তালেবানের পাশে চীন

তালেবানের পাশে চীন

তালেবানের সহপ্রতিষ্ঠাতা মোল্লা আবদুল ঘানি বারাদারকে স্বাগত জানাচ্ছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং য়ি। ছবি: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

চীনের উদ্বেগ, তালেবান শিনজিয়াংয়ের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা করলে অঞ্চলটিতে নিয়ন্ত্রণ বিঘ্নিত হতে পারে। তালেবানের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাইম জানিয়েছেন, তালেবানের প্রতিনিধি দল চীনকে নিশ্চিত করেছে যে আফগানিস্তানের মাটি অন্য কোনো দেশের নিরাপত্তায় হুমকি তৈরিতে ব্যবহার করতে দেয়া হবে না।

আফগানিস্তানের প্রধান কয়েকটি শহর দখলের পর প্রথমবারের মতো তালেবানের কোনো শীর্ষ নেতা হিসেবে চীন সফর করেছেন দলটির সহপ্রতিষ্ঠাতা মোল্লা আবদুল ঘানি বারাদার। কাতারে তালেবানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের দায়িত্বে থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ নেতা বুধবার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং য়ির সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম।

বৈঠকে আফগানিস্তানের পুনর্গঠনে তালেবানের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন। তবে শর্ত হিসেবে শিনজিয়াং অঞ্চলে উইঘুর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় লড়াই করা ইস্ট তুর্কেস্তান ইসলামিক মুভমেন্টের (ইটিআইএম) সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে তালেবানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

বুধবার হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

চীনের উত্তরাঞ্চলের শহর তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে তালেবান নেতা আব্দুল ঘানি বারাদারের নেতৃত্বে নয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেন। এসময় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ওয়াং য়ি আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সামরিক জোট ন্যাটোর সেনা প্রত্যাহারের ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থ নীতির ফলাফল হিসেবে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতেও তালেবানকে আহ্বান জানান তিনি।

ওয়াং য়ি বলেন, ‘তালেবান আফগানিস্তানের প্রধান রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তি। দেশের শান্তি, সংহতি ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়াতেও গোষ্ঠীটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

চীন আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সমর্থন করবে জানিয়ে তালেবানকে ইটিআইএমের সঙ্গে সম্পর্কছেদের আহ্বান জানান ওয়াং য়ি।

তিনি বলেন, ‘ইটিআইএম জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের তালিকাভুক্ত আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন। এটি চীনের জাতীয় নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সরাসরি হুমকি।

‘ইটিআইমের বিরুদ্ধে লড়াই করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কর্তব্য। আমি আশা করি তালেবান এ ধরনের সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবে। ইটিআইমের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তালেবান শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নেও সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।’

তালেবানের পাশে চীন
চীনের তিনজিয়ান শহরে তালেবান নেতাদের সঙ্গে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং য়ি। ছবি: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

তালেবানের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাইম জানিয়েছেন, চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ইস্যু ও শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি এক টুইট বার্তায় বলেছেন, তালেবানের প্রতিনিধি দল চীনকে নিশ্চিত করেছে যে আফগানিস্তানের মাটি অন্য কোনো দেশের নিরাপত্তায় হুমকি তৈরিতে ব্যবহার করতে দেয়া হবে না।

যুক্তরাষ্ট্রসহ সামরিক জোট ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো আফগানিস্তান থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহারের শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

চলতি বছরের ৩১ আগস্টের মধ্যে নিজেদের সব সেনা সরানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বিদেশি সব সেনা আফগানিস্তান ছাড়ার মধ্যেই দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল দখলে সশস্ত্র লড়াই শুরু করে তালেবান। আফগান সেনাবাহিনীর সঙ্গে প্রায় প্রতিদিনই তাদের সংঘর্ষ বাঁধছে।

ইতোমধ্যে চীনের শিনজিয়াং প্রদেশের পাশের সীমান্ত অঞ্চলসহ দেশের প্রায় অর্ধেক এলাকা দখল করেছে তালেবান। আফগান সরকারের সমর্থনে এখনও তালেবান নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোতে বিমান হামলা চালু রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এমন পরিস্থিতিতে চীন গভীর মনোযোগের সঙ্গে আফগানিস্থান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম। কেননা আফগানিস্তান সংলগ্ন শিনজিয়াংয়ে চীনের বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে। চীনের উদ্বেগ, তালেবান শিনজিয়াংয়ের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা করলে অঞ্চলটিতে নিয়ন্ত্রণ বিঘ্নিত হতে পারে।

চীনের শিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুরদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার কথা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দেশের ধর্মীয় নেতা, অধিকারকর্মী ও সরকারগুলো বলে আসছে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ লাখেরও বেশি উইঘুরকে ক্যাম্পে বন্দি করে রেখেছে চীন।

তবে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের লক্ষ্যে অভিযোগ করা হচ্ছে জানিয়ে চীন বরাবরই সেগুলো নাকচ করে আসছে।

দেশটির ভাষ্য, সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ বিরোধী পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ক্যাম্পগুলোকে মূলত কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

অতীতে শিনজিয়াংয়ের উইঘুর মুসলমানের আন্দোলনে সমর্থন দিলেও তালেবান ঘোষণা দিয়েছে তারা চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তারা আর নাক গলাবে না।

চীনের নর্থ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিভাগের শিক্ষক ইয়ান ওয়েইর মতে, তালেবান ও চীনের মধ্যে সুসম্পর্ক দুই পক্ষের জন্যই জরুরি।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘তালেবান সরকার গঠন করুক আর না করুক তারা আফগানিস্তানের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে প্রধান ভূমিকা পালন করতে যাচ্ছে।’

ইয়ান ওয়েই বলেন, ‘তালেবান আফগানিস্তানের অন্য জঙ্গীগোষ্ঠীগুলোকে দমন করবে। গোষ্ঠীটির মাধ্যমে চীনও অন্য জঙ্গীদের ওপর চাপ বজায় রাখতে পারবে। এটি চীনসহ আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভালো ভূমিকা রাখবে।’

আরও পড়ুন:
তালেবান রুখতে আফগানিস্তানে রাত হলেই কারফিউ
তালেবানের সুনজর পেতে উদ্গ্রীব ভারত
তালেবানের প্রতি সহানুভূতি তৈরিতে কারা, চলছে নজরদারি
পাকিস্তানেও সক্রিয় হচ্ছে তালেবান
নিরস্ত্র ২২ আফগান কমান্ডোকে হত্যা করল তালেবান

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মারা গেলেন কলকাতায় ফুসফুস নেয়া সেই ব্যক্তি

মারা গেলেন কলকাতায় ফুসফুস নেয়া সেই ব্যক্তি

কলকাতার মেডিক্যা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল।

ফুসফুস প্রতিস্থাপন একটি জটিল প্রক্রিয়া। প্রতিস্থাপনের ৭২ থেকে ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ফুসফুসের দেয়ালে রক্তক্ষরণ এবং হৃদযন্ত্রের ডান দিকের অংশে দুর্বলতার উপসর্গ দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে সংক্রমণের আশঙ্কাও থাকে। গ্রহীতার শরীর দাতার ফুসফুস প্রত্যাখ্যান করতে পারে বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো ফুসফুস প্রতিস্থাপনের দুই দিন পর মারা গেছেন সেই গ্রহীতা। শরীরে রক্তক্ষরণ আর একের পর এক অঙ্গ বিকল হয়ে শুক্রবার রাতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

কলকাতার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে এক করোনামুক্ত রোগী ১০৬ দিন একমো সাপোর্টে ছিলেন। ৪৬ বছরের ওই ব্যক্তির ফুসফুস খারাপ হওয়ায় চিকিৎসকরা তার ফুসফুস প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেন।

পরিবারের চেষ্টায় গুজরাটের সুরাটে এক ব্যক্তির মরণোত্তর দানের ফুসফুস পাওয়া যায়। কলকাতা ও সুরাটের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে সুরাট থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স এবং কলকাতা বিমানবন্দর থেকে গ্রিন করিডোর অর্থাৎ রাস্তার সব সিগন্যাল সবুজ করে ফুসফুসবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি মেডিকা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পৌঁছায়।

প্রায় ছয় ঘণ্টা অস্ত্রোপচারের পর ওই রোগীর দেহে ফুসফুসটি বসান পাঁচ সদস্যের একটি চিকিৎসক দল। এদের নেতৃত্বে ছিলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক কুনাল সরকার।

ফুসফুস প্রতিস্থাপন একটি জটিল প্রক্রিয়া। প্রতিস্থাপনের ৭২ থেকে ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ফুসফুসের দেয়ালে রক্তক্ষরণ এবং হৃদযন্ত্রের ডান দিকের অংশে দুর্বলতার উপসর্গ দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে সংক্রমণের আশঙ্কাও থাকে। গ্রহীতার শরীর দাতার ফুসফুস প্রত্যাখ্যান করতে পারে বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

আরও পড়ুন:
তালেবান রুখতে আফগানিস্তানে রাত হলেই কারফিউ
তালেবানের সুনজর পেতে উদ্গ্রীব ভারত
তালেবানের প্রতি সহানুভূতি তৈরিতে কারা, চলছে নজরদারি
পাকিস্তানেও সক্রিয় হচ্ছে তালেবান
নিরস্ত্র ২২ আফগান কমান্ডোকে হত্যা করল তালেবান

শেয়ার করুন

ভবানীপুরের ভোটার তালিকায় ‘পিকে’র নাম, পশ্চিমবঙ্গে উত্তেজনা

ভবানীপুরের ভোটার তালিকায় ‘পিকে’র নাম, পশ্চিমবঙ্গে উত্তেজনা

তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট বিষয়ক পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোর। ছবি: পিটিআই

ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায়, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে প্রশান্তের নাম ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। বিধানসভা ভোটের আগে থেকেই তিনি ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার। তবে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করতে ছাড়েনি বিজেপি।

পশ্চিমবঙ্গের ভবানীপুর উপনির্বাচনে নাম রয়েছে ভারতের নির্বাচন কৌশলী ও আইপ্যাকের কর্ণধার প্রশান্ত কিশোরের (পিকে)। এ ঘটনায় সরব হয়েছে বিজেপি। প্রশান্তকেকে বহিরাগত তকমাও দিয়েছে দলটি।

৩০ সেপ্টেম্বরের অনুষ্ঠানে হতে যাওয়া ভবানীপুর উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে অংশ নেবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

শনিবার রাতে ভবানীপুরের ২২২ নম্বর পার্টের ভোটার তালিকার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, ভোটার হিসেবে তৃণমূলের সাবেক ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের নাম রয়েছে। ভবানীপুরের সেন্ট হেলেন স্কুল তার ভোট কেন্দ্র।

ভাইরাল হওয়া ছবিতে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে তার নাম ভোটার হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। বিধানসভা ভোটের আগে থেকেই প্রশান্ত কিশোর ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার। প্রশান্ত কিশোরের পক্ষের দাবিও তাই।

তবে বিজেপি এ বিষয়ে প্রশান্ত কিশোরকে বহিরাগত ভোটার দাবি করে সমালোচনা করতে ছাড়েনি।

রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র সপ্তর্ষি চৌধুরী টুইটারে লেখেন, ‘অবশেষে প্রশান্ত কিশোর ভবানীপুরের ভোটার। বাংলার মেয়ে তবে বহিরাগত ভোটার চায়? জানতে চায় বাংলার মানুষ।’

যদিও এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি তৃণমূল। প্রশান্ত কিশোর এবং তার সংস্থা আইপ্যাক পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূলের নির্বাচনি প্রচারের কাজ করেছে।

দলটি বিধানসভা নির্বাচনে জটিল পরিস্থিতি থেকে তৃণমূল প্রশান্ত কিশোরের হাত ধরে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। পরে ভোট কৌশলী হিসেবে আর দায়িত্ব পালন করবেন না ঘোষণা দেন প্রশান্ত কিশোর।

প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা আইপ্যাকের সঙ্গে ভোটের কাজে চুক্তিবদ্ধ তৃণমূল। দায়িত্ব ছেড়ে দিলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাকে বৈঠকে দেখা গেছে।

সম্প্রতি কংগ্রেসের কোনো দায়িত্বে তিনি আসছেন বলে জল্পনা রয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এর মধ্যেই ভবানীপুরের ভোটার তালিকায় প্রশান্ত কিশোরের নাম আসায় নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন:
তালেবান রুখতে আফগানিস্তানে রাত হলেই কারফিউ
তালেবানের সুনজর পেতে উদ্গ্রীব ভারত
তালেবানের প্রতি সহানুভূতি তৈরিতে কারা, চলছে নজরদারি
পাকিস্তানেও সক্রিয় হচ্ছে তালেবান
নিরস্ত্র ২২ আফগান কমান্ডোকে হত্যা করল তালেবান

শেয়ার করুন

চার অপহরণকারীকে মেরে জনসমক্ষে ঝোলাল তালেবান

চার অপহরণকারীকে মেরে জনসমক্ষে 
 ঝোলাল তালেবান

আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হেরাতের রাস্তা। ছবি: এএফপি

হেরাত প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর মৌলভি শের আহমেদ মুহাজির বলেছেন, চার ব্যক্তির মরদেহ বিভিন্ন জনসমাগম এলাকায় প্রদর্শন করা হয়েছে। মানুষকে এই শিক্ষা দিতে যে, ইসলামি আমিরাত আফগানিস্তানে অপহরণের মতো ঘটনা সহ্য করা হবে না।

আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হেরাতে বন্দুকযুদ্ধে চার অপহরণকারীকে মেরে ক্রেনে করে তাদের মরদেহ জনসমক্ষে ঝুলিয়েছে তালেবান।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন হেরাত প্রদেশের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা। শনিবার এ ঘটনা ঘটে বলে জানান তিনি।

হেরাত প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর মৌলভি শের আহমেদ মুহাজির বলেছেন, চার ব্যক্তির মরদেহ বিভিন্ন জনসমাগম এলাকায় প্রদর্শন করা হয়েছে। মানুষকে এই শিক্ষা দিতে যে, ইসলামি আমিরাত আফগানিস্তানে অপহরণের মতো ঘটনা সহ্য করা হবে না।

তালেবানদের দেয়া এমন শাস্তির বিভিন্ন গ্রাফিক্স ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যায়, মরদেহগুলো একটি পিকআপে রাখা। আর সেখান থেকে ক্রেনে করে একটি মরদেহ উঁচিয়ে ধরা হয়েছে। আর মানুষজন পিকআপটি ঘিরে আছে। অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে আছেন তালেবান যোদ্ধারা।

আরেকটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, হেরাতের একটি রাস্তার মোড়ে ক্রেন থেকে একটি মরদেহ নিচে নামানো হচ্ছে। ওই মরদেহের বুকে লেখা, ‘অপহরণকারীদের এভাবে শাস্তি দেয়া হবে।’

হেরাত শহরের গুরুত্বপূর্ণ চত্বরগুলোতে মরদেহগুলো প্রদর্শন করা হয়। গত মাসের ১৫ তারিখ আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর জনসমক্ষে তালেবানের দেয়া এটাই সর্বোচ্চ শাস্তি। আর এই শাস্তি ২০ বছর আগের তালেবান সরকারের শাস্তিরই অনুরূপ।

এ বিষয়ে একটি ভিডিও ক্লিপে বিবৃতি দিয়েছেন হেরাত প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর মুহাজির, যা বার্তা সংস্থা এএফপির হাতেও পৌঁছেছে।

তাতে মুহাজির জানান, শনিবার সকালে এক ব্যবসায়ী ও তার ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে বলে জানতে পারে নিরাপত্তা বাহিনী। এ ঘটনার পর পুলিশ শহরের বাইরের রাস্তাগুলো বন্ধ করে দেয়। তালেবান যোদ্ধারা একটি চেকপয়েন্টে অপহরণকারীদের আটক করে। এ সময় গোলাগুলি হয়।

মুহাজির বলেন, ‘কয়েকটি মিনিটের ওই লড়াইয়ে আমাদের একজন মুজাহিদীন আহত হন এবং চার অপহরণকারীর মৃত্যু হয়। আমরা ইসলামি আমিরাত। কেউ আমাদের জাতির ক্ষতি করতে পারবে না। এখানে কাউকে অপহরণ করা যাবে না।’

শনিবারের এই ঘটনার আগেও মুহাজির তার প্রদেশে একটি অপহরণের ঘটনার তথ্য দেন। জানান, অপহরণকৃত এক ছেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ওই ঘটনায় একজন অপহরণকারীকে হত্যা করা হয় এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অপহরণের এমন আরও একটি ঘটনা ঘটেছে হেরাতে। তবে ওই ঘটনায় কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে তালেবান। তালেবানের উদ্যোগের আগেই অপহরণকারীরা অর্থ হাতিয়ে নিয়ে অপহৃতকে মুক্তি দেয়।

চার অপহরণকারীকে মেরে জনসমক্ষে 
 ঝোলাল তালেবান
হেরাতের রাস্তায় জনসমক্ষে ঝোলানো এক অপহরণকারীর মরদেহ। ছবি: সংগৃহীত

মুহাজির বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের অনেক হতাশ করেছে। আমরা যেখানে হেরাতে আছি, সেখানে মানুষকে অপহরণ করা হচ্ছে।

‘কাউকে অপহরণ বা হয়রানি না করতে এবং অন্য অপহরণকারীদের শিক্ষা দিতে আমরা শহরের বিভিন্ন চত্বরে তাদের ঝুলিয়েছি। এটার মাধ্যমে পরিষ্কার করেছি যে যারা চুরি, ছিনতাই করবে, অপহরণ করবে বা আমাদের মানুষের বিরুদ্ধে ক্ষতিকর কোনো কাজ করবে, তাদের এমন শাস্তিই দেয়া হবে।’

দুই দশক পর আবার আফগানিস্তান দখল করে তালেবান জানায়, তারা ২০ বছর আগের অবস্থানে নেই। সহনশীলতার কথা বলেছিল কট্টর ইসলামি গোষ্ঠীটি। শত্রুদের সবাইকে ক্ষমা করে দেয়ার কথা জানায় তারা। সবাইকে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের আশ্বাস দেয়। সরকারে নারী প্রতিনিধিত্ব রাখারও ইঙ্গিত দেয়।

তালেবানের এসব আশ্বাসের বাস্তবের কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে তালেবান যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘোষণা করেছে, সেখানে বেশির ভাগ সদস্যই পশতু জাতিগোষ্ঠীর; মন্ত্রিসভায় নেই কোনো নারী সদস্য। এমনকি নারী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও মানা করে দিয়েছে তারা।

এমনকি সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মাথা কেটে নেয়ার (শিরশ্ছেদ) পাশাপাশি অঙ্গচ্ছেদ হিসেবে হাত-পা কেটে ফেলার শাস্তি ফের চালু করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন তালেবান।

যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সংস্থা এপিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তালেবানের জ্যেষ্ঠ নেতা মোল্লা নূরুদ্দীন তুরাবি এসব কথা জানান।

১৯৯০-এর দশকে অপরাধের শাস্তি হিসেবে শিরশ্ছেদ ও অঙ্গচ্ছেদের পক্ষে সাফাই গাইলেন এই শীর্ষ নেতা। পাশাপাশি এমন কঠোর সাজার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী যে বিরোধিতা রয়েছে তাও নাকচ করে দেন তালেবানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা নূরুদ্দীন তুরাবি।

আরও পড়ুন:
তালেবান রুখতে আফগানিস্তানে রাত হলেই কারফিউ
তালেবানের সুনজর পেতে উদ্গ্রীব ভারত
তালেবানের প্রতি সহানুভূতি তৈরিতে কারা, চলছে নজরদারি
পাকিস্তানেও সক্রিয় হচ্ছে তালেবান
নিরস্ত্র ২২ আফগান কমান্ডোকে হত্যা করল তালেবান

শেয়ার করুন

ইলন মাস্কের রকেটে পর্নোগ্রাফি হবে মহাকাশে

ইলন মাস্কের রকেটে পর্নোগ্রাফি হবে মহাকাশে

লেক্সি লুনা নামের পর্নস্টারকে নির্বাচিত করা হয়েছে মহাকাশে বিশেষ ভিডিওটির জন্য। ছবি: সংগৃহীত

মহাকাশে সিনেমা নির্মাণের পরিকল্পনা যখন চলছে, তখন পর্নোগ্রাফি ইন্ডাস্ট্রিও সেখানে বিশেষ দৃশ্যধারণের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রচুর দর্শক টানতে এবং বিপুল ভিউ পেতে এডাল্ট কনটেন্ট ক্রিয়েটর প্ল্যাটফর্ম এ উদ্যোগ নেয়। এর জন্য মহাকাশ ভ্রমণ সংস্থা স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের রকেটের সাহায্য নেয়া হবে। লেক্সি লুনা নামের একজন পর্নস্টারকে নির্বাচিত করা হয়েছে বিশেষ এই ভিডিওটির জন্য।

মহাকাশ এক বিস্ময়। সেখানে কী আছে, তা নিয়ে গবেষণা করে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। সেখানে গবেষণার জন্য কিছু মানুষ যান, থাকেন। তবে সেই জীবন নির্ভর করে গাণিতিক সমীকরণের ওপর। বিশ্ববাসীর তাই জায়গাটি নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই।

মহাকাশের নানা দৃশ্য দর্শকরা দেখেছেন বিদেশি সিনেমায়। তবে তার সবটুকুই গ্রাফিক্স, অ্যানিমেশনে করা বা সেট তৈরি করে নির্মিত। স্পেসে গিয়ে দৃশ্যধারণের ঘটনা এখনও ঘটেনি মানব-ইতিহাসে। আর এমন প্রতিকূল পরিবেশে দৃশ্যধারণ সম্ভব কি না তা নিয়েও ছিল না কোনো ধারণা।

তা ছাড়া যেখানে মহাকাশ নিয়ে প্রয়োজনীয় গবেষণাই অনেক সময় ও অর্থের ব্যাপার, সেখানে মহাকাশে সিনেমার দৃশ্যধারণ তো অকল্পনীয়।

তবে দীর্ঘদিনের গবেষণার ফলে কিছু অগ্রগতি এসেছে মহাকাশে নানা রকম কাজের ব্যাপারে। তাই এখন বিপুল অর্থের বিনিময়ে হলেও দর্শকদের আরও রোমাঞ্চিত করতে ও নতুন দৃশ্য দেখানোর কথা ভাবছেন কেউ কেউ।

এই যেমন টম ক্রুজকে নিয়ে মহাকাশে সিনেমার দৃশ্যধারণের ঘোষণা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ২০২০ সালের মে মাসে এমন কাজ করার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করে নাসা। স্পেস স্টেশনের বাইরে সেই শুটিং করার পরিকল্পনা ছিল তাদের। তবে সেটি বাস্তবায়ন হয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত করেনি নাসা বা আন্তর্জাতিক কোনো গণমাধ্যম।

ইলন মাস্কের রকেটে পর্নোগ্রাফি হবে মহাকাশে
পর্নোগ্রাফি ইন্ডাস্ট্রি মহাকাশে বিশেষ দৃশ্যধারণের উদ্যোগ নিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

চলতি মাসেই মহাকাশে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, অক্টোবর মাসেই মহাকাশে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমার দৃশ্যধারণ করবে দেশটি। এর জন্য একজন পরিচালক ও অভিনেত্রী যাবেন মহাকাশে। সিনেমার নাম দ্য চ্যালেঞ্জার

সিনেমার জন্য এসব পরিকল্পনা যখন চলছে, তখন পর্নোগ্রাফি ইন্ডাস্ট্রিও মহাকাশে পর্নোগ্রাফি দৃশ্যধারণের উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রচুর দর্শক টানতে এবং বিপুল ভিউ পেতে এডাল্ট কনটেন্ট ক্রিয়েটর প্ল্যাটফর্ম এ উদ্যোগ নেয়। এর জন্য মহাকাশ ভ্রমণ সংস্থা স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের রকেটের সাহায্য নেয়া হবে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট

ইলন মাস্কের রকেটে পর্নোগ্রাফি হবে মহাকাশে
স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। ছবি:সংগৃহীত

লেক্সি লুনা নামের একজন পর্নোস্টারকে নির্বাচিত করা হয়েছে বিশেষ এই ভিডিওটির জন্য। এরই মধ্যে লেক্সির জন্য টিকিটের তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে।

যে সংস্থাটি লেক্সিকে পাঠাচ্ছে সেই সংস্থার রব কেমিনোফি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘সাধারণ মানুষের কাছে যখন মহাকাশে যাওয়ার বিকল্প রাস্তা তৈরি হয়েছে। আমরাও চাই মহাকাশে যেতে। এর জন্য আমরা লেক্সি লুনাকে সেখানে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

আরও পড়ুন:
তালেবান রুখতে আফগানিস্তানে রাত হলেই কারফিউ
তালেবানের সুনজর পেতে উদ্গ্রীব ভারত
তালেবানের প্রতি সহানুভূতি তৈরিতে কারা, চলছে নজরদারি
পাকিস্তানেও সক্রিয় হচ্ছে তালেবান
নিরস্ত্র ২২ আফগান কমান্ডোকে হত্যা করল তালেবান

শেয়ার করুন

মমতার ইতালি সফর আটকে দিল বিজেপি সরকার

মমতার ইতালি সফর আটকে দিল বিজেপি সরকার

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

তৃণমূল নেতা সৌগত রায় বলেন, ‘অত্যন্ত লজ্জার ব্যাপার। নেতিবাচক সিদ্ধান্ত। কেন্দ্রের অনুমতি নেয়া শুধুমাত্র ফর্মালিটি। এই কাজের নিন্দা করছি। জয়শংকর আগে পররাষ্ট্র সচিব ছিলেন। এখন বিজেপির পার্টি লাইন ফলো করছেন।’

ইতালির রোমে ধর্মগুরুদের বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফরে অনুমতি দেয়নি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এক চিঠিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘মুখ্যমন্ত্রী পদের অংশগ্রহণের জন্য অনুষ্ঠানটি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’

নিয়ম অনুযায়ী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ওই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি প্রয়োজন হয়।

কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ভয় পেয়ে মমতার বিদেশ যাওয়া নিয়ে রাজনীতি করছে বলে মনে করেন তৃণমূলের একাংশ।

বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা সৌগত রায় বলেন, ‘অত্যন্ত লজ্জার ব্যাপার। নেতিবাচক সিদ্ধান্ত। কেন্দ্রের অনুমতি নেয়া শুধুমাত্র ফর্মালিটি। এই কাজের নিন্দা করছি। জয়শংকর আগে পররাষ্ট্র সচিব ছিলেন। এখন বিজেপির পার্টি লাইন ফলো করছেন।’

এ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘এটি স্পর্শকাতর বিষয়। শান্তির আড়ালে বহু জায়গায় বহু কিছু ঘটে। একজন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য রাখা হয় তো যথেষ্ট নয়, বিদেশ মন্ত্রক এমনটা মনে করে থাকতে পারে। সেজন্য অনুমতি দেয়নি।’

বিশ্বশান্তি নিয়ে সারা বিশ্বে কাজ করে ইতালির রোমের বেসরকারি সংস্থা কমিউনিটি অফ সন্ত এগিডিও। সামাজিক ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৬ ও ৭ অক্টোবর নিজেদের সম্মেলনে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল তারা।

ওই অনুযায়ী বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে উপস্থিত থাকার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। হঠাৎ শুক্রবার গভীর রাতে সফরে সম্মতি না দিয়ে নবান্নে চিঠি পাঠায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মমতা ছাড়াও সম্মেলনে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ পেয়েছেন পোপ ফ্রান্সিস, জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল ও মিশরের ইমাম।

আরও পড়ুন:
তালেবান রুখতে আফগানিস্তানে রাত হলেই কারফিউ
তালেবানের সুনজর পেতে উদ্গ্রীব ভারত
তালেবানের প্রতি সহানুভূতি তৈরিতে কারা, চলছে নজরদারি
পাকিস্তানেও সক্রিয় হচ্ছে তালেবান
নিরস্ত্র ২২ আফগান কমান্ডোকে হত্যা করল তালেবান

শেয়ার করুন

সত্যিকারের ‘জেমস বন্ড’ হলেন ডেনিয়েল ক্রেগ

সত্যিকারের ‘জেমস বন্ড’ হলেন ডেনিয়েল ক্রেগ

ডেনিয়েল ক্রেগ

যুক্তরাজ্যের রাজকীয় নৌবাহিনীর প্রধান র‌্যাডাকিন জানান, সত্যিকারের বন্ডের মতই দেশকে নিরাপদ রাখতে রাজকীয় বাহিনীর নৌ কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত নানা ধরনের অভিযানে অংশ নেন। প্রযুক্তি আর দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তারা বন্ডের মতোই অপ্রতিরোধ্য।

জেমস বন্ড হয়ে রূপালী পর্দা কাঁপাচ্ছেন ডেনিয়েল ক্রেগ। এবার যুক্তরাজ্যের রাজকীয় নৌবাহিনীর কর্মকর্তা হয়ে সত্যিকারের বন্ডের বেশে আবির্ভূত হলেন জিরো জিরো সেভেন খ্যাত এই তারকা।

সিনেমার পর্দায় বিশ্বখ্যাত ‘জেমস বন্ড’ চরিত্রটিও একজন ব্রিটিশ নৌবাহিনী কমান্ডরের। বিশ্বজুড়ে একের পর এক অভিযানের মধ্য দিয়ে ব্রিটেনকে নিরাপদ রাখাই তার লক্ষ্য।

গত ১৫ বছর ধরে পর্দার জেমস বন্ড হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ডেনিয়েল ক্রেগও রাজকীয় নৌবাহিনীতে কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। এক বিবৃতিতে ক্রেগের নিয়োগ প্রসঙ্গে রাজকীয় বাহিনীর প্রধান এডমিরাল স্যার টনি র‌্যাডাকিন বলেছেন, ‘সম্মানিত কমান্ডার ডেনিয়েল ক্রেগকে স্বাগত জানিয়ে আমি আনন্দিত।’

র‌্যাডাকিন জানান, সত্যিকারের বন্ডের মতই দেশকে নিরাপদ রাখতে রাজকীয় বাহিনীর নৌ কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত নানা ধরনের অভিযানে অংশ নেন। প্রযুক্তি আর দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তারা বন্ডের মতোই অপ্রতিরোধ্য।

বিবৃতিতে জানানো হয়, কমান্ডার পদবি গ্রহণের মধ্য দিয়ে সম্মানের দিক থেকে রাজকীয় নৌবাহিনী পরিবারে ডেনিয়েল ক্রেগ এখন সপ্তম সর্বোচ্চ ব্যাক্তিত্ব।

সম্প্রতি জেমস বন্ড সিরিজের ‘নো টাইম টু ডাই’ সিজনে অংশ নিয়ে রূপালী পর্দায় পঞ্চমবারের মত বন্ড হলেন ডেনিয়েল ক্রেগ। এই সিনেমাটিতে ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর নতুন কিছু প্রযুক্তিকে হাজির করা হয়েছে পৃথিবীর সামনে।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘নো টাইম টু ডাই’ সিনেমাটিতে তাদের ৪৫ এয়ার ডিফেন্সের এইচএমএস ড্রাগন নামে একটি নতুন ডেস্ট্রয়ারকে হাজির করা হয়েছে। ৮ হাজার টন ওজন এবং ১৫২ মিটার দীর্ঘ এই যুদ্ধজাহাজটিতে বিশ্বের আধুনিকতম বিভিন্ন প্রযুক্তি সংযুক্ত করা হয়েছে। গত জুলাইয়ে স্কটল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সামরিক মহড়ায় অগ্রসরমান একটি মিসাইলকে লাখ লাখ টুকরোয় ছিন্ন ভিন্ন করে দিয়েছে এই জাহাজের নিরাপত্তা প্রযুক্তি।

নতুন নিয়োগের মধ্য দিয়ে অবৈতনিক কর্মকর্তা হলেও ডেনিয়েল ক্রেগ নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন।

রাজকীয় নৌ বাহিনীর প্রধান র‌্যাডাকিন বলেন, ‘আমাদের সম্মিানিত অবৈতনিক কর্মকর্তারা বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রদূতের ভূমিকা পালন ছাড়াও এই বাহিনীর শক্তিমত্তাকে সারা বিশ্বের সামনে তুলে ধরেন।’

আরও পড়ুন:
তালেবান রুখতে আফগানিস্তানে রাত হলেই কারফিউ
তালেবানের সুনজর পেতে উদ্গ্রীব ভারত
তালেবানের প্রতি সহানুভূতি তৈরিতে কারা, চলছে নজরদারি
পাকিস্তানেও সক্রিয় হচ্ছে তালেবান
নিরস্ত্র ২২ আফগান কমান্ডোকে হত্যা করল তালেবান

শেয়ার করুন

নিজেদের অবস্থান তালেবানকে জানাল যুক্তরাষ্ট্র-ভারত

নিজেদের অবস্থান তালেবানকে জানাল যুক্তরাষ্ট্র-ভারত

হোয়াইট হাউজে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: পিটিআই

যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কাবুল পতনের পর তালেবান যেসব অঙ্গীকার করেছিল, তা তাদের মানতে হবে। আফগানিস্তান থেকে দেশি-বিদেশি সব নাগরিককে নিরাপদে দেশত্যাগের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া নারী, শিশু ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সবাইকে প্রাপ্য মর্যাদা দিতে হবে।’

অঙ্গীকার অনুযায়ী কাজ করতে এবং নারী, শিশু, জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ সব আফগান নাগরিকের অধিকারের প্রতি সম্মান জানাতে তালেবান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র।

হোয়াইট হাউসে স্থানীয় সময় শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রথম সরাসরি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়।

এর পরই যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের পক্ষ থেকে যৌথ এক বিবৃতিতে তালেবান সরকারের প্রতি ওই আহ্বান জানানো হয় বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত তালেবানকে অবশ্যই মানতে হবে বলে বৈঠকে একমত পোষণ করেন বাইডেন ও মোদি।

গত মাসে তালেবানের হাতে কাবুল পতনের দুই সপ্তাহ পর ৩০ আগস্ট জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রেজল্যুশন ২৫৯৩ (২০২১) গৃহীত হয়।

এতে বলা হয়, অন্য দেশে হামলা চালাতে আফগানিস্তানের মাটি ফের কোনো গোষ্ঠীকে ব্যবহার করতে দেয়া যাবে না।

একই সঙ্গে আফগান ভূখণ্ডে সন্ত্রাসীদের আশ্রয় বা প্রশিক্ষণ কর্মকাণ্ড চালানোর অনুমতি না দেয়া এবং কোনো ধরনের সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা বা অর্থায়ন না করার কথাও ওই রেজল্যুশনে বলা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কাবুল পতনের পর তালেবান যেসব অঙ্গীকার করেছিল, তা তাদের মানতে হবে।

‘আফগানিস্তান থেকে দেশি-বিদেশি সব নাগরিককে নিরাপদে দেশত্যাগের ব্যবস্থা করতে হবে।

‘এ ছাড়া নারী, শিশু ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সবাইকে প্রাপ্য মর্যাদা দিতে হবে।’

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের মাধ্যমে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ তালেবানের হাতে চলে যায়। চলতি মাসের শুরুতে নিজেদের ৩৩ নেতা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে তালেবান।

আরও পড়ুন:
তালেবান রুখতে আফগানিস্তানে রাত হলেই কারফিউ
তালেবানের সুনজর পেতে উদ্গ্রীব ভারত
তালেবানের প্রতি সহানুভূতি তৈরিতে কারা, চলছে নজরদারি
পাকিস্তানেও সক্রিয় হচ্ছে তালেবান
নিরস্ত্র ২২ আফগান কমান্ডোকে হত্যা করল তালেবান

শেয়ার করুন