তুরস্কে দাবানলে ৬ মৃত্যু, জরুরি অবস্থা

তুরস্কে দাবানলে ৬ মৃত্যু, জরুরি অবস্থা

পর্যটন শহর মানাভগাতে দাবানলে পুড়ে ছাই হওয়া এলাকা। ছবি: এএফপি

মানাভগাতে এক সংবাদ সম্মেলনে এরদোয়ান বলেন, ‘দাবানলের এ ঘটনাকে রাজনৈতিক দৃষ্টি থেকে আঙ্কারা দেখছে না। কিন্তু তাও ইচ্ছে করে আগুন লাগানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।’

তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলে দাবানলে প্রাণ গেছে দুই বনকর্মীসহ কমপক্ষে ছয়জনের।

দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে ৯৮টি এলাকায়। এর মধ্যে শনিবার পর্যন্ত চার দিনে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে ৮৮টি এলাকার আগুন।

দুর্গত অঞ্চলগুলোতে জারি করা হয়েছে জরুরি দুর্যোগ অবস্থা।

অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী দুই পর্যটন শহর মানাভগাতে পাঁচজন ও মারমারিসে একজনের মৃত্যু হয়েছে আগুনে। অগ্নিকাণ্ডের সময় মানাভগাতে দগ্ধ ও আহত ৪০০ মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এখনও ১০ জন চিকিৎসাধীন। মারমারিসে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৬০ জন।

এ দাবানল শুরু হয় বুধবার থেকে। তীব্র বাতাস ও সূর্যের প্রখর তাপে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আগুন। পুড়ে ছাই হয় বেশ কয়েকটি গ্রাম ও পর্যটনকেন্দ্র। নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয় গ্রামের কয়েক শ বাসিন্দা ও অতিথিকে।

আজিয়ান সাগর তীরবর্তী বডরামে হোটেলে ওঠা অতিথিদের নৌকা ও প্রমোদতরীতে করে সাগরপথে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়।

দক্ষিণের হাতায় প্রদেশ থেকে নতুন করে শুরু হওয়া দাবানল ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এসব এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানানো হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান হেলিকপ্টারে চড়ে শনিবার দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন।

সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে তিনি এলাকাগুলোকে ‘দুর্যোগগ্রস্ত’ আখ্যা দেন। ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।

পরে মানাভগাতে এক সংবাদ সম্মেলনে এরদোয়ান বলেন, ‘দাবানলের এ ঘটনাকে রাজনৈতিক দৃষ্টি থেকে আঙ্কারা দেখছে না। কিন্তু তাও ইচ্ছে করে আগুন লাগানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।’

এর আগে বেশ কিছু দাবানল তুরস্কে নিষিদ্ধঘোষিত কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীর লাগানো আগুন থেকে শুরু হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছিল তুরস্কের সরকার।

আগুন নেভাতে কাজ করছে ১৩টি বিমান। ইউক্রেন, রাশিয়া, আজারবাইজান আর ইরানও এতে সহযোগিতা করছে। এ ছাড়া অর্ধশত হেলিকপ্টার, ড্রোন নিয়েও আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দিয়েছেন কয়েক হাজার তুর্কি কর্মকর্তা।

তুরস্কের বন সমিতির তথ্য অনুযায়ী, এক দশকে দেশটিতে প্রতিবছর গড়ে দুই হাজার ৬০০ করে দাবানলের ঘটনা ঘটত। কিন্তু গত বছর এ সংখ্যা তিন হাজার ৪০০তে পৌঁছায়।

আফ্রিকা থেকে বয়ে আসা গরম বাতাসে ইউরোপ মহাদেশের দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে বাড়ছে তাপমাত্রা। এর ফলে ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী অঞ্চলগুলোতে বৃদ্ধি পাচ্ছে দাবানল।

চলতি সপ্তাহের সোমবার গ্রিসসহ ইউরোপের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে তাপমাত্রা বেড়ে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। তাপমাত্রা স্বাভাবিক হতে লেগে যেতে পারে এক সপ্তাহ।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও দাবানলসহ নানা দুর্যোগের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন:
ভারতে বন্যা-ভূমিধসে প্রাণহানি বেড়ে ১৪৭
অতিবৃষ্টি বন্যা ভূমিধসে মহারাষ্ট্রে প্রাণহানি বেড়ে ১১২
চীনে ১ হাজার বছরে সর্বোচ্চ বৃষ্টিতে মৃত্যু ২৫
ইউরোপে ২০০ ছুঁইছুঁই মৃত্যু, বন্যাদুর্গত এলাকায় জার্মান চ্যান্সেলর
৬ দশকের ভয়াবহতম বন্যা ইউরোপে, প্রাণহানি বেড়ে ১৭০

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জলবায়ু শরণার্থীদের টেকসই পুনর্বাসনের দাবি

জলবায়ু শরণার্থীদের টেকসই পুনর্বাসনের দাবি

ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ চেঞ্জ মেকার ও সেভ ফিউচার বাংলাদেশ নামে ২টি পরিবেশবাদী সংগঠন এ মানববন্ধনের আয়োজন করে। ছবি: নিউজবাংলা

মানববন্ধনে ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ চেঞ্জমেকার সংগঠনের ঢাকা জেলার সভাপতি সাদিয়া আফরোজ বলেন, ‘একটি দেশ বা অঞ্চলের আবহাওয়া ও জলবায়ু সেখানে মানুষের জীবিকা, জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির ওপর প্রভাব রাখে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ বর্তমানে জনজীবন ও প্রাণীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।’

জলবায়ু পরিবর্তনে দায় না থাকলেও এর প্রভাবে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ। এর নেতিবাচক প্রভাবে অনেকেই শরণার্থীতে পরিণত হচ্ছে।

তাদের টেকসই পুনর্বাসনসহ জীবনমান উন্নয়নে বেশকিছু দাবি করেছেন পরিবেশবাদীরা।

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে এ দাবি করা হয়। ‘ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ চেঞ্জমেকার’ ও ‘সেভ ফিউচার বাংলাদেশ’ নামে দুটি পরিবেশবাদী সংগঠন এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।

জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় গণজাগরণ তৈরি করতে ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী ‘গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক’ কর্মসূচি উপলক্ষে এ মানববন্ধন করা হয়।

মানববন্ধনে ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ চেঞ্জমেকার সংগঠনের ঢাকা জেলার সভাপতি সাদিয়া আফরোজ বলেন, ‘একটি দেশ বা অঞ্চলের আবহাওয়া ও জলবায়ু সেখানে মানুষের জীবিকা, জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির ওপর প্রভাব রাখে।

‘বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ প্রকৃতির বিভিন্ন অসামঞ্জস্যতা জনজীবন ও প্রাণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী এখন বিলুপ্তির পথে।’

‘সেভ ফিউচার বাংলাদেশ’-এর সমন্বয়ক নয়ন সরকার বলেন, ১৬ কোটি মানুষের বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। আমাদের জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ শিশু। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের কারণে শিশুরা অনিরাপদ ও অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে।’

তিনি বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে হিমালয়ের বরফ গলতে থাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। এতে ঘূর্ণিঝড়, খরা, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা ও মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধির মতো দুর্যোগও বাড়ছে।

বিভিন্ন গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, সমুদ্রের উচ্চতা এক মিটার বাড়লে বাংলাদেশের ২০ শতাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে ২০৫০ সালের মধ্যে ২ কোটিরও বেশি মানুষ জলবায়ু উদ্বাস্তু হতে পারে।

মানববন্ধনে অন্য বক্তারা বলেন, খুব দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই সবাইকে সচেতন হতে হবে। পরিবেশবান্ধব পণ্য ও যন্ত্রাংশ ব্যবহারের দিকে নজর দিতে হবে।

মানববন্ধনে সরকারের কাছে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো,

. জলবায়ু শরণার্থীদের টেকসই পুর্নবাসন করতে হবে।

. উপকূল এলাকাজুড়ে টেকসই ব্লক ও বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। ... স্থায়ীভাবে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে হবে।

. উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে হবে।

. এ ছাড়া দেশের পাহাড়, বনাঞ্চল, গাছপালা, বন্য প্রাণী ও নদনদী সর্বোপরি পরিবেশ রক্ষা ও সংরক্ষণ করতে হবে।

বৈশ্বিক উদ্যোগের বিষয়ে মানববন্ধনে বলা হয়,

.প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হবে।

. অভিযোজন ক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতা করতে হবে।

. বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রিতে নামিয়ে আনতে হবে।

. কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

. সবুজ জলবায়ু তহবিলে যে অর্থ বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি রয়েছে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

. ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

আরও পড়ুন:
ভারতে বন্যা-ভূমিধসে প্রাণহানি বেড়ে ১৪৭
অতিবৃষ্টি বন্যা ভূমিধসে মহারাষ্ট্রে প্রাণহানি বেড়ে ১১২
চীনে ১ হাজার বছরে সর্বোচ্চ বৃষ্টিতে মৃত্যু ২৫
ইউরোপে ২০০ ছুঁইছুঁই মৃত্যু, বন্যাদুর্গত এলাকায় জার্মান চ্যান্সেলর
৬ দশকের ভয়াবহতম বন্যা ইউরোপে, প্রাণহানি বেড়ে ১৭০

শেয়ার করুন

কুয়াকাটা সৈকতে ফের মৃত ডলফিন

কুয়াকাটা সৈকতে ফের মৃত ডলফিন

কুয়াকাটা সৈকতে সাতদিনের মাথায় ভেসে এসেছে আরেকটি মৃত ডলফিন। ছবি: নিউজবাংলা

কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটি জানায়, এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর আরেকটি মৃত ডলফিন ভেসে আসে এই সৈকতে। সেটির লেজ জালে প্যাঁচানো ছিল। এ নিয়ে চলতি বছর ২২টি মৃত ডলফিন কুয়াকাটায় ভেসে এসেছে।

সাত দিনের মাথায় কুয়াকাটা সৈকতে আবারও ভেসে এসেছে একটি মৃত ডলফিন।

সৈকতের তেত্রিশকানি পয়েন্টে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে ৫ ফুট লম্বা ডলফিনটি ভেসে আসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির সদস্যদের খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে যান।

কমিটির সদস্য কে এম বাচ্চু জানান, ডলফিনটির শরীরের উপরিভাগের চামড়া অনেকটা উঠে গেছে, তবে অর্ধগলিত না। ডলফিনটির মাথায় আঘাতের চিহ্ন আছে। ধারণা করা হচ্ছে, জেলেদের আঘাতে এটির মৃত্যু হয়েছে।

কমিটির আরেক সদস্য আবুল হোসেন রাজু জানান, এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর আরেকটি মৃত ডলফিন ভেসে আসে এই সৈকতে। সেটির লেজ জালে প্যাঁচানো ছিল। এ নিয়ে চলতি বছর ২২টি মৃত ডলফিন কুয়াকাটায় ভেসে এসেছে।

পটুয়াখালীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘মৃত্যুর কারণ জানতে ডলফিনের ময়নাতদন্তের চেষ্টা করা হবে। সে লক্ষ্যে ঘটনাস্থলে এরই মধ্যে বিট কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে।

‘এর আগেও একাধিক মৃত ডলফিন সৈকতে ভেসে এসেছিল । বিষয়টি আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। এর আগে পাওয়া একটি মৃত ডলফিনের অংশ পরীক্ষার জন্য আমরা মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের দপ্তরে পাঠিয়েছি। সেটির রিপোর্ট এখনও আসেনি।’

ডলফিন নিয়ে কাজ করা ইকোফিশ-২ প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ মীর মোহাম্মদ আলীর মতে, সাগরের পরিবেশের পরিবর্তনের কারণেও এসব ডলফিন মারা যেতে পারে। তবে এটিই কারণ কি না তা জানতে প্রচুর গবেষণা দরকার। এ ছাড়া সাগরে খাদ্যের অভাব বা অক্সিজেনের স্বল্পতার অভাবেও ডলফিনগুলো মারা যেতে পারে।

কুয়াকাটা সৈকতে ফের মৃত ডলফিন

প্রকল্পের আরেক বিশেষজ্ঞ সাগরিকা স্মৃতি জানান, সাগরে মাছ ধরার সময় জালে এসব ডলফিন পেঁচিয়ে গেলে জেলেরা শক্ত কোনো বস্তু দিয়ে এগুলোকে আঘাত করে। অনেক সময় প্যাঁচানো জাল কেটে দেয়। তখন এরা মারা যায়। মৃতদেহ ভাসতে ভাসতে তীরে আসে। এ জন্য জেলেদের সচেতন করতে হবে।

স্মৃতি আরও জানান, সচেতন করতে এরই মধ্যে কুয়াকাটায় জেলেদের নিয়ে একাধিক মিটিং ও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্লাহ জানান, এক বছর আগে ডলফিন মারা যাবার কারণ উদঘাটনে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটির সুপারিশে পাঁচটি কারণের মধ্যে অন্যতম প্রধান দুটি কারণকে দায়ী করা হয়েছিল।

কারণ দুটি হলো সাগরে জেলেদের জালে ডলফিন আটকে যাওয়া ও বড় জাহাজের পাখনায় ডলফিনের আঘাত পাওয়া।

এমদাদুল্লাহ আরও জানান, ওই দুই কারণ নিয়ে কাজ করতে সুপারিশ করা হয়েছিল। সেগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি।

আরও পড়ুন:
ভারতে বন্যা-ভূমিধসে প্রাণহানি বেড়ে ১৪৭
অতিবৃষ্টি বন্যা ভূমিধসে মহারাষ্ট্রে প্রাণহানি বেড়ে ১১২
চীনে ১ হাজার বছরে সর্বোচ্চ বৃষ্টিতে মৃত্যু ২৫
ইউরোপে ২০০ ছুঁইছুঁই মৃত্যু, বন্যাদুর্গত এলাকায় জার্মান চ্যান্সেলর
৬ দশকের ভয়াবহতম বন্যা ইউরোপে, প্রাণহানি বেড়ে ১৭০

শেয়ার করুন

বায়ুদূষণে বছরে ৭০ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু

বায়ুদূষণে বছরে ৭০ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু

বায়ু দূষণে বেশি ভুগছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো। ছবি: সংগৃহীত

বায়ুদূষণ মানুষের স্বাস্থ্যের যে ব্যাপক ক্ষতি করছে, তার ‘পরিষ্কার প্রমাণ’ রয়েছে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। আর ক্ষতির পরিমাণ ধারণার চেয়ে অনেক বেশি বলে সংগঠনটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বায়ুদূষণে সবচেয়ে বেশি ভুগছে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলো।

বায়ুদূষণের কারণে ফুসফুসে ক্যানসার, হৃৎপিণ্ডজনিত সমস্যা, স্ট্রোক ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ৭০ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

বায়ুদূষণজনিত মৃত্যু কমাতে ২০০৫ সালের পর প্রথমবারের মতো বায়ুমান নির্ধারণে নতুন গাইডলাইন নির্ধারণ করেছে ডব্লিউএইচও।

এই গাইডলাইন অনুযায়ী ১৯৪টি সদস্য রাষ্ট্রকে নভেম্বরে কোপ২৬ সম্মেলনের আগেই বায়ুদূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন রোধে পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতিসংঘের আওতাধীন সংস্থাটি।

এর উদ্দেশ্য বায়ুর নানা দূষণ কমিয়ে আনা। সেই সঙ্গে বায়ুর সঙ্গে মিশ্রিত অতি ক্ষুদ্র পদার্থ ও নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড হ্রাস করা, যা জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোয় তৈরি হয়।

ডব্লিউএইচও বলেছে, ‘মানব স্বাস্থ্যের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি বায়ুদূষণ অন্যতম ভয়াবহ পরিবেশগত ঝুঁকি।’

বায়ুদূষণ মানুষের স্বাস্থ্যের যে ব্যাপক ক্ষতি করছে তার ‘পরিষ্কার প্রমাণ’ রয়েছে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। আর ক্ষতির পরিমাণ ধারণার চেয়ে অনেক বেশি বলে সংগঠনটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বায়ুদূষণে সবচেয়ে বেশি ভুগছে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলো। কারণ এসব দেশ জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর বেশি নির্ভরশীল।

যানবাহনের ধোঁয়া ও গ্যাসজাতীয় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ। আর বায়ুতে অতিক্ষুদ্র কণাগুলো গঠিত হয় বায়ুতে মিশে থাকা বিভিন্ন রাসায়নিকের বিক্রিয়ার ফলে। এসব রাসায়নিকের উৎস রঙের ব্যবহার, বিভিন্ন ধরনের জীবাণুনাশক তরল ও দ্রবণ।

আরও পড়ুন:
ভারতে বন্যা-ভূমিধসে প্রাণহানি বেড়ে ১৪৭
অতিবৃষ্টি বন্যা ভূমিধসে মহারাষ্ট্রে প্রাণহানি বেড়ে ১১২
চীনে ১ হাজার বছরে সর্বোচ্চ বৃষ্টিতে মৃত্যু ২৫
ইউরোপে ২০০ ছুঁইছুঁই মৃত্যু, বন্যাদুর্গত এলাকায় জার্মান চ্যান্সেলর
৬ দশকের ভয়াবহতম বন্যা ইউরোপে, প্রাণহানি বেড়ে ১৭০

শেয়ার করুন

বিদেশে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ বন্ধ করছে চীন

বিদেশে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ বন্ধ করছে চীন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে বুধবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং বক্তব্য রাখেন ভিডিও বার্তার মাধ্যমে। ছবি: এএফপি

বিভিন্ন দেশে কয়লা জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্প বন্ধের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি বেইজিং। কিন্তু এ পদক্ষেপে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় অনেক দেশে কয়লাভিত্তিক কারখানার কর্মপরিধি সীমিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কয়েক বছরের মধ্যে ২০২১ সালেই প্রথম ছয় মাসে কয়লাভিত্তিক কোনো প্রকল্পে তহবিল দেয়নি বেইজিং।

জ্বালানি হিসেবে কয়লা ব্যবহার করা হবে, বহির্বিশ্বে এমন কোনো প্রকল্পে আর বিনিয়োগ করবে না চীন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে বুধবারের বক্তব্যে এ আশ্বাস দেন চীনের প্রেসিডেন্ট চি শিনপিং।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে কার্বন নিঃসরণ কমাতে চীনের এ পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদী বিশ্ব সম্প্রদায়।

অধিবেশনে ভিডিও বার্তায় শিনপিং বলেন, ‘অন্য দেশের কল্যাণে চীনের সহযোগিতামূলক প্রকল্প অব্যাহত থাকবে। পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি ব্যবহারে ন্যূনতম কার্বন নিঃসরণ ঘটে, এমন প্রকল্পে সাহায্য জোরদার করব আমরা। একই সঙ্গে কোনো দেশে নতুন করে কয়লা জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ করব না।’

চীনের প্রেসিডেন্টের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

উচ্চাভিলাষী বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে চীনের বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ রয়েছে। এশিয়া ও ইউরোপকে সড়ক, রেল ও নৌপথে যুক্ত করতে বেইজিংয়ের এ নিউ সিল্ক রোড প্রকল্পও বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অংশ।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ন্ত্রণে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে বিশ্ব সম্প্রদায়। এ অবস্থায় বিভিন্ন দেশে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ বন্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে দীর্ঘদিন ধরেই চাপের মুখে ছিল চীন।

বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় বেশিরভাগ উন্নয়নশীলসহ অনেকগুলো দেশে রেল, সড়ক, বন্দর ও কয়লাভিত্তিক কারখানা গড়ে তুলতে বিনিয়োগ করেছে চীন।

বিভিন্ন দেশে কয়লা জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্প বন্ধের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি বেইজিং। কিন্তু এ পদক্ষেপে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় অনেক দেশে কয়লাভিত্তিক কারখানার কর্মপরিধি সীমিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কয়েক বছরের মধ্যে ২০২১ সালেই প্রথম ছয় মাসে কয়লাভিত্তিক কোনো প্রকল্পে তহবিল দেয়নি বেইজিং।

চীন নিজেও বিশ্বের অন্যতম গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণকারী দেশ। অভ্যন্তরীণ জ্বালানির চাহিদা মেটাতেও কয়লার ওপর ব্যাপক নির্ভরশীল দেশটি।

২০৩০ সালের আগেই সর্বোচ্চ কার্বন নিঃসরণ শেষে ২০৬০ সালের মধ্যে চীনকে কার্বন নিরপেক্ষ দেশে পরিণত করা হবে বলে গত বছর আশ্বাস দিয়েছিলেন বেইজিং।

চিনপিংয়ের আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। জলবায়ু পরিবর্তন ও করোনাভাইরাস মহামারিসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় বিশ্বনেতাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
ভারতে বন্যা-ভূমিধসে প্রাণহানি বেড়ে ১৪৭
অতিবৃষ্টি বন্যা ভূমিধসে মহারাষ্ট্রে প্রাণহানি বেড়ে ১১২
চীনে ১ হাজার বছরে সর্বোচ্চ বৃষ্টিতে মৃত্যু ২৫
ইউরোপে ২০০ ছুঁইছুঁই মৃত্যু, বন্যাদুর্গত এলাকায় জার্মান চ্যান্সেলর
৬ দশকের ভয়াবহতম বন্যা ইউরোপে, প্রাণহানি বেড়ে ১৭০

শেয়ার করুন

দাবানল-মহামারির মধ্যে শক্তিশালী ভূমিকম্প অস্ট্রেলিয়ায়

দাবানল-মহামারির মধ্যে শক্তিশালী ভূমিকম্প অস্ট্রেলিয়ায়

অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটি অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প হলেও এতে গুরুতর ক্ষতি হয়নি। ছবি: এএফপি

ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে অস্ট্রেলিয়ায় ভূমিকম্প, বিশেষ করে শক্তিশালী কম্পন বেশ বিরল। ভূগর্ভে টেকটনিক প্লেটের মাঝখানে অবস্থিত মহাদেশটি। তবে গড়ে প্রতি ১০ বছরে একবার দেশটিতে ছয় মাত্রার ওপর ভূমিকম্প হয়ে থাকে।

পাঁচ দশমিক নয় মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী মেলবোর্নের বেশ কয়েকটি ভবন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় বুধবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে আঘাত হানে ভূমিকম্পটি। উৎসস্থল ছিল ভিক্টোরিয়া রাজ্যের রাজধানীর অদূরে অবস্থিত ম্যান্সফিল্ডে।

ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জিওসায়েন্সেস অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে উৎস ছিল বলে কম্পনের তীব্রতা ছিল বেশি।

ভূমিকম্পের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে প্রতিবেশি সাউথ অস্ট্রেলিয়া আর নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।

পরে চার আর তিন দশমিক এক মাত্রার দুটি আফটারশকও অনুভূত হয় অঞ্চলটিতে। আরও আফটারশকের আশঙ্কায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলেছে ভিক্টোরিয়ার জরুরি সেবা বিভাগ।

অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটি অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প হলেও এতে গুরুতর ক্ষতি হয়নি। কেউ গুরুতর আহতও হয়নি বলে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন।

ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে অস্ট্রেলিয়ায় ভূমিকম্প, বিশেষ করে শক্তিশালী কম্পন বেশ বিরল। ভূগর্ভে টেকটনিক প্লেটের মাঝখানে অবস্থিত মহাদেশটি। তবে গড়ে প্রতি ১০ বছরে একবার দেশটিতে ছয় মাত্রার ওপর ভূমিকম্প হয়ে থাকে।

অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় বৃহৎ শহর মেলবোর্নের জনসংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ। করোনাভাইরাস মহামারির প্রকোপ বৃদ্ধিতে লকডাউন চলছে শহরটিতে।

এ ছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাবে আগে থেকেই বিপর্যস্ত দেশটি। তীব্র দাবদাহ চলছে অস্ট্রেলিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। সিডনিশহ বিভিন্ন শহর ও অঞ্চলে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে সম্প্রতি।

গত বছরের ভয়াবহ দাবানলের পর এ বছরও তাপমাত্রার তীব্রতা আর শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে বিভিন্ন জায়গায় জ্বলছে আগুন।

আরও পড়ুন:
ভারতে বন্যা-ভূমিধসে প্রাণহানি বেড়ে ১৪৭
অতিবৃষ্টি বন্যা ভূমিধসে মহারাষ্ট্রে প্রাণহানি বেড়ে ১১২
চীনে ১ হাজার বছরে সর্বোচ্চ বৃষ্টিতে মৃত্যু ২৫
ইউরোপে ২০০ ছুঁইছুঁই মৃত্যু, বন্যাদুর্গত এলাকায় জার্মান চ্যান্সেলর
৬ দশকের ভয়াবহতম বন্যা ইউরোপে, প্রাণহানি বেড়ে ১৭০

শেয়ার করুন

২০০ বছর ধরে ছায়া দিচ্ছে ‘বাঘমারা’ বটগাছ

২০০ বছর ধরে ছায়া দিচ্ছে ‘বাঘমারা’ বটগাছ

নীলফামারীর ‘বাঘমারা’ বটগাছটি ২০০ বছর ধরে ছায়া দিচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা

নীলফামারী সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অহিদুল ইসলাম জানান, এসব বটগাছ ৫০০ বছরের বেশি সময় বেঁচে থাকার রেকর্ড আছে। এগুলোকে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

নীলফামারীর ২০০ বছরের পুরোনো ‘বাঘমারা’ বটগাছ যেন ইতিহাস হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। বটগাছটি কে লাগিয়েছিলেন তার সম্পর্কে কোনো সঠিক তথ্য নেই।

তবে স্থানীয় লোকজন জানান, ৫০ বছর আগে এই এলাকার একটি বাড়িতে বাঘ ঢুকেছিল। এ সময় বাঘটি পিটিয়ে হত্যা করে ওই বটগাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এরপর থেকেই বটগাছটি ‘বাঘমারা’ নামে পরিচিতি পায়।

গাছটি লাগানোর বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সুমতিবালা বলেন, ‘আমার শ্বশুরের দাদা গাছটি লাগিয়েছিল বলে পারিবারিক সূত্রে জেনেছি। এখন এটির বয়স আনুমানিক ২০০ বছর। প্রজন্মের পর প্রজন্ম দেখে আসছে এই গাছটি।’

২০০ বছর ধরে ছায়া দিচ্ছে ‘বাঘমারা’ বটগাছ

জেলার তিন উপজেলার সংযোগস্থলে বটগাছটির অবস্থান। গাছটির একদিক দিয়ে সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন, অন্যদিকে জলঢাকা উপজেলার ধর্মপাল ইউনিয়ন এবং আরেকদিকে ডোমার উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নে চলাচল করা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিশাল আকৃতির গাছটির ডালপালা দিন দিন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রচণ্ড গরমে যারা এই পথে চলাচল করেন তারা একটু হলেও বটগাছের নিচে জিরিয়ে নেন।

হরিণচড়া ইউনিয়নের শেওটগাড়ি গ্রামের শিক্ষক আব্দুল ওয়াদুদ জানান, এটি অনেক পুরোনো বটগাছ। গাছটি ঘিরেই চলাচলের এই পথ তৈরি হয়েছে। এটি ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে।

সোনারায় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমনী কান্ত বলেন, ‘বটপাকুরের বিয়েও হয়েছে অনেক আগে। এই বটগাছটির সঠিক বয়স কেউ বলতে না পারলেও সবার ধারণা ২০০ বছরের কম নয়। এখানে মানুষ আড্ডা দেন, বসে থাকেন, সময় কাটিয়ে আনন্দ পান।’

নীলফামারী সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অহিদুল ইসলাম জানান, এসব বটগাছ ৫০০ বছরেরও বেশি সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকার রেকর্ড আছে। এগুলোকে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, ‘এত বড় বটগাছ এখন আর চোখে পড়ে না। স্থানীয় লোকজন ভালোভাবে গাছটির রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছে।’

আরও পড়ুন:
ভারতে বন্যা-ভূমিধসে প্রাণহানি বেড়ে ১৪৭
অতিবৃষ্টি বন্যা ভূমিধসে মহারাষ্ট্রে প্রাণহানি বেড়ে ১১২
চীনে ১ হাজার বছরে সর্বোচ্চ বৃষ্টিতে মৃত্যু ২৫
ইউরোপে ২০০ ছুঁইছুঁই মৃত্যু, বন্যাদুর্গত এলাকায় জার্মান চ্যান্সেলর
৬ দশকের ভয়াবহতম বন্যা ইউরোপে, প্রাণহানি বেড়ে ১৭০

শেয়ার করুন

জলবায়ু পরিবর্তন: সহায়তা অব্যাহত রাখবে জার্মানি

জলবায়ু পরিবর্তন: সহায়তা অব্যাহত রাখবে জার্মানি

সচিবালয়ে পরিবেশমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন জার্মানির রাষ্ট্রদূত অচিম ট্রস্টার। ছবি: নিউজবাংলা

জার্মান রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি প্রশংসনীয়। বাংলাদেশ জার্মানির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র। প্যারিস জলবায়ু চুক্তি ও গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের মাধ্যমে জার্মান তার সহযোগিতা চালিয়ে যাবে। চলমান উন্নয়নে জার্মানির সহযোগিতা ক্রমবর্ধমান গতিতে অব্যাহত থাকবে।'

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন জার্মানির রাষ্ট্রদূত অচিম ট্রস্টার।

সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিনের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাতে সোমবার তিনি এ কথা বলেন।

জার্মান রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রমে এবং বাংলাদেশে চলমান উন্নয়নে জার্মানির সহযোগিতা ক্রমবর্ধমান গতিতে অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশ জার্মানির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র। পারস্পরিক আলাপ আলোচনা ও চাহিদার ভিত্তিতে এ সহযোগিতা বহাল থাকবে।

‘বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি প্রশংসনীয়। প্যারিস জলবায়ু চুক্তি ও গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের মাধ্যমে জার্মান তার সহযোগিতা চালিয়ে যাবে।’

পরিবেশমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট ভালনারিবিলিটি ফোরাম (সিভিএফ) এবং ভালনারেবল-২০ এর সভাপতি হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। সিভিএফ এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সামগ্রিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে মুজিব ক্লাইমেট প্রসপারিটি প্ল্যান ঘোষণা করেছেন।’

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ধনী দেশগুলোর প্রতিশ্রুত বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদান, আর্টিকেল-৬ (মার্কেট মেকানিজম) সহ প্যারিস জলবায়ু চুক্তির অন্যান্য বিষয়ে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ ঐক্যমতে পৌঁছবেন বলে আশাবাদ জানান মন্ত্রী।

‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড অ্যাকশন প্ল্যান’ হালনাগাদকরণ এবং বন ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার জন্য বিএমজেড এবং জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেডকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

প্রযুক্তি হস্তান্তর, সক্ষমতা বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং শহর এলাকায় অভিযোজন কার্যক্রম বাস্তবায়ন সহ জলবায়ু পরিবর্তন সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে তিনি জার্মানির সহযোগিতা কামনা করেন।

আরও পড়ুন:
ভারতে বন্যা-ভূমিধসে প্রাণহানি বেড়ে ১৪৭
অতিবৃষ্টি বন্যা ভূমিধসে মহারাষ্ট্রে প্রাণহানি বেড়ে ১১২
চীনে ১ হাজার বছরে সর্বোচ্চ বৃষ্টিতে মৃত্যু ২৫
ইউরোপে ২০০ ছুঁইছুঁই মৃত্যু, বন্যাদুর্গত এলাকায় জার্মান চ্যান্সেলর
৬ দশকের ভয়াবহতম বন্যা ইউরোপে, প্রাণহানি বেড়ে ১৭০

শেয়ার করুন