স্থানীয়দের প্রতিরোধে তিন এলাকায় বিতাড়িত তালেবান

স্থানীয়দের প্রতিরোধে তিন এলাকায় বিতাড়িত তালেবান

আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশের ৩৩টি এবং রাজধানী কাবুল তালেবানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার পর এই প্রথম বড় ধরনের কোনো প্রতিরোধের খবর এলো।

তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে ধীরে ধীরে সাধারণ নাগরিকদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। তাদের প্রতিরোধের মুখে বাঘলান প্রদেশের তিনটি এলাকা থেকে পালিয়েছে কট্টর ইসলামপন্থি সংগঠনটির যোদ্ধারা।

বাঘলানের এলাকা তিনটি পুল-ই-হাসের, বানু ও দেহ সালাহ। এলাকা তিনটি থেকে তালেবান যোদ্ধাদের হটানোর সময় উভয় পক্ষে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে খবর।

আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশের ৩৩টি এবং রাজধানী কাবুল তালেবানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার পর এই প্রথম বড় ধরনের কোনো প্রতিরোধের খবর এলো। অবশ্য এ বিষয়ে তালেবান থেকে কোনো মন্তব্য আসেনি।

বানুর সাবেক পুলিশপ্রধান আসাদুল্লাহ বলেন, ‘সৃষ্টিকর্তা ও মুজাহিদীনদের সহায়তায় তিনটি এলাকা স্বাধীন করা হয়েছে। আমরা এখন খিনজান এলাকার দিকে এগোচ্ছি। দ্রুতই বাঘলান প্রদেশ মুক্ত করা হবে।’

বাঘলান প্রদেশের হাইওয়ে পুলিশের সাবেক কমান্ডার গনি আন্দারাবি বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে আমরা তালেবানের অনেক হতাহত করতে পেরেছি। বর্তমানে বানু এলাকা গড়ে ওঠা স্থানীয় বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে।’

একাধিক সূত্র বলেছে, বাঘলানে প্রবেশের পরপরই তালেবান যোদ্ধারা দুয়ারে দুয়ারে তল্লাশি চালাচ্ছিল। এতে প্রতিরোধে ফেটে পড়ে স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে তালেবান থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া না এলেও হারানো এলাকা তিনটি পুনরুদ্ধারে তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে।

একের পর এক অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পর গত রোববার রাজধানী কাবুলে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ দখলে নিয়ে আফগানিস্তানের সবকিছু করায়ত্ত করে তালেবান। দুই দশক পর দেশটিতে সরকার গঠন করা তাদের জন্য কেবল সময়ের ব্যাপার।

অবশ্য তালেবান থেকে বলা হচ্ছে, আগের কট্টর অবস্থান থেকে সরে এসেছে তারা। সবাইকে ক্ষমার ঘোষণাও দিয়েছে তারা। সেই সঙ্গে নারী অধিকার নিশ্চিতের পাশাপাশি নারীদের উচ্চ শিক্ষা এবং চাকরি ক্ষেত্রেও কোনো বাধা দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে তালেবান। বলা হচ্ছে ‘এই তালেবান সেই তালেবান নয়’।

তালেবানের এসব প্রতিশ্রুতিতে বাস্তবের কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছে না। বরং তারা বিরোধীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি শুরু করেছে। গজনি প্রদেশে হাজারা সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে।

এসব ঘটনায় আফগানিস্তানের জায়গায় জায়গায় তালেবান প্রতিরোধী হয়ে উঠছে সাধারণ জনতা। প্রতিরোধ গড়তে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অস্ত্র চেয়েছেন বহুল পরিচিত এক প্রয়াত যোদ্ধার ছেলে

আর পালিয়ে যাওয়া প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির ডেপুটি, অর্থাৎ ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ অজ্ঞাত স্থান থেকে এক বার্তায় দিয়েছেন প্রতিরোধের ডাক। বলেছেন, প্রেসিডেন্ট পালিয়ে যাওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী তিনিই এখন প্রেসিডেন্ট।

সালেহ অজ্ঞাত স্থান থেকে বার্তা দেন সোমবার। আর বুধবারই তালেবানবিরোধী বিক্ষোভ দেখা গেছে দেশটির জালালাবাদ শহরে। এই শহরটিও যুদ্ধ ছাড়া তুলে দেয়া হয়েছিল। আর সেই শহরের বাসিন্দারাই তালেবানের তোলা পতাকা নামিয়ে নিজ দেশের পতাকা উড়িয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার দেশটির স্বাধীনতা দিবসেও দেখা গেল একই রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি। জালালাবাদের আসাদাবাদ ছাড়াও বিক্ষোভ হয়েছে অন্তত পাঁচটি শহরে। বাদ যায়নি রাজধানী কাবুলও। এখানেও তালেবানের সরাসরি গুলি। আর্তনাদ, প্রাণহানি।

আরও পড়ুন:
কাবুল বিমানবন্দরে যাবেন না, নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র
বিমানবন্দর থেকে ভারতীয়সহ ৭২ জনকে ‘বন্দি করেছে’ তালেবান
সরকার গঠনে কাবুলে তালেবান নেতা মোল্লা বারাদর
আফিম না বেচে চলতে পারবে তালেবান?

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পাকিস্তানে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ার রেকর্ড

পাকিস্তানে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ার রেকর্ড

পাকিস্তানে পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্য রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে। ছবি: জি নিউজ

পাকিস্তানে গ্রাহক পর্যায়ে এক লিটারের পেট্রোলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৭ দশমিক ৭৯ রুপি। প্রতি লিটার হাইস্পিড ডিজেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৪ দশমিক ৪৮ রুপি এবং প্রতি লিটার কেরোসিনের দাম ধরা হয়েছে ১১০ দশমিক ২৬ রুপি।

পেট্রোলিয়াম জাতীয় পণ্যের মূল্য এক লাফে রেকর্ড ১০ রুপির বেশি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। শনিবার থেকেই কার্যকর হয়েছে জ্বালানিপণ্যের পুননির্ধারিত দাম।

জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানে গ্রাহক পর্যায়ে এক লিটারের পেট্রোলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৭ দশমিক ৭৯ রুপি। প্রতি লিটার হাইস্পিড ডিজেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৪ দশমিক ৪৮ রুপি এবং প্রতি লিটার কেরোসিনের দাম ধরা হয়েছে ১১০ দশমিক ২৬ রুপি।

পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের মূল্য এখন প্রায় ৮৫ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৮ সালের অক্টোবরের পর এটাই সর্বোচ্চ বৃদ্ধি।

জ্বালানির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এবং সরবরাহ পর্যাপ্ত না থাকায় গত কয়েক মাসে পাকিস্তানের পুরো জ্বালানি খাতেই ব্যাপক দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে সরকার পেট্রোলিয়ামজাতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক ও বিক্রয় কর সর্বনিম্ন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তাতেও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না।

পেট্রোলিয়ামজাতীয় সব পণ্যের নতুন মূল্য শনিবার থেকে কার্যকরের কথা জানিয়েছে পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয়।

এসব পণ্যের মূল্য না বাড়াতে পাকিস্তান সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) নেতা ও সিনেটের সাবেক চেয়ারম্যান মিঞা রেজা রাব্বানি।

তিনি বলেন, ‘চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে প্রতি লিটার পেট্রোলের মূল্য ৯ রুপি বাড়ানো হয়। নিত্য প্রয়োজনীয় সব দ্রব্যের দাম এখন সর্বোচ্চ। পেট্রোলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত সরকারকে দ্রুত বাতিল করতে হবে।’

রাব্বানি বলেন, ‘পেট্রোলিয়ামজাতীয় পণ্যের বর্ধিত মূল্য জনসাধারণ পরিশোধ করতে হিমশিম খাবে। সরকারে থাকা অভিজাত শ্রেণি জনগণকে আত্মহত্যা বা বিদ্রোহের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

‘আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দাবি মেনে সরকার বিদ্যুৎ শুল্ক প্রতি ইউনিটে ১.৩৯ রুপি বাড়িয়েছে। বিদ্যুতের ওপর ৭৭ বিলিয়ন রুপি ভর্তুকি বাতিলের পর ওই শুল্ক এ পরিমাণে বাড়ানো হয়। সরকারের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানাচ্ছে পিপিপি।’

পিপিপির এই নেতা জানান, রান্নার তেল ও ঘি ৪০ শতাংশ বাড়িয়েছে সরকার। এখন প্রতি কেজি রান্নার তেল ও ঘিয়ের মূল্য যথাক্রমে ৩৯৯ ও ৪০৯ রুপি। টমেটো, আলু, খাসির মাংস, এলপিজিসহ ২২টি নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর মূল্য সম্প্রতি অনেক বেড়েছে।

রাব্বানি দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, ‘গত কয়েকদিন মার্কিন ডলারের মান রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। আইএমএফের ঋণ পরিশোধের বিনিময়ে পণ্যের ওপর আরও কর বসাতে সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছে সংস্থাটি।’

পেট্রোলিয়াম জাতীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইমরানের পদত্যাগ দাবি করেছেন বিরোধী দল পাকিস্তান মুসলিম লিগের (পিএমএল-এন) প্রেসিডেন্ট শেহবাজ শরীফ। তিনি বলেন, “বিদ্যুৎ শুল্ক ১৪ শতাংশ বৃদ্ধির পর জনগণের ওপর ‘পেট্রোল বোমা’ ‘মিনি বাজেটের’ ধারাবাহিকতা।

প্রধানমন্ত্রী ইমরানের ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই। তার পদত্যাগ জাতিকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে। ‘মিনি বাজেট’ বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক ব্যর্থতার প্রমাণ।”

আরও পড়ুন:
কাবুল বিমানবন্দরে যাবেন না, নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র
বিমানবন্দর থেকে ভারতীয়সহ ৭২ জনকে ‘বন্দি করেছে’ তালেবান
সরকার গঠনে কাবুলে তালেবান নেতা মোল্লা বারাদর
আফিম না বেচে চলতে পারবে তালেবান?

শেয়ার করুন

কাবুলে ভুলবশত হামলা: নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেবে যুক্তরাষ্ট্র

কাবুলে ভুলবশত হামলা: নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেবে যুক্তরাষ্ট্র

কাবুলে ড্রোন হামলায় নিহত সাত শিশুর মধ্যে এই শিশুরাও ছিল। ছবি: সংগৃহীত

পেন্টাগনের বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নীতিবিষয়ক সহকারী সচিব কলিন কাহল এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা পুষ্টি ও শিক্ষার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট স্টিভেন কেওয়নের মধ্যে বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে কাবুলে ড্রোন হামলায় নিহতদের স্বজনদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রস্তাব ওঠে।

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে জঙ্গি সন্দেহে ভুলবশত ড্রোন হামলা চালানো স্বীকারের পর এবার নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

পেন্টাগনের বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নীতিবিষয়ক সহকারী সচিব কলিন কাহল এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা পুষ্টি ও শিক্ষার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট স্টিভেন কেওয়নের মধ্যে বৈঠক হয়।

ওই বৈঠকে কাবুলে ড্রোন হামলায় নিহতদের স্বজনদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রস্তাব ওঠে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র সরকার ওই প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে হামলায় নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়।

পেন্টাগনের পক্ষ থেকে বলা হয়, নিহতদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যারা হামলায় বেঁচে গেছেন, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

চলতি বছরের আগস্টের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো তাদের সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। সেনা প্রত্যাহারের শেষ কয়েক মাসে আফগানিস্তানের বিশাল এলাকা তালেবান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার একপর্যায়ে ১৫ আগস্ট কাবুল দখল করে।

তালেবানের আগের কঠোর শাসনামল পুনরাবৃত্তির ভয়ে ওই সময় লাখ লাখ আফগানসহ বিদেশি নাগরিক আফগানিস্তান ছাড়তে কাবুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভিড় করে।

নাগরিকদের উদ্ধার তৎপরতার শেষ সময়ে ২৬ আগস্ট কাবুল বিমানবন্দরের বাইরে আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ সেনাসহ ১৭০ আফগান বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়।

নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) আফগান শাখা আইএস-খোরাসান (আইএস-কে) ওই হামলার দায় নেয়।

ওই ঘটনার তিন দিন পর ২৯ আগস্ট কাবুলে আবাসিক এলাকায় আইএস-কের সন্দেহভাজন যোদ্ধা বহনকারী গাড়ি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা করে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী।

ওই হামলায় এক ত্রাণ সহায়তাকর্মী ও তার পরিবারের সাত শিশুসহ ৯ সদস্য নিহত হয়।

যুক্তরাষ্ট্র পরে জানায়, হামলা করা গাড়িতে আইএস-কের সদস্য থাকার ভুল তথ্য তাদের হাতে ছিল। গোয়েন্দা সংস্থা তাদের বলে, ওই গাড়িতে চড়ে আইএস-কের বেশ কয়েকজন আত্মঘাতী সদস্য হামলার লক্ষ্যে কাবুল বিমানবন্দরের দিকে যাচ্ছে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তা জেনারেল কেনেথ ম্যাকেঞ্জি জানান, আইএস-কে সংশ্লিষ্ট এক জায়গায় ত্রাণ সহায়তাকর্মী জামাইরি আহমাদির গাড়িটি দেখতে পাওয়া যায়।

২৯ আগস্ট আট ঘণ্টা ধরে আহমাদির গাড়ির ওপর নজর রাখা হয়।

একপর্যায়ে ড্রোনের সাহায্যে দেখা যায়, ওই গাড়ির পেছনে লোকজন বিস্ফোরকের মতো দেখতে কিছু জিনিস বোঝাই করছে। পরে অবশ্য জানা যায়, সেগুলো পানির কন্টেইনার ছিল।

ওই ঘটনাকে ‘দুঃখজনক ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করেন ম্যাকেঞ্জি। তালেবানের সঙ্গে ওই হামলার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
কাবুল বিমানবন্দরে যাবেন না, নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র
বিমানবন্দর থেকে ভারতীয়সহ ৭২ জনকে ‘বন্দি করেছে’ তালেবান
সরকার গঠনে কাবুলে তালেবান নেতা মোল্লা বারাদর
আফিম না বেচে চলতে পারবে তালেবান?

শেয়ার করুন

স্পেস স্টেশন নির্মাণে মহাকাশে ফের অভিযান চীনের

স্পেস স্টেশন নির্মাণে মহাকাশে ফের অভিযান চীনের

স্পেস স্টেশন নির্মাণে ২য় মহাকাশযান পাঠাল চীন। ছবি: রয়টার্স

স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে মহাকাশযানটি চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ গানসুর জিকুয়ান স্যাটেলাইট লঞ্চ সেন্টার থেকে মহাকাশের উদ্দেশে রওনা দেয়।

মহাকাশে নিজেদের একটি স্টেশনের কোর মডিউলের উদ্দেশে তিন নভোচারীসহ রকেট পাঠিয়েছে চীন। নভোচারীদের একজন নারী ও দুজন পুরুষ। চীনের আগামী স্পেস স্টেশনটির কোর মডিউলে তারা ছয় মাস কাজ করবেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, লং মার্চ-২এফ নামের রকেটটি শেনঝাউ-১৩ মহাকাশযান বহন করে। স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে এটি চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ গানসুর জিকুয়ান স্যাটেলাইট লঞ্চ সেন্টার থেকে মহাকাশের উদ্দেশে রওনা দেয়।

চায়না ম্যানড স্পেস এজেন্সির পক্ষ থেকে বলা হয়, শনিবার সকাল ৭টার দিকে রকেটটি সফলভাবে স্পেস স্টেশনে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। নভোচারীরা সকাল ১০টার দিকে স্পেস স্টেশনের কোর মডিউলে প্রবেশ করেন।

চলতি বছরের এপ্রিলে স্পেস স্টেশন নির্মাণ শুরু করে চীন। ওই সময় স্টেশনটির তিনটি মডিউলের মধ্যে প্রথম ও সবচেয়ে বড় মডিউল তিয়ানহে কক্ষপথে স্থাপন করা হয়। স্পেস স্টেশনটির নির্মাণ শেষ হলে বাসের চেয়ে আকৃতিতে কিছুটা বড় তিয়ানহেতে থাকবেন নভোচারীরা।

শেনঝাউ-১৩ চারটি মহাকাশ অভিযানের মধ্যে দ্বিতীয়। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে স্পেস স্টেশন নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে মহাকাশে এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।

এর আগে সেপ্টেম্বরে প্রথম মহাকাশযানে চড়ে অন্য তিন নভোচারী তিয়ানহেতে ৯০ দিন অবস্থান করেন।

সাম্প্রতিক অভিযানে তিয়ানহের মূল প্রযুক্তি ও রোবোটিক্স পরীক্ষা করবেন নভোচারীরা।

এই অভিযানের কমান্ডার ৫৫ বছর বয়সী ঝাই ঝিগ্যাং। নব্বই দশকের শেষের দিকে চীনের নভোচর প্রশিক্ষণার্থীদের প্রথম ব্যাচের একজন ঝিগ্যাং। চীনের এক গ্রামে জন্ম নেয়া ঝিগ্যাং ২০০৮ সালে দেশটির প্রথম মহাকাশ অভিযানে ছিলেন।

শেনঝাউ-১৩ ঝিগ্যাংয়ের দ্বিতীয় মহাকাশ অভিযান।

মহাকাশে যাত্রার আগে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে ঝিগ্যাং বলেন, ‘সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং কাজ হচ্ছে, কক্ষপথে টানা ছয় মাস থাকা। এ অভিযান শরীর ও মনের একাগ্রতা দাবি করে।’

স্পেস স্টেশন নির্মাণে ঝিগ্যাংয়ের সঙ্গে থাকছেন ৪১ বছর বয়সী ওয়াং ইয়াপিং ও ইয়ে গুয়াংফু।

দৃঢ় মনোবলের জন্য সহকর্মীদের মধ্যে বিশেষভাবে পরিচিত ইয়াপিং। চীনের বিমানবাহিনীর সাবেক পাইলট ইয়াপিং ২০১৩ সালে প্রথম মহাকাশ ভ্রমণ করেন। মহাকাশে যাওয়া চীনের নারী নভোচারীদের মধ্যে ইয়াপিং দ্বিতীয়। এর আগে ২০১২ সালে লিউ ইয়াং মহাকাশে যান।

তৃতীয় নভোচারী গুয়াংফুর এটাই প্রথম মহাকাশ অভিযান।

আরও পড়ুন:
কাবুল বিমানবন্দরে যাবেন না, নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র
বিমানবন্দর থেকে ভারতীয়সহ ৭২ জনকে ‘বন্দি করেছে’ তালেবান
সরকার গঠনে কাবুলে তালেবান নেতা মোল্লা বারাদর
আফিম না বেচে চলতে পারবে তালেবান?

শেয়ার করুন

কর্মস্থলে নারীদের হয়রানির ব্যবস্থা নিচ্ছে না চীন

কর্মস্থলে নারীদের হয়রানির ব্যবস্থা নিচ্ছে না চীন

চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নির্যাতনের শিকার নারীদের পক্ষে না থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুখ খুলছেন ভুক্তভোগী নারীরা। ছবি: দ্য উইক

চীনের অধিকারকর্মীরা বলছেন, যৌন হয়রানি বা নির্যাতনের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর নীরবতা, রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব না দেয়া ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে উল্টো স্পষ্টভাবে অভিযোগকারীদের দিকেই আঙুল তোলার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের যন্ত্রণার কথা বলতে বাধ্য হচ্ছেন ভুক্তভোগী নারীরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হ্যাশট্যাগ মিটু লিখে দীর্ঘদিন ধরে যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের কথা অকপটে বলে আসছেন চীনের নারীরা।

তা সত্ত্বেও দেশটির করপোরেট নেতারা ও সরকারি বিভিন্ন সংস্থা কর্মস্থলে নারীদের যৌন নির্যাতন ও হয়রানি কমাতে এবং জেন্ডার সমতা বাড়াতে কার্যকর নীতি গ্রহণ বা বাস্তবায়নে এখন পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে।

অধিকারকর্মীদের বরাতে এসব তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা

চীনের আইনজীবী ও অধিকারকর্মীদের ভাষ্য, কর্মস্থলে নারীদের হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যথোপযুক্ত উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীদের প্রশ্ন, কবে তাদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

নারী কর্মীদের ওপর হয়রানি বন্ধে অর্থপূর্ণ নীতি গ্রহণে ব্যর্থতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাবমূর্তি ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। এ ছাড়া উচ্চশিক্ষিত চীনা নারীদের এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলারও শঙ্কা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চীনের আলোচিত এক নারী অধিকারকর্মী বলেন, ‘কোনো প্রতিষ্ঠান নারী কর্মীদের ওপর হয়রানি বন্ধে নতুন কোনো নীতি গ্রহণ করেছে, এমনটা আমি শুনিনি। বরং যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা অনেকটা নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।’

চীনের অধিকারকর্মীরা বলছেন, যৌন হয়রানি বা নির্যাতনের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর নীরবতা, রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব না দেয়া ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে উল্টো স্পষ্টভাবে অভিযোগকারীদের দিকেই আঙুল তোলার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের যন্ত্রণার কথা বলতে বাধ্য হচ্ছেন ভুক্তভোগী নারীরা।

এ ছাড়া আদালতের শুনানি ও পুলিশি তদন্তে স্বচ্ছতার অভাব থাকায় যোগাযোগমাধ্যমে বিচারের দাবি করা ছাড়া গত্যন্তর দেখছেন না তারা।

চীনের ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা, পরিবহন কোম্পানি ডিডি, মদ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কোয়েচো মাউতাইসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারীরা সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন।

আরও পড়ুন:
কাবুল বিমানবন্দরে যাবেন না, নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র
বিমানবন্দর থেকে ভারতীয়সহ ৭২ জনকে ‘বন্দি করেছে’ তালেবান
সরকার গঠনে কাবুলে তালেবান নেতা মোল্লা বারাদর
আফিম না বেচে চলতে পারবে তালেবান?

শেয়ার করুন

প্রতিরক্ষায় ৭ নতুন সংস্থার ঘোষণা মোদির

প্রতিরক্ষায় ৭ নতুন সংস্থার ঘোষণা মোদির

নরেন্দ্র মোদি বলেন, সংস্থাগুলো তৈরির সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল। এই নতুন সাতটি সংস্থা আগামী দিনে দেশের সামরিক শক্তির ক্ষেত্রে এক শক্তিশালী ভিত তৈরি করবে।

প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির ক্ষেত্রে বেসরকারি পুঁজি বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত করতে এক লাফে অনেকটাই এগিয়ে গেল ভারত সরকার। ৩০০ বছরের পুরোনো ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ডের পরিবর্তে সাতটি নতুন কোম্পানি তৈরির ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

চলতি মাসের শুরুতেই সরকার ভেঙে দেয় অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ড (ওএফবি)। কলকাতায় ১৭১২ সালে তৈরি ওএফবি ভারতের ৪১টি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির সরকারি ফ্যাক্টরি নিয়ন্ত্রণ করত। ওএফবিকে ১ অক্টোবর নিষ্ক্রিয় ঘোষণা করে সরকার।

এর পরিবর্তে শুক্রবার সাতটি নতুন প্রতিরক্ষা সংস্থার ঘোষণা করেন মোদি। দেশের ৪১টি অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরিকে এদিন সরকার পরিচালিত সাতটি করপোরেট সংস্থায় রূপান্তরিত করা হয়। ভারতকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক শক্তিতে রূপান্তরিত করাই হবে এর লক্ষ্য।

মোদি বলেন, ‘গত সাত বছরে দেশ মেক ইন ইন্ডিয়া মন্ত্রের সঙ্গে নিজেদের সংকল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করেছে। আজ দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যে স্বচ্ছতা, যে বিশ্বাস রয়েছে, যে তথ্য-প্রযুক্তি নিয়ে কাজের সুবিধা রয়েছে তা আগে কোনো দিন ছিল না। স্বাধীনতার পর প্রথমবার আমাদের প্রতিরক্ষা বিভাগে এত সংস্কার হচ্ছে। এতে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।’

যে সাতটি নতুন প্রতিরক্ষা সংস্থা হবে, সেগুলো হলো মিউনিশন ইন্ডিয়া লিমিটেড (এমআইএল), আরমার্ড ভেহিকেলস নিগম লিমিটেড (অবনি), অ্যাডভান্স উইপনস অ্যান্ড ইক্যুইপমেন্ট ইন্ডিয়া লিমিটেড (এডব্লুই ইন্ডিয়া), ট্রুপ কমফোর্টস লিমিটেড (টিসিএল), যন্ত্র ইন্ডিয়া লিমিটেড (ওয়াইআইএল), ইন্ডিয়া অপটেল লিমিটেড (আইওএল) ও গ্লিডার্স ইন্ডিয়া লিমিটেড (জিআইএল)।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংস্থাগুলো তৈরির সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল। এই নতুন সাতটি সংস্থা আগামী দিনে দেশের সামরিক শক্তির ক্ষেত্রে এক শক্তিশালী ভিত তৈরি করবে।

ভারতীয় অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরিগুলোর গৌরবময় অতীতের কথা উল্লেখ করে মোদি জানান, এই সাতটি প্রতিরক্ষা সংস্থা পরিস্থিতি পরিবর্তনে প্রধান ভূমিকা পালন করবে। ইতিমধ্যে ৬৫ হাজার কোটি টাকার বেশি সংস্থাগুলোকে দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে এই সংস্থাগুলোর প্রতি দেশের ক্রমবর্ধমান আস্থা প্রতিফলিত হয়েছে।

গত পাঁচ বছরে ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানির পরিমাণ বেড়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুন:
কাবুল বিমানবন্দরে যাবেন না, নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র
বিমানবন্দর থেকে ভারতীয়সহ ৭২ জনকে ‘বন্দি করেছে’ তালেবান
সরকার গঠনে কাবুলে তালেবান নেতা মোল্লা বারাদর
আফিম না বেচে চলতে পারবে তালেবান?

শেয়ার করুন

আদালতের নির্দেশ ছাড়া প্রকাশ্যে ফাঁসি নয়: তালেবান

আদালতের নির্দেশ ছাড়া প্রকাশ্যে ফাঁসি নয়: তালেবান

আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ ছাড়া প্রকাশ্যে শাস্তি দেয়া যাবে না বলে জানান তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। ছবি: এএফপি

তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ‘দেশের সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশ দিলে জনসমক্ষে মৃত্যুদণ্ড ও লাশ ঝুলিয়ে রাখা যাবে, অন্যথায় নয়।’

অপরাধীদের প্রকাশ্যে শাস্তি না দিতে স্থানীয় কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে তালেবান সরকার। আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশ দিলেই কেবল জনসমক্ষে শাস্তি দেয়া যাবে।

তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বৃহস্পতিবার টুইটারে এসব বার্তা দেন বলে ডনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

মুজাহিদ বলেন, ‘দেশের মন্ত্রিপরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কোনো ধরনের শাস্তি প্রকাশ্যে দেয়া যাবে না। অপরাধীদের শাস্তি কার্যক্রম প্রকাশ্যে প্রচারের কিছু নেই। তবে আদালত যদি অপরাধীদের প্রকাশ্যে শাস্তি দিতে বলে, সে ক্ষেত্রে সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশ দিলে জনসমক্ষে মৃত্যুদণ্ড ও লাশ ঝুলিয়ে রাখা যাবে, অন্যথায় নয়।’

তালেবান মুখপাত্র বলেন, ‘অপরাধীকে দণ্ডিত করা হলে তার শাস্তি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে হবে। তাহলে মানুষ তার অপরাধ সম্পর্কে জানতে পারবে।’

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের পর আফগানিস্তানের ক্ষমতা তালেবানের হাতে যায়। সেপ্টেম্বরের শুরুতে নিজেদের শীর্ষস্থানীয় ৩৩ নেতাকে নিয়ে ইসলামিক আমিরাত গঠন করে তালেবান। ইসলামিক আমিরাতের মন্ত্রিসভার নাম দেয়া হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ।

গত মাসে আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত শহরে কথিত চার অপহরণকারীকে হত্যা করে প্রকাশ্যে তাদের লাশ ঝুলিয়ে দেন তালেবান যোদ্ধারা।

ওই ঘটনায় বিশ্বব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে। তালেবান তাদের আগের শাসনামলে ফিরে যাচ্ছে দেখে অধিকার সংগঠনসহ অনেকে উদ্বেগ জানায়।

গত মাসে তালেবানের জ্যেষ্ঠ নেতা মোল্লা নুরুদ্দিন তুরাবি বার্তা সংস্থা এপিকে জানান, তালেবান সরকার ফের অপরাধীদের অঙ্গচ্ছেদ করতে পারে। প্রকাশ্যে এ শাস্তি কার্যকর নাও হতে পারে।

তুরাবির ওই বক্তব্যের পর অবশ্য আফগানিস্তানের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে প্রকাশ্যেই লোকজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

তালেবানের নব্বই দশকের শাসনামলে তুরাবি আফগানিস্তানের বিচারমন্ত্রী ছিলেন।

এদিকে শুক্রবার সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি হিসেবে শেখ আব্দুল হাকিমকে নিয়োগ দিয়েছে তালেবান সরকার।

তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার বিশ্বস্ত সহযোগী ও পশতুন ধর্মীয় নেতা হাকিম এর আগে কাতারে গোষ্ঠীটির সমঝোতা দলের নেতৃত্বে ছিলেন।

আরও পড়ুন:
কাবুল বিমানবন্দরে যাবেন না, নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র
বিমানবন্দর থেকে ভারতীয়সহ ৭২ জনকে ‘বন্দি করেছে’ তালেবান
সরকার গঠনে কাবুলে তালেবান নেতা মোল্লা বারাদর
আফিম না বেচে চলতে পারবে তালেবান?

শেয়ার করুন

টিকার ডোজ সম্পন্ন হলে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ ৮ নভেম্বর থেকে

টিকার ডোজ সম্পন্ন হলে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ ৮ নভেম্বর থেকে

ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (এফডিএ) অনুমোদিত এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) জরুরি ব্যবহারের তালিকাভুক্ত করোনার যে কোনো একটি টিকা গ্রহণ করলেই তাদের প্রবেশ করতে দেবে আমেরিকান প্রশাসন। নতুন নিয়মে ডব্লিউএইচও অনুমোদিত যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা এবং চীনের সিনোভ্যাক ও সিনোফার্মের টিকা গ্রহণকারীরা নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন।

বিদেশি নাগরিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০ মাসের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শিথিল হচ্ছে আগামী মাসে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার ডোজ সম্পন্ন করা ব্যক্তিদের জন্য ৮ নভেম্বর থেকে দরজা খুলছে দেশটি। ভ্রমণকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না। বিশ্বের ৩৩টি দেশের নাগরিকরা পাবেন এ সুবিধা।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সবশেষ হালনাগাদকৃত ভ্রমণ নীতিমালা প্রকাশ করে হোয়াইট হাউজ। এতে বলা হয়েছে যে, টিকা নেয়া থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আগের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করোনা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ হতে হবে ভ্রমণেচ্ছু ব্যক্তিদের।

বৈশ্বিক মহামারি পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে ২০২০ সালের মার্চে বিদেশি ভ্রমণকারীদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। সবশেষ পদক্ষেপের ফলে সেসব নিষেধাজ্ঞার অবসান ঘটতে যাচ্ছে।

হোয়াইট হাউজের এক মুখপাত্র বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা মাথায় রেখেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এ নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলা হবে।’

করোনাকালীন বিদ্যমান বিধিনিষেধ অনুযায়ী কয়েকটি দেশে ভ্রমণের ১৪ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ নেই বিদেশি নাগরিকদের। এসব দেশের তালিকায় আছে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ, চীন, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইরান ও ব্রাজিল।

যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (এফডিএ) অনুমোদিত এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) জরুরি ব্যবহারের তালিকাভুক্ত করোনার যে কোনো একটি টিকা গ্রহণ করলেই তাদের প্রবেশ করতে দেবে আমেরিকান প্রশাসন।

নতুন নিয়মে ডব্লিউএইচও অনুমোদিত যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা এবং চীনের সিনোভ্যাক ও সিনোফার্মের টিকা গ্রহণকারীরা নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন।

নতুন নিয়ম নিয়ে এরই মধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ করোনার উচ্চ সংক্রমণে জর্জরিত ১৫০টি অন্য দেশের নাগরিকরা এখনও অবাধে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারছে।

বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় অনেক দেরিতে ভ্রমণ নীতিমালা শিথিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টি নিয়ে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক উত্তাপও দেখা দিয়েছিল ওয়াশিংটনের।

প্রতিবেশী কানাডা ও মেক্সিকোর ওপর থেকে মঙ্গলবার সীমান্তপথে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

তবে এ সিদ্ধান্ত কেবল পূর্ণ টিকা গ্রহণকারীদের ওপর প্রযোজ্য। টিকা না নেয়া ব্যক্তিদের ওপর সীমান্তপথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন:
কাবুল বিমানবন্দরে যাবেন না, নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র
বিমানবন্দর থেকে ভারতীয়সহ ৭২ জনকে ‘বন্দি করেছে’ তালেবান
সরকার গঠনে কাবুলে তালেবান নেতা মোল্লা বারাদর
আফিম না বেচে চলতে পারবে তালেবান?

শেয়ার করুন