দলিত শিশুকে ‘ধর্ষণ-হত্যায়’ উত্তাল দিল্লি

দলিত শিশুকে ‘ধর্ষণ-হত্যায়’ উত্তাল দিল্লি

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বুধবার দলিত শিশুর বাড়িতে গিয়ে কথা বলেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। ছবি: সংগৃহীত

শিশুর মা সুনীতা দেবী অভিযোগ করেন, তাদের সম্মতি ছাড়াই পুরাতন নাঙ্গল শ্মশানে শিশুকে দাহ করা হয়। ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা আড়াল করতেই এ কাজ করেছেন অপরাধীরা।

নয় বছরের এক দলিত শিশুকে ‘ধর্ষণ ও খুনের’ ঘটনায় উত্তাল ভারতের রাজধানী শহর দিল্লি।

এ ঘটনায় জনতার বিক্ষোভ ও প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন রাজনৈতিক নেতারা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে প্রতিক্রিয়া।

দিল্লি ক‌্যান্টনমেন্টের পুরাতন নাঙ্গল এলাকার ৯ বছর বয়সী এক দলিত শিশুকে ধর্ষণ করে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে। রোববার সন্ধ্যার এ ঘটনায় তিন দিন ধরে চলছে প্রতিবাদ। ক্ষোভের দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে দিল্লির অলিগলিতে। সরকার ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে বিস্তর প্রশ্ন।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বুধবার সকালে ছুটে গেছেন ওই শিশুর বাড়িতে। ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তিনি দলিত পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।

শিশুর অভিভাবকদের সঙ্গে কথার বলার পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী।

তিনি বলেন, ‘আমি নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা ন্যায়বিচার চান; সেটা পাচ্ছেন না। ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে আমরা তাদের সাহায্য করব।’

বিচার না পাওয়া পর্যন্ত পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দেন রাহুল।

মর্মান্তিক এই ঘটনায় মঙ্গলবারও নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান কংগ্রেসের এ নেতা। তিনি টুইট করে শিশুটিকে ‘দেশের মেয়ে’ বলে অভিহিত করে প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করেন।

যে ঘটনায় বিক্ষোভ

দিল্লি ক‌্যান্টনমেন্টের পুরাতন নাঙ্গল এলাকায় বসবাস এক দলিত পরিবারের। রোববার বিকেল পাঁচটা নাগাদ এ পরিবারের ৯ বছর বয়সী শিশু মায়ের অনুমতি নিয়েই ঠান্ডা পানি নিতে পাশের শ্মশান চত্বরে যায়। সেখানকার কুলার মেশিন থেকে পানি নিয়ে শিশুটি আর বাড়ি ফেরেনি।

সন্ধ্যা ছয়টার দিকে শ্মশানের পুরোহিত রাধে শ্যাম কয়েকজনকে নিয়ে পৌঁছান শিশুর বাড়িতে। তিনি শিশুর বাবা-মাকে জানান, কুলারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে শিশুটি। তার বাম হাতের কবজি ও কনুইয়ের অংশ পুড়ে গেছে। নীল হয়ে গেছে ঠোঁটসহ শরীরের একাংশ।

শিশুর মা পুলিশকে ফোন করতে চাইলে বাধা দেয়া হয়। পুরোহিত তখন জানান, পুলিশ জানলে মামলা হবে। ময়নাতদন্তের সময় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চুরি হয়ে যাওয়ার শঙ্কার কথাও বলা হয়।

শিশুর মা সুনীতা দেবী অভিযোগ করেন, তাদের সম্মতি ছাড়াই পুরাতন নাঙ্গল শ্মশানে শিশুকে দাহ করা হয়। ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা আড়াল করতেই এ কাজ করেছেন অপরাধীরা।

ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর দেয়া হয় পুলিশে। শ্মশান ঘেরাও করেন স্থানীয় লোকজন।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত পুরোহিত রাধে শ্যাম ছাড়াও কুলদীপ কুমার, লক্ষ্মী নারাইন ও মহম্মদ সেলিম নামে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

আলোচিত এ ঘটনায় দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি নারী কমিশনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত শুরু হয়েছে।

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ২০১২ সালে চলন্ত বাসে নির্ভয়া নামের তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যাচেষ্টা করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নির্ভয়ার মৃত্যু হয়।

সে সময়ে নির্ভয়াকাণ্ডের প্রতিবাদে মাঠে নামে হাজার হাজার মানুষ। রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন শামিল হয় জোরালো এ প্রতিবাদে। বিচার শেষে নির্ভয়া হত্যা মামলার চার আসামির এরই মধ্যে ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।

নির্ভয়া হত্যার মতোই দলিত শিশু হত্যার এ ঘটনায় আবার উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী।

সরকারবিরোধীরা মাঠে

শুধু কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী নন, দিল্লির এ ঘটনায় টুইটারে সরব তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

তিনি বলেন, ‘একটি নয় বছরের মেয়েকে ধর্ষণের পর জোর করে দাহ করা হয়েছে। এ দেশের তফসিলি মেয়েদের প্রতিদিন যে ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তাতে বোঝা যায় আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সত্যিই কতটা অসংবেদনশীল।’

অন্যদিকে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, তিনি শিশুটির পরিবারের সঙ্গে দেখা করে আইনি লড়াইয়ে সাহায্য করবেন।

এরই মধ্যে দলিত নেতা তথা ভিম সেনার প্রধান শেখর আজাদ মেয়েটির পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন। নাঙ্গাল গ্রামের আন্দোলনে তিনি যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে আজাদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সকলেই এখানে থাকেন। তবুও নারী সুরক্ষা নেই কেন? এখন পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী দেখা করতে আসেননি কেন?’

আরও পড়ুন:
দিল্লিতে নয় বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ
ধর্ষণ মামলায় সৎবাবা কারাগারে
মরদেহ উদ্ধারের ৫ মাস পর শিশুকে ধর্ষণের আলামত
মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে কারাগারে 
ফোনে ডেকে নিয়ে কিশোরীকে ‘ধর্ষণ’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বাগেরহাটে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২১

বাগেরহাটে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২১

বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম আজিজুর ইসলাম বলেন, ‘জুমার নামাজ শুরুর আগে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে নামাজ শেষে তারা সংঘর্ষে জড়ান। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বাগেরহাট সদর উপজেলার বিষ্ণপুর ইউনিয়নে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২১ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শেখরা গ্রামে শুক্রবার বেলা দেড়টার দিকে এ সংঘর্ষ হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম আজিজুর ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘জুমার নামাজ শুরুর আগে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে নামাজ শেষে তারা সংঘর্ষে জড়ান। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

স্থানীয়রা জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জয় পেতে চলতি মাসের শুরুতে গ্রামের মসজিদে দোয়ার ব্যবস্থা করেন ইউপি সদস্য প্রার্থী আব্দুল লতিফ। ইমাম নামাজ শেষে দোয়া করেন।

কিন্তু ২০ সেপ্টেম্বর নির্বাচনে জয় পেয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন আনিসুর রহমান।

শুক্রবার জুমার নামাজের আগে আনিসুর রহমানের সমর্থক ফারুক মসজিদের ইমামকে ওই দিন দোয়া করার বিষয়ে ব্যাখ্যা চান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন আব্দুল লতিফের সমর্থক বাবুল ফকির। একপর্যায়ে তারা তর্কে জড়ান। পরে নামাজ শেষে দুই পক্ষ ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

এ বিষয়ে আব্দুল লতিফ জানান, আমাদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছেন আনিসুরের লোকজন। তাদের হামলায় আমার ১৩ জন সমর্থক আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে বাবুল ফকিরের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে খুলনা মেডিক্যাল কজেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আনিসুর রহমান বলেন, ‘মসজিদের মধ্যে বাবুল ফকির, কামরুল ইশারাত শেখসহ বেশ কয়েকজন আমার লোকজনের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তখন দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়।’

আরও পড়ুন:
দিল্লিতে নয় বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ
ধর্ষণ মামলায় সৎবাবা কারাগারে
মরদেহ উদ্ধারের ৫ মাস পর শিশুকে ধর্ষণের আলামত
মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে কারাগারে 
ফোনে ডেকে নিয়ে কিশোরীকে ‘ধর্ষণ’

শেয়ার করুন

উল্টো পাশ দিয়ে আসা বাইকের ধাক্কায় নারীর মৃত্যু

উল্টো পাশ দিয়ে আসা বাইকের ধাক্কায় নারীর মৃত্যু

উল্টো দিক থেকে আসা বাইকের ধাক্কায় নিহতের ছেলের আহাজারি। ছবি: নিউজবাংলা

নিহতের ছেলে মিলন জানান, বাইকের ধাক্কায় ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হলে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে তার মাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সন্ধ্যা ৬টার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।  

রাজধানীর দনিয়ায় রাস্তা পার হওয়ার সময় উল্টো দিক থেকে হঠাৎ আসা একটি মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক নারী পথচারী নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম মহিফুল বেগম। তার বয়স ৬৫।

নিহতের ছেলে মিলন জানান, বাইকের ধাক্কায় ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হলে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে তার মাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সন্ধ্যা ৬টার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, ‘এ ঘটনায় মোটরসাইকেল জব্দ ও চালককে আটক করেছে পুলিশ।’

মিলন জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি ভোলার লালমোহন উপজেলার কালা মোল্লা গ্রামে। তারা ধনিয়ার বেলতলায় পরিবার নিয়ে থাকেন।

তিনি বলেন, ‘আমার মা সঠিক রাস্তাতেই ছিল। কিন্তু বাইক উল্টো দিক থেকে এসে ধাক্কা দিয়েছে। আমি মায়ের হত্যাকারীর বিচার চাই।’

আরও পড়ুন:
দিল্লিতে নয় বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ
ধর্ষণ মামলায় সৎবাবা কারাগারে
মরদেহ উদ্ধারের ৫ মাস পর শিশুকে ধর্ষণের আলামত
মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে কারাগারে 
ফোনে ডেকে নিয়ে কিশোরীকে ‘ধর্ষণ’

শেয়ার করুন

ট্রেনের ধাক্কায় কুড়িলে নিরাপত্তাকর্মী নিহত

ট্রেনের ধাক্কায় কুড়িলে নিরাপত্তাকর্মী নিহত

ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত নিরাপত্তাকর্মীর মরদেহ। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকা রেলওয়ে থানার বিমানবন্দর পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সাকলাইন জানান, কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় কমলাপুরগামী একটি ট্রেন তাকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান বারেক। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় আব্দুল বারেক নামের একজন নিহত হয়েছেন। তিনি বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

শুক্রবার সকালের দিকে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

ঢাকা রেলওয়ে থানার বিমানবন্দর পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সাকলাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় কমলাপুরগামী একটি ট্রেন তাকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান বারেক। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, নিহতের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোণার দুর্গাপুর থানার পাইকপাড়া গ্রামে।

তিনি গুলশান টেকপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। গুলশান এলাকার একটি বাসায় নিরাপত্তাকর্মীর কাজ করতেন তিনি।

আরও পড়ুন:
দিল্লিতে নয় বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ
ধর্ষণ মামলায় সৎবাবা কারাগারে
মরদেহ উদ্ধারের ৫ মাস পর শিশুকে ধর্ষণের আলামত
মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে কারাগারে 
ফোনে ডেকে নিয়ে কিশোরীকে ‘ধর্ষণ’

শেয়ার করুন

বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা দেশকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে: খাদ্যমন্ত্রী

বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা দেশকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে: খাদ্যমন্ত্রী

মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের স্বার্থে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার বিকল্প নেই। সমাজ ও রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে সংবাদ পরিবেশনের সময় সাংবাদিকদের সতর্ক থাকতে হবে। তাদের ভুলের জন্য কেউ যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সে দিকটা খেয়াল রাখতে হবে।’

বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা দেশকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

নওগাঁয় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ- (পিআইবি) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘দেশের স্বার্থে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার বিকল্প নেই। সমাজ ও রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে সংবাদ পরিবেশনের সময় সাংবাদিকদের সতর্ক থাকতে হবে। তাদের ভুলের জন্য কেউ যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সে দিকটা খেয়াল রাখতে হবে।’

মাদকের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, ‘মাদক কারবারি ও সেবীদের পক্ষে কেউ সুপারিশ করতে এলে সেই মামলার চার্জশিটে সেই ব্যক্তির নাম যোগ করে দেবেন। তা সেই দলেরই লোক হোক না কেন। এক্ষেত্রে কোনো তদবির চলবে না।’

এসময় জেলা প্রশাসক হারুন-অর-রশীদ, পিআইবির পরিচালক (প্রশাসন) আফরাজুর রহমান, প্রশিক্ষক পারভীন সুলতানা, নওগাঁ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ওহিদুল ইসলাম এবং সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

পরে খাদ্য মন্ত্রী প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া ৩৫ সাংবাদিকের হাতে সনদ তুলে দেন।

আরও পড়ুন:
দিল্লিতে নয় বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ
ধর্ষণ মামলায় সৎবাবা কারাগারে
মরদেহ উদ্ধারের ৫ মাস পর শিশুকে ধর্ষণের আলামত
মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে কারাগারে 
ফোনে ডেকে নিয়ে কিশোরীকে ‘ধর্ষণ’

শেয়ার করুন

মহেশপুর সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার ১১

মহেশপুর সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার ১১

খালিশপুর ৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম খান জানান, অবৈধভাবে ভারত যাওয়া কিছু বাংলাদেশি আবার দেশে ফিরছে এমন সংবাদ পেয়ে সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে আবার বাংলাদেশে ফেরার সময় ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত থেকে শিশুসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড় বিওপির মুন্ডুমালা গ্রাম থেকে শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ১১ জনের মধ্যে ১ জন শিশু, ৪ জন নারী ও ৬ জন পুরুষ। তাদের বাড়ি ঢাকা, গোপালগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, নড়াইল, চট্টগ্রাম, সাতক্ষীরা ও যশোরের বিভিন্ন উপজেলায়।

খালিশপুর ৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম খান নিউজবাংলাকে জানান, অবৈধভাবে ভারত যাওয়া কিছু বাংলাদেশি আবার দেশে ফিরছে এমন সংবাদ পেয়ে সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে তাদের আটক করা হয়।

আটক ১১ জনকে মহেশপুর থানায় হস্তান্তর করে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
দিল্লিতে নয় বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ
ধর্ষণ মামলায় সৎবাবা কারাগারে
মরদেহ উদ্ধারের ৫ মাস পর শিশুকে ধর্ষণের আলামত
মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে কারাগারে 
ফোনে ডেকে নিয়ে কিশোরীকে ‘ধর্ষণ’

শেয়ার করুন

কোন্দল সমাধান করুন, নেতাদের কাদের

কোন্দল সমাধান করুন, নেতাদের কাদের

আওয়ামী লীগের নেতারা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ফাইল ছবি

মতভেদ ভুলে দলকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘দলের অভ্যন্তরে কলহ-কোন্দল থাকলে নিজেরা বসে সমাধান করুন। কিন্তু নিজের ঘরের কথা, চা দোকানে বসে বসে যদি দলের গীবত করেন, অপপ্রচার করেন, এক নেতা আরেক নেতার বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন এতে দলের সুনাম নষ্ট হবে।’

আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে কলহ-কোন্দল থাকলে তা নিরসনে দলীয় নেতাদের আলোচনার মাধ্যমে সমাধান বের করার আহ্বান জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ঢাকার সরকারি বাসভবন থেকে শুক্রবার আওয়ামী লীগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর শাখার ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন তিনি।

মতভেদ ভুলে দলকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘দলের অভ্যন্তরে কলহ-কোন্দল থাকলে নিজেরা বসে সমাধান করুন। কিন্তু নিজের ঘরের কথা, চা দোকানে বসে বসে যদি দলের গীবত করেন, অপপ্রচার করেন, এক নেতা আরেক নেতার বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন এতে দলের সুনাম নষ্ট হবে।’

আওয়ামী লীগের প্রতিটি পর্যায়ের কাউন্সিলে ত্যাগী ও দুঃসময়ের কর্মীদের নেতৃত্বে আনতে নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বলেছেন, দল বিপদে পড়লে ‘বসন্তের কোকিলরা’ পাশে থাকবে না, থাকবে দুঃসময়ের কর্মীরা। তাই তাদেরকেই সামনে দেখতে চান কাদের।

অপকর্ম, লুটপাটের সঙ্গে জড়িত জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক করে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে সেই জনপ্রতিনিধিরা আওয়ামী লীগের কোনো পর্যায়ের মনোনয়ন পাবে না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজকে আমি অনুরোধ করব, দল প্রধানের নির্দেশনা মেনে চলতে। মনে রাখতে হবে নিজের অবস্থান ভারী করার জন্য নিজের লোক দিয়ে পকেট কমিটি গঠন করা যাবে না। দলকে শক্তিশালী করতে হলে ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের এগিয়ে আনতে হবে। দুঃসময়ে তারাই দলের পাশে থাকে।’

সুসময়ে বন্ধুরা প্রকৃত বন্ধু নয় জানিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দুঃসময়ের কর্মীরাই দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করে। আবার যখন দুঃসময় আসবে এই ত্যাগী কর্মীরাই দলের সঙ্গে থাকবে। এখন যারা বসন্তের কোকিল এরা তখন দলে থাকবে না। হাজার পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না।’

দলকে সুসংগঠিত করতে হবে জানিয়ে কাদের বলেন, ‘চিহ্নিত অপরাধী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, দখলদার, মাদকসেবী, মাদক ব্যবসায়ী, সাম্প্রদায়িক অপশক্তি, অনুপ্রবেশকারী, বিতর্কিত ব্যক্তিদের দলে টানা যাবে না।’

নিজের পছন্দের লোকদের নেতা বানানো যাবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘জনগণের পছন্দের ব্যক্তিকে নেতা বানাতে হবে। তা না হলে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। যে নেতা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়, আমাদের কিছু নেতার কাছে গ্রহণযোগ্য, তারা কোনোদিনও দলের পারপাস সার্ভ করতে পারবে না।’

জনপ্রতিনিধিদেরও সতর্ক করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই নেতা। তিনি বলেন, ‘যেসব জনপ্রতিনিধিরা অপকর্ম করছেন, লুটপাট করছেন, বেপরোয়া আচরণ করছেন, আগামী নির্বাচনে সেই জনপ্রতিনিধিরা আওয়ামী লীগের কোনো পর্যায়ের নমিনেশন পাবেন না।’

এসময় বিএনপির রাজনীতির সমালোচনা করেন এই রাজনীতিক। বলেন, শেখ হাসিনার লক্ষ্য এদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন আর বিএনপির লক্ষ্য নিজেদের পকেটের উন্নয়ন।

বিএনপির হাতে দেশের গণতন্ত্র নিরাপদ নয় মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তারা দেশের জন্য রাজনীতি করে না, তারা রাজনীতি করে লুটপাটের জন্য।’

যারা নিজেদের নেত্রীর জন্য একটা কার্যকরী মিছিল করতে পারে না, তাদের মুখে আন্দোলনের কথা মানায় না বলেও মন্তব্য করতে ছাড়েননি কাদের। তিনি বলেন, ‘বিএনপির সিরিজ বৈঠক হচ্ছে সিরিজ ষড়যন্ত্রের অংশ।’

জনগণ বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে বলেই তারা নির্বাচনকে ভয় পায় বলে মনে করেন কাদের। বলেন, ‘তাই নির্বাচন নিয়ে বিএনপি অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
দিল্লিতে নয় বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ
ধর্ষণ মামলায় সৎবাবা কারাগারে
মরদেহ উদ্ধারের ৫ মাস পর শিশুকে ধর্ষণের আলামত
মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে কারাগারে 
ফোনে ডেকে নিয়ে কিশোরীকে ‘ধর্ষণ’

শেয়ার করুন

দল গুছিয়ে মাঠ দখলে রাখবে আওয়ামী লীগ

দল গুছিয়ে মাঠ দখলে রাখবে আওয়ামী লীগ

বাসে অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে রাজধানীতে আওয়ামী লীগের প্রতিবাদ মিছিল। ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির বৈঠক ও আন্দোলনকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না দলটি। তবে একটি সতর্ক অবস্থান বজায় রাখতে চায় তারা। আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন, নিজ দল শক্তিশালী হলে বিএনপি আন্দোলন করে বেশি দূর যেতে পারবে না।

বিএনপির আন্দোলনের পরিকল্পনাকে তেমন একটা পাত্তা দিচ্ছে না আওয়ামী লীগ। তবে আগামী নির্বাচনের আগে দল পুনর্গঠনের কাজ আরও বাড়িয়ে রাজনীতির মাঠ দখলে রাখতে চায় ক্ষমতাসীন দল।

আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, রাজনীতির মাঠ দখলে থাকলে বিএনপির আন্দোলন মোকাবিলা করা কঠিন কোনো বিষয় হবে না। তবে জনগণের সম্পদের ওপর কোনো হামলা এলে দল হিসেবে আওয়ামী লীগও পাল্টা জবাব দেবে। আর বিএনপি গুজব ছড়ালে তা প্রতিরোধ করা হবে বলে বলছেন দলটির নেতারা।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে তৃণমূল থেকে দল গোছানোর কাজে আরও মনোযোগ দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। সেই উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির বৈঠক ও আন্দোলনকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না দলটি। তবে একটি সতর্ক অবস্থান বজায় রাখতে চায় তারা। আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন, নিজ দল শক্তিশালী হলে বিএনপি আন্দোলন করে বেশি দূর যেতে পারবে না।

আওয়ামী লীগের তৃণমূলে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে দলের তরুণ নেতাদের নেতৃত্বে আনতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। এ ছাড়া দলের যারা ত্যাগী নেতা, তাদের নেতৃত্বে আনতে চায় দলটি।

এরই মধ্যে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের সম্ভাব্য আন্দোলন মোকাবিলায় দলকে প্রস্তুত করতে তৃণমূল গোছাতে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনায় সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্তরা কাজে নেমে পড়েছেন। আট বিভাগের জন্য আটটি সাংগঠনিক দল আরও সক্রিয় হচ্ছে। পাশাপাশি অনলাইনে গুজব ও অপপ্রচার মোকাবিলায় ১ লাখ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টকে প্রশিক্ষণের আওতায় এনেছে দলটি। ইস্যু তৈরি করে জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনো অপশক্তি আন্দোলনের চেষ্টা করলে রাজপথেই তার জাবাব দিতেও প্রস্তুত আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিএনপি তো সব সময়ই আন্দোলনের কথা বলে, মুখে মুখে আন্দোলনের কথা বলে আর মিথ্যার আশ্রয় নেয়। কিন্তু তারা এখনও আন্দোলন করতে পারেনি।’

তাহলে বিএনপির আন্দোলনে আওয়ামী লীগ কী করবে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিএনপির আন্দোলন নিয়ে আমরা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন তৎপর আছি। আমরা মূলত জনগণকে সচেতন করব।

‘আমরা মূলত তিনটা কাজ করব। সেগুলো হলো: বিএনপি যদি জ্বালাও-পোড়াও করে, তাহলে দলের নেতা-কর্মীরা তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তুলে দেবে। আর গুজব রটালে তাদের বিষয়ে আমরা জনগণকে সচেতন করব। তাদের মিথ্যা কোনো তথ্যের বিষয়ে আমাদের নেতা-কর্মীরা সচেতন থাকবে। তৃতীয়ত, তাদের যেকোনো অসত্য বক্তব্যের বিষয় জনগণ যাতে বিভ্রান্ত না হয়, সে বিষয়ে আমরা অবশ্যই কাউন্টার দেব।’

বিএনপির নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপির কাছে পৃথিবীর সকল নির্বাচন নিরপেক্ষ, যদি তারা যেত। বিএনপি নেত্রী ১৯৯৬ সালে বলেছিলেন, শিশু আর পাগল ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নয়। আসলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এই যে কনসেপ্ট, এটা ধ্বংস করেছে বিএনপি। সুতরাং এ ইস্যুতে রাজনীতির মাঠ গরম হতে দেয়া হবে না।’

গত শনিবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এই মুহূর্তে দেশে বিএনপির কথিত আন্দোলনের অবজেক্টিভ কোনো অবস্থা নেই। করোনাভাইরাসের অভিঘাত মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি দেশের মানুষ এখন নিজের অবস্থান উন্নয়নে প্রাণান্ত প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। এ সময় গণ-অভ্যুত্থানের দিবাস্বপ্নে বিভোর বিএনপি। দলটি ভাবছে, আন্দোলনের ডাক দিলেই মানুষ হুড়মুড় করে বেরিয়ে আসবে। প্রকৃতপক্ষে এসব তাদের আকাশ-কুসুম ভাবনা। বিএনপি নেতারা যা বলছেন, নিজেরাও সেটি বিশ্বাস করেন না।’

বিএনপির আন্দোলনকে ‘হাঁকডাক’ হিসেবে উল্লেখ করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমও। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে তো মোকাবিলা করার দরকার নেই। তারা তো সব সময় হাঁকডাকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, যাদের ওপর জনগণের আস্থা নেই। তারা কীভাবে আন্দোলন করবে? তারা ওয়েবিনার আর ভার্চুয়ালি সীমাবদ্ধ থাকবে? আমরা তাদের নিয়ে এত ভাবছি না। আমরা ভাবছি, কীভাবে আওয়ামী লীগকে আরও শক্তিশালী করা যায়, কীভাবে তৃণমূলে দলকে আরও জনপ্রিয় করা যায়। এ জন্যই আমরা কাজ করছি।’

বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপি তো শুক্রবার-শনিবার প্রতিদিনই আন্দোলন করছে। তারপরও যদি তারা বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করে, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা প্রতিহত করবে। আর জনগণের ওপর আঘাত আসলে তো আমরা বসে থাকব না।’

আগামী দিনে দলের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেয়া হবে, তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে যে বিষয়গুলো নিয়ে নেত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, তা নিয়েই আমরা কাজ করে যাব। এ বিষয়গুলো নিয়ে গত শনিবার (১৪ই সেপ্টেম্বর) দলের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকেও আলোচনা হয়েছে।

‘করোনার কারণে দলীয় কার্যক্রমে যে ভাটা পড়েছিল, তা এখন আমাদের পূরণ করতে হবে। এ ছাড়া উপজেলা ও জেলা কমিটিগুলোতে যারা বিতর্কিত, তাদের বাদ দিতে আমরা কাজ শুরু করেছি। দলের মধ্য থেকে যারা দুর্নীতিমূলক কাজ করছে, তাদের বাদ নিয়ে স্বচ্ছ ব্যক্তিত্বের মানুষগুলোকে আমরা সামনে নিয়ে আসতে চাই। দলের যারা অপেক্ষাকৃত তরুণ, তাদের নেতৃত্বের সুযোগ করে দেয়া হবে।’

আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে যাতে গুজব প্রতিরোধ করা যায়, সে বিষয়ে দলকে তৎপর থাকতে বলা হয়েছে। দেশে ও বিদেশে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এটা প্রতিরোধে দল কাজ করছে। এর বিরুদ্ধে দলীয় নেতা-কর্মীদের তথ্যপ্রমাণসহ জবাব দিতে নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব-অপপ্রচারের জবাব দিতে এক লাখ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টের সমন্বয়ে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ করছে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপকমিটি।’

আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সবুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী তত বেশি গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানোর চেষ্টা করবে। এটা সঠিক। কিন্তু সেটা আমাদের বিবেচ্য বিষয় নয়। আমরা আমাদের নেতা-কর্মীদের তৈরি করছি, যাতে কোনো তথ্য সন্ত্রাস হলে তারা তৈরি থাকতে পারে। সেই সঙ্গে দলের নেতা-কর্মীরা যাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন নিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারে।’

গুজব প্রতিরোধে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপকমিটি কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসলে এটা আমাদের কাজেরই একটা অংশ। আমরা দলীয় নেতা-কর্মীদের শেখাচ্ছি যে, কোনো ফেক নিউজ হলে নেতা-কর্মীরা কীভাবে দ্রুত সে বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাজ করবে, যাতে দলের নেতা-কর্মীরা সর্বশেষ আপডেট দিতে পারেন।’

আরও পড়ুন:
দিল্লিতে নয় বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ
ধর্ষণ মামলায় সৎবাবা কারাগারে
মরদেহ উদ্ধারের ৫ মাস পর শিশুকে ধর্ষণের আলামত
মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে কারাগারে 
ফোনে ডেকে নিয়ে কিশোরীকে ‘ধর্ষণ’

শেয়ার করুন