও নিজেদের ব্যাগ গুছিয়ে আফগানিস্তান ছেড়ে পালাতে হয়েছে।

‘আপনাদের কাছে এখনও সুযোগ রয়েছে জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে আলোচনা শুরু করার। সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ি আলোচনার মাধ্যমে নিজের ভুল শুধরে নিয়েছিলেন।

‘আপনারাও বেআইনিভাবে জম্মু-কাশ্মীরের পরিচিতি যেভাবে কেড়ে নিয়েছেন এবং জম্মু-কাশ্মীরকে দুই ভাগে ভাগ করে দিয়েছেন, তা শুধরে নিন। না হলে অনেক দেরি হয়ে যাবে।’

দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগাম জেলায় দলীয় এক অনুষ্ঠানে মুফতি রাজ্যের যুব সম্প্রদায়ের কাছে অনুরোধ জানান, যেকোনো পরিস্থিতিতে তারা যেন হাতে অস্ত্র না তুলে নেন। কারণ বন্দুক বা পাথর ছুড়ে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না।

আফগানিস্তানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘তালেবানরা আফগানিস্তানের দখল নিলেও ওরা এখন বলছে, অস্ত্রের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

‘গোটা বিশ্বের নজর এখন আফগানিস্তান ও তালেবানের ওপর।

‘তালেবান কেমন ব্যবহার করছে, আগের মতোই কঠোর আইন প্রয়োগ করবে নাকি সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবে, তা গোটা বিশ্ব দেখছে।’

একইভাবে জম্মু-কাশ্মীরের ওপরও সবার নজর রয়েছে বলে উল্লেখ করেন পিডিপি নেত্রী।

নিজেদের অধিকার বা দাবি পূরণ করার জন্য হাতে অস্ত্র তুলে নেয়া বা নিজেদের প্রাণত্যাগ করা কোনো সমাধান নয় বলেই মনে করেন তিনি।

এদিকে বিজেপির বিরুদ্ধে দেশভাগের অভিযোগ এনে কংগ্রেস সরকারই ভালো ছিল বলে মনে করেন মুফতি।

তিনি বলেন, ‘ভারত বিভিন্ন ধর্ম, জাতি ও সম্প্রদায়ের দেশ। কংগ্রেস দেশকে একজোট করে রেখে রক্ষা করেছিল।

‘তবে গত পাঁচ থেকে সাত বছর ধরে বিজেপি যা করছে, তা দেশভাগের চেষ্টা ছাড়া কিছুই নয়।

‘ধর্মের নামে সাধারণ মানুষকে ভাগ করার চেষ্টা করছে বিজেপি। বিশেষ মর্যাদা দেয়ার শর্তেই ভারতের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছিল জম্মু-কাশ্মীর।

‘যদি ওই সময় বিজেপি ক্ষমতায় থাকত, তবে কখনোই ভারতের অংশ হতো না জম্মু-কাশ্মীর।’

এদিকে পিডিপি নেত্রীর এসব মন্তব্যে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন রাজ্যের বিজেপি সভাপতি রবীন্দর রাইনা।

‘তিনি বলেন, ‘উনি ভুল ধারণায় বিশ্বাস করে রয়েছেন। ভারত শক্তিশালী দেশ এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মতো নন, যিনি সেনা প্রত্যহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

‘তালেবান, আল-কায়েদা, লস্কর-ই-তৈয়বা বা হিজবুল- যারাই দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করবে, তাদেরই খতম করে দেয়া হবে।’

জম্মু-কাশ্মীরের মানুষদের ভুল বোঝানোর চেষ্টা করছেন মেহবুবা মুফতি, এ অভিযোগ এনে রাইনা বলেন, ‘জম্মু-কাশ্মীরের মানুষরাও দেশপ্রেমী এবং দেশের জাতীয় পতাকাকে সব সময় শীর্ষে রেখেছেন তারা।

‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে তারা পুলিশ, সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীকেও সহায়তা করে এসেছে।’

কাশ্মীরের মানুষের কাছ থেকে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েই মুফতি এ ধরনের কথা বলছেন বলেও অভিযোগ করেন রাইনা।

অন্যদিকে কংগ্রেসের মুখপাত্র জয়বীর শেরগিলও পিডিপি নেত্রীর মন্তব্যের সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, ‘মেহবুবা মুফতির মন্তব্য যথেষ্ট উসকানিমূলক।

‘শান্তি কামনার বদলে যদি শাসকদের সমালোচনা করার জন্য আপনাকে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে হুমকি দিতে হয় এবং সহিংসতার ভয় দেখাতে হয়, তবে আপনি নিশ্চিতভাবে ভুল পথে হাঁটছেন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।’

আরও পড়ুন:
ভারত-আফগানিস্তান বাণিজ্য চালু নিয়ে অনিশ্চয়তা
শিক্ষায় নতুন মডেল, রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক
স্ত্রী হত্যার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলেন শশী
সমীক্ষায় জনপ্রিয়তা কমেছে মোদির
ভারতীয় পার্লামেন্ট দেখে প্রধান বিচারপতির ‘দুঃখ’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

তালেবানের ওপর চাপ সৃষ্টিতে বিশ্ব একজোট: ব্লিঙ্কেন

তালেবানের ওপর চাপ সৃষ্টিতে বিশ্ব একজোট: ব্লিঙ্কেন

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি, তালেবান ইস্যুতে পাকিস্তান, চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যের মধ্যে শক্তিশালী ঐক্য রয়েছে। তালেবান বলেছে, তাদের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বৈধতা দরকার, সহযোগিতার দরকার। তালেবানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্পর্ক গোষ্ঠীটির কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভর করছে।’

তালেবানের ওপর চাপ সৃষ্টিতে বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ বলে মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন।

পাকিস্তান, চীন ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলাপ শেষে তার এমনটা মনে হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ সভা শেষে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহুমদ কুরেশির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ব্লিঙ্কেন।

এর আগে বুধবার বিকেলে আফগানিস্তান ইস্যুতে চীন ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গেও আলাপ করেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ব্লিঙ্কেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি, তালেবান ইস্যুতে পাকিস্তান, চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যের মধ্যে শক্তিশালী ঐক্য রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তালেবান বলেছে, তাদের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বৈধতা দরকার, সহযোগিতার দরকার।

‘তালেবানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্পর্ক গোষ্ঠীটির কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভর করছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেন জানান, যুক্তরাষ্ট্র চায় দীর্ঘ ২০ বছর ধরে বিদেশিদের সহযোগিতা করা আফগান ও বাইরের দেশের নাগরিকদের নিরাপদে আফগানিস্তান ত্যাগের ব্যবস্থা করুক তালেবান।

পাশাপাশি নারী-শিশু ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজনের অধিকারের প্রতি যাতে তালেবান সম্মান জানায়, তাও চায় ওয়াশিংটন।

এ ছাড়া আল-কায়েদার মতো চরমপন্থি অন্যান্য সংগঠনকে তালেবান যেন আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করতে না দেয়, সেদিকেও ওয়াশিংটন দৃষ্টি রাখছে বলে ফের জানান ব্লিঙ্কেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুরেশির সঙ্গে আলাপে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক সমন্বয়ের গুরুত্বের ওপর জোর দেন ব্লিঙ্কেন।

এর আগে তালেবানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক স্থাপন ও আফগানিস্তানের সম্পদের ওপর পশ্চিমা দেশ ও সংস্থার স্থগিতাদেশ তুলে দিতে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়।

তবে চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুরেশি জানান, তালেবানের নতুন সরকারকে তাড়াহুড়ো করে স্বীকৃতি দেয়ার কিছু নেই।

ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে আলোচনার শুরুতে কুরেশি বলেন, ‘শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে আমাদের লক্ষ্য অর্জনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার পথ খুঁজে বের করতে হবে।’

তালেবানের সঙ্গে এরই মধ্যে কাজ করার আগ্রহের কথা জানিয়েছে চীন ও রাশিয়া। তবে গোষ্ঠীটিকে এখনই স্বীকৃতি দিতে চায় না দেশ দুটি।

এ ছাড়া তালেবানের পৃষ্ঠপোষকতায় আফগানিস্তানে ফের জঙ্গিবাদ উত্থানের শঙ্কায় রয়েছে চীন ও রাশিয়া।

গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে তালেবানের হাতে কাবুলের পতন হয়।

দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার একপর্যায়ে চলতি মাসের শুরুতে বিতর্কিত ও সন্ত্রাসী তালিকায় থাকা নেতাদের নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে তালেবান।

অঙ্গীকার অনুযায়ী অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন না করায় দেশে-বিদেশে সমালোচনার মুখে রয়েছে কট্টরপন্থি ইসলামি গোষ্ঠীটি।

আরও পড়ুন:
ভারত-আফগানিস্তান বাণিজ্য চালু নিয়ে অনিশ্চয়তা
শিক্ষায় নতুন মডেল, রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক
স্ত্রী হত্যার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলেন শশী
সমীক্ষায় জনপ্রিয়তা কমেছে মোদির
ভারতীয় পার্লামেন্ট দেখে প্রধান বিচারপতির ‘দুঃখ’

শেয়ার করুন

দিল্লির আদালতে গোলাগুলি, গ্যাংস্টারসহ নিহত ৪

দিল্লির আদালতে গোলাগুলি, গ্যাংস্টারসহ নিহত ৪

গোলাগুলির পর দিল্লি আদালতের চিত্র। ছবি: আনন্দবাজার

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, বেশ কিছু অপরাধে জড়িত কুখ্যাত গ্যাংস্টার জিতেন্দর গোগী দিল্লির তিহার কারাগারে ছিলেন। তাকে রোহিনীর আদালতে তোলার সময় প্রতিদ্বন্দ্বী তিল্লু গ্যাংয়ের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়। হামলাকারীরা আইনজীবীর পোশাকে প্রকাশ্যে গুলি চালায়।

ভারতের দিল্লিতে আদালতের ভেতর গোলাগুলির ঘটনায় এক গ্যাংস্টারসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন কয়েকজন।

দেশটির একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার এ গোলাগুলি হয়।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ঘটনার ফুটেজে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। পুলিশ সদস্য ও আইনজীবীদের হুড়াহুড়ি করতে দেখা গেছে।

উত্তর দিল্লির রোহিনীতে আদালত চত্বরের ভেতর গ্যাংস্টার জিতেন্দর গোগী প্রতিদ্বন্দ্বী একটি গ্যাং সদস্যদের হাতে নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

গোলাগুলিতে নিহত চারজনের মধ্যে দুই হামলাকারীও রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারা নিরাপত্তাকর্মীদের হাতে নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, বেশ কিছু অপরাধে জড়িত কুখ্যাত গ্যাংস্টার জিতেন্দর গোগী দিল্লির তিহার কারাগারে ছিলেন। তাকে রোহিনীর আদালতে তোলার সময় প্রতিদ্বন্দ্বী তিল্লু গ্যাংয়ের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়। হামলাকারীরা আইনজীবীর পোশাকে প্রকাশ্যে গুলি চালায়।

গোলাগুলির ঘটনায় আদালত চত্বরে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঘাটতির বিষয়টি ধরা পড়েছে।

ঘটনায় জড়িত দুটি গ্যাংয়ের সদস্যরা কয়েক বছর ধরে সংঘর্ষে লিপ্ত ছিল বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র। তাদের সে সংঘর্ষে নিহত হয় ২৫ জনের বেশি মানুষ।

সবশেষ সংঘর্ষে নিহত জিতেন্দর গোগী ওরফে জিতেন্দর মানকে গত বছরের মার্চে গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশ। ওই গ্রেপ্তারকে বড় ব্যাপার হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

আরও পড়ুন:
ভারত-আফগানিস্তান বাণিজ্য চালু নিয়ে অনিশ্চয়তা
শিক্ষায় নতুন মডেল, রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক
স্ত্রী হত্যার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলেন শশী
সমীক্ষায় জনপ্রিয়তা কমেছে মোদির
ভারতীয় পার্লামেন্ট দেখে প্রধান বিচারপতির ‘দুঃখ’

শেয়ার করুন

২ হাজার নারীর কাপড় ৬ মাস ধুয়ে দেয়ার শর্তে জামিন

২ হাজার নারীর কাপড় ৬ মাস ধুয়ে দেয়ার শর্তে জামিন

ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার আসামিকে ৬ মাস গ্রামের সব নারীর কাপড় ধোয়ার শর্তে জামিন দিয়েছে ভারতীয় এক আদালত। ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস

বিহারের মধুবনী জেলার পুলিশ কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার সিং জানান, পেশায় ধোপা লালনকে চলতি বছরের এপ্রিলে ধর্ষণচেষ্টাসহ অন্য অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।

ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার এক আসামিকে সম্প্রতি শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছে ভারতের এক আদালত।

শর্তটি হচ্ছে, কোনো পারিশ্রমিক ছাড়া ওই আসামিকে টানা ছয় মাস তার গ্রামের সব নারীর কাপড় ধুয়ে ইস্ত্রি করে দিতে হবে।

বুধবার আদালতের নির্দেশে বলা হয়, ভারতের বিহার রাজ্যের মাঝোর গ্রামের প্রায় দুই হাজার নারীকে ছয় মাস ধরে বিনা মূল্যে লন্ড্রিসেবা দেবেন ধর্ষণচেষ্টার আসামি ২০ বছর বয়সি লালন কুমার।

আর এ জন্য প্রয়োজনীয় ডিটারজেন্টসহ অন্যান্য সামগ্রী লালনকেই কিনতে হবে।

বিহারের মধুবনী জেলার পুলিশ কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার সিং বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, পেশায় ধোপা লালনকে চলতি বছরের এপ্রিলে ধর্ষণচেষ্টাসহ অন্য অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।

এখন পর্যন্ত লালনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারের তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।

বিহারের মাঝোর গ্রাম পরিষদের প্রধান নাসিমা খাতুন বলেন, ‘আদালতের সিদ্ধান্তে গ্রামের সব নারী খুশি।’

তিনি বলেন, ‘এটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। এতে নারীদের প্রতি সম্মান বাড়বে। পাশাপাশি তাদের আত্মমর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে সহযোগিতা করবে।’

লালন আদালতের নির্দেশ ঠিকঠাক মেনে চলছে কি না, তা নজরদারির অন্যতম দায়িত্বে রয়েছেন নাসিমা।

মাঝোর গ্রামে বসবাসরত নারীদের ভাষ্য, নারীর ওপর সংঘটিত অপরাধ নিয়ে নিজেদের সম্প্রদায়ের ভেতর আলোচনার ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে আদালতের ওই নির্দেশ, যা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

মাঝোর গ্রামের বাসিন্দা অঞ্জুম পারভিন বলেন, ‘এটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। ভিন্নধর্মী এ শাস্তি সমাজকে নতুন বার্তা দিয়েছে।’

২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বাসে ২৩ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় পুরো দেশ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।

ওই ঘটনার ১৩ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই ছাত্রীর মৃত্যু হয়। গত বছরের ২০ মার্চ অভিযুক্ত চার ব্যক্তির ফাঁসি হয়।

দিল্লির ওই ঘটনার পর কঠোর শাস্তির বিধান রেখে ধর্ষণ আইন সংস্কার করে ভারত। তা সত্ত্বেও দেশটিতে ধর্ষণের হার উল্লেখযোগ্য হারে বেশি।

গত বছর ভারতের ২৮ হাজারের বেশি নারী-শিশু ধর্ষণের শিকার হয়।

আরও পড়ুন:
ভারত-আফগানিস্তান বাণিজ্য চালু নিয়ে অনিশ্চয়তা
শিক্ষায় নতুন মডেল, রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক
স্ত্রী হত্যার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলেন শশী
সমীক্ষায় জনপ্রিয়তা কমেছে মোদির
ভারতীয় পার্লামেন্ট দেখে প্রধান বিচারপতির ‘দুঃখ’

শেয়ার করুন

তালেবান সরকার নিয়ে হতাশ এরদোয়ান

তালেবান সরকার নিয়ে হতাশ এরদোয়ান

জাতিসংঘে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। ছবি: এএফপি

নিউ ইয়র্কে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেন, ‘কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর তালেবানের পদক্ষেপের দিকে তাকালে আমরা দেখি, দুঃখজনকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনে ব্যর্থ হয়েছে গোষ্ঠীটি।’

আফগানিস্তানে চলতি মাসের শুরুতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে তালেবান। তবে অঙ্গীকার অনুযায়ী তাদের সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক নয়।

কট্টরপন্থি এ গোষ্ঠী সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করলে তাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী তুরস্ক।

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ সভায় উপস্থিত হওয়ার পর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বৃহস্পতিবার এসব মন্তব্য করেন বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল তালেবানের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। আর শেষ সময়ে দোহা চুক্তি অনুযায়ী বিদেশি সেনা দেশটি ত্যাগ করে।

এর পরপরই কাবুল বিমানবন্দর পরিচালনায় কাতারের সঙ্গে কাজ করছে ন্যাটোভুক্ত দেশ তুরস্ক।

কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর সরকার পরিচালনা ঘিরে বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছিল তালেবান। সেসব বার্তাকে সে সময় স্বাগতও জানিয়েছিল তুরস্ক।

তবে একই সঙ্গে দেশটি জানিয়েছিল, কথার ওপর নয়, বরং কাজের ওপর তালেবানকে স্বীকৃতি দেয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে।

নিউ ইয়র্কে এরদোয়ান বলেন, ‘কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর তালেবানের পদক্ষেপের দিকে তাকালে আমরা দেখি, দুঃখজনকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনে ব্যর্থ হয়েছে গোষ্ঠীটি।

‘তালেবান সরকারের নেতৃত্বে পরিবর্তনের সম্ভাবনার কিছু ইঙ্গিত কেবল দেখা যাচ্ছে। হয়তো আফগানিস্তানে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন হতে পারে।

‘তবে সেই পরিবর্তন এখনও দৃশ্যমান নয়। এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেয়া হলে তালেবানের সঙ্গে মিলে একসঙ্গে কীভাবে কাজ করা যায়, সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করতে পারি।’

এরদোয়ানের মন্তব্যের আগে তালেবানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন কাবুলে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত সিহাদ এরগিনে।

সাক্ষাতের পর এরগিনে টুইটবার্তায় বলেন, ‘আফগান জনগণের প্রতি সহযোগিতা অব্যাহত রাখা ও আফগানিস্তানের সঙ্গে তুরস্কের ঐতিহাসিক সম্পর্ক পুনর্নির্মাণের অঙ্গীকার করা হয়েছে।’

চলতি মাসের শুরুতে বিতর্কিত ও সন্ত্রাসী তালিকায় থাকা নেতাদের নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে তালেবান। এ সরকারে নেই কোনো নারী বা জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কোনো নেতা।

আরও পড়ুন:
ভারত-আফগানিস্তান বাণিজ্য চালু নিয়ে অনিশ্চয়তা
শিক্ষায় নতুন মডেল, রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক
স্ত্রী হত্যার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলেন শশী
সমীক্ষায় জনপ্রিয়তা কমেছে মোদির
ভারতীয় পার্লামেন্ট দেখে প্রধান বিচারপতির ‘দুঃখ’

শেয়ার করুন

জলাবদ্ধ কলকাতা যেন মৎস্য খামার

জলাবদ্ধ কলকাতা যেন মৎস্য খামার

কলকাতার নিউটাউনে জলাবদ্ধ সড়কে মাছ ধরার ভিডিও প্রকাশ করেন পিউ মণ্ডল নামের নারী। ছবি: আনন্দবাজার

জলাবদ্ধ সড়কে মাছ ধরার একটি ঘটনা তুলে ধরেছে আনন্দবাজার। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, কলকাতার নিউটাউনে ডুবে যাওয়া সড়কে জাল ফেলে মাছ ধরার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন পিউ মণ্ডল নামের নারী। তার সে ভিডিও দেখে চোখ কপালে ওঠে অনেকের।

আশ্বিনের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা দেখা গেছে কলকাতার অনেক অঞ্চলে। কোথাও কোথাও ‍বৃষ্টির পানি ঢুকে গেছে বাড়িতে। কোথাও আবার পানিতে থইথই সড়ক।

এমন পরিস্থিতিতেও আনন্দের খোরাক পেয়েছেন কলকাতার কিছু বাসিন্দা। বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় সড়কেই মিলেছে মাছ। সেখানে জাল ফেলে মাছ ধরতেও দেখা গেছে।

জলাবদ্ধ সড়কে মাছ ধরার একটি ঘটনা তুলে ধরেছে আনন্দবাজার। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, কলকাতার নিউটাউনে ডুবে যাওয়া সড়কে জাল ফেলে মাছ ধরার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন পিউ মণ্ডল নামের নারী। তার সে ভিডিও দেখে চোখ কপালে ওঠে অনেকের।

মাছ ধরা নিয়ে আনন্দবাজার অনলাইনকে পিউ বলেন, ‘ওই ভিডিও তোলা হয়েছে কারিগরি ভবনের সামনে। মঙ্গলবার রাতে ভাইয়ের সঙ্গে খাবার কিনতে যাচ্ছিলাম। বাইকের আলো রাস্তার জলে পড়তেই চিকচিক করতে দেখি। ঠাহর করে বুঝতে পারি, প্রচুর মাছ ওই জলে।

‘বাইক থেকে নেমে ভাই-বোন মিলে হাত দিয়ে বেশ কিছু মাছ ধরি। তখনই বাড়িতে ফোন করে জাল আনার কথা বলি। সারা রাত ধরে প্রায় ১৫ কেজি মাছ ধরা হয়।’

পিউ আরও বলেন, ‘এভাবে মাছ ধরতে পেরে খুব আনন্দ পেয়েছি। পরদিন সকালে গোটা পাড়ায় সেই মাছ বিলি করা হয়।’

আরও পড়ুন:
ভারত-আফগানিস্তান বাণিজ্য চালু নিয়ে অনিশ্চয়তা
শিক্ষায় নতুন মডেল, রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক
স্ত্রী হত্যার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলেন শশী
সমীক্ষায় জনপ্রিয়তা কমেছে মোদির
ভারতীয় পার্লামেন্ট দেখে প্রধান বিচারপতির ‘দুঃখ’

শেয়ার করুন

কোভিশিল্ড অনুমোদন না দেয়ায় ভারতের ক্ষোভ

কোভিশিল্ড অনুমোদন না দেয়ায় ভারতের ক্ষোভ

ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতিসংঘের ৭৬তম অধিবেশনে যোগ দেয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়ার আগে নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, যুক্তরাজ্যের এমন আচরণের বিপরীতে ভারতেরও উচিত হবে একই ধরনের আচরণ করা।

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনকে অনুমোদন দেয়নি যুক্তরাজ্য।

দেশটির এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে এটিকে তাদের ‘বৈষম্যমূলক’ নীতি দাবি করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা।

মঙ্গলবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতিসংঘের ৭৬তম অধিবেশনে যোগ দেয়ার উদ্দেশে ভারত ছাড়ার আগে রাজধানী নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ দাবি করেন। বলেন, যুক্তরাজ্যের এমন আচরণের বিপরীতে ভারতেরও উচিত হবে একই ধরনের আচরণ করা।

যুক্তরাজ্যে ভ্রমণে বিদেশিদের জন্য নতুন নির্দেশনা দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। নির্দেশনা অনুযায়ী কোভিশিল্ড টিকাপ্রাপ্তরা বিনা বাধায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে না। সেখানে ঢোকার আগে ১০ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। এর মধ্যেই কোভিড পরীক্ষাও বাধ্যতামূলক। তাই যুক্তরাজ্যে যাওয়া এখন খানিকটা সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে অনেক ভারতীয়র জন্য। তবে ভারত ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক দেশ, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর জন্যও এ নিয়ম বলবৎ থাকবে বলা হয় নির্দেশনায়।

বিষয়টি নিয়ে সাধারণ অধিবেশনের অবসরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রুসের কথা হয়েছে বলে জানান শ্রিংলা। সমস্যা দ্রুত সমাধানে যুক্তরাজ্য আশ্বস্ত করেছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার টুইট করে বিরক্তি প্রকাশ করেন কংগ্রেস নেতা ও সংসদ সদস্য শশী থারুর।

তিনি লেখেন, ‘পুরোপুরি টিকাপ্রাপ্ত ভারতীয়দের কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা অপমানজনক। ব্রিটিশরা কি দ্বিতীয়বার যাচাই করেছে নাকি!’

বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আরেক কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশও। তিনি বলেন, ‘কোভিশিল্ড প্রথমে তো যুক্তরাজ্য এবং সেরাম ইনস্টিটিউটেই তৈরি করা হয়। এখন তাদের কেমন আচরণ? এ তো বর্ণবৈষম্য!’

আরও পড়ুন:
ভারত-আফগানিস্তান বাণিজ্য চালু নিয়ে অনিশ্চয়তা
শিক্ষায় নতুন মডেল, রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক
স্ত্রী হত্যার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলেন শশী
সমীক্ষায় জনপ্রিয়তা কমেছে মোদির
ভারতীয় পার্লামেন্ট দেখে প্রধান বিচারপতির ‘দুঃখ’

শেয়ার করুন

আফগানিস্তান নিয়ে মতভেদ, সার্কের বৈঠক বাতিল

আফগানিস্তান নিয়ে মতভেদ, সার্কের বৈঠক বাতিল

প্রতীকী ছবি

একটি সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তান বৈঠকে আফগানিস্তানের জন্য একটি ‘খালি চেয়ার’ রাখতে চেয়েছিল। দেশটি আশরাফ ঘানি শাসনের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে ছিল।

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের মধ্যে সার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক বাতিল করা হয়েছে।

আফগানিস্তানের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে পাকিস্তানের ভিন্নমতের জন্যই বৈঠক বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।

ওই সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তান বৈঠকে আফগানিস্তানের জন্য একটি ‘খালি চেয়ার’ রাখতে চেয়েছিল। দেশটি আশরাফ ঘানি শাসনের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে ছিল।

বৈঠকটি হলে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে আফগানিস্তান মিশনের একজন প্রতিনিধি যোগ দিতে পারতেন।

সূত্রটি জানায়, পাকিস্তানের প্রস্তাব ছিল তালেবান প্রতিনিধিকে বৈঠকে অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়া। সার্কের বাকি সদস্যরা প্রস্তাবটি বাতিল করে দেয়।

নতুন তালেবান শাসন এখনও বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি পায়নি। তালেবান নেতারা স্বীকৃতির জন্য জাতিসংঘের কাছেও যাননি।

এমন বাস্তবতায় পাকিস্তানের প্রস্তাব বাতিল করে দেয় সার্কভুক্ত অন্য দেশগুলো।

নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার সার্ক সচিবালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়ে বলে, সব সদস্য রাষ্ট্র সম্মতি না দেয়ায় ২৫ সেপ্টেম্বর সার্ক মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছে।

আফগানিস্তান সার্কের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য রাষ্ট্র। ২০০৭ সালে দেশটি দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাটিতে যোগ দেয়।

আফগানিস্তানের বাইরে ভারত, বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান সার্কের সদস্য।

১৯৮৭ সালের ১৭ জানুয়ারি কাঠমান্ডুতে সার্ক সচিবালয় স্থাপন হয়।

আরও পড়ুন:
ভারত-আফগানিস্তান বাণিজ্য চালু নিয়ে অনিশ্চয়তা
শিক্ষায় নতুন মডেল, রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক
স্ত্রী হত্যার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলেন শশী
সমীক্ষায় জনপ্রিয়তা কমেছে মোদির
ভারতীয় পার্লামেন্ট দেখে প্রধান বিচারপতির ‘দুঃখ’

শেয়ার করুন