আফগানিস্তানে আকস্মিক বন্যায় প্রাণ গেল ৪০ জনের

আফগানিস্তানে আকস্মিক বন্যায় প্রাণ গেল ৪০ জনের

আফগানিস্তানে নুরিস্তান প্রদেশে আকস্মিক বন্যায় ৪০ জনের মৃত্যু হয়। ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানের দুর্যোগ মোকাবিলা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সামিউল্লাহ জারবি বলেন, ‘প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী আকস্মিক বন্যায় ৬০টি ঘর ভেঙে পড়েছে। প্রায় ১০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।’

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় পাহাড়ি নুরিস্তান প্রদেশে আকস্মিক বন্যায় কমপক্ষে ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে অর্ধশতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়।

দেশটির নুরিস্তান প্রদেশের তালেবাননিয়ন্ত্রিত কামদেশ জেলায় বৃহস্পতিবার ভোররাতে এসব ঘটনা ঘটে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি নুরিস্তান তালেবানের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ায় ওই অঞ্চল থেকে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আফগানিস্তানের কর্মকর্তারা।

দেশটির দুর্যোগ মোকাবিলা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সামিউল্লাহ জারবি বলেন, ‘প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী আকস্মিক বন্যায় ৬০টি ঘর ভেঙে পড়েছে। প্রায় ১০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।’

প্রাদেশিক পরিষদের প্রধান সাদুল্লাহ পায়েন্দা জয় রয়টার্সকে জানান, ৪০ জনের মরদেহ পানি ও বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করেছে গ্রামবাসী।

বন্যাকবলিত অঞ্চলে দেশি-বিদেশি সংস্থা মানবিক সহায়তা দিতে পারবে বলে জানিয়েছে তালেবান।

তালেবানের মুখপাত্র জাইবুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ‘গত রাতে ভয়াবহ বন্যায় গ্রামের অর্ধেক ঘর ভেসে যায়। ১০০-এর বেশি ঘর ছিল এখানে।

‘দুঃখজনকভাবে বন্যায় শতাধিক ব্যক্তি মারা গেছেন বা নিখোঁজ রয়েছেন।’

তিনি জানান, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে গ্রামবাসীকে সহযোগিতা করছে তালেবান যোদ্ধারা।

নুরিস্তানের মতো দূরবর্তী বিচ্ছিন্ন অঞ্চলে জরুরি সেবা দিতে প্রায়ই হিমশিম খেতে হয় আফগানিস্তানকে।

তবে করোনা মহামারি এবং তালেবান ও আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সাম্প্রতিক সংঘর্ষের কারণে এই সেবা দেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

গত মাসে আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশে ভারী বর্ষণ ও বন্যায় কমপক্ষে ১২ জনের মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তান নিয়ে চীনের আগ্রহ ইতিবাচক হতে পারে: যুক্তরাষ্ট্র
চীনের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানকে ব্যবহার নয়: তালেবান
তালেবানের ‘পক্ষে বলায়’ আফগানিস্তানে ৪ সাংবাদিক গ্রেপ্তার
আফগানিস্তানে আবার যেভাবে তালেবান
আফগানিস্তানে ২ মাসে ২৪০০ জনের মৃত্যু: জাতিসংঘ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কোভিশিল্ড অনুমোদন না দেয়ায় ভারতের ক্ষোভ

কোভিশিল্ড অনুমোদন না দেয়ায় ভারতের ক্ষোভ

ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতিসংঘের ৭৬তম অধিবেশনে যোগ দেয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়ার আগে নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, যুক্তরাজ্যের এমন আচরণের বিপরীতে ভারতেরও উচিত হবে একই ধরনের আচরণ করা।

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনকে অনুমোদন দেয়নি যুক্তরাজ্য।

দেশটির এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে এটিকে তাদের ‘বৈষম্যমূলক’ নীতি দাবি করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা।

মঙ্গলবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতিসংঘের ৭৬তম অধিবেশনে যোগ দেয়ার উদ্দেশে ভারত ছাড়ার আগে রাজধানী নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ দাবি করেন। বলেন, যুক্তরাজ্যের এমন আচরণের বিপরীতে ভারতেরও উচিত হবে একই ধরনের আচরণ করা।

যুক্তরাজ্যে ভ্রমণে বিদেশিদের জন্য নতুন নির্দেশনা দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। নির্দেশনা অনুযায়ী কোভিশিল্ড টিকাপ্রাপ্তরা বিনা বাধায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে না। সেখানে ঢোকার আগে ১০ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। এর মধ্যেই কোভিড পরীক্ষাও বাধ্যতামূলক। তাই যুক্তরাজ্যে যাওয়া এখন খানিকটা সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে অনেক ভারতীয়র জন্য। তবে ভারত ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক দেশ, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর জন্যও এ নিয়ম বলবৎ থাকবে বলা হয় নির্দেশনায়।

বিষয়টি নিয়ে সাধারণ অধিবেশনের অবসরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রুসের কথা হয়েছে বলে জানান শ্রিংলা। সমস্যা দ্রুত সমাধানে যুক্তরাজ্য আশ্বস্ত করেছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার টুইট করে বিরক্তি প্রকাশ করেন কংগ্রেস নেতা ও সংসদ সদস্য শশী থারুর।

তিনি লেখেন, ‘পুরোপুরি টিকাপ্রাপ্ত ভারতীয়দের কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা অপমানজনক। ব্রিটিশরা কি দ্বিতীয়বার যাচাই করেছে নাকি!’

বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আরেক কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশও। তিনি বলেন, ‘কোভিশিল্ড প্রথমে তো যুক্তরাজ্য এবং সেরাম ইনস্টিটিউটেই তৈরি করা হয়। এখন তাদের কেমন আচরণ? এ তো বর্ণবৈষম্য!’

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তান নিয়ে চীনের আগ্রহ ইতিবাচক হতে পারে: যুক্তরাষ্ট্র
চীনের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানকে ব্যবহার নয়: তালেবান
তালেবানের ‘পক্ষে বলায়’ আফগানিস্তানে ৪ সাংবাদিক গ্রেপ্তার
আফগানিস্তানে আবার যেভাবে তালেবান
আফগানিস্তানে ২ মাসে ২৪০০ জনের মৃত্যু: জাতিসংঘ

শেয়ার করুন

আফগানিস্তান নিয়ে মতভেদ, সার্কের বৈঠক বাতিল

আফগানিস্তান নিয়ে মতভেদ, সার্কের বৈঠক বাতিল

প্রতীকী ছবি

একটি সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তান বৈঠকে আফগানিস্তানের জন্য একটি ‘খালি চেয়ার’ রাখতে চেয়েছিল। দেশটি আশরাফ ঘানি শাসনের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে ছিল।

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের মধ্যে সার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক বাতিল করা হয়েছে।

আফগানিস্তানের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে পাকিস্তানের ভিন্নমতের জন্যই বৈঠক বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।

ওই সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তান বৈঠকে আফগানিস্তানের জন্য একটি ‘খালি চেয়ার’ রাখতে চেয়েছিল। দেশটি আশরাফ ঘানি শাসনের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে ছিল।

বৈঠকটি হলে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে আফগানিস্তান মিশনের একজন প্রতিনিধি যোগ দিতে পারতেন।

সূত্রটি জানায়, পাকিস্তানের প্রস্তাব ছিল তালেবান প্রতিনিধিকে বৈঠকে অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়া। সার্কের বাকি সদস্যরা প্রস্তাবটি বাতিল করে দেয়।

নতুন তালেবান শাসন এখনও বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি পায়নি। তালেবান নেতারা স্বীকৃতির জন্য জাতিসংঘের কাছেও যাননি।

এমন বাস্তবতায় পাকিস্তানের প্রস্তাব বাতিল করে দেয় সার্কভুক্ত অন্য দেশগুলো।

নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার সার্ক সচিবালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়ে বলে, সব সদস্য রাষ্ট্র সম্মতি না দেয়ায় ২৫ সেপ্টেম্বর সার্ক মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছে।

আফগানিস্তান সার্কের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য রাষ্ট্র। ২০০৭ সালে দেশটি দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাটিতে যোগ দেয়।

আফগানিস্তানের বাইরে ভারত, বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান সার্কের সদস্য।

১৯৮৭ সালের ১৭ জানুয়ারি কাঠমান্ডুতে সার্ক সচিবালয় স্থাপন হয়।

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তান নিয়ে চীনের আগ্রহ ইতিবাচক হতে পারে: যুক্তরাষ্ট্র
চীনের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানকে ব্যবহার নয়: তালেবান
তালেবানের ‘পক্ষে বলায়’ আফগানিস্তানে ৪ সাংবাদিক গ্রেপ্তার
আফগানিস্তানে আবার যেভাবে তালেবান
আফগানিস্তানে ২ মাসে ২৪০০ জনের মৃত্যু: জাতিসংঘ

শেয়ার করুন

পশ্চিমবঙ্গে প্রথম সফল ফুসফুস প্রতিস্থাপন

পশ্চিমবঙ্গে প্রথম সফল ফুসফুস প্রতিস্থাপন

কলকাতার মেডিক্যা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল।

চিকিৎসকদের বক্তব্য, ফুসফুস প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু জটিলতা রয়েছে। কারণ অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মধ্যে ফুসফুস প্রতিস্থাপন অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হয়। পাশাপাশি রোগী সম্প্রতি করোনা মুক্ত হয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো ৬ ঘণ্টা অস্ত্রোপচারের পর সফলভাবে ফুসফুস প্রতিস্থাপন করেছে কলকাতার মেডিকা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। রোগীকে রাখা হয়েছে ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে।

সোমবার কলকাতা থেকে একদল চিকিৎসক গুজরাটের সুরাটে গিয়ে সেখানে ব্রেইন স্ট্রোকে মৃত ৫২ বছর বয়সী এক ব্যক্তির শরীর থেকে ফুসফুস সংগ্রহ করেন। পরে গুজরাট থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে কলকাতায় আনা হয় ওই ফুসফুস। মৃত ব্যক্তি মরণোত্তর ফুসফুস দান করেছিলেন।

কলকাতা বিমানবন্দর থেকে রাত ৯টায় গ্রিন করিডর অর্থাৎ সব সিগন্যাল সবুজ করে দিয়ে ওই ফুসফুসবাহী অ্যাম্বুলেন্স বাইপাসের কাছে মেডিকা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পৌঁছায়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, যে রোগীর দেহে সোমবার রাতে ফুসফুস প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, তিনি সম্প্রতি করোনা মুক্ত হয়েছেন। টানা ১০৩ একমো সাপোর্টে ছিলেন। কিন্তু তাতেও কাজ হচ্ছিল না। ৪৬ বছরের ওই রোগীর ফুসফুস সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসকরা ফুসফুস প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছিলেন।

ফুসফুসের খোঁজ শুরু করে রোগীর পরিবার। অবশেষে গুজরাটের সুরাটে মেলে ফুসফুসের দাতা। দুই রাজ্যের চিকিৎসকদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে ফুসফুস পৌঁছায় কলকাতায়।

চিকিৎসকদের বক্তব্য, ফুসফুস প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু জটিলতা রয়েছে। কারণ অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মধ্যে ফুসফুস প্রতিস্থাপন অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হয়। পাশাপাশি রোগী সম্প্রতি করোনা মুক্ত হয়েছেন।

প্রখ্যাত চিকিৎসক কুনাল সরকারের নেতৃত্বে পাঁচজনের চিকিৎসক দল ফুসফুস প্রতিস্থাপনে অস্ত্রোপচার করে সফল হন।

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তান নিয়ে চীনের আগ্রহ ইতিবাচক হতে পারে: যুক্তরাষ্ট্র
চীনের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানকে ব্যবহার নয়: তালেবান
তালেবানের ‘পক্ষে বলায়’ আফগানিস্তানে ৪ সাংবাদিক গ্রেপ্তার
আফগানিস্তানে আবার যেভাবে তালেবান
আফগানিস্তানে ২ মাসে ২৪০০ জনের মৃত্যু: জাতিসংঘ

শেয়ার করুন

গুজরাটে জব্দ আফগানিস্তান থেকে আসা হেরোইনের বিশাল চালান

গুজরাটে জব্দ আফগানিস্তান থেকে আসা হেরোইনের বিশাল চালান

ভারতের গুজরাট রাজ্যের মুন্দ্রা বন্দর। ছবি: সংগৃহীত

হেরোইনের এ চালান রোববার জব্দ করা হয়। কর্মকর্তাদের দাবি, এই চালানে যে পরিমাণ হোরোইন, তার আর্থিক মূল্য ১৯ হাজার কোটি টাকা, যা ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মাদক চালান। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এক ভারতীয় দম্পতিকে গ্রেপ্তার এবং কয়েকজন আফগান নাগরিককে আটক করা হয়েছে।

ভারতের গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দর থেকে ৩ হাজার কেজির এক হেরোইনের চালান জব্দ করেছে রাজস্ব দপ্তরের কর্মকর্তারা। এসব হেরোইন আফগানিস্তান থেকে ইরানের বন্দর আব্বাস হয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছেন তারা।

হেরোইনের এ চালান রোববার জব্দ করা হয়। কর্মকর্তাদের দাবি, এই চালানে যে পরিমাণ হোরোইন, তার আর্থিক মূল্য ১৯ হাজার কোটি টাকা, যা ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মাদক চালান।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এক ভারতীয় দম্পতিকে গ্রেপ্তার এবং কয়েকজন আফগান নাগরিককে আটক করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, গুজরাটে উদ্ধারকৃত হেরোইন পাচারের পেছনে কোনো আফগান নাগরিক জড়িত কি না, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

রাজস্ব দপ্তর সূত্রে জানা যায়, আফগানিস্তানে উৎপাদিত হেরোইন ট্যালকম পাউডার হিসেবে ইরানের বন্দর আব্বাসের মাধ্যমে গুজরাটে পাঠানো হয়। অন্ধ্র প্রদেশের বিজয়ওয়ারা জেলার ‘আসি ট্রেডিং’ প্রতিষ্ঠানের নামে চালানটি ভারতে ঢোকে। আফগানিস্তানের রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘হাসান হুসেন লিমিটেড’ চালানটি পাঠায়।

রাজস্ব দপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, দুটি কন্টেইনারে করে হেরোইনগুলো আনা হয়। একটিতে ছিল দুই হাজার কেজি ও অন্যটিতে প্রায় এক হাজার কেজি। উদ্ধারকৃত হেরোইনের বাজারমূল্য ১৯ হাজার কোটি টাকা।

এ ঘটনার পর ভারতের অন্য বন্দরগুলোতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। আহমেদাবাদ, দিল্লি, চেন্নাই, গান্ধীধাম ও মাণ্ডবীতেও কড়া নজর রাখা হয়েছে। এসব এলাকা দিয়েই ভারতে মাদক পাচারের চেষ্টা হতে পারে বলে ধারণা রাজস্ব কর্মকর্তাদের।

তিনি আরও বলেন, আফগানিস্তান বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বেশির ভাগ হেরোইন সরবরাহ করে। তা ছাড়া বর্তমান সময়ের তালেবান সরকার তাদের অর্থনীতি সচল রাখতে মাদক পাচারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

রাজস্ব দপ্তরের আরেকজন কর্মকর্তা জানান, যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে জীবন ধারণে অনেকেই মাদক পাচারের কাজ বেছে নিয়েছে। হেরোইন তৈরিতে বাধা দিতে গত কয়েক বছরে দেশটিতে কোটি কোটি টাকা খরচ করেছে আমেরিকা। মাদকদ্রব্য তৈরির আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়েও খুব একটা লাভ হয়নি।

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, পাকিস্তান ও তালেবানের ভারতবিরোধী অংশ একসঙ্গে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য অর্থের জোগান দিতে বিপুল পরিমাণ আফগান হেরোইনকে ভারতে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তান নিয়ে চীনের আগ্রহ ইতিবাচক হতে পারে: যুক্তরাষ্ট্র
চীনের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানকে ব্যবহার নয়: তালেবান
তালেবানের ‘পক্ষে বলায়’ আফগানিস্তানে ৪ সাংবাদিক গ্রেপ্তার
আফগানিস্তানে আবার যেভাবে তালেবান
আফগানিস্তানে ২ মাসে ২৪০০ জনের মৃত্যু: জাতিসংঘ

শেয়ার করুন

রাতভর বৃষ্টিতে জলমগ্ন কলকাতা

রাতভর বৃষ্টিতে জলমগ্ন কলকাতা

পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের অনেক এলাকা।

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের খবরে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ধাপায় ১২৭, উল্টোডাঙ্গায় ১০৯, কালীঘাটে ১০৭, মানিকতলায় ৮১, বেলগাছিয়ায় ৮৩, পাতিপুকুরে ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি হয়েছে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনায়।

জলমগ্ন হয়ে পড়েছে কলকাতা শহরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলসহ রাজ্যের দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলা।

রোববার রাত থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় আলিপুরে বৃষ্টি হয়েছে ১০০ দশমিক ২ মিলিমিটার। কলকাতার বেশ কয়েকটা জায়গায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এতেই পানিতে থইথই শহর, গ্রাম।

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের খবরে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ধাপায় ১২৭, উল্টোডাঙ্গায় ১০৯, কালীঘাটে ১০৭, মানিকতলায় ৮১, বেলগাছিয়ায় ৮৩, পাতিপুকুর ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি হয়েছে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনায়।

আবহাওয়া দপ্তরের খবর, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। সেটি উত্তর ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশসংলগ্ন উপকূলে অবস্থান করছে। ঘূর্ণাবর্তের জেরে প্রচুর জলীয় বাষ্প স্থলভাগে ঢুকছে। তৈরি হচ্ছে মেঘ; আর তাতেই হচ্ছে তুমুল বৃষ্টিপাত।

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের খবর অনুযায়ী, সোমবার সারা দিন আকাশ মেঘলাই থাকবে। দফায় দফায় চলবে বৃষ্টি। উপকূলের জেলাগুলোতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে। মঙ্গলবার থেকে আবহাওয়ার উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। কমতে পারে বৃষ্টির পরিমাণ।

বাতাসে জলীয় বাষ্পের সর্বোচ্চ পরিমাণ ৯৯ শতাংশ, ফলে তাপমাত্রা কমলেও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি থাকবে।

বৃষ্টির জেরে নাকাল মানুষ

দমদম থেকে সোনারপুর বিস্তীর্ণ অঞ্চল বৃষ্টির পানিতে ডুবে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন নিত্যযাত্রীরা।

শিয়ালদা ও হাওড়া রেল কারশেডে পানি জমায় দেরিতে ট্রেন চলাচল করছে। বাতিল হতে পারে কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেনও। পাতিপুকুর আন্ডারপাসে পানি জমায় বন্ধ চক্র রেল। কলকাতা বিমানবন্দর টারমাক পানিমগ্ন হওয়ায় বিমান ওঠানামা করছে দেরিতে।

প্রশাসনিক তৎপরতা

কলকাতার জমা পানি সরাতে সাড়ে সাত শ পাম্পিং স্টেশন খোলা হয়েছে। এ ছাড়া বেলা ৩টা পর্যন্ত লকগেট বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন কলকাতা পৌরসভার নিকাশি বিভাগের সদস্য তারক সিং।

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তান নিয়ে চীনের আগ্রহ ইতিবাচক হতে পারে: যুক্তরাষ্ট্র
চীনের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানকে ব্যবহার নয়: তালেবান
তালেবানের ‘পক্ষে বলায়’ আফগানিস্তানে ৪ সাংবাদিক গ্রেপ্তার
আফগানিস্তানে আবার যেভাবে তালেবান
আফগানিস্তানে ২ মাসে ২৪০০ জনের মৃত্যু: জাতিসংঘ

শেয়ার করুন

হাওড়ায় ভারতের গভীরতম মেট্রো স্টেশন

হাওড়ায় ভারতের গভীরতম মেট্রো স্টেশন

ভৃপৃষ্ঠ থেকে হাওড়া মেট্রো স্টেশনের গভীরতা ৩২ দশমিক ৪ মিটার। ছবি: সংগৃহীত

ভূমি থেকে ১০৫ ফুট নিচে এ স্টেশনে যেতে চারটি লেভেল, পাঁচটি স্ল্যাব পার হতে হবে। সিঁড়ি দিয়ে চলতে যাদের অসুবিধা, তাদের জন্য রয়েছে ১২টি চলন্ত সিঁড়ি বা অ্যাসকেলেটর। তা ছাড়া থাকছে ছয়টি লিফট।

ভারতে এত দিন সবচেয়ে গভীর মেট্রোরেল স্টেশন ছিল দিল্লির হাউস খাস। ভূপৃষ্ঠ থেকে স্টেশনটির গভীরতা ৩০ মিটার।

পশ্চিমবঙ্গে নির্মাণাধীন হাওড়া মেট্রো স্টেশন গভীরতায় দিল্লির স্টেশনটিকে ছাড়িয়ে গেছে। ভারতের সবচেয়ে গভীর এ মেট্রোরেল স্টেশনে চড়তে ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩২ দশমিক ৪ মিটার নিচে নামতে হবে যাত্রীদের।

এক মিনিটে হাওড়া থেকে ধর্মতলা

হুগলি নদীর ৩০ মিটার গভীরে ৫২০ মিটারের দুটি টানেল দিয়ে চলবে হাওড়া মেট্রো। টানেলের এক প্রান্তে হাওড়া, অন্য প্রান্তে মহাকরণ।

ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে নদীর তলা দিয়ে ছুটবে এ ট্রেন। হাওড়া থেকে ধর্মতলা পৌঁছতে সময় লাগবে ১ মিনিট।

হাওড়া মেট্রো স্টেশনকে ‘দ্য ডিপেস্ট সাবওয়ে স্টেশন’ (গভীরতম পাতাল রেল) বলেছে ভারতের রেল বোর্ড। এ স্টেশনে ট্রেন চালু হওয়ার সম্ভাবনা ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে। জোর কদমে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

রেলওয়ে সূত্রের খবর, হাওড়া মেট্রো স্টেশন গঠনের কাজ শেষ হয়েছে। চলছে ফিনিশিং টাচ।

কী আছে স্টেশনে

ভূমি থেকে ১০৫ ফুট নিচে এ স্টেশনে যেতে চারটি লেভেল, পাঁচটি স্ল্যাব পার হতে হবে। সিঁড়ি দিয়ে চলতে যাদের অসুবিধা, তাদের জন্য রয়েছে ১২টি চলন্ত সিঁড়ি বা অ্যাসকেলেটর। তা ছাড়া থাকছে ছয়টি লিফট।

হাওড়ায় ভারতের গভীরতম মেট্রো স্টেশন

স্টেশনে থাকছে তিনটি প্ল্যাটফর্ম। হাওড়া ময়দান স্টেশন বা মহাকরণ, যেদিক দিয়ে ট্রেন আসুক না কেন, হাওড়া মেট্রো স্টেশনে রেকের দুই দিকের দরজা খুলে যাবে। যাত্রী চাপ সামলাতে এ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

দেশের ব্যস্ততম হওয়ায় কলকাতা মেট্রোর ইস্ট-ওয়েস্টে হাওড়া স্টেশনকে ‘কী স্টেশন’ বলা হয়েছে।

‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’

ভারতে প্রথম নদীর তল দিয়ে মেট্রো চলার পদক্ষেপকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়েছিলেন দেশটির রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। সে উদ্যোগের বাস্তবায়ন দেখতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তান নিয়ে চীনের আগ্রহ ইতিবাচক হতে পারে: যুক্তরাষ্ট্র
চীনের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানকে ব্যবহার নয়: তালেবান
তালেবানের ‘পক্ষে বলায়’ আফগানিস্তানে ৪ সাংবাদিক গ্রেপ্তার
আফগানিস্তানে আবার যেভাবে তালেবান
আফগানিস্তানে ২ মাসে ২৪০০ জনের মৃত্যু: জাতিসংঘ

শেয়ার করুন

পশ্চিমবঙ্গে গরুর পরিচয়পত্র, কানে ঝুলবে হলুদ ট্যাগ

পশ্চিমবঙ্গে গরুর পরিচয়পত্র, কানে ঝুলবে হলুদ ট্যাগ

পশ্চিমবঙ্গে গরুর আধার কার্ড দেয়া হবে, কানে ঝুলবে হলুদ ট্যাগ। ছবি: নিউজবাংলা

পরিচয়পত্র দেয়ার পর গবাদিপশুটির কানে একটি হলুদ ট্যাগ লাগানো থাকবে। হলুদ রঙের সেই ট্যাগে একটি চিপের মাধ্যমে ১২ সংখ্যার ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন নম্বর দেয়া থাকবে।

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যজুড়ে ব্রুসেল্লোসিস রোগের টিকাকরণের জন্য গরুর পরিচয়পত্র দেয়ার কাজ শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গ প্রাণিসম্পদ বিকাশ মন্ত্রণালয়।

পরিচয়পত্র দেয়ার পর গবাদিপশুটির কানে একটি হলুদ ট্যাগ লাগানো থাকবে। হলুদ রঙের সেই ট্যাগে একটি চিপের মাধ্যমে ১২ সংখ্যার ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন নম্বর দেয়া থাকবে।

এটি করা হলে চিপের মাধ্যমে ওই প্রাণী এবং তার মালিক সম্পর্কে প্রশাসনের হাতে যাবতীয় তথ্য চলে আসবে।

প্রথম দফায় ৫ হাজার ২৮০টি গরুকে টিকা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

যেসব গরুর ট্যাগ লাগানো হচ্ছে, সেসব গরু এবং তাদের মালিক-সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন করে রাখা হচ্ছে।

ব্রুসেল্লোসিস একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত গবাদিপশুর রোগ। এই রোগের মূল সমস্যা হলো, তিন থেকে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা গরুর গর্ভপাত হয়ে যায়।

গবাদিপশুর মাধ্যমে এই রোগের জীবাণু ছড়ায় মানুষের দেহে।

ব্রুসেল্লোসিস জীবাণুর সংক্রমণ হলে জ্বর, গাঁটে ব্যথা ইত্যাদি হয়।

পূর্ব বর্ধমান জেলার প্রাণিসম্পদ বিকাশ বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর সোমনাথ মাইতি জানান, পুরোদমে হলুদ ট্যাগ লাগানোর কাজ চলছে।

ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যটিতে গত বছর থেকে গরু ও মহিষকে আধার কার্ড দেয়ার কাজ শুরু হয়েছে।

ভাতার ব্লকের প্রাণী বিকাশ দপ্তরের আধিকারিক শঙ্খ ঘোষ বলেন, ‘২০ সেপ্টেম্বর থেকে গরুর ব্রুসেল্লোসিস রোগের টিকাকরণের কাজ শুরু হচ্ছে। এই টিকা মূলত দেয়া হয় চার থেকে আট মাস বয়সী বকনা বাছুরদের। ওই নির্দিষ্ট বয়সের বাছুরদের চিহ্নিতকরণের কাজ চলছে। গরুগুলোকে চিহ্নিত করতে হলুদ ট্যাগ পরানো হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তান নিয়ে চীনের আগ্রহ ইতিবাচক হতে পারে: যুক্তরাষ্ট্র
চীনের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানকে ব্যবহার নয়: তালেবান
তালেবানের ‘পক্ষে বলায়’ আফগানিস্তানে ৪ সাংবাদিক গ্রেপ্তার
আফগানিস্তানে আবার যেভাবে তালেবান
আফগানিস্তানে ২ মাসে ২৪০০ জনের মৃত্যু: জাতিসংঘ

শেয়ার করুন