কাবুল দখল করলে স্বীকৃতি পাবে না তালেবান: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

কাবুল দখল করলে স্বীকৃতি পাবে না তালেবান: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বুধবার দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন। ছবি: টুইটার

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিংকেন বলেন, ‘তালেবান বহুদিন ধরেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাইছে। চাইছে তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হোক, তাদের নেতারা যেন দুনিয়ায় অবাধে ঘুরে বেড়াতে পারেন। কিন্তু আফগানিস্তানে জোর করে ক্ষমতা দখল করতে গেলে বা নিজেদের লোকদের ওপর অত্যাচার করে সে লক্ষ্য পূরণ হবে না।’

শক্তির মাধ্যমে নয়, আফগানিস্তানে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে আলোচনার শান্তিপূর্ণ পথেই এগোতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। দুই দিনের দিল্লি সফরে এসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকের পর এ কথা বলেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন।

বৈঠক শেষে জয়শঙ্করের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘তালেবান বহুদিন ধরেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাইছে। চাইছে তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হোক, তাদের নেতারা যেন দুনিয়ায় অবাধে ঘুরে বেড়াতে পারেন।

‘কিন্তু আফগানিস্তানে জোর করে ক্ষমতা দখল করতে গেলে বা নিজেদের লোকদের ওপর অত্যাচার করে সে লক্ষ্য পূরণ হবে না।’

ব্লিংকেন বলেন, ‘এটা ঠিক যে গত সপ্তাহে আমরা বেশ কয়েকটি জেলা সদরে তালেবানের অগ্রযাত্রা দেখেছি। প্রাদেশিক কয়েকটি রাজধানীও তারা কবজা করতে চাইছে। যে সব এলাকা তারা দখল করেছে, সেখানে নির্যাতন চালানোরও খবর আসছে, যেগুলো সত্যিই বিচলিত করার মতো।’

তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানে আবার সন্ত্রাসবাদ যাতে শক্তিশালী হতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতে কাজ করে যাবে আমেরিকা। আফগান সরকার ও তালেবানদের সঙ্গে আলাপ আলোচনার মধ্যে দিয়ে শান্তিপূর্ণ পথেই সমাধান খুঁজতে হবে আমাদের। আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে ভারতের ভূমিকাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই শীর্ষ বৈঠকে আফগানিস্তান ছাড়াও করোনা মহামারি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অ্যান্টনি ব্লিংকেন বলেন, করোনা সংক্রমণের প্রথম পর্বে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়িয়েছিল। ওই সময় অনেক সাহায্য পেয়েছি আমরা ভারতের কাছ থেকে। প্রতিদানে আমরা সংক্রমণের দ্বিতীয় পর্বে ভারতকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছি। করোনার বিরুদ্ধে আগামী দিনেও ভারত-আমেরিকা ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করবে।

বুধবার সকালে ব্লিংকেন তার প্রথম কর্মসূচি হিসেবে সিভিল সোসাইটির বিশিষ্ট মানুষদের সঙ্গে এক আলোচনা সভায় অংশ নেন।

সেখানে তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার জন্য বিশ্বের বৃহত্তম দুটি গণতন্ত্রের আরও বেশি কাজ করা উচিত। মূল্যবোধের আদানপ্রদান, স্বাধীনতা এবং সাম্য, যা সমাজ গড়ার মূল উপাদান, সেটি আরও মজবুত করতে আমাদের মধ্যে কেউই যথেষ্ট কাজ করতে পারেনি। আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করা দরকার। এটি কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক সম্পর্কের বাইরে আমাদের সম্পর্কের মূল বিষয়।’

এদিন বিকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও দেখা করেন ব্লিংকেন। আগে ভারতে এলেও বাইডেন প্রশাসনের শাসনকাল শুরু হওয়ার পর তৃতীয়বার এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিসেবে এটিই প্রথম ভারত সফর ব্লিংকেনের। সন্ধ্যায় তিনি দিল্লি থেকে কুয়েতের উদ্দেশে রওয়ানা হন।

আরও পড়ুন:
তালেবানের পাশে চীন
তালেবান রুখতে আফগানিস্তানে রাত হলেই কারফিউ
তালেবানের সুনজর পেতে উদ্গ্রীব ভারত
তালেবানের প্রতি সহানুভূতি তৈরিতে কারা, চলছে নজরদারি
পাকিস্তানেও সক্রিয় হচ্ছে তালেবান

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আফগানিস্তানে ফিরছে মাথা, হাত-পা কাটার শাস্তি

আফগানিস্তানে ফিরছে মাথা, হাত-পা কাটার শাস্তি

তালেবানের প্রথম দফার শাসনামলে শিরশ্ছেদ ও অঙ্গচ্ছেদের মতো শাস্তি জনসম্মুখে কার্যকর করা হতো। ছবি: এএফপি

তালেবানের জ্যেষ্ঠ নেতা মোল্লা নূরুদ্দীন তুরাবি বলেন, ‘প্রকাশ্যে অঙ্গচ্ছেদ ও মাথা কেটে নেয়ার মতো দণ্ড কার্যকর করায় বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধান তালেবানের তীব্র সমালোচনা করেছে। কিন্তু আমরাতো কখনও পশ্চিমাদের আইন বা তাদের দণ্ড নিয়ে কোনো মন্তব্য করিনি।’

আফগানিস্তানে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মাথা কেটে নেয়ার (শিরশ্ছেদ) পাশাপাশি অঙ্গচ্ছেদ হিসেবে হাত ও পা কেটে ফেলার শাস্তি ফের চালু করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন তালেবান। তবে অপরাধের সাজা হিসেবে এসব দণ্ড এবার জনসম্মুখে নাও কার্যকর হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সংস্থা এপিকে দেয়া সাক্ষাতকারে তালেবানের জ্যেষ্ঠ নেতা মোল্লা নূরুদ্দীন তুরাবি এসব কথা জানান।

কট্টরপন্থি ধর্মীয় সংগঠনটির প্রথম দফার শাসনামলে ১৯৯০ এর দশকে এমন কঠোর শাস্তি কার্যকরের পক্ষে অন্যতম নেতৃত্বদানকারী ছিলেন এই তুরাবি। ৬০ বছর বয়সী এই নেতা ১৯৯৬-২০০১ শাসনামলে তালেবান সরকারে বিচারবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।

১৯৯০ এর দশকে অপরাধের শাস্তি হিসেবে শিরশ্ছেদ ও অঙ্গচ্ছেদের পক্ষে সাফাই গাইলেন এই শীর্ষ নেতা। পাশাপাশি এমন কঠোর সাজার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী যে বিরোধিতা রয়েছে তাও নাকচ করে দেন তালেবানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা নূরুদ্দীন তুরাবি।

তালেবানের প্রথম দফায় ক্ষমতায় থাকাকালে রাজধানী কাবুলের স্টেডিয়াম অথবা বিভিন্ন ঈদগা মাঠে শত শত নাগরিকের সামনে প্রকাশ্যে এমনসব দণ্ড কার্যকর করা হতো।

আফগানিস্তানে ফিরছে মাথা, হাত-পা কাটার শাস্তি
তালেবানের জ্যেষ্ঠ নেতা মোল্লা নূরুদ্দীন তুরাবি। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী কাবুলে দেয়া সাক্ষাতকারে এ কট্টরপন্থি নেতা তালেবান আইনের বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করতে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করেন।

তুরাবি বলেন, ‘প্রকাশ্যে অঙ্গচ্ছেদ ও মাথা কেটে নেয়ার মতো দণ্ড কার্যকর করায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধান তালেবানের তীব্র সমালোচনা করেছে। কিন্তু আমরাতো কখনও পশ্চিমাদের আইন বা তাদের দণ্ড নিয়ে কোনো মন্তব্য করিনি।’

এই তালেবান নেতা আরও বলেন, ‘কোনো দেশের সরকার আমাদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে না যে কোন ধরনের আইন আফগানিস্তানে বহাল থাকবে। আমরা ইসলামী আইন কার্যকর করবো এবং কুরআনের ওপর ভিত্তি করে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করে যাবে।’

আরও পড়ুন:
তালেবানের পাশে চীন
তালেবান রুখতে আফগানিস্তানে রাত হলেই কারফিউ
তালেবানের সুনজর পেতে উদ্গ্রীব ভারত
তালেবানের প্রতি সহানুভূতি তৈরিতে কারা, চলছে নজরদারি
পাকিস্তানেও সক্রিয় হচ্ছে তালেবান

শেয়ার করুন

অসমে নিহতের ঘটনায় তোপের মুখে বিজেপি

অসমে নিহতের ঘটনায় তোপের মুখে বিজেপি

অনুপ্রবেশকারীদের উচ্ছেদের নামে অসমের দরং জেলার ঢলপুরে ৮০০ পরিবারকে উচ্ছেদ করতে যায় পুলিশ। এ সময় সেখানকার মুসলমান বাঙালিদের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় নিহত হন তিনজন।

অসমে ব্রহ্মপুত্র চরের উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে নিহতের ঘটনায় তোপের মুখে পড়েছে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বিজেপি সরকার।

কথিত অনুপ্রবেশকারীদের উচ্ছেদের নামে অসমের দরং জেলার ঢলপুরের গরুখুঁটিতে চার হাজার বিঘা জমির ওপরে ৮০০ পরিবারকে উচ্ছেদ করতে যায় বিজেপি সরকারের পুলিশ। এ সময় সেখানকার মুসলমান বাঙালিদের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় নিহত হন তিনজন।

একজন গুলিবিদ্ধ গ্রামবাসীর ওপর পুলিশি অত্যাচারের ভিডিও প্রকাশ পেতেই দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়।

স্থানীয় এআইইউডিএফ বিধায়ক আশরাফুল হোসেনের অভিযোগ, ‘সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ফ্যাসিস্ট সরকার নিজের দেশের লোকদেরই হত্যা করছে।’

হাইকোর্টে মামলা চলার সময় এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযানের কড়া সমালোচনা করেছেন তিনি ।

কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকেও এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।

অমানবিক এই ‘গণহত্যার’ প্রতিবাদে কলকাতার অসম ভবনের সামনে শনিবার দুপুর ১টায় বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সংগঠন।

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার পদত্যাগ, ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত, দোষীদের শাস্তি এবং এখনই উচ্ছেদ অভিযান বন্ধের দাবিতে এই বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয়া হয়েছে।

উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে নিহতের ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।

তিনি বলেন, ‘উচ্ছেদ অভিযানের কাজ পুলিশকে দেয়া হয়েছিল, ওরা ওদের কর্তব্য করবে।’

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ভাই ও জেলা পুলিশ সুপার সুশান্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ অভিযান চলে।

ব্রহ্মপুত্রের চরে মূলত বাঙালি মুসলমানদের বাস। এই অঞ্চলের কৃষিজীবী মানুষের অনেককেই ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে দাবি করা হয়।

স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, ‘বাংলাদেশ থেকে অনেক সময় অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ঢুকলেও বহু সময়ই পরিচয়ের বিভ্রান্তির জেরে রাজ্যের কৃষিজীবী বাসিন্দাদের পুলিশি জুলুমের শিকার হতে হয়।’

আরও পড়ুন:
তালেবানের পাশে চীন
তালেবান রুখতে আফগানিস্তানে রাত হলেই কারফিউ
তালেবানের সুনজর পেতে উদ্গ্রীব ভারত
তালেবানের প্রতি সহানুভূতি তৈরিতে কারা, চলছে নজরদারি
পাকিস্তানেও সক্রিয় হচ্ছে তালেবান

শেয়ার করুন

বামে আগ্রহ হারাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের যুবারা

বামে আগ্রহ হারাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের যুবারা

সিপিএম-এর যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই-এর পতাকা।

সিপিএমের রেড ভলান্টিয়ার্সের মতো বিভিন্ন কর্মসূচি রাজ্যে ব্যাপক সাড়া ফেললেও ভোটের ফলে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। তাই কর্মীদের ধরে রাখার সমস্যায় ভুগছে।

এক বছরের ব্যবধানেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সাবেক ক্ষমতাসীন দল সিপিএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই-এর প্রায় আড়াই লাখ সদস্য কমে গেছে।

বৃহস্পতিবার নদীয়ার নবদ্বীপে সংগঠনটির জেলাভিত্তিক সম্মেলনে পেশ করা একটি প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু ও সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ থেকে ২০২০ সালে যুব সংগঠনটিতে যেখানে ৭ লাখ ৪৮ হাজার ৬৬৫ সদস্য ছিলেন, সেখানে ২০২০ থেকে ২০২১ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ১৩ হাজার ১৯ জনে।

২ অক্টোবর ডিওয়াইএফআই-এর রাজ্য সম্মেলনের আগে জেলায় জেলায় সম্মেলন চলছে। এসব সম্মেলনে সংগঠনের যুব নেতৃত্ব রদবদলের পাশাপাশি চলছে সাংগঠনিক পর্যালোচনা।

রাজ্যে তৃণমূলের কাছে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের সাবেক শাসকগোষ্ঠী বামফ্রন্টের অন্যতম শরিক দল সিপিএমের অন্তর্দ্বন্দ্ব আর ক্ষয় শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় একের পর এক নির্বাচন বিপর্যয়ে বিধানসভায় দলটির উপস্থিতি শূন্যে পরিণত হয়েছে।

দলটির রেড ভলান্টিয়ার্সের মতো বিভিন্ন কর্মসূচি রাজ্যে ব্যাপক সাড়া ফেললেও ভোটের ফলে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। তাই কর্মীদের ধরে রাখার সমস্যায় ভুগছে।

যুব সংগঠনের সদস্য কমা প্রসঙ্গে লেখা হয়েছে- যখনই সংগঠন গড়ে তোলার চেষ্টা হয়েছে, তখনই ভোটে দলের বিপর্যয় দেখা গেছে। তা ছাড়া করোনাকালে সংগঠনের সদস্যদের ক্যাম্পাসমুখী করা যায়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও বিচ্ছিন্নতা বেড়েছে।

সংগঠনকে চাঙা করতে রাজ্য সম্মেলনের আগে জেলায় জেলায় ডিওয়াইএফআই-এর নেতৃত্ব বদলের কাজ চলছে। ২ অক্টোবর সিপিএমের রাজ্য যুব সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সিপিএম পলিটব্যুরো সদস্য, ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার।

আরও পড়ুন:
তালেবানের পাশে চীন
তালেবান রুখতে আফগানিস্তানে রাত হলেই কারফিউ
তালেবানের সুনজর পেতে উদ্গ্রীব ভারত
তালেবানের প্রতি সহানুভূতি তৈরিতে কারা, চলছে নজরদারি
পাকিস্তানেও সক্রিয় হচ্ছে তালেবান

শেয়ার করুন

তালেবানের ওপর চাপ সৃষ্টিতে বিশ্ব একজোট: ব্লিঙ্কেন

তালেবানের ওপর চাপ সৃষ্টিতে বিশ্ব একজোট: ব্লিঙ্কেন

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি, তালেবান ইস্যুতে পাকিস্তান, চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যের মধ্যে শক্তিশালী ঐক্য রয়েছে। তালেবান বলেছে, তাদের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বৈধতা দরকার, সহযোগিতার দরকার। তালেবানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্পর্ক গোষ্ঠীটির কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভর করছে।’

তালেবানের ওপর চাপ সৃষ্টিতে বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ বলে মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন।

পাকিস্তান, চীন ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলাপ শেষে তার এমনটা মনে হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ সভা শেষে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহুমদ কুরেশির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ব্লিঙ্কেন।

এর আগে বুধবার বিকেলে আফগানিস্তান ইস্যুতে চীন ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গেও আলাপ করেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ব্লিঙ্কেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি, তালেবান ইস্যুতে পাকিস্তান, চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যের মধ্যে শক্তিশালী ঐক্য রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তালেবান বলেছে, তাদের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বৈধতা দরকার, সহযোগিতার দরকার।

‘তালেবানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্পর্ক গোষ্ঠীটির কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভর করছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেন জানান, যুক্তরাষ্ট্র চায় দীর্ঘ ২০ বছর ধরে বিদেশিদের সহযোগিতা করা আফগান ও বাইরের দেশের নাগরিকদের নিরাপদে আফগানিস্তান ত্যাগের ব্যবস্থা করুক তালেবান।

পাশাপাশি নারী-শিশু ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজনের অধিকারের প্রতি যাতে তালেবান সম্মান জানায়, তাও চায় ওয়াশিংটন।

এ ছাড়া আল-কায়েদার মতো চরমপন্থি অন্যান্য সংগঠনকে তালেবান যেন আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করতে না দেয়, সেদিকেও ওয়াশিংটন দৃষ্টি রাখছে বলে ফের জানান ব্লিঙ্কেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুরেশির সঙ্গে আলাপে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক সমন্বয়ের গুরুত্বের ওপর জোর দেন ব্লিঙ্কেন।

এর আগে তালেবানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক স্থাপন ও আফগানিস্তানের সম্পদের ওপর পশ্চিমা দেশ ও সংস্থার স্থগিতাদেশ তুলে দিতে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়।

তবে চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুরেশি জানান, তালেবানের নতুন সরকারকে তাড়াহুড়ো করে স্বীকৃতি দেয়ার কিছু নেই।

ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে আলোচনার শুরুতে কুরেশি বলেন, ‘শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে আমাদের লক্ষ্য অর্জনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার পথ খুঁজে বের করতে হবে।’

তালেবানের সঙ্গে এরই মধ্যে কাজ করার আগ্রহের কথা জানিয়েছে চীন ও রাশিয়া। তবে গোষ্ঠীটিকে এখনই স্বীকৃতি দিতে চায় না দেশ দুটি।

এ ছাড়া তালেবানের পৃষ্ঠপোষকতায় আফগানিস্তানে ফের জঙ্গিবাদ উত্থানের শঙ্কায় রয়েছে চীন ও রাশিয়া।

গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে তালেবানের হাতে কাবুলের পতন হয়।

দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার একপর্যায়ে চলতি মাসের শুরুতে বিতর্কিত ও সন্ত্রাসী তালিকায় থাকা নেতাদের নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে তালেবান।

অঙ্গীকার অনুযায়ী অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন না করায় দেশে-বিদেশে সমালোচনার মুখে রয়েছে কট্টরপন্থি ইসলামি গোষ্ঠীটি।

আরও পড়ুন:
তালেবানের পাশে চীন
তালেবান রুখতে আফগানিস্তানে রাত হলেই কারফিউ
তালেবানের সুনজর পেতে উদ্গ্রীব ভারত
তালেবানের প্রতি সহানুভূতি তৈরিতে কারা, চলছে নজরদারি
পাকিস্তানেও সক্রিয় হচ্ছে তালেবান

শেয়ার করুন

দিল্লির আদালতে গোলাগুলি, গ্যাংস্টারসহ নিহত ৪

দিল্লির আদালতে গোলাগুলি, গ্যাংস্টারসহ নিহত ৪

গোলাগুলির পর দিল্লি আদালতের চিত্র। ছবি: আনন্দবাজার

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, বেশ কিছু অপরাধে জড়িত কুখ্যাত গ্যাংস্টার জিতেন্দর গোগী দিল্লির তিহার কারাগারে ছিলেন। তাকে রোহিনীর আদালতে তোলার সময় প্রতিদ্বন্দ্বী তিল্লু গ্যাংয়ের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়। হামলাকারীরা আইনজীবীর পোশাকে প্রকাশ্যে গুলি চালায়।

ভারতের দিল্লিতে আদালতের ভেতর গোলাগুলির ঘটনায় এক গ্যাংস্টারসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন কয়েকজন।

দেশটির একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার এ গোলাগুলি হয়।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ঘটনার ফুটেজে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। পুলিশ সদস্য ও আইনজীবীদের হুড়াহুড়ি করতে দেখা গেছে।

উত্তর দিল্লির রোহিনীতে আদালত চত্বরের ভেতর গ্যাংস্টার জিতেন্দর গোগী প্রতিদ্বন্দ্বী একটি গ্যাং সদস্যদের হাতে নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

গোলাগুলিতে নিহত চারজনের মধ্যে দুই হামলাকারীও রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারা নিরাপত্তাকর্মীদের হাতে নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, বেশ কিছু অপরাধে জড়িত কুখ্যাত গ্যাংস্টার জিতেন্দর গোগী দিল্লির তিহার কারাগারে ছিলেন। তাকে রোহিনীর আদালতে তোলার সময় প্রতিদ্বন্দ্বী তিল্লু গ্যাংয়ের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়। হামলাকারীরা আইনজীবীর পোশাকে প্রকাশ্যে গুলি চালায়।

গোলাগুলির ঘটনায় আদালত চত্বরে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঘাটতির বিষয়টি ধরা পড়েছে।

ঘটনায় জড়িত দুটি গ্যাংয়ের সদস্যরা কয়েক বছর ধরে সংঘর্ষে লিপ্ত ছিল বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র। তাদের সে সংঘর্ষে নিহত হয় ২৫ জনের বেশি মানুষ।

সবশেষ সংঘর্ষে নিহত জিতেন্দর গোগী ওরফে জিতেন্দর মানকে গত বছরের মার্চে গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশ। ওই গ্রেপ্তারকে বড় ব্যাপার হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

আরও পড়ুন:
তালেবানের পাশে চীন
তালেবান রুখতে আফগানিস্তানে রাত হলেই কারফিউ
তালেবানের সুনজর পেতে উদ্গ্রীব ভারত
তালেবানের প্রতি সহানুভূতি তৈরিতে কারা, চলছে নজরদারি
পাকিস্তানেও সক্রিয় হচ্ছে তালেবান

শেয়ার করুন

২ হাজার নারীর কাপড় ৬ মাস ধুয়ে দেয়ার শর্তে জামিন

২ হাজার নারীর কাপড় ৬ মাস ধুয়ে দেয়ার শর্তে জামিন

ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার আসামিকে ৬ মাস গ্রামের সব নারীর কাপড় ধোয়ার শর্তে জামিন দিয়েছে ভারতীয় এক আদালত। ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস

বিহারের মধুবনী জেলার পুলিশ কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার সিং জানান, পেশায় ধোপা লালনকে চলতি বছরের এপ্রিলে ধর্ষণচেষ্টাসহ অন্য অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।

ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার এক আসামিকে সম্প্রতি শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছে ভারতের এক আদালত।

শর্তটি হচ্ছে, কোনো পারিশ্রমিক ছাড়া ওই আসামিকে টানা ছয় মাস তার গ্রামের সব নারীর কাপড় ধুয়ে ইস্ত্রি করে দিতে হবে।

বুধবার আদালতের নির্দেশে বলা হয়, ভারতের বিহার রাজ্যের মাঝোর গ্রামের প্রায় দুই হাজার নারীকে ছয় মাস ধরে বিনা মূল্যে লন্ড্রিসেবা দেবেন ধর্ষণচেষ্টার আসামি ২০ বছর বয়সি লালন কুমার।

আর এ জন্য প্রয়োজনীয় ডিটারজেন্টসহ অন্যান্য সামগ্রী লালনকেই কিনতে হবে।

বিহারের মধুবনী জেলার পুলিশ কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার সিং বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, পেশায় ধোপা লালনকে চলতি বছরের এপ্রিলে ধর্ষণচেষ্টাসহ অন্য অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।

এখন পর্যন্ত লালনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারের তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।

বিহারের মাঝোর গ্রাম পরিষদের প্রধান নাসিমা খাতুন বলেন, ‘আদালতের সিদ্ধান্তে গ্রামের সব নারী খুশি।’

তিনি বলেন, ‘এটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। এতে নারীদের প্রতি সম্মান বাড়বে। পাশাপাশি তাদের আত্মমর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে সহযোগিতা করবে।’

লালন আদালতের নির্দেশ ঠিকঠাক মেনে চলছে কি না, তা নজরদারির অন্যতম দায়িত্বে রয়েছেন নাসিমা।

মাঝোর গ্রামে বসবাসরত নারীদের ভাষ্য, নারীর ওপর সংঘটিত অপরাধ নিয়ে নিজেদের সম্প্রদায়ের ভেতর আলোচনার ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে আদালতের ওই নির্দেশ, যা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

মাঝোর গ্রামের বাসিন্দা অঞ্জুম পারভিন বলেন, ‘এটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। ভিন্নধর্মী এ শাস্তি সমাজকে নতুন বার্তা দিয়েছে।’

২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বাসে ২৩ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় পুরো দেশ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।

ওই ঘটনার ১৩ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই ছাত্রীর মৃত্যু হয়। গত বছরের ২০ মার্চ অভিযুক্ত চার ব্যক্তির ফাঁসি হয়।

দিল্লির ওই ঘটনার পর কঠোর শাস্তির বিধান রেখে ধর্ষণ আইন সংস্কার করে ভারত। তা সত্ত্বেও দেশটিতে ধর্ষণের হার উল্লেখযোগ্য হারে বেশি।

গত বছর ভারতের ২৮ হাজারের বেশি নারী-শিশু ধর্ষণের শিকার হয়।

আরও পড়ুন:
তালেবানের পাশে চীন
তালেবান রুখতে আফগানিস্তানে রাত হলেই কারফিউ
তালেবানের সুনজর পেতে উদ্গ্রীব ভারত
তালেবানের প্রতি সহানুভূতি তৈরিতে কারা, চলছে নজরদারি
পাকিস্তানেও সক্রিয় হচ্ছে তালেবান

শেয়ার করুন

শিশুদের মলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের অপ্রত্যাশিত উপস্থিতি

শিশুদের মলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের অপ্রত্যাশিত উপস্থিতি

সাম্প্রতিক গবেষণায় এক বছর বয়সী শিশুদের মলে উল্লেখযোগ্য হারে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়। ছবি: সংগৃহীত

মাইক্রোপ্লাস্টিক পেটে গেলে শরীরে কী ধরনের প্রভাব পড়ে, তা এখনও অজানা। তবে এটির যে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব নেই, তা আগের মতো বলা যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, সেল মেমব্রেন থেকে সংবহনতন্ত্রে প্রবেশ করতে পারে মাইক্রোপ্লাস্টিক। এতে কোষের স্বাভাবিক ক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।

মাইক্রোপ্লাস্টিক কোথায় নেই? বরফে ঢাকা অ্যান্টার্কটিকার সমতল থেকে শুরু করে সাগরের গভীর তলদেশ সর্বত্রই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়।

প্লাস্টিকের বাটিতে খাবার খাওয়ার কারণে আমাদের মলেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

তবে একই এলাকায় বসবাসরত প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে শিশুদের পেটে সম্প্রতি নতুন এক প্রাথমিক গবেষণায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি বেশি পাওয়া যায়।

সায়েন্স এলার্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরে গড়ে এক বছর বয়সি ছয়টি শিশুর মলে ১০ জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির চেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।

গবেষণা অনুসন্ধানে বলা হয়, প্লাস্টিকের তৈরি চুষনি চোষা ও পাত্রে খাদ্যগ্রহণ, প্লাস্টিকের খেলনা মুখে দেয়ায় প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে শিশুরা প্লাস্টিকের সান্নিধ্যে বেশি আসে।

গবেষণাপত্রে গবেষকরা বলেন, ‘আমাদের গবেষণায় শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের মলে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়।

‘এ বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে আমরা মনে করি।’

মাইক্রোপ্লাস্টিক পেটে গেলে শরীরে কী ধরনের প্রভাব পড়ে, তা এখনও অজানা। তবে এটির যে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব নেই, তা আগের মতো বলা যাচ্ছে না।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, সেল মেমব্রেন থেকে সংবহনতন্ত্রে প্রবেশ করতে পারে মাইক্রোপ্লাস্টিক। এতে কোষের স্বাভাবিক ক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।

নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির শিশু বিশেষজ্ঞ কুরুনথাচালাম কান্নানের নেতৃত্বাধীন গবেষণা দলটি মানবদেহের সংস্পর্শে আসা দুই ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক মূল্যায়নে আগ্রহী ছিলেন।

এদের একটি পলিথিলিন টেরেফথালেট (পিইটি), যা খাবার প্যাকেটজাত ও পোশাক তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। অন্যটি খেলনা ও বোতলে ব্যবহৃত পলিকার্বনেট (পিসি)।

এক বছর বয়সি ছয়টি শিশু ও ১০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মলের নমুনা সংগ্রহ করেন গবেষকরা। পাশাপাশি তিনটি নবজাতকের কালো রঙের প্রথম মলের নমুনাও সংগ্রহ করা হয়।

প্রতিটি মলের নমুনায় কমপক্ষে এক ধরনের প্লাস্টিক পাওয়া যায়। তবে প্রাপ্তবয়স্ক ও এক বছর বয়সি শিশুদের মলের মধ্যকার পার্থক্য লক্ষণীয় ছিল।

গবেষকরা বলেন, ‘অনুসন্ধানে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের মলে দুই ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্যাটার্নের উল্লেখযোগ্য পার্থক্য আমাদের নজরে পড়ে।

‘প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে শিশুদের মলে পলিথিলিন টেরেফথালেট উল্লেখযোগ্য হারে বেশি ছিল।

‘অবশ্য তাদের মলে পলিকার্বনেট মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য ছিল না।’

গবেষকরা আরও জানান, প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে এক বছর বয়সি শিশুদের মলে পলিথিলিন টেরেফথালেটের উপস্থিতি গড়ে ১০ গুণের বেশি ছিল।

আরও পড়ুন:
তালেবানের পাশে চীন
তালেবান রুখতে আফগানিস্তানে রাত হলেই কারফিউ
তালেবানের সুনজর পেতে উদ্গ্রীব ভারত
তালেবানের প্রতি সহানুভূতি তৈরিতে কারা, চলছে নজরদারি
পাকিস্তানেও সক্রিয় হচ্ছে তালেবান

শেয়ার করুন