আফগানিস্তান থেকে নাগরিক ফেরাতে মমতার চিঠি

আফগানিস্তান থেকে নাগরিক ফেরাতে মমতার চিঠি

আফগানিস্তানের টালমাটাল পরিস্থিতিতে দেশটি থেকে সামরিক বিমানে দেশে ফিরছেন ভারতীয়রা। ছবি: এএফপি

কয়েক মাস আগে দার্জিলিং জেলার কার্শিয়াং শহরের শেখর গুরুং আফগানিস্তানে রোজগারের উদ্দেশে যান। সেখানে তিনি আটকা পড়েছেন। শেষ পর্যন্ত শেখর বাড়ি ফিরতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্ন শেখরের স্ত্রীর। ১২ এবং ১৮ বছরের দুই ছেলে রয়েছে গুরুং দম্পতির।

পশ্চিমবঙ্গের দুই শতাধিক মানুষ আফগানিস্তানে আটকা পড়েছেন।

তাদের সুস্থভাবে দেশে ফিরিয়ে আনতে রাজ্যের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়া হয়েছে বলে বুধবার জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

নবান্নে মমতা বলেন, 'দার্জিলিং, তরাই, কালিম্পংয়ের অনেক মানুষ আফগানিস্তানে গিয়ে আটকা রয়েছেন। তাদের উদ্ধারের আর্জি জানিয়ে কেন্দ্রকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।'

রাজ্য সরকারের তরফে রাজ্যের সব জেলাশাসককে কেউ আফগানিস্তানে আটকে থাকলে কোন শহরে রয়েছেন, তার নাম, ফোন নম্বর সংগ্রহ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে রাজ্যে বসবাসকারী কোনো আফগান নাগরিকের সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে কি না, তারও খোঁজ নিচ্ছে রাজ্য প্রশাসন।

আফগানিস্তানে আটকা পড়া রাজ্যবাসীর বড় অংশ দার্জিলিং এবং কালিম্পং জেলার।

কয়েক মাস আগে দার্জিলিং জেলার কার্শিয়াং শহরের শেখর গুরুং আফগানিস্তানে রোজগারের উদ্দেশে যান।

সেখানে শেখর আটকা পড়েছেন। ফোনে পরিবারের সঙ্গে শেষ কথা হয় বুধবার দুপুরে।

শেখরের স্ত্রী সঞ্জু গুরুং বলেন, শেষবার ফোন করে কাবুল বিমানবন্দরে যাচ্ছেন বলে জানান শেখর।

শেষ পর্যন্ত শেখর বাড়ি ফিরতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্ন শেখরের স্ত্রীর। ১২ এবং ১৮ বছরের দুই ছেলে রয়েছে গুরুং দম্পতির।

কার্শিয়াংয়ের মন্টেভিউ, দার্জিলিংয়ের লেবং গ্রাম থেকে আফগানিস্তানে কাজ করতে গিয়ে আটকা পড়েছেন বেশ কয়েকজন যুবক।

নিউজ চ্যানেল, সোশ্যাল মিডিয়ায় আফগানিস্তানের দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন আফগানিস্তানে কাজ করতে যাওয়া মানুষজনের পরিবার।

দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক এস পুন্নমবলম বলেন, ‘আমাদের জেলা থেকে ২০০ জন কাবুলে আটকা পড়েছেন।

‘আমরা স্থানীয়ভাবে যাচাই করে সব তথ্য রাজ্যের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্যবিষয়ক দপ্তরে পাঠাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
৩ ট্রিলিয়ন ডলারের খনিজসম্পদ তালেবানের হাতে, নজর চীনের
গণতন্ত্র থাকবে না তালেবান শাসনে
শঙ্কার মুখে আফগান নারী ক্রিকেট
যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র তালেবানের হাতে
১৭ কোটি ডলার নিয়ে আরব আমিরাতে আশরাফ ঘানি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কাবুলে বেসামরিক নাগরিক হত্যার কথা স্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের

কাবুলে বেসামরিক নাগরিক হত্যার কথা স্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে গাড়িতে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহত হয় এক পরিবারের ১০ সদস্য। ছবি: এএফপি

গত ২৯ আগস্টের ওই হামলায় এক ত্রাণকর্মী ও তার পরিবারের অন্য ৯ সদস্য নিহত হয়। নিহত ১০ জনের মধ্যে সাত শিশু রয়েছে। সবচেয়ে ছোট শিশুটির বয়স দুই বছর।

আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের আগে দেশটির রাজধানী কাবুলে ড্রোন হামলায় ১০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের তদন্তে উঠে এসেছে, জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) সংশ্লিষ্ট ভেবে গাড়িতে ড্রোন হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র, যার বলি হয় একটি পরিবারের সদস্যরা।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৯ আগস্টের ওই হামলায় এক ত্রাণকর্মী ও তার পরিবারের অন্য ৯ সদস্য নিহত হয়।

নিহত ১০ জনের মধ্যে সাত শিশু রয়েছে। সবচেয়ে ছোট শিশুটির বয়স দুই বছর।

গত ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল দখলের মধ্য দিয়ে দেশটিতে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। পরে ‘অজেয়’ উপত্যকা পাঞ্জশিরও দখলে নেয় সংগঠনটি।

তালেবানের হাতে ক্ষমতা যাওয়ার পরই কাবুল থেকে সামরিক-বেসামরিক নাগরিকদের প্রত্যাহারে তোড়জোড় শুরু করে বিভিন্ন দেশ। এ পরিস্থিতির মধ্যেই কাবুল বিমানবন্দরে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। সে হামলার কয়েক দিন পর ড্রোন হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।

ড্রোন হামলার বিষয়ে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের কর্মকর্তা জেনারেল কেনেথ ম্যাকেঞ্জি বলেন, ত্রাণকর্মীর গাড়িটি আটঘণ্টা ধরে ট্র্যাক করা হচ্ছিল। ধারণা ছিল, গাড়িটি আইএসের স্থানীয় শাখা আইএস-কে সংশ্লিষ্ট।

ম্যাকেঞ্জির মতে, হামলাটি ছিল ‘বেদনাদায়ক ভুল’।

যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত অনুযায়ী, জামাইরি আহমাদি নামের ত্রাণকর্মী

কাবুল বিমানবন্দর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে নিজ বাড়িতে গাড়িতে চড়ার পরপরই হামলা চালানো হয়।

বোমা হামলার পর আরেকটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়, যাতে যুক্তরাষ্ট্র মনে করেছিল, গাড়িতে বিস্ফোরক ছিল। তবে অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিলিন্ডার থেকে দ্বিতীয় বিস্ফোরণ হতে পারে।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কাজ করা এক অনুবাদকও রয়েছেন, যার নাম আহমদ নাসের।

তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন বলেন, ‘আমরা এ পর্যায়ে এসে জানতে পেরেছি, আহমাদির সঙ্গে আইএস-খোরাসানের কোনো যোগসূত্র ছিল না। ওই দিন (হামলার সময়) তার কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ অহিংস ছিল এবং সেটি ছিল আমাদের মনে করা আসন্ন হুমকির একেবারে উল্টো।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এ ঘটনায় ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি ভয়াবহ এ ভুল থেকে শিক্ষা নিতে সচেষ্ট হব।’

আরও পড়ুন:
৩ ট্রিলিয়ন ডলারের খনিজসম্পদ তালেবানের হাতে, নজর চীনের
গণতন্ত্র থাকবে না তালেবান শাসনে
শঙ্কার মুখে আফগান নারী ক্রিকেট
যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র তালেবানের হাতে
১৭ কোটি ডলার নিয়ে আরব আমিরাতে আশরাফ ঘানি

শেয়ার করুন

ভারত-চীন সম্পর্ক তৃতীয় দেশের চোখে দেখা নয়: জয়শঙ্কর 

ভারত-চীন সম্পর্ক তৃতীয় দেশের চোখে দেখা নয়: জয়শঙ্কর 

ভারত-চীন নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহারে একমত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বৈঠকে বসেন। তবে আলোচনায় আফগানিস্তান নয়, স্থান পেয়েছে চীন-ভারত। বৈঠকে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা নিয়েই আলোচনা হয়েছে দেশ দুটির মধ্যে।

তালেবানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর আফগানিস্তানের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে মুখোমুখি হলো ভারত-চীন।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বৈঠকে বসেন। তবে আলোচনায় আফগানিস্তান নয়, স্থান পেয়েছে চীন-ভারত। বৈঠকে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা নিয়েই আলোচনা হয়েছে দেশ দুটির মধ্যে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, ‘ভারত-চীন সম্পর্ক তৃতীয় কোনো পক্ষের চোখ দিয়ে না দেখাই শ্রেয়।’

তাজিকিস্তানের রাজধানীতে সাংহাই করপোরেশন অর্গানাইজেশনের যে বৈঠক সম্মেলন শুরু হয়েছে, তাতেই যোগ দিয়েছে ভারত ও চীন।

সদস্য দেশগুলোর প্রধানমন্ত্রীদের পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও বৈঠকে যোগ দেন। সেখানেই ভার্চুয়াল আলোচনায় এস জয়শঙ্কর পূর্ব লাদাখ থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রসঙ্গ তোলেন।

সীমান্তে শান্তি ফেরাতে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় আটকে থাকা সেনা প্রত্যাহারের কাজ দ্রুত শেষ করা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

বৈঠকে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্তবর্তী অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে দুই পক্ষেরই সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরের শীর্ষ নেতাদের দ্রুতই বৈঠকে বসা নিয়ে সহমত জানান।

এস জয়শঙ্কর চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেন, ‘ভারত কখনোই সংঘর্ষের তত্ত্ব মেনে চলেনি এবং ভারত-চীনের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপরই গোটা এশিয়ার ঐক্য নির্ভর করছে।’

একই সঙ্গে তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতেই সম্পর্ক গড়ে তোলা উচিত। আর এই সম্পর্ককে মজবুত করতেই চীনের উচিত ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে অন্য কোনো বা তৃতীয় দেশের চোখ দিয়ে না দেখা।

বৈঠক শেষে টুইটেও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি উল্লেখ করেন। তবে জয়শঙ্কর বৈঠকে ‘তৃতীয় দেশ’ বলে উল্লেখ করলেও, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে ‘তৃতীয় দেশগুলো’ বলা হয়েছে, যা তাৎপর্যপূর্ণ।

বিবৃতিতে কেবল প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বিশ্বব্যাপী উন্নয়নের কথা উল্লেখ করা হলেও সূত্রের খবর, দুই দেশের মধ্যে আফগানিস্তান প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। তালেবানের ক্ষমতা দখল ও সরকার গঠন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত।

তবে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় কীভাবে শান্তি ফেরানো যায়, তা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে দুই দেশের মধ্যে।

জয়শঙ্কর জানান, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নত করার লক্ষ্যে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা ও বাকি সীমান্ত অঞ্চলগুলোয় শান্তি স্থাপন করা জরুরি।

দ্রুত দুই দেশের সামরিক ও কূটনৈতিক নেতৃত্ব বিষয়টিতে আলোচনায় বসবে।

গত বছরের এপ্রিলে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তার জেরে দুই দেশের জন্য ভালো কিছু নয় এবং এর জেরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেও খারাপ প্রভাব পড়েছে, তা স্বীকার করে নেয়া হয় বৈঠকে।

গত ১৪ জুলাইয়ের বৈঠকের পর দুই পক্ষই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে সেনা প্রত্যাহার ও শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে যে ভালো কাজ করেছে, তার স্বীকৃতি দেয়া হয়।

তবে এখনও পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখাজুড়ে একাধিক সংঘর্ষস্থলে কাজ করা বাকি, সে কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
৩ ট্রিলিয়ন ডলারের খনিজসম্পদ তালেবানের হাতে, নজর চীনের
গণতন্ত্র থাকবে না তালেবান শাসনে
শঙ্কার মুখে আফগান নারী ক্রিকেট
যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র তালেবানের হাতে
১৭ কোটি ডলার নিয়ে আরব আমিরাতে আশরাফ ঘানি

শেয়ার করুন

একাত্তরে মোদি, টিকায় রেকর্ডের কর্মসূচি

একাত্তরে মোদি, টিকায় রেকর্ডের কর্মসূচি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফাইল ছবি

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনকে সামনে রেখে জনগণকে টিকা নিতে উৎসাহ জোগাতে নেতাদের প্রতি তাগিদ দিয়েছে বিজেপি। আর রোজ দেয়া টিকার ডোজ দ্বিগুণ করতে রাজ্যের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

একাত্তরে পা রেখেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদারদাস মোদি। বিশেষ দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে টিকাদানে রেকর্ড গড়তে চাইছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।

১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বর্তমান গুজরাটের বড়নগরে জন্মগ্রহণ করেন নরেন্দ্র মোদি।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, সরকারি দপ্তরে মোদির ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘সেবা ও সমর্পণ অভিযান’ নামে ২০ দিনের বিশাল কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিজেপি।

মোদির জন্মদিনের আগে বৃহস্পতিবার ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মানসুখ মান্দাবিয়া টিকা নিতে জনগণকে উৎসাহ দিয়ে বলেন, ‘আসুন #ভ্যাকসিনসেবা করি এবং এখন পর্যন্ত টিকা না নেয়া লোকজনকে টিকাদানের মাধ্যমে তাকে জন্মদিনের উপহার দিই।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনকে সামনে রেখে জনগণকে টিকা নিতে উৎসাহ জোগাতে নেতাদের প্রতি তাগিদ দিয়েছে বিজেপি। আর রোজ দেয়া টিকার ডোজ দ্বিগুণ করতে রাজ্যের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

বিজেপি শুক্রবার ২ কোটি ডোজ টিকা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। দলটির এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে প্রায় আট লাখ স্বেচ্ছাসেবী।

বিজেপির ২০ দিনের কর্মসূচি চলবে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত। ২০০১ সালের ওই দিন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে অভিষেক হয়েছিল মোদির।

বৃহত্তর কর্মসূচির অংশ হিসেবে বড় ধরনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও রক্তদান ক্যাম্পেইনে নামবে বিজেপি। মোদিকে অভিনন্দন জানানোর অংশ হিসেবে দলটি ৫ কোটি পোস্টকার্ডও বিলি করবে।

আরও পড়ুন:
৩ ট্রিলিয়ন ডলারের খনিজসম্পদ তালেবানের হাতে, নজর চীনের
গণতন্ত্র থাকবে না তালেবান শাসনে
শঙ্কার মুখে আফগান নারী ক্রিকেট
যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র তালেবানের হাতে
১৭ কোটি ডলার নিয়ে আরব আমিরাতে আশরাফ ঘানি

শেয়ার করুন

পশ্চিমবঙ্গে ফের বাড়ল করোনার বিধিনিষেধ

পশ্চিমবঙ্গে ফের বাড়ল করোনার বিধিনিষেধ

করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কায় কঠোরভাবে বিধিনিষেধ পালনের পরামর্শ দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ফাইল ছবি

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে নবান্নে নতুন নির্দেশিকা জারি করে বুধবার করোনা বিধিনিষেধের সময়সীমা বাড়ানো হয়। সেপ্টেম্বর মাসের পুরোটাই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। এ সময়ে রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত জারি থাকবে নাইট কার্ফিউ। স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

পশ্চিমবঙ্গে করোনার বিধিনিষেধ ফের বেড়েছে। করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আরও ১৫ দিন বাড়িয়ে তা করা হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে নবান্নে নতুন নির্দেশিকা জারি করে বুধবার করোনা বিধিনিষেধের সময়সীমা বাড়ানো হয়। সেপ্টেম্বর মাসের পুরোটাই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। এ সময়ে রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত জারি থাকবে নাইট কার্ফিউ। স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসায় পশ্চিমবঙ্গে বাস, ট্যাক্সি মেট্রোরেল, অটোর মতো গণপরিবহন চলাচলে আগেই ছাড় দেয়া হয়েছে। দাবির মুখে ছাড় দেয়া হয়েছে জিম, রেস্তোরাঁ, বিনোদন পার্ক, সিনেমা হল, চিড়িয়াখানার মতো স্থানে যাতায়াতে।

তবে দীর্ঘদিন ধরে লোকাল ট্রেন চালানোর দাবি উঠলেও বিধিনিষেধ বাড়ায় এটা স্পষ্ট, রাজ্যে এখনই লোকাল ট্রেন চলছে না। সরকারের নতুন নির্দেশিকায় লোকাল ট্রেনের বিষয়েও কিছু উল্লেখ নেই।

যদিও বর্তমানে স্টাফ স্পেশাল ট্রেন চলছে, কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট কম। তবে মেট্রোরেলের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কায় নতুন নির্দেশিকায় কঠোরভাবে করোনা বিধিনিষেধ পালনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বাধ্যতামূলকভাবে সামাজিক দূরত্ব মেনে মাস্ক ও স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। শর্ত মেনে যেসব প্রতিষ্ঠান খুলেছে সেখানে কঠোরভাবে কোভিড প্রটোকল পালন করতে বলা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ জোরদার করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। করোনা বিধিনিষেধ অবজ্ঞা করলে, বিপর্যয় মোকাবিলায় আইনানুসারে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে।

ওয়ার্ল্ডোমিটার্সের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৬৩ লাখের বেশি মানুষ। মৃত্যু হয়েছে প্রায় এক লাখ মানুষের। এর মাঝে পশ্চিমবঙ্গে অক্সিজেন সংকটসহ নানা কারণে চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে করোনা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছিল। করোনা সংকট অনেকটা কাটছে বলে ধারণা করা হলেও সতর্কতা বহাল রাখতে চাইছে রাজ্য সরকার।

পশ্চিমবঙ্গে লকডাউন চললেও অনেকেই মানছে না শারীরিক দূরত্ব। বিশেষ করে হাটবাজার বা গণপরিবহনে ভিড় নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশকে।

আরও পড়ুন:
৩ ট্রিলিয়ন ডলারের খনিজসম্পদ তালেবানের হাতে, নজর চীনের
গণতন্ত্র থাকবে না তালেবান শাসনে
শঙ্কার মুখে আফগান নারী ক্রিকেট
যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র তালেবানের হাতে
১৭ কোটি ডলার নিয়ে আরব আমিরাতে আশরাফ ঘানি

শেয়ার করুন

ভারতে রামলীলা-নবরাত্রীতে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা, আটক ৬

ভারতে রামলীলা-নবরাত্রীতে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা, আটক ৬

নাশকতার অভিযোগে ছয়জনকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে অভিযান চালিয়ে রাজস্থানের কোটা থেকে একজনকে আটক করা হয়। তিনজনকে আটক করেছে উত্তর প্রদেশের সন্ত্রাস দমন স্কোয়াড এটিএস। বাকি দুজন দিল্লিতে আটক হয়েছেন।

ভারতের কমপক্ষে তিনটি রাজ্যে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে কমপক্ষে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য।

জানা যায়, রামলীলা, নবরাত্রীর মতো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন উৎসব সামনে রেখে হামলার পরিকল্পনা চলছে বলে খবর পেয়েছে পুলিশ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে নেমে মঙ্গলবার কয়েকজনকে আটক ও জিনিসপত্র জব্দ করে দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেলের সদস্যরা।

আটককৃতদের কয়েকজন ছদ্ম নাম-পরিচয় ব্যবহার করছিলেন।

এদের মধ্যে জান মহম্মদ শেখের বাড়ি মহারাষ্ট্রে, ওসামা ওরফে শামির বাড়ি দিল্লির জামিয়া নগরে, মূলচন্দ ওরফে সাজু উত্তর প্রদেশের রায়বেরেলির বাসিন্দা, জিশান কামারের বাড়ি এলাহাবাদে, মোহাম্মদ আবু বকরের বাড়ি বাহরইচে এবং মোহাম্মদ আমির জাভেদের বাড়ি লক্ষ্নৌতে।

প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, দিল্লি, মহারাষ্ট্র ও উত্তর প্রদেশে হামলার পরিকল্পনা ছিল সন্ত্রাসীদের।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটককৃতদের মধ্যে ওসামা ও জিশান প্রতিবেশী পাকিস্তানের মদদপুষ্ট। পাকিস্তানের আন্তবাহিনী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন দুজনই।

অভিযোগ, আইএসআইয়ের নির্দেশেই এতদিন চলছিলেন তারা। তাদের ওপর নির্দেশ ছিল উত্তর প্রদেশ ও দিল্লির জনবহুল এলাকায় উৎসবের ভিড়ভাট্টার মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটানোর।

দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেলের ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত কমিশনার নীরজ ঠাকুর সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে আমরা নাশকতার পরিকল্পনার খবর জানতে পারি। পরে মঙ্গলবার সকালে অভিযান চালিয়ে রাজস্থানের কোটা থেকে একজনকে আটক করা হয়। তিনজনকে আটক করেছে উত্তর প্রদেশের সন্ত্রাস দমন স্কোয়াড এটিএস। বাকি দুজন দিল্লিতে আটক হয়েছেন।’

আটককৃতদের জঙ্গি আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এদের মধ্যে ওসামা ও জিশান কিছুদিন আগে ওমানের মাস্কটে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে নৌকায় চড়ে পাকিস্তানে গিয়ে ১৫ দিন অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ নের তারা। তাদের শক্তিশালী জঙ্গি হয়ে ওঠার শিক্ষাও দেয় আইএসআই। প্রশিক্ষণ শেষে তারা দুবাই হয়ে ভারতে ফিরে আসেন।’

নীরজ ঠাকুর বলেন, ‘এ চক্রান্তে পাকিস্তানি সন্ত্রাসী দাউদ ইব্রাহিমের ভাই আনিস ইব্রাহিমের হাত থাকতে পারে। কারণ সমীর নামে তার কাছের একজনকে পাকিস্তানের এক অজ্ঞাত ব্যক্তি ভাড়া করেছিল। তার ওপর বিস্ফোরকসহ গ্রেনেড ও আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল।’

ভারপ্রাপ্ত কমিশনার আরও বলেন, ‘জেরার মুখে আটককৃতরা স্বীকার করেছেন যে তাদের মধ্যে ইব্রাহিম নামে একজনের কাজ ছিল তহবিল জোগান দেয়া। আর লালা নামের একজনের দায়িত্ব ছিল আন্ডারওয়ার্ল্ডের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা। এ ছাড়া তাদের সঙ্গে আরও ১৪ থেকে ১৫ জন ছিল, যারা বাংলা ভাষায় কথা বলত।’

নীরজ ঠাকুর জানান, জঙ্গিরা ভারতে লুকিয়ে থাকলেও তাদের পরিচালনা করা হতো সীমান্তের ওপার থেকে।

আরও পড়ুন:
৩ ট্রিলিয়ন ডলারের খনিজসম্পদ তালেবানের হাতে, নজর চীনের
গণতন্ত্র থাকবে না তালেবান শাসনে
শঙ্কার মুখে আফগান নারী ক্রিকেট
যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র তালেবানের হাতে
১৭ কোটি ডলার নিয়ে আরব আমিরাতে আশরাফ ঘানি

শেয়ার করুন

পাঞ্জশিরে ২০ বেসামরিককে ‘হত্যা’ তালেবানের

পাঞ্জশিরে ২০ বেসামরিককে ‘হত্যা’ তালেবানের

পাঞ্জশির দখলের পর তালেবান যোদ্ধাদের টহল। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

সম্প্রতি এক ভিডিওতে দেখা যায়, সেনাবাহিনীর পোশাক পরা এক ব্যক্তিকে ঘিরে ধরেছে তালেবান যোদ্ধারা। বন্দুকের গুলিতে ওই ব্যক্তি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জোর দিয়ে জানান, ওই ব্যক্তি পাঞ্জশিরের বেসামরিক নাগরিক।

তালেবানের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের পাঞ্জশির প্রদেশে ২০ বেসামরিক নাগরিককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

বিবিসির বরাতে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, সম্প্রতি এক ভিডিওতে দেখা যায়, সেনাবাহিনীর পোশাক পরা এক ব্যক্তিকে ঘিরে ধরেছে তালেবান যোদ্ধারা। বন্দুকের গুলিতে ওই ব্যক্তি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জোর দিয়ে জানান, ওই ব্যক্তি পাঞ্জশিরের বেসামরিক নাগরিক।

বিবিসি জানিয়েছে, পাঞ্জশিরে এ ধরনের আরও ২০টি ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়।

নিহতদের একজন আব্দুল সামি, পেশায় দোকানদার। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, তালেবান হামলা চালালে পাঞ্জশির ছেড়ে পালাতে রাজি হননি সামি।

পাঞ্জশির তালেবানের দখলে যাওয়ার পর সামিকে গ্রেপ্তার করে তালেবান যোদ্ধারা। তালেবানবিরোধী যোদ্ধাদের কাছে সিম কার্ড বিক্রির অভিযোগ আনে তালেবান।

পরে নিজের বাড়ির কাছে সামির মরদেহ পাওয়া যায়।

আফগানিস্তানের সাবেক সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক নাসির আহমেদ আনদিশা মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে দেশটির বিপর্যস্ত মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

তিনি জানান, তালেবানের শাসনে নারী অধিকার ভূলুণ্ঠিত হয়েছে।

তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর দেশটির গজনি প্রদেশে জাতিগত সংখ্যালঘু হাজারা সম্প্রদায়ের ৯ ব্যক্তির নিহতের বিস্তারিত বিবরণ সম্প্রতি দেয় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

সোমবার জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাশেলেট জানান, আফগান জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর (এএনএসএফ) সদস্য, আগের প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তালেবান প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, ‘কয়েকটি ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের ছেড়ে দেয়া হলেও অনেককে মৃত উদ্ধার করা হয়।’

গত মাসে তালেবান আফগানিস্তানের সব প্রদেশ দখলে সক্ষম হলেও স্থানীয়দের তীব্র প্রতিরোধের মুখে পাঞ্জশিরের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি।

গত মাসের শেষে তালেবানের সঙ্গে পাঞ্জশিরের প্রতিরোধ বাহিনীর তীব্র লড়াইয়ের একপর্যায়ে প্রদেশটি দখলে নেয় সংগঠনটি।

আরও পড়ুন:
৩ ট্রিলিয়ন ডলারের খনিজসম্পদ তালেবানের হাতে, নজর চীনের
গণতন্ত্র থাকবে না তালেবান শাসনে
শঙ্কার মুখে আফগান নারী ক্রিকেট
যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র তালেবানের হাতে
১৭ কোটি ডলার নিয়ে আরব আমিরাতে আশরাফ ঘানি

শেয়ার করুন

বর্ণিল পোশাক পরে হিজাবের প্রতিবাদ আফগান নারীদের

বর্ণিল পোশাক পরে হিজাবের প্রতিবাদ আফগান নারীদের

ডয়চে ভেলের আফগান শাখার প্রধান ওয়াসলাত হাসরাত-নাজিমি (বামে) ও বিবিসির সাংবাদিক সানা সাফি। ছবি: সিএনএন

আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অফ আফগানিস্তানের সাবেক ফ্যাকাল্টি মেম্বার বাহার জালালি টুইটবার্তায় বলেন, ‘আফগানিস্তানের ইতিহাসে কেউ কখনো এমন পোশাক পরেনি। এটি পুরোপুরি বিদেশি পোশাক। আফগান সংস্কৃতিতে এ ধরনের পোশাক প্রতিনিধিত্ব করে না।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারীদের হিজাব পরা বাধ্যতামূলক করেছে তালেবান।

কট্টরপন্থি সংগঠনটির এ সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা আফগান নারীরা।

একই সঙ্গে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে আফগানিস্তানের ঐতিহ্যগত রঙিন পোশাক পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের ছবি পোস্টও করেছেন তারা।

সম্প্রতি নারী-পুরুষের একসঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস করা নিষিদ্ধ করে তালেবান।

পাশাপাশি তালেবানের শরিয়াহ আইনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী নারী শিক্ষার্থী, প্রভাষক ও কর্মচারীদের বাধ্যতামূলক হিজাব পরতে বলা হয়।

শনিবার সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে কাবুলের শহীদ রব্বানি বিশ্ববিদ্যালয়ে আপাদমস্তক ঢাকা পোশাকে তালেবানের পতাকা হাতে একদল শিক্ষার্থীকে ক্লাসে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

বর্ণিল পোশাক পরে হিজাবের প্রতিবাদ আফগান নারীদের

প্রতিবাদে উজ্জ্বল ও রংবেরঙের আফগান পোশাক পরে নারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মঙ্গলবার নিজেদের ছবি পোস্ট করেন।

কালো পোশাক ও পর্দা পরিহিত নারী শিক্ষার্থীদের বিষয়ে আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অফ আফগানিস্তানের সাবেক ফ্যাকাল্টি মেম্বার বাহার জালালি টুইটবার্তায় বলেন, ‘আফগানিস্তানের ইতিহাসে কেউ কখনো এমন পোশাক পরেনি।

‘এটি পুরোপুরি বিদেশি পোশাক। আফগান সংস্কৃতিতে এ ধরনের পোশাক প্রতিনিধিত্ব করে না।

‘আফগানিস্তানের ঐতিহ্যগত পোশাক পরে আমি বিশ্ববাসীর সামনে আমাদের প্রকৃত সংস্কৃতি তুলে ধরতে চাইছি।

‘তালেবান নারীদের যে পোশাক পরতে বাধ্য করছে, তা আফগান নারীদের পোশাক নয়।’

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, জালালির ওই টুইট উৎসাহিত করে বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা আরও আফগান নারীদের।

এদের মধ্যে রয়েছেন জার্মানিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের আফগান শাখার প্রধান ওয়াসলাত হাসরাত-নাজিমি।

ওয়াসলাতও উজ্জ্বল পোশাকে হাজির হয়ে টুইটবার্তায় বলেন, ‘এটিই আফগান সংস্কৃতি। আফগান নারীরা এভাবেই পোশাক পরেন।’

বর্ণিল পোশাক পরে হিজাবের প্রতিবাদ আফগান নারীদের

সোদাবা হাইদারি (বামে) ও পেয়মানা আসাদ। ছবি: সিএনএন

লন্ডনে বিবিসির আলোচিত সাংবাদিক সানা সাফি নিজের ছবি পোস্ট করে বলেন, ‘আফগানিস্তানে থাকলে আমার মাথায়ও কাপড় থাকত।’

বিবিসির আরেক সাংবাদিক সোদাবা হাইদারি নিজের পোশাক সম্পর্কে বলেন, ‘এটি আমাদের ঐতিহ্যগত পোশাক। আমাদের পোশাক অনেক বর্ণিল।

‘এমনকি আমাদের চাল ও পতাকায়ও অনেক রঙের সমাবেশ দেখা যায়।’

আফগান বংশোদ্ভূত যুক্তরাজ্যের স্থানীয় রাজনীতিক পেয়মানা আসাদ বলেন, ‘তালেবান নারীদের যে পোশাক পরতে বলছে, তা আফগানিস্তানের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নয়।’

আরও পড়ুন:
৩ ট্রিলিয়ন ডলারের খনিজসম্পদ তালেবানের হাতে, নজর চীনের
গণতন্ত্র থাকবে না তালেবান শাসনে
শঙ্কার মুখে আফগান নারী ক্রিকেট
যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র তালেবানের হাতে
১৭ কোটি ডলার নিয়ে আরব আমিরাতে আশরাফ ঘানি

শেয়ার করুন