জাতিসংঘে মিয়ানমারের দূতকে ‘হত্যার ষড়যন্ত্র’

জাতিসংঘে মিয়ানমারের দূতকে ‘হত্যার ষড়যন্ত্র’

সেনাবাহিনীর চোখরাঙানি উপেক্ষা করে জাতিসংঘে মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত বেসামরিক সরকারের প্রতিনিধিত্ব করে যাচ্ছেন কিয়াও মোয়ে তুন। ফাইল ছবি

মিয়ানমারের সামরিক শাসকের কট্টর সমালোচক কিয়াও মোয়ে তুন। তাকে জাতিসংঘে দেশটির প্রতিনিধির পদ থেকে বহিষ্কারও করেছিল সেনাবাহিনী। কিন্তু তারপরও বিশ্বের সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক জোটটিতে নিজ দেশের বেসামরিক সরকারের প্রতিনিধিত্ব করা অব্যাহত রেখেছেন তিনি।

জাতিসংঘে নিযুক্ত মিয়ানমারের দূত কিয়াও মোয়ে তুনকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, কিয়াও মোয়ে তুনকে ভয় দেখিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করতে চেয়েছিলেন ওই দুই ব্যক্তি। এ জন্য ভাড়াটে গুন্ডা দিয়ে তার ওপর হামলার পরিকল্পনা করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল তাকে হত্যা বা আহত করা।

নিউ ইয়র্কে অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুজনই মিয়ানমারের নাগরিক। তারা হলেন ফিও হেইন তুত ও ইয়ে হেইন জাও।

চলতি বছরের শুরুতে ২৮ বছর বয়সী জাও একটি অ্যাপের মাধ্যমে ২০ বছর বয়সী তুতকে চার হাজার ডলার পাঠান। কিয়াও মোয়ে তুনের ওপর হামলার জন্য অগ্রিম হিসেবে দেয়া হয় বিপুল এ অর্থ।

অভিযুক্ত ষড়যন্ত্রকারীদের স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতেই নিউ ইয়র্কের একটি আদালতে নেয়ার কথা।

অ্যাটর্নি অড্রে স্ট্রস শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পরিকল্পিত হামলার মাধ্যমে জাতিসংঘে নিযুক্ত মিয়ানমারের দূতকে গুরুতর আহত বা হত্যা করতে চেয়েছিলেন তুত ও জাও।

এতে উল্লেখ করা হয়, ‘সব পর্যায়ের বিদেশি কূটনীতিক ও কর্মকর্তার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সহযোগীরা।’

মিয়ানমারের সামরিক শাসকের কট্টর সমালোচক কিয়াও মোয়ে তুন। তাকে জাতিসংঘে দেশটির প্রতিনিধির পদ থেকে বহিষ্কারও করেছিল সেনাবাহিনী, কিন্তু তারপরও বিশ্বের সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক জোটটিতে নিজ দেশের বেসামরিক সরকারের প্রতিনিধিত্ব করা অব্যাহত রেখেছেন তিনি।

কিয়াও মোয়ে তুনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও জানায়নি মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের নিয়ন্ত্রণ নেয় দেশটির সেনাবাহিনী। ক্ষমতাচ্যুত করে রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি ও প্রেসিডেন্ট উইন মিন্তকে। তখন থেকেই আটক নেতাদের বিরুদ্ধে পরের কয়েক মাসে দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা লঙ্ঘনসহ বেশ কয়েকটি মামলা করা হয়েছে।

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের দাবিতে মিয়ানমারে কয়েক মাসের নজিরবিহীন গণআন্দোলন দেখে বিশ্ব। বিক্ষোভ দমনে কঠোর নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের আক্রমণে নিহত হয় শিশুসহ নয় শতাধিক মানুষ; গ্রেপ্তার হয় কয়েক হাজার।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) আইনপ্রণেতা, সদস্যরাও আছেন।

আরও পড়ুন:
নিজেকে মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা জান্তাপ্রধানের
মিয়ানমারের জাতীয় নির্বাচনের ফল বাতিল জান্তা সরকারের
করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যে মিয়ানমারে চিকিৎসক গ্রেপ্তার
মিয়ানমারে ৫ মাসে ৭৫ শিশু হত্যা, আটক ১০০০: জাতিসংঘ
ভিক্ষু থেকে অস্ত্র হাতে জান্তার বিরুদ্ধে লড়াই

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বৈঠকের দিন আরও বড় পতনে তীব্র হতাশা

বৈঠকের দিন আরও বড় পতনে তীব্র হতাশা

দিন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সাড়ে তিন মাস আগের অবস্থানে নেমে দিন শেষে দাঁড়ায় ৬ হাজার ৭০৩ পয়েন্টে। এর চেয়ে কম সূচক ছিল ১২ আগস্ট। তখন অবস্থান ৬ হাজার ৬৯৯ পয়েন্ট থাকলেও পুঁজিবাজারে হতাশা ছিল না। বরং শেয়ারদর ও লেনদেন ক্রমেই বাড়তে থাকায় বিনিয়োগাকারীরা এক দশকের হতাশা কাটিয়ে আশান্বিত হয়ে উঠতে থাকে।

টানা ছয়দিন দরপতনের পর একদিন সূচক বাড়লেও পরের দিনই আবার সেই হতাশার বৃত্তে পুঁজিবাজার। টানা দরপতনের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বিএসইসির বৈঠকের দিনও বড় দরপতন দেখল বিনিয়োগকারীরা। এ নিয়ে আট কর্মদিবসের মধ্যে সাত দিনই সূচকের পতন হলো।

বেলা তিনটায় দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই বৈঠকের দিকে তাকিয়ে লাখ লাখ বিনিয়োগকারী। গত বৃহস্পতিবার এই বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত জানানোর পর থেকেই এক ধরনের আশা নিরাশার দোলাচল তৈরি হয়।

তবে এর মধ্যেও রোববার বড় পতনে তৈরি হয় আতঙ্ক। সেদিন পতন গিয়ে ঠেকে টানা ৬ দিনে। সপ্তম দিন সোমবার বাজার ঘুরে দাঁড়িয়ে উত্থানের ইঙ্গিত দিয়েও ধরে রাখতে পারেনি। এক পর্যায়ে সূচক ৭১ পয়েন্ট বেড়ে শেয়ার কেনাবেচা হতে থাকলেও পরে দিন শেষে ২১ পয়েন্ট বেড়ে শেষ হয় লেনদেন।

মঙ্গলবার বৈঠকের দিন সকালে অল্প কিছু সময়ের জন্য সূচক বেড়ে লেনদেন হতে থাকলেও গত প্রায় আড়াই মাসের এক সাধারণ চিত্রের মতোই অর্ধেক বেলা শেষে পতন দিয়ে শেষ হয় লেনদেন।

দিন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সাড়ে তিন মাস আগের অবস্থানে নেমে দিন শেষে দাঁড়ায় ৬ হাজার ৭০৩ পয়েন্টে। আগের দিনের চেয়ে ৯২ পয়েন্ট হারিয়ে গেছে সূচক থেকে।

এর চেয়ে কম সূচক ছিল ১২ আগস্ট। তখন অবস্থান ৬ হাজার ৬৯৯ পয়েন্ট থাকলেও পুঁজিবাজারে হতাশা ছিল না। বরং শেয়ারদর ও লেনদেন ক্রমেই বাড়তে থাকায় বিনিয়োগাকারীরা এক দশকের হতাশা কাটিয়ে আশান্বিত হয়ে উঠতে থাকে।

সূচক কমার দিন লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। তিন কর্মদিবস পর আবার তা এক হাজার কোটি টাকার ঘর অতিক্রম করতে পেরেছে। তবে সেটি ক্রয় চাপে নয়, সেটি নিশ্চিত। বিক্রয় চাপ বেশি থাকায় শেয়ারদর পড়ার পর সে সুযোগটি কাজে লাগিয়েছেন ব্যক্তি শ্রেণির বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা।

আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৭০৮ কোটি ১৮ লাখ টাকা, যা ছিল ১৪৬ কর্মদিবসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

আড়াইর বেশি শেয়ারের দরপতনের দিন ৮০টির মতো কোম্পানির দর বৃদ্ধি হয়েছে। এমন দিনে এমন কোনো খাত ছিল না যার বিনিয়োগকারীরা হাসিমুখে ঘরে ফিরবে। তবে তুলনামূলক কিছুটা স্বস্তিতে ছিল ব্যাংক খাতের শেয়ারধারীরা। যেসব শেয়ার দর হারিয়েছে সেগুলো শতকরা হিসেবে দর হারিয়েছে কমই।

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া বাজার সংশোধনের সময় দরপতন মোটেও অস্বাভাবিক ঠেকেনি। এর কারণ, এক বছরে মূল্য সূচক বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার পর কিছুটা সংশোধন স্বাভাবিক হিসেবেই ধরে নিয়েছিলেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

আশা করা হয়েছিল, সংশোধন শেষে বাজার আবার উত্থানে ফিরবে এবং বিনিয়োগকারীরা তাদের হারানো টাকা ফিরে পাবে। কিন্তু সেটি হয়নি, উল্টো ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির মধ্যে মতভিন্নতার খবর প্রকাশ্যে চলে আসার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়। দিনের পর দিন হতাশা এক পর্যায়ে তৈরি করে আতঙ্ক।

পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা গণনা, এই বিনিয়োগসীমায় বন্ডে বিনিয়োগ অন্তর্ভুক্তি নিয়ে মতভিন্নতা ছাড়াও অবণ্টিত মুনাফায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে টাকা আসবে কি না, এ নিয়ে আগে থেকেই টানপড়েনের মধ্যে সম্প্রতি যোগ হয়েছে মিউচ্যুয়াল ফান্ড পরিচালনাকারী অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির লেনদেনের তথ্য চাওয়া।

সবশেষ এই নির্দেশ আসার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংককে চিঠি দিয়ে বিএসইসি বলেছে, তারা এভাবে সরাসরি তথ্য চাইতে পারে না। কোনো তথ্য দরকার পড়লে যেন বিএসইসির মাধ্যমে চাওয়া হয়।

এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে তথ্য আসে যে, মতভিন্নতা নিয়ে বৈঠকে বসবে দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এই সিদ্ধান্ত আসার পর সাপ্তাহিক কর্মদিবস শুক্র ও শনিবার বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নানা আলোচনা-ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের জন্ম নেয়।

কিন্তু কোনো কিছু্ বাজারে চিড় ধরা মনোবল ফেরাতে পারেনি। উল্টো শেয়ার কেনা বন্ধ রেখে কম দামে হলেও শেয়ার বিক্রি করে দিতে থাকেন বিনিয়োগকারীরা। এই বিষয়টি দরপতনকে আরও তরান্বিত করে। যারা লোকসানে শেয়ার বিক্রি করতে রাজি ছিলেন না, তাদের পোর্টফোলিওর আকার দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে। এর মধ্যে যারা মার্জিন ঋণ নিয়ে শেয়ার কিনেছেন, তাদের অবস্থান আরও খারাপ। পুনর্বিনিয়োগ করতে না পারলে শেয়ার বিক্রি করে দিতে বাধ্য হতে থাকেন হাজার হাজার বিনিয়োগকারী।

আজকের এই দরপতনে প্রধান ভূমিকা ছিল গ্রামীণ ফোনের। ৩.২২ শতাংশ শেয়ারদর কমায় সূচক থেকে হারিয়ে গেছে ২৩.০৬ পয়েন্ট। গত পাঁচ কর্মদিবসে শেয়ারদর ১০ শতাংশের বেশি পড়ে যাওয়া বহুল আলোচিত বেক্সিমকো লিমিটেডের দর কমায় সূচক কমেছে ৮.৭৭ পয়েন্ট।

৩৫ শতাংশ লভ্যাংশ, প্রথম প্রান্তিকে অভাবনীয় আয়, মালিকপক্ষের তিন কোটি টাকার শেয়ার কেনার ঘোষণায় শেয়ারদর ১৮৫ টাকা ছাড়িয়ে ২০০ টাকার দিকে ছুটছিল। সেখান থেকে নেমে শেয়ারদর এখন ১৫০ টাকার আশেপাশে। গত ২১ অক্টোবর শেয়ারদর দেড়শ টাকা ছাড়নোর পর এতটা নিচে নামেনি কখনও।

শেয়ারদর দেড়শ টাকা ছাড়ানোর পর এমনও দিন গেছে যেদিন সাড়ে তিনশ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে একটি কোম্পানিরই। দুইশ বা আড়াইশ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে, এমন দিন গেছে অনেক। অর্থাৎ উচ্চমূল্যেই শেয়ার লেনদেন হয়েছে বেশি। এ কারণে এই কোম্পানির বিনিয়োগকারীরা ভীষণ হতাশ।

একই গ্রুপের আগের কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ার দর নেমে এসেছে ২০০ টাকার নিচে। গত ১ সেপ্টেম্বর শেয়ারদর ২০০ টাকার ঘর অতিক্রম করার পর এই প্রথমবার এই ঘটনা ঘটল।

স্কয়ার ফার্মা, রবি, ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো কোম্পানি, লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট, ইউনাইটেড পাওয়ার, ওয়ালটনের মতো শক্তিশালী মৌলভিত্তির কোম্পানির দরপতনের কারণে সূচক কমেছে সবচেয়ে বেশি। দর কমে ৩০ টাকার নিচে নেমে এসেছে এনআরবিসি।

এর বিপরীতে যেসব কোম্পানি সূচক বাড়াতে পেরেছে, সেগুলোর সংখ্যা যেমন কম, তেমনি দর বৃদ্ধির হার কম থাকায় সেগুলো সূচকে পয়েন্ট যোগ করতে পেরেছে খুবই কম। সবচেয়ে বেশি সূচক বাড়ানো ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর ৮.১৮ শতাংশ বাড়ার কারণে সূচকে যোগ হয়েছে কেবল ২.৫২ পয়েন্ট।

সবচেয়ে বেশি সূচক বাড়ানো ১০টি কোম্পানি কেবল গ্রামীণ ফোনের দরপতনজনিত কারণে সূচকের পতনই ঠেকাতে পারেনি।

আরও আসছে…

আরও পড়ুন:
নিজেকে মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা জান্তাপ্রধানের
মিয়ানমারের জাতীয় নির্বাচনের ফল বাতিল জান্তা সরকারের
করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যে মিয়ানমারে চিকিৎসক গ্রেপ্তার
মিয়ানমারে ৫ মাসে ৭৫ শিশু হত্যা, আটক ১০০০: জাতিসংঘ
ভিক্ষু থেকে অস্ত্র হাতে জান্তার বিরুদ্ধে লড়াই

শেয়ার করুন

ছাত্রীকে ধর্ষণে মাদ্রাসাশিক্ষকের যাবজ্জীবন

ছাত্রীকে ধর্ষণে মাদ্রাসাশিক্ষকের যাবজ্জীবন

সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে এই মাদ্রাসাশিক্ষককে। ছবি: নিউজবাংলা

২০১৯ সালের ২০ জানুয়ারি দুপুরে গাইড বই দেয়ার কথা বলে ওই ছাত্রীকে মাদ্রাসায় ডেকে নেন সাইফুল। মাদ্রাসার কাছেই নিজ বাড়ির দোতলায় নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঘরে রেখেই পালিয়ে যান তিনি।

বরগুনায় সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে মাদ্রাসাশিক্ষক সাইফুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেয়া হয়েছে মামলার আরেক আসামি সাইফুলের ভাবী রাশেদা বেগমকে।

বরগুনার জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হাফিজুর রহমান মঙ্গলবার দুপুরে এই রায় দেন।

সাইফুল ইসলামের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার ফুলঝুরি ইউনিয়নের সাহেবের হাওলা গ্রামে।

২০১৯ সালের ২০ জানুয়ারি দুপুরে গাইড বই দেয়ার কথা বলে ওই ছাত্রীকে মাদ্রাসায় ডেকে নেন সাইফুল। মাদ্রাসার কাছেই নিজ বাড়ির দোতলায় নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঘরে রেখেই পালিয়ে যান তিনি।

আশপাশের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নেয়। সেখান থেকে পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়।

ঘটনার দিন বিকেলেই সাইফুল ও তার ভাবীর বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেন ওই কিশোরীর বাবা। সে বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি সাইফুলকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

আরও পড়ুন:
নিজেকে মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা জান্তাপ্রধানের
মিয়ানমারের জাতীয় নির্বাচনের ফল বাতিল জান্তা সরকারের
করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যে মিয়ানমারে চিকিৎসক গ্রেপ্তার
মিয়ানমারে ৫ মাসে ৭৫ শিশু হত্যা, আটক ১০০০: জাতিসংঘ
ভিক্ষু থেকে অস্ত্র হাতে জান্তার বিরুদ্ধে লড়াই

শেয়ার করুন

ট্রেনে কাটা পড়ে লাইনে বসে থাকা স্কুলছাত্রী নিহত

ট্রেনে কাটা পড়ে লাইনে বসে থাকা স্কুলছাত্রী নিহত

ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত স্কুলছাত্রী নুসরাত জাহান তোয়া। ছবি: নিউজবাংলা

তোয়ার মা শায়লা বেগম বলেন, ‘সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে আমার মেয়ে বের হয়। আমি আর আমার ছোট মেয়ে তাকে খানিকটা এগিয়েও দিয়ে আসি। বান্ধবীর বাসা থেকে তার স্কুলে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার কথা। ও রেললাইনে কীভাবে গেল বুঝতে পারছি না।’

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে।

কালিহাতী উপজেলার ধলাটেঙ্গর এলাকায় মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নুসরাত জাহান তোয়া এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সে পরিবারের সঙ্গে এলেঙ্গা শামসুল হক কলেজের সামনে একটি ভাড়া বাসায় থাকত। তাদের বাড়ি চট্টগ্রামে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা স্কুলের পোশাক পরা দুটি ছেলেমেয়েকে রেললাইনে এসে বসে থাকতে দেখেন। মেয়েটি লাইনের ওপর আর ছেলেটি একটু নিচে পাথরের ওপর বসা ছিল। এ সময় উত্তরবঙ্গগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনে ওই স্কুলছাত্রী কাটা পড়ে। এরপর ছেলেটি দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়।

পুলিশ তার মোবাইল চেক করে জানায়, দুর্ঘটনার আধ ঘণ্টা আগে সোহাগ আল হাসান জয় নামের এক ছেলের সঙ্গে মেয়েটির মেসেঞ্জারে কথা হয়। তারা রেললাইনে দেখা করতে আসে।

তবে তোয়ার মা শায়লা বেগম বলেন, ‘সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে আমার মেয়ে বের হয়। আমি আর আমার ছোট মেয়ে তাকে খানিকটা এগিয়েও দিয়ে আসি। বান্ধবীর বাসা থেকে তার স্কুলে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার কথা। ও রেললাইনে কীভাবে গেল বুঝতে পারছি না।’

এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল করিম বলেন, ‘আজকে তোয়াদের গণিত পরীক্ষা ছিল। সকালে খবর পাই সে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছে।’

ঘারিন্দা রেলওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ এএসআই আব্দুস সবুর জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
নিজেকে মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা জান্তাপ্রধানের
মিয়ানমারের জাতীয় নির্বাচনের ফল বাতিল জান্তা সরকারের
করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যে মিয়ানমারে চিকিৎসক গ্রেপ্তার
মিয়ানমারে ৫ মাসে ৭৫ শিশু হত্যা, আটক ১০০০: জাতিসংঘ
ভিক্ষু থেকে অস্ত্র হাতে জান্তার বিরুদ্ধে লড়াই

শেয়ার করুন

ওমিক্রন: কোয়ারেন্টিনে সশস্ত্র বাহিনীকে যুক্ত করার চিন্তা

ওমিক্রন: কোয়ারেন্টিনে সশস্ত্র বাহিনীকে যুক্ত করার চিন্তা

ছবি: সংগৃহীত

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কোয়ারেন্টিনগুলোতে অত্যন্ত শক্ত ব্যবস্থাপনার দিকে নজর দিতে হবে। সশস্ত্র বাহিনীকে এর সঙ্গে যুক্ত করার কথা আলোচনা হয়েছে।’

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন রোধে আফ্রিকা মহাদেশের কোনো দেশ থেকে কেউ আসলে তাকে ১৪ দিনের কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই কোয়ারেন্টিনে সশন্ত্রবাহিনীকে যুক্ত করার কথাও আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

কোভিড নিয়ন্ত্রণে আন্তমন্ত্রণালয়ের জাতীয় কমিটির বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘কোয়ারেন্টিনগুলোতে অত্যন্ত শক্ত ব্যবস্থাপনার দিকে নজর দিতে হবে। সশস্ত্র বাহিনীকে এর সঙ্গে যুক্ত করার কথা আলোচনা হয়েছে।’

বতসোয়ানায় প্রথম শনাক্ত হওয়া এই ভ্যারিয়েন্টের শুরুতে নাম ছিল ‘বি.১.১.৫২৯’ তবে আলোচনায় সুবিধার জন্য শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর নাম দেয় ‘ওমিক্রন’।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্পাইক প্রোটিনে ৩০ বারের বেশি মিউটেশনের মধ্য দিয়ে সার্স কভ টু ভাইরাসের নতুন ধরনটি তৈরি হয়েছে। সামগ্রিকভাবে এই ধরনটির মিউটেশন হয়েছে ৫০ বারের বেশি।

অত্যন্ত সংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের চেয়েও ওমিক্রনের মিউটেশন হয়েছে চার গুণ বেশি। ফলে এটি দ্রুত মানুষকে আক্রান্ত করতে সক্ষম বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

ওমিক্রন ঠেকাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ আফ্রিকা অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আর দশটা দেশের মতো বাংলাদেশও সতর্ক।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অন্য কোনো দেশে সংক্রমণ বাড়লে সেখান থেকে আসাদের জন্যও ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিমের কথা বলা হয়েছে। দেশে আসাদের জন্য ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করোনা পরীক্ষার যে নির্দেশন আছে, সেটা ৪৮ বা ২৪ ঘণ্টায় নামিয়ে আনার কথাও আমরা চিন্তা করছি।’

আরও পড়ুন:
নিজেকে মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা জান্তাপ্রধানের
মিয়ানমারের জাতীয় নির্বাচনের ফল বাতিল জান্তা সরকারের
করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যে মিয়ানমারে চিকিৎসক গ্রেপ্তার
মিয়ানমারে ৫ মাসে ৭৫ শিশু হত্যা, আটক ১০০০: জাতিসংঘ
ভিক্ষু থেকে অস্ত্র হাতে জান্তার বিরুদ্ধে লড়াই

শেয়ার করুন

সাবেক পুলিশ পরিদর্শকের স্ত্রীর ৪ বছরের কারাদণ্ড

সাবেক পুলিশ পরিদর্শকের স্ত্রীর ৪ বছরের কারাদণ্ড

সাজাপ্রাপ্ত মাহমুদা খানম স্বপ্না পুলিশ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের স্ত্রী। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সম্পদের তথ্য গোপন, জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ পরিদর্শকের স্ত্রীকে আলাদা দুইটি ধারায় চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমানের আদালত মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করে।

সাজাপ্রাপ্ত মাহমুদা খানম স্বপ্না পুলিশ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের স্ত্রী। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের পেশকার শরীফুল ইসলাম।

তিনি জানান, রায়ে মাহমুদা খানম স্বপ্নাকে দুদক আইন ২০০৪ এর ২৬ (২) ধারায় এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২৭ (১) ধারায় তিন বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২১ লাখ ৫৪ হাজার ২৩৫ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। অবৈধভাবে অর্জিত ২১ লাখ ৫৪ হাজার ২৩৫ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেয় আদালত।

২০১৫ সালের ১৪ মে দুদকে হিসাবের বিবরণী জমা দেন মাহমুদা। সেখানে তিনি ১৭ লাখ ৬২ হাজার ১৮৩ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করেন এবং এক কোটি ৭১ লাখ তিন হাজার ৪৫ টাকার সম্পদের মধ্যে ৪১ লাখ ৪১ হাজার ২৬৯ টাকার জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জন করে তা দখলে রাখেন।

এ অভিযোগে দুদকের উপপরিচালক আবুবকর সিদ্দিক ২০১৬ সালের ২৯ জুন রমনা থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে কমিশনের উপসহকারী পরিচালক নাজিম উদ্দিন ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

আরও পড়ুন:
নিজেকে মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা জান্তাপ্রধানের
মিয়ানমারের জাতীয় নির্বাচনের ফল বাতিল জান্তা সরকারের
করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যে মিয়ানমারে চিকিৎসক গ্রেপ্তার
মিয়ানমারে ৫ মাসে ৭৫ শিশু হত্যা, আটক ১০০০: জাতিসংঘ
ভিক্ষু থেকে অস্ত্র হাতে জান্তার বিরুদ্ধে লড়াই

শেয়ার করুন

মা-মেয়েকে ধর্ষণ মামলা: তিনজনকে যাবজ্জীবন

মা-মেয়েকে ধর্ষণ মামলা: তিনজনকে যাবজ্জীবন

গাইবান্ধার আদালতে রায় ঘোষণার পর দণ্ডিত আসামিদের নেয়া হয় কারাগারে। ছবি: নিউজবাংলা

আইনজীবী ফারুক আহমেদ বলেন, ২০১৮ সালের ১২ মে মা-মেয়েকে অর্থ সম্পদ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে জামালপুর থেকে গোবিন্দগঞ্জে ডেকে নেন আসামিরা। পরে তাদের উপজেলার আমনাথপুর বালুয়া এলাকায় নিয়ে ধর্ষণ করে তারা। এ ঘটনার পরদিন ওই নারী বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে ধর্ষণ মামলা করেন।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মা-মেয়ে ধর্ষণ মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। মামলায় দুই আসামিকে খালাস দেয়া হয়েছে।

গাইবান্ধা নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতের বিচারক আবদুর রহমান মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে এ রায় দেন।

দণ্ডিতরা হলেন গাইবান্ধার গোবিন্দঞ্জ উপজেলার গোসাইপুর গ্রামের বেলাল হোসেন। একই গ্রামের এমদাদুল হক ও শ্যামপুর পারর্তীপুর গ্রামের খাজা মিয়া।

খালাস পাওয়া দুজন হলেন আজিজুল ইসলাম ও আসাদুল ইসলাম। আজিজুলের বাড়ি সাতগাছি হাতিয়াদহ গ্রামে এবং আসাদুলের বাড়ি সুন্দাইল গ্রামে।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ প্রিন্স।

তিনি জানান, ২০১৮ সালের ১২ মে মা-মেয়েকে অর্থ-সম্পদ দেয়ার কথা বলে জামালপুর থেকে গোবিন্দগঞ্জে ডেকে নেন আসামিরা। পরে তাদের উপজেলার আমনাথপুর বালুয়া এলাকায় নিয়ে ধর্ষণ করে তারা।

এ ঘটনার পরদিন ওই নারী বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে গোবিন্দঞ্জ থানায় ধর্ষণ মামলা করেন। পরে পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।

রায় ঘোষণার সময় পাঁচ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
নিজেকে মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা জান্তাপ্রধানের
মিয়ানমারের জাতীয় নির্বাচনের ফল বাতিল জান্তা সরকারের
করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যে মিয়ানমারে চিকিৎসক গ্রেপ্তার
মিয়ানমারে ৫ মাসে ৭৫ শিশু হত্যা, আটক ১০০০: জাতিসংঘ
ভিক্ষু থেকে অস্ত্র হাতে জান্তার বিরুদ্ধে লড়াই

শেয়ার করুন

ছাত্রদের হাফ ভাড়া যেসব শর্তে

ছাত্রদের হাফ ভাড়া যেসব শর্তে

বাসে হাফ পাসের দাবিতে বেশ কিছু দিন ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

শর্তগুলো হলো- ঢাকার বাইরে হাফ ভাড়া নেয়া হবে না। হাফ ভাড়া দেয়ার সময় অবশ্যই শিক্ষার্থীদেরকে স্ব স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছবিযুক্ত আইডি কার্ড দেখাতে হবে। সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত কার্যকর এ শর্ত। ছুটির দিন কোনো হাফ পাস নাই।

টানা আন্দোলনের মুখে ছাত্রদের বাস ভাড়া অর্ধেকের দাবি মেনে নিয়েছে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। তবে জুড়ে দিয়েছে কয়েকটি শর্ত।

শিক্ষার্থীদের জন্য বাস ভাড়া অর্ধেক করার বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলামোটরে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন সংগঠনটির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ। জানান, হাফ ভাড়া কার্যকরের শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়েছেন তারা।

তিনি বলেন, ‘সবদিক আলাপ-আলোচনা করে আমরা স্থির করেছি, ছাত্রদের যে দাবি, সেই দাবির প্রতি আমরা সমর্থন জানিয়ে সেই দাবি কার্যকর করার জন্য। আগামীকালকে থেকে, ১ ডিসেম্বর থেকে ছাত্রদের বাসে হাফ ভাড়া কার্যকর করা হবে।’

এ সময় কয়েকটি শর্তের কথাও উল্লেখ করেন এনায়েত উল্যাহ। শর্তগুলো হলো:

## ঢাকার বাইরে হাফ ভাড়া নেয়া হবে না।

## হাফ ভাড়া দেয়ার সময় অবশ্যই শিক্ষার্থীদেরকে স্ব স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছবিযুক্ত আইডি কার্ড দেখাতে হবে।

## সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত হাফ ভাড়া কার্যকর থাকবে।

## সরকারি ছুটির দিন, সাপ্তাহিক ছুটির দিন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মৌসুমি ছুটিসহ অন্যান্য ছুটির সময় ছাত্রদের হাফ ভাড়া কার্যকর হবে না।

এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘আগামীকাল ১ ডিসেম্বর থেকে ছাত্রদের হাফ ভাড়া কার্যকর হবে। সকল পরিবহন মালিকদের প্রতি এবং শ্রমিকদের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে, ছাত্ররা যেন হাফ ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারে, সে ব্যাপারটি নিশ্চিত করার জন্য।

‘আমরা দীর্ঘদিন আলাপ-আলোচনা করে, বিভিন্ন সভা করে, মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে, শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম। দেশবাসীকে আমরা জানাতে চাই। আমরা হাফ ভাড়া কার্যকর ছাত্রদের জন্য করে দিলাম।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে পরিবহন মালিক সমিতির এই নেতা বলেন, ‘ছাত্রদের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে, এরা আমাদেরই সন্তান; কোমলমতি ছাত্ররা আমাদেরই সন্তান। তারা যেন এখন থেকে তাদের পড়ালেখায় মনোযোগ দেয়। তারা যেন স্কুল-ভার্সিটিতে ফেরত যায়। রাস্তায় এইসব আন্দোলন না করে তারা যেন ফেরত যায়, এটা তাদের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে।’

এর আগে হাফ ভাড়া কার্যকরের জন্য সরকারের কাছে প্রণোদনা চেয়েছিল মালিক সমিতি। সেই অবস্থান থেকে পরিবহন মালিকরা সরে এসেছেন কি না, এমন প্রশ্নে এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘আমরা সে দাবি এখনও করতে চাই। কেউ বিশ্বাস করুক আর না করুক ঢাকা শহরের ৮০ ভাগ বাসের মালিক গরিব। অনেক মালিক রয়েছেন যার একটিমাত্র গাড়ি রয়েছে সেই আয় দিয়ে তার সংসার চলে, তার সন্তানের লেখাপড়ার খরচ চলে।

‘সে টাকা দিয়ে আবার বাসের ঋণ শোধ করে। অনেকে আবার বাসের চালক থেকে মালিক হয়েছেন। এখানে বড় কোনো বিনিয়োগ নেই। এটা দাবিটি সরকার পক্ষ থেকে বিবেচনা করবে বলে আমরা আশা করছি। আমরা পুরোটাই সরকারের ওপর ছেড়ে দিলাম।’

ভাড়া নিয়ে বিতর্কে বাস থেকে যাত্রীদের ফেলে দেয়া হচ্ছে, চালকের বেপরোয়া আচরণে পথচারী মারা যাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠছে। এসব প্রসঙ্গেও কথা বলেন এনায়েত।

তিনি বলেন, ‘সারা দেশে প্রায় ১ লাখের ওপর বাস রয়েছে সবখানেই বাসগুলো নিয়ন্ত্রিতভাবে রয়েছে, ভাড়াসহ সবকিছুই ঠিক আছে। শুধু ঢাকা শহরেই কিছুটা অনিয়ন্ত্রিত। কিছু অনিয়ম রয়েছে এগুলো নিয়মে আনার জন্য মালিক সমিতির নয়টি টিমসহ বিআরটিএ কাজ করছে। কিছু কিছু গাড়ি এখনও কন্টাকে চলে, ট্রিপ ভিত্তিতে চলে। এর পরিমাণ আগের চেয়ে কমে এসেছে। বাকিগুলো নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা কাজ করছি।’

ঢাকা শহরে পরিবহন ব্যবসা লাভজনক নয় উল্লেখ করে এনায়েত বলেন, ‘এই কারণে দিনে দিনে ঢাকায় গণপরিবহনের সংখ্যা কমছে অনেকেই আগে একটা গাড়ি কিনেছিলেন, সেটার কোনো রকমে লোন শোধ করেছেন, তাই এখন সেটা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ঢাকায় রাস্তা অনুপাতে গাড়ির সংখ্যা বেশি, কিন্তু যাত্রী অনুপাত গাড়ির সংখ্যা কম।’

বাসের বিভিন্ন সার্ভিস বন্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরের বিভিন্ন সিটিং সার্ভিস, গেটলক সার্ভিস, ওয়েবিল বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত আমার একার ছিল না, সবগুলো মালিককে নিয়ে সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে। এটা কার্যকর করা হবে। এসব সার্ভিস অনেকাংশে কমে এসেছে।’

আরও পড়ুন:
নিজেকে মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা জান্তাপ্রধানের
মিয়ানমারের জাতীয় নির্বাচনের ফল বাতিল জান্তা সরকারের
করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যে মিয়ানমারে চিকিৎসক গ্রেপ্তার
মিয়ানমারে ৫ মাসে ৭৫ শিশু হত্যা, আটক ১০০০: জাতিসংঘ
ভিক্ষু থেকে অস্ত্র হাতে জান্তার বিরুদ্ধে লড়াই

শেয়ার করুন