কোনো টাকা নয়, এক কাপড়ে দেশ ছেড়েছি: ঘানি

কোনো টাকা নয়, এক কাপড়ে দেশ ছেড়েছি: ঘানি

সদ্য ক্ষমতাচ্যুত আফগান প্রেসিডন্ট আশরাফ ঘানি। ফাইল ছবি

কাবুল ছাড়ার পর প্রথমবারের মতো ফেসবুক লাইভ করেছেন আশরাফ ঘানি। তিনি এখন সংযুক্ত আরব আমিরাতে আছেন জানিয়ে দাবি করেন, তার দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।

সদ্য ক্ষমতাচ্যুত আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে অর্থ চুরির অভিযোগ ভিত্তিহীন। পরিস্থিতির কারণে এক কাপড়ে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন তিনি।

বুধবার নিজের ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে এসে এসব দাবি করেন আশরাফ ঘানি।

লাইভে তিনি ফের বলেন, তার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। তালেবানের কাবুল দখলের পর রক্তপাত এড়াতে এটাই ছিল একমাত্র পথ।

এর আগে রোববার আফগানিস্তান ছাড়ার পর দেয়া এক ফেসবুক স্ট্যাটাসেও একই দাবি করেন তিনি।

ওই সময়ই অভিযোগ ওঠে, তিনি রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে লাখ লাখ ডলার চুরি করে পালিয়েছেন। তাজিকিস্তানে নিযুক্ত আফগান রাষ্ট্রদূত এই অভিযোগ করেন। এই বিষয়টিও নাকচ করে দেন ঘানি।

পাশাপাশি জানান, তিনি বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছেন।

এই বার্তায় তিনি আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‌‘শান্তি প্রক্রিয়ার ব্যর্থতার কারণে’ তালেবান ক্ষমতা ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে।

এই বার্তায় তিনি তার বিরুদ্ধে ১৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার চুরি করার অভিযোগও নাকচ করে দেন। তিনি দাবি করেন, ‘পরনের একজোড়া কাপড়, একটা ভেস্ট আর পায়ে স্যান্ডেল গলিয়েই দেশ ছাড়তে বাধ্য হই আমি।’

তিনি বলেন, ‌‘অর্থসংক্রান্ত যে অভিযোগ শোনা যাচ্ছে তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন।’

গত রোববার কাবুলের দিকে তালেবান এগোতে শুরু করলে আফগানিস্তান ছেড়ে পালিয়ে যান ঘানি। প্রথমে তিনি তাজিকিস্তানে যান। সেখানে ঘানির বিমানকে নামতে দেয়া হয়নি। এরপর তিনি ওমান যান বলে গণমাধ্যমে খবর আসে। তবে বুধবার নিশ্চিত হওয়া যায়, তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে গেছেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

স্তন ক্যান্সারে অ্যাস্ট্রাজেনেকার যুগান্তকারী সাফল্য

স্তন ক্যান্সারে অ্যাস্ট্রাজেনেকার যুগান্তকারী সাফল্য

অ্যাস্ট্রাজেনেকার এনহার্টু ট্রায়ালে এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, ওশেনিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার অন্তত ৫০০ রোগীকে পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়।

বিশ্বে প্রতি আট জনে অন্তত একজন নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউটের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশেও প্রতি বছর দেড় লাখের বেশি মানুষ স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।

এবার স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে সাফল্যের দাবি করেছে গবেষেণা ভিত্তিক বায়োফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকা। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের আবিষ্কৃত একটি ওষুধ স্তন ক্যান্সারে প্রচলিত চিকিৎসার পদ্মতির চেয়ে ৭২ শতাংশ বেশি কার্যকর। তাদের ওষুধ রোগীর শরীরে প্রয়োগ করলে মৃত্যুর ঝুঁকি এবং রোগটির ছড়িয়ে পড়া অনেকাংশেই কমে যায়।

ব্রিটিশ ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিটি দাবি করছে, স্তন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে তাদের ‘এনহার্টু’ ট্রায়ালে যুগান্তকারী ফলাফল দেখা গেছে। রোগীকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এটি শক্তিশালী প্রমাণ দিয়েছে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানা গেছে, অ্যাস্ট্রাজেনেকার এই এনহার্টু ট্রায়ালে এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, ওশেনিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার অন্তত ৫০০ রোগীকে পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়।

ইন্ডিপেন্ডেন্টের খবর- ট্রায়ালে অংশ নেওয়া রোগীদের মধ্যে ৭৫ শতাংশের শরীরেই স্তন ক্যান্সার আর বাড়তে পারেনি। সেই তুলনায় ট্রাস্টুজুমাব এমটানসাইন (টি-ডিএম১) নামে প্রচলিত চিকিৎসা পদ্মতিতে মাত্র ৩৪.১ শতাংশের শরীরে এমন সাড়া মিলেছে। এনহার্টু পদ্মতিতে রোগটি না বাড়ার সময়সীমা ৭.২ মাস থেকে ২৫.১ মাসে উন্নীত হয়েছে।

তিন ধাপের এই ট্রায়ালে অংশ নেওয়ার ১২ মাস পর অ্যাস্ট্রাজেনেকার এনহার্টু গ্রহণ করা রোগীদের মধ্যে ৯৪.১ শতাংশ বেঁচে ছিলেন। আর ট্রাস্টুজুমাব এমটানসাইন গ্রহণ করাদের মধ্যে বেঁচেছিলেন ৮৫.৯ শতাংশ।

ট্রায়ালের ফলাফলের কথা জানিয়ে অ্যাস্ট্রাজেনেকার অঙ্কোলজি বিভাগের নির্বাহী উপ-প্রধান সুসান গ্যালব্রেইথ বলেছেন, ‘এই ফল যুগান্তকারী।’

শেয়ার করুন

থাই দূতাবাস ভিসা আবেদন নেবে সোমবার

থাই দূতাবাস ভিসা আবেদন নেবে সোমবার

থাই দূতাবাস জানায়, ভ্রমণকারীদের অবশ্যই প্রতিটি ভিসার প্রয়োজনীয়তা এবং যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। একইসঙ্গে থাই সরকারের যেসব নিয়মকানুন রয়েছে তা অনুসরণ করতে হবে, যার মধ্যে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনসহ করোনার টিকা নেওয়া থাকতে হবে।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বাংলাদেশ থেকে ভিসা আবেদনে দেয়া স্থগিতাদেশ তুলে নিয়েছে পূর্ব এশিয়ার অন্যতম পর্যটনের দেশ থাইল্যান্ড।

সোমবার থেকে নন-থাই নাগরিকদের জন্য ভিসা এবং সার্টিফিকেশন অব এন্ট্রি (সিওই) আবেদন নেয়া শুরু করছে বাংলাদেশে দেশটির দূতাবাস। রোববার ঢাকার থাই দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

করোনা পরিস্থিতির অবনতিতে গত ১০ মে থেকে ভ্রমণে অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল থাইল্যান্ড।

রোববার বিজ্ঞপ্তিতে থাই দূতাবাস জানায়, বাংলাদেশে নন-থাই নাগরিকদের জন্য ভিসা এবং সার্টিফিকেশন অব এন্ট্রি (সিওই) আবেদন চালু করার ঘোষণা করছে রয়েল থাই দূতাবাস। সোমবার থেকে দূতাবাস সব ভিসা এবং সিওই আবেদন নেয়া শুরু করবে।

এতে আরও বলা হয়, ভ্রমণকারীদের অবশ্যই প্রতিটি ভিসার প্রয়োজনীয়তা এবং যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। একইসঙ্গে থাই সরকারের যেসব নিয়মকানুন রয়েছে তা অনুসরণ করতে হবে, যার মধ্যে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনসহ করোনার টিকা নেওয়া থাকতে হবে।

বাংলাদেশিরা সবচেয়ে বেশি থাইল্যান্ডে যায় পর্যটনের উদ্দেশ্যে। এ ছাড়া শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্যও অনেকে দেশটিতে যান।

শেয়ার করুন

দাঁতের ব্যথায় খিচুনির ওষুধ, কথিত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

দাঁতের ব্যথায় খিচুনির ওষুধ, কথিত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

রাজশাহীতে টেকনোলজিস্টের দেয়া ওষুধ খেয়ে অসুস্থতায় ভুগছে সাত বছরের শিশু আব্দুর রাফি। ছবি: নিউজবাংলা

মফিজুল হক দেয়া ওষুধ খেয়ে অস্বাভাবিক অসুস্থতায় ভুগছে সাত বছরের শিশু রাফি। ৯ সেপ্টেম্বর থেকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় ছটফট করছে শিশুটি।

রাজশাহীতে দাঁতের ব্যথার চিকিৎসায় খিচুনির ওষুধ খেয়ে গুরুতর অসুস্থ শিশু আবদুর রাফির বাবা আয়নাল হক কথিত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

রোববার রাজশাহীর মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে করা মামলার আসামি কথিত চিকিৎসক মফিজুল হক। তিনি রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার এমাদপুর মহল্লার বাসিন্দা।

আদালতে মামলাটি উপস্থাপন করেন আইনজীবী মোমিনুল ইসলাম বাবু।

তিনি জানান, আদালত মামলাটি আমলে নিয়েছে। আগামী ২৩ নভেম্বর এ ব্যাপারে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. কাইয়ুম তালুকদারকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

মফিজুল হক দেয়া ওষুধ খেয়ে অস্বাভাবিক অসুস্থতায় ভুগছে সাত বছরের শিশু রাফি। শিশুটি ৯ সেপ্টেম্বর থেকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে বিছানায় ছটফট করছে।

মামলার বাদী রাফির বাবা আয়নাল হকের বাড়ি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার দালালপাড়া গ্রামে। ১৩ আগস্ট তিনি রাফির সমস্যাযুক্ত একটি দাঁত তোলেন মফিজুলের চেম্বারে। এরপর ব্যথা না কমার কারণে ২৬ আগস্ট আবার তার চেম্বারে যান। তখন মফিজুল একটি সিরাপ দেন।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান ডা. বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘শিশুটিকে যে ওষুধ দেয়া হয়েছিল, সেটা খিঁচুনির। তার খিচুনি ছিল না। দাঁতে ব্যথা ছিল। সে কারণে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা দিয়েছে। একে স্টভেন জনসন সিনড্রম বলে। শিশুটির শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। এখন ইমপ্রুভ করছে।’

চোখ ছাড়া তার পুরো শরীরজুড়ে ক্ষত দেখা দিয়েছে। ফোসকা পড়লে যেমন হয়, ঠিক সে রকম ক্ষত। শরীরের কোথাও কোথাও চামড়া উঠে গেছে। ঠোঁটের ওপরেও ক্ষতের কারণে সে কিছু খেতে পারছে না। টানা কয়েকদিন কথাও বলতে পারেনি। তার শরীরে মলম লাগিয়ে রাখা হয়েছে।

দাঁতের ব্যথায় খিচুনির ওষুধ, কথিত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা
রাজশাহীতে টেকনোলজিস্টের দেয়া ওষুধ খেয়ে অসুস্থতায় ভুগছে সাত বছরের শিশু আব্দুর রাফি। ছবি:সংগৃহীত

নিজেকে ডাক্তার দাবি করা মফিজুলের চেম্বার রয়েছে কাটাখালী বাজারে। সেখানে তিনি নিয়মিত রোগীদের চিকিৎসা দেন। ঘটনার পর থেকে চেম্বারটি বন্ধ রয়েছে।

অভিযুক্ত মফিজুলের দাবি, রাজশাহী ইনস্টিটিউট অফ হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) থেকে ২০০৭ সালে ডেন্টাল বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি।

রাজশাহী আইএইচটির অধ্যক্ষ ফারহানা হক বলেছেন, ডেন্টাল বিভাগের মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট হিসেবে উত্তীর্ণ হলেও কেউ রোগী দেখতে পারেন না। তিনি শুধু একজন ডেন্টাল সার্জনকে সহায়তা করতে পারেন।

কাটাখালী বাজারে চেম্বারে প্যাডে ব্যবস্থাপত্র দেন মফিজুল। তার প্যাডে নিজের নামের নিচে পদবি হিসেবে লিখেছেন, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল), এফটি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ রেজিস্ট্রেশন নম্বর- ৭৬৫৩।

নিবন্ধন নম্বরের ব্যাপারে বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের সচিব জাহিদুর রহমান বলেন, ‘এ ধরনের কোনো নিবন্ধন নম্বর আমরা মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টদের দেই না, যা দিয়ে তারা রোগী দেখতে পারেন। রোগী শুধু এমবিবিএস চিকিৎসক ও ডেন্টাল সার্জনরাই দেখতে পারেন। আর তাদের নিবন্ধন দেয় বাংলাদেশ মেডিক্যাল কাউন্সিল। তাই বলতেই পারি মফিজুলের ওই নিবন্ধন নম্বর ভুয়া।’

শেয়ার করুন

এমপি জাফরকে এলাকায় না থাকতে ইসির চিঠি

এমপি জাফরকে এলাকায় না থাকতে ইসির চিঠি

কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম। ছবি: নিউজবাংলা

ইসির চিঠিতে বলা হয়, যেহেতু এমপি জাফর বিধি বহির্ভূতভাবে একজন প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে, তাই তাকে ভোটাধিকার প্রয়োগ ছাড়া কক্সবাজার-১-এর আওতাধীন নির্বাচনি এলাকায় অবস্থান করতে না দেয়ার বিষয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলমকে এলাকা ছাড়ার চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

চিঠিতে তাকে ভোট দেয়া ছাড়া নির্বাচনি এলাকায় অবস্থান না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

রোববার রাতে ইসির উপসচিব মো. আতিয়ার রহমানের স্বাক্ষরে চিঠিটি এমপি জাফর আলমের কাছে পাঠানো হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়, এমপি জাফরের বিরুদ্ধে কক্সবাজার-১ আসনের আওতাধীন চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রকাশ্যে এক প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে পৌরসভা (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা ২০১৫-এর ২২ বিধি উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়- সরকারি সুবিধাভোগী অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী নির্বাচনি প্রচারে বা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। তবে ভোটার হলে তিনি শুধু ভোট দিয়ে কেন্দ্রে যেতে পারবেন।

এ ছাড়া ভোটের আগে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান নির্বাচনি কাজে সরকারি প্রচারযন্ত্র, যানবাহন, অন্য কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ এবং সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের ব্যবহার করতে পারবেন না।

চিঠিতে আরও বলা হয়, যেহেতু এমপি জাফর বিধি বহির্ভূতভাবে একজন প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে, তাই তাকে ভোটাধিকার প্রয়োগ ছাড়া কক্সবাজার-১-এর আওতাধীন নির্বাচনি এলাকায় অবস্থান করতে না দেয়ার বিষয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভায় সোমবার ভোট হবে। নির্বাচনি প্রচার শেষ হওয়ার পর ভোটের আগের রাতে এমপি জাফরকে এ চিঠি পাঠানো হলো।

শেয়ার করুন

পরিত্যক্ত ৯ উড়োজাহাজ দেখল ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ

পরিত্যক্ত ৯ উড়োজাহাজ দেখল ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ

ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের একটি উড়োজাহাজ

২০১০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইউনাইটেড এয়ার ২০১৬ সালে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। এতে কোম্পানির শেয়ার দর নামতে নামতে দুই টাকার নিচে নেমে আসে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটি এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন পর্ষদ পুনর্গঠন করে দেয়ার পর প্রথমবারের মতো পরিত্যক্ত উড়োজাহাজগুলো পরিদর্শনের সুযোগ পেলো বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের কর্তৃপক্ষ। রোববার দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা ৯টি উড়োজাহাজের অবস্থা পরীক্ষা করে নতুন পর্ষদ।

ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ বলছে, উড়োজাহাজগুলোর অবস্থা তারা যতটা খারাপ ভেবেছিলেন তার চেয়েও ভালো অবস্থায় আছে। তবে এগুলো ওড়ার উপযোগী করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে ইঞ্জিনিয়ারিং অডিটের পর।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এটিএম নজরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মোটামুটি আমরা যেটা মনে করেছিলাম, যতটা খারাপ ভেবেছিলাম ততটা খারাপ দেখি নি। আমি আরও বেশি গারবেজ মনে করেছিলাম। তবে ভেতরে কি অবস্থা এটা বোঝার উপায় নেই।

‘এরপর একটি ইঞ্জিনিয়ারিং টিম যাবে এগুলোর অবস্থা দেখতে। ইঞ্জিনিয়ারিং টিম গেলে আবার তাদের যন্ত্রপাতিও কিছু লাগবে। আজই প্রথম গেলাম। বিমানবন্দরে আমাদের যে অফিস আছে সেটা এখনো খুলতে পারিনি। আশা করছি আগামীকাল সেটাতেও যেতে পারবো। তখন আমরা ডকুমেন্টেশনগুলো দেখতে পারবো।’

২০১০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইউনাইটেড এয়ার ২০১৬ সালে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। এতে কোম্পানির শেয়ার দর নামতে নামতে দুই টাকার নিচে নেমে আসে। বিএসইসি মূল মার্কেট থেকে কোম্পানিটিকে স্থানান্তর করে ওভার দ্য কাউন্টার বা ওটিসি মার্কেটে। সেখানে শেয়ার লেনদেন জটিল ও সময়সাপেক্ষ বলে লেনদেনও হচ্ছে না। এতে ৭২ কোটি শেয়ারের মালিকদের টাকা কার্যত শূন্য হয়ে গেছে।

এর প্রায় পাঁচ বছর পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইউনাইটেড এয়ারের বোর্ড ভেঙে দিয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে দেয় বিএসইসি। পরিচালনা পর্ষদের প্রধান তাসবিরুল আলম চৌধুরীকে বাদ দিয়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয় কাজী ওয়াহিদুল আলমকে। আর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে আসেন এটিএম নজরুল ইসলাম, যিনি এর আগে ইউনাইটেড এবং জিএমজি এয়ারলাইনসের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর হিসাবে, গত মার্চ পর্যন্ত ইউনাইটেড এয়ারের কাছে তাদের পাওনা টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০৩ কোটি ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৪৯৩ টাকা। এ টাকা আদায়ে চলতি বছরের শুরুতে এয়ারলাইন্সটির পরিত্যক্ত উড়োজাহাজগুলো নিলামের উদ্যোগ নেয় বেবিচক। অবশ্য পরে প্রতিষ্ঠানটির নতুন পরিচালনা পর্ষদের অনুরোধে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সংস্থাটি।

পরে সিদ্ধান্ত হয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দীর্ঘদিন অকেজো পড়ে থাকা উড়োজাহাজগুলো পরিদর্শনের অনুমতি দেয়া হবে মালিকপক্ষকে।

এটিএম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এই উড়োজাহাজগুলো হয়তো ফ্লাইয়েবল করা যাবে কিন্তু সেটা কতটুকু ইকোনোমিক হবে সেটা এখন প্রশ্ন। এটা যতক্ষণ পর্যন্ত না ইঞ্জিনিয়ারিং অডিট হবে ততক্ষণ পর্যন্ত বোঝা যাবে না। আমরা এটা দিয়ে যাত্রী পরিবহন করবো নাকি কার্গো পরিবহন করবো এটাও তখনই ঠিক হবে।

‘কার্গোর ক্ষেত্রে যে রিকোয়্যারমেন্টগুলো আছে সেগুলো অনেক রিল্যাক্সড। এটা করা অনেক সহজ হবে বলে আমার ধারণা। তবে এটি টেকনিক্যাল রিপোর্টের উপর নির্ভর করবে। তবে এটাও ঠিক উড়োজাহাজগুলোর বয়স অনেক হয়েছে। এগুলো দিয়ে যাত্রী পরিবহন করাটা আমাদের কাছেও সুদুরপরাহত মনে হচ্ছে।’

ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সপেকশনের দিনক্ষণ ঠিক না হলেও খুব শিগগিরই এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান তিনি। নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এখনো ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সপেকশনের কোনো সময়সীমা আমরা ঠিক করি নি। প্রাথমিকভাবে আমাদের চেষ্টা হচ্ছে দেশীয় একটি টিম গঠন করে এগুলোর একটি নিরীক্ষা সম্পন্ন করা। এজন্য বেশ কয়েকটি এয়ারলাইনসের সাথে আমরা কথাও বলছি।’

শেয়ার করুন

নির্বাচনি সহিংসতায় বৃদ্ধা নিহত, আহত ৩

নির্বাচনি সহিংসতায় বৃদ্ধা নিহত, আহত ৩

চাঁদপাই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় ফাতেমা বেগম নামের এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয়রা জানান, ভোটের আগের রাত ৯টার দিকে চাঁদপাই মোড়ে ইউপি সদস্য প্রার্থী মতিয়ার রহমান মোড়ল এবং অপর প্রার্থী শফিকুল ইসলাম কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

বাগেরহাটের মোংলার চাঁদপাই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় ফাতেমা বেগম নামের এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন তিন জন।

রোববার রাত ৯টার দিকে উপজেলার চাঁদপাই মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, ভোটের আগের রাত ৯টার দিকে চাঁদপাই মোড়ে ইউপি সদস্য প্রার্থী মতিয়ার রহমান মোড়ল এবং অপর প্রার্থী শফিকুল ইসলাম কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

এলাকার মহাসিন ও মোয়াজ্জেম বলেন, সংঘর্ষ ঠেকাতে গিয়ে ৭০ বছর বয়সী ফাতেমা বেগমসহ চার জন আহত হন।

মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে ফাতেমা বেগম মারা যান। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সিরাজুল ইসলাম।

তিনি জানান, ফাতেমার মাথার পেছনে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

এ বিষয়ে মতিয়ার রহমান মোড়ল জানান, চাঁদপাই মোড়ে গেলে প্রতিপক্ষ প্রার্থী শফিকুলসহ লোকজন তার ওপর হামলা চালায়।

শফিকুলের দাবি, মতিয়ার মোড়ল লোকজনের মাঝে টাকা বিতরণের সময় তিনি বাধা দেন। এসময় তার ওপর মতিয়ার হামলা চালান।

মোংলা থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে, বৃদ্ধা কিভাবে মারা গেছেন এখনই বলা যাচ্ছে না।

সোমবার মোংলার চাঁদপাই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ।

শেয়ার করুন

ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগে দিশেহারা ভোক্তা অধিকার

ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগে দিশেহারা ভোক্তা অধিকার

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা বলেন, ‘হঠাৎ করে ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগ বেড়েছে। দুই মাসে যে অভিযোগ এসেছে, তা নিষ্পত্তি করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা যাচ্ছেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধও পাওয়া যাচ্ছে। সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।’

বেশ কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রাহক ঠকানোর অভিযোগ ওঠার পর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে গিয়ে হঠাৎ মামলা সংখ্যা বৃদ্ধির তথ্য মিলেছে। এত বেশি অভিযোগ আসছে যে, নিষ্পত্তিতে হিমশিম খাচ্ছে অধিদপ্তর। তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিধি পাঠিয়ে তা বন্ধ পাচ্ছেন।

গত জুলাই ও আগস্ট মাসে বিপুল পরিমাণ অভিযোগ জমা পড়েছে। এত বেশি সংখ্যায় অভিযোগ এর আগে জমা পড়েনি।

সম্প্রতি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। আরেক প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের কর্তাব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছেন ভারতে। আরেক প্রতিষ্ঠান ধামাকার বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে মামলা হয়েছে।

কম দামে পণ্য পাওয়ার আশায় এই তিনটি ছাড়াও অনেক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে টাকা দিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন মানুষ। নির্ধারিত সময়ে পণ্য না পেয়ে এখন তারা সমাধানের আশায় ছুটছেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্ষুব্ধ মানুষ এসে লিখিতভাবে তুলে ধরছেন কোটি কোটি টাকার চাহিদা।

গত জুলাই ও আগস্ট মাসে কেবল ইভ্যালি নিয়েই অভিযোগ পড়েছে ৭ হাজার ১৩৮টি।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা বলেন, ‘হঠাৎ করে ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগ বেড়েছে। দুই মাসে যে অভিযোগ এসেছে, তা নিস্পত্তি করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা যাচ্ছেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধও পাওয়া যাচ্ছে। সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।’

ভোক্তা অধিকার সূত্র জানায়, গেল জুন পর্যন্ত ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগ ছিল ১৩ হাজার ৩৫৭টি। আর নিষ্পত্তি হয় ১১ হাজার ৪৩৬টি অভিযোগ। এক্ষেত্রে অভিযোগের বিপরীতে নিষ্পত্তির হার ৮৬ শতাংশ। তবে জুলাই এবং আগস্ট ধরলে নিষ্পত্তির হার কম।

কোন প্রতিষ্ঠানের কত অভিযোগ

৩০ জুন পর্যন্ত ১৯টি প্রতিষ্ঠানের ১৩ হাজার ৩১৭টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয় ১১ হাজার ৪৩৪টি অভিযোগ। নিষ্পত্তির হার ৮৬ শতাংশ।

তবে জুলাই ও আগস্ট এ দুই মাসে ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগ বেড়েছে ৫ হাজার ৯৮৭টি। অভিযোগের সংখ্যা বেড়ে ১৯ হাজার ৩০৪টিতে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে নিষ্পত্তি হয়েছে ১২ হাজার ২৯৭টি। নিষ্পত্তির হার ৬৪ শতাংশ।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জ নিয়ে অভিযোগের হার বেশি। এর মধ্যে এক ভোক্তার ১ কোটি টাকার অভিযোগ আছে। এর বাইরে ৩০ লাখ, ৫০ লাখ টাকার অভিযোগ কম নেই।

এ সময়ে আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির বিরুদ্ধে ভোক্তার অভিযোগের সংখ্যা ৭ হাজার ১৩৮টি। ভোক্তা অধিকার নিষ্পত্তি করেছে ৪ হাজার ৪৯৫টি। শতকরা হিসেবে নিষ্পত্তি ৬৩ শতাংশ।

ই-অরেঞ্জ ডটকমের বিরুদ্ধে অভিযোগ সংখ্যা ২ হাজার ৬৪৩টি। এর মধ্যে মাত্র ৩৩টি নিষ্পত্তি করা গেছে। নিষ্পত্তির হার ১ শতাংশ।

দারাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ ১ হাজার ৫১টি। নিষ্পত্তি হয়েছে ৯৫৮টি। শতকরা হারে যা ৯১ শতাংশ।

ধামাকার বিরুদ্ধে ৩২৩টি অভিযোগের বিপরীতে ৫৮টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। শতকরা হার ১৮ শতাংশ।

সহজডটকমের বিরুদ্ধে ৯৩টি অভিযোগের বিপরীতে নিষ্পত্তি করা হয়েছে ৮৫টি।

আজকের ডিল ডটকমের বিরুদ্ধে অভিযোগ সংখ্যা ১৮২টি। নিষ্পত্তি হয়েছে ১৬৭টি। শতকরা ৯২ শতাংশ অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

ফুডপান্ডার বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে ৩২২টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ২৫১টি। শতকরা হিসেবে নিষ্পত্তির হার ৭৮ শতাংশ।

চালডাল ডটকমের বিরুদ্ধে ভোক্তারা অভিযোগ করেছেন ১৯০টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ১৭৯টি। শতকরা নিষ্পত্তি ৮৯ শতাংশ।

প্রিয়শপ ডটকমের বিরুদ্ধে ৬২৬টি অভিযোগের বিপরীতে নিষ্পত্তি হয়েছে ৪৪২টি। নিষ্পত্তির হার ৭১ শতাংশ।

ফালগুনি ডটকমের মালিক আইনের আওতায় আছে। এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ৬৪৪টি অভিযোগ পড়েছে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ৪৫১টি।

অথবা ডটকমের বিরুদ্ধে ১৮৬টি অভিযোগের বিপরীতে নিষ্পত্তি হয়েছে ১৬০টি। নিষ্পত্তির হার ৮৬ শতাংশ।

উবার ডটকমের বিরুদ্ধে ১২৮টি অভিযোগের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ১২৫ অভিযোগ। নিষ্পত্তির হার ৯৮ শতাংশ।

পাঠাওয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে ২৬৭টি। নিষ্পত্তি হয়েছে ২৬৫টি।

বিক্রয় ডটকমের বিরুদ্ধে ১৭৪টি অভিযোগের বিপরীতে ১৫৭টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। নিষ্পত্তির হার ৯০ শতাংশ।

নিরাপদ ডটকম বিরুদ্ধে ১১৫টি অভিযোগের বিপরীতে ৬৪টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। যার হার ৫৬ শতাংশ।

আদিয়ানমার্ট ডটকম বিরুদ্ধে ১১৬টি অভিযোগের বিপরীতে ৩৮টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। শতকরা হার ৩৩ শতাংশ।

আলিশা মার্টের বিরুদ্ধে ২০টি অভিযোগের বিপরীতে মাত্র ২টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। শতকরা হার ১০ শতাংশ।

গ্রাহক যা বলেন

ধানমন্ডি থেকে অভিযোগ নিয়ে এসেছেন আলী শরীফ। তিনি জানান, সব মিলিয়ে বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে ৫০ হাজার টাকার পণ্য কেনার জন্য অর্ডার দেয়া হয়। কিন্তু কোনো পণ্য পাওয়া যায়নি। বারবার তাগাদা দিয়েও কোনো লাভ হয়নি। অফিসে গেলে ডেলিভারির দিনক্ষণ দেয়া হয়নি।

শফিক খান নামে একজন বলেন, ‘একটি বাইক কেনার জন্য অর্ডার দিয়েছি তিন মাস আগে। কিন্তু বাইকটি দেয়া হচ্ছে না।’

অন্য একজন গ্রাহক জানান, দুটি মোবাইল সেট কেনার জন্য টাকা দিয়েও পণ্য পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ‘প্রথমবার পণ্য ডেলিভারির যে দিন নির্ধারণ করা হয়, সেই দিনে পণ্য দেয়া হয়নি। তারপরে এক মাসে সময় বাড়িয়ে দিন দেয়া হয়েছে। আসলে পাওয়া যাবে না।’

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা বলেন, ‘ই-কমার্স নিয়ে এত অভিযোগ আসছে, তাতে অন্য অভিযোগ নিষ্পত্তিতে বিঘ্ন ঘটছে। লোকবল কম থাকায় হিমশিম অবস্থা তৈরি হয়েছে। তারপরও গ্রাহকের স্বার্থে সব ধরণের উদ্যোগ নেবে এই প্রতিষ্ঠান।’

শেয়ার করুন