কাবুল বিমানবন্দরে ভিড় ঠেকাচ্ছে তালেবান

কাবুল বিমানবন্দরে ভিড় ঠেকাচ্ছে তালেবান

তালেবানের চোখরাঙানি উপেক্ষা করেই কাবুল বিমানবন্দরে দেশ ছাড়তে মরিয়া হাজারও আফগান। ফ্লাইটের মতোই অনিশ্চিত তাদের ভবিষ্যতও। ছবি: এএফপি

ভিড়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের হাজারো কূটনীতিক ও নাগরিকদের উদ্ধার কার্যক্রম চরম ব্যাহত হচ্ছে। অরাজক পরিস্থিতির কারণে শুক্রবার প্রায় ছয় ঘণ্টা বন্ধ ছিল বিমানবন্দরের কার্যক্রম। শনিবারও একটি চার্টার ফ্লাইট স্থগিত করতে বাধ্য হয় সুইজারল্যান্ড।

আফগানিস্তানের নতুন শাসকদল তালেবান কাবুল বিমানবন্দরে ভিড় ঠেকাতে বিধিনিষেধ জারি করেছে। বিমানবন্দরের প্রধান প্রবেশপথগুলোর বাইরে বিশৃঙ্খলা এড়াতে সারি বেঁধে মানুষকে প্রবেশ করতে হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্থানীয় সময় রোববার থেকে জারি হওয়া বিধিনিষেধের ফলে বিমানবন্দরে পরিস্থিতি শান্ত ছিল। ফ্লাইট নিয়ে বিভ্রান্তি বা দৌড়াদৌড়ি ও সহিংসতা হয়নি। তবে ভোর থেকেই অপেক্ষারত মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

এর আগে শনিবার রাতে চারটি সামরিক ফ্লাইটে কাবুল থেকে তিন শতাধিক মানুষকে বের করেছে অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের পাশাপাশি ফ্লাইটগুলোতে আফগান ভিসাধারী নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের নাগরিকও ছিলেন।

এর আগে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) আফগান শাখা হামলা চালাতে পারে বলে কাবুল বিমানবন্দর এড়িয়ে চলতে নাগরিকদের সতর্ক করে যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি।

আফগানিস্তানের সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী তালেবান গত ১৫ আগস্ট রাজধানী কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর থেকেই সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নাগরিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে নিতে অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশ। তাদের সঙ্গে যেকোনোভাবে বিমানে উঠতে মরিয়া হাজারো আফগান পরিবার।

এ অবস্থায় গত রোববার থেকে বিমানবন্দরটিতে বিশৃঙ্খলার মধ্যে প্রাণ গেছে কমপক্ষে ১২ জনের। কয়েকজন ভিড়ে পদদলিত হয়ে এবং কয়েকজন গোলাগুলিতে নিহত হয়েছে।

দুই দশক আগে প্রথম দফায় আফগানিস্তানের ক্ষমতায় থাকাকালীন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপক অভিযোগ ছিল ধর্মভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবানের বিরুদ্ধে। দেশ দখলের পর সুন্নি মুসলিম সংগঠনটি আবারও কঠোর শরিয়াহ আইন চালু করতে পারে বলে শঙ্কা ঘনিয়ে উঠছে।

এ অবস্থায় শনিবার পর্যন্ত সাত দিনে আফগানসহ বিভিন্ন দেশের ১৭ হাজার মানুষকে কাবুল বিমানবন্দর হয়ে আফগানিস্তান থেকে বের করা হয়েছে। এদের মধ্যে আমেরিকান নাগরিক প্রায় আড়াই হাজার।

ভিড়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের হাজারো কূটনীতিক ও নাগরিকদের উদ্ধার কার্যক্রম চরম ব্যাহত হচ্ছে। ফ্লাইটে চড়ে দেশ ছাড়তে কংক্রিটের দেয়াল আর কাঁটাতারের বেড়া বেয়ে বিমানবন্দরে প্রবেশ করছিল হাজারো আফগান মা-বাবা, সন্তান।

অরাজক পরিস্থিতির কারণে শুক্রবার প্রায় ছয় ঘণ্টা বন্ধ ছিল বিমানবন্দরের কার্যক্রম। শনিবারও একটি চার্টার ফ্লাইট স্থগিত করতে বাধ্য হয় সুইজারল্যান্ড।

আরও পড়ুন:
দেশের পথে শতাধিক ভারতীয়, কাবুলে আটকে সহস্রাধিক
তালেবান শাসন মেনে নিতে বললেন ঘানির ভাই
কাবুল বিমানবন্দরে আইএসের হামলার শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র
তালেবানকে স্বীকৃতি নয়: ইউরোপীয় ইউনিয়ন
স্থানীয়দের প্রতিরোধে তিন এলাকায় বিতাড়িত তালেবান

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কাশ্মীর সীমান্তে গোলাগুলি, পাকিস্তানি সন্ত্রাসী আটকের দাবি ভারতের

কাশ্মীর সীমান্তে গোলাগুলি, পাকিস্তানি সন্ত্রাসী আটকের দাবি ভারতের

ভারতে অনুপ্রবেশের সময় জীবিত আটক এই যুবক নিজেকে নিষিদ্ধঘোষিত লস্কর-ই-তাইয়েবার সদস্য হিসেবে স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। ছবি: এনডিটিভি

গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে নিয়ন্ত্রণরেখা এলাকায় সাত মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু করে ভারতীয় বাহিনী। উরি ও রামপুর সেক্টরে টহলের সময় মোট তিনটি অনুপ্রবেশের চেষ্টা ঠেকানো হয়। বন্দুকযুদ্ধের পর চার সন্ত্রাসী পাকিস্তানে ফিরে গেলেও ভারতে প্রবেশ করে লুকিয়ে যায় দুইজন। তাদের ঘিরে ফেলতেই শুরু সেনাদের অঞ্চলটিতে একত্রিত করা হয় বলে জানিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।

ভারতে অনুপ্রবেশের সময় পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবার এক সদস্যকে জীবিত আটক ও আরেকজন গুলিতে নিহত হয়েছে। এ নিয়ে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে সীমান্তে গত সাত দিনে সাতজনকে হত্যার কথা জানিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে কাশ্মীর উপত্যকার নিয়ন্ত্রণরেখা এলাকায় সোমবার সন্ধ্যায় ব্যাপক গোলাগুলি হয়।

ভারতীয় সেনাবাহিনী মঙ্গলবার জানায়, জম্মু-কাশ্মীরে বারামুল্লা জেলার সীমান্ত শহর উরিতে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালানো হয়। এর জেরে সে সময় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।

ভারতের সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল বীরেন্দ্র ভাটস সাংবাদিকদের বলেন, ‘এক সন্ত্রাসী আত্মসমর্পণ করার পর তাকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে। সে নিজের নাম আলী বাবর পত্র বলে জানিয়েছে। তার বয়স ১৯ বছর।

‘নিজেকে পাকিস্তানের পাঞ্জাবের বাসিন্দা বলে জানানো আলী লস্কর-ই-তাইয়েবার সদস্য বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। পাকিস্তানের মুজাফফরাবাদে গোষ্ঠীটির কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছে সে।’

গত কয়েক বছরে ভারতে পাকিস্তানি অনুপ্রবেশকারীকে জীবিত আটকের ঘটনা এটাই প্রথম।

গত এক সপ্তাহে সাত অনুপ্রবেশকারীকে হত্যার কথা উল্লেখ করে মেজর জেনারেল ভাটস বলেন, ‘পুরো নিয়ন্ত্রণরেখা এলাকাজুড়ে এমন পরিস্থিতি। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সাহায্য ছাড়া এত মানুষের পক্ষে সীমান্ত পেরোনো সম্ভব নয়। কারণ সীমান্তের ওপারে আগে পাকিস্তানি সীমান্তরক্ষীদের পার হয়ে আসতে হয় সন্ত্রাসীদের।’

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের সঙ্গে অস্ত্রবিরতিতে যায় ভারত। এরপর সম্প্রতি নিয়ন্ত্রণরেখা এলাকায় সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু করে ভারতীয় বাহিনী। এরই অংশ হিসেবে সোমবার ধরা পড়ে কথিত লস্কর-ই-তাইয়েবা সদস্য।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে উরি ও রামপুর সেক্টরে বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করেছে ভারতীয় বাহিনী। টহলের সময় মোট তিনটি অনুপ্রবেশের চেষ্টা ঠেকিয়েছে। বন্দুকযুদ্ধের পর চার সন্ত্রাসী পাকিস্তানে ফিরে গেলেও ভারতে প্রবেশ করে লুকিয়ে যায় দুইজন। তাদের ঘিরে ফেলতেই শুরু সেনাদের অঞ্চলটিতে একত্রিত করা হয় বলে জানান মেজর জেনারেল ভাটস।

অভিযানে একে সিরিজের সাতটি রাইফেল, নয়টি পিস্তল ও রিভলবার, ৮০টির বেশি গ্রেনেড এবং ভারতীয় ও পাকিস্তানি মুদ্রা জব্দ করা হয়েছে।

অভিযান চলাকালীন গত তিনদিনে চার ভারতীয় সেনাও আহত হয়েছে।

সালামাবাদ নালা এলাকা হয়ে অনুপ্রবেশের এসব চেষ্টা হয়েছিল। ২০১৬ সালে উরিতে ভারতীয় বাহিনীর সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো সন্ত্রাসীরাও এ পথেই ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিল। ওই হামলায় নিহত হয় ১৯ ভারতীয় সেনা। হামলার কিছুদিন পরই নিয়ন্ত্রণরেখা এলাকায় সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি ধ্বংসে কয়েক দফা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালায় ভারত।

আরও পড়ুন:
দেশের পথে শতাধিক ভারতীয়, কাবুলে আটকে সহস্রাধিক
তালেবান শাসন মেনে নিতে বললেন ঘানির ভাই
কাবুল বিমানবন্দরে আইএসের হামলার শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র
তালেবানকে স্বীকৃতি নয়: ইউরোপীয় ইউনিয়ন
স্থানীয়দের প্রতিরোধে তিন এলাকায় বিতাড়িত তালেবান

শেয়ার করুন

ভেঙে পড়েছে আফগানিস্তানের ব্যাংকিংব্যবস্থা

ভেঙে পড়েছে আফগানিস্তানের ব্যাংকিংব্যবস্থা

কাবুলে এক ব্যাংকের বাইরে অপেক্ষা করছেন আফগানরা। ছবি: এএফপি

ইসলামিক ব্যাংক অফ আফগানিস্তানের প্রধান নির্বাহী সৈয়দ মুসা কলিম বলেন, ‘ব্যাংকগুলো থেকে বিপুল পরিমাণে অর্থ তোলা এ সংকটের অন্যতম কারণ। গ্রাহকরা কেবল টাকা তুলছেন। বেশির ভাগ ব্যাংক কাজ করছে না। গ্রাহকদের পুরোপুরি সেবা দিতে পারছেন না ব্যাংক কর্মকর্তারা।’

আফগানিস্তানের ব্যাংকিংব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামিক ব্যাংক অফ আফগানিস্তানের প্রধান নির্বাহী সৈয়দ মুসা কলিম আল-ফালাহি।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, মুসা কলিম জানান, গ্রাহকদের উদ্বেগ আফগানিস্তানের ব্যাংকিংব্যবস্থাকে ‘অস্তিত্ব সংকটে’ ফেলেছে।

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কারণে এ মুহূর্তে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন মুসা কলিম।

তিনি বলেন, ‘ব্যাংকগুলো থেকে বিপুল পরিমাণে অর্থ তোলা এ সংকটের অন্যতম কারণ।

‘গ্রাহকরা কেবল টাকা তুলছেন। বেশির ভাগ ব্যাংক কাজ করছে না। গ্রাহকদের পুরোপুরি সেবা দিতে পারছেন না ব্যাংক কর্মকর্তারা।’

তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের আগে থেকেই দেশটির অর্থনীতি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল আফগানিস্তান। দেশটির জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ বিদেশি অর্থসহায়তা থেকে আসে।

গত মাসে কাবুল পতনের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ তালেবানের হাতে চলে যায়।

এরপরই পশ্চিমা বিশ্বের কয়েকটি দেশ ও সংস্থা আফগানিস্তানের আন্তর্জাতিক তহবিলের প্রবেশাধিকারের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়।

মুসা কলিম বলেন, ‘আর্থিক সহায়তার জন্য তালেবান ভিন্ন পথ খুঁজছে, এটি উৎসাহব্যঞ্জক।

‘আর্থিকসংকট কাটাতে চীন, রাশিয়াসহ অন্যান্য দেশের সহায়তা চাইছে তালেবান।’

তিনি বলেন, ‘ওই দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনায় তালেবান সফল হবে বলে মনে হচ্ছে।’

যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান পুনর্গঠনে এরই মধ্যে সহায়তার কথা জানিয়েছে চীন। এ ছাড়া তালেবান সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী দেশটি।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের সম্পাদকীয়তে সম্প্রতি বলা হয়েছে, ‘আফগানিস্তান পুনর্নির্মাণে চীনের সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।’

খাদ্যসহায়তা, করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকাসহ ২০০ মিলিয়ন ইউয়ান মূল্যের অর্থসহায়তার অঙ্গীকার এরই মধ্যে করেছে চীন।

তা সত্ত্বেও আফগানিস্তানের অর্থনৈতিকসংকট দূর করতে হিমশিম খাচ্ছে তালেবান সরকার।

দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি ক্রমাগত বাড়ছে, আফগান মুদ্রার পতন হচ্ছে এবং চাকরি হারানোয় অনেকের হাতে নগদ অর্থও নেই।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছে, আফগানিস্তানের মাত্র পাঁচ শতাংশ পরিবার প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার খেতে পারছে।

আফগানিস্তান রাষ্ট্রটিকে টিকে থাকতে হলে তাই আন্তর্জাতিক তহবিল ও বিদেশি সহায়তার বিকল্প নেই।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য, তালেবান সরকারের সঙ্গে তারা কাজ করতে আগ্রহী। তবে তার আগে ইসলামপন্থি গোষ্ঠীটিকে নারী ও জাতিগত সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষের অধিকারের প্রতি সম্মান জানাতে হবে।

মুসা কলিম জোর দিয়ে জানান, ‘কিছুদিন’ আফগান নারীদের ঘরের বাইরে কাজ করার বিষয়ে তালেবান নিষেধাজ্ঞা দিলেও তার ব্যাংকে নারী কর্মকর্তারা কাজে ফিরেছেন।

আরও পড়ুন:
দেশের পথে শতাধিক ভারতীয়, কাবুলে আটকে সহস্রাধিক
তালেবান শাসন মেনে নিতে বললেন ঘানির ভাই
কাবুল বিমানবন্দরে আইএসের হামলার শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র
তালেবানকে স্বীকৃতি নয়: ইউরোপীয় ইউনিয়ন
স্থানীয়দের প্রতিরোধে তিন এলাকায় বিতাড়িত তালেবান

শেয়ার করুন

ইট্রাসক্যান সভ্যতার উৎপত্তি কোথায়

ইট্রাসক্যান সভ্যতার উৎপত্তি কোথায়

দুই ইট্রাসক্যান মানুষের সমাধি। ছবি: সায়েন্স এলার্ট

ইতালির ১২টি স্থান থেকে প্রাপ্ত প্রায় দুই হাজার বছর পুরোনো জেনোমিক ডেটার তথ্য অনুযায়ী, ইট্রাসক্যান সভ্যতার রহস্যময় মানুষরা আনাতোলিয়া (বর্তমানে তুরস্কের অঞ্চল) থেকে আসেনি। প্রাচীন রোমের কাছে বাস করা মানুষের সঙ্গে ইট্রাসক্যানদের জিনগত মিল পাওয়া গেছে।

প্রাচীন ইট্রাসক্যান সভ্যতার উৎপত্তি কোথায়, এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছে তর্ক-বিতর্ক। ইতালিতে সম্প্রতি ওই সভ্যতার মানুষের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।

দেহাবশেষের ডিএনএ পরীক্ষা করে অবশেষে ওই বিতর্কের সমাপ্তি ঘটেছে বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা।

সায়েন্স এলার্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, একসময় বিশেষজ্ঞদের ধারণা ছিল, আনাতোলিয়া বা আজিয়ান থেকে ইট্রাসক্যানরা ইতালিতে স্থানান্তরিত হয়। আর তাদের সংস্কৃতি গ্রিকদের থেকে পাওয়া।

এ ধারণা আধুনিক যুগের বিশেষজ্ঞরা মানতে রাজি ছিলেন না। কারণ স্থানান্তরের বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ববিদরা তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য প্রমাণ পাননি।

ইতালির ১২টি স্থান থেকে প্রাপ্ত প্রায় দুই হাজার বছর পুরোনো জেনোমিক ডেটার তথ্য অনুযায়ী, ইট্রাসক্যান সভ্যতার রহস্যময় মানুষরা আনাতোলিয়া (বর্তমানে তুরস্কের অঞ্চল) থেকে আসেনি। প্রাচীন রোমের কাছে বাস করা মানুষের সঙ্গে ইট্রাসক্যানদের জিনগত মিল পাওয়া গেছে।

নিউলিথিক যুগের শেষে ও ব্রোঞ্জ যুগের শুরুতে স্তেপ অঞ্চল থেকে প্রাচীন রোম অঞ্চলে স্থানান্তর হওয়া গবাদিপশু পালকরা ইট্রাসক্যানদের পূর্বপুরুষ।

স্তেপ অঞ্চলে ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষার উদ্ভব হয় বলে ধারণা করা হয়।

বিজ্ঞানীদের গবেষণা ইট্রাসক্যান সভ্যতা সম্পর্কে আরেকটি রহস্যের উদঘাটন করে। তা হলো, ওই সভ্যতার মানুষের নন ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষা (এখন বিলুপ্ত) কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত টিকে ছিল।

ইতালির ইউনিভার্সিটি অফ ফ্লোরেন্সের নৃবিজ্ঞানী ডেভিড ক্যারামেলি বলেন, ‘জিন ভাষার সমান-এ সাধারণ ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকা ইট্রাসক্যান মানুষের ভাষা।’

ইট্রাসক্যানদের সম্পর্কে আরও অনেক কিছু জানা বাকি। কেবল তাদের অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

ইট্রাসক্যানরা অসাধারণ কারিগর, দক্ষ ধাতুকর্মী ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন মানুষ। তাদের বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ভাষা সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের আংশিক ধারণা রয়েছে।

ইট্রাসক্যানদের বিলুপ্ত ভাষা তাদের উৎপত্তির অনুসন্ধান জটিল করে তোলে।

আরও পড়ুন:
দেশের পথে শতাধিক ভারতীয়, কাবুলে আটকে সহস্রাধিক
তালেবান শাসন মেনে নিতে বললেন ঘানির ভাই
কাবুল বিমানবন্দরে আইএসের হামলার শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র
তালেবানকে স্বীকৃতি নয়: ইউরোপীয় ইউনিয়ন
স্থানীয়দের প্রতিরোধে তিন এলাকায় বিতাড়িত তালেবান

শেয়ার করুন

তালেবানের ‘প্রতিহিংসার’ বলি শিশু

তালেবানের ‘প্রতিহিংসার’ বলি শিশু

তালেবান যোদ্ধাদের হাতে প্রাণ হারায় এক শিশু। ছবি: এএনআই

পাঞ্জশির অবজারভার টুইটবার্তায় বলে, ‘শিশুটির বাবা তালেবানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ-সংগ্রামে অংশ নেন- এই সন্দেহে কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠীটির যোদ্ধারা পাঞ্জশিরের পার্শ্ববর্তী তাখার প্রদেশে তাকে হত্যা করে।’

আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় তাখার প্রদেশে এক শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে তালেবান।

শিশুটির বাবা আফগান প্রতিরোধ বাহিনীর সন্দেহভাজন সদস্য হওয়ায় তাকে প্রাণ হারাতে হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

তালেবানের হাতে শিশুহত্যার ঘটনা প্রথম প্রকাশ করে পাঞ্জশির অবজারভার। মূলত পাঞ্জশির ও আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয় স্বাধীন এই সংবাদমাধ্যমটিতে।

পাঞ্জশির অবজারভার টুইটবার্তায় বলে, ‘শিশুটির বাবা তালেবানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ-সংগ্রামে অংশ নেন- এই সন্দেহে কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠীটির যোদ্ধারা পাঞ্জশিরের পার্শ্ববর্তী তাখার প্রদেশে তাকে হত্যা করে।’

গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে আফগানিস্তান দখল করে তালেবান। এর আগে একটি ছাড়া দেশটির ৩৪টি প্রদেশের সবই গোষ্ঠীটির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ভৌগোলিক অবস্থানগত সুবিধা ও স্থানীয় লোকজনের তীব্র তালেবানবিরোধী মনোভাবের কারণে পাঞ্জশির উপত্যকা বারবার দখলের চেষ্টাও ব্যর্থ হয় তালেবান।

আফগানিস্তান দখলের পর একমাত্র পাঞ্জশির প্রদেশেই স্থানীয় লোকজন শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলে। আশপাশের প্রদেশ থেকেও সশস্ত্র তালেবানবিরোধী যোদ্ধারা প্রতিরোধ বাহিনীতে যোগ দেন।

কাবুল পতনের পর সপ্তাহ খানেক ধরে চলে প্রতিরোধ বাহিনীর সঙ্গে তালেবান যোদ্ধাদের তীব্র লড়াই। লড়াইয়ের একপর্যায়ে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীটির হাতে পাঞ্জশিরের পতন হয়।

তালেবানের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে নেয়া বা কথা বলা ভিন্ন মতাবলম্বীদের আফগানিস্তানে কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে।

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় তালেবান। এরপরই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা শুরু করে গোষ্ঠীটি। এর অংশ হিসেবে নারী, জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপেরও ঘোষণা দেয় তালেবান।

তবে বিশ্লেষকদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক মহলের স্বীকৃতি আদায়ের লক্ষ্যে তালেবান কাবুল পতনের পরপরই কিছুটা নমনীয় অবস্থান বিশ্বকে দেখায়। আগের শাসনামলে ফিরে না যাওয়ার কথাও তারা বলে। তবে কতটুকু তারা এসব অবস্থান বাস্তবায়ন করতে পারবে, তা নিয়ে সন্দেহ থেকে যাচ্ছে।

তাদের ভাষ্য, কথার ওপর নয়, বরং কাজের ওপরই তালেবানের মূল্যায়ন হবে।

দেশি-বিদেশি মহলকে তুষ্ট করার লক্ষ্যে শুরুতে অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের ঘোষণা দিলেও তালেবানের নতুন সরকারে শেষ পর্যন্ত কোনো নারীকে দেখা যায়নি। ছিল না জাতিগত সম্প্রদায়ের কোনো নেতাও।

সাংবাদিক, ভিন্ন মতাবলম্বী বেসামরিক নাগরিক থেকে শুরু করে পাঞ্জশিরে তালেবানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ লড়াইয়ে অংশ নেয়া বা সমর্থন করা ব্যক্তিদের ওপর চলতি মাসের শুরু থেকেই গোষ্ঠীটি চড়াও হয় বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদনে বলা হয়।

আরও পড়ুন:
দেশের পথে শতাধিক ভারতীয়, কাবুলে আটকে সহস্রাধিক
তালেবান শাসন মেনে নিতে বললেন ঘানির ভাই
কাবুল বিমানবন্দরে আইএসের হামলার শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র
তালেবানকে স্বীকৃতি নয়: ইউরোপীয় ইউনিয়ন
স্থানীয়দের প্রতিরোধে তিন এলাকায় বিতাড়িত তালেবান

শেয়ার করুন

জার্মান পার্লামেন্টে এমপি হলেন দুই ট্রান্সজেন্ডার

জার্মান পার্লামেন্টে এমপি হলেন দুই ট্রান্সজেন্ডার

ট্রান্সজেন্ডার টেসা গ্যানসেরার (বামে) ও নাইক স্ল্যাউয়িক জার্মান পার্লামেন্টে গ্রিন পার্টিকে প্রতিনিধিত্ব করবেন। ছবি: এএফপি

৪৪ বছর বয়সি গ্যানসেরার বলেন, ‘গ্রিন পার্টির জন্য এটি ঐতিহাসিক জয়। একই সঙ্গে ট্রান্সজেন্ডারদের অধিকারের দাবিতে চলমান আন্দোলন এবং এ সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষের জন্যও এ জয় স্মরণীয়।’

জার্মানির এবারের সাধারণ নির্বাচনে পরিবেশবাদী দল গ্রিন পার্টির দুজন ট্রান্সজেন্ডার রাজনীতিক জয় পেয়েছেন।

এই প্রথম পার্লামেন্টে ট্রান্সজেন্ডার সংসদ সদস্য দেখতে যাচ্ছে জার্মানি। ঐতিহাসিক এ ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই দেশটিতে সাড়া ফেলেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

রোববার অনুষ্ঠিত এবারের নির্বাচনে জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের রক্ষণশীল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের (সিডিইউ) সঙ্গে মধ্য-বামপন্থি সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এসপিডি) হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়।

সামান্য ব্যবধানে মেরকেলের দলকে হারিয়ে জয়ী হয়েছে সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি।

নির্বাচনে মোট ভোটের ১৪.৮ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে গ্রিন পার্টি। সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি ও ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন পায় যথাক্রমে ২৬ শতাংশ ও ২৪.৫ শতাংশ ভোট।

২০১৭ সালের নির্বাচনে গ্রিন পার্টি ৮.৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিল।

জার্মানির নতুন ত্রিমুখী জোট সরকারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে যাচ্ছে গ্রিন পার্টি। আর এই গ্রিন পার্টির হয়েই লড়াই করেন টেসা গ্যানসেরার ও নাইক স্ল্যাউয়িক।

৪৪ বছর বয়সি গ্যানসেরার রয়টার্সকে বলেন, ‘গ্রিন পার্টির জন্য এটি ঐতিহাসিক জয়।

‘একই সঙ্গে ট্রান্সজেন্ডারদের অধিকারের দাবিতে চলমান আন্দোলন এবং এ সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষের জন্যও এ জয় স্মরণীয়।’

দুই ছেলে সন্তানের মা গ্যানসেরার চান, লেসবিয়ান মায়েদের সন্তান দত্তক নেয়ার বিধান রেখে আইন পরিবর্তন করা হোক।

জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলীয় নর্থ রাইন-ওয়েস্টফ্যালিয়া রাজ্যের একটি আসন থেকে নির্বাচনে দাঁড়ান স্ল্যাউয়িক।

জয়ের খবর শুনে স্ল্যাউয়িক জানান, নির্বাচনের ফল অবিশ্বাস্য।

ইনস্টাগ্রামে স্ল্যাউয়িক বলেন, ‘আমার এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য হচ্ছে, নির্বাচনের এই ঐতিহাসিক ফলে জার্মানির পরবর্তী সংসদের সদস্য হতে যাচ্ছি আমি।

হোমোফোবিয়া ও ট্রান্সফোবিয়ার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে কর্মপরিকল্পনার আহ্বান জানিয়েছেন স্ল্যাউয়িক। এ ছাড়া জার্মানির বৈষম্যবিরোধী আইনও উন্নত করতে চান তিনি।

১৯৬৯ সালে জার্মানিতে সমকামিতায় বৈধতা দেয়া হয়। আর ২০১৭ সালে সমলিঙ্গের বিয়ে অনুমোদন পায়।

আরও পড়ুন:
দেশের পথে শতাধিক ভারতীয়, কাবুলে আটকে সহস্রাধিক
তালেবান শাসন মেনে নিতে বললেন ঘানির ভাই
কাবুল বিমানবন্দরে আইএসের হামলার শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র
তালেবানকে স্বীকৃতি নয়: ইউরোপীয় ইউনিয়ন
স্থানীয়দের প্রতিরোধে তিন এলাকায় বিতাড়িত তালেবান

শেয়ার করুন

কানাডায় খনিতে আটকা ৩৯ শ্রমিক

কানাডায় খনিতে আটকা ৩৯ শ্রমিক

খনির মালিকানা প্রতিষ্ঠান বলছে, এ ঘটনায় শ্রমিকদের কেউ আহত হননি। তাদের কাছে পর্যাপ্ত খাবার ও পানি রয়েছে। তাদের দ্রুতই উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

কানাডার পূর্বাঞ্চল ওন্টারিও প্রদেশের একটি খনিতে ৩৯ জন শ্রমিক আটকা পড়েছেন। এক দুর্ঘটনায় খনিটির প্রধান যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় এসব মাইনার বের হতে পারছেন না।

স্থানীয় সময় রোববার বিকেলে এ ঘটনা ঘটলেও ২৪ ঘণ্টা পর সোমবার সন্ধ্যায় খনির মালিকানা প্রতিষ্ঠান ব্রাজিলের ভালে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

খনির মালিকানা প্রতিষ্ঠান বলছে, এ ঘটনায় শ্রমিকদের কেউ আহত হননি। তাদের কাছে পর্যাপ্ত খাবার ও পানি রয়েছে। তাদের দ্রুতই উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, খনিতে ভারী একটি স্কুপ বাকেট ছিড়ে পড়েছে। এর ফলে খনিতে মূল যাতায়াত ব্যবস্থা অকেজো হয়ে পড়েছে। তবে উদ্ধারকারী ক্রুরা আকটে পড়া খনি শ্রমিকদের কাছে পৌঁছাতে পেরেছেন। তাদেরকে বিকল্প উপায়ে বের করে আনার চেষ্টা চলছে।

ভালের মুখপাত্র দানিকা পাগনুত্তি রেডিও কানাডাকে বলেন, ‘খনিতে প্রধান যোগাযোগ ব্যবস্থায় দুর্ঘটনার সময় ওই রাস্তায় কেউ ছিলেন না।’

ওন্টারিও প্রদেশের প্রধান প্রশাসক ডগ ফোর্ড এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারছি যে, এই উদ্ধার অভিযানে কিছুটা সময় লাগবে। তবে এটা শুনে স্বস্তি পাচ্ছি যে, আটকে পড়া খনি শ্রমিকদের কেউ আহত হননি।’

ওই ঘটনার পর খনিটিতে সব ধরনের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ভালে জানিয়েছে, উৎপাদন কার্যক্রম আবার শুরু করা যায় কি না এ ব্যাপারে পর্যালোচনা করা হবে।

ওন্টারিওর সাডবারির টটেন নামক নিকেলের খনিটি ১৯৭২ সালে বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। তবে ভালে সেখানে ২০১৪ সালে আবার কার্যক্রম শুরু করে। খনিটি থেকে ২০২১ সালে ৩ হাজার ৬০০ টন নিকেল আহরণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
দেশের পথে শতাধিক ভারতীয়, কাবুলে আটকে সহস্রাধিক
তালেবান শাসন মেনে নিতে বললেন ঘানির ভাই
কাবুল বিমানবন্দরে আইএসের হামলার শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র
তালেবানকে স্বীকৃতি নয়: ইউরোপীয় ইউনিয়ন
স্থানীয়দের প্রতিরোধে তিন এলাকায় বিতাড়িত তালেবান

শেয়ার করুন

তালেবান আতঙ্কে ফেসবুক-টুইটার ছাড়ার হিড়িক

তালেবান আতঙ্কে ফেসবুক-টুইটার ছাড়ার হিড়িক

তালেবানের প্রতিশোধের ভয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়ছেন আফগানরা। ছবি: এএফপি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী হারিস বলেন, ‘কারো অনুরোধে বা অর্থের জন্য তালেবানের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমি কখনো কোনো পোস্ট করিনি। আমি গণতন্ত্রের পক্ষে। সাবেক প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির সমর্থক ছিলাম না। ঘানির সমালোচনা করেও অনেক পোস্ট করেছি।’

তালেবান আফগানিস্তানের দখল নেয়ার আগে দেশটিতে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী ছিলেন। সামাজিক মাধ্যমে তারা তালেবানের নীতির কড়া সমালোচনা করতেন।

১৫ আগস্ট তালেবানের হাতে কাবুল পতনের পর গোষ্ঠীটির যোদ্ধাদের প্রতিহিংসামূলক হামলার ভয়ে ওই আফগানরা তালেবানবিরোধী আগের সব ছবি ও টুইট মুছে ফেলেন।

আবার এদের মধ্যে অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নিজেদের অ্যাকাউন্টও সরিয়ে নেন।

তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াই করা বা পশ্চিমা দেশ সমর্থিত সাবেক সরকারকে সহায়তা করাসহ সব আফগানকে সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা গোষ্ঠীটির নেতারা দিলেও তাদের আশ্বাসবাণীতে ভরসা রাখতে পারছেন না অনেকে।

আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার একপর্যায়ে দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে ভিন্নমতাবলম্বী বেসামরিক নাগরিকদের তালেবানের হাতে প্রাণ হারানোর খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়।

গত সপ্তাহে তালেবানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব এক অডিও বার্তায় স্বীকার করেন, গোষ্ঠীটির যোদ্ধারা প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে কয়েকজন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছেন।

এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী দুই আফগানের সঙ্গে কথা বলে বিবিসি।

এদের একজন আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল ও অন্যজন দেশটির গুরুত্বপূর্ণ এক শহরের বাসিন্দা।

এবারের তালেবান শাসনের আগে উভয়ই প্রভাবশালী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মাস খানেক আগেও তাদের লাখ লাখ ফলোয়ার ছিল।

তালেবানের হামলার লক্ষ্যে পরিণত হওয়ার শঙ্কায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ওই দুই আফগান নিজেদের অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলেছেন।

ওই দুজনের সঙ্গে কথা বলে বিবিসি। নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের প্রকৃত নাম প্রকাশ করা হয়নি।

কাবুলে বসবাসরত ফিদা তালেবানের কট্টর সমালোচক। গোষ্ঠীটির নীতি বা কর্মকাণ্ড নিয়ে একসময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা করতেন তিনি।

তালেবানের ভয়ে পশ্চিমা দেশে রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য যেসব আফগান আবেদন করেছেন, তাদের মধ্যে ফিদাও রয়েছেন।

তিনি বলেন, “আত্মীয়স্বজন আমাকে বলেছেন, ‘দখলদারদের’ বিরুদ্ধে তালেবানের যুদ্ধের সমালোচনা করায় আমার জীবন এখন হুমকিতে।

‘তালেবান সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা দিলেও তারা কাউকে ক্ষমা করবে না'।"

ফিদা জানান, তালেবান যোদ্ধারা যেসব আফগানকে ‘দেখা মাত্রই মাথায় গুলি করার’ তালিকা প্রস্তুত করেছে, সেখানে তার নামও রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘দেশে দিনের পর দিন আতঙ্কে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো।’

তালেবাননিয়ন্ত্রিত এক শহরে বাস করেন হারিস। তিনি জানান, কাবুল পতনের দুই দিন পর তিনি তার অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলেন। জীবনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে থাকায় তিনিও দেশত্যাগ করবেন।

শুধু হারিসই নন, তার মতো আরও শত শত তরুণ আফগান শিগগিরই দেশ ছাড়বেন।

হারিস জানান, কারো অনুরোধে বা অর্থের জন্য তালেবানের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি কখনো কোনো পোস্ট করেননি।

তিনি বলেন, ‘আমি গণতন্ত্রের পক্ষে। সাবেক প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির সমর্থক ছিলাম না। ঘানির সমালোচনা করেও অনেক পোস্ট করেছি।’

তালেবান সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পরও কেন দেশ ছাড়তে চাইছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি নিরাপদ বোধ করছি না।

‘তালেবান যোদ্ধারা এখনও লোকজনকে টার্গেট করে হত্যা করছে। বিরোধীদের হন্যে হয়ে খুঁজছে।’

হারিস বলেন, ‘তালেবানের অত্যাচার সবে শুরু হয়েছে। সামনে আরও অনেক কিছু দেখবে বিশ্ব।’

আরও পড়ুন:
দেশের পথে শতাধিক ভারতীয়, কাবুলে আটকে সহস্রাধিক
তালেবান শাসন মেনে নিতে বললেন ঘানির ভাই
কাবুল বিমানবন্দরে আইএসের হামলার শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র
তালেবানকে স্বীকৃতি নয়: ইউরোপীয় ইউনিয়ন
স্থানীয়দের প্রতিরোধে তিন এলাকায় বিতাড়িত তালেবান

শেয়ার করুন