আফিম না বেচে চলতে পারবে তালেবান?

player
আফিম না বেচে চলতে পারবে তালেবান?

প্রতীকী ছবি

সাবেক ব্রিটিশ এক সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় এসে আবার চুক্তিতে পৌঁছাতে পারলে স্থায়ীভাবে না হলেও কিছু সময়ের জন্য নিশ্চিতভাবে মাদক চোরাকারবার বন্ধ করবে তালেবান। কারণ ২০০০ সালেও গোষ্ঠীটি কম-বেশি নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে বলে আমরা দেখেছি।’

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর চলতি সপ্তাহে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে আফিম, হেরোইন উৎপাদন ও পাচার বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেন তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। এ আশ্বাসকে বাস্তবে রূপ দেয়ার সম্ভাবনা কতটা, সে হিসাব-নিকাশ করতে ব্যস্ত বিভিন্ন মহল।

আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করা সশস্ত্র গোষ্ঠীটির ইতিহাস কয়েক দশকের হলেও উত্থান শুরু মূলত নব্বইয়ের দশকে। শুরু থেকেই তাদের আয়ের প্রধান উৎস আফিম-হেরোইন। মাদক ব্যবসায় জড়িত স্থানীয় ও আঞ্চলিক বিভিন্ন অপরাধীচক্রের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে বিক্রয়লব্ধ অর্থও পায় তালেবান।

ভাইস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, জাবিহুল্লাহ মুজাহিদের এ প্রতিশ্রুতির আড়ালে একটা ‘কিন্তু’ আছে। কারণ বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ হিসেবে আফগানিস্তানের জন্য ‘আন্তর্জাতিক সহযোগিতা’ দরকার বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন তালেবান মুখপাত্র।

আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের হামলায় ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরও গত ২০ বছর ধরে বিদেশি সেনাদের অবস্থানের মধ্যেই একের পর এক হামলা চালিয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়ে এসেছে তালেবান।

‘ইসলামিক আমিরাত অফ আফগানিস্তান’ নামে স্বঘোষিত সমান্তরাল রাষ্ট্র কায়েম করেছে গোষ্ঠীটি। তাদের আছে নিজস্ব একটি সাদা পতাকাও।

দেশের ৩৪ প্রদেশে আছে তালেবানের ছায়া সরকার, যার বার্ষিক আয় প্রায় দেড় শ কোটি ডলার বলে জানা যায় তালেবান সদস্য ও জাতিসংঘের একটি কমিটির তথ্য থেকে।

আয়ের সিংহভাগেরই উৎস মাদক। কারণ সারা বিশ্বের হেরোইনের চাহিদার ৮০ শতাংশই ‌উৎপাদন হয় আফগানিস্তানে। পাশাপাশি হাশিশ বলে পরিচিত বিশেষ ধরনের প্রক্রিয়াজাত গাঁজা আর মেথামফেটামিনধর্মী মাদকও উৎপাদন ও কেনাবেচা চলে তালেবানের তত্ত্বাবধানে।

হেরোইন উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রধান কাঁচামাল পপি গাছের ‘রেসিন’ বা রজন। আফগানিস্তানের আইনে নিষিদ্ধ হলেও সহজ চাষ আর লাভ বেশি বলে দুর্গম বিস্তীর্ণ অঞ্চলে জীবিকা পপি চাষনির্ভর।

গত সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে মুজাহিদ বলেছিলেন, ‘আমাদের জনগণ ও বিশ্ব সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করছি যে, আর মাদক উৎপাদন আমরা করব না। এখন থেকে কেউ মাদক চোরাচালানেও যুক্ত থাকবে না, হেরোইন কেনাবেচাতেও কারও সম্পৃক্ততা থাকবে না।’

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর কয়েক শ কোটি ডলারের আফিম আর হেরোইন বিক্রি হয়। স্থানীয় পর্যায়েই পপি চাষের বাজারমূল্য প্রায় ৩৫ কোটি ডলার। কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কেজি পপি ৫৫ ডলার দরে কেনে হেরোইন উৎপাদকরা।

প্রক্রিয়াজাত পপি বিদেশে পাচারের পর এর বাজারমূল্য ১৪০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যায়।

তাই পপির ভূস্বর্গ আফগানিস্তানে কৃষকদের জন্য শস্যটি আশীর্বাদের শামিল। দেশটিতে বেশিরভাগ মানুষের বার্ষিক আয় ৬০০ ডলারের কম। পপি চাষ তাদের জন্য ক্ষুধামুক্তির প্রধান উপায়।

সহজে চাষযোগ্য পপি উৎপাদনে নিজেদের জমি ব্যবহার ছাড়া তেমন কোনো পুঁজিও দরকার হয় না।

আফগানিস্তানে পপি উৎপাদন ও উত্তোলনের পর প্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে শুরু করে ইউরোপে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে এর দাম বাড়ে। ইউরোপে পৌঁছাতে পৌঁছাতে দাম ছাড়িয়ে যায় আসলের ১০ গুণ। সব মিলিয়ে আফগান অর্থনীতির সব পর্যায়ে নগদ সরবরাহ অব্যাহত রাখতে নিষিদ্ধ পপির ভূমিকা অপরিসীম।

অর্থনীতির এই চাপের কারণেই সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে এখন বাধ্য তালেবান। দ্বিতীয় দফায় আফগানিস্তানের নতুন শাসক দলটির পক্ষে চাইলেই মাদকের বাণিজ্য বন্ধ করে দেয়া সম্ভব নয়। এটি সম্ভব করতে হলে আগে আফগান কৃষকদের আয়ের বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে গোষ্ঠীটিকে।

অভিজাত নিরাপত্তা বাহিনীর সাবেক এক ব্রিটিশ সেনা (যিনি বর্তমানে মাদকবিরোধী উপদেষ্টা) ভাইস নিউজকে বলেন, ‘মাদক উৎপাদন বন্ধের বিনিময়ে নিজেদের জন্য সেরা চুক্তিটি বের করে আনতে চাইবে তালেবান। দেখা যাক কী হয়। আলোচনায় তারা দারুণ।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তা অবসর গ্রহণের আগে আফগানিস্তানের হেলমান্দ প্রদেশে সফর করেছেন অসংখ্যবার। দেশটিতে হেরোইন উৎপাদনের অন্যতম প্রধান অঞ্চল এই হেলমান্দ।

তিনি বলেন, ‘তালেবান যে হেরোইন বাণিজ্যে মুগ্ধ, বিষয়টা তা নয়। ধর্মভিত্তিক গোষ্ঠীটির ধর্মীয় মতাদর্শ অনুযায়ী মাদক সেবন, কেনাবেচা সবকিছু সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

‘কিন্তু আফগানিস্তানের গ্রামাঞ্চলের সংস্কৃতির সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে পপি। তাই তালেবানও জানে যে বিকল্প ব্যবস্থা করা ছাড়া চাইলেই আয়ের এ উৎসে আঘাত হানার ক্ষমতা তাদের নেই।’

২০০৮ সাল থেকে বেশ কয়েকবার আফগান সরকারের মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন সাবেক এ সেনা কর্মকর্তা। আফগানিস্তানে বিদেশি ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘মুজাহিদিনদের মুখে খাবার জুগিয়েছে হেরোইন। সোভিয়েত ঔপনিবেশিক শাসকদের বিরুদ্ধে তাদের অস্ত্রের জোগানও হয়েছে হেরোইন বিক্রির অর্থ থেকে। আবার গৃহযুদ্ধ শুরুর পর তালেবানবিরোধী আঞ্চলিক রণাঙ্গনের সব নেতা ও তাজিক-উজবেকসহ বিভিন্ন আদিবাসী গোষ্ঠী আর্থিক ও অস্ত্রসাহায্য পেয়েছে হেরোইন বাণিজ্য থেকে প্রাপ্ত অর্থের মাধ্যমে।’

সাবেক ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘নিজেদের লাভের জন্যই হেরোইন বাণিজ্যে কর বসিয়েছে তালেবান। বিশেষ করে ২০০৬ সালে যখন আমরা হেলমান্দে প্রবেশ করি, সে সময় তারা জানত যে আমাদের মাদকবিরোধী অভিযান কৃষকদের ক্ষুব্ধ করে তুলবে।

‘তাই তখন তারা বিদেশি দখলদারদের হাত থেকে আবাদি জমি বাঁচানো ও কৃষকদের স্বার্থরক্ষার নামে কর আরোপ করে। এভাবেই কৃষকদের কর্তৃপক্ষ বনে যায় তারা, যা এখনও বিদ্যমান।’

সেনা থেকে উপদেষ্টা বনে যাওয়া এই বিশ্লেষকের ভাষ্য, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতে না পারা পর্যন্ত এসব বন্ধ করবে না তারা। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া মাদক বাণিজ্য বন্ধের সক্ষমতা তাদের নেইও।

‘কারণ তখন পুরো দেশ না খেয়ে মরতে বসবে। হেরোইন তাদের একমাত্র টেকসই রপ্তানি পণ্য। তাই এটি বন্ধ করতে হলে দেশকে বাঁচিয়ে রাখতে তাৎক্ষণিক আলোচনায় বসতে তালেবান বাধ্য।’

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে টুইন টাওয়ারসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় একযোগে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সে বছরই আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো, যা চলে দীর্ঘ ২০ বছর।

সে সময় আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ছিল তালেবান। আন্তর্জাতিক জোটের সেনা অভিযানে গোষ্ঠীটি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে দেশ শাসন করেছে প্রায় ছয় বছর।

প্রথম দফায় ক্ষমতায় থাকাকালীন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে মাদকবিরোধী সাহায্য হিসেবে কয়েক শ কোটি ডলারের বিনিময়ে হেরোইন রপ্তানি বন্ধে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল তালেবান।

সাবেক ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় এসে আবার চুক্তিতে পৌঁছাতে পারলে স্থায়ীভাবে না হলেও কিছু সময়ের জন্য নিশ্চিতভাবে মাদক চোরাকারবার বন্ধ করবে তালেবান। কারণ ২০০০ সালেও গোষ্ঠীটি কম-বেশি নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে বলে আমরা দেখেছি।’

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি অনুযায়ী ২০০০ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তালেবানশাসিত অঞ্চলগুলো থেকে মাদকদ্রব্য রপ্তানি সত্যিই শূন্যের কোটায় নেমে এসেছিল। কিন্তু এর বিনিময়ে কৃষকদের আর্থিক সহায়তা বণ্টনের আগেই আফগানিস্তানের গ্রামাঞ্চলের অর্থনীতিতে ধস নামে। দুর্ভিক্ষের যন্ত্রণায় সে সময় লাখো মানুষ প্রতিবেশী পাকিস্তানে গিয়ে আশ্রয় নেয়।

মাদকবিরোধী উপদেষ্টার মতে, এবারও চাইলে হেরোইন বাণিজ্য বন্ধ করতে পারবে তালেবান। কিন্তু তাদের অতীত অভিজ্ঞতা ভালো নয়।

শেষবার হেরোইন বাণিজ্য বন্ধের ফলে দুর্ভিক্ষ নেমে এসেছিল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষাও হয়নি; বরং তাদের সামরিক হস্তক্ষেপে তালেবান ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘তাই এবার যদি পপি চাষ বন্ধ করতেই হয়, তাহলে নিজেদের জন্য সেরা চুক্তি চাইবে তালেবান।’

আরও পড়ুন:
চরম বিশৃঙ্খলা কাবুল বিমানবন্দরে
পাকিস্তান সিরিজের সূচি নিয়ে বিপাকে আফগানিস্তান
প্রয়োজনে তালেবানের সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাজ্য
হাজারাদের নির্বিচার হত্যার ‘দায় তালেবানের’
কাবুল থেকে নাগরিকদের ফেরানোতে মৃত্যুঝুঁকি অবধারিত: বাইডেন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পাকিস্তানে ব্যস্ত মার্কেটে বিস্ফোরণে নিহত ২

পাকিস্তানে ব্যস্ত মার্কেটে বিস্ফোরণে নিহত ২

লাহোরে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিস্ফোরণ ঘটে। ছবি: এএফপি

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সরকারের সঙ্গে তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান- টিটিপি (পাকিস্তানি তালেবান) আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী, এমনকি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ধারাবাহিক হামলা বেড়েছে।

পাকিস্তানের লাহোরের একটি ব্যস্ত মার্কেট এলাকায় বিস্ফোরণে দুজন নিহত হয়েছেন। আহত অন্তত ২৬ জন হাসপাতালে ভর্তি।

লাহোরি গেট এলাকায় বৃহস্পতিবার দুপুরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

আল জাজিরাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লাহোর পুলিশের মুখপাত্র নায়াব হাইদার।

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত দুজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে বোমাটি আগে থেকে পোঁতা ছিল। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

লাহোরের মায়ো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, বিস্ফোরণে দুজন মারা গেছেন। আহত ২৬ জন চিকিৎসাধীন।

পাকিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর লাহোরের এই হামলার দায় স্বীকার করেনি কেউ।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সরকারের সঙ্গে তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান- টিটিপি (পাকিস্তানি তালেবান) আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী, এমনকি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ধারাবাহিক হামলা বেড়েছে।

ইসলামাবাদে গত সোমবার একটি তল্লাশি চৌকিতে গুলি করে পুলিশ সদস্যকে হত্যা করে এক বন্দুকধারী। পরদিন এর দায় স্বীকার করে টিটিপি। ওই হামলার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়েছিল, এটা কেবল শুরু।

পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে আফগানিস্তানের তালেবানদের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা চলছিল টিটিপির। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। কিন্তু ডিসেম্বরে যুদ্ধবিরতি থেকে সরে আসে টিটিপি।

আরও পড়ুন:
চরম বিশৃঙ্খলা কাবুল বিমানবন্দরে
পাকিস্তান সিরিজের সূচি নিয়ে বিপাকে আফগানিস্তান
প্রয়োজনে তালেবানের সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাজ্য
হাজারাদের নির্বিচার হত্যার ‘দায় তালেবানের’
কাবুল থেকে নাগরিকদের ফেরানোতে মৃত্যুঝুঁকি অবধারিত: বাইডেন

শেয়ার করুন

আকরামের বাসনা ছিল ‘শহীদ হওয়ার’

আকরামের বাসনা ছিল ‘শহীদ হওয়ার’

চলতি বছরের ২ জানুয়ারি ডালাসের একটি হোটেলে মালিক ফয়সাল আকরাম। ছবি: জুইশ ক্রনিকল

ফোনে আকরামের ভাই গুলবার তাকে আত্মসমর্পণের পরামর্শ দেন। বলেছিলেন, যাদের জিম্মি করা হয়েছে, তারা নিরপরাধ। এসব মানুষের সন্তানদের কথা চিন্তা করারও পরামর্শ দিয়েছিলেন গুলবার। জবাবে আকরাম বলেন, ‘শহীদ হয়ে মর। আমি দুই সপ্তাহ ধরে এখানে আছি। সবাই এখন আমার বন্দুকের নিশানায়। আমি বাড়ি ফিরব, তবে বডি ব্যাগে করে।’

আত্মাহুতির জন্য প্রস্তুত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ইহুদি উপাসনালয়ে (সিনাগগ) জিম্মিকারী মালিক ফয়সাল আকরাম। পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার আগে শেষ ফোন কলে এই ইচ্ছার কথা নিজের ভাইকে জানান তিনি। সম্প্রতি পরিবারের সঙ্গে তার শেষ ফোনালাপ প্রকাশ হয়।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ইহুদি সম্প্রদায়ের লন্ডনভিত্তিক সাপ্তাহিক জুইশ ক্রনিকল ওই ফোনালাপটি প্রকাশ করেছে।

এতে আকরামকে তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে শোনা যায়। ফয়সালের পরিবার থাকে ইংল্যান্ডের ব্ল্যাকবার্ন এলাকায়।

ফোনে আকরামের ভাই গুলবার তাকে আত্মসমর্পণের পরামর্শ দেন। বলেছিলেন, যাদের জিম্মি করা হয়েছে, তারা নিরপরাধ। এসব মানুষের সন্তানদের কথা চিন্তা করারও পরামর্শ দিয়েছিলেন গুলবার।

জবাবে আকরাম বলেন, ‘শহীদ হয়ে মর’।

তারপর তিনি আবার বলেন, ‘আমি দুই সপ্তাহ ধরে এখানে আছি। সবাই এখন আমার বন্দুকের নিশানায়। আমি বাড়ি ফিরব, তবে বডি ব্যাগে করে।’

আকরাম আরও বলেন, ‘দুই বছর ধরে এই দিনটির অপেক্ষায় ছিলাম।’

জুইশ ক্রনিকলের প্রতিবেদন বলছে, উপাসনালয়ের নিরাপত্তাকর্মীদের কাছ থেকে ফোনালাপের এই অডিও ক্লিপটি পেয়েছেন তারা। এটির সত্যতা প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে বিবিসি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অডিওটি আসল।

ডালাসের কোলিভিলে ১৫ জানুয়ারি স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে কংগ্রেগেসন বেথ ইসরায়েল সিনাগগে প্রার্থনা চলার সময় আকরাম চারজনকে জিম্মি করেন।

আকরামের বাসনা ছিল ‘শহীদ হওয়ার’
কংগ্রেগেসন বেথ ইসরায়েল সিনাগগে জিম্মিকাণ্ড ঘটে। ছবি: সংগৃহীত

ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচারিত ওই প্রার্থনার মধ্যে আকরামকে উচ্চ স্বরে কথা বলতে শোনা যায় ‘ফোনে আমার বোনের সঙ্গে কথা বলিয়ে দাও। আমি মারা যাব।

‘আমেরিকা কিছু ভুল করেছে।’

এর পরপরই লাইভ ফিড বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। স্থানীয়দের নিরাপদে সরিয়ে নেন তারা। এরপর থেমে থেমে বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা যায়। চলে সমঝোতার চেষ্টাও।

৬ ঘণ্টা পর একজনকে ছেড়ে দেন জিম্মিকারী। এর কয়েক ঘণ্টা পর বাকিদেরও মুক্ত করে দেয়া হয়। তারা সবাই অক্ষত ছিলেন। পরে এফবিআইয়ের অভিযানে মারা পড়েন আকরাম।

আকরামের বাসনা ছিল ‘শহীদ হওয়ার’
উপাসনালয়টি ঘিরে রেখেছিল নিরাপত্তা বাহিনী। ছবি: এএফপি

এ ঘটনায় এ পর্যন্ত এক যুগলকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ম্যানচেস্টার থেকে তাদের আটকের কথা জানায় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ চলায় এই তরুণ-তরুণীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

যেভাবে বোকা হলেন ব্রিটিশ গোয়েন্দারা

আকরাম তার শেষ ফোন কলে জানিয়েছিলেন, দুই বছর ধরে এমন কিছুর পরিকল্পনা করছিলেন তিনি। তার আচরণে সন্দেহ হয়েছিল গোয়েন্দাদের। ব্রিটিশ নিরাপত্তা সংস্থা ২০২০ সালে তাকে ‘সাবজেক্ট অফ ইন্টারেস্ট’ তালিকায় রেখেছিল। ৯ মাসের বেশি সময় ধরে চলা নজরদারির পর হাল ছেড়ে দেন তারা।

আকরামকে নিয়ে তদন্ত চালিয়েছিল বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী গোয়েন্দা বাহিনী এমআই-সিক্স। ১৮ মাসে তাদেরও ধোঁকা দিয়েছেন নিপুণ দক্ষতায়। ক্রিমিনাল রেকর্ড না থাকায় ২০২১ সালে ‘সাবজেক্ট অফ ইন্টারেস্ট’ তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয় আকরামকে।

আকরামের বাসনা ছিল ‘শহীদ হওয়ার’
জিম্মিকাণ্ড অবসানের পর এফবিআইয়ের ব্রিফিং। ছবি: এএফপি

এই সুযোগটাই যেন খুঁজছিলেন আকরাম। চলতি মাসের শুরুতে জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর দিয়ে নিউ ইয়র্ক প্রবেশ করেন আকরাম। ধারণা করা হচ্ছে, নিউ ইয়র্কের কোনো দোকান থেকেই অস্ত্রটি কিনেছিলেন তিনি।

আকরামের পরিবারের প্রতিক্রিয়া

যাদের জিম্মি করা হয়েছিল, তাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন আকরামের ভাই গুলবার। জানিয়েছেন, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন তিনি।

ব্ল্যাকবার্নে থাকা আকরামের এক বন্ধু জানান, আচমকা ওর যুক্তরাষ্ট্র সফরের কথা শুনে বিস্মিত হয়েছিলাম। ওকে তখন ভীষণ অস্থির দেখাচ্ছিল।

কে এই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, আফিয়া সিদ্দিকি নামে এক পাকিস্তানি স্নায়ুবিজ্ঞানীর মুক্তি দাবি করেন আকরাম। আফগানিস্তানে নিরাপত্তা হেফাজতে থাকাকালে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের হত্যাচেষ্টার দায়ে ৮৬ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন আফিয়া। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে আছেন।

এর আগে ২০১২ সালে সিরিয়ায় অপহৃত এক আমেরিকান সাংবাদিকের বিনিময়ে আফিয়ার মুক্তি দাবি করেছিল আইএস।

যদিও আফিয়ার আইনজীবী সিএনএনকে জানিয়েছিলেন, আকরাম আফিয়ার ভাই নয়। আফিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে এই জিম্মির ঘটনার নিন্দা জানানো হয়।

আরও পড়ুন:
চরম বিশৃঙ্খলা কাবুল বিমানবন্দরে
পাকিস্তান সিরিজের সূচি নিয়ে বিপাকে আফগানিস্তান
প্রয়োজনে তালেবানের সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাজ্য
হাজারাদের নির্বিচার হত্যার ‘দায় তালেবানের’
কাবুল থেকে নাগরিকদের ফেরানোতে মৃত্যুঝুঁকি অবধারিত: বাইডেন

শেয়ার করুন

পাকিস্তানে প্রথম ট্রান্সজেন্ডার চিকিৎসক সারাহ গিল

পাকিস্তানে প্রথম ট্রান্সজেন্ডার চিকিৎসক সারাহ গিল

পাকিস্তানে ট্রান্সজেন্ডার কমিউনিটিতে পরিচিত মুখ সারাহ গিল। ছবি: সংগৃহীত

সারাহ বলেন, একজন ট্রান্সজেন্ডার হিসেবে পড়াশোনা করতে গিয়ে আমি অনেক ঝামেলায় পড়েছিলাম। কিন্তু কখনো সাহস হারাইনি। আমি অন্য ট্রান্সজেন্ডারদের পড়াশোনার জগতে আসার আহ্বান জানাব।

পাকিস্তানের একজন নেতৃস্থানীয় অধিকার কর্মী সারাহ গিল দেশটির প্রথম ট্রান্সজেন্ডার চিকিৎসক হয়েছেন। ড. গিল করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন জিন্নাহ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজ (জেএমডিসি) থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন।

এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনার পাশাপাশি সারাহ গিল পাকিস্তানে ট্রান্সজেন্ডার কমিউনিটি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করে আসছেন।

পাকিস্তানে ট্রান্সজেন্ডার কমিউনিটিতে তিনি একজন পরিচিত মুখ।

সারাহ গিল বলেন, ‘আমি পাকিস্তানের প্রথম ট্রান্সজেন্ডার ডাক্তার হিসেবে গর্বিত এবং আমি আমার কমিউনিটির জন্য কাজ করে যাব।

তিনি বলেন, ‘একজন ট্রান্সজেন্ডার হিসেবে পড়াশোনা করতে গিয়ে আমি অনেক ঝামেলায় পড়েছিলাম। কিন্তু কখনো সাহস হারাইনি। আমি অন্য ট্রান্সজেন্ডারদের পড়াশোনার জগতে আসার আহ্বান জানাব।

আমি ডাক্তার হওয়ার জন্য অনেক পরিশ্রম করেছি। পরিশ্রম ও দৃঢ়তা থাকলে যেকোনো লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।’

যদিও তার সহপাঠীরা তার সম্পর্কে জানেন কিন্তু তার পরিবারের চাপে মেডিকেল কলেজে ভর্তির সময় পুরুষের পরিচয়েই ভর্তি হন।

আরও পড়ুন:
চরম বিশৃঙ্খলা কাবুল বিমানবন্দরে
পাকিস্তান সিরিজের সূচি নিয়ে বিপাকে আফগানিস্তান
প্রয়োজনে তালেবানের সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাজ্য
হাজারাদের নির্বিচার হত্যার ‘দায় তালেবানের’
কাবুল থেকে নাগরিকদের ফেরানোতে মৃত্যুঝুঁকি অবধারিত: বাইডেন

শেয়ার করুন

পেগাসাস বিতর্ক, পার্লামেন্টের মুখোমুখি ইসরায়েলি পুলিশ

পেগাসাস বিতর্ক, পার্লামেন্টের মুখোমুখি ইসরায়েলি পুলিশ

সরকারবিরোধী আন্দোলনের ক্ষেত্রে স্পাইওয়্যার প্রযুক্তি ব্যবহার না করার দাবি করেছে পুলিশ কমিশনার কোবি। ছবি: সংগৃহীত

অনেক পার্লামেন্ট সদস্যই উদ্বেগের কথা আমাকে জানিয়েছেন। ঘটনাটি খুবই বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। স্পষ্টতই এই ঘটনা ব্যক্তির গোপনীয়তা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের লঙ্ঘন।

ইসরায়েলি পুলিশ দেশটির জনগণের ওপর বিতর্কিত হ্যাকিং প্রযুক্তি পেগাসাস ব্যবহার করছে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবার ইসরায়েলের পার্লামেন্ট দেশটির পুলিশের কাছে পেগাসাস ব্যবহারের ব্যাখ্যা চেয়েছে।

এর আগে কোনো সূত্র উল্লেখ না করে ক্যাটালিস্ট ফিন্যান্সিয়াল ডেইলির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইসরায়েলি পুলিশ এনএসও গ্রুপের বানানো স্পাইওয়্যার পেগাসাস ব্যবহার করছে।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, প্রায়ই পুলিশ কোর্টের অনুমতি ছাড়া সরকারবিরোধী আন্দোলনের নেতাদের ওপর নজরদারির ক্ষেত্রে পেগাসাস ব্যবহার করেছে।

ইসরায়েলি পার্লামেন্টের সদস্য মেইরাভ বেন আরি জানিয়েছেন, সামনের সপ্তাহেই নাগরিকদের নিরাপত্তাবিষয়ক পার্লামেন্টারি কমিটির মুখোমুখি হবে পুলিশ। সেখানে পুলিশকে ক্যাটালিস্টের প্রতিবেদনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে।

বেন আরি আরও জানিয়েছেন, অনেক পার্লামেন্ট সদস্যই উদ্বেগের কথা আমাকে জানিয়েছেন। ঘটনাটি খুবই বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। স্পষ্টতই এই ঘটনা ব্যক্তির গোপনীয়তা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের লঙ্ঘন।

ক্যাটালিস্টের প্রতিবেদনের সম্পর্কে বলতে গিয়ে পুলিশ কমিশনার কোবি সাবটাই বলেন, পুলিশ থার্ড পার্টি সাইবার প্রযুক্তি ব্যবহার করে। তবে তিনি পেগাসাস ব্যবহারের বিষয়ে কিছু বলেননি।

তবে সরকারবিরোধী আন্দোলনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের স্পাইওয়্যার প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন কোবি।

এ বিষয়ে এনএসওর কাছে জানতে চাইলে তারা এ বিষয়ে জানিয়েছে, ক্লায়েন্টের তথ্য তারা প্রকাশ করে না। কোনো সরকার বা সংস্থার কাছে প্রযুক্তি বিক্রির পর তারা সেখানে কোনোভাবেই সেখানকার এক্সেস আর তাদের হাতে থাকে না।

ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০১৩ সাল থেকে পেগাসাস যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকায় রয়েছে।

আরও পড়ুন:
চরম বিশৃঙ্খলা কাবুল বিমানবন্দরে
পাকিস্তান সিরিজের সূচি নিয়ে বিপাকে আফগানিস্তান
প্রয়োজনে তালেবানের সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাজ্য
হাজারাদের নির্বিচার হত্যার ‘দায় তালেবানের’
কাবুল থেকে নাগরিকদের ফেরানোতে মৃত্যুঝুঁকি অবধারিত: বাইডেন

শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল বিচারক হচ্ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নুসরাত

যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল বিচারক হচ্ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নুসরাত

যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল বিচারক হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নুসরাত জাহান চৌধুরী। ফাইল ছবি

প্রেসিডেন্ট বাইডেনের মনোনয়ন যুক্তরাষ্ট্রের সংসদের উচ্চকক্ষ সিনেটে পাস হলে বিচারপতি নুসরাত নিউ ইয়র্ক স্টেটের ফেডারেল কোর্টে বিচার কাজ পরিচালনা করবেন।

যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল বিচারক হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক নুসরাত জাহান চৌধুরী। নিয়োগ পেলে তিনি হবেন প্রথম নারী মুসলিম আমেরিকান ফেডারেল বিচারক।

বিভিন্ন বিচার বিভাগীয় মনোনীতদের তালিকা ঘোষণা করে বুধবার এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস এ তথ্য জানায়।

বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ফেডারেল বিচারক হিসেবে দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আটজনকে মনোনয়ন দিয়েছেন।

এই আটজনের মধ্যে নুসরাত জাহান রয়েছেন।

নুসরাতের কথা উল্লেখ করে বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস বলেছে, ‘তিনি প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান, প্রথম মুসলিম-আমেরিকান নারী ও দ্বিতীয় মুসলিম-আমেরিকান হিসেবে ফেডারেল আদালতের বিচারক হতে চলেছেন।’

ফেডারেল বিচারক মনোনয়ন দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। তবে তার মনোনয়নের পর যুক্তরাষ্ট্রের সংসদের উচ্চকক্ষ সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের মাধ্যমে তাদের নিয়োগ নিশ্চিত হয়।

প্রেসিডেন্টের এই মনোনয়ন সিনেটে পাস হলে বিচারপতি নুসরাত নিউ ইয়র্ক স্টেটের ফেডারেল কোর্টে বিচারকাজ পরিচালনা করবেন।

হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে নুসরাত জাহান চৌধুরীর একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি দেয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, নুসরাত ২০২০ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ সম্পর্কিত সংগঠন আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের (এসিএলইউ) ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের লিগ্যাল ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করছেন।

এছাড়া তিনি ২০০৮ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত নিউ ইয়র্কে আমেরিকার সিভিল লিবার্টিস ইউনিয়নে বিভিন্ন পদে কাজ করেছেন। সর্বশেষ ২০১৮ সাল থেকে ২০২০ পর্যন্ত সেখানে তিনি রেসিয়াল জাস্টিস প্রোগ্রামের ডেপুটি ডিরেক্টর ছিলেন।

২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত রেসিয়াল জাস্টিস প্রোগ্রামের সিনিয়র স্টাফ অ্যাটর্নি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন নুসরাত।

নুসরাত যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ল স্কুল, প্রিন্সটন স্কুল অব পাবলিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স ও কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেছেন।

২০১৪ সালে মাইকেল আরলিকে বিয়ে করেন নুসরাত জাহান চৌধুরী। তার স্বামী পেশায় একজন গ্রাফিক ডিজাইনার।

আরও পড়ুন:
চরম বিশৃঙ্খলা কাবুল বিমানবন্দরে
পাকিস্তান সিরিজের সূচি নিয়ে বিপাকে আফগানিস্তান
প্রয়োজনে তালেবানের সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাজ্য
হাজারাদের নির্বিচার হত্যার ‘দায় তালেবানের’
কাবুল থেকে নাগরিকদের ফেরানোতে মৃত্যুঝুঁকি অবধারিত: বাইডেন

শেয়ার করুন

ভারতে বিরল প্রজাতির কচ্ছপের পিঠে জিপিএস ট্রান্সমিটার

ভারতে বিরল প্রজাতির কচ্ছপের পিঠে জিপিএস ট্রান্সমিটার

টানা দু'বছর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জিপিএস ট্র্যাকিং লাগিয়ে নদীতে ছাড়া হলো কচ্ছপগুলোকে। ছবি: সংগৃহীত

বাটাগুর বাসকার বাসস্থান কেমন? বংশবিস্তার কেমন করে হয়, কেমন পরিবেশ ভালোবাসে? কীভাবেইবা মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়? এসব তথ্য জানতে বাটাগুর বাসকা কচ্ছপের শরীরে জিপিএস ট্রান্সমিটার বসানো হয়েছে।

ভারতের সুন্দরবনে বিরল প্রজাতির কচ্ছপ বাটাগুর বাসকার জীবনচক্র জানতে প্রথমবারের মতো পূর্ণবয়স্ক ১০টি কচ্ছপের শরীরে জিপিএস ট্রান্সমিটার বসিয়ে নদীতে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তাদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রার খুঁটিনাটি জানতে এই উদ্যোগ নিয়েছে সুন্দরবন বাঘ প্রকল্পের কর্মকর্তারা।

বাঘ প্রকল্পের ডেপুটি ডিরেক্টর জোন্স জাস্টিন বলেন, 'বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির বাটাগুর বাসকা কচ্ছপের সফল প্রজনন ইতিমধ্যে আমরা করতে সক্ষম হয়েছি ।

তবে এদের বাসস্থান কেমন? বংশবিস্তার কেমন করে হয়, কেমন পরিবেশ ভালোবাসে? কীভাবেইবা মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়? এসব তথ্য জানতে বাটাগুর বাসকা কচ্ছপের শরীরে জিপিএস ট্রান্সমিটার বসানো হয়েছে।'

বুধবারের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাঘ প্রকল্পের ডিরেক্টর তাপস দাস, ডেপুটি ডিরেক্টর জাস্টিন জোন্স এবং টারটেল সারভাইভাল অ্যালায়েন্স প্রোগ্রামের কর্মীরা।

এদিন সুন্দরবনের বিভিন্ন নদীতে ছাড়া হয় ১২টি পূর্ণ বয়স্ক এবং ৩৭০টি বাচ্চা কচ্ছপ। প্রথমে কচ্ছপগুলোকে সজনেখালি ম্যানগ্রোভ সেন্টারসহ অন্যান্য ক্যাম্পের বিশেষ পুকুরে রাখা হয়েছিল। সেখানে কচ্ছপগুলো যাতে প্রকৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে, সে জন্য পুকুরে জোয়ারভাটার জল ঢোকা এবং বেরোনর ব্যবস্থা ছিল।

টানা দুই বছর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আমেরিকা থেকে আনা জিপিএস ট্র্যাকিং মেশিন লাগিয়ে নদীতে ছাড়া হলো কচ্ছপগুলোকে।

বিগত ৯ বছর বাটাগুর বাসকা কচ্ছপের প্রজনন করিয়েছেন সুন্দরবন বাঘ প্রকল্পের কর্মীরা। ৩টি পুরুষ ও ৭টি নারী কচ্ছপ নিয়ে শুরু হয় প্রথম পর্বের প্রজনন। আগেও প্রজনন করিয়ে নদীতে ছাড়া হয় বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির এই কচ্ছপ কিন্তু জিপিএস না থাকায় তাদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে কিছুই জানা যায়নি।

তাই এবার পরিকল্পনা করে জিপিএস ট্রান্সমিটার লাগানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানিয়েছেন বন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

এই প্রজাতির কচ্ছপ মূলত সুন্দরবনের বঙ্গোপসাগর এবং ওড়িশা উপকূলে বেশি দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু নানা কারণে তা ক্রমেই বিলুপ্তির পথে। সে জন্য বন দপ্তর বাটাগুর বাসকা কচ্ছপের প্রজনন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় এবং তা সফলভাবে এগিয়ে চলেছে। সামনের দিনগুলোতে আরও বাটাগুর বাসকা প্রজাতির কচ্ছপ নদীতে ছাড়া হবে বলে জানান বন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন:
চরম বিশৃঙ্খলা কাবুল বিমানবন্দরে
পাকিস্তান সিরিজের সূচি নিয়ে বিপাকে আফগানিস্তান
প্রয়োজনে তালেবানের সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাজ্য
হাজারাদের নির্বিচার হত্যার ‘দায় তালেবানের’
কাবুল থেকে নাগরিকদের ফেরানোতে মৃত্যুঝুঁকি অবধারিত: বাইডেন

শেয়ার করুন

আফগানিস্তানে ইইউ’র ২৬৮ মিলিয়ন ইউরোর সহায়তা প্রতিশ্রুতি

আফগানিস্তানে ইইউ’র ২৬৮ মিলিয়ন ইউরোর সহায়তা প্রতিশ্রুতি

আফগানিস্তানে চলমান অর্থনৈতিক সংকটে সৃষ্ট অতিরিক্ত মুদ্রাস্ফীতির ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপীয় ইউনিয়ন আরও জানিয়েছে, শিক্ষা, চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার মানকেন্দ্রিক বিষয়গুলোতে এই অর্থ ব্যয় হবে।

গত বছর আগস্টে তালেবান গোষ্ঠী ক্ষমতায় আসার পর দেশটির উন্নয়ন সহযোগী ও দাতা সংস্থাগুলো নতুন সরকার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৯ বিলিয়ন ডলার আটকে দেয়। ফলে আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে।

এবার দেশটির ক্রম অবনতিশীল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ঠেকাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বেশ কয়েকটি প্রকল্প শুরু করতে যাচ্ছে।

টোলো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইইউ জানিয়েছে, এ প্রকল্পগুলো আফগান জনগণকে বর্তমান পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

বৈশ্বিক কর্মকাণ্ডে ইইউর অংশগ্রহণের কারণ হলো আমরা কাউকেই পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে চাই না। আমরা বহুবার বলেছি, আফগান জনগণকে আমরা কখনোই পরিত্যাগ করব না।

মঙ্গলবার ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, নতুন প্রকল্পগুলোর ব্যয় ২৬৮.৩ মিলিয়ন ইউরো এবং আফগানিস্তানে কাজ করে যাওয়া জাতিসংঘের সংস্থা ইউনিসেফ, ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম, ইউএনডিপি, ইউএনএইচসিআর ও আইওমের মাধ্যমে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন আরও জানিয়েছে, শিক্ষা, চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার মানকেন্দ্রিক বিষয়গুলোতে এই অর্থ ব্যয় হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন কমিশনার জুত্তা ইউরপিলাইনেন বলেন, ‘বৈশ্বিক কর্মকাণ্ডে ইইউর অংশগ্রহণের কারণ হলো আমরা কাউকেই পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে চাই না। আমরা বহুবার বলেছি, আফগান জনগণকে আমরা কখনোই পরিত্যাগ করব না।‘

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রও আফগানিস্তানকে সর্বমোট ৭০৮ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র এমিলি হর্ন জানিয়েছিলেন, মানবিক সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান যারা আফগানিস্তানে ও আফগান শরণার্থীদের জন্য বাসস্থান, চিকিৎসা ও দরকারি খাদ্য সহায়তা প্রদান করে থাকে। সেসব প্রতিষ্ঠানকে ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ইউএসএআইডি) মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুত ৭০৮ মিলিয়ন ডলার সহায়তা প্রদান করবে।

ইতিমধ্যে আফগানিস্তানে চলমান অর্থনৈতিক সংকটে সৃষ্ট অতিরিক্ত মুদ্রাস্ফীতির ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে খাদ্যাভাব ও মানবিক সংকটে পড়েছে দেশটি।

জাতিসংঘের তথ্য মতে, দেশটির অর্ধেক মানুষ খাদ্যসংকটে পড়বে। এ ছাড়া লাখ লাখ মানুষ যারা পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়ে গেছে, তাদের সহায়তার জন্যও ব্যাপক অর্থের প্রয়োজন হবে।

আরও পড়ুন:
চরম বিশৃঙ্খলা কাবুল বিমানবন্দরে
পাকিস্তান সিরিজের সূচি নিয়ে বিপাকে আফগানিস্তান
প্রয়োজনে তালেবানের সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাজ্য
হাজারাদের নির্বিচার হত্যার ‘দায় তালেবানের’
কাবুল থেকে নাগরিকদের ফেরানোতে মৃত্যুঝুঁকি অবধারিত: বাইডেন

শেয়ার করুন