আটলান্টিকে নৌকা ডুবে ৫২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু

আটলান্টিকে নৌকা ডুবে ৫২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু

সাগরে ডুবে আরোহীদের মৃত্যুর পর স্পেনের ক্যানারি আইল্যান্ড উপকূলে ভেসে আসা পরিত্যাক্ত কাঠের নৌকা। ফাইল ছবি

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ক্যানারি আইল্যান্ড অভিমুখে প্রাণ গেছে কমপক্ষে ২৫০ জনের। এ পর্যন্ত সাড়ে সাত হাজারের বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী ও শরণার্থী বিপজ্জনক সমুদ্রপথটি অতিক্রম করতে পেরেছেন। গত বছরের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ ও ২০১৯ সালের তুলনায় প্রায় আট গুণ।

আটলান্টিক মহাসাগরে স্প্যানিশ দ্বীপ ক্যানারি ক্যানারি আইল্যান্ডসের উপকূলে নৌকা ডুবে প্রাণ গেছে কমপক্ষে ৫২ জনের। জীবিত উদ্ধার হয়েছে মাত্র এক জন।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, আরোহীরা ইউরোপে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে আফ্রিকা থেকে ডিঙি নৌকায় চড়ে রওনা দিয়েছিল বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকৃত নারী।

ডুবন্ত নৌকা থেকে বৃহস্পতিবার উদ্ধার করা হয় ৩০ বছর বয়সী ওই নারীকে। তিনি আরও জানান, এক সপ্তাহ আগে আফ্রিকা ছেড়েছিলেন তারা।

ওয়েস্টার্ন সাহারা উপকূল থেকে রওনা দেয়া আরোহীদের সবাই ছিলেন আইভরি কোস্টের নাগরিক।

ক্যানারি আইল্যান্ডসের দক্ষিণে নৌকাটিকে প্রথম শনাক্ত করে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ। পরে স্পেনের জরুরি বিভাগকে বিষয়টি জানায় তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উদ্ধারকর্মী বার্তা সংস্থা এপিকে জানান, ডিঙি নৌকায় জীবিত ওই নারীর সঙ্গে আরেকজন নারী ও এক পুরুষের মৃতদেহ পড়ে ছিল।

সে সময় সাগরের অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না বলেও জানান তিনি।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ওই নারীকে চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে গ্র্যান ক্যানারিয়া দ্বীপের লাস পালমাস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

আটলান্টিক মহাসাগরে আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল ও স্পেনের ক্যানারি আইল্যান্ডের মাঝামাঝি অংশে নৌকাডুবি ও অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মৃত্যু প্রায় নিয়মিত ঘটনা। তবে সম্প্রতি এ তালিকায় নারী ও শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

অঞ্চলটিতে নৌকাডুবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা বেশ কঠিন। আরোহীদের মরদেহও খুব কম সময়েই উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ক্যানারি আইল্যান্ড অভিমুখে প্রাণ গেছে কমপক্ষে ২৫০ অভিবাসনপ্রত্যাশীর। চলতি মাসের শুরুতেও অঞ্চলটিতে নৌকাডুবিতে প্রাণ যায় এমন ৩০ জন মানুষের। ওয়াকিং অ্যাক্রস বর্ডার্সের দাবি, মোটের হিসাবে সংখ্যাটি প্রায় দুই হাজার।

চলতি বছর এ পর্যন্ত সাড়ে সাত হাজারের বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী ও শরণার্থী বিপজ্জনক সমুদ্রপথটি অতিক্রম করতে পেরেছেন। গত বছরের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ ও ২০১৯ সালের তুলনায় প্রায় আট গুণ।

ক্যানারি আইল্যান্ডসে অভিবাসীকেন্দ্রগুলোতে বর্তমানে ধারণক্ষমতার বেশি মানুষ আছে। দুঃসহ পরিবেশে সেখানে তারা জীবনযাপন করছে বলে অভিযোগ করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার গোষ্ঠী।

আরও পড়ুন:
আফ্রিকা উপকূলে ৪২ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ
উন্নত জীবনের আশায় সমুদ্রে গেল ৫৭ প্রাণ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মোদির জন্মদিনে টিকায় বিশ্বরেকর্ড ভারতের

মোদির জন্মদিনে টিকায় বিশ্বরেকর্ড ভারতের

ভারতে এক দিনে আড়াই কোটি মানুষকে টিকা দেয়া হয়। ছবি: এনডিটিভি

ভারতে শুক্রবার সন্ধ্যায় দুই কোটির বেশি মানুষকে টিকা দেয়ার পর টুইটে অভিনন্দনবার্তা দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অফিস। সরকারের ট্র্যাকারে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৮০০ বা এক মিনিটে প্রায় ৪৮ হাজার মানুষের টিকা নেয়ার তথ্য উঠে এসেছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭১তম জন্মদিনকে স্মরণীয় করে রাখতে রেকর্ড টিকাদানের পরিকল্পনা নিয়েছিল দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার ও ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়েছে বিশ্বরেকর্ড গড়ার মধ্য দিয়ে।

১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বর্তমান গুজরাটের বড়নগরে জন্ম হয় নরেন্দ্র দামোদারদাস মোদির। শুক্রবার তার জন্মদিনে ভারতে টিকা দেয়া হয় দুই কোটি ৫০ লাখ ১০ হাজার ৩৯০ জনকে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মানসুখ মান্দাবিয়া শুক্রবার রাত ১১টা ৫৮ মিনিটে টুইট করে টিকাদানে বিশ্বরেকর্ড গড়ার বিষয়টি জানিয়েছেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকেও একই বিষয় জানান।

তিনি বলেন, ‘আজকের রেকর্ড সংখ্যার জন্য গর্ব বোধ করবেন প্রতিটি ভারতীয়।’

টিকাদান অভিযান সফল করতে নিরলস প্রচেষ্টার জন্য স্বাস্থ্যকর্মী ও সম্মুখসারির কর্মীদের ধন্যবাদ জানান মোদি।

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে আড়াই কোটি টিকা দেয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল। এক দিনে সে লক্ষ্যের বেশি মানুষকে টিকা দেয়া হয়।

এর আগে চলতি বছরের জুনে এক দিনে সর্বোচ্চ ২ কোটি ৪৭ লাখ মানুষকে টিকা দিয়েছিল চীন।

ভারতে শুক্রবার সন্ধ্যায় দুই কোটির বেশি মানুষকে টিকা দেয়ার পর টুইটে অভিনন্দনবার্তা দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অফিস।

সরকারের ট্র্যাকারে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৮০০ বা এক মিনিটে প্রায় ৪৮ হাজার মানুষের টিকা নেয়ার তথ্য উঠে এসেছে।

জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের (এনএইচএ) প্রধান আরএস শর্মা শুক্রবার সন্ধ্যায় এনডিটিভিকে বলেন, দিনটি ঐতিহাসিক।

ওই সময় তিনি দেশব্যাপী টিকাদানে যুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশংসা করেন।

সরকারের শীর্ষ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. এনকে অরোরা বলেন, কয়েক মাসের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় বিপুলসংখ্যক মানুষকে টিকা দেয়া সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুন:
আফ্রিকা উপকূলে ৪২ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ
উন্নত জীবনের আশায় সমুদ্রে গেল ৫৭ প্রাণ

শেয়ার করুন

কাবুলে বেসামরিক নাগরিক হত্যার কথা স্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের

কাবুলে বেসামরিক নাগরিক হত্যার কথা স্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে গাড়িতে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহত হয় এক পরিবারের ১০ সদস্য। ছবি: এএফপি

গত ২৯ আগস্টের ওই হামলায় এক ত্রাণকর্মী ও তার পরিবারের অন্য ৯ সদস্য নিহত হয়। নিহত ১০ জনের মধ্যে সাত শিশু রয়েছে। সবচেয়ে ছোট শিশুটির বয়স দুই বছর।

আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের আগে দেশটির রাজধানী কাবুলে ড্রোন হামলায় ১০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের তদন্তে উঠে এসেছে, জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) সংশ্লিষ্ট ভেবে গাড়িতে ড্রোন হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র, যার বলি হয় একটি পরিবারের সদস্যরা।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৯ আগস্টের ওই হামলায় এক ত্রাণকর্মী ও তার পরিবারের অন্য ৯ সদস্য নিহত হয়।

নিহত ১০ জনের মধ্যে সাত শিশু রয়েছে। সবচেয়ে ছোট শিশুটির বয়স দুই বছর।

গত ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল দখলের মধ্য দিয়ে দেশটিতে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। পরে ‘অজেয়’ উপত্যকা পাঞ্জশিরও দখলে নেয় সংগঠনটি।

তালেবানের হাতে ক্ষমতা যাওয়ার পরই কাবুল থেকে সামরিক-বেসামরিক নাগরিকদের প্রত্যাহারে তোড়জোড় শুরু করে বিভিন্ন দেশ। এ পরিস্থিতির মধ্যেই কাবুল বিমানবন্দরে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। সে হামলার কয়েক দিন পর ড্রোন হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।

ড্রোন হামলার বিষয়ে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের কর্মকর্তা জেনারেল কেনেথ ম্যাকেঞ্জি বলেন, ত্রাণকর্মীর গাড়িটি আটঘণ্টা ধরে ট্র্যাক করা হচ্ছিল। ধারণা ছিল, গাড়িটি আইএসের স্থানীয় শাখা আইএস-কে সংশ্লিষ্ট।

ম্যাকেঞ্জির মতে, হামলাটি ছিল ‘বেদনাদায়ক ভুল’।

যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত অনুযায়ী, জামাইরি আহমাদি নামের ত্রাণকর্মী

কাবুল বিমানবন্দর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে নিজ বাড়িতে গাড়িতে চড়ার পরপরই হামলা চালানো হয়।

বোমা হামলার পর আরেকটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়, যাতে যুক্তরাষ্ট্র মনে করেছিল, গাড়িতে বিস্ফোরক ছিল। তবে অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিলিন্ডার থেকে দ্বিতীয় বিস্ফোরণ হতে পারে।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কাজ করা এক অনুবাদকও রয়েছেন, যার নাম আহমদ নাসের।

তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন বলেন, ‘আমরা এ পর্যায়ে এসে জানতে পেরেছি, আহমাদির সঙ্গে আইএস-খোরাসানের কোনো যোগসূত্র ছিল না। ওই দিন (হামলার সময়) তার কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ অহিংস ছিল এবং সেটি ছিল আমাদের মনে করা আসন্ন হুমকির একেবারে উল্টো।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এ ঘটনায় ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি ভয়াবহ এ ভুল থেকে শিক্ষা নিতে সচেষ্ট হব।’

আরও পড়ুন:
আফ্রিকা উপকূলে ৪২ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ
উন্নত জীবনের আশায় সমুদ্রে গেল ৫৭ প্রাণ

শেয়ার করুন

স্বাভাবিক রূপে ফিরছে পাঞ্জশির

স্বাভাবিক রূপে ফিরছে পাঞ্জশির

পাঞ্জশিরের প্রবেশদ্বার। ছবি: সংগৃহীত

খুলে দেয়া হয়েছে পাঞ্জশিরের রাস্তাগুলো; ফিরে এসেছে টেলিফোন নেটওয়ার্ক। তবে পাঞ্জশিরের বাসিন্দাদের কেউ কেউ বলছেন, গত কয়েক সপ্তাহে তালেবান ও স্থানীয় প্রতিরোধী বাহিনীর লড়াইয়ের মধ্যে সেখানকার বাসিন্দাদের ৯০ শতাংশই ঘর ছেড়ে পালিয়েছে।

তালেবান ও স্থানীয় যোদ্ধাদের মধ্যে তুমুল লড়াইয়ের প্রায় ২০ দিন পর স্বাভাবিক রূপে ফিরতে শুরু করেছে আফগানিস্তানের পর্বতঘেরা প্রদেশ পাঞ্জশির। সেখানকার রাস্তাগুলো খুলে দেয়া হয়েছে। টেলিফোন নেটওয়ার্কেও মেরামতের কাজ চলছে।

পাঞ্জশিরের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কর্মকর্তা এবং বাসিন্দাদের বরাতে এ তথ্য দিয়েছে টলোনিউজ

অবশ্য বাসিন্দাদের অনেকে বলছেন, রাজ্যটিতে এখনও বিদ্যুৎ ফেরেনি।

স্থানীয় সাংবাদিক মোহাম্মদ ওয়াসি আলমাস বলেছেন, ‘টেলিকম নেটওয়ার্ক গতকাল থেকে কাজ করছে। বড় সমস্যা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন, যা এখনও সমাধান হয়নি।’

পাঞ্জশিরের বাসিন্দাদের কেউ কেউ বলছেন, গত কয়েক সপ্তাহে তালেবান ও স্থানীয় প্রতিরোধী বাহিনীর লড়াইয়ের মধ্যে সেখানকার বাসিন্দাদের ৯০ শতাংশই ঘর ছেড়ে পালিয়েছে। তারা পাহাড়-পর্বতের ঢালে আশ্রয় নিয়েছে। মারাত্মক সংকটে পড়েছে তারা।

পাঞ্জশিরের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে এক বাসিন্দা বলেন, ‘অর্থনৈতিক দুর্দশা দেখা দিয়েছে। মানুষজনকে অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে লড়তে হচ্ছে।’

প্রদেশটির আরেকজন বাসিন্দা বলেন, ‘১০০ ভাগ মানুষের মধ্যে এখন ১০ ভাগ মানুষ এখানে বাস করছে। বাকিরা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।’

অবশ্য পাঞ্জশিরের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, প্রদেশটির পরিবেশ স্বাভাবিক আছে।

স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তা মৌলভি সানা সানগিন ফাতিহ বলেন, ‘নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষের রক্ষা আমাদের দায়িত্বের বাধ্যবাধকতা। বিদ্যুৎ নেই, খাদ্য নেই- এসব যা বলা হচ্ছে তা মিথ্যা।’

গত ১৫ আগস্ট কাবুল দখলের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণে নিলেও পাঞ্জশির নিয়ন্ত্রণে নিতে পারছিল না তালেবান। তুমুল লড়াই শেষে গত ৬ আগস্ট আফগানিস্তানের সবচেয়ে ছোট প্রদেশটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় কট্টর ইসলামপন্থি সংগঠনটি।

প্রদেশটিকে তালেবান মুক্ত রাখার ঘোষণা দেন ‘পাঞ্জশিরের সিংহ’ খ্যাত আহমেদ শাহ মাসুদের ছেলে আহমেদ মাসুদ, কিন্তু সম্ভব হয়নি। প্রথমবারের মতো কোনো শক্তির কাছে পরাজিত হয় ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের (এনআরএফ)।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবর, এনআরএফ প্রধান আহমেদ মাসুদ যুক্তরাষ্ট্রে একজন লবিস্ট নিয়োগ দিয়েছেন, যাতে তার বাহিনী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সহায়তা পায়।

আহমেদ মাসুদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, লবিস্ট নিয়োগ দেয়ার উদ্দেশ্য, যুক্তরাষ্ট্র যাতে তালেবানকে স্বীকৃতি না দেয়, এ বিষয়ে নিরুৎসাহিত করা।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই কাজ করে যাচ্ছে তালেবানও। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বৈধতা এবং অর্থ সহায়তা পেতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে তারা।

আরও পড়ুন:
আফ্রিকা উপকূলে ৪২ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ
উন্নত জীবনের আশায় সমুদ্রে গেল ৫৭ প্রাণ

শেয়ার করুন

৯ বছরে ৬ বার পরাজিত ক্যানসার

৯ বছরে ৬ বার পরাজিত ক্যানসার

অদম্য জয়ন্ত কানড়োইয়ের কাছে ছয়বার হার মেনেছে ক্যানসার। ছবি: দ্য বেটার ইন্ডিয়া

২০২০ সালের নভেম্বরে ষষ্ঠবার ক্যানসার শনাক্তের পর অস্থিমজ্জা স্থানান্তরের জটিল চিকিৎসার যন্ত্রণাও সহ্য করতে হয় জয়ন্তকে। তিনি বলেন, ‘ছয়বার ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করেছি। প্রায় প্রতিবারই দেহের নতুন কোনো অংশ আক্রান্ত হয়েছে। যতবার অসুস্থ হয়েছি, আত্মীয়রা আমার মা-বাবাকে পরামর্শ দিয়েছিল কোনো হাসপাতালে আমাকে ফেলে রেখে আসতে। তারা ভেবেছিল যে আমি যেহেতু বাঁচবোই না, শুধু শুধু কেন আমার বোঝা টানবেন আমার মা-বাবা।’

২৩ বছর বয়সী ভারতীয় যুবক জয়ন্ত কানড়োইয়ের ওজন মাত্র ৩৬ কেজি, কিন্তু তার কণ্ঠের বলিষ্ঠতায় স্পষ্ট লড়াকু ব্যক্তিত্ব। জয়ন্তর প্রতিদ্বন্দ্বী সহজ কেউ নয়। প্রাণঘাতী রোগ ক্যানসারের সঙ্গে তার লড়াই চলছে কিশোর বয়স থেকে। জীবন জয়ের যুদ্ধে গত নয় বছরে ছয়বার ক্যানসারকে হারিয়েছেন তিনি।

জয়ন্ত জানান, গত নয় বছরে গুণে গুণে এক হাজার ২৩৭ দিন বা প্রায় চার বছরই হাসপাতালে কেটেছে তার। ক্যানসারকে জিততে না দিলেও তার শরীরজুড়ে রোগটির ধ্বংসলীলা। ১৭টি কেমোথেরাপি, ৬০টির বেশি রেডিওথেরাপি আর অস্থিমজ্জা স্থানান্তরের মতো কঠিন চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে।

একের পর এক অস্ত্রোপচার, আর শরীর-মনের শক্তি নিংড়ে নেয়া ওষুধ, আর স্বাস্থ্যপরীক্ষার কষ্টকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলেছেন জয়ন্ত। তার কাছে ক্যানসার এখনও অজেয়।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য রাজস্থানের আজমির শহরের বাসিন্দা জয়ন্ত। ২০১৩ সালে যখন দশম শ্রেণির ছাত্র সে, তখন প্রথম ক্যানসার ধরা পড়ে তার।

তিনি বলেন, ‘ঘাড়ের ডান দিকে মাংসপিণ্ডর মতো কিছু একটা অনুভব করি। পরে জানা যায়, এটা ক্যানসার। সেই প্রথম হজকিন লিম্ফোমার নাম শুনি আমি। কোনো ব্যথা ছিল না। কিন্তু দিন দিন মাংসপিণ্ডটি বড় হচ্ছিল।

‘প্রথমবার অপারেশন থিয়েটার দেখি আমি সে সময়। ভয় পাইনি একটুও। জয়পুরের ভগবান মহাবীর ক্যানসার হাসপাতালে ভর্তি হই। অস্ত্রোপচারের পর শুরু হয় কেমোথেরাপির ধাক্কা। ছয়টি কেমোথেরাপি নিয়ে ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি প্রথম আমাকে ক্যানসারমুক্ত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। সেই দিনটির সব স্মৃতি আজও চোখে ভাসে আমার।’

এরপর জয়পুর থেকে আজমিরে ফেরেন জয়ন্ত, অংশ নেন মাধ্যমিক পরীক্ষায়, নিজ ক্লাসে প্রথম হন তিনি। গর্ব নিয়ে জয়ন্ত বলেন, ‘শিক্ষাজীবনের পুরো সময়েই প্রথম সারির শিক্ষার্থী ছিলাম আমি।’

এসবের মধ্যেই ক্যানসারমুক্ত জয়ন্ত তীব্র ক্লান্তিতে ভুগতেন। এতটাই যে লম্বা সময়ের জন্য স্কুলেও যেতে পারছিলেন না। অথচ পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত একটি দিনও স্কুল বাদ না দেয়ার রেকর্ড ছিল তার।

একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় জয়ন্তর দেহে আরেকটি মাংসপিণ্ড ধরা পড়ে; এবার ঘাড়ের বাম পাশে। ২০১৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আবারও ভগবান মহাবীর ক্যানসার হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে শুরু করেন।

জয়ন্ত কখনোই নিজের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটতে দেননি। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় উৎরে যান এসবের মধ্যেই, বিকমে পড়াশোনা শুরু করেন।

জয়ন্ত বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে ২০১৭ সালের শুরুতে আবারও ক্যানসার ধরা পড়ে আমার শরীরে, এবার অগ্ন্যাশয়ে। প্রায়ই পেটে অসহ্য ব্যথা হতো। পরিস্থিতি চরমে পৌঁছায় শেষ বর্ষে পড়াশোনার সময়। দিল্লিতে একা থাকছিলাম বলে বাবা আমাকে দ্রুত বাড়িতে ফিরে চিকিৎসা শুরু করার অনুরোধ করেন।’

দ্য বেটার ইন্ডিয়ার জুলাই মাসের একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, অসুস্থতা মারাত্মক রূপ নেয়ায় পড়াশোনা অসমাপ্ত রেখেই ২০১৭ সালে আজমিরে ফেরেন জয়ন্ত। তিনি বলেন, ‘পড়াশোনা শেষ না করে বাড়ি ফেরার কারণে খুব কষ্টে ছিলাম। কিন্তু ব্যথাও সহ্য করতে পারছিলাম না। ভেঙেচুরে যাচ্ছিলাম মনে হতো।’

সেবার চিকিৎসকরা জানান, অগ্ন্যাশয়ের টিউমারে পৌঁছাতে জয়ন্তর পেটে নয় ইঞ্চি লম্বা ফুটো করতে হবে।

জয়ন্ত বলেন, ‘সেবারই প্রথম বাবার মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ দেখলাম। টিউমারটা মাত্র এক সেন্টিমিটার ছিল। কিন্তু পাকস্থলীর যে অংশে এটি ছিল, সে অংশটি কেটে ফেলে দিতে হবে- এই চিন্তা আমার বাবাকে কুড়ে খাচ্ছিল।’

অগ্ন্যাশয়ে টিউমার ধরা পড়ার দুই বছর পর কেমোথেরাপিসহ সব চিকিৎসা শেষ করেন জয়ন্ত। তৃতীয়বার ক্যানসারকে হারিয়ে বাড়ি ফিরেই নতুন উদ্যমে শুরু করেন পড়াশোনা। সশরীরে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি ছাড়া শিক্ষা কার্যক্রমে নাম লেখান তিনি, সম্পন্ন করেন স্নাতক।

জয়ন্তর বাবা ৫৭ বছর বয়সী অশোক কানড়োই বলেন, ‘পড়াশোনার জন্য ছেলেকে আবারও দূরে পাঠানোর ঝুঁকি নিতে চাইনি। ওর ডিগ্রির চেয়ে জীবন বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। নয় বছর ধরে সৃষ্টিকর্তার কাছে শুধু সন্তানের সুস্বাস্থ্য চেয়েছি। তাই চেয়ে যাব আমার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।’

২০১৯ সালে আবারও অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হন জয়ন্ত; ২০১৭ সালে যেখানে ক্যানসার ধরা পড়েছিল, ঠিক সেই একই জায়গায় ধরা পড়ে নতুন টিউমার।

চতুর্থবার ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পরও মুখের হাসি মুছতে দেননি জয়ন্ত। দীর্ঘযুদ্ধে শরীর ভেঙে পড়লেও আবারও চিকিৎসা শুরু করেন; আবারও জয়ী হয়ে ফেরেন।

গত দুই বছরে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার আর দেখা দেয়নি। কিন্তু গত বছর জয়ন্তর ডান হাতের বগলের নিচে আরেকটি টিউমার ধরা পড়ে। এবার ছেলেকে নিয়ে আহমেদাবাদের গুজরাট ক্যানসার হাসপাতালে যান বাবা।

জয়ন্ত বলেন, ‘২০২০ সালের ২০ মার্চ চিকিৎসা শেষে আজমিরে নিজের বাড়িতে ফিরলাম। পরদিন থেকে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে লকডাউন শুরু হলো। অস্ত্রোপচারপরবর্তী চিকিৎসার জন্য আহমেদাবাদ যাওয়ার দরকার হলেও আর যেতে পারিনি।’

ক্যানসারের পঞ্চম আঘাত থেকে সেরে উঠতে না উঠতেই আট মাসের ব্যবধানে জয়ন্ত জানতে পারেন ষষ্ঠবারের মতো শরীরে বাসা বেঁধেছে হতচ্ছাড়া রোগটি। সময় ২০২০ সালের নভেম্বর। এবার ক্যানসারের আক্রমণস্থল তলপেট।

এই সময় অস্থিমজ্জা স্থানান্তরের জটিল চিকিৎসার যন্ত্রণাও সহ্য করতে হয় জয়ন্তকে। শরীরে সুঁই ঢোকাতে ভয় না পেলেও মেরুদণ্ডের নিচ থেকে অস্তিমজ্জা বের করে আনার সময় অসহনীয় ব্যথা সহ্য করতে হয়েছিল তাকে।

জয়ন্ত বলেন, ‘ছয়বার ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করেছি। প্রায় প্রতিবারই দেহের নতুন কোনো অংশ আক্রান্ত হয়েছে। যতবার অসুস্থ হয়েছি, আত্মীয়রা আমার মা-বাবাকে পরামর্শ দিয়েছিল কোনো হাসপাতালে আমাকে ফেলে রেখে আসতে। তারা ভেবেছিল যে আমি যেহেতু বাঁচবোই না, শুধু শুধু কেন আমার বোঝা টানবেন আমার মা-বাবা।

‘আজ যখন আমি অন্যদের বাঁচতে উৎসাহ দিই, আমার ওই আত্মীয়-স্বজনরা হাঁ করে তাকিয়ে শোনে। তারা আজ আমাকে ভাগনে ডেকে যোগাযোগ করতে চায়।’

পুরো যাত্রা শুধু জয়ন্তর জন্য নয়, তার পরিবারের জন্যও একইরকম ক্লান্তিকর ছিল। শারীরিক ব্যথা সহ্য করেছেন তিনি, একইরকম মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে গেছে তার পুরো পরিবার। এখন সবাই খুশি।

ক্যানসার নিয়ে সচেতনতা তৈরি, দুঃস্থদের চিকিৎসায় তহবিল সংগ্রহ, ক্যানসারে আক্রান্তদের মনোবল বাড়ানো ইত্যাদি লক্ষ্য নিয়ে বন্ধুদের সহযোগিতায় একটি দাতব্য সংগঠন গড়ে তুলেছেন জয়ন্ত। সংগঠনটিতে বর্তমানে ৩৫০ জন নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবক আছেন।

আরও পড়ুন:
আফ্রিকা উপকূলে ৪২ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ
উন্নত জীবনের আশায় সমুদ্রে গেল ৫৭ প্রাণ

শেয়ার করুন

উগ্রপন্থা ও সন্ত্রাসবাদ শান্তি প্রতিষ্ঠায় বড় বাধা: মোদি

উগ্রপন্থা ও সন্ত্রাসবাদ শান্তি প্রতিষ্ঠায় বড় বাধা: মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফাইল ছবি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘আফগানিস্তানে কী ঘটছে, তা সবাই দেখতে পাচ্ছি। এক সময় আফগানিস্তানেও শান্তি ও সমৃদ্ধি ছিল। সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতে হবে আমাদের। সাংহাই করপোরেশনের সদস্য হিসেবে আমাদের সবার দায়িত্ব উগ্রপন্থা ও মৌলবাদী শক্তির উত্থান যেন না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা।’

উগ্রপন্থা ও সন্ত্রাসবাদ বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবেতে আয়োজিত সাংহাই করপোরেশন অর্গানাইজেশনের বার্ষিক সম্মেলনে শুক্রবার এ মন্তব্য করেন মোদি।

সম্মেলনে তিনি ভার্চুয়ালি যোগ নেন।

মোদি বলেন, ‘আফগানিস্তানে কী ঘটছে, তা সবাই দেখতে পাচ্ছি। এক সময় আফগানিস্তানেও শান্তি ও সমৃদ্ধি ছিল। সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতে হবে আমাদের। সাংহাই করপোরেশনের সদস্য হিসেবে আমাদের সবার দায়িত্ব উগ্রপন্থা ও মৌলবাদী শক্তির উত্থান যেন না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা।’

মোদি বলেন, ‘মধ্য এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে ভারত উদ্বিগ্ন। সব দেশের মধ্যে পারস্পারিক সম্পর্ক যেন উষ্ণ থাকে সেজন্য সবাইকে চেষ্টা করে যেতে হবে। যেকোন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া কিভাবে বাড়ানো যায়, সে উপায় বের করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখতে পাবেন মধ্য এশিয়া বরাবরই প্রগতিশীল সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের পীঠস্থান হিসেবে পরিচিত। সেই ঐতিহ্যকে মাথায় রেখে সাংহাই করপোরেশনের সদস্যদের উচিত উগ্রপন্থা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একজোট হওয়া।’

সাংহাই করপোরেশনের নবম সদস্য হিসেবে ইরানকে স্বাগত জানিয়ে মোদি বলেন, ‘ইরানের চাবাহার বন্দর ব্যবহার করে আফগানিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার চেষ্টা করছে ভারত। তবে যে কোন প্রকল্প প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানিয়ে করা উচিত।’

সম্মেলনে পাকিস্তান প্রসঙ্গে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল বলেন, পাকিস্তান যেভাবে আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে লস্কর-ই-তাইয়েবা, জইশ-ই-মুহাম্মদের মতো জঙ্গি গোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে জম্মু-কাশ্মীরে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তা নিয়ে ভারত যথেষ্ট উদ্বিগ্ন।’

পাকিস্তান যে সন্ত্রাসবাদকে তাদের নীতিতে যুক্ত করে নিয়েছে তা কারও অজানা নয় বলেও মন্তব্য করেন অজিত দোভাল।

আরও পড়ুন:
আফ্রিকা উপকূলে ৪২ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ
উন্নত জীবনের আশায় সমুদ্রে গেল ৫৭ প্রাণ

শেয়ার করুন

ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের হাতে হাতে চামচ

ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের হাতে হাতে চামচ

ইসরায়েলি সেনাদের চামচ দেখাচ্ছেন দুই ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারী।

মামুলি চামচই হয়ে উঠেছে ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার নতুন প্রতীক। ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ ফিলিস্তিনিদের হাতে হাতে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পতাকা ও প্ল্যাকার্ডের পাশাপাশি এখন এই চামচও দেখা যাচ্ছে।

ফিলিস্তিনি স্বাধীনতার নতুন প্রতীক ‘চামচ’ হয়ে ওঠার নেপথ্যে রয়েছে একটি জেল পালানোর ঘটনা। গত ৬ সেপ্টেম্বর মরিচা ধরা চামচ দিয়েই সুড়ঙ্গ খুঁড়ে ইসরায়েলের সুরক্ষিত কারাগার থেকে পালিয়েছেন ছয় ফিলিস্তিনি। যদিও বড় ধরনের তল্লাশি চালিয়ে শেষ পর্যন্ত দুই বন্দিকে আবারও গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি সেনারা।

এএফপির বরাতে ভয়েস অব আমেরিকা জানায়, সুড়ঙ্গ দিয়ে বন্দি পালিয়ে যাওয়ার ওই ঘটনাটি ঘটেছিল ইসরায়েলের জিলবোয়া কারাগারে। পালানোর আগে কয়েক মাসের নিরলস প্রচেষ্টায় সুড়ঙ্গটি খুঁড়েছিলেন বন্দিরা। কারাগারের দেয়ালের ঠিক পাশেই ছিল বড় রাস্তা। বন্দিরা যে কক্ষে অবস্থান করছিলেন, সেখান থেকে সুড়ঙ্গটির অপর মাথা সেই রাস্তায় গিয়ে শেষ হয়।

পালিয়ে যাওয়া ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সশস্ত্র আল-আকসা মারটায়ার্স ব্রিগেডের সাবেক এক নেতা ছাড়াও ছিলেন ইসলামিক জিহাদের পাঁচ সদস্য।

ইসরায়েল এই ঘটনাটিকে ‘বড় ধরনের নিরাপত্তা ত্রুটি ও গোয়েন্দা ব্যর্থতা’ বললেও ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এ ঘটনাকে ‘বীরত্বপূর্ণ’ বলে আখ্যা দেন। বন্দিদের সবাই ইসরায়েলিদের ওপর হামলার দায়ে অভিযুক্ত ছিলেন।

ফিলিস্তিনি কার্টুনিস্ট মোহাম্মেদ সাবানেহ বন্দি পালানোর ঘটনাটি নিয়ে বেশ কয়েকটি কার্টুনও এঁকেছেন। একটি কার্টুনচিত্রে চামচ দিয়ে খোঁড়া সুড়ঙ্গটিকে ‘মুক্তির সুড়ঙ্গ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।

ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনের বাইরে কুয়েতের ভাস্কর মাইথাম আব্দেল একটি ভাস্কর্যও নির্মাণ করেছেন। সেই ভাস্কর্যে দেখা যায়, একটি বিশাল হাত একটি চামচ ধরে আছে।

আরেকটি ব্যাপার হলো, সাম্প্রতিক পালানোর ঘটনাটি অনেক পুরোনো আরেকটি জেল পালানোর ঘটনাকেও সামনে টেনে এনেছে। ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের তুলকারেম শহরের ঘাসেন মাহদাওয়ি ছিলেন সেই জেল পালানোর নায়ক। ১৯৯৬ সালে আরেক বন্দিকে সঙ্গে নিয়ে তিনিও একটি সুড়ঙ্গ খুঁড়ে ইসরায়েলের কারাগার থেকে পালিয়েছিলেন। আর সেই সুড়ঙ্গটি তিনি খুঁড়েছিলেন শুধু হাতের নখ দিয়ে!

আরও পড়ুন:
আফ্রিকা উপকূলে ৪২ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ
উন্নত জীবনের আশায় সমুদ্রে গেল ৫৭ প্রাণ

শেয়ার করুন

নারী মন্ত্রণালয় পাল্টে ‘ন্যায়-অন্যায়’ মন্ত্রণালয় করল তালেবান

নারী মন্ত্রণালয় পাল্টে ‘ন্যায়-অন্যায়’ মন্ত্রণালয় করল তালেবান

কাবুলে নারী মন্ত্রণালয়ের সাবেক নারী কর্মীরা ভবনে ঢুকতে গেলে তালেবানের বাধার মুখে পড়েন তারা। ছবি: সংগৃহীত

গত ৭ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রিসভা ঘোষণা করেছে তালেবান। তালিকায় ন্যায়ের প্রচার ও অন্যায় প্রতিরোধে ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রীর নাম ছিল; ছিল না নারী মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর নাম। কিন্তু মন্ত্রণালয়টির অস্তিত্বই মুছে দেয়া হবে- এমন কিছুও তখন জানায়নি তালেবান।

আফগানিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত বেসামরিক সরকারের নারী মন্ত্রণালয়ের নাম, কাজ বদলে দিয়েছে তালেবান সরকার। আফগান নারী মন্ত্রণালয় হয়েছে ‘ন্যায়-অন্যায়’ মন্ত্রণালয়, যার কাজ হবে ‘মোরাল পুলিশিং’ বা নীতিগত বিধিনিষেধ আরোপ ও বাস্তবায়ন করা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, রাজধানী কাবুলে অবস্থিত নারী মন্ত্রণালয় ভবনের সাইনবোর্ড শুক্রবার পালটে দেয় নতুন প্রশাসন। তার জায়গায় বসে তালেবানের ‘মোরাল পুলিশিং’বিষয়ক একটি সাইনবোর্ড।

নতুন সাইনবোর্ডে ফার্সি ভাষার আফগান উপভাষা দারি ও আরবির সমন্বয়ে লেখা নতুন মন্ত্রণালয়ের নামের ইংরেজি করলে দাঁড়ায়- ‘মিনিস্ট্রিজ অফ প্রেয়ার অ্যান্ড গাইডেন্স অ্যান্ড দ্য প্রমোশন অফ ভার্চু অ্যান্ড প্রিভেনশন অফ ভাইস।

এর বাংলা হতে পারে- ‘নামাজ ও নির্দেশনা এবং ন্যায়ের প্রচার ও অন্যায়ের প্রতিরোধবিষয়ক মন্ত্রণালয়’।

আগের নারী মন্ত্রণালয়ের সাবেক নারী কর্মীরা ভবনে ঢুকতে গেলে তাদের বাধা দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। তারা জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরেই কর্মক্ষেত্রে যোগ দেয়ার চেষ্টা করছিলেন তারা।

দেশের চলমান পরিস্থিতিতে নানা বাধা পেরিয়ে বাড়ি থেকে কোনোরকমে কর্মক্ষেত্রে পৌঁছেছিলেন তারা। কিন্তু এখন কাজে যোগ না দিয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে তাদের। বৃহস্পতিবার ভবনের প্রবেশপথে তালাই ঝুলিয়ে দিয়েছে প্রশাসন।

এক নারী বলেন, ‘আমার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আমি। নারী মন্ত্রণালয়ে কাজ করতাম। এখন সেই মন্ত্রণালয়ই থাকছে না। আফগান নারী হিসেবে তাহলে কী করব আমি? কিভাবে পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেব?’

এ বিষয়ে কথা বলতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া দেননি তালেবানের মুখপাত্র।

আফগানিস্তান থেকে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক জোটের সেনা প্রত্যাহার চলতে থাকার মধ্যেই গত মাসে দেশটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় কট্টরপন্থি তালেবান।

এর আগে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে আফগানিস্তানে ধর্মভিত্তিক গোষ্ঠীটির প্রথম দফার শাসনামলে মেয়েশিশুদের স্কুলে যাওয়া, নারীদের শিক্ষাগ্রহণ ও জীবিকা উপার্জনের অধিকার ছিল না।

নব্বইয়ের দশকের সেই তালেবান সরকারের আমলেও ন্যায়ের প্রচার আর অন্যায় প্রতিরোধ মন্ত্রণালয় ছিল। ওই মন্ত্রণালয় গোষ্ঠীটির আদর্শ দৈনন্দিন জনজীবনে বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করত।

মূলত তালেবানের দৃষ্টিকোণ থেকে শরিয়াহ আইনের বাস্তবায়ন দেখাই ছিল মন্ত্রণালয়টির কাজ। কঠিন রক্ষণশীল পোশাক-পরিচ্ছদের বিধান, প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড ও বেত্রাঘাতের মাধ্যমে শাস্তি কার্যকরের মতো কাজগুলো করতো ওই মন্ত্রণালয়।

গত ৭ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রিসভা ঘোষণা করেছে তালেবান। তালিকায় ন্যায়ের প্রচার ও অন্যায় প্রতিরোধে ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রীর নাম ছিল; ছিল না নারী মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর নাম।

কিন্তু মন্ত্রণালয়টির অস্তিত্বই মুছে দেয়া হবে- এমন কিছুও তখন জানায়নি তালেবান।

চলতি সপ্তাজে এক জ্যেষ্ঠ তালেবান নেতা জানান, সরকারের কোনো মন্ত্রণালয়ে পুরুষদের সঙ্গে নারী কর্মীদের কাজের অনুমতি দেয়া হবে না।

এদিকে, আফগানিস্তানের সব স্কুলে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম শনিবার থেকে শুরুর নির্দেশ দিয়েছে শাসক দল তালেবান। কিন্তু শুক্রবারের এ নির্দেশনায় শুধু পুরুষ শিক্ষক ও ছেলেশিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে। মেয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষিকাদের করণীয় উল্লেখ নেই নির্দেশনায়।

আরও পড়ুন:
আফ্রিকা উপকূলে ৪২ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ
উন্নত জীবনের আশায় সমুদ্রে গেল ৫৭ প্রাণ

শেয়ার করুন