পশ্চিমবঙ্গে বন্যায় ১৬ জনের মৃত্যু

পশ্চিমবঙ্গে বন্যায় ১৬ জনের মৃত্যু

পশ্চিমে বাঁকুড়া থেকে পূর্বে হাওড়া-- সর্বত্র বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে নদী। ভেসে গেছে অসংখ্য গ্রাম। ছবি: সংগৃহীত

মুখ্যমন্ত্রী মমতা মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বলেন, ‘নিজের জেলায় বানভাসিদের পাশে থেকে কাজ করুন। ত্রাণ যেন সময়মতো পৌঁছে দেয়া হয়, সেটা দেখুন। সমস্যা হলে ত্রাণমন্ত্রী জাভেদ খান ও পানিসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী মানস ভুঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।’ এ ছাড়া মৃতদের পরিবারপ্রতি এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মমতা।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে নিম্নচাপের কারণে অতিবৃষ্টিতে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। দেয়াল ভেঙে ও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মৃতদের পরিবারপ্রতি লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।

সোমবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজ্যের বন্যায় মৃতদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত দুর্গতদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণ তুলে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন অন্য মন্ত্রীদের বলেন, ‘নিজের জেলায় বানভাসিদের পাশে থেকে কাজ করুন। ত্রাণ যেন সময়মতো পৌঁছে দেয়া হয়, সেটা দেখুন। সমস্যা হলে ত্রাণমন্ত্রী জাভেদ খান ও পানিসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী মানস ভুঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।’

বৃষ্টি কিছুটা কমলেও বন্যা নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা দামোদর ভ্যালি করপোরেশনের (ডিভিসি) একাধিক জলাধার থেকে পানি ছাড়ার ফলে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ডিভিসির পাঞ্চেত ও মাইথন জলাধার থেকে প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ কিউসেক পানি ছাড়ার ফলে দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে দেড় লাখ কিউসেক পানি ছাড়তে হচ্ছে। ফলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বিপদের আশঙ্কায় ৩৯ হাজার ৩৮০ জনকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তাদের রাজ্যে তৈরি ৩৫০টি ত্রাণশিবিরে রাখা হয়েছে।

সোমবার হাওড়ার আমতা ও উদয় নারায়ণপুরের ১৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা সম্পূর্ণ পানির তলায় চলে যায়। এই দুটি ব্লকের আড়াই লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। উদ্ধারকাজ শুরু করেছে সরকার। রূপনারায়ণ ও মুন্ডেশ্বরী নদীতে পানির স্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় খানাকুলের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।

এখানকার পানিবন্দি ৩০ জনকে বিমানবাহিনীর হেলকপ্টার উদ্ধার করেছে। কংসাবতী ব্যারাজ থেকে পানি ছাড়ায় পাঁশকুড়া রানিহাটি এলাকার নদী বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে।

সোমবার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, দুই বর্ধমানের বন্যা পরিস্থিতি দেখতে যান রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় এবং সেচমন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র।

অন্য মন্ত্রীদের বন্যা পরিস্থিতির ওপর নজরদারি করার নির্দেশ দেয়ার পাশাপাশি নিজেও বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে যাবেন বলে সোমবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হেলিকপ্টারে দুর্গতদের সাহায্যের সঙ্গে ড্রোন উড়িয়ে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে প্রশাসন।

মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘ঘাটালে অনেকবার বন্যা পরিস্থিতি দেখতে এসেছি। এবার দেখছি ১৯৭৮ সালের চেয়েও অনেক বেশি ভয়াবহ। এ রকম পরিস্থিতি আগে কখনও দেখেনি।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

হাওড়ায় ভারতের গভীরতম মেট্রো স্টেশন

হাওড়ায় ভারতের গভীরতম মেট্রো স্টেশন

ভৃপৃষ্ঠ থেকে হাওড়া মেট্রো স্টেশনের গভীরতা ৩২ দশমিক ৪ মিটার। ছবি: সংগৃহীত

ভূমি থেকে ১০৫ ফুট নিচে এ স্টেশনে যেতে চারটি লেভেল, পাঁচটি স্ল্যাব পার হতে হবে। সিঁড়ি দিয়ে চলতে যাদের অসুবিধা, তাদের জন্য রয়েছে ১২টি চলন্ত সিঁড়ি বা অ্যাসকেলেটর। তা ছাড়া থাকছে ছয়টি লিফট।

ভারতে এত দিন সবচেয়ে গভীর মেট্রোরেল স্টেশন ছিল দিল্লির হাউস খাস। ভূপৃষ্ঠ থেকে স্টেশনটির গভীরতা ৩০ মিটার।

পশ্চিমবঙ্গে নির্মাণাধীন হাওড়া মেট্রো স্টেশন গভীরতায় দিল্লির স্টেশনটিকে ছাড়িয়ে গেছে। ভারতের সবচেয়ে গভীর এ মেট্রোরেল স্টেশনে চড়তে ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩২ দশমিক ৪ মিটার নিচে নামতে হবে যাত্রীদের।

এক মিনিটে হাওড়া থেকে ধর্মতলা

হুগলি নদীর ৩০ মিটার গভীরে ৫২০ মিটারের দুটি টানেল দিয়ে চলবে হাওড়া মেট্রো। টানেলের এক প্রান্তে হাওড়া, অন্য প্রান্তে মহাকরণ।

ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে নদীর তলা দিয়ে ছুটবে এ ট্রেন। হাওড়া থেকে ধর্মতলা পৌঁছতে সময় লাগবে ১ মিনিট।

হাওড়া মেট্রো স্টেশনকে ‘দ্য ডিপেস্ট সাবওয়ে স্টেশন’ (গভীরতম পাতাল রেল) বলেছে ভারতের রেল বোর্ড। এ স্টেশনে ট্রেন চালু হওয়ার সম্ভাবনা ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে। জোর কদমে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

রেলওয়ে সূত্রের খবর, হাওড়া মেট্রো স্টেশন গঠনের কাজ শেষ হয়েছে। চলছে ফিনিশিং টাচ।

কী আছে স্টেশনে

ভূমি থেকে ১০৫ ফুট নিচে এ স্টেশনে যেতে চারটি লেভেল, পাঁচটি স্ল্যাব পার হতে হবে। সিঁড়ি দিয়ে চলতে যাদের অসুবিধা, তাদের জন্য রয়েছে ১২টি চলন্ত সিঁড়ি বা অ্যাসকেলেটর। তা ছাড়া থাকছে ছয়টি লিফট।

হাওড়ায় ভারতের গভীরতম মেট্রো স্টেশন

স্টেশনে থাকছে তিনটি প্ল্যাটফর্ম। হাওড়া ময়দান স্টেশন বা মহাকরণ, যেদিক দিয়ে ট্রেন আসুক না কেন, হাওড়া মেট্রো স্টেশনে রেকের দুই দিকের দরজা খুলে যাবে। যাত্রী চাপ সামলাতে এ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

দেশের ব্যস্ততম হওয়ায় কলকাতা মেট্রোর ইস্ট-ওয়েস্টে হাওড়া স্টেশনকে ‘কী স্টেশন’ বলা হয়েছে।

‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’

ভারতে প্রথম নদীর তল দিয়ে মেট্রো চলার পদক্ষেপকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়েছিলেন দেশটির রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। সে উদ্যোগের বাস্তবায়ন দেখতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

শেয়ার করুন

পাকিস্তান থেকে যুদ্ধবিমান কিনতে চায় আর্জেন্টিনা

পাকিস্তান থেকে যুদ্ধবিমান কিনতে চায় আর্জেন্টিনা

পাকিস্তান নির্মিত যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭এ ব্লক-থ্রি। ছবি: দ্য ডন

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষাবিষয়ক একটি জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান থেকে যুদ্ধ বিমান কেনার জন্য ২০২২ অর্থবছরে ৬৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার বরাদ্দ চেয়ে একটি খসড়া বাজেট পার্লামেন্টে পাঠিয়েছে আর্জেন্টিনা সরকার।

পাকিস্তান থেকে যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭এ ব্লক-থ্রি কেনার পরিকল্পনা করছে আর্জেন্টিনা। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষাবিষয়ক একটি জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান থেকে যুদ্ধবিমান কেনার জন্য ২০২২ অর্থবছরে ৬৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার বরাদ্দ চেয়ে একটি খসড়া বাজেট পার্লামেন্টে পাঠিয়েছে আর্জেন্টিনা সরকার।

ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের কারণে অন্যান্য দেশ থেকে যুদ্ধবিমান কিনতে ব্যর্থ হওয়ার পর পাকিস্তানের কাছ থেকেই তা কেনার জন্য ভাবছে বুয়েনসআয়ার্স।

১৯৮২ সালে ফকল্যান্ডস যুদ্ধের পর থেকেই আর্জেন্টিনার ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা চলছে। ফলে যুক্তরাজ্যের বন্ধুপ্রতীম কোনো দেশ থেকে যুদ্ধাস্ত্র কেনা অনেকক্ষেত্রে সম্ভব হয় না আর্জেন্টিনার জন্য।

আর্জেন্টিনা ২০১৫ সালে সুইডেন ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে যুদ্ধবিমান কেনার চেষ্টা করেছিল। পরে উভয় দেশই যুক্তরাজ্যের চাপে বুয়েনসআয়ার্সের কাছে অস্ত্র বিক্রি থেকে পিছু হটে।

যুদ্ধ বিমান কিনতে অগত্যা পাকিস্তানমুখী হয়েছে আর্জেন্টিনা। গত এক দশকে যুদ্ধবিমানে বেশ উৎকর্ষতা দেখিয়েছে ইসলামাবাদ। এক্ষেত্রে তাদের সহায়তা করে যাচ্ছে চীন।

যুদ্ধ বিমান জেএফ-১৭এ ব্লক-থ্রি নির্মাণ করেছে পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স ও চীনের শেংডু এয়ারক্রাফট করপোরেশন। ‘জেএফ-১৭ থান্ডার’ নামে পরিচিত এই যুদ্ধ বিমান আকাশপথে পাকিস্তানকে শক্তিশালী করেছে।

এই যুদ্ধ বিমানে যুক্তরাজ্যের যন্ত্রাংশও রয়েছে। বিপজ্জনক মুহূর্তে বিমান থেকে পাইলটের বের হয়ে আসার ইজেক্টর সিটটি তৈরি করেছে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান মার্টিন বেকার।

মেরকোপ্রেস, সাউথ আটলান্টিক নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফকল্যান্ড যুদ্ধের সময় অর্ধশতের বেশি যুদ্ধবিমান হারানো, অর্থনৈতিক সংকট এবং যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার ফলে আর্জেন্টিনা বিমানবাহিনী খর্ব শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

কী আছে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭ এ?

এক ইঞ্জিনের এই যুদ্ধবিমান বিভিন্ন কাজে লাগানো যায়। এটি পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স ও চীনের শেংডু এয়ারক্রাফট করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে তৈরি করা হচ্ছে।

আকাশপথে শত্রুপক্ষের আক্রমণ রুখে দেয়া, আকাশ থেকে ভূমিতে আক্রমণ, আকাশ পথে আক্রমণ, আকাশ থেকে পর্যবেক্ষণ-নিরীক্ষা ইত্যাদি কাজে ব্যবহার করা যায় বিমান।

এই যুদ্ধবিমানের ৫৮ শতাংশই পাকিস্তান প্রযুক্তিতে তৈরি এবং ৪২ শতাংশ চীনের প্রযুক্তি। বিমানটি নির্মাণের পুরো কাজটিই হয় পাকিস্তানের মাটিতে।

শেয়ার করুন

আফগান ও বিদেশিদের নিয়ে কাবুল ছাড়ল চতুর্থ চার্টার ফ্লাইট

আফগান ও বিদেশিদের নিয়ে কাবুল ছাড়ল চতুর্থ চার্টার ফ্লাইট

বিমানটিতে ২৩৬ জন আরোহী ছিলেন। ৩১ আগস্ট আফগান ভূখণ্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোটের সেনা প্রত্যাহারের পর এই বিমানেই প্রথম একসঙ্গে এত বেশি মানুষকে কাবুল থেকে বের করে নেয়া হলো।

দেশত্যাগী আফগান ও আমেরিকান-ইউরোপিয়ানসহ ২৩০ জনের বেশি আরোহী নিয়ে কাবুল বিমানবন্দর ছেড়ে গেছে আরেকটি চার্টার ফ্লাইট। আগের তিনটি চার্টার ফ্লাইটের মতোই চতুর্থটিরও গন্তব্য কাতারের রাজধানী দোহা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রোববার কাবুল বিমানবন্দর থেকে রওনা দেয় কাতার এয়ারওয়েজের বিমানটি। আরোহীদের প্রাথমিকভাবে রাখা হবে দোহায় আগে থেকে আশ্রিত আফগান ও অন্যান্য উদ্ধারকৃতদের সঙ্গে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে কাতারের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী লোলওয়াহ রশিদ আল খাতের জানান, বিমানটিতে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি, বেলজিয়াম, আয়ারল্যান্ড, কানাডা, ফ্রান্স, ইতালি, যুক্তরাজ্য, ফিনল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের নাগরিক ছিলেন।

কাতারের আরেক কর্মকর্তা জানান, বিমানটিতে ২৩৬ জন আরোহী ছিলেন। ৩১ আগস্ট আফগান ভূখণ্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোটের সেনা প্রত্যাহারের পর এই বিমানেই প্রথম একসঙ্গে এত বেশি মানুষকে কাবুল থেকে বের করে নেয়া হলো।

তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানে স্বাধীন চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করে যাচ্ছে কাতার। একই সঙ্গে আফগানিস্তানের উন্নয়নমূলক অগ্রগতি নিশ্চিতে সেখানকার বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ চলছে।’

তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার ২৭ দিন পর গত ৯ সেপ্টেম্বর হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যায় কাতার এয়ারওয়েজের প্রথম চার্টার ফ্লাইট। সেটিতে বেশিরভাগ বিদেশিসহ ১১৩ আরোহী ছিলেন। দেশত্যাগী আফগান ও বিদেশিসহ উদ্ধারকৃতদের নিয়ে দ্বিতীয় চার্টার ফ্লাইটটি কাবুল ছাড়ে ১০ সেপ্টেম্বর।

পশ্চিমা বিশ্ব ও আফগানিস্তানের নতুন শাসকদল তালেবানের সঙ্গে মধ্যস্থতায় দীর্ঘদিন ধরেই প্রধান সহযোগীর ভূমিকা পালন করছে কাতার।

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশটি। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি কাতারে অবস্থিত। ২০১৩ সাল থেকে দেশটিতে তালেবানের একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ও চালু আছে।

শেয়ার করুন

কয়েদির পেট থেকে বের হলো মোবাইল ফোন

কয়েদির পেট থেকে বের হলো মোবাইল ফোন

কেন আর কিভাবে ওই ব্যক্তি মোবাইল ফোনটি গিলেছিলেন, তা জানা যায়নি। ছবি: গালফ নিউজ/ফেসবুক

আস্ত মোবাইল গিলে ফেলেও এন্ডোসকপির সাহায্যে পেটের ভেতর মোবাইলটির তিনটি অংশ পৃথক করা হয়। এরপর আলাদাভাবে বের করা হয়েছে অংশগুলো। দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে এ প্রক্রিয়া।

কয়েদির পেট থেকে একটি মোবাইল ফোন বের করেছেন এক চিকিৎসক। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশ কসোভোতে।

গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক দিন পেট ব্যথায় ভোগার পর গত সপ্তাহে ওই কয়েদিকে প্রিস্টিনা ইউনিভার্সিটি হসপিটাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।

ওই ব্যক্তির পেটে অস্ত্রোপচার করা চিকিৎসক জানিয়েছেন, চারদিন ধরে পাকস্থলীতে মোবাইল ফোনটি ছিল। পুরো যন্ত্রটি ওই ব্যক্তি গিলে ফেলেছিলেন।

৩৩ বছর বয়সী ওই রোগীর নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তবে সফল অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ আছেন তিনি।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলটির প্রধান স্কেন্দার তেলাকু বলেন, ‘ছোট একটা ফোন সে গিলে ফেলেছে বলে জানতে পারি আমরা। সেটা বের করেও এনেছি।

‘তবে মোবাইল ফোনটি বের করার জন্য ওই ব্যক্তির পেট কাটতে হয়নি। এন্ডোসকপির সাহায্যে পুরো প্রক্রিয়াটি সফলভাবে শেষ করা হয়েছে।’

ওই চিকিৎসক আরও জানান, আস্ত মোবাইল গিলে ফেলেও এন্ডোসকপির সাহায্যে পেটের ভেতর মোবাইলটির তিনটি অংশ পৃথক করা হয়। এরপর আলাদাভাবে বের করা হয়েছে অংশগুলো।

দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে এ প্রক্রিয়া। শেষ পর্যন্ত কোনো ধরনের জটিলতা ছাড়াই পুরো কাজটি শেষ হয়েছে।

তেলাকু বলেন, ‘আমরা সবচেয়ে বেশি চিন্তিত ছিলাম মোবাইলের ব্যাটারি নিয়ে… পেটের ভেতরের রাসায়নিক ও অ্যাসিডে ব্যাটারির অংশ ক্ষয়ে পাকস্থলীতে ঢুকে যেতে পারত।

‘অস্ত্রোপচারটি ছিল অনেকটা রাস্তায় পুঁতে রাখা অবিস্ফোরিত মাইন খুঁজে বের করার মতো জটিল। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে সব ভালোভাবেই শেষ হয়েছে।’

অস্ত্রোপচার শেষ পুলিশ রোগীকে আটক ও মোবাইল ফোনটি জব্দ করেছে। মোবাইল ফোনটির মডেল ২০০০ সালের পরের কোনো সময়ের।

কেন আর কিভাবে ওই ব্যক্তি মোবাইল ফোনটি গিলেছিলেন, তা জানা যায়নি।

চিকিৎসকদের ধারণা, ও ব্যক্তি যে কারাগারে শাস্তিভোগ করছিলেন, সেখানে লুকিয়ে মোবাইলটি ঢোকানো হয়েছিল। সম্ভবত মোবাইল ফোনটি ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি গোপনে বাইরে যোগাযোগ করতেন তিনি। কোনো এক সময়ের ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে পুলিশের নজর এড়িয়ে দ্রুত সেটি গিলে ফেলেছেন।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেনি কসোভো পুলিশ কিংবা এ বিষয়ে কিছু জানায়নি।

শেয়ার করুন

কানাডার প্রধানমন্ত্রী থাকবেন ট্রুডো?

কানাডার প্রধানমন্ত্রী থাকবেন ট্রুডো?

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। ফাইল ছবি

আগাম নির্বাচনের সিদ্ধান্ত বুমেরাং হয়ে আঘাত করতে বসেছে ট্রুডোকেই। মহামারির চতুর্থ ধাক্কা আসন্ন পরিস্থিতির মধ্যে আগাম নির্বাচনের দরকার ছিল কি না, সে প্রশ্নে তোপের মুখে ট্রুডোর ভাগ্য; যার সুযোগে গ্রহণযোগ্যতা বেড়ে গেছে প্রধান বিরোধী দলের। এ অবস্থায় এখন প্রধানমন্ত্রিত্ব বাঁচাতেই মরিয়া ট্রুডো।

দিন গড়ালেই কানাডায় শুরু হবে সাধারণ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। সোমবারের ভোটের দুই দিন আগে শনিবার টরন্টো অঞ্চলে প্রচার চালিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী এরিন ও’টুল। প্রচারের শেষ দিকে এসে দুই প্রার্থীরই উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ভোট বিভাজনের শঙ্কা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, জনমত জরিপে ক্ষমতাসীন ও প্রধান বিরোধী দলের পাশাপাশি তুলনামূলক কম জনপ্রিয় দুটি দলের প্রতি মানুষের সমর্থন বেড়েছে। দল দুটি হলো বামঘেঁষা নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) ও পপুলিস্ট বা গণমানুষের কথা বলার দাবি করা পিপলস পার্টি অফ কানাডা (পিপিসি)।

জরিপ সংস্থা সুন্দাশ লেজারের সবশেষ জরিপ বলছে, ট্রুডোর উদারপন্থি (লিবারেল পার্টি) ও টুলের রক্ষণশীলদের (কনজারভেটিভ) মধ্যে জনসমর্থনের পার্থক্য মাত্র ১ শতাংশ। ৩৩ শতাংশ সমর্থনে এগিয়ে আছে উদারপন্থিরা, ৩২ শতাংশ সমর্থন রয়েছে রক্ষণশীলদের প্রতি।

বিপরীতে এনডিপি ও পিপিসির জনসমর্থন বেড়ে যথাক্রমে ১৯ শতাংশ ও ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

এ অবস্থায় নির্বাচনে দল দুটির পরাজয় নিশ্চিত হলেও তাদের প্রাপ্ত ভোট প্রধান দুই দলের হারজিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে শঙ্কা ট্রুডো ও টুলের।

৪৯ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো এবারের নির্বাচনে জিতলে টানা তৃতীয়বার দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। বর্তমান পার্লামেন্টে তার দল সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় প্রশ্নের মুখে জনসমর্থনের প্রমাণ দিতে আগাম নির্বাচন দিয়েছেন তিনি।

কিন্তু তার এ পদক্ষেপ বুমেরাং হয়ে আঘাত করতে বসেছে ট্রুডোকেই। মহামারির চতুর্থ ধাক্কা আসন্ন পরিস্থিতির মধ্যে আগাম নির্বাচনের দরকার ছিল কি না, সে প্রশ্নে তোপের মুখে ট্রুডোর ভাগ্য; যার সুযোগে গ্রহণযোগ্যতা বেড়ে গেছে প্রধান বিরোধী দলের। এ অবস্থায় এখন প্রধানমন্ত্রিত্ব বাঁচাতেই মরিয়া ট্রুডো।

ওন্টারিওর অরোরায় ট্রুডো বলেন, ‘এনডিপি যা-ই বলুক না কেন, জনগণ কনজারভেটিভ আর লিবারেলদের মধ্য থেকেই কাউকে সরকার হিসেবে বেছে নেবে। আর আমাদের সরকার উদারপন্থি কি না, তার প্রভাব কানাডার সমাজে পড়বেই।’

৩৬ দিনের নির্বাচনী প্রচারের শেষ তিন দিনের দুই দিনই ওন্টারিওতে কেটেছে ট্রুডোর। কারণ জনমত জরিপ বলছে, ওন্টারিওতে এনডিপির ভাগ্যে কোনো আসন জুটলে ভাগ পড়বে উদারপন্থিদের আসনসংখ্যায়।

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ফল হতে পারে, আবারও জগমিৎ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন এনডিপির সঙ্গে সংখ্যালঘু সরকার গঠন করতে হতে পারে ট্রুডোর দলকে।

শনিবার প্রকাশিত আরেকটি জরিপের ফলে ট্রুডোর দল এগিয়ে ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটে, বিপরীতে রক্ষণশীলদের প্রতি সমর্থন ২৭ দশমিক ৭ শতাংশ। এই হার বজায় থাকলেও কোনো দলই একক সরকার গঠন করতে পারবে না।

৩৩৮ আসনের হাউস অফ কমন্সে একক সরকার গঠনে কমপক্ষে ১৭০টি আসনে জয় নিশ্চিত করতে হবে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলকে।

জনমত জরিপের ফলের ওপর ভিত্তি করে ট্রুডোকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এটাই তার শেষ নির্বাচন হতে যাচ্ছে কি না। তিনি বলেছেন, ‘এখনও অনেক কাজ বাকি এবং আমি সব কাজ শেষ করার ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারিনি।’

রক্ষণশীল নেতা এরিন ও’টুল শনিবারের প্রচারে ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ‘ট্রুডো তৃতীয়বার ক্ষমতায় এলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।’

পিপিসিকে একহাত নিতে লিবারেলদের প্রতি অসন্তুষ্ট ভোটারদের জন্য কনজারভেটিভই একমাত্র বিকল্প বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এনডিপি যেমন লিবারেলদের জন্য, তেমনি পিপিসি কনজারভেটিভদের ভোটে ভাগ বসাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে তুমুল প্রতিযোগিতাপূর্ণ জেলাগুলোতে পিছিয়ে যেতে পারে প্রধান দুই দল।

শেয়ার করুন

৩ মাস পর বাংলাদেশের জন্য খুলছে জাপানের দুয়ার

৩ মাস পর বাংলাদেশের জন্য খুলছে জাপানের দুয়ার

নতুন নিয়ম অনুযায়ী জাপানে পৌঁছানোর পর এবং কোয়ারেন্টিনের তৃতীয় দিনে ভ্রমণকারীদের করোনা পরীক্ষা করাতে হবে। ছবি: জাপান টাইমস

ছয়টি দেশের ওপর থেকে এসব বিধিনিষেধ প্রত্যাহারে শুক্রবার সিদ্ধান্ত নেয় টোকিও। জাপানের করোনাকালীন কোয়ারেন্টিন নীতিমালায় এর ফলে বড় ধরনের সংস্কার এলো। পরিবর্তিত নীতি অনুযায়ী ৪০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলের ভ্রমণেচ্ছুদের জাপানে পৌঁছানোর পর সরকারি ব্যবস্থায় কমপক্ষে তিন দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

করোনাভাইরাস মহামারিকালীন বিধিনিষেধের অংশ হিসেবে বাংলাদেশসহ ছয়টি দেশের ওপর জারিকৃত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে জাপান। সোমবার থেকে এসব দেশের নাগরিকরা জাপানে ঢুকতে পারবেন।

জাপান টাইমসের শনিবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের অধিক সংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের কারণে চলতি বছরের জুনে ছয়টি দেশকে কালো তালিকাভুক্ত করেছিল টোকিও। গত প্রায় তিন মাস এসব দেশের নাগরিকদের জন্য জাপান ভ্রমণ প্রায় পুরোপুরি নিষিদ্ধ ছিল।

দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তান। করোনাভাইরাসের টিকা নেয়া কিংবা জাপানে বসবাসের বৈধ অনুমতি থাকা ব্যক্তিদেরও এসব দেশ থেকে জাপানে ঢুকতে দেয়া হচ্ছিল না।

এমনকি এসব দেশ থেকে জাপানগামী বিশ্বের সব দেশের নাগরিকদের জন্য পৌঁছানোর পরের ১৪ দিন কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করা হয়।

ছয়টি দেশের ওপর থেকে এসব বিধিনিষেধ প্রত্যাহারে শুক্রবার সিদ্ধান্ত নেয় টোকিও। জাপানের করোনাকালীন কোয়ারেন্টিন নীতিমালায় এর ফলে বড় ধরনের সংস্কার এলো। পরিবর্তিত নীতি অনুযায়ী ৪০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলের ভ্রমণেচ্ছুদের জাপানে পৌঁছানোর পর সরকারি ব্যবস্থায় কমপক্ষে তিন দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

করোনাভাইরাস ও এর ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার রোধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এর আওতায় জাপানে পৌঁছানোর পর এবং কোয়ারেন্টিনের তৃতীয় দিনে ভ্রমণকারীদের করোনা পরীক্ষা করাতে হবে।

দুটি টেস্টে নেগেটিভ হলেই সেলফ-আইসোলেশন থেকে বেরিয়ে জাপানে নিজ বাড়িতে অথবা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী স্থানে বাকি ১১ দিনের কোয়ারেন্টিন সম্পন্ন করতে হবে। তারপর জাপানে উন্মুক্ত চলাচলের সুযোগ পাবেন তারা।

বাংলাদেশ ছাড়াও ৪০টি দেশের নতুন তালিকায় আছে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, আফগানিস্তান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশ।

শেয়ার করুন

সরকারি চাকরিজীবী নারীদের ঘরে থাকার আদেশ তালেবানের

সরকারি চাকরিজীবী নারীদের ঘরে থাকার আদেশ তালেবানের

কাবুলে তালেবানের বন্ধ করে দেয়া নারী মন্ত্রণালয়ের বাইরে রোববারের এ বিক্ষোভ স্থায়ী হয় মাত্র ১০ মিনিট। ছবি: এপি

এ আদেশের ফলে কত নারী চাকরিচ্যুত হবেন, তা জানা নেই বলে জানিয়েছেন কাবুলের মেয়র। তিনি বলেন, ‘কিছু কাজ আছে, যেগুলো পুরুষরা পারে না। সেসব কাজে নারী কর্মীদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হবে, কারণ এর অন্য বিকল্প নেই।’

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে নগর প্রশাসনের নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাড়িতে থাকার আদেশ দিয়েছে নতুন শাসকদল তালেবান।

কাবুলের অন্তর্বর্তী মেয়র হামদুল্লাহ নামোনি দায়িত্ব গ্রহনের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে জানান, কোনো পদের জন্য পুরুষ কর্মী না পাওয়া গেলে শুধু ওই পদে নারী কর্মীকে বহাল রাখা হবে।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, নারীদের ওপর তালেবানের বিধিনিষেধ জারির ধারাবাহিকতায় রোববার আসে এ ঘোষণা। মেয়র জানান, কাবুলের নগর প্রশাসনের সব বিভাগ মিলে পদ প্রায় তিন হাজার, যার এক-তৃতীয়াংশেই কর্মরত ছিলেন নারীরা।

নামোনি জানান, আপাতত এই নারী কর্মীদের ঘরে থাকার আদেশ দেয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা আসার আগ পর্যন্ত এই আদেশ বহাল থাকবে। নকশা ও প্রকৌশলবিষয়ক বিভাগ ও নারীদের পাবলিক টয়লেটগুলো রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে পর্যাপ্ত পুরুষ কর্মী পাওয়া না গেলে ব্যতিক্রম ঘটতে পারে।

এ আদেশের ফলে কত নারী চাকরিচ্যুত হবেন, তা জানা নেই বলে জানিয়েছেন কাবুলের মেয়র। তিনি বলেন, ‘কিছু কাজ আছে, যেগুলো পুরুষরা পারে না। সেসব কাজে নারী কর্মীদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হবে, কারণ এর অন্য বিকল্প নেই।’

এর আগে শুক্রবার আফগানিস্তানের নারী মন্ত্রণালয় স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয় শাসকগোষ্ঠী। এর প্রতিবাদে আজ বন্ধ হয়ে যাওয়া নারী মন্ত্রণালয়ের বাইরে কয়েকজন নারী বিক্ষোভ করেন। জনজীবনে নারীদের অংশগ্রহণ করতে দেয়ার দাবি জানান তারা।

বিক্ষোভে অংশ নেয়া ৩০ বছর বয়সী বশিরা তাওয়ানা বলেন, ‘কেন তালেবান আমাদের সব অধিকার হরন করছে? আমাদের আর সন্তানদের অধিকার আদায়ের জন্য এখানে এসেছি।’

বিক্ষোভকারীদের একটি ব্যানারে লেখা ছিল, ‘যে সমাজে নারীরা সক্রিয় নয়, সেটা মৃত সমাজ।’

কিন্তু ওই বিক্ষোভ স্থায়ী হয় মাত্র ১০ মিনিট। এক ব্যক্তির সঙ্গে রাস্তাতেই আলোচনার পর বিক্ষোভে অংশ নেয়া নারীরা গাড়িতে চড়ে চলে যান। সে সময় কাছেই দুটি গাড়িতে তালেবান সদস্যরা অবস্থান করছিল।

অন্যদিকে, তালেবানের নির্দেশনা অনুযায়ী শনিবার থেকে মেয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষিকা ছাড়াই আফগানিস্তানের স্কুলগুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

গত মাসে কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর নারী অধিকার নিয়ে নানা আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত কোনো কথাই রাখছে না গোষ্ঠীটি। নব্বইয়ের দশকের শাসনামলের মতোই নারীদের শিক্ষাগ্রহণ, জীবিকা উপার্জনসহ সব মৌলিক অধিকার একে একে বাতিল করছে তারা।

শেয়ার করুন