পাকিস্তানে চীনা নাগরিকদের লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলা

পাকিস্তানে চীনা নাগরিকদের লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলা

চীনা নাগরিকদের গাড়িবহর থেকে ১৫-২০ মিটার দূরে আত্মঘাতী বিস্ফোরণটি ঘটায় এক কিশোর। ছবি: সংগৃহীত

খাইবার পখতুনখোয়া প্রদেশে চলতি মাসে বাসে হামলায় নয় চীনা কর্মীসহ ১৩ জন নিহত হন। চলতি বছরের এপ্রিলে বেলুচিস্তানের রাজধানী কুয়েটায় সফররত চীনের রাষ্ট্রদূতকে লক্ষ্য করে একটি অভিজাত হোটেলে হামলা চালায় বন্দুকধারীরা। রাষ্ট্রদূত বেঁচে গেলেও প্রাণ যায় চার জনের।

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে বন্দরনগরী গদরে আত্মঘাতীয় বোমা হামলায় নিহত হয়েছে শিশু। চীনা নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় গদরের ইস্ট বে এক্সপ্রেসওয়ে অতিক্রম করার সময় চীনা নাগরিকদের একটি গাড়িবহরে হয় এ হামলা। বহরে মোট চারটি গাড়ি ছিল।

গাড়িবহরের সুরক্ষায় চীনা নাগরিকদের সঙ্গে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও পুলিশের নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও ছিলেন।

বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, সাগরপাড়ের রাস্তায় জেলেদের একটি পাড়া থেকে এক কিশোর গাড়িবহরের দিকে দৌড়ে যায়। সে সময় এলাকাটিতে সাদা পোশাকে অবস্থান করছিলেন পাকিস্তানী সেনারাও।

তারা দৌড়ে গিয়ে ছেলেটিকে আটকালে গাড়িবহর থেকে ১৫-২০ মিটার দূরে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ চালায় সে।

হামলায় স্থানীয় দুই শিশু নিহত, দুই শিশুসহ তিন জন স্থানীয় ও এক জন চীনা নাগরিক আহত হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে গদরের হাসপাতাল থেকে ফিরে গেছেন ওই চীনা নাগরিক। আহত দুই শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতৃ অবস্থানে যেতে পাকিস্তান ও চীনের লক্ষ্যকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা এটি।’

দোষীদের বিচারের আওতায় আনারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

খাইবার পখতুনখোয়া প্রদেশে চলতি মাসে বাসে হামলায় নয় চীনা কর্মীসহ ১৩ জন নিহত হন।

চলতি বছরের এপ্রিলে বেলুচিস্তানের রাজধানী কুয়েটায় সফররত চীনের রাষ্ট্রদূতকে লক্ষ্য করে একটি অভিজাত হোটেলে হামলা চালায় বন্দুকধারীরা। রাষ্ট্রদূত বেঁচে গেলেও প্রাণ যায় চার জনের।

গ্যাসসহ নানা খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদসমৃদ্ধ বেলুচিস্তান পাকিস্তানের অন্যতম দরিদ্র অঞ্চল। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে। অঞ্চলটিতে সক্রিয় সশস্ত্র বেশ কিছু সংগঠন।

বিশেষ করে সম্প্রতি সাড়ে ছয় হাজার কোটি ডলারের চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের (সিপিইসি) মাধ্যমে অঞ্চলটিতে চীনের বিনিয়োগ ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষোভ আরও দানা বাঁধে। প্রকল্পের আওতায় আরব সাগর তীরবর্তী গদর বন্দরের উন্নয়নেও কাজ করছে চীনারা।

এশিয়া ও ইউরোপকে সড়ক, রেল ও নৌপথে যুক্ত করতে বেইজিংয়ের উচ্চাভিলাষী বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অংশ এটি।

এসব প্রকল্পে অঢেল বিনিয়োগ সত্ত্বেও বেলুচিস্তানের মানুষ কোনোভাবে উপকৃত হচ্ছেন না বলে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। সিপিইসির নানান প্রকল্পে নিয়োগ পাওয়া বেশির ভাগ মানুষই ভিন্ন অঞ্চল বা দেশের বাসিন্দা।

২০১৯ সালে সিপিইসির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে আরেকটি বিলাসবহুল হোটেলে হামলা চালিয়ে আটজনকে হত্যা করে বন্দুকধারীরা। আরব সাগরে চীনের সহজ প্রবেশ নিশ্চিতে বেলুচিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে নির্মিত গভীর সমুদ্রবন্দরের শহর গদরে হয় ওই হামলা।

গত বছরের জুনে চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আংশিক মালিকানার অন্তর্ভুক্ত পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জেও হামলা চালায় বেলুচ স্বাধীনতাকামীরা।

এ ছাড়া স্বাধীনতার দাবিতে বেলুচিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট নামে আরও একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীও দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র বিদ্রোহ চালিয়ে আসছে অঞ্চলটিতে। আছে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের তৎপরতাও।

আরও পড়ুন:
পাকিস্তানে চীনা রাষ্ট্রদূতই কি হামলার লক্ষ্য
পাকিস্তানে অভিজাত হোটেলে গাড়িবোমায় নিহত ৪

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এবার দাড়ি কাটায় তালেবানের নিষেধাজ্ঞা

এবার দাড়ি কাটায় তালেবানের নিষেধাজ্ঞা

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রথমবার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায়ও তালেবানরা আফগানদের দাড়ি কাটায় এ ধরনের নির্দেশ জারি করেছিল। সেসময় প্রাপ্তবয়ষ্ক আফগানদের মুখে দাড়ি না থাকা ছিল একটি বিরল ঘটনা।

দিন যত যাচ্ছে আফগানিস্তানে ধীরে ধীরে পুরনো বিধি-নিষেধগুলোকে ফিরিয়ে আনছে তালেবান। দেশটির হেলমান্দ প্রদেশে এবার তারা দাড়ি কাটায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। নাপিতদের কড়া ভাষায় বলে দেওয়া হয়েছে, তাদের কেউ যেন শেভ কিংবা দাড়ি ছাঁটার কোনো কাজ না করেন।

তালেবোনের ধর্মীয় পুলিশের মতে, দাড়ি শেভ করা ইসলামিক আইনের লঙ্ঘণ। আর এই কাজটি যে করবে তাকে অবশ্যই কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।

বিবিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের নাপিতেরাও একই ধরনের নির্দেশ পেয়েছেন বলে তারা দাবি করছেন।

আর হেলমান্দ প্রদেশের সেলুনগুলোতে হঠাৎ করেই তালেবানের নির্দেশিকা সম্বলিত একটি পোস্টার টানিয়ে দেওয়া হয়। এই পোস্টারে বলা হয়, চুল-দাড়ি কাটায় সেলুনে কাজ করা নাপিতদের অবশ্যই ইসলামি শারিয়া আইন মেনে চলতে হবে। এ ব্যাপারে কারো দ্বিমতের অধিকার নেই।’

কাবুলের এক নাপিত বিবিসি’কে বলেন, ‘যোদ্ধারা (তালেবান) মাঝেমাঝেই আসছেন। আর দাড়ি ছাঁটা বন্ধ করার নির্দেশ দিচ্ছেন। এক অফিসার এমনও বলেছেন, নির্দেশ অমান্যকারীদের ধরতে গোপনে অনুসন্ধান চালানো হবে।’

কাবুলের সবচেয়ে বড় সেলুনটির এক নাপিত জানিয়েছেন- সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দেয়া এক ব্যক্তি তাকে ফোন করেছিলেন। চুল-দাড়ি কাটায় আমেরিকান স্টাইল বন্ধ করাসহ দাড়ি শেভ কিংবা ছোট না করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রথমবার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায়ও তালেবানরা আফগানদের চুল দাড়ি কাটায় এ ধরনের নির্দেশ জারি করেছিল। সেসময় প্রাপ্তবয়ষ্ক আফগানদের মুখে দাড়ি না থাকা ছিল একটি বিরল ঘটনা। তবে মার্কিন বাহিনী থাকা অবস্থায় অসংখ্য তালেবানের মধ্যে নিয়মিত শেভ কিংবা নানা স্টাইলে দাড়ি ছেঁটে রাখার অভ্যাস গড়ে উঠেছিল।

এবার দাড়ি কাটায় তালেবানের নিষেধাজ্ঞা
একটি আফগান সেলুনে লাগানো পোস্টার। গত দুই দশকজুড়ে আফগান তরুণরা নানা স্টাইলে চুল দাড়ি কাটতো।

নতুন নির্দেশের বিষয়ে নাম প্রকাশ না করে আফগান নাপিতরা বলছেন, এমন হলে তাদের কাছে আর কোনো ক্রেতাই আসবেনা। এতে তাদের বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে যাবে।

একজন বললেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে এই ব্যবসা করছি। মনে হয় না এ ব্যবসা আর চালাতে পারবো।’

এদিকে, আফগানিস্তানের হেরাত প্রদেশের এক নাপিত জানিয়েছেন, এ ধরনের নির্দেশ তিনি এখনও পাননি। তবে নির্দেশ দেওয়ার আগেই তিনি দাড়ি কাটা বন্ধ করে দিয়েছেন।

তা ছাড়া আফগান সেলুনগুলোতে শেভ করতে আসা মানুষের সংখ্যাও এখন কমে গেছে। ক্লিন শেভে রুদ্রমূর্তি তালেবান যোদ্ধাদের সামনে কেই-বা দাঁড়াতে চাইবে?

আরও পড়ুন:
পাকিস্তানে চীনা রাষ্ট্রদূতই কি হামলার লক্ষ্য
পাকিস্তানে অভিজাত হোটেলে গাড়িবোমায় নিহত ৪

শেয়ার করুন

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সাবিনা হত্যাকাণ্ডে আটক আরও ১

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সাবিনা হত্যাকাণ্ডে আটক আরও ১

পার্কটির পাশে প‍্যাগলার স্কোয়ারে শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দেন কমপক্ষে পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ লন্ডনের কেডফোর্ডে রোশে গ্রিন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন সাবিনা নেসা। ১৮ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় বিকেলে এক ব্যক্তি পার্কের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় লতা-পাতা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় সাবিনার মৃতদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি স্কুল শিক্ষক সাবিনা নেসার হত্যার ঘটনায় রোববার আরও এক সন্দেহভাজনকে আটক করেছে যুক্তরাজ্যের পুলিশ।

৩৬ বছর বয়সী ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ইস্ট সাস্যাক্স থেকে বিকেল ৩টার দিকে আটক করে স্কর্টল্যান্ড ইয়ার্ড।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের এক পার্ক থেকে ২৮ বছর বয়সী সাবিনা নেসার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন, রয়টার্স, বিবিসিসহ বিভিন্ন ব্রিটিশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৮ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় বিকেলে এক ব্যক্তি পার্কের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় লতা-পাতা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় সাবিনার মৃতদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

কে এই সাবিনা নেসা

দক্ষিণ লন্ডনের কেডফোর্ডে রোশে গ্রিন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন সাবিনা।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সাবিনাকে দেখা যায় কালো গ্রাজুয়েশন গাউন পরে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসি দিতে।

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সাবিনা হত্যাকাণ্ডে আটক আরও ১
রোশে গ্রিন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন সাবিনা নেসা। ছবি: সংগৃহীত

এই ব্রিটিশ-বাংলাদেশি তরুণী পড়াশোনা করেছেন গ্রিনিচ বিশ্ববিদ্যালয়ে। তার গ্রামের বাড়ি বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলায়।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক লিসা উইলিয়ামস জানান সাবিনা ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক।

হত্যার বিষয়ে কী বলছে পুলিশ

লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত বলা হয়েছে, সাবিনা নেসাকে ১৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টার দিকে হত্যা করা হয়েছিল। মৃতদেহটি ঝোপঝাড়-ঘাসের আড়ালে লুকিয়ে রাখে হত্যাকারী।

পরদিন বিকেলে পার্কের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এক ব্যক্তির নজরে আসার আগ পর্যন্ত সেটি সেখানেই পড়ে ছিল।

তদন্তে বলা হয়, সাবিনা শুক্রবার সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হয়ে পার্কের ভেতর দিয়ে পায়ে হেঁটে খুব কাছের একটি পাবে এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন। বাসা থেকে মাত্র পাঁচ মিনিটের দূরত্বে সাবিনাকে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় একটি সিসিটিভি ফুটেজও প্রকাশ করে পুলিশ। এতে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডের সময় সেই সন্ধ্যায় পার্কের পাশের ফুটপাত দিয়ে একজন ‘রহস্যময়’ ব্যক্তিকে হেঁটে যেতে। তার মাথায় চুল নেই। হাতে কিছু একটা নিয়ে দ্রুত পার্কের পাশের প্যাগলার স্কোয়ার দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তাকে মাথায় হুড টেনে দিতে দেখা যায়।

এর আগে, সন্দেহভাজন আরও দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়া হয়।

নিরাপত্তা শঙ্কায় নারীরা

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি এই স্কুল শিক্ষকের হত্যাকাণ্ডের পর ফের যুক্তরাজ্যজুড়ে নারীর নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা গেছে।

চলতি বছর মার্চে লন্ডনে আরেকটি পার্ক থেকে একইরকমভাবে সারা এভারার্ড নামের এক শ্বেতাঙ্গ নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

কয়েক মাসের ব্যবধানে একই ধরনের দুটি হত্যাকাণ্ডে লন্ডনজুড়ে নারীদের মধ্যে নিরাপত্তাবিষয়ক উৎকণ্ঠা বেড়ে গেছে।

সাবিনা হত্যাকাণ্ড লন্ডনের মতো একটি শহরে নারীর নিরাপত্তার প্রশ্নটি নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

সাবিনার প্রতিবেশী ও কিডব্রুকের বাসিন্দা আলিয়া ইসায়েভা সিএনএনকে জানিয়েছেন, এখানকার বাসিন্দারা ওই পাবে (দ্য ডিপট বার) নিয়মিত যান, কাছের এই পাবটিতে যেতে আমাদের সর্বোচ্চ পাঁচ থেকে দশ মিনিট সময় লাগে। সাবিনা না হয়ে আমরা যে কেউ এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে পারতাম। এমন হত্যাকাণ্ড যে কোনো জায়গায়, যে কোন নারীর সঙ্গে ঘটতে পারে।’

আলিয়া আরও জানান, সপ্তাহে অন্তত একবার ওই পার্কটিতে তিনি নিজেও একা একা যান, যেখানে সেদিন সাবিনার মৃতদেহ পাওয়া গেছে।

স্মরণসভা

সাবিনা নেসার হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কিডব্রুকসহ আশপাশের বাসিন্দাদের শঙ্কিত ও স্তম্ভিত করে দিয়েছে।

সপ্তাহজুড়ে হত্যাকাণ্ডের স্থানটিতে ফুল দিয়ে ও মোমবাতি জ্বালিয়ে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি এই শিক্ষককে স্মরণ করেছেন হাজারো মানুষ।

পার্কটির পাশে প‍্যাগলার স্কোয়ারে শুক্রবার সন্ধ্যায় এক প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দেন কমপক্ষে পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ।

মোমবাতি জ্বালিয়ে সাবিনার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের বিচার ও নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার অবসানে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান তারা।

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সাবিনা হত্যাকাণ্ডে আটক আরও ১

হত্যাকাণ্ডের স্থানটিতে ফুল দিয়ে ও মোমবাতি জ্বালিয়ে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি এই শিক্ষককে স্মরণ করেছেন হাজারো মানুষ।

এই সমাবেশে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সাবিনার বোন জেবিনা ইয়াসমিন ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এ হত্যাকাণ্ড আমাদের গোটা পরিবারকে তছনছ করে দিয়েছে। কোন শব্দ আর ভাষায় আমরা আমাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারবো না। আর যেন কোনো পরিবারের সদস্যকে এরকম নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে না হয়।’

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর সরকারী বাসভবন টেন ডাইনিং স্ট্রিটের বাইরে সাবিনা নেসার স্মরণে জ্বালানো হয় একটি মোমবাতি।

সাবিনার মৃতদেহের ময়নাতদন্তের বিষয়ে এখনও কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি পুলিশ।

১৯৯৩ সালে লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন সাবিনা নেসা। তারা তিন বোন যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা।

আরও পড়ুন:
পাকিস্তানে চীনা রাষ্ট্রদূতই কি হামলার লক্ষ্য
পাকিস্তানে অভিজাত হোটেলে গাড়িবোমায় নিহত ৪

শেয়ার করুন

কাবুলে বন্ধ হচ্ছে নারীদের ড্রাইভিং স্কুল

কাবুলে বন্ধ হচ্ছে নারীদের ড্রাইভিং স্কুল

কাবুলের ব্যস্ত রাস্তায় গাড়ি চালাচ্ছেন এক আফগান নারী। ছবি: এএফপি

নিলাব বলেন, ‘এর আগে প্রায় ৩০ জন নারী গাড়ি চালানো শেখার আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। তবে গত এক মাসে একজনও স্কুলে ভর্তি হতে আসেননি।’

কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠী তালেবানের ক্ষমতা দখলের পর শিক্ষার্থীর অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কাবুলের একটি নারী ড্রাইভিং স্কুল। তালেবান নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে, এমন আশঙ্কায় স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নারী উদ্যোক্তা নিলাব।

রোববার আফগানিস্তানের সংবাদমাধ্যম টোলো নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নিলাব টোলো নিউজকে বলেন, ‘এর আগে প্রায় ৩০ জন নারী গাড়ি চালানো শেখার আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। তবে গত এক মাসে একজনও স্কুলে ভর্তি হতে আসেননি।’

তিনি বলেন, ‘আমি একটি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হয়েছি।’

কাবুলের ওই ড্রাইভিং স্কুলটিতে কয়েক মাস আগে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন মুঘদা নামে এক নারী।

তিনি বলেন, ‘মেয়েদের কাজ করা ও দক্ষতা অর্জন করা উচিত। কারও ওপর নির্ভর না করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে আমি ড্রাইভিং শিখেছিলাম।’

তবে তালেবানের ক্ষমতা দখলের পর আফগান নারীদের স্বনির্ভরতার স্বপ্ন অনেকটাই ফিকে হয়ে এসেছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কর্মক্ষেত্রে যেতে নারীদের বাধা দিয়েছে গোষ্ঠীটি।

গিতি নামে এক নারী বলেন, ‘শুধু আমার নয়, আফগান নারী ও মেয়েদের জীবনে কিছু লক্ষ্য রয়েছে। তারা অভাবে থাকতে চায় না। মেয়েরা চিকিৎসক, ম্যানেজারসহ অন্যান্য পেশায় অংশ নিয়ে হালাল উপার্জন করতে চায়।’

কাবুল দখলের পর তালেবান ঘোষণা দিয়েছিল, কথিত শরিয়াহ আইনের আওতায় নারীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যেতে পারবেন। তবে পাকাপাকিভাবে ক্ষমতা দখলের পর সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে গোষ্ঠীটি। ইতোমধ্যে মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তালেবান।

আরও পড়ুন:
পাকিস্তানে চীনা রাষ্ট্রদূতই কি হামলার লক্ষ্য
পাকিস্তানে অভিজাত হোটেলে গাড়িবোমায় নিহত ৪

শেয়ার করুন

ইসরায়েলের হামলায় পশ্চিম তীরে নিহত ৫ ফিলিস্তিনি

ইসরায়েলের হামলায় পশ্চিম তীরে নিহত ৫ ফিলিস্তিনি

পশ্চিম তীরে অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হামাসের সশস্ত্র সদস্যদের বিরুদ্ধে পশ্চিম তীরে চালানো অভিযানে কমপক্ষে ৫ ফিলিস্তিনি ‘জঙ্গি’ নিহত হয়েছেন। অভিযান চলাকালে হামাসের সশস্ত্র প্রতিরোধে দুই ইসরায়েলি সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচ ফিলিস্তিনি নাগরিক।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ হায়েল সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, ইসরায়েলি অভিযান চলাকালে শনিবার রাতে পশ্চিম তীরের বিদ্দু এলাকায় নিহত হন আহমেদ জাহরান, মাহমৌদ মাইদান ও জাকারিয়া বাদওয়ান।

অভিযানের সময় বুরকিন গ্রামে নিহত হয়েছেন ওসামা সোবো ও ইউসিফ সোবো।

বিদ্দু এলাকায় নিহত তিনজনের মৃতদেহ ইসরায়েলের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। অন্য দুইজনের মৃত্যু হয়েছে জেনিন অঞ্চলে ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়।

ইসরায়েলের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হামাসের সশস্ত্র সদস্যদের বিরুদ্ধে পশ্চিম তীরে চালানো অভিযানে কমপক্ষে ৫ ফিলিস্তিনি ‘জঙ্গি’ নিহত হয়েছেন। অভিযান চলাকালে হামাসের সশস্ত্র প্রতিরোধে দুই ইসরায়েলি সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সশস্ত্র হামলা চালানোর প্রস্তুতি নেয়া হামাসের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পশ্চিম তীরে অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। তবে তিনি হতাহতের বিষয়টি এড়িয়ে যান। দেশটির সামরিক মুখপাত্র অভিযানের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী হামাস পশ্চিম তীরে শক্তি অর্জন করে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পশ্চিমা সমর্থিত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে রুখে দিতে চাইছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে অধিকৃত পশ্চিম তীরে অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী।

আরও পড়ুন:
পাকিস্তানে চীনা রাষ্ট্রদূতই কি হামলার লক্ষ্য
পাকিস্তানে অভিজাত হোটেলে গাড়িবোমায় নিহত ৪

শেয়ার করুন

মারা গেলেন কলকাতায় ফুসফুস নেয়া সেই ব্যক্তি

মারা গেলেন কলকাতায় ফুসফুস নেয়া সেই ব্যক্তি

কলকাতার মেডিক্যা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল।

ফুসফুস প্রতিস্থাপন একটি জটিল প্রক্রিয়া। প্রতিস্থাপনের ৭২ থেকে ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ফুসফুসের দেয়ালে রক্তক্ষরণ এবং হৃদযন্ত্রের ডান দিকের অংশে দুর্বলতার উপসর্গ দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে সংক্রমণের আশঙ্কাও থাকে। গ্রহীতার শরীর দাতার ফুসফুস প্রত্যাখ্যান করতে পারে বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো ফুসফুস প্রতিস্থাপনের দুই দিন পর মারা গেছেন সেই গ্রহীতা। শরীরে রক্তক্ষরণ আর একের পর এক অঙ্গ বিকল হয়ে শুক্রবার রাতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

কলকাতার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে এক করোনামুক্ত রোগী ১০৬ দিন একমো সাপোর্টে ছিলেন। ৪৬ বছরের ওই ব্যক্তির ফুসফুস খারাপ হওয়ায় চিকিৎসকরা তার ফুসফুস প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেন।

পরিবারের চেষ্টায় গুজরাটের সুরাটে এক ব্যক্তির মরণোত্তর দানের ফুসফুস পাওয়া যায়। কলকাতা ও সুরাটের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে সুরাট থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স এবং কলকাতা বিমানবন্দর থেকে গ্রিন করিডর অর্থাৎ রাস্তার সব সিগন্যাল সবুজ করে ফুসফুসবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি মেডিকা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পৌঁছায়।

প্রায় ছয় ঘণ্টা অস্ত্রোপচারের পর ওই রোগীর দেহে ফুসফুসটি বসান পাঁচ সদস্যের একটি চিকিৎসক দল। এদের নেতৃত্বে ছিলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক কুনাল সরকার।

ফুসফুস প্রতিস্থাপন একটি জটিল প্রক্রিয়া। প্রতিস্থাপনের ৭২ থেকে ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ফুসফুসের দেয়ালে রক্তক্ষরণ এবং হৃদযন্ত্রের ডান দিকের অংশে দুর্বলতার উপসর্গ দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে সংক্রমণের আশঙ্কাও থাকে। গ্রহীতার শরীর দাতার ফুসফুস প্রত্যাখ্যান করতে পারে বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

আরও পড়ুন:
পাকিস্তানে চীনা রাষ্ট্রদূতই কি হামলার লক্ষ্য
পাকিস্তানে অভিজাত হোটেলে গাড়িবোমায় নিহত ৪

শেয়ার করুন

ভবানীপুরের ভোটার তালিকায় ‘পিকে’র নাম, পশ্চিমবঙ্গে উত্তেজনা

ভবানীপুরের ভোটার তালিকায় ‘পিকে’র নাম, পশ্চিমবঙ্গে উত্তেজনা

তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট বিষয়ক পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোর। ছবি: পিটিআই

ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায়, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে প্রশান্তের নাম ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। বিধানসভা ভোটের আগে থেকেই তিনি ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার। তবে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করতে ছাড়েনি বিজেপি।

পশ্চিমবঙ্গের ভবানীপুর উপনির্বাচনে নাম রয়েছে ভারতের নির্বাচন কৌশলী ও আইপ্যাকের কর্ণধার প্রশান্ত কিশোরের (পিকে)। এ ঘটনায় সরব হয়েছে বিজেপি। প্রশান্তকেকে বহিরাগত তকমাও দিয়েছে দলটি।

৩০ সেপ্টেম্বরের অনুষ্ঠানে হতে যাওয়া ভবানীপুর উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে অংশ নেবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

শনিবার রাতে ভবানীপুরের ২২২ নম্বর পার্টের ভোটার তালিকার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, ভোটার হিসেবে তৃণমূলের সাবেক ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের নাম রয়েছে। ভবানীপুরের সেন্ট হেলেন স্কুল তার ভোট কেন্দ্র।

ভাইরাল হওয়া ছবিতে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে তার নাম ভোটার হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। বিধানসভা ভোটের আগে থেকেই প্রশান্ত কিশোর ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার। প্রশান্ত কিশোরের পক্ষের দাবিও তাই।

তবে বিজেপি এ বিষয়ে প্রশান্ত কিশোরকে বহিরাগত ভোটার দাবি করে সমালোচনা করতে ছাড়েনি।

রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র সপ্তর্ষি চৌধুরী টুইটারে লেখেন, ‘অবশেষে প্রশান্ত কিশোর ভবানীপুরের ভোটার। বাংলার মেয়ে তবে বহিরাগত ভোটার চায়? জানতে চায় বাংলার মানুষ।’

যদিও এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি তৃণমূল। প্রশান্ত কিশোর এবং তার সংস্থা আইপ্যাক পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূলের নির্বাচনি প্রচারের কাজ করেছে।

দলটি বিধানসভা নির্বাচনে জটিল পরিস্থিতি থেকে তৃণমূল প্রশান্ত কিশোরের হাত ধরে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। পরে ভোট কৌশলী হিসেবে আর দায়িত্ব পালন করবেন না ঘোষণা দেন প্রশান্ত কিশোর।

প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা আইপ্যাকের সঙ্গে ভোটের কাজে চুক্তিবদ্ধ তৃণমূল। দায়িত্ব ছেড়ে দিলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাকে বৈঠকে দেখা গেছে।

সম্প্রতি কংগ্রেসের কোনো দায়িত্বে তিনি আসছেন বলে জল্পনা রয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এর মধ্যেই ভবানীপুরের ভোটার তালিকায় প্রশান্ত কিশোরের নাম আসায় নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন:
পাকিস্তানে চীনা রাষ্ট্রদূতই কি হামলার লক্ষ্য
পাকিস্তানে অভিজাত হোটেলে গাড়িবোমায় নিহত ৪

শেয়ার করুন

চার অপহরণকারীকে মেরে জনসমক্ষে ঝোলাল তালেবান

চার অপহরণকারীকে মেরে জনসমক্ষে 
 ঝোলাল তালেবান

আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হেরাতের রাস্তা। ছবি: এএফপি

হেরাত প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর মৌলভি শের আহমেদ মুহাজির বলেছেন, চার ব্যক্তির মরদেহ বিভিন্ন জনসমাগম এলাকায় প্রদর্শন করা হয়েছে। মানুষকে এই শিক্ষা দিতে যে, ইসলামি আমিরাত আফগানিস্তানে অপহরণের মতো ঘটনা সহ্য করা হবে না।

আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হেরাতে বন্দুকযুদ্ধে চার অপহরণকারীকে মেরে ক্রেনে করে তাদের মরদেহ জনসমক্ষে ঝুলিয়েছে তালেবান।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন হেরাত প্রদেশের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা। শনিবার এ ঘটনা ঘটে বলে জানান তিনি।

হেরাত প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর মৌলভি শের আহমেদ মুহাজির বলেছেন, চার ব্যক্তির মরদেহ বিভিন্ন জনসমাগম এলাকায় প্রদর্শন করা হয়েছে। মানুষকে এই শিক্ষা দিতে যে, ইসলামি আমিরাত আফগানিস্তানে অপহরণের মতো ঘটনা সহ্য করা হবে না।

তালেবানদের দেয়া এমন শাস্তির বিভিন্ন গ্রাফিক্স ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যায়, মরদেহগুলো একটি পিকআপে রাখা। আর সেখান থেকে ক্রেনে করে একটি মরদেহ উঁচিয়ে ধরা হয়েছে। আর মানুষজন পিকআপটি ঘিরে আছে। অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে আছেন তালেবান যোদ্ধারা।

আরেকটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, হেরাতের একটি রাস্তার মোড়ে ক্রেন থেকে একটি মরদেহ নিচে নামানো হচ্ছে। ওই মরদেহের বুকে লেখা, ‘অপহরণকারীদের এভাবে শাস্তি দেয়া হবে।’

হেরাত শহরের গুরুত্বপূর্ণ চত্বরগুলোতে মরদেহগুলো প্রদর্শন করা হয়। গত মাসের ১৫ তারিখ আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর জনসমক্ষে তালেবানের দেয়া এটাই সর্বোচ্চ শাস্তি। আর এই শাস্তি ২০ বছর আগের তালেবান সরকারের শাস্তিরই অনুরূপ।

এ বিষয়ে একটি ভিডিও ক্লিপে বিবৃতি দিয়েছেন হেরাত প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর মুহাজির, যা বার্তা সংস্থা এএফপির হাতেও পৌঁছেছে।

তাতে মুহাজির জানান, শনিবার সকালে এক ব্যবসায়ী ও তার ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে বলে জানতে পারে নিরাপত্তা বাহিনী। এ ঘটনার পর পুলিশ শহরের বাইরের রাস্তাগুলো বন্ধ করে দেয়। তালেবান যোদ্ধারা একটি চেকপয়েন্টে অপহরণকারীদের আটক করে। এ সময় গোলাগুলি হয়।

মুহাজির বলেন, ‘কয়েকটি মিনিটের ওই লড়াইয়ে আমাদের একজন মুজাহিদীন আহত হন এবং চার অপহরণকারীর মৃত্যু হয়। আমরা ইসলামি আমিরাত। কেউ আমাদের জাতির ক্ষতি করতে পারবে না। এখানে কাউকে অপহরণ করা যাবে না।’

শনিবারের এই ঘটনার আগেও মুহাজির তার প্রদেশে একটি অপহরণের ঘটনার তথ্য দেন। জানান, অপহরণকৃত এক ছেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ওই ঘটনায় একজন অপহরণকারীকে হত্যা করা হয় এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অপহরণের এমন আরও একটি ঘটনা ঘটেছে হেরাতে। তবে ওই ঘটনায় কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে তালেবান। তালেবানের উদ্যোগের আগেই অপহরণকারীরা অর্থ হাতিয়ে নিয়ে অপহৃতকে মুক্তি দেয়।

চার অপহরণকারীকে মেরে জনসমক্ষে 
 ঝোলাল তালেবান
হেরাতের রাস্তায় জনসমক্ষে ঝোলানো এক অপহরণকারীর মরদেহ। ছবি: সংগৃহীত

মুহাজির বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের অনেক হতাশ করেছে। আমরা যেখানে হেরাতে আছি, সেখানে মানুষকে অপহরণ করা হচ্ছে।

‘কাউকে অপহরণ বা হয়রানি না করতে এবং অন্য অপহরণকারীদের শিক্ষা দিতে আমরা শহরের বিভিন্ন চত্বরে তাদের ঝুলিয়েছি। এটার মাধ্যমে পরিষ্কার করেছি যে যারা চুরি, ছিনতাই করবে, অপহরণ করবে বা আমাদের মানুষের বিরুদ্ধে ক্ষতিকর কোনো কাজ করবে, তাদের এমন শাস্তিই দেয়া হবে।’

দুই দশক পর আবার আফগানিস্তান দখল করে তালেবান জানায়, তারা ২০ বছর আগের অবস্থানে নেই। সহনশীলতার কথা বলেছিল কট্টর ইসলামি গোষ্ঠীটি। শত্রুদের সবাইকে ক্ষমা করে দেয়ার কথা জানায় তারা। সবাইকে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের আশ্বাস দেয়। সরকারে নারী প্রতিনিধিত্ব রাখারও ইঙ্গিত দেয়।

তালেবানের এসব আশ্বাসের বাস্তবের কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে তালেবান যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘোষণা করেছে, সেখানে বেশির ভাগ সদস্যই পশতু জাতিগোষ্ঠীর; মন্ত্রিসভায় নেই কোনো নারী সদস্য। এমনকি নারী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও মানা করে দিয়েছে তারা।

এমনকি সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মাথা কেটে নেয়ার (শিরশ্ছেদ) পাশাপাশি অঙ্গচ্ছেদ হিসেবে হাত-পা কেটে ফেলার শাস্তি ফের চালু করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন তালেবান।

যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সংস্থা এপিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তালেবানের জ্যেষ্ঠ নেতা মোল্লা নূরুদ্দীন তুরাবি এসব কথা জানান।

১৯৯০-এর দশকে অপরাধের শাস্তি হিসেবে শিরশ্ছেদ ও অঙ্গচ্ছেদের পক্ষে সাফাই গাইলেন এই শীর্ষ নেতা। পাশাপাশি এমন কঠোর সাজার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী যে বিরোধিতা রয়েছে তাও নাকচ করে দেন তালেবানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা নূরুদ্দীন তুরাবি।

আরও পড়ুন:
পাকিস্তানে চীনা রাষ্ট্রদূতই কি হামলার লক্ষ্য
পাকিস্তানে অভিজাত হোটেলে গাড়িবোমায় নিহত ৪

শেয়ার করুন