আলাস্কায় ৮.২ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা

আলাস্কায় ৮.২ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা

আলাস্কার উপকূলে কোস্টগার্ডের নৌকা। ফাইল ছবি

হাওয়াইতেও সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের (এনডব্লিউএস) প্যাসিফিক সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য উপকূলীয় অঞ্চল, কানাডার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল আর জাপান ও নিউজিল্যান্ডেও সুনামির শঙ্কা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আট দশমিক দুই মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য আলাস্কা। জারি করা হয়েছে সুনামি সতর্কতা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্থানীয় সময় বুধবার রাত সোয়া ১০টার দিকে আলাস্কা উপদ্বীপে আঘাত হানে ভূমিকম্পটি। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর মেলেনি।

আমেরিকান ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎসস্থল ছিল পেরিভিল শহর থেকে ৫৬ মাইল দক্ষিণপূর্বে। আলাস্কার সর্ববৃহৎ শহর অ্যাঙ্করেজ থেকে প্রায় ৫০০ মাইল দূরের ছোট্ট শহর পেরিভিল।

ভূপৃষ্ঠের ২৯ মাইল গভীরে সৃষ্ট ভূমিকম্পটি। অগভীর মাটিতে উৎস বলে এর তীব্রতা ছিল বেশি।

ভূপৃষ্ঠের শূন্য থেকে ৭০ কিলোমিটারের মধ্যে ভূমিকম্প আঘাত হানলে সেটি অগভীর বিবেচিত হয়। সাধারণত এ ধরনের ভূমিকম্পের তীব্রতা হয় বেশি।

ভূমিকম্পের পর কমপক্ষে দুটি আফটারশক অনুভূত হয়েছে অঞ্চলটিতে। একটি ছয় দশমিক দুই মাত্রার এবং অপরটি পাঁচ দশমিক ছয় মাত্রার বলে জানিয়েছে ইউএসজিএস।

ভূমিকম্পের পর আলাস্কার দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে সুনামি সতর্কতা জারি করে প্রশাসন।

বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুনামি সতর্কতা সংস্থা জানায়, ‘ভূমিকম্পটির বিপজ্জনক তীব্রতার কারণে পরবর্তী তিন ঘণ্টার মধ্যে উপকূলের কয়েকটি অঞ্চলে সুনামি পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।’

সুনামি সতর্কতার আওতায় পড়েছে সাউথ আলাস্কা ও আলাস্কা উপদ্বীপ।

এ ছাড়া হাওয়াইতেও সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের (এনডব্লিউএস) প্যাসিফিক সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র।

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য উপকূলীয় অঞ্চল, কানাডার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল আর জাপান ও নিউজিল্যান্ডেও সুনামির শঙ্কা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত বছরের অক্টোবরে সাত দশমিক পাঁচ মাত্রার ভূমিকম্পের আঘাতে আলাস্কার দক্ষিণ উপকূলে সুনামি হয়। তবে সে সময় কেউ হতাহত হয়নি।

ভূমিকম্পপ্রবণ ও সক্রিয় প্যাসিফিক রিং অফ ফায়ার অঞ্চলে অবস্থিত আলাস্কা। ১৯৬৪ সালে এযাবৎকালের সবচেয়ে তীব্র ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল অঞ্চলটি। নয় দশমিক দুই মাত্রার প্রলয়ঙ্কারী ওই ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছিল অ্যাঙ্কোরেজ শহর।

ভূমিকম্পের পর সুনামি ভাসিয়ে দিয়েছিল আলাস্কা উপসাগর, যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল ও হাওয়াই।

ভূমিকম্প ও সুনামিতে সেবার প্রাণ যায় আড়াই শর বেশি মানুষের।

আরও পড়ুন:
ঢাকাসহ কয়েক জেলায় ভূমিকম্প
‘১০ মাত্রার ভূমিকম্পের ক্ষতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে হবে’
ভূমিকম্পের ঝুঁকি: সিলেটের সব ভবন পরীক্ষার উদ্যোগ
সেই স্কুলভবনটি ভূমিকম্প সহনীয় ছিল না
ভূমিকম্পে সিলেটে স্কুলভবনে ফাটল

শেয়ার করুন

মন্তব্য

গাড়ির কালো ধোঁয়া দেখবে কে

গাড়ির কালো ধোঁয়া দেখবে কে

কালো ধোঁয়া ছেড়ে ছুটে চলেছে ঢাকার মধ্যে চলাচল করা একটি বাস। ছবিটি মিরপুর এলাকা থেকে তুলেছেন সাইফুল ইসলাম।

রাজধানীর বাতাসে দূষণ এখন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। যানবাহন থেকে বের হওয়া কালো ধোঁয়া এর প্রধান উৎস। কিন্তু এটি নিয়ন্ত্রণের দায় কার? বিআরটিএ, পরিবেশ অধিদপ্তর নাকি ট্রাফিক পুলিশ?

সকাল ১০টা। রাজধানীর মৌচাক-মালিবাগ মোড়ে জ্যামে থেমে আছে ছোট বড় অনেক গাড়ি। হুট করে জ্যাম ছাড়লেই কে কাকে রেখে ছুটবে এই প্রতিযোগিতা। তবে জ্যামে আটকে থাকা বাসগুলো যেন কালো ধোঁয়ার ফোয়ারা ছুটিয়ে চলছে।

এমন দৃশ্য এখন ঢাকার প্রায় সব জায়গাতেই।

মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ অনুযায়ী, স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক বা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ধোঁয়া নির্গত হলে তা জরিমানাসহ শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

২০০২ সালের ৩১ ডিসেম্বর টু স্ট্রোক বেবি ট্যাক্সিসহ পুরাতন যানবাহন বন্ধের পর এক দিনে ঢাকার বায়ুতে দূষণের মাত্রা কমে যায় প্রায় ৩০ শতাংশ। তবে ২০১৩ সাল থেকে তা আবারও বাড়তে থাকে। গত আট বছরে সেই দূষণ বাড়তে বাড়তে তা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ২০২০ সালের জরিপে দেখা গেছে, রাজধানীর বাতাসকে দূষণে ভারী করে তুলছে যানবাহনের ধোঁয়া। বায়ুদূষণের জন্য এখন ৫০ ভাগ দায়ী মূলত তরল জ্বালানি পোড়ানোর মাধ্যমে তৈরি হওয়া এই ধোঁয়া। আর এই তালিকায় আছে বাস, লেগুনা, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মাইক্রোবাস।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ও বায়ুদূষণ বিষয়ক গবেষক অধ্যাপক আবদুস সালাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের গাড়িগুলো থেকে প্রচুর পরিমাণ ধোঁয়া আসে। আমাদের আশপাশের কারখানা, নির্মাণকাজ আর যেসব ময়লা আগুনে পোড়ানো হয়, সেখান থেকেও ধোঁয়া আসে। আমরা যদি পদক্ষেপ নেই, তবেই নির্মল বাতাস আশা করতে পারি।’

এক সময় ঢাকায় বায়ুদূষণের সবচেয়ে বড় উৎস ছিল ইটের ভাটা। প্রায় ৫৮ ভাগ বায়ুদূষণ ঘটত ইটের ভাটা থেকে। তবে রাজধানীর বাতাসকে এখন বিষিয়ে তুলছে যানবাহনের ধোঁয়া।

গাড়ির কালো ধোঁয়া দেখবে কে
সন্তানকে বায়ুদূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে মায়ের প্রচেষ্টা। ছবি: সাইফুল ইসলাম

গত এক সপ্তাহে রাজধানীর কয়েকটি প্রধান সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, মিনিবাস ও লেগুনা থেকে ধোঁয়া নির্গত হওয়ার পরিমাণ বেশি। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মতিঝিলগামী অনেক বাস থেকে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়।

সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হিসাব অনুযায়ী, দেশে মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ির সংখ্যা ৪ লাখ ৮১ হাজার ২৯টি, যেগুলো থেকে কালো বিষাক্ত ধোঁয়া বের হয়। ফিটনেসবিহীন গাড়ি থেকে যে কালো ধোঁয়া বের হয়, তার সুক্ষ্ম কণা বাতাসে মিলে তৈরি করছে কালো কার্বন, যা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, রাজধানীতে ফিটনেসবিহীন গাড়ির কালো ধোঁয়া ও নির্মাণকাজ থেকে প্রচুর ধুলা বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে, যা নিঃশ্বাসের সঙ্গে শরীরে ঢুকছে।

মাত্রার চেয়ে বেশি কালো ধোঁয়া ছড়ায় যেসব যান, তা জব্দ করাসহ বায়ুদূষণ রোধে ২০২০ সালের ১৩ জানুয়ারি ৯ দফা নির্দেশনা দেয় উচ্চ আদালত। এরপর গত ২৪ নভেম্বর এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত।

গত কয়েক বছরে ঢাকার রাস্তায় তৈরি হয়েছে কালো ধোঁয়ার আধিক্য। সেই সঙ্গে ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও রাস্তার পাশে জমে থাকা ধুলা রাজধানীর বায়ুকে দিন দিন বিষিয়ে তুলেছে। ঢাকায় গত ১৬ বছরে মাত্র কয়েক দিনের জন্য নির্মল বাতাসের দেখা পাওয়া গিয়েছিল এ বছর জুলাই মাসে। আর সেটি সম্ভব হয় লকডাউন ও ঈদের ছুটির কারণে।

২০২১ সালের হিসাবে, দেশে নিবন্ধিত মোটরযান আছে ৪৭ লাখ ২৯ হাজার ৩৯৩টি। এর মধ্যে রাজধানীতে রয়েছে ১৬ লাখের বেশি গাড়ি। ২০২০ সাল থেকে প্রায় ২ লাখ বেশি গাড়ি এক বছরে নিবন্ধিত হয়েছে।

মূলত ফিটনেসবিহীন এবং মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন থেকে কালো ধোঁয়া বেশি ছড়ায়। যানবাহনের ফিটনেস সনদ দিয়ে থাকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআরটিএ-এর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করি। তবে কালো ধোঁয়া নির্গত হয় যেসব গাড়ি থেকে, সেটি পরিমাপ করার যন্ত্র এখন আমাদের কাছে নেই। তাই আমরা সেই বিষয়ে আলাদা করে অভিযান করি না বা করতেও পারি না।’

গাড়ির কালো ধোঁয়া দেখবে কে
ঢাকার বাতাস দূষণ নিয়ে প্রায়ই খবরের শিরোনাম হয়। ছবি: সাইফুল ইসলাম

পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে এমন অভিযান করা হয় জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘সাধারণত যখন পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করে, তখন তারা এমন যন্ত্র নিয়ে করে থাকে। আমরা এই যন্ত্র তাদের থেকে নেয়ার পরিকল্পনা করছি।’

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জিয়াউল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা অভিযান পরিচালনা করছি। পরিবেশ বিধিমালা এই বছরের জানুয়ারিতে সংশোধন করা হয়েছে।’

গাড়ির কালো ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণের একটা বড় দায়িত্ব থাকে ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর। তবে রাস্তায় দেখা গেছে, ট্রাফিক পুলিশের সামনে দিয়েই গাড়ি কালো ধোঁয়া নির্গত করে চলে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ফিটনেসবিহীন গাড়ি আটক করা হলেও সেটি ছাড় পেয়ে যাচ্ছে।

হাতিরঝিলে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা সাইফুল আলম অনেকটা বিরক্তি নিয়ে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভাই ঢাকায় এখন রাস্তায় বের হওয়া দায়। আগে শুধু জ্যামের অজুহাত ছিল। এখন ঠিকমত নিঃশ্বাস নিতে পারি না।’

রাজধানীর রামপুরা থেকে বাড্ডা হয়ে কুড়িল যাবার রাস্তায় সকাল ও বিকেলের একটা বড় সময় জ্যাম থাকে। জ্যামের সঙ্গে থাকে গাড়ির কালো ধোঁয়ার আধিক্য। এই রুটে কয়েকটি স্থানে ট্রাফিক দায়িত্বে থাকলেও দূষণ নিয়ন্ত্রণে আলাদা কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি।

গুলশান বিভাগের ট্রাফিকে উপপুলিশ কমিশনার মো. রবিউল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রতিদিন আমাদের সার্বিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আমরা ফিটনেস সার্টিফিকেট দেখি। এটা আমাদের রেগুলার ওয়ার্ক। কালো ধোঁয়া কোনো গাড়ি থেকে নির্গত হলেই আমরা সেটিকে আটক করি। সেটির ফিটনেস কাগজ দেখি। এটা চলমান প্রক্রিয়া।

‘তবে পরিবেশকেন্দ্রিক কালো ধোঁয়ার যে প্রভাব, সেটি নিয়ে আমরা আলাদা অভিযান করি না। আমাদের ট্রাফিক যারা আছেন, তারা যদি দেখেন কোনো গাড়ি থেকে কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে, তবে সেটিকে তারা আটক করেন। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়।’

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ডিন ও বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) পরিচালক অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এক সময় ঢাকায় বায়ুদূষণের সবচেয়ে বড় উৎস ছিল ইটের ভাটা। প্রায় ৫৮ ভাগ বায়ুদূষণ ঘটত ইটের ভাটা থেকে। কিন্তু এখন ইটের ভাটার দূষণকে ছাড়িয়ে গেছে নির্মাণকাজ এবং গাড়ির ধোঁয়া। সড়ক নির্মাণ ও মেগা প্রজেক্টের কারণে প্রায় ৩০ ভাগ বায়ুদূষণ হচ্ছে। ইটের ভাটা থেকে এখন ৩০ ভাগ, যানবাহন থেকে ১৫ ভাগ, বর্জ্য পোড়ানো থেকে ৯ ভাগ দূষণ হয়।’

আরও পড়ুন:
ঢাকাসহ কয়েক জেলায় ভূমিকম্প
‘১০ মাত্রার ভূমিকম্পের ক্ষতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে হবে’
ভূমিকম্পের ঝুঁকি: সিলেটের সব ভবন পরীক্ষার উদ্যোগ
সেই স্কুলভবনটি ভূমিকম্প সহনীয় ছিল না
ভূমিকম্পে সিলেটে স্কুলভবনে ফাটল

শেয়ার করুন

চায়না দোয়ারির দৌরাত্ম্যে হুমকির মুখে মৎস্যসম্পদ

চায়না দোয়ারির দৌরাত্ম্যে হুমকির মুখে মৎস্যসম্পদ

জেলেরা জানান, চীনের এ জালে মাছ ধরতে কোনো খাবার বা টোপ দিতে হয় না। সহজে মাছ ধরা পড়ে বলে আয় বেশি, পরিশ্রমও কম। নদীর মিঠা পানির সব ধরনের মাছ সূক্ষ্ম এই জালে ধরা পড়ছে।

মাদারীপুরে নদ-নদী, খাল-বিলসহ বিভিন্ন জলাশয়ে মাছ ধরতে বেশ কিছু দিন ধরে ‘চায়না দোয়ারি’ বা ঘন বুননের এক ধরনের জাল ব্যবহার করছেন জেলেরা। এ জালে ধরা পড়ছে ছোট-বড় মাছ ও পোনা। এমনকি মাছের ডিমও উঠে আসছে।

চায়না দোয়ারির কারণে হুমকির মুখে পড়ছে জেলার মৎস্য সম্পদ। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এ ধারা অব্যাহত থাকলে মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে সরকারের কোনো উদ্যোগই কাজে আসবে না। মুক্ত জলাশয়গুলো হয়ে পড়বে মাছ শূন্য।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ‘চায়না দোয়ারি’ জব্দ ও অভিযুক্তদের জরিমানা করা হয়েছে। তবে এসব অভিযানে থামেনি মৎস্য শিকারিদের দৌরাত্ম্য।

জেলার বিভিন্ন নদীপাড়ের বাসিন্দা ও জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি প্রায় ৬০ থেকে ৮০ ফুট লম্বা একেকটি চায়না দোয়ারির দাম ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা। অতি সূক্ষ্ম ও ঘন এ জালের বৈশিষ্ট্য হলো নদ-নদী, বিল-বাওর বা অন্যান্য জলাশয়ে মাটির সাথে লম্বা-লম্বিভাবে লেগে থাকে এবং দুই দিক থেকেই মাছ ঢুকতে পারে।

তারা আরও জানান, চীনের এ জালে মাছ ধরতে কোনো খাবার বা টোপ দিতে হয় না। সহজে মাছ ধরা পড়ে বলে আয় বেশি, পরিশ্রমও কম। নদীর মিঠা পানির সব ধরনের মাছ সূক্ষ্ম এই জালে ধরা পড়ছে।

নদীতে পানি বেশি থাকলেও ডিমওয়ালা চিংড়ি, পুঁটি, টেংরা, কই, শিং, মাগুর, তেলাপিয়া, বেলে, বোয়াল, শোল, টাকিসহ প্রাকৃতিক সব মাছই ধরা পড়ছে।

জেলেরা জানান, মাছের ডিমও এ জালে আটকে যায়। এ ছাড়া কুচিয়া, ব্যাঙ, সাপসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীও উঠে আসে। খাওয়া না যাওয়ায় এগুলো অবাধে মারা পড়ছে।

মাদারীপুর সিনিয়র সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তপন মজুমদার বলেন, ‘স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সহযোগিতায় নিষিদ্ধ চায়না দোয়ারির বিরুদ্ধে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, উদ্বুদ্ধকরণ সভা, মোবাইল কোর্ট ও অভিযান অব্যাহত আছে। এভাবে মৎস্য সম্পদ ধ্বংস করতে দেওয়া হবে না।’

মাদারীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বাবুল কৃষ্ণ ওঝা বলেন, ‘অবৈধ চায়না দোয়ারি বিল-বাওর, নদী-নালা, খাল ও মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য সম্পদের জন্য হুমকি স্বরূপ। ১৭টি অভিযানে ২২২টি চায়না দোয়ারি জব্দ ও নষ্ট করা হয়েছে। একটি মামলা ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটি বেআইনি কাজ। এর বিরুদ্ধে জেলাব্যাপী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
ঢাকাসহ কয়েক জেলায় ভূমিকম্প
‘১০ মাত্রার ভূমিকম্পের ক্ষতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে হবে’
ভূমিকম্পের ঝুঁকি: সিলেটের সব ভবন পরীক্ষার উদ্যোগ
সেই স্কুলভবনটি ভূমিকম্প সহনীয় ছিল না
ভূমিকম্পে সিলেটে স্কুলভবনে ফাটল

শেয়ার করুন

বছরের ব্যবধানে কুয়াকাটায় ৩ গুণ মৃত ডলফিন

বছরের ব্যবধানে কুয়াকাটায় ৩ গুণ মৃত ডলফিন

কুয়াকাটা সৈকতে চলতি বছর ভেসেছে ২১টি মৃত ডলফিন। ছবি: নিউজবাংলা

কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটি জানায়, এ বছর মোট ২১টি মৃত ডলফিন কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এসেছে। ২০২০ সালে কুয়াকাটাসংলগ্ন উপকূলে ভেসে এসেছিল আটটি মৃত ডলফিন। সেগুলো মাটিচাপা দেয়া হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও উদ্ঘাটন করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

কুয়াকাটা সৈকতে চলতি বছরের ৯ মাসে ভেসে এসেছে ২১টি মৃত ডলফিন। গত বছরের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় তিন গুণ।

সামুদ্রিক পরিবেশের জন্যও উপকারী প্রাণীটির এমন মৃত্যু উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন পরিবেশবিদরা।

কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির সদস্য আবুল হোসেন রাজু জানান, বৃহস্পতিবার সকালে জোয়ারের পানিতে কুয়াকাটার গঙ্গামতি চরের তেত্রিশকানিসংলগ্ন সৈকতে একটি মৃত ডলফিন ভেসে আসে। প্রায় পাঁচ ফুট দৈর্ঘ্যের ডলফিনটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। স্থানীয় জেলেরা ডলফিনটি দেখে খবর দিলে কমিটির সদস্যরা গিয়ে ডলফিনটি মাটিচাপা দেন।

এ কমিটির আরেক সদস্য কে এম বাচ্চু জানান, গত ৯ সেপ্টেম্বর সকালে সৈকতের জিরো পয়েন্টসংলগ্ন সানসেট পয়েন্টে একটি মৃত ডলফিন ভেসে আসে। আগের দিন সকালে সৈকতের গঙ্গামতি এলাকায় ছয় ফুট দৈর্ঘে্যর আরেকটি মৃত ডলফিন পাওয়া যায়। একই দিন দুপুরে জিরো পয়েন্টের পশ্চিম পাশে মেলে আরেকটি মৃত ডলফিন।

তিনি আরও জানান, কমিটির সদস্যদের সহায়তায় ডলফিনগুলোকে উদ্ধার করে মাটিচাপা দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে এ বছর মোট ২১টি মৃত ডলফিন কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এলো।

এর আগে শুধু আগস্টে সৈকতে ভেসে আসে ১০টি মৃত ডলফিন। আর ২০২০ সালে কুয়াকাটাসংলগ্ন উপকূলে ভেসে এসেছিল আটটি মৃত ডলফিন। যেগুলো মাটিচাপা দেয়া হলেও মারা যাবার প্রকৃত কারণ এখনও উদ্ঘাটন করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

গত বছর মৃত ডলফিন ভেসে আসা নিয়ে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি পাঁচটি কারণ জানিয়েছিল। তার ভিত্তিতে কিছু সুপারিশও করেছিল। তবে তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

বছরের ব্যবধানে কুয়াকাটায় ৩ গুণ মৃত ডলফিন


এ ছাড়া ডলফিনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে বিস্তারিত পরীক্ষাও করা হয়নি। বরং ভেসে আসা ডলফিন থেকে নমুনা না নিয়েই তা মাটিচাপা দেয়া হয়। অবশ্য গত ৯ সেপ্টেম্বর ভেসে আসা ডলফিনের নমুনা নিয়ে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।

ডলফিনের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান না করেই মাটিচাপা দেয়ার বিষয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয়রাও। তারা জানান, ডলফিনগুলোর ময়নাতদন্ত করে মৃত্যুর কারণ জেনে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এসব মৃত ডলফিনের অধিকাংশেরই লেজ থাকে জালে প্যাঁচানো। আবার কিছু কিছু ডলফিনের মুখে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাওয়া যায়। তবে কিছু ডলফিন সৈকতে আসে অর্ধগলিত অবস্থায়। সেগুলোর শরীরে কিছু বোঝার উপায় থাকে না।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক বলেন, ‘কী কারণে ডলফিন মারা যাচ্ছে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে এগুলো সংরক্ষণ করে মৃত্যুর কারণ বের করতে মৎস্য ও বন বিভাগকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

‘ইতোমধ্যে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ওয়ার্ল্ডফিশের সহায়তায় মৎস্য ও বন বিভাগ মৃত ডলফিনগুলো পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানতে পেরেছি।’

কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘ডলফিনের মৃত্যুর কারণ তদন্তে যে ধরনের মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি ও লোকবল থাকা দরকার, তা মৎস্য অধিদপ্তরের নেই। এ কারণে এগুলো সংরক্ষণ করা সম্ভব হয় না। কোনো উপায় না থাকায় মৃত ডলফিনগুলো মাটিচাপা দিতে বলা হচ্ছে স্থানীয়দের।’


বছরের ব্যবধানে কুয়াকাটায় ৩ গুণ মৃত ডলফিন


তদন্ত প্রতিবেদনের বাস্তবায়ন নেই

গত বছর মৃত ডলফিন ভেসে আসার ঘটনায় জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত দল করেছিল। সেই তদন্ত দলে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।

সরেজমিন তদন্ত শেষে এই দলের দেয়া প্রতিবেদনে পাঁচটি কারণ বলা হয়। সেগুলো হলো, মাছ ধরার জাহাজগুলোর বেহুন্দি জালে আটকা পড়া, জাহাজের পাখার আঘাত পাওয়া, রাক্ষুসে সামুদ্রিক প্রাণীর আক্রমণ, সামুদ্রিক দূষণ এবং প্রাকৃতিক কারণ।

এই পাঁচটি কারণের মধ্যে সামুদ্রিক দূষণের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়, পানির ভৌত ও রাসায়নিক মান ভালো ও গ্রহণযোগ্য মাত্রায় রয়েছে। এ কারণে ডলফিনগুলো পানি দূষিত বা বিষক্রিয়ায় মারা যায়নি।

বাকি চারটি কারণের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে বেহুন্দি জালে আটকা পড়া এবং জাহাজের পাখায় আঘাত পাওয়া। গভীর সাগরে মাছ শিকারে পেতে রাখা বড় জালে এসব ডলফিন আটকে পড়ে মারা যেতে পারে অথবা সাগরে বড় বড় জাহাজের পাখনায় ধাক্কা খেয়েও মারা যেতে পারে।

কমিটির সুপারিশে এসব মৃত ডলফিনের ময়নাতদন্তের কথা উল্লেখ থাকলেও আজ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্লাহ জানান, ময়নাতদন্ত বন বিভাগ আর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের করার কথা। জেলা মৎস্য অফিসের পক্ষে এটা করা সম্ভব নয়। আমরা তাদের বলেছি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমাদের খুঁজে বের করা উচিত কেন এগুলো এভাবে মারা যাচ্ছে। তারপর ব্যবস্থা নিতে হবে।’

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ডলফিন মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও অজানা। মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনে মৃত ডলফিনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

খেপুপাড়া মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে কেউ ফোন ধরেননি।

বছরের ব্যবধানে কুয়াকাটায় ৩ গুণ মৃত ডলফিন


ডলফিন নিয়ে বিশেষজ্ঞের মতামত

মৎস্য অধিদপ্তর বরিশালের সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পের উপপরিচালক কামরুল ইসলাম জানান, ভেসে আসা এসব ডলফিন বঙ্গোপসাগরের অগভীর অঞ্চলে থাকে। ২০-২৫ মিনিট পরপর এরা অক্সিজেন নিতে পানির ওপরে আসে। তখনও এরা মূলত দুর্ঘটনার শিকার হয়।

তিনি আরও জানান, বঙ্গোপসাগরে দুই প্রজাতির ডলফিন পাওয়া যায়। একটি হলো বটল নোজ (বোতলের মতো মুখ) এবং আরেকটি হলো হাম্পব্যাক ডলফিন (পিঠের দিকটা সামান্য ভাঁজ ও কুঁজো)। কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে আসা মৃত ডলফিনগুলো হলো হাম্পব্যাক ডলফিন।

ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরের অগভীর অঞ্চলে এই প্রজাতির ডলফিন বেশি দেখা যায়। এর পিঠের অংশ সামান্য উঁচু, তাই একে কুঁজো ডলফিন বলা হয়। এর সামনের চোয়াল বেশ লম্বা এবং ৩০-৩৪টি দাঁতযুক্ত।

ইকোফিশ-২ প্রকল্পের সহকারী গবেষক সাগরিকা স্মৃতি জানান, মৃত ডলফিনের অন্ত্রের একটি অংশ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে এবং অপর একটি অংশ বন অধিদপ্তরের পরীক্ষাগারে পাঠানো হচ্ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডলফিনটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

বছরের ব্যবধানে কুয়াকাটায় ৩ গুণ মৃত ডলফিন

তিনি বলেন, ‘ডলফিনসহ এ অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় স্থানীয় জেলেদের ব্যাপক হারে সচেতন করাতে হবে। কারণ সাগরে মাছ শিকারের সময় জেলেরা এসব ডলফিনকে না বুঝে এবং ভয় ও আতঙ্কে আঘাত করতে পারেন। পাশাপাশি সাগরকে দূষণমুক্ত রাখতে হবে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সাজেদুল হক বলেন, ‘ডলফিন পরিবেশের জন্য অনেক উপকারী। এভাবে ডলফিনের মৃত্যু হতে থাকলে পরিবেশের ওপর এর খারাপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
ঢাকাসহ কয়েক জেলায় ভূমিকম্প
‘১০ মাত্রার ভূমিকম্পের ক্ষতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে হবে’
ভূমিকম্পের ঝুঁকি: সিলেটের সব ভবন পরীক্ষার উদ্যোগ
সেই স্কুলভবনটি ভূমিকম্প সহনীয় ছিল না
ভূমিকম্পে সিলেটে স্কুলভবনে ফাটল

শেয়ার করুন

৮০ বছর পর দেশে ফিরছে নীলগাই, দুই শাবকের জন্ম

৮০ বছর পর দেশে ফিরছে নীলগাই, দুই শাবকের জন্ম

গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে প্রথমবারের মতো দুটি নীলগাইয়ের শাবক জন্ম নিয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

সাফারি পার্ক সূত্রে জানা যায়, দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে এক সময় অবাধ বিচরণ ছিল নীলগাইয়ের। ১৯৪০ সালের আগ বাংলাদেশে নীলগাই দেখা যেত। বনাঞ্চল উজাড় হওয়া, বসবাসের পরিবেশ হারানো, খাদ্য সংকট ও অবাধে শিকারের কারণে পরিবেশে প্রাণীটির সংখ্যা কমতে থেকে এক সময় নীলগাইয়ের নাম ওঠে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর তালিকায়।

গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে প্রথমবারের মতো দুটি নীলগাইয়ের শাবক জন্ম নিয়েছে।

গত ১ আগস্ট শাবক দুটির জন্ম হয় বলে শুক্রবার সংবাদমাধ্যমকে জানায় সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ।

এই দুই শাবকের জন্মের পর প্রায় ৮০ বছর আগে বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্তপ্রায় নীলগাইয়ের আবার প্রকৃতিতে ফিরে আসার সম্ভাবনা দেখছে সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ।

সাফারি পার্ক সূত্রে জানা যায়, দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে এক সময় অবাধ বিচরণ ছিল নীলগাইয়ের। ১৯৪০ সালের আগ বাংলাদেশে নীলগাই দেখা যেত। বনাঞ্চল উজাড় হওয়া, বসবাসের পরিবেশ হারানো, খাদ্য সংকট ও অবাধে শিকারের কারণে পরিবেশে প্রাণীটির সংখ্যা কমতে থেকে এক সময় নীলগাইয়ের নাম ওঠে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর তালিকায়।

পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, এই দুটি নীলগাই শাবক মিলিয়ে বাংলাদেশে নীলগাইয়ের সংখ্যা চারটি। সাফারি পার্কের বাইরে দেশে আর কোথাও এ প্রাণী এখন নেই।

পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক তবিবুর রহমান জানান, ২০১৯ সালের ২২ জানুয়ারি নওগাঁর মান্দা উপজেলার জোতবাজার এলাকায় একটি নীলগাইকে ধরে এলাকাবাসী। এটিকে জবাই করার প্রস্তুতি নিলে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় রাজশাহীর বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ পুরুষ নীলগাইটি উদ্ধার করে। চিকিৎসা শেষে ওই বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুরের রামসাগর জাতীয় উদ্যানে নীলগাইটিকে স্থানান্তর করা হয়।

অন্যদিকে, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা গ্রামের মামুদপুর-ঠুঠাপাড়া বর্ডার এলাকার বাসিন্দারা একটি নীলগাই দেখতে পায়। তারা এটিকে ধরে জবাই করার প্রস্তুতি নিলে বিজিবি-৫৩-এর (মামুদপুর বিওপির) সদস্যরা ওই মাদী নীলগাইকে উদ্ধার করে রাজশাহীর বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে। পরে এটিকে সাফারি পার্কে আনা হয়।

এরপর দিনাজপুরের রামসাগর জাতীয় উদ্যান থেকে পুরুষ নীলগাইটিকে প্রজননের জন্য সাফারী পার্কে আনা হয় বলেও জানান পার্কের এই কর্মকর্তা।

পার্কের ওয়াইল্ডলাইফ সুপারভাইজার সারোয়ার হোসেন খান জানান, হেমন্ত থেকে শীতকালের শুরু পর্যন্ত নীলগাইয়ের প্রজনন সময়। এর গর্ভধারণ কাল গড়ে ২৪৩ দিন এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে নীলগাই যমজ বাচ্চা প্রসব করে। ক্ষেত্র বিশেষে একটি থেকে তিনটি শাবকও প্রসব করে থাকে।

জন্মের ৪০ মিনিটের ভেতর দাঁড়াতে পারে এরা। পুরুষ নীলগাই তিন বছর এবং মাদী নীলগাই দুই বছরের মধ্যে প্রজননক্ষম হয়ে ওঠে। এই প্রাণীর গড় আয়ু ২১ বছর।

পুরুষ নীলগাইয়ের বর্ণ গাঢ় ধূসর, অনেকটা কালচে রঙের। অনেক সময় নীলচে আভা দেখা যায় বলে এদের নীলগাই নামকরণ হয়েছে। শুধুমাত্র পুরুষ নীলগাইয়ের দুটি কৌণিক, মসৃণ ও সামনের দিকে কিঞ্চিত বাকানো শিং থাকে। এদের দৈর্ঘ্য ৫২-৫৮ইঞ্চি, শিংয়ের দৈর্ঘ্য ৮-১২ইঞ্চি।

মাদী নীলগাই এবং শাবকের রং লালচে বাদামী, তবে খুরের ওপরের লোম সাদা। ঠোঁট, থুতনি, কানের ভেতরের দিক ও লেজের নীচের অংশ সাদা।

নীলগাই ছোট ছোট পাহাড় আর ঝোপ-জঙ্গলপূর্ণ মাঠে চরে বেড়াতে পছন্দ করে। ঘন বন এরা এড়িয়ে চলে। ৪-১০ সদস্যের দল নিয়ে এরা ঘুরে বেড়ায়। তবে দলে কখনও কখনও ২০ বা তার বেশি সদস্যও থাকতে পারে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কের প্রকল্প পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী বলেন, ‘উদ্ধার করা নীলগাই দুটি ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে বলে আমাদের ধারণা। এরা জুটি বাঁধার ১১ মাস ১১ দিন পর ১ আগস্ট দুটি ফুটফুটে বাচ্চা জন্ম দেয়। বর্তমানে শাবক দুটি সুস্থ আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ নীলগাই শূন্য হলেও ভারতে লাখের ওপর নীলগাই রয়েছে। আমরা আশা করছি দেশের বিলুপ্ত প্রায় প্রাণীর তালিকায় থাকা নীলগাই গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কের মাধ্যমে আবারও প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরে আসবে।’

আরও পড়ুন:
ঢাকাসহ কয়েক জেলায় ভূমিকম্প
‘১০ মাত্রার ভূমিকম্পের ক্ষতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে হবে’
ভূমিকম্পের ঝুঁকি: সিলেটের সব ভবন পরীক্ষার উদ্যোগ
সেই স্কুলভবনটি ভূমিকম্প সহনীয় ছিল না
ভূমিকম্পে সিলেটে স্কুলভবনে ফাটল

শেয়ার করুন

টেকসই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে প্রধামন্ত্রীর ছয় দফা

টেকসই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে প্রধামন্ত্রীর ছয় দফা

শনিবার ‘মেজর ইকোনমিজ ফোরাম অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লাইমেট’ শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ওয়াশিংটন ডিসিতে জলবায়ুবিষয়ক এক শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, বন্যা ও খরার প্রভাব ছাড়াও ১১ লাখ রোহিঙ্গা জোরপূর্বক মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়ার কারণে বাংলাদেশ গুরুতর জলবায়ু প্রভাবের সম্মুখীন হচ্ছে।’

আগামী প্রজন্মের জন্য টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে বিশ্বের প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ লক্ষ্যে ছয় দফা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রেখেছেন সরকারপ্রধান।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ডাকা ‘মেজর ইকোনমিজ ফোরাম অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লাইমেট’ শিরোনামে শীর্ষ সম্মেলনে শনিবার দেয়া ভাষণে এ প্রস্তাব রাখেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর রাখা প্রস্তাবগুলোর মধ্যে আছে:

১. প্রধান কার্বন নির্গমনকারী দেশগুলোকে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখার লক্ষ্যে তাদের কার্বন নির্গমন হ্রাস করার জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে।

২. জলবায়ু তহবিলের জন্য উন্নত দেশগুলোর বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলারের অঙ্গীকার পূরণ করতে হবে এবং অভিযোজন ও প্রশমনের মধ্যে ৫০:৫০ বিতরণ করতে হবে।

৩. উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রযুক্তি হস্তান্তরের পাশাপাশি সবচেয়ে কার্যকর জ্বালানি সমাধান নিয়ে উন্নত দেশগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।

৪. নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে উত্তরণের ক্ষেত্রে জাতি-রাষ্ট্রগুলোর সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন অগ্রাধিকারগুলোর হিসাব নেয়া এবং তাদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে লোকসান ও ক্ষতির বিষয়গুলো বিবেচনা করা উচিত।

৫. সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, বন্যা ও খরার কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব সব দেশের ভাগ করে নেয়া দরকার।

৬. পরবর্তী প্রজন্মের জন্য টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোকে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে বিশ্বব্যাপী সব অংশীজনের সঙ্গে কাজ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী নভেম্বরে গ্লাসগোতে অনুষ্ঠেয় কপ২৬ সম্মেলনে দৃঢ় ও তাৎপর্যপূর্ণ ফলাফল কামনা করেন এবং এ লক্ষ্যে সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার জন্য বিশ্বের প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, বন্যা ও খরার প্রভাব ছাড়াও ১১ লাখ রোহিঙ্গা জোরপূর্বক মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়ার কারণে বাংলাদেশ গুরুতর জলবায়ু প্রভাবের সম্মুখীন হচ্ছে।’

জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন ও প্রশমন প্রচেষ্টায় তার সরকার অগ্রণী হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ সম্প্রতি একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও হালনাগাদ করা এনডিসি জমা দিয়েছে।’

বাংলাদেশ বিশ্বের সর্বাধিক বিস্তৃত অভ্যন্তরীণ সৌরশক্তি কর্মসূচি গ্রহণ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে, যা জলবায়ু ঝুঁকি থেকে জলবায়ু সহিষ্ণুতা এবং তা থেকে জলবায়ু সমৃদ্ধি পর্যন্ত একটি যাত্রা।”

জলবায়ু ঝুঁকি ফোরাম (সিভিএফ) এবং ভি-২০-এর সভাপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর স্বার্থ তুলে ধরা।’

তিনি আরও বলেন, ঢাকায় গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপ্টেশনের দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমেও বাংলাদেশ সেরা অনুশীলন ভাগ করে নেয়।

আরও পড়ুন:
ঢাকাসহ কয়েক জেলায় ভূমিকম্প
‘১০ মাত্রার ভূমিকম্পের ক্ষতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে হবে’
ভূমিকম্পের ঝুঁকি: সিলেটের সব ভবন পরীক্ষার উদ্যোগ
সেই স্কুলভবনটি ভূমিকম্প সহনীয় ছিল না
ভূমিকম্পে সিলেটে স্কুলভবনে ফাটল

শেয়ার করুন

‘সিআরবি রক্ষা করতে হবে চট্টগ্রামের স্বার্থে’

‘সিআরবি রক্ষা করতে হবে চট্টগ্রামের স্বার্থে’

সমাবেশে নাগরিক সমাজ চট্টগ্রামের কো-চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান বলেন, ‘সিআরবি চট্টগ্রামের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট করে কোনো উন্নয়ন হতে পারে না। সিআরবি রক্ষা করতে হবে চট্টগ্রামের স্বার্থে।’

চট্টগ্রামের সিআরবি রক্ষার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি ও সমাবেশ করেছেন সর্বস্তরের নাগরিকরা।

ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে শুক্রবার বিকেলে আন্দোলনকারী সংগঠন নাগরিক সমাজের আয়োজনে কর্মসূচি পালন হয়।

সমাবেশে নাগরিক সমাজ চট্টগ্রামের কো-চেয়ারম্যান ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, ‘সিআরবি চট্টগ্রামের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট করে কোনো উন্নয়ন হতে পারে না। সিআরবি রক্ষা করতে হবে চট্টগ্রামের স্বার্থে।’

তিনি আর বলেন, ‘সিআরবি রক্ষার আন্দোলন পরিবেশ রক্ষার মানবিক আন্দোলন। পরিবেশর রক্ষা হলে মানুষ বাঁচবে। মানুষের প্রতি, দেশের প্রতি যাদের দায়বদ্ধতা নেই, তারাই সিআরবিতে হাসপাতাল চায়। যে কোন মূল্যে সিআরবি রক্ষা করা হবে।’

নাগরিক সমাজ চট্টগ্রামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন।

উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউনুস, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহাজাহান চৌধুরী, ঋত্বিক নয়ন, আবৃত্তি শিল্পী প্রনব চৌধুরী, সাবেক ছাত্র নেতা আরফাতুল রহমান ঝিনুক,তাপস দেসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
ঢাকাসহ কয়েক জেলায় ভূমিকম্প
‘১০ মাত্রার ভূমিকম্পের ক্ষতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে হবে’
ভূমিকম্পের ঝুঁকি: সিলেটের সব ভবন পরীক্ষার উদ্যোগ
সেই স্কুলভবনটি ভূমিকম্প সহনীয় ছিল না
ভূমিকম্পে সিলেটে স্কুলভবনে ফাটল

শেয়ার করুন

আগুন থেকে বাঁচতে কম্বল গায়ে বিশ্বের বৃহত্তম গাছ

আগুন থেকে বাঁচতে কম্বল গায়ে বিশ্বের বৃহত্তম গাছ

আগুন প্রতিরোধী কম্বলে মোড়ানো বিশ্বের বৃহত্তম গাছ জেনারেল শারম্যানের গোড়া। ছবি: ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস

জেনারেল শারম্যানসহ বেশ কয়েকটি গাছকে আগুনের তাপ থেকে বাঁচাতে গাছের গোড়ায় মুড়ে দেয়া হয়েছে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল। আড়াই হাজার বছরের পুরোনো গাছটির উচ্চতা ২৭৫ ফুট। আয়তনের দিক থেকেও পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জীবন্ত এক শাখার গাছ এটি।

যুক্তরাষ্ট্রে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চল পুড়ছে দাবানলে। বিশ্বের প্রাচীনতম ও সর্ববৃহৎ কয়েকটি গাছের আবাস ক্যালিফোর্নিয়ার বিখ্যাত সেকোয়া ন্যাশনাল পার্ক। ধেয়ে আসা আগুন থেকে বাঁচাতে গাছগুলোকে মুড়ে দেয়া হচ্ছে আগুন প্রতিরোধী কম্বল দিয়ে।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, পরবর্তী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিশাল বনাঞ্চলটিতে দাবানল পৌঁছে যেতে পারে বলে ধারণা করছে স্থানীয় প্রশাসন। আগুন নিয়ন্ত্রণে ৩৫০ জনের বেশি ফায়ার সার্ভিসকর্মীর পাশাপাশি কাজ করছে কয়েকটি হেলিকপ্টার আর জলবোমা ছোড়া বিমান।

বনটিতে প্রায় দুই হাজার সুউচ্চ সেকোয়া গাছ রয়েছে। সবচেয়ে উঁচু সেকোয়া গাছটির নাম জেনারেল শারম্যান। আড়াই হাজার বছরের পুরোনো গাছটির উচ্চতা ২৭৫ ফুট। আয়তনের দিক থেকেও পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জীবন্ত এক শাখার গাছ এটি।

জেনারেল শারম্যানসহ বেশ কয়েকটি গাছকে আগুনের তাপ থেকে বাঁচাতে গাছের গোড়ায় মুড়ে দেয়া হয়েছে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল।

সেকোয়া ও কিংস ক্যানিয়ন ন্যাশনাল পার্কসের মুখপাত্র রেবেকা প্যাটারসন বলেন, ‘অনেক মানুষের কাছে এই এলাকাটি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। এই বনাঞ্চলকে বাঁচাতে সবাই যার যার সাধ্যমতো কাজ করছেন।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেকোয়া গাছ প্রাকৃতিকভাবে অগ্নিপ্রতিরোধী এবং আগুনের তাপ সহ্য করে বেঁচে থাকতে বিবর্তনের মধ্য দিয়েও গেছে এসব গাছ।

বজ্রপাতের কারণে এক সপ্তাহ ধরে কলোনি ও প্যারাডাইজ এলাকায় আগুনের তীব্রতা ক্রমশ বেড়ে চলছে।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত সাড়ে সাত হাজার দাবানল হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ায়। পুড়েছে ২২ লাখ একরের বেশি বনভূমি।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপমাত্রা বেড়ে চলা ও খরা পরিস্থিতির কারণে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে অঞ্চলটিতে। প্রতি বছরই আগের চেয়ে বেশি শুষ্ক ও গরম আবহাওয়া দেখা যাচ্ছে সেখানে, যার ফলে বাড়ছে দাবানলের সংখ্যাও।

আরও পড়ুন:
ঢাকাসহ কয়েক জেলায় ভূমিকম্প
‘১০ মাত্রার ভূমিকম্পের ক্ষতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে হবে’
ভূমিকম্পের ঝুঁকি: সিলেটের সব ভবন পরীক্ষার উদ্যোগ
সেই স্কুলভবনটি ভূমিকম্প সহনীয় ছিল না
ভূমিকম্পে সিলেটে স্কুলভবনে ফাটল

শেয়ার করুন