চরম বিশৃঙ্খলা কাবুল বিমানবন্দরে

চরম বিশৃঙ্খলা কাবুল বিমানবন্দরে

দেশ ছাড়তে উদ্যত হাজারো মানুষের ভিড় কাবুল বিমানবন্দরে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে সেনারা। ছবি: এএফপি

নিরাপত্তা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতির কারণে ৬৫৬ ফুট দূরের হোটেল থেকেও বিমানবন্দরে নিজ ব্যবস্থায় আসার স্বাভাবিক পরিস্থিতি ছিল না। ফলে বৃহস্পতিবার দেড় শতাধিক আমেরিকান নাগরিককে উদ্ধারে সামরিক হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নিতে হয় পেন্টাগনকে।

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও এর আশপাশের এলাকাগুলোতে চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবান কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর গত এক সপ্তাহ ধরেই এমন হাল বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, নিরাপত্তা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতির কারণে মাত্র ২০০ মিটার দূরের একটি ভবন থেকেও আমেরিকানদের বিমানবন্দরে নিতে ব্যবহার করতে হয়েছে তিনটি সামরিক হেলিকপ্টার।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন শুক্রবার জানায়, ভবনটি থেকে তিনটি সামরিক হেলিকপ্টারে করে ১৬৯ জন আমেরিকানকে বিমানবন্দরে নিয়ে যায় সেনারা।

পরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জন কিরবি জানান, ৬৫৬ ফুট দূরের হোটেল থেকেও বিমানবন্দরে নিজ ব্যবস্থায় আসার স্বাভাবিক পরিস্থিতি ছিল না। ফলে বৃহস্পতিবার দেড় শতাধিক আমেরিকান নাগরিককে উদ্ধারে সামরিক হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

আফগানিস্তানের সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী তালেবান গত রোববার রাজধানী কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর থেকেই সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নাগরিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে নিতে অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশ।

তাদের সঙ্গে যেকোনোভাবে বিমানে উঠতে মরিয়া হাজারো আফগান পরিবার। তালেবানের বন্দুক আর চোখরাঙানি উপেক্ষা করে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন হাজারো আফগান। পাসপোর্ট, শিশু সন্তান আর পরনের পোশাক নিয়েই ঘর ছেড়ে বিমানবন্দরমুখী তারা।

এমন পরিস্থিতিতে বিমানবন্দর এলাকায় গত ছয় দিনে কমপক্ষে ১২ জনের প্রাণ গেছে বলে জানিয়েছে তালেবান ও যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোট ন্যাটো।

পেন্টাগনের পাঠানো ছয় হাজার সেনার প্রহরায় কাবুল বিমানবন্দর থেকে গত ছয় দিনে ১৩ হাজার মানুষকে সরিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সব মিলিয়ে বিমানবন্দর হয়ে আফগানিস্তান ছেড়েছে ১৮ হাজারের বেশি মানুষ। ইতিহাসের অন্যতম বড় ও সবচেয়ে কঠিন উদ্ধারকাজ এটি।

উদ্ধারকৃতদের প্রাথমিকভাবে কাতারের একটি ঘাঁটিতে নিয়ে রাখা হচ্ছে। প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে কাতারের ঘাঁটিটিতে নতুন করে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছিল না বলে শুক্রবার কাবুল থেকে নতুন করে কাউকে পাঠানোও সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে প্রায় ছয় ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয় ফ্লাইটের ওঠানামা।

বিমানবন্দর থেকে এই গণঅপসারণ এযাবৎকালের অন্যতম ‘জটিল এয়ারলিফট অপারেশন’ বলে শুক্রবার মন্তব্য করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

আকাশপথে দ্রুততম সময়ে বিপুলসংখ্যক মানুষকে জরুরি ভিত্তিতে অপসারণের এ অভিযানে প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে এবং চূড়ান্ত ফলাফল অনিশ্চিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
পাকিস্তান সিরিজের সূচি নিয়ে বিপাকে আফগানিস্তান
প্রয়োজনে তালেবানের সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাজ্য
হাজারাদের নির্বিচার হত্যার ‘দায় তালেবানের’
কাবুল থেকে নাগরিকদের ফেরানোতে মৃত্যুঝুঁকি অবধারিত: বাইডেন
ইন্টারনেট থেকে উধাও তালেবানের ৫ ওয়েবসাইট

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আফগান ও বিদেশিদের নিয়ে কাবুল ছাড়ল চতুর্থ চার্টার ফ্লাইট

আফগান ও বিদেশিদের নিয়ে কাবুল ছাড়ল চতুর্থ চার্টার ফ্লাইট

বিমানটিতে ২৩৬ জন আরোহী ছিলেন। ৩১ আগস্ট আফগান ভূখণ্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোটের সেনা প্রত্যাহারের পর এই বিমানেই প্রথম একসঙ্গে এত বেশি মানুষকে কাবুল থেকে বের করে নেয়া হলো।

দেশত্যাগী আফগান ও আমেরিকান-ইউরোপিয়ানসহ ২৩০ জনের বেশি আরোহী নিয়ে কাবুল বিমানবন্দর ছেড়ে গেছে আরেকটি চার্টার ফ্লাইট। আগের তিনটি চার্টার ফ্লাইটের মতোই চতুর্থটিরও গন্তব্য কাতারের রাজধানী দোহা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রোববার কাবুল বিমানবন্দর থেকে রওনা দেয় কাতার এয়ারওয়েজের বিমানটি। আরোহীদের প্রাথমিকভাবে রাখা হবে দোহায় আগে থেকে আশ্রিত আফগান ও অন্যান্য উদ্ধারকৃতদের সঙ্গে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে কাতারের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী লোলওয়াহ রশিদ আল খাতের জানান, বিমানটিতে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি, বেলজিয়াম, আয়ারল্যান্ড, কানাডা, ফ্রান্স, ইতালি, যুক্তরাজ্য, ফিনল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের নাগরিক ছিলেন।

কাতারের আরেক কর্মকর্তা জানান, বিমানটিতে ২৩৬ জন আরোহী ছিলেন। ৩১ আগস্ট আফগান ভূখণ্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোটের সেনা প্রত্যাহারের পর এই বিমানেই প্রথম একসঙ্গে এত বেশি মানুষকে কাবুল থেকে বের করে নেয়া হলো।

তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানে স্বাধীন চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করে যাচ্ছে কাতার। একই সঙ্গে আফগানিস্তানের উন্নয়নমূলক অগ্রগতি নিশ্চিতে সেখানকার বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ চলছে।’

তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার ২৭ দিন পর গত ৯ সেপ্টেম্বর হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যায় কাতার এয়ারওয়েজের প্রথম চার্টার ফ্লাইট। সেটিতে বেশিরভাগ বিদেশিসহ ১১৩ আরোহী ছিলেন। দেশত্যাগী আফগান ও বিদেশিসহ উদ্ধারকৃতদের নিয়ে দ্বিতীয় চার্টার ফ্লাইটটি কাবুল ছাড়ে ১০ সেপ্টেম্বর।

পশ্চিমা বিশ্ব ও আফগানিস্তানের নতুন শাসকদল তালেবানের সঙ্গে মধ্যস্থতায় দীর্ঘদিন ধরেই প্রধান সহযোগীর ভূমিকা পালন করছে কাতার।

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশটি। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি কাতারে অবস্থিত। ২০১৩ সাল থেকে দেশটিতে তালেবানের একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ও চালু আছে।

আরও পড়ুন:
পাকিস্তান সিরিজের সূচি নিয়ে বিপাকে আফগানিস্তান
প্রয়োজনে তালেবানের সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাজ্য
হাজারাদের নির্বিচার হত্যার ‘দায় তালেবানের’
কাবুল থেকে নাগরিকদের ফেরানোতে মৃত্যুঝুঁকি অবধারিত: বাইডেন
ইন্টারনেট থেকে উধাও তালেবানের ৫ ওয়েবসাইট

শেয়ার করুন

কয়েদির পেট থেকে বের হলো মোবাইল ফোন

কয়েদির পেট থেকে বের হলো মোবাইল ফোন

কেন আর কিভাবে ওই ব্যক্তি মোবাইল ফোনটি গিলেছিলেন, তা জানা যায়নি। ছবি: গালফ নিউজ/ফেসবুক

আস্ত মোবাইল গিলে ফেলেও এন্ডোসকপির সাহায্যে পেটের ভেতর মোবাইলটির তিনটি অংশ পৃথক করা হয়। এরপর আলাদাভাবে বের করা হয়েছে অংশগুলো। দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে এ প্রক্রিয়া।

কয়েদির পেট থেকে একটি মোবাইল ফোন বের করেছেন এক চিকিৎসক। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশ কসোভোতে।

গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক দিন পেট ব্যথায় ভোগার পর গত সপ্তাহে ওই কয়েদিকে প্রিস্টিনা ইউনিভার্সিটি হসপিটাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।

ওই ব্যক্তির পেটে অস্ত্রোপচার করা চিকিৎসক জানিয়েছেন, চারদিন ধরে পাকস্থলীতে মোবাইল ফোনটি ছিল। পুরো যন্ত্রটি ওই ব্যক্তি গিলে ফেলেছিলেন।

৩৩ বছর বয়সী ওই রোগীর নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তবে সফল অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ আছেন তিনি।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলটির প্রধান স্কেন্দার তেলাকু বলেন, ‘ছোট একটা ফোন সে গিলে ফেলেছে বলে জানতে পারি আমরা। সেটা বের করেও এনেছি।

‘তবে মোবাইল ফোনটি বের করার জন্য ওই ব্যক্তির পেট কাটতে হয়নি। এন্ডোসকপির সাহায্যে পুরো প্রক্রিয়াটি সফলভাবে শেষ করা হয়েছে।’

ওই চিকিৎসক আরও জানান, আস্ত মোবাইল গিলে ফেলেও এন্ডোসকপির সাহায্যে পেটের ভেতর মোবাইলটির তিনটি অংশ পৃথক করা হয়। এরপর আলাদাভাবে বের করা হয়েছে অংশগুলো।

দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে এ প্রক্রিয়া। শেষ পর্যন্ত কোনো ধরনের জটিলতা ছাড়াই পুরো কাজটি শেষ হয়েছে।

তেলাকু বলেন, ‘আমরা সবচেয়ে বেশি চিন্তিত ছিলাম মোবাইলের ব্যাটারি নিয়ে… পেটের ভেতরের রাসায়নিক ও অ্যাসিডে ব্যাটারির অংশ ক্ষয়ে পাকস্থলীতে ঢুকে যেতে পারত।

‘অস্ত্রোপচারটি ছিল অনেকটা রাস্তায় পুঁতে রাখা অবিস্ফোরিত মাইন খুঁজে বের করার মতো জটিল। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে সব ভালোভাবেই শেষ হয়েছে।’

অস্ত্রোপচার শেষ পুলিশ রোগীকে আটক ও মোবাইল ফোনটি জব্দ করেছে। মোবাইল ফোনটির মডেল ২০০০ সালের পরের কোনো সময়ের।

কেন আর কিভাবে ওই ব্যক্তি মোবাইল ফোনটি গিলেছিলেন, তা জানা যায়নি।

চিকিৎসকদের ধারণা, ও ব্যক্তি যে কারাগারে শাস্তিভোগ করছিলেন, সেখানে লুকিয়ে মোবাইলটি ঢোকানো হয়েছিল। সম্ভবত মোবাইল ফোনটি ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি গোপনে বাইরে যোগাযোগ করতেন তিনি। কোনো এক সময়ের ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে পুলিশের নজর এড়িয়ে দ্রুত সেটি গিলে ফেলেছেন।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেনি কসোভো পুলিশ কিংবা এ বিষয়ে কিছু জানায়নি।

আরও পড়ুন:
পাকিস্তান সিরিজের সূচি নিয়ে বিপাকে আফগানিস্তান
প্রয়োজনে তালেবানের সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাজ্য
হাজারাদের নির্বিচার হত্যার ‘দায় তালেবানের’
কাবুল থেকে নাগরিকদের ফেরানোতে মৃত্যুঝুঁকি অবধারিত: বাইডেন
ইন্টারনেট থেকে উধাও তালেবানের ৫ ওয়েবসাইট

শেয়ার করুন

কানাডার প্রধানমন্ত্রী থাকবেন ট্রুডো?

কানাডার প্রধানমন্ত্রী থাকবেন ট্রুডো?

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। ফাইল ছবি

আগাম নির্বাচনের সিদ্ধান্ত বুমেরাং হয়ে আঘাত করতে বসেছে ট্রুডোকেই। মহামারির চতুর্থ ধাক্কা আসন্ন পরিস্থিতির মধ্যে আগাম নির্বাচনের দরকার ছিল কি না, সে প্রশ্নে তোপের মুখে ট্রুডোর ভাগ্য; যার সুযোগে গ্রহণযোগ্যতা বেড়ে গেছে প্রধান বিরোধী দলের। এ অবস্থায় এখন প্রধানমন্ত্রিত্ব বাঁচাতেই মরিয়া ট্রুডো।

দিন গড়ালেই কানাডায় শুরু হবে সাধারণ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। সোমবারের ভোটের দুই দিন আগে শনিবার টরন্টো অঞ্চলে প্রচার চালিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী এরিন ও’টুল। প্রচারের শেষ দিকে এসে দুই প্রার্থীরই উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ভোট বিভাজনের শঙ্কা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, জনমত জরিপে ক্ষমতাসীন ও প্রধান বিরোধী দলের পাশাপাশি তুলনামূলক কম জনপ্রিয় দুটি দলের প্রতি মানুষের সমর্থন বেড়েছে। দল দুটি হলো বামঘেঁষা নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) ও পপুলিস্ট বা গণমানুষের কথা বলার দাবি করা পিপলস পার্টি অফ কানাডা (পিপিসি)।

জরিপ সংস্থা সুন্দাশ লেজারের সবশেষ জরিপ বলছে, ট্রুডোর উদারপন্থি (লিবারেল পার্টি) ও টুলের রক্ষণশীলদের (কনজারভেটিভ) মধ্যে জনসমর্থনের পার্থক্য মাত্র ১ শতাংশ। ৩৩ শতাংশ সমর্থনে এগিয়ে আছে উদারপন্থিরা, ৩২ শতাংশ সমর্থন রয়েছে রক্ষণশীলদের প্রতি।

বিপরীতে এনডিপি ও পিপিসির জনসমর্থন বেড়ে যথাক্রমে ১৯ শতাংশ ও ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

এ অবস্থায় নির্বাচনে দল দুটির পরাজয় নিশ্চিত হলেও তাদের প্রাপ্ত ভোট প্রধান দুই দলের হারজিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে শঙ্কা ট্রুডো ও টুলের।

৪৯ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো এবারের নির্বাচনে জিতলে টানা তৃতীয়বার দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। বর্তমান পার্লামেন্টে তার দল সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় প্রশ্নের মুখে জনসমর্থনের প্রমাণ দিতে আগাম নির্বাচন দিয়েছেন তিনি।

কিন্তু তার এ পদক্ষেপ বুমেরাং হয়ে আঘাত করতে বসেছে ট্রুডোকেই। মহামারির চতুর্থ ধাক্কা আসন্ন পরিস্থিতির মধ্যে আগাম নির্বাচনের দরকার ছিল কি না, সে প্রশ্নে তোপের মুখে ট্রুডোর ভাগ্য; যার সুযোগে গ্রহণযোগ্যতা বেড়ে গেছে প্রধান বিরোধী দলের। এ অবস্থায় এখন প্রধানমন্ত্রিত্ব বাঁচাতেই মরিয়া ট্রুডো।

ওন্টারিওর অরোরায় ট্রুডো বলেন, ‘এনডিপি যা-ই বলুক না কেন, জনগণ কনজারভেটিভ আর লিবারেলদের মধ্য থেকেই কাউকে সরকার হিসেবে বেছে নেবে। আর আমাদের সরকার উদারপন্থি কি না, তার প্রভাব কানাডার সমাজে পড়বেই।’

৩৬ দিনের নির্বাচনী প্রচারের শেষ তিন দিনের দুই দিনই ওন্টারিওতে কেটেছে ট্রুডোর। কারণ জনমত জরিপ বলছে, ওন্টারিওতে এনডিপির ভাগ্যে কোনো আসন জুটলে ভাগ পড়বে উদারপন্থিদের আসনসংখ্যায়।

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ফল হতে পারে, আবারও জগমিৎ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন এনডিপির সঙ্গে সংখ্যালঘু সরকার গঠন করতে হতে পারে ট্রুডোর দলকে।

শনিবার প্রকাশিত আরেকটি জরিপের ফলে ট্রুডোর দল এগিয়ে ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটে, বিপরীতে রক্ষণশীলদের প্রতি সমর্থন ২৭ দশমিক ৭ শতাংশ। এই হার বজায় থাকলেও কোনো দলই একক সরকার গঠন করতে পারবে না।

৩৩৮ আসনের হাউস অফ কমন্সে একক সরকার গঠনে কমপক্ষে ১৭০টি আসনে জয় নিশ্চিত করতে হবে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলকে।

জনমত জরিপের ফলের ওপর ভিত্তি করে ট্রুডোকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এটাই তার শেষ নির্বাচন হতে যাচ্ছে কি না। তিনি বলেছেন, ‘এখনও অনেক কাজ বাকি এবং আমি সব কাজ শেষ করার ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারিনি।’

রক্ষণশীল নেতা এরিন ও’টুল শনিবারের প্রচারে ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ‘ট্রুডো তৃতীয়বার ক্ষমতায় এলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।’

পিপিসিকে একহাত নিতে লিবারেলদের প্রতি অসন্তুষ্ট ভোটারদের জন্য কনজারভেটিভই একমাত্র বিকল্প বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এনডিপি যেমন লিবারেলদের জন্য, তেমনি পিপিসি কনজারভেটিভদের ভোটে ভাগ বসাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে তুমুল প্রতিযোগিতাপূর্ণ জেলাগুলোতে পিছিয়ে যেতে পারে প্রধান দুই দল।

আরও পড়ুন:
পাকিস্তান সিরিজের সূচি নিয়ে বিপাকে আফগানিস্তান
প্রয়োজনে তালেবানের সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাজ্য
হাজারাদের নির্বিচার হত্যার ‘দায় তালেবানের’
কাবুল থেকে নাগরিকদের ফেরানোতে মৃত্যুঝুঁকি অবধারিত: বাইডেন
ইন্টারনেট থেকে উধাও তালেবানের ৫ ওয়েবসাইট

শেয়ার করুন

৩ মাস পর বাংলাদেশের জন্য খুলছে জাপানের দুয়ার

৩ মাস পর বাংলাদেশের জন্য খুলছে জাপানের দুয়ার

নতুন নিয়ম অনুযায়ী জাপানে পৌঁছানোর পর এবং কোয়ারেন্টিনের তৃতীয় দিনে ভ্রমণকারীদের করোনা পরীক্ষা করাতে হবে। ছবি: জাপান টাইমস

ছয়টি দেশের ওপর থেকে এসব বিধিনিষেধ প্রত্যাহারে শুক্রবার সিদ্ধান্ত নেয় টোকিও। জাপানের করোনাকালীন কোয়ারেন্টিন নীতিমালায় এর ফলে বড় ধরনের সংস্কার এলো। পরিবর্তিত নীতি অনুযায়ী ৪০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলের ভ্রমণেচ্ছুদের জাপানে পৌঁছানোর পর সরকারি ব্যবস্থায় কমপক্ষে তিন দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

করোনাভাইরাস মহামারিকালীন বিধিনিষেধের অংশ হিসেবে বাংলাদেশসহ ছয়টি দেশের ওপর জারিকৃত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে জাপান। সোমবার থেকে এসব দেশের নাগরিকরা জাপানে ঢুকতে পারবেন।

জাপান টাইমসের শনিবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের অধিক সংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের কারণে চলতি বছরের জুনে ছয়টি দেশকে কালো তালিকাভুক্ত করেছিল টোকিও। গত প্রায় তিন মাস এসব দেশের নাগরিকদের জন্য জাপান ভ্রমণ প্রায় পুরোপুরি নিষিদ্ধ ছিল।

দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তান। করোনাভাইরাসের টিকা নেয়া কিংবা জাপানে বসবাসের বৈধ অনুমতি থাকা ব্যক্তিদেরও এসব দেশ থেকে জাপানে ঢুকতে দেয়া হচ্ছিল না।

এমনকি এসব দেশ থেকে জাপানগামী বিশ্বের সব দেশের নাগরিকদের জন্য পৌঁছানোর পরের ১৪ দিন কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করা হয়।

ছয়টি দেশের ওপর থেকে এসব বিধিনিষেধ প্রত্যাহারে শুক্রবার সিদ্ধান্ত নেয় টোকিও। জাপানের করোনাকালীন কোয়ারেন্টিন নীতিমালায় এর ফলে বড় ধরনের সংস্কার এলো। পরিবর্তিত নীতি অনুযায়ী ৪০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলের ভ্রমণেচ্ছুদের জাপানে পৌঁছানোর পর সরকারি ব্যবস্থায় কমপক্ষে তিন দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

করোনাভাইরাস ও এর ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার রোধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এর আওতায় জাপানে পৌঁছানোর পর এবং কোয়ারেন্টিনের তৃতীয় দিনে ভ্রমণকারীদের করোনা পরীক্ষা করাতে হবে।

দুটি টেস্টে নেগেটিভ হলেই সেলফ-আইসোলেশন থেকে বেরিয়ে জাপানে নিজ বাড়িতে অথবা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী স্থানে বাকি ১১ দিনের কোয়ারেন্টিন সম্পন্ন করতে হবে। তারপর জাপানে উন্মুক্ত চলাচলের সুযোগ পাবেন তারা।

বাংলাদেশ ছাড়াও ৪০টি দেশের নতুন তালিকায় আছে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, আফগানিস্তান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশ।

আরও পড়ুন:
পাকিস্তান সিরিজের সূচি নিয়ে বিপাকে আফগানিস্তান
প্রয়োজনে তালেবানের সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাজ্য
হাজারাদের নির্বিচার হত্যার ‘দায় তালেবানের’
কাবুল থেকে নাগরিকদের ফেরানোতে মৃত্যুঝুঁকি অবধারিত: বাইডেন
ইন্টারনেট থেকে উধাও তালেবানের ৫ ওয়েবসাইট

শেয়ার করুন

সরকারি চাকরিজীবী নারীদের ঘরে থাকার আদেশ তালেবানের

সরকারি চাকরিজীবী নারীদের ঘরে থাকার আদেশ তালেবানের

কাবুলে তালেবানের বন্ধ করে দেয়া নারী মন্ত্রণালয়ের বাইরে রোববারের এ বিক্ষোভ স্থায়ী হয় মাত্র ১০ মিনিট। ছবি: এপি

এ আদেশের ফলে কত নারী চাকরিচ্যুত হবেন, তা জানা নেই বলে জানিয়েছেন কাবুলের মেয়র। তিনি বলেন, ‘কিছু কাজ আছে, যেগুলো পুরুষরা পারে না। সেসব কাজে নারী কর্মীদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হবে, কারণ এর অন্য বিকল্প নেই।’

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে নগর প্রশাসনের নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাড়িতে থাকার আদেশ দিয়েছে নতুন শাসকদল তালেবান।

কাবুলের অন্তর্বর্তী মেয়র হামদুল্লাহ নামোনি দায়িত্ব গ্রহনের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে জানান, কোনো পদের জন্য পুরুষ কর্মী না পাওয়া গেলে শুধু ওই পদে নারী কর্মীকে বহাল রাখা হবে।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, নারীদের ওপর তালেবানের বিধিনিষেধ জারির ধারাবাহিকতায় রোববার আসে এ ঘোষণা। মেয়র জানান, কাবুলের নগর প্রশাসনের সব বিভাগ মিলে পদ প্রায় তিন হাজার, যার এক-তৃতীয়াংশেই কর্মরত ছিলেন নারীরা।

নামোনি জানান, আপাতত এই নারী কর্মীদের ঘরে থাকার আদেশ দেয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা আসার আগ পর্যন্ত এই আদেশ বহাল থাকবে। নকশা ও প্রকৌশলবিষয়ক বিভাগ ও নারীদের পাবলিক টয়লেটগুলো রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে পর্যাপ্ত পুরুষ কর্মী পাওয়া না গেলে ব্যতিক্রম ঘটতে পারে।

এ আদেশের ফলে কত নারী চাকরিচ্যুত হবেন, তা জানা নেই বলে জানিয়েছেন কাবুলের মেয়র। তিনি বলেন, ‘কিছু কাজ আছে, যেগুলো পুরুষরা পারে না। সেসব কাজে নারী কর্মীদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হবে, কারণ এর অন্য বিকল্প নেই।’

এর আগে শুক্রবার আফগানিস্তানের নারী মন্ত্রণালয় স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয় শাসকগোষ্ঠী। এর প্রতিবাদে আজ বন্ধ হয়ে যাওয়া নারী মন্ত্রণালয়ের বাইরে কয়েকজন নারী বিক্ষোভ করেন। জনজীবনে নারীদের অংশগ্রহণ করতে দেয়ার দাবি জানান তারা।

বিক্ষোভে অংশ নেয়া ৩০ বছর বয়সী বশিরা তাওয়ানা বলেন, ‘কেন তালেবান আমাদের সব অধিকার হরন করছে? আমাদের আর সন্তানদের অধিকার আদায়ের জন্য এখানে এসেছি।’

বিক্ষোভকারীদের একটি ব্যানারে লেখা ছিল, ‘যে সমাজে নারীরা সক্রিয় নয়, সেটা মৃত সমাজ।’

কিন্তু ওই বিক্ষোভ স্থায়ী হয় মাত্র ১০ মিনিট। এক ব্যক্তির সঙ্গে রাস্তাতেই আলোচনার পর বিক্ষোভে অংশ নেয়া নারীরা গাড়িতে চড়ে চলে যান। সে সময় কাছেই দুটি গাড়িতে তালেবান সদস্যরা অবস্থান করছিল।

অন্যদিকে, তালেবানের নির্দেশনা অনুযায়ী শনিবার থেকে মেয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষিকা ছাড়াই আফগানিস্তানের স্কুলগুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

গত মাসে কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর নারী অধিকার নিয়ে নানা আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত কোনো কথাই রাখছে না গোষ্ঠীটি। নব্বইয়ের দশকের শাসনামলের মতোই নারীদের শিক্ষাগ্রহণ, জীবিকা উপার্জনসহ সব মৌলিক অধিকার একে একে বাতিল করছে তারা।

আরও পড়ুন:
পাকিস্তান সিরিজের সূচি নিয়ে বিপাকে আফগানিস্তান
প্রয়োজনে তালেবানের সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাজ্য
হাজারাদের নির্বিচার হত্যার ‘দায় তালেবানের’
কাবুল থেকে নাগরিকদের ফেরানোতে মৃত্যুঝুঁকি অবধারিত: বাইডেন
ইন্টারনেট থেকে উধাও তালেবানের ৫ ওয়েবসাইট

শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র-অস্ট্রেলিয়া মিথ্যাচার করেছে: ফ্রান্স

যুক্তরাষ্ট্র-অস্ট্রেলিয়া মিথ্যাচার করেছে: ফ্রান্স

অকাস চুক্তির ফলে ফ্রান্সের সঙ্গে দুই হাজার ৭০০ কোটি ডলারের পাঁচ বছরের পুরোনো চুক্তি বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ধনী তিন দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রতিরক্ষামূলক চুক্তি অকাস প্যাক্ট। এর মাধ্যমে পরমাণু শক্তিসমৃদ্ধ ডুবোজাহাজ তৈরিতে অস্ট্রেলিয়াকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। চীনের আঞ্চলিক আধিপত্য রোধের চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে ঐতিহাসিক চুক্তিটিকে।

পরমাণু শক্তিচালিত ডুবোজাহাজ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়াকে ‘মিথ্যাবাদী’ আখ্যা দিয়েছে ফ্রান্স।

এ ‌‌মিথ্যাচারের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূতদের দেশে ফিরতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-ইভস লে দ্রিয়ান।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া সরকারের বিরুদ্ধে ‘আস্থা ভঙ্গ, প্রতারণা ও অবমাননার’ অভিযোগ তুলেছেন দ্রিয়ান।

অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমবারের মতো পরমাণু শক্তিচালিত ডুবোজাহাজ নির্মাণের ক্ষমতা দিয়ে বুধবার নতুন চুক্তির ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য।

অকাস প্যাক্ট হিসেবে পরিচিত ত্রিদেশীয় এ চুক্তির ফলে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ১২টি ডুবোজাহাজ তৈরির চুক্তি হারিয়েছে ফ্রান্স। ২০১৬ সালে হয়েছিল ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের প্যারিস-মেলবোর্ন চুক্তিটি।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলছেন, জাতীয় স্বার্থে যা ভালো বলে মনে হয়েছে, তাই করেছেন তিনি।

মরিসন বলেন, ‘ফরাসি সরকারের বুঝতে হবে যে, ওই চুক্তিতে আমাদের কৌশলগত স্বার্থ অর্জিত হচ্ছিল না, যা আমাদের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বুঝি যে ফরাসি সরকারের জন্য এটা গভীর হতাশার বিষয়। কিন্তু একই সঙ্গে অন্য যেকোনো সার্বভৌম দেশের মতো নিজেদের সার্বভৌম জাতীয় প্রতিরক্ষা স্বার্থ অর্জনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার অধিকার অস্ট্রেলিয়ারও আছে।’

প্রায় পাঁচ বছর আগে হয় প্যারিস-মেলবোর্ন প্রতিরক্ষা চুক্তি। অকাসের কারণে ভেস্তে গেছে এ পুরোনো চুক্তিটি। অকাস নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে বিষয়টি জানতে পারে ফ্রান্স।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শনিবার ফ্রান্স টু টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, দীর্ঘদিনের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংকট তীব্র হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ইতিহাসে প্রথমবার ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে এতটা বিরোধ তৈরি হয়েছে যে, আমাদের রাষ্ট্রদূতদেরও ডেকে পাঠাতে হয়েছে।’

কিন্তু ত্রিদেশীয় চুক্তিতে থাকা যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি কেন প্রশ্ন করা হলে ক্ষুব্ধ দ্রিয়ান বলেন, ‘দুই রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠানো হয়েছে পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়নের জন্য। যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে হয়নি। কারণ দেশটি বরাবরই সুযোগসন্ধানী।

‘পুরো ঘটনায় ব্রিটিশ সরকারের ভূমিকা তিন নম্বর চাকার মতো ছিল।’

নবনিযুক্ত ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস চুক্তির পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, ‘প্রতিরক্ষার প্রশ্নে নিজেদের স্বার্থে যেকোনো সময় কঠোর হতে যুক্তরাজ্য প্রস্তুত।’

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ধনী তিন দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রতিরক্ষামূলক চুক্তি অকাস প্যাক্ট। এর মাধ্যমে পরমাণু শক্তিসমৃদ্ধ ডুবোজাহাজ তৈরিতে অস্ট্রেলিয়াকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য।

চীনের আঞ্চলিক আধিপত্য রোধের চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে ঐতিহাসিক চুক্তিটিকে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ চীনও।

আরও পড়ুন:
পাকিস্তান সিরিজের সূচি নিয়ে বিপাকে আফগানিস্তান
প্রয়োজনে তালেবানের সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাজ্য
হাজারাদের নির্বিচার হত্যার ‘দায় তালেবানের’
কাবুল থেকে নাগরিকদের ফেরানোতে মৃত্যুঝুঁকি অবধারিত: বাইডেন
ইন্টারনেট থেকে উধাও তালেবানের ৫ ওয়েবসাইট

শেয়ার করুন

ইতিহাস গড়ে পৃথিবীতে ৪ মহাকাশ পর্যটক

ইতিহাস গড়ে পৃথিবীতে ৪ মহাকাশ পর্যটক

মহাকাশে রওনা দেয়ার আগে প্রথম চার বেসামরিক পর্যটক ক্রিস সেমব্রোস্কি, শন প্রক্টর, জ্যারেড আইজ্যাকম্যান ও হ্যালে আর্সেনক্স। ছবি: ইন্সপিরেশান ফোর (বাম থেকে ডানে)।

আরোহীরা ছিলেন পৃথিবীর কক্ষপথ ঘুরে আসা প্রথম বেসরকারি দল, যাদের সবাই সাধারণ মানুষ। তাদের সঙ্গে ছিল না কোনো পেশাদার নভোচারী।

শুধু বেড়ানোর উদ্দেশ্যে মহাকাশে যাওয়া বিশ্বের প্রথম চার অপেশাদার ও বেসামরিক নভোচারী ফিরে এসেছেন পৃথিবীতে। তিন দিন কক্ষপথে কাটানোর পর আটলান্টিকের ফ্লোরিডা উপকূলে স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় অবতরণ করে তাদের বহনকারী ক্যাপসুলটি।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ক্যাপসুলটির পানিতে আছড়ে পড়া ঠেকাতে চারটি প্যারাসুটের মাধ্যমে সেটির গতি ধীর করে আনা হয়। ক্যাপসুলটি নিয়ন্ত্রিতভাবে পানি স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যায় কয়েকটি নৌকা, যেগুলোতে করে তীরে ফেরেন নভোচারীরা।

এর মাধ্যমে সফলভাবে সম্পন্ন হলো মহাকাশযাত্রায় প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশযান প্রস্তুতকারক ও মহাকাশযাত্রা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের এ ফ্লাইটের নাম ‘ইন্সপিরেশান ফোর’।

এর আরোহীরা ছিলেন পৃথিবীর কক্ষপথ ঘুরে আসা প্রথম বেসরকারি দল, যাদের সবাই সাধারণ মানুষ। তাদের সঙ্গে ছিল না কোনো পেশাদার নভোচারী।

এ নিয়ে স্পেসএক্স মহাকাশে তিনটি সফল যাত্রা পরিচালনা করেছে, যা মহাকাশ পর্যটনের জন্য আরেকটি মাইলফলক।

গত বুধবার ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে একটি ড্রাগন ক্যাপসুলে চড়ে রওনা দেন ওই চারজন। দলটির নেতৃত্বে ছিল ৩৮ বছর বয়সী আমেরিকান ধনকুবের ও দক্ষ পাইলট জ্যারেড আইজ্যাকম্যান। তিন সঙ্গীসহ চারজনের অভিযাত্রিক দলটির মহাকাশযাত্রার পুরো খরচ বহন করেছেন তিনি।

অবতরণের পরই আইজ্যাকম্যানকে বেতারে বলতে শোনা যায়, ‘অবিশ্বাস্য একটি যাত্রা শেষ করে এলাম আমরা।’

ই-কমার্সভিত্তিক প্রতিষ্ঠান শিফটফোর পেমেন্টসের প্রধান নির্বাহী জ্যারেড আইজ্যাকম্যান। মহাকাশ ভ্রমণে তার খরচের অঙ্ক গোপন রাখা হয়েছে।

টাইম ম্যাগাজিনের হিসাব অনুযায়ী, ক্রু ড্রাগনের চারটি আসনের জন্য আরেক ধনকুবের ও স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ককে খরচ বাবদ প্রায় ২০ কোটি ডলার দিয়েছেন আইজ্যাকম্যান।

প্রতিযোগিতার আয়োজন করে নিজের তিন সঙ্গী বাছাই করে নিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। সৌভাগ্যবানরা হলেন স্বাস্থ্যকর্মী ২৯ বছর বয়সী হ্যালে আর্সেনক্স, ৪২ বছর বয়সী তথ্য প্রকৌশলী ক্রিস সেমব্রোস্কি ও ৫১ বছর বয়সী শিক্ষক শন প্রক্টর।

এদের মধ্যে আর্সেনক্স মহাকাশভ্রমণকারী সর্বকনিষ্ঠ আমেরিকান এবং কৃত্রিম পা ও টাইটানিয়াম রডযুক্ত বাম পা নিয়ে মহাকাশে যাওয়া প্রথম ব্যক্তি। শৈশবে প্রাণঘাতী ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধে জয়ী তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের মেমফিসে সেন্ট জুডি চিলড্রেনস রিসার্চ হসপিটালে ক্যানসারের চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন তিনি। বর্তমানে সেখানেই কর্মরত।

মহাকাশভ্রমণে ছয় মাস প্রশিক্ষণ নিয়েছে চারজনের দলটি। তাদের নিয়ে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের (আইএসএস) চেয়েও ১৬০ কিলোমিটার উঁচু থেকে পৃথিবীকে দিনে ১৫ বারের বেশি প্রদক্ষিণ করেছে স্পেসএক্সের ড্রাগন ক্যাপসুল।

পৃথিবী থেকে ৫৭৫ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত গিয়েছে সেটি; যায়নি আইএসএসের কাছে।

আরও পড়ুন:
পাকিস্তান সিরিজের সূচি নিয়ে বিপাকে আফগানিস্তান
প্রয়োজনে তালেবানের সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাজ্য
হাজারাদের নির্বিচার হত্যার ‘দায় তালেবানের’
কাবুল থেকে নাগরিকদের ফেরানোতে মৃত্যুঝুঁকি অবধারিত: বাইডেন
ইন্টারনেট থেকে উধাও তালেবানের ৫ ওয়েবসাইট

শেয়ার করুন