‘আবকি বার দিদি সরকার’

‘আবকি বার দিদি সরকার’

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কেন্দ্র থেকে বিজেপিকে উৎখাত করতে চায় বিরোধীরা। বিজেপি বিরোধী ঐক্যের প্রস্তুতির মধ্যে মোদির স্লোগানকে একটু পাল্টে নিয়ে ‘আবকি বার দিদি সরকার’ যেভাবে ট্রেন্ড হয়েছে সেটি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

পশ্চিমবঙ্গে তৃতীয় বারের মতো সরকার গঠনের পর এই প্রথম মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফরের মধ্যে টুইটার ট্রেন্ড হয়েছে আবকি বার দিদি সরকার।

২০১৪ সালে গুজরাট মডেল সামনে রেখে বিজেপি স্লোগান তুলেছিল আবকি বার মোদি সরকার। সেবার বিপুল জনসমর্থন নিয়ে কেন্দ্রে সরকার গঠন করেছিল বিজেপি।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কেন্দ্র থেকে বিজেপিকে উৎখাত করতে চায় বিরোধীরা। বিজেপি বিরোধী ঐক্যের প্রস্তুতির মধ্যে মোদির স্লোগানকে একটু পাল্টে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ উন্নয়নের মডেল সামনে রেখে ‘বেঙ্গলিপ্রাইম মিনিস্টার’ হ্যাশট্যাগের পর ‘আবকি বার দিদি সরকার’ যেভাবে ট্রেন্ড হয়েছে সেটি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

টুইটারে আবকি বার দিদি সরকার হ্যাশট্যাগ দিয়ে কেউ কেউ লিখেছেন, ‘ভারত আরও ভালো পরিষেবা চায়। গরিব মানুষের জন্য সরকার চায় ভারত । তাই আমরা মমতা ব্যানার্জিকে চাই।’

কেউ আবার লিখেছেন, ‘ভারত বাংলার মডেল চায়।’

একজন আবার টুইটার পোস্টে লিখেছেন, ‘দিদির বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বলছে যে নিশ্চিত আবকি বার দিদি সরকার।’

আবকি বার দিদি সরকার হ্যাশট্যাগ দিয়ে তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা রাজ্যের বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের কথা পোস্টে তুলে ধরেছেন। সেখানে রাজ্যের কোটি কোটি মানুষ ওই সমস্ত প্রকল্প থেকে উপকৃত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এবার দেশের সমস্ত মানুষের ওই সমস্ত সুবিধা পাওয়া উচিত। এজন্য দিল্লির মসনদে দিদিকে বসাতে চান বলে লিখেছেন তারা।

২১ জুলাই তৃণমূলের শহীদ দিবসের ভার্চুয়াল সমাবেশে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ঘোষণা করেছিলেন ক্ষমতায় এলে গোটা দেশে ফ্রিতে রেশন দিবেন।

তৃণমূল নেতারা দেশের সামনে বেঙ্গল মডেল তুলে ধরে মমতার দিল্লি সফরের মধ্যে আবকি বার দিদি সরকার নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির এবারের দিল্লি সফর আসলে মোদি বিরোধীদের একজোট করার সফর বলে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তার দিল্লি সফরের সময় একাধিক বিজেপি বিরোধী নেতা সংগঠনের সঙ্গে যেমন বৈঠক করবেন, তেমনি একাধিক বিজেপি নেতার সঙ্গেও দেখা করবেন মমতা।

পশ্চিমবঙ্গে বিশাল ব্যবধানে বিজেপিকে পরাস্ত করার পর দেশের মোদি বিরোধী মুখ হিসেবে ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন তিনি। সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, আপের অরবিন্দ কেজরিওয়াল, শিবসেনার সঞ্জয় রাউত এবং মেহবুবা মুফতিরা তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন তখন।

এবার পেট্রল ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি, ইসরায়েলি স্পাইওয়ার পেগাসাস নিয়ে সংসদের ভেতরে বাইরে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে চেপে ধরেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সোশ্যাল মিডিয়াকে বিজেপি যেভাবে ব্যবহার করে অন্য কোনো দল সেটি করে উঠতে পারিনি এতদিন। এবার তৃণমূল কংগ্রেসও সবদিক দিয়ে বিজেপির পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত।

মমতার দিল্লি সফরের মধ্যে আবকি বার দিদি সরকার প্রচার তৃণমূলকে বিজেপি বিরোধীদের নেতৃত্ব দিতে এগিয়ে রাখবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

আরও পড়ুন:
কেন্দ্র জয়ের আশায় দিল্লির পথে মমতা
মমতার আহ্বানে দিল্লিতে বৈঠকে বসবেন মোদি বিরোধীরা
মমতার প্রকল্পের প্রশংসায় অমর্ত্য সেনের ট্রাস্ট
‘খেলা হবে’র ব্যাখ্যা দিলেন মমতা
মোদিকে 'তাড়াতে' জোট চাইছেন মমতা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

তালেবানের সঙ্গে বসার উদ্যোগ ইমরান খানের

তালেবানের সঙ্গে বসার উদ্যোগ ইমরান খানের

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ছবি: জিও টিভি

দুশানবে সফরে আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ইমরান খান জানান, অংশগ্রহণমূলক আফগানিস্তান সরকারে যাতে তাজিক, হাজারা ও উজবেক নৃগোষ্ঠীদেরও প্রতিনিধিত্ব থাকে, সে জন্য তালেবানের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন।

আফগানিস্তানে সবার অংশগ্রহণমূলক সরকার গঠনে উদ্যোগ নিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। জানিয়েছেন, এর অংশ হিসেবে তালেবানের সঙ্গে বসবেন তিনি।

দুশানবে সফরে আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা বলেন ইমরান। জানান, অংশগ্রহণমূলক আফগানিস্তান সরকারে যাতে তাজিক, হাজারা ও উজবেক নৃগোষ্ঠীদেরও প্রতিনিধিত্ব থাকে, সে জন্য তালেবানের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন।

সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন কাউন্সিলের ২০তম সম্মেলনে যোগ দিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এখন তাজিকিস্তানে। সম্মেলনের ফাঁকে আফগানিস্তান ইস্যুতে তিনি দেশটির প্রতিবেশী ইরান, কাজাকস্তান, উজবেকিস্তান ও তাজিকিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এ বৈঠক নিয়ে কয়েকটি টুইট করেছেন ইমরান খান। একটি টুইটে তিনি লিখেছেন, ‘আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা শেষে তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাহমন ও আমি তালেবানের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছি। যাতে করে, আফগানিস্তানের অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকারে তাজিক, হাজারা ও উজবেকদের অংশগ্রহণ থাকে।’

অন্য এক টুইটে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৪০ বছরের লড়াই শেষে কেবল অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকারই শান্তি ও স্থিতিশীল আফগানিস্তানের নিশ্চয়তা দিতে পারে। আর এটা কেবল আফগানিস্তানের চাওয়া নয়, এটা এই অঞ্চলের প্রত্যাশা।

একের পর এক প্রদেশ জয়ের পর গত ১৫ আগস্ট রাজধানী কাবুল দখলের মধ্য দিয়ে পুরো আফগানিস্তান দখলের ষোলকলা পূর্ণ করে তালেবান।

দুই দশক পর আবার আফগানিস্তান দখল করে তালেবান জানায়, তারা ২০ বছর আগের অবস্থানে নেই। সহনশীলতার কথা বলেছিল কট্টর ইসলামী গোষ্ঠীটি। শত্রুদের সবাইকে ক্ষমা করে দেয়ার কথা জানায় তারা। সবাইকে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের আশ্বাস দেয়। সরকারে নারী প্রতিনিধিত্ব রাখারও ইঙ্গিত দেয়।

তালেবানের এসব আশ্বাসের বাস্তবের কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে তালেবান যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘোষণা করেছে, সেখানে বেশির ভাগ সদস্যই পশতু জাতিগোষ্ঠীর; মন্ত্রিসভায় নেই কোনো নারী সদস্য।

আরও পড়ুন:
কেন্দ্র জয়ের আশায় দিল্লির পথে মমতা
মমতার আহ্বানে দিল্লিতে বৈঠকে বসবেন মোদি বিরোধীরা
মমতার প্রকল্পের প্রশংসায় অমর্ত্য সেনের ট্রাস্ট
‘খেলা হবে’র ব্যাখ্যা দিলেন মমতা
মোদিকে 'তাড়াতে' জোট চাইছেন মমতা

শেয়ার করুন

‘মোদিবিরোধিতায় মমতাই যোগ্য মুখ’

‘মোদিবিরোধিতায় মমতাই যোগ্য মুখ’

মোদির বিকল্প মুখ মমতাই, রাহুল নয়- সুদীপ। ছবি: সংগৃহীত

‘মোদির বিকল্প হিসেবে জবরদস্ত, বিশ্বাসযোগ্য মুখ সামনে রেখে প্রচারে যেতে হবে। আর তা হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’

জোটের রাস্তা খোলা রেখে মোদিবিরোধিতায় মমতাই যোগ্য মুখ বলে কংগ্রেসকে খোলাখুলি বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।

লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা সুদীপের কর্মীসভায় দেয়া একটি বক্তব্যের অংশ ছেপে শুক্রবার তার ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে ‘জাগো বাংলা’ মুখপত্রটিতে।

সেখানে সুদীপ বলেছেন, ‘রাহুল গান্ধীকে আমি বহুদিন চিনি। বলতে বাধ্য হচ্ছি, তিনি এখনও নরেন্দ্র মোদির বিকল্প মুখ হয়ে উঠতে পারেননি।

‘আমরা সব বিরোধীদলের সঙ্গে কথা বলেই মমতাকে বিকল্প মুখ হিসেবে সামনে রেখে প্রচারে যাব। তবে কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে আমরা কখনই বিকল্প জোটের কথা বলছি না।’

তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, ‘রাহুল সুযোগ পেয়েছেন, কিন্তু পারেননি। বারবার নির্বাচনি ব্যর্থতায় সুযোগ ও সময় নষ্ট করা যাবে না।

‘মোদির বিকল্প হিসেবে জবরদস্ত, বিশ্বাসযোগ্য মুখ সামনে রেখে প্রচারে যেতে হবে। আর তা হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’

তৃণমূলের তরফে মোদিবিরোধী জোটের নেতৃত্ব দেয়ার বার্তা প্রকাশের পরই কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী তার প্রতিক্রিয়া জানান।

তিনি বলেন ‘তৃণমূলের এই বার্তায় সবচেয়ে খুশি হবেন নরেন্দ্র মোদি। কারণ, প্রধানমন্ত্রী চান আঞ্চলিক দলগুলো যেন ঐক্যবদ্ধ হতে না পারে।’

অধীর আরও বলেন, ‘বিজেপি পাঞ্জাবকে সাহায্য করছে। বাংলায় হয়তো তৃণমূলকে সাহায্য করবে। বিজেপি বলে, রাহুল পারবেন না। একথা তৃণমূল বললে বিজেপির সঙ্গে তাদের পার্থক্য কমবে।’

মোদিবিরোধী জোটের নেতৃত্ব প্রসঙ্গে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, ‘১৯টি দল সংসদের ভেতরে-বাইরে বিজেপির বিরোধিতা করছে। এ আন্দোলন চলবে। কিন্তু কোনো ফ্রন্ট এখনো তৈরি হয়নি। ভোটের অনেক দেরি। এর মধ্যে অনেক রকম প্রস্তাব আসতে থাকবে।’

আরও পড়ুন:
কেন্দ্র জয়ের আশায় দিল্লির পথে মমতা
মমতার আহ্বানে দিল্লিতে বৈঠকে বসবেন মোদি বিরোধীরা
মমতার প্রকল্পের প্রশংসায় অমর্ত্য সেনের ট্রাস্ট
‘খেলা হবে’র ব্যাখ্যা দিলেন মমতা
মোদিকে 'তাড়াতে' জোট চাইছেন মমতা

শেয়ার করুন

তৃণমূলে যোগ দিলেন বাবুল সুপ্রিয়

তৃণমূলে যোগ দিলেন বাবুল সুপ্রিয়

রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ওব্রেয়ান ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে তৃণমূলে যোগ দেন বিজেপি সাংসদ ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। ছবি: সংগৃহীত

তৃণমূলে যোগ দিয়ে বিজেপি সাংসদ ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় বলেন, ‘কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর কী ক্ষমতা আপনারা সবাই জানেন। সাত বছর ধরে আমি পশ্চিমবঙ্গের জন্য বাঙালি হিসেবে কোন কাজ করতে পারিনি। পশ্চিমবঙ্গের জন্য কাজ করার সুযোগ আমার সামনে এসেছে। তৃণমূলে যোগ দিয়ে আমি সেই সুযোগটি নিয়েছি।’

রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর শনিবার পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলের বিজেপি সাংসদ ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় তৃণমূলে যোগ দেন।

এদিন রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ওব্রেয়ানের উপস্থিতিতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে তৃণমূলের দলীয় পতাকা হাতে তুলে নেন বাবুল।

তৃণমূলে যোগ দিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে বাবুল সুপ্রিয় বলেন, ‘কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর কী ক্ষমতা আপনারা সবাই জানেন। সাত বছর ধরে আমি পশ্চিমবঙ্গের জন্য বাঙালি হিসেবে কোন কাজ করতে পারিনি। পশ্চিমবঙ্গের জন্য কাজ করার সুযোগ আমার সামনে এসেছে। তৃণমূলে যোগ দিয়ে আমি সেই সুযোগটি নিয়েছি।’

এদিন বাবুল বলেন, ‘মমতা দিদি, অভিষেক দায়িত্ব দিচ্ছেন। আমি খুব উৎসাহী। মন থেকে রাজনীতি ছেড়ে ছিলাম। মন থেকে পশ্চিমবঙ্গের কাজ করার সুযোগ গ্রহণ করলাম।’

তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন টুইট করে লেখেন, ‘খেলা হবে’।

সম্প্রতি নরেন্দ্র মোদি সরকারের মন্ত্রিসভায় রদবদলের সময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে বাবুলকে ইস্তফা দিতে বলা হয়েছিল। তিনি ইস্তফা দিয়ে দেন। এরপর তার রাজনৈতিক জীবন নিয়ে জলঘোলা হয়।

বাবুল রাজনীতি, এমনকি সাংসদ পদ ছেড়ে দেয়ার কথা ফেসবুকে ঘোষণা করেন। সে সময় তিনি বলেন সমাজসেবা করতে কোন দল লাগে না। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাকে দল না ছাড়ার পরামর্শ দিলে, তিনি বলেছিলেন তার একটাই দল, বিজেপি। মানুষের কথা ভেবে তিনি এখনই সাংসদ পদে ইস্তফা দিচ্ছেন না।

সম্প্রতি ভবানীপুর উপনির্বাচনে বিজেপির তারকা প্রচারকের তালিকায় তার নাম ছিল। যদিও বাবুল প্রচারে অংশ নেবেন না বলে আগেই জানিয়ে ছিলেন।

এদিন মুখ্যমন্ত্রীর প্রচারে অংশ নেবেন কিনা সে প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচারে বাবুলকে লাগে না। তবে দল চাইলে যাবো।’

শুক্রবার বাবুলের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা কমিয়ে দেয়া হয়েছে। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাবুল সুপ্রিয় আচমকা তৃণমূলে যোগ দেয়ায় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তবে কি অর্পিতা ঘোষের ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভা সাংসদ পদে যাচ্ছেন বাবুল সুপ্রিয়। সূত্রের খবর, বাবুল সাংসদ পদ ছেড়ে দিচ্ছেন।

আরও পড়ুন:
কেন্দ্র জয়ের আশায় দিল্লির পথে মমতা
মমতার আহ্বানে দিল্লিতে বৈঠকে বসবেন মোদি বিরোধীরা
মমতার প্রকল্পের প্রশংসায় অমর্ত্য সেনের ট্রাস্ট
‘খেলা হবে’র ব্যাখ্যা দিলেন মমতা
মোদিকে 'তাড়াতে' জোট চাইছেন মমতা

শেয়ার করুন

আফগানিস্তানে খুলল স্কুল, বাদ মেয়েরা

আফগানিস্তানে খুলল স্কুল, বাদ মেয়েরা

আফগানিস্তানে মেয়ে শিক্ষার্থী ও নারী শিক্ষকদের বাদ দিয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করেছে তালেবান সরকার। ছবি: সংগৃহীত

দিনটিকে চরম বিষাদময় বললেন কাবুলের ১৬ বছর বয়সী এক ছাত্রী। এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি চিকিৎসক হতে চেয়েছিলাম। আমার এমন স্বপ্ন ভেঙে গেছে। আমি মনে করি না তালেবান মেয়েদের স্কুলে ফিরতে দেবে। এমনকি যদি তারা উচ্চ-মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো খুলেও দেয়, তারা চাইবেনা মেয়েরা শিক্ষিত হোক।’

আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর নারীর অধিকারসহ অন্যান্য নাগরিক অধিকারের প্রতি সম্মান জানানোর অঙ্গীকার থেকে ফের সরে এসেছে তালেবান।

এবার দেশটিতে মেয়ে শিক্ষার্থী ও নারী শিক্ষকদের বাদ দিয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করেছে নতুন ক্ষমতায় বসা কট্টর ধর্মভিত্তিক গোষ্ঠীটি।

শনিবার দেশটিতে শুরু হয়েছে সশরীরে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কর্মসূচি। তালেবান সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী এতে অংশ নিয়েছেন ছেলে শিক্ষার্থী ও পুরুষ শিক্ষকরা।

তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেয়েদের জন্যে আলাদা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু হবে শিগগিরই।

এর মধ্য দিয়ে নব্বইয়ের দশকে তালেবানের প্রথম ক্ষমতায় থাকাকালীন কট্টর নারী বিদ্বেষী মনোভাব ফের দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় চাপিয়ে দেয়ার আতঙ্ক পেয়ে বসেছে সাধারণ জনগণের মনে।

মেয়ে শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক ও শিক্ষকরা দেশটিতে নারী শিক্ষার ভবিষ্যত নিয়েও শঙ্কিত হয়ে উঠেছেন।

শনিবারের ওই বিবৃতিতে তালেবান শাসকগোষ্ঠী জানায়, সব পুরুষ শিক্ষক ও ছেলে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারবে। তবে ওই বিবৃতিতে মেয়ে শিক্ষার্থী ও নারী শিক্ষকদের উপস্থিত থাকার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়।

দেশটিতে সাধারণত ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী ছাত্র-ছাত্রীরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। দেশটির অধিকাংশ বিদ্যালয়গুলোতে সহশিক্ষার সুযোগ নেই।

তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ‘ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আলাদা স্কুল চালুর প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে। শিক্ষকদের বিষয়ে আসবে আলাদা ও নতুন নীতিমালা।’

আফগানিস্তানে খুলল স্কুল, বাদ মেয়েরা

তবে মেয়ে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা তালেবানের এমন প্রতিশ্রুতিকে ফাঁকা বুলি বলে শঙ্কা করছেন।

এক কিশোরী বলেন, ‘আমার শিক্ষাজীবন আর ভবিষ্যত নিয়ে ভীষণ শঙ্কিত আমি।’ এই মেয়ে শিক্ষার্থী আইনজীবী হবার সংকল্প রয়েছে।

ওই শিক্ষার্থী আরও বলেন, ‘ তালেবানের অধীন সবকিছু ভীষণ অন্ধকার আচ্ছন্ন মনে হচ্ছে। ঘুম থেকে উঠে নিজেকে প্রতিদিন প্রশ্ন করি, কেনইবা আমি বেঁচে রয়েছি। আমার কি বাড়িতে বসে অপেক্ষা করা উচিত যে কখন কেউ দরজায় টোকা দিয়ে আমাকে বিয়ে করতে বলবে? এটাই কী নারী হওয়ার উদ্দেশ?

এসময় কিশোরীটির বাবা বলেন, ‘আমার মা নিরক্ষর ছিলেন। আমার বাবা এই নিয়ে মাকে হেয় করতেন। তাকে বোকা বলতেন। আমি চাইনি যে আমার মেয়ের জীবনে আমার মায়ের কষ্টের জীবন ফিরে আসুক।

এই দিনটিকে চরম বিষাদময় বললেন কাবুলের ১৬ বছর বয়সী আরেক ছাত্রী।

এই শিক্ষার্থী বিবিসির প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি চিকিৎসক হতে চেয়েছিলাম। আমার এমন স্বপ্ন ভেঙে গেছে। আমি মনে করি না তালেবান আমাদের স্কুলে ফিরতে দেবে। এমনকি যদি তারা উচ্চ-মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো খুলেও দেয়, তারা চাইবেনা মেয়েরা শিক্ষিত হোক।

আফগানিস্তানে খুলল স্কুল, বাদ মেয়েরা

এক আফগান স্কুলছাত্রী জানান, তিনি ভেঙে পড়েছেন। সবকিছু অন্ধকারে ঢেকে গেছে।

সম্প্রতি নারী শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার অনুমতি দিলেও ক্লাসরুমের মাঝে পর্দা ও পোশাকের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নিয়ম চাপিয়ে দেয় তালেবান।

মেয়ে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়তে না দেয়ার অর্থ হচ্ছে তাদের উচ্চ শিক্ষার পথ রুখে দেয়া।

২০০১ সালে কট্টরপন্থি তালেবানকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর শিক্ষার ক্ষেত্রে নারীরা অনেক এগিয়ে গিয়েছিল। তবে দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতা দখলের পর আগের রক্ষণশীল মনোভাব থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছিল গোষ্ঠীটি।

তবে তালেবানের বিভিন্ন নির্দেশনা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ধারাবাহিকতা সেসবের ইঙ্গিত দিচ্ছে না। বরং কট্টরপন্থি গোষ্ঠিটি সেই আগের মতোই রয়ে গেছে বলে শঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
কেন্দ্র জয়ের আশায় দিল্লির পথে মমতা
মমতার আহ্বানে দিল্লিতে বৈঠকে বসবেন মোদি বিরোধীরা
মমতার প্রকল্পের প্রশংসায় অমর্ত্য সেনের ট্রাস্ট
‘খেলা হবে’র ব্যাখ্যা দিলেন মমতা
মোদিকে 'তাড়াতে' জোট চাইছেন মমতা

শেয়ার করুন

মোদির জন্মদিনে টিকায় বিশ্ব রেকর্ড ভারতের

মোদির জন্মদিনে টিকায় বিশ্ব রেকর্ড ভারতের

ভারতে এক দিনে আড়াই কোটি মানুষকে টিকা দেয়া হয়। ছবি: এনডিটিভি

ভারতে শুক্রবার সন্ধ্যায় দুই কোটির বেশি মানুষকে টিকা দেয়ার পর টুইটে অভিনন্দন বার্তা দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অফিস। সরকারের ট্র্যাকারে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৮০০ বা এক মিনিটে প্রায় ৪৮ হাজার মানুষের টিকা নেয়ার তথ্য উঠে এসেছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭১তম জন্মদিনকে স্মরণীয় করে রাখতে রেকর্ড টিকাদানের পরিকল্পনা নিয়েছিল দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার ও ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়েছে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার মধ্য দিয়ে।

১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বর্তমান গুজরাটের বড়নগরে জন্ম হয় নরেন্দ্র দামোদারদাস মোদির। শুক্রবার তার জন্মদিনে ভারতে টিকা দেয়া হয় দুই কোটি ৫০ লাখ ১০ হাজার ৩৯০ জনকে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মানসুখ মান্দাবিয়া শুক্রবার রাত ১১টা ৫৮ মিনিটে টুইট করে টিকাদানে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার বিষয়টি জানিয়েছেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকেও একই বিষয় জানান।

তিনি বলেন, ‘আজকের রেকর্ড সংখ্যার জন্য গর্ব বোধ করবেন প্রতিটি ভারতীয়।’

টিকাদান অভিযান সফল করতে নিরলস প্রচেষ্টার জন্য স্বাস্থ্যকর্মী ও সম্মুখসারির কর্মীদের ধন্যবাদ জানান মোদি।

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে আড়াই কোটি টিকা দেয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল। এক দিনে সে লক্ষ্যের বেশি মানুষকে টিকা দেয়া হয়।

এর আগে চলতি বছরের জুনে এক দিনে সর্বোচ্চ ২ কোটি ৪৭ লাখ মানুষকে টিকা দিয়েছিল চীন।

ভারতে শুক্রবার সন্ধ্যায় দুই কোটির বেশি মানুষকে টিকা দেয়ার পর টুইটে অভিনন্দন বার্তা দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অফিস।

সরকারের ট্র্যাকারে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৮০০ বা এক মিনিটে প্রায় ৪৮ হাজার মানুষের টিকা নেয়ার তথ্য উঠে এসেছে।

জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের (এনএইচএ) প্রধান আর এস শর্মা শুক্রবার সন্ধ্যায় এনডিটিভিকে বলেন, দিনটি ঐতিহাসিক।

ওই সময় তিনি দেশব্যাপী টিকাদানে যুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশংসা করেন।

সরকারের শীর্ষ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. এনকে অরোরা বলেন, কয়েক মাসের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় বিপুলসংখ্যক মানুষকে টিকা দেয়া সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুন:
কেন্দ্র জয়ের আশায় দিল্লির পথে মমতা
মমতার আহ্বানে দিল্লিতে বৈঠকে বসবেন মোদি বিরোধীরা
মমতার প্রকল্পের প্রশংসায় অমর্ত্য সেনের ট্রাস্ট
‘খেলা হবে’র ব্যাখ্যা দিলেন মমতা
মোদিকে 'তাড়াতে' জোট চাইছেন মমতা

শেয়ার করুন

কাবুলে বেসামরিক নাগরিক হত্যার কথা স্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের

কাবুলে বেসামরিক নাগরিক হত্যার কথা স্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে গাড়িতে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহত হয় এক পরিবারের ১০ সদস্য। ছবি: এএফপি

গত ২৯ আগস্টের ওই হামলায় এক ত্রাণকর্মী ও তার পরিবারের অন্য ৯ সদস্য নিহত হয়। নিহত ১০ জনের মধ্যে সাত শিশু রয়েছে। সবচেয়ে ছোট শিশুটির বয়স দুই বছর।

আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের আগে দেশটির রাজধানী কাবুলে ড্রোন হামলায় ১০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের তদন্তে উঠে এসেছে, জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) সংশ্লিষ্ট ভেবে গাড়িতে ড্রোন হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র, যার বলি হয় একটি পরিবারের সদস্যরা।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৯ আগস্টের ওই হামলায় এক ত্রাণকর্মী ও তার পরিবারের অন্য ৯ সদস্য নিহত হয়।

নিহত ১০ জনের মধ্যে সাত শিশু রয়েছে। সবচেয়ে ছোট শিশুটির বয়স দুই বছর।

গত ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল দখলের মধ্য দিয়ে দেশটিতে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। পরে ‘অজেয়’ উপত্যকা পাঞ্জশিরও দখলে নেয় সংগঠনটি।

তালেবানের হাতে ক্ষমতা যাওয়ার পরই কাবুল থেকে সামরিক-বেসামরিক নাগরিকদের প্রত্যাহারে তোড়জোড় শুরু করে বিভিন্ন দেশ। এ পরিস্থিতির মধ্যেই কাবুল বিমানবন্দরে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। সে হামলার কয়েক দিন পর ড্রোন হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।

ড্রোন হামলার বিষয়ে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের কর্মকর্তা জেনারেল কেনেথ ম্যাকেঞ্জি বলেন, ত্রাণকর্মীর গাড়িটি আটঘণ্টা ধরে ট্র্যাক করা হচ্ছিল। ধারণা ছিল, গাড়িটি আইএসের স্থানীয় শাখা আইএস-কে সংশ্লিষ্ট।

ম্যাকেঞ্জির মতে, হামলাটি ছিল ‘বেদনাদায়ক ভুল’।

যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত অনুযায়ী, জামাইরি আহমাদি নামের ত্রাণকর্মী

কাবুল বিমানবন্দর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে নিজ বাড়িতে গাড়িতে চড়ার পরপরই হামলা চালানো হয়।

বোমা হামলার পর আরেকটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়, যাতে যুক্তরাষ্ট্র মনে করেছিল, গাড়িতে বিস্ফোরক ছিল। তবে অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিলিন্ডার থেকে দ্বিতীয় বিস্ফোরণ হতে পারে।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কাজ করা এক অনুবাদকও রয়েছেন, যার নাম আহমদ নাসের।

তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন বলেন, ‘আমরা এ পর্যায়ে এসে জানতে পেরেছি, আহমাদির সঙ্গে আইএস-খোরাসানের কোনো যোগসূত্র ছিল না। ওই দিন (হামলার সময়) তার কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ অহিংস ছিল এবং সেটি ছিল আমাদের মনে করা আসন্ন হুমকির একেবারে উল্টো।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এ ঘটনায় ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি ভয়াবহ এ ভুল থেকে শিক্ষা নিতে সচেষ্ট হব।’

আরও পড়ুন:
কেন্দ্র জয়ের আশায় দিল্লির পথে মমতা
মমতার আহ্বানে দিল্লিতে বৈঠকে বসবেন মোদি বিরোধীরা
মমতার প্রকল্পের প্রশংসায় অমর্ত্য সেনের ট্রাস্ট
‘খেলা হবে’র ব্যাখ্যা দিলেন মমতা
মোদিকে 'তাড়াতে' জোট চাইছেন মমতা

শেয়ার করুন

স্বাভাবিক রূপে ফিরছে পাঞ্জশির

স্বাভাবিক রূপে ফিরছে পাঞ্জশির

পাঞ্জশিরের প্রবেশদ্বার। ছবি: সংগৃহীত

খুলে দেয়া হয়েছে পাঞ্জশিরের রাস্তাগুলো; ফিরে এসেছে টেলিফোন নেটওয়ার্ক। তবে পাঞ্জশিরের বাসিন্দাদের কেউ কেউ বলছেন, গত কয়েক সপ্তাহে তালেবান ও স্থানীয় প্রতিরোধী বাহিনীর লড়াইয়ের মধ্যে সেখানকার বাসিন্দাদের ৯০ শতাংশই ঘর ছেড়ে পালিয়েছে।

তালেবান ও স্থানীয় যোদ্ধাদের মধ্যে তুমুল লড়াইয়ের প্রায় ২০ দিন পর স্বাভাবিক রূপে ফিরতে শুরু করেছে আফগানিস্তানের পর্বতঘেরা প্রদেশ পাঞ্জশির। সেখানকার রাস্তাগুলো খুলে দেয়া হয়েছে। টেলিফোন নেটওয়ার্কেও মেরামতের কাজ চলছে।

পাঞ্জশিরের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কর্মকর্তা এবং বাসিন্দাদের বরাতে এ তথ্য দিয়েছে টলোনিউজ

অবশ্য বাসিন্দাদের অনেকে বলছেন, রাজ্যটিতে এখনও বিদ্যুৎ ফেরেনি।

স্থানীয় সাংবাদিক মোহাম্মদ ওয়াসি আলমাস বলেছেন, ‘টেলিকম নেটওয়ার্ক গতকাল থেকে কাজ করছে। বড় সমস্যা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন, যা এখনও সমাধান হয়নি।’

পাঞ্জশিরের বাসিন্দাদের কেউ কেউ বলছেন, গত কয়েক সপ্তাহে তালেবান ও স্থানীয় প্রতিরোধী বাহিনীর লড়াইয়ের মধ্যে সেখানকার বাসিন্দাদের ৯০ শতাংশই ঘর ছেড়ে পালিয়েছে। তারা পাহাড়-পর্বতের ঢালে আশ্রয় নিয়েছে। মারাত্মক সংকটে পড়েছে তারা।

পাঞ্জশিরের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে এক বাসিন্দা বলেন, ‘অর্থনৈতিক দুর্দশা দেখা দিয়েছে। মানুষজনকে অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে লড়তে হচ্ছে।’

প্রদেশটির আরেকজন বাসিন্দা বলেন, ‘১০০ ভাগ মানুষের মধ্যে এখন ১০ ভাগ মানুষ এখানে বাস করছে। বাকিরা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।’

অবশ্য পাঞ্জশিরের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, প্রদেশটির পরিবেশ স্বাভাবিক আছে।

স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তা মৌলভি সানা সানগিন ফাতিহ বলেন, ‘নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষের রক্ষা আমাদের দায়িত্বের বাধ্যবাধকতা। বিদ্যুৎ নেই, খাদ্য নেই- এসব যা বলা হচ্ছে তা মিথ্যা।’

গত ১৫ আগস্ট কাবুল দখলের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণে নিলেও পাঞ্জশির নিয়ন্ত্রণে নিতে পারছিল না তালেবান। তুমুল লড়াই শেষে গত ৬ আগস্ট আফগানিস্তানের সবচেয়ে ছোট প্রদেশটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় কট্টর ইসলামপন্থি সংগঠনটি।

প্রদেশটিকে তালেবান মুক্ত রাখার ঘোষণা দেন ‘পাঞ্জশিরের সিংহ’ খ্যাত আহমেদ শাহ মাসুদের ছেলে আহমেদ মাসুদ, কিন্তু সম্ভব হয়নি। প্রথমবারের মতো কোনো শক্তির কাছে পরাজিত হয় ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের (এনআরএফ)।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবর, এনআরএফ প্রধান আহমেদ মাসুদ যুক্তরাষ্ট্রে একজন লবিস্ট নিয়োগ দিয়েছেন, যাতে তার বাহিনী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সহায়তা পায়।

আহমেদ মাসুদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, লবিস্ট নিয়োগ দেয়ার উদ্দেশ্য, যুক্তরাষ্ট্র যাতে তালেবানকে স্বীকৃতি না দেয়, এ বিষয়ে নিরুৎসাহিত করা।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই কাজ করে যাচ্ছে তালেবানও। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বৈধতা এবং অর্থ সহায়তা পেতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে তারা।

আরও পড়ুন:
কেন্দ্র জয়ের আশায় দিল্লির পথে মমতা
মমতার আহ্বানে দিল্লিতে বৈঠকে বসবেন মোদি বিরোধীরা
মমতার প্রকল্পের প্রশংসায় অমর্ত্য সেনের ট্রাস্ট
‘খেলা হবে’র ব্যাখ্যা দিলেন মমতা
মোদিকে 'তাড়াতে' জোট চাইছেন মমতা

শেয়ার করুন