ইরাক অভিযানেও ইতি টানছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরাক অভিযানেও ইতি টানছে যুক্তরাষ্ট্র

২০০৩ সালে ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে দেশটিতে অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা। ছবি: এএফপি

ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরু হয়েছিল সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের শাসনামলে। ১৮ বছরের এ অভিযান সমাপ্ত হচ্ছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট বাইডেনের হাত ধরে।

আফগানিস্তানের পর ইরাকেও এ বছর সামরিক অভিযানে ইতি টানবে যুক্তরাষ্ট্র। ইরাকে দায়িত্বপ্রাপ্ত নিজ সেনাদের বছরের শেষ নাগাদ রণক্ষেত্র থেকে ফিরিয়ে নেবে ওয়াশিংটন।

ইরাকে অবস্থান করলেও কোনো ধরনের সেনা অভিযান বা যুদ্ধে অংশ নেবে না যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা।

হোয়াইট হাউসে সোমবার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন যুক্তরাষ্ট্র সফররত ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মুস্তাফা আল-খাদিমি। তাদের বৈঠকের পরই আসে এ ঘোষণা।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের বিরুদ্ধে স্থানীয় যোদ্ধাদের সহযোগিতা দিতে বর্তমানে ইরাকে অবস্থান করছে আড়াই হাজার আমেরিকান সেনা। দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সামরিক অভিযান শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রের মোতায়েনকৃত সেনার সংখ্যা প্রায় একই থাকবে।

তবে তাদের ভূমিকা দেশটির সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দানে সীমিত থাকবে বলে জানিয়েছেন বাইডেন।

তিনি বলেন, ‘ইরাকে আইএস জঙ্গিদের পুনরুত্থান ঠেকাতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রাখব আমরা। তবে এ বছরের শেষ থেকে সেখানে নতুন করে কোনো সেনা অভিযান বা সরাসরি যুদ্ধে আর অংশ নেব না।’

ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সহযোগিতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে বাইডেন প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তকে।

বৈঠকে খাদিমিকে বাইডেন বলেন, ‘আমাদের সহযোগিতামূলক সম্পর্ক নতুন মাত্রা নিতে যাচ্ছে। সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

জবাবে খাদিমি বলেন, ‘বর্তমানে ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে। অর্থনীতি, পরিবেশ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও অন্যান্য বিষয়ে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করে যাবে।’

এ সময় ইরাকে কোনো বিদেশি সেনার প্রয়োজন নেই বলেও জোর দেন তিনি।

গত বছর থেকে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আঞ্চলিক রাজনীতিতে গুরুতর বিষয় হয়ে উঠেছে।

মূলত রাজধানী বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিবেশী ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলায়মানি গুপ্তহত্যায় নিহত হওয়ার পরই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রের ওই ড্রোন হামলায় সোলায়মানির সঙ্গে নিহত হন ইরান সমর্থিত এক শিয়া মুসলিম নেতাও।

এরপর থেকেই ইরাকে আইএসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে অবস্থান করা যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের সব সেনা প্রত্যাহারের দাবি তোলে ইরানের প্রতি বিশ্বস্ত ইরাকি রাজনৈতিক দলগুলো।

যদিও এখনও দেশটির নিরাপত্তায় অব্যাহত হুমকি তৈরি করে যাচ্ছে সুন্নিপন্থি নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠনটি।

অন্যদিকে শিয়া যোদ্ধারাও ইরাকি সামরিক ঘাঁটিতে শত শত রকেট, বোমা ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের।

আন্তর্জাতিক জোটের অবস্থান লক্ষ্য করে সম্প্রতি বেশ কিছু প্রাণঘাতী হামলা হয়েছে ঘাঁটিগুলোতে। বিদেশি সেনাদের ইরাক ছাড়তে চাপ প্রয়োগের লক্ষ্যেই চালানো হয় সেসব হামলা।

ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরু হয়েছিল সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের শাসনামলে। ১৮ বছরের এ অভিযান সমাপ্ত হচ্ছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট বাইডেনের হাত ধরে।

২০০৩ সালে ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে দেশটিতে অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। সাদ্দাম হোসেনের গণবিধ্বংসী অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংসের নামে ওই অভিযান শুরু হলেও পরে প্রমাণ হয় যে এমন অস্ত্রের কোনো অস্তিত্বই কখনো ছিল না। তার আগেই অবশ্য হত্যা করা হয় সাদ্দাম হোসেনকে।

যুক্তরাষ্ট্রের সে সময়ের প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ ‘উদার ও শান্তিপূর্ণ ইরাক’ প্রতিষ্ঠার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু উল্টো সাম্প্রদায়িক বিভাজনে রক্তক্ষয়ী অস্থিরতায় জর্জরিত হয়ে পড়ে দেশটি।

এরপর ২০১১ সালে ইরাকে একবার প্রত্যক্ষ সেনা অভিযানে ইতি টেনে দেশে ফেরে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা। কিন্তু জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস দেশটির বড় অংশ দখল করে স্বঘোষিত খেলাফত ঘোষণা করলে তিন বছর পর ইরাক সরকারের অনুরোধে আবারও সেখানে সামরিক অভিযান শুরু করে ওয়াশিংটন।

২০১৭ সালে ইরাকে আইএসের পতন ঘটলেও নতুন করে গোষ্ঠীটির মাথাচাড়া দেয়া রুখতে এখনও সেখানে থেকেই সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা।

বিদেশি ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘতম যুদ্ধক্ষেত্র আফগানিস্তানেও আমেরিকান সেনা অভিযান শেষ হতে যাচ্ছে চলতি বছর। এরই মধ্যে ৯০ শতাংশ সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম ফিরিয়ে নিয়েছে আন্তর্জাতিক জোট।

আরও পড়ুন:
ঈদের আগে বাগদাদে বোমায় নিহত ৩৫
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী কাধিমিকে আমন্ত্রণ বাইডেনের
ইরাকে হাসপাতালে আগুনে মৃত্যু বেড়ে ৯২
ইরাকে হাসপাতালে আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪
হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে আগুন, অর্ধশতাধিক মৃত্যু

শেয়ার করুন

মন্তব্য

চাপ কাটিয়ে পুঁজিবাজারে উত্থানে ‘নতুন আশা’

চাপ কাটিয়ে পুঁজিবাজারে উত্থানে ‘নতুন আশা’

অস্বস্তি নিয়ে শুরু হওয়া দিনের লেনদেন শেষ হয়েছে স্বস্তির আভাস দিয়ে। ব্রোকারেজ হাউজগুলোতে এ নিয়ে ছিল তুমুল আলোচনা। ছবি: নিউজবাংলা

বৃহস্পতিবার বেলা ১০টায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন শুরুই হয় ৮৪ পয়েন্ট পতন দিয়ে। এক পর্যায়ে পড়ে যায় ৯০ পয়েন্ট। তবে এই পরিস্থিতি থাকেনি বেশিক্ষণ। বেলা পৌনে ১২টার দিকেই হারিয়ে ফেলা সূচক ফিরে পায় পুঁজিবাজার। এরপর থেকে বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে ১ টা ৪৩ মিনিটে আগের দিনের সূচকের সঙ্গে যোগ হয় ১০১ পয়েন্ট। বেলা শেষে সেখান থেকে কিছুটা কমে ৮৯ পয়েন্ট যোগ হয়ে শেষ হয় লেনদেন।

বিএসইসির সঙ্গে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি- কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন বিজ্ঞপ্তিতে আতঙ্ক তৈরির পর বড় পতন দিয়ে পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরুর পর তা শেষ হয়েছে উত্থানে। দিনে সূচকের সর্বনিম্ন অবস্থান আর সর্বোচ্চ অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য পৌনে দুইশ পয়েন্টের বেশি।

সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার ঢাকা ও চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের এই চিত্র বিনিয়োগকারীদের মনের শঙ্কা, আতঙ্ক ও চিড় ধরা মনোবল অনেকটাই চাঙা করবে সন্দেহ নেই। সংশোধন কাটিয়ে বাজারে আবার চাঙাভাব ফিরবে, এমন আশার কথা বলাবলি হচ্ছে এরই মধ্যে।

টানা দরপতনের মধ্যে থাকা পুঁজিবাজারে বুধবার বড় উত্থান হয় বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির বৈঠকের প্রতিক্রিয়ায়। আগের দিন বিকেলে সেই বৈঠক শেষে বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ জানান, বাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বা এক্সপোজার লিমিট বাজারমূল্যের বদলে ক্রয়মূল্যে বিবেচনা এবং বন্ডের বিনিয়োগ এই সীমার বাইরে রাখার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এই বিষয়টি রিভিও করার কথাও বলেন তিনি।

তবে দুই পক্ষ কেবল নীতিগতভাবে একমত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ নিয়ে আরও আলাপ আলোচনা হবে।

দুই পক্ষে আলোচনা হয়েছে আরও নানা ইস্যুতে। তবে এক্সপোজার ও বন্ড ইস্যুতে এক মাসের বেশি সময় ধরে টালমাটাল ছিল পুঁজিবাজার আর দুটি সমস্যা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান বদলের আভাসে বুধবার শেয়ারদর ও সূচকে দেয় লাফ। এক দিনেই বাড়ে ১৪৩ পয়েন্ট।

তবে সেদিন সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে পাঠানো আরেক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এমনকি এমনও বলা হয়, বিএসইসি কমিশনারের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে, সেটি সঠিক নয়।

এই বিজ্ঞপ্তির পর তুমুল আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়, এই বিজ্ঞপ্তিটি নিয়ে। বিনিয়োগকারীদের একটি পক্ষ বলতে থাকে, এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বক্তব্য নয়, সেটি বানোয়াট। কারণ, সেটি তাদের অফিসিয়াল সাইটে নেই।

পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে সেটি প্রকাশ হওয়ার পর সেই বিতর্ক আর আগায়নি আর ছড়ায় উদ্বেগ।

বৃহস্পতিবার বেলা ১০টায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন শুরুই হয় ৮৪ পয়েন্ট পতন দিয়ে। এক পর্যায়ে পড়ে যায় ৯০ পয়েন্ট। তবে এই পরিস্থিতি থাকেনি বেশিক্ষণ। বেলা পৌনে ১২টার দিকেই হারিয়ে ফেলা সূচক ফিরে পায় পুঁজিবাজার। এরপর থেকে বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে ১ টা ৪৩ মিনিটে আগের দিনের সূচকের সঙ্গে যোগ হয় ১০১ পয়েন্ট। বেলা শেষে সেখান থেকে কিছুটা কমে ৮৯ পয়েন্ট যোগ হয়ে শেষ হয় লেনদেন।

এ নিয়ে দুই দিনেই সূচক বাড়ল ২৩২ পয়েন্ট।

দিনে সূচকের সর্বনিম্ন অবস্থান ও বেলা শেষের অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য ১৭৯ পয়েন্ট।

আরও আসছে...

আরও পড়ুন:
ঈদের আগে বাগদাদে বোমায় নিহত ৩৫
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী কাধিমিকে আমন্ত্রণ বাইডেনের
ইরাকে হাসপাতালে আগুনে মৃত্যু বেড়ে ৯২
ইরাকে হাসপাতালে আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪
হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে আগুন, অর্ধশতাধিক মৃত্যু

শেয়ার করুন

সিলেবাস কমানোর দাবিতে মহাসড়কে বিক্ষোভ

সিলেবাস কমানোর দাবিতে মহাসড়কে বিক্ষোভ

ঢাকার সাভারে মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করলে সৃষ্টি হয় যানজট। ছবি: নিউজবাংলা

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে এসএসসি-২০২২ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তেমন পড়াশোনার সুযোগ পাননি। ইতিমধ্যে তাদের সিলেবাসে ৩০ শতাংশ কমানো হয়েছে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে এই সিলেবাস শেষ করা অসম্ভব। তাই সিলেবাসে ৭০ পারসেন্ট কমিয়ে ৩০ শতাংশ করার দাবিতে তারা মহাসড়কে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন ।

সিলেবাস কমানোর দাবিতে ঢাকার সাভারে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশের আশ্বাসে প্রায় আধাঘণ্টা পর তারা সড়ক ছেড়ে দেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের নবীনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিক্ষোভ করেন তারা।

কর্মসূচিতে আমিন মডেল টাউন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, টাঙ্গাইল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আমিন ক্যাডেট একাডেমি, এম এ সালাম ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, মাতাব্বর মুজিব স্কুলের প্রায় তিন শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী বিক্ষোভে অংশ নেন।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে এসএসসি-২০২২ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তেমন পড়াশোনার সুযোগ পাননি। ইতিমধ্যে তাদের সিলেবাসে ৩০ শতাংশ কমানো হয়েছে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে এই সিলেবাস শেষ করা অসম্ভব। তাই সিলেবাসে ৭০ পারসেন্ট কমিয়ে ৩০ শতাংশ করার দাবিতে তারা মহাসড়কে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন ।

বিক্ষোভ চলাকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উভয় পাশ বন্ধ করে দেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে থানা ও হাইওয়ে পুলিশ বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে তুলে দিলে প্রায় ৩০ মিনিট পর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান নিউজবাংলাকে জানান, শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক আছে।

আরও পড়ুন:
ঈদের আগে বাগদাদে বোমায় নিহত ৩৫
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী কাধিমিকে আমন্ত্রণ বাইডেনের
ইরাকে হাসপাতালে আগুনে মৃত্যু বেড়ে ৯২
ইরাকে হাসপাতালে আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪
হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে আগুন, অর্ধশতাধিক মৃত্যু

শেয়ার করুন

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে রাবিতে ৭ দিনব্যাপী উৎসব

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে রাবিতে ৭ দিনব্যাপী উৎসব

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবাস বাংলাদেশ চত্বর।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে, জাতির পিতার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কর্মময় জীবন’ শীর্ষক আলোচনায় মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মশিউর রহমান। উৎসবের প্রথম দিনের দ্বিতীয় পর্বে বেলা ৩টা থেকে ‘সাবাস বাংলাদেশ’ চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ৪ ডিসেম্বর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সিনেট ভবনে আলোচনা সভা ও পরে সাবাস বাংলাদেশ চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ৫ ডিসেম্বরও থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ৭ দিনব্যাপী বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

শুক্রবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবাস বাংলাদেশ চত্বরে উৎসবের শুরু হবে।

প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে উৎসবের উদ্বোধন করবেন মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। ৩ থেকে ৫ ডিসেম্বর ও ১১ থেকে ১৪ ডিসেম্বর দুই ধাপে এ কর্মসূচী পালিত হবে।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক ড. আজিজুর রহমান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ফজলে হোসেন বাদশা, রাজশাহী-৩ আসনের এমপি মো. আয়েন উদ্দিন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের মাননীয় সচিব মো. মাহবুব হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া ও অধ্যাপক মো. সুলতান-উল-ইসলাম।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেবেন ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মলয় ভৌমিক।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ‘জাতির পিতার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কর্মময় জীবন’ শীর্ষক আলোচনায় মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মশিউর রহমান।

উৎসবের প্রথম দিনে দ্বিতীয় পর্বে বেলা ৩টা থেকে ‘সাবাস বাংলাদেশ’ চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ৪ ডিসেম্বর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সিনেট ভবনে আলোচনা সভা ও পরে সাবাস বাংলাদেশ চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ৫ ডিসেম্বরও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।

এদিকে ১১ থেকে ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা থেকে সাবাস বাংলাদেশ চত্বরে শুরু হবে নাট্যোৎসব ও ১৪ ডিসেম্বর প্রামাণ্যচিত্র ‘বদ্ধভূমিতে একদিন’ প্রদর্শিত হবে।

আরও পড়ুন:
ঈদের আগে বাগদাদে বোমায় নিহত ৩৫
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী কাধিমিকে আমন্ত্রণ বাইডেনের
ইরাকে হাসপাতালে আগুনে মৃত্যু বেড়ে ৯২
ইরাকে হাসপাতালে আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪
হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে আগুন, অর্ধশতাধিক মৃত্যু

শেয়ার করুন

‘ভাষার অপমানে’ মোস্তফা জব্বারের ‘আত্মহত্যার ইচ্ছা’

‘ভাষার অপমানে’ মোস্তফা জব্বারের ‘আত্মহত্যার ইচ্ছা’

‘আসলে দেখেন, সংখ্যা লেখা অথবা অংক লেখা, এরকম কোনো বাধ্যবাধকতা কোনো চেকের ক্ষেত্রে নেই। ধরেন, আমি ইংরেজিতে 02 December 2021 অথবা 21 লিখতাম, তাহলে সেটার ক্ষেত্রেও কোনো আপত্তি ওদের ছিল না। আসলে এটা মানসিকতার বিষয়।’

চেকে মাসের নাম বাংলায় লেখার পর ব্যাংক থেকে প্রত্যাখানকে ‘ভাষার অপমান’ হিসেবে নিয়ে আত্মহত্যার ইচ্ছা জেগেছিল ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মন্ত্রী মোস্তফা জব্বারের মনে। পরে নিজেকে সামলে নিয়ে তিনি ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, ‘কোন দেশে আছি?’

ঘটনাটি বৃহস্পতিবারের। টাকা তুলতে চেক দিয়ে একজনকে ব্যাংকে পাঠান মন্ত্রী। কিন্তু টাকা তুলতে ব্যর্থ হলেন সেই চেক বাহক। ব্যাংক জানাল, চেকের পাতায় তারিখ লেখা হয়েছে বাংলায়।

সেই কথা কানে আসতেই নিজের ভ্যারিফায়েড অ্যাকাউন্টে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মোস্তফা জব্বার। তিনি লিখেছেন, ‘মন চাইছে আত্মহত্যা রি একটি চেকে মি ডিসেম্বর বাংলায় লিখেছি বলে কাউন্টার থেকে চেকটি ফেরৎ দিয়েছে কোন দেশে ছি?

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় মন্ত্রীর সঙ্গে। তবে ব্যাংকের নাম জানাতে চাইলেন না তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমি ব্যাংকের নাম বলব না। কারণ, ব্যাংক একটা ভুল করেছে। সেই ভুলের জন্য অ্যাকচুয়েলি ব্যাংকের নাম সামনে আনার দরকার নেই। আমার যে ব্যবস্থা নেয়ার সে আমি নিয়েছি। এবং যথারীতি আমার চেক তারা অনার করে টাকা যে প্রাপক ছিল তাকে দিয়ে দিয়েছে।’

তাহলে সমস্যা কোথায় ছিল- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘ওরা (ব্যাংক) যে জায়গাটির মধ্যে ভুল করেছিল, সেই জায়গাটি হচ্ছে, ওদের নিজস্ব প্রসিডিওর যে চেকে তারিখের জায়গাতে বাংলায় যদি কোনো মাসের নাম লেখা হয়, ওটা ওরা প্রসেস করে না। পরবর্তীকালে আমি যখন কথা বলেছি, একেবারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পর্যন্ত কথা বলার প্রেক্ষিতে ওরা তাদের ভুলটা বুঝতে পেরেছে এবং সেটা সংশোধন করে নিয়েছে।’

ডিসেম্বর বোঝাতে সংখ্যায় ‘১২’ লেখা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘না, ১২ লিখি নাই, আমি ডিসেম্বর লিখেছিলাম। ২ ডিসেম্বর ২১। ২ আর ২১ লিখেছিলাম সংখ্যায় আর ডিসেম্বর লিখেছিলাম কথায়।’

চেকের প্রথম পৃষ্ঠায় কথায় তারিখ লেখার সুযোগ কী আছে?-এমন প্রশ্নের জবাবে মোস্তফা জব্বার বলেন, ‘আসলে দেখেন, সংখ্যা লেখা অথবা অংক লেখা, এরকম কোনো বাধ্যবাধকতা কোনো চেকের ক্ষেত্রে নেই। ধরেন, আমি ইংরেজিতে 02 December 2021 অথবা 21 লিখতাম, তাহলে সেটার ক্ষেত্রেও কোনো আপত্তি ওদের ছিল না। আসলে এটা মানসিকতার বিষয়।’

‘চেকের সবই বাংলায় লিখেছি। ওখানে একটাও ইংরেজি শব্দ নেই’ দাবি করে মোস্তফা জব্বার বলেন, ‘আমি কনফার্ম করেছি, ব্যাংকের বিধি-বিধান, নিয়ম-কানুন- বাংলা লেখার ক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। কিন্তু কাউন্টারে যে লোক ছিলেন, অথবা শাখার যে ব্যবস্থাপনা ছিল অথবা তাদের যে প্রসিডিওর আছে, নিজেরা যেটা তৈরি করেছে সেখানে তাদের গলদটা ছিল। এই গলদটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে হয়েছে।’

‘ভাষার অপমানে’ মোস্তফা জব্বারের ‘আত্মহত্যার ইচ্ছা’

চেক ফিরিয়ে দেয়ার পরেও কোনো পরিবর্তন করা হয়নি বলে দাবি করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি চেকের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন করিনি। কিন্তু অবশেষে সেটাকে তারা অনার করেছেন। এবং প্রাপক, যে টাকা পাওয়ার কথা তিনি পেয়ে গেছেন।’

তবে এমন ঘটনার কোনো পুনরাবৃত্তি চান না মন্ত্রী। তিনি চান সাধারণ মানুষও যেন বাংলায় লিখে, তার প্রাপ্য সেবাটা বুঝে পান।

তিনি বলেন, ‘যথাযথ কর্তৃপক্ষ মানেই তো ব্যাংক, আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সংশ্লিষ্ট যারা আছেন তাদের সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করব। আমার ধারণা, এই ক্ষেত্রে কেউ দ্বিমত পোষণ করবেন না।

‘ইভেন আমি যে ব্যাংক, তাদের এমডি (ব্যাবস্থাপনা পরিচালক) পর্যায়ে কথা বলেছি। ওনিও দ্বিমত পোষণ করেননি এবং দুঃখপ্রকাশ করেছেন যে এ ধরনের আচরণ আমাদের কাউন্টার থেকে করা উচিত হয়নি। কোনো অবস্থাতেই আমরা বাংলা ভাষার বিপক্ষে না। সেটা আমরা হতেও চাই না। সেক্ষেত্রে যতটুকু ভুল করা হয়েছে, ওইটা একটা পার্টিকুলার শাখায় হয়েছে।’

নাম বলতে না চাইলেও ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী দাবি করেছেন, ওই ব্যাংকের সঙ্গে তার অতীত অভিজ্ঞতা ভালো ছিল।

তিনি বলেন, ‘ওদের হেড অফিসে আমার ব্যাংকিং হয়। সেক্ষেত্রে আমার কখনই কোনো প্রবলেম হয়নি। একটা শাখা অফিসে বিয়ারার চেক নিয়ে গিয়েছিল, সেখানে এই প্রবলেম হয়েছে।’

যেদিন থেকে তিনি ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করেছেন, সেদিন থেকেই চেকের মধ্যে পুরোটা বাংলায় লিখে আসছেন বলেও জানান মোস্তফা জব্বার। তিনি বলেন, ‘আমি কোনোদিন ইংরেজি লিখেছি, আমার মনে পড়ে না।’

আরও পড়ুন:
ঈদের আগে বাগদাদে বোমায় নিহত ৩৫
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী কাধিমিকে আমন্ত্রণ বাইডেনের
ইরাকে হাসপাতালে আগুনে মৃত্যু বেড়ে ৯২
ইরাকে হাসপাতালে আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪
হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে আগুন, অর্ধশতাধিক মৃত্যু

শেয়ার করুন

বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জায়গা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জায়গা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আমেরিকান চেম্বার অফ কমার্সের ২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। ছবি: নিউজবাংলা

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জায়গা। আমেরিকান বিনিয়োগকারীরা টাকা বানাতে আসতে পারে। আমাদের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং হাইটেক পার্কগুলোতে বিনিয়োগ করতে পারে।’

বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের উত্তম জায়গা বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। এ দেশে বিনিয়োগ করতে আমেরিকান ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বৃহস্পতিবার আমেরিকান চেম্বার অফ কমার্সের ২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এ বছর আমরা আমাদের স্বাধীনতার ৫০ বছর পালন করছি। আর আমেরিকান চেম্বার অফ কমার্স ২৫ বছর পালন করছে। এটা আমাদের বন্ধুত্বের শক্ত অবস্থান প্রমাণ করে।

‘বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জায়গা। আমেরিকান বিনিয়োগকারীরা টাকা বানাতে আসতে পারে। আমাদের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং হাইটেক পার্কগুলোতে বিনিয়োগ করতে পারে।’

যুক্তরাষ্ট্রকে তুলা ও তুলাজাতীয় পণ্যের ওপর থেকে মাত্রাতিরিক্ত কর তুলে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আমেরিকা থেকে তুলা আমদানী করি। সেই আমদানিতে অনেক ট্যাক্স। ফলে সেই তুলার উৎপাদিত পণ্য আমেরিকান বাজারেও যায়, কিন্তু তাতেও অনেক ট্যাক্স। আমেরিকা এই ট্যাক্সটা তুলে নিতে পারে।’

জলবায়ু ইস্যুতে তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। আর বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর প্রধান। আমাদের নর্দান জোনের নদী ভাঙন এই সমস্যার অন্যতম কারণ। এই সমস্যার সমাধান আছে আমাদের ডেল্টাপ্ল্যানে।

‘যুক্তরাষ্ট্র নদী ভাঙন রোধে নদী খনন ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে বিনিয়োগ করতে পারে। এর ফলে উদ্ধার করা জমি শিল্পাঞ্চল, নগর ও পুনব্যবহার করা শক্তি উৎপাদনে ব্যবহার করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র এ কাজে বিনিয়োগ করলে দুই দেশই লাভবান হবে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ বিনিয়োগ নিশ্চিত হওয়া ১০টি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ বন্ধ করেছে। এতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ছিল। যুক্তরাষ্ট্র এখন এ ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব শক্তি উৎপাদনে বিনিয়োগ করতে পারে। এটা এখন একটি সুযোগ হিসেবে এসেছে।’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের প্রশংসা করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ১.১ মিলিয়ন রোহিঙ্গা পিপলের বোঝা বহন করে চলছে। এটা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র সব সময়ই এই কঠিন দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশের পাশে থেকেছে। জোর গলায় রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে নেয়ার দাবি তুলেছে। রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার বাহিনীর অমানবিক নির্যাতনের প্রতিবাদ ও বিচার দাবি করেছে।

‘কোভিড-১৯ এর কঠিন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র তার বন্ধুত্বের হাত বাংলাদেশের দিকে বাড়িয়ে দিয়েছে। এটা সত্যিই খুব জটিল ও কঠিন সময় ছিল। যখন আমরা ভ্যাকসিনের জন্য হন্যে হয়ে দেশে দেশে হাত পাতছিলাম, তখন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের মিলিয়ন মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে।’

আরও পড়ুন:
ঈদের আগে বাগদাদে বোমায় নিহত ৩৫
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী কাধিমিকে আমন্ত্রণ বাইডেনের
ইরাকে হাসপাতালে আগুনে মৃত্যু বেড়ে ৯২
ইরাকে হাসপাতালে আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪
হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে আগুন, অর্ধশতাধিক মৃত্যু

শেয়ার করুন

মেয়র আব্বাস কারাগারে, রিমান্ড শুনানি রোববার

মেয়র আব্বাস কারাগারে, রিমান্ড শুনানি রোববার

রাজশাহীর মহানগর পুলিশের আদালত পরিদর্শক হাসেম আলী জানান, বৃহস্পতিবার সকালে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এ মেয়র আব্বাস আলীকে তোলা হয়। পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে। বিচারক শংকর কুমার রোববার রিমান্ড শুনানির দিন ঠিক করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল বসানোয় আপত্তি তোলা রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে। আগামী রোববার রিমান্ডের শুনানি হবে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস নিউজবাংলাকে জানান, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকায় র‌্যাবের কাছ থেকে আব্বাসকে গ্রহণ করে বোয়ালিয়া থানা পুলিশের একটি দল। রাতেই তারা রাজশাহী এসে পৌঁছান।

সকাল ৭টার দিকে পুলিশ তাকে আদালতে নিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের কাছে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।

রাজশাহীর মহানগর পুলিশের আদালত পরিদর্শক হাসেম আলী জানান, বৃহস্পতিবার সকালে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এ মেয়র আব্বাস আলীকে তোলা হয়। পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে।

বিচারক শংকর কুমার আগামী রোববার রিমান্ড শুনানির দিন ঠিক করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

রাজধানীর হোটেল রাজমনি ইশা খাঁ থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তাকে আটক করে র‍্যাব।

ঘরোয়া একটি আলোচনায় মেয়র আব্বাস বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপনের বিরোধিতা করে কথা বলেন। ২২ নভেম্বর সেই আলোচনার অডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

২৪ নভেম্বর মেয়র আব্বাসের নামে বোয়ালিয়া থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়। মামলার বাদী নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি এবং ১৩ নম্বর কাউন্সিলর আব্দুল মোমিন।

এ ছাড়া চন্দ্রিমা থানায় নগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমন এবং রাজপাড়া থানায় ১৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন একই ধরনের অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

আপত্তিকর মন্তব্যের সূত্র ধরে ২৫ নভেম্বর তাকে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক পদ এবং ২৬ নভেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

২৫ নভেম্বর কাটাখালী পৌরসভার ১২ জন কাউন্সিলরের সবাই তার প্রতি অনাস্থা জানিয়ে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। এই দাবির একটি আবেদন রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দিয়েছেন।

যা বলেছিলেন মেয়র আব্বাস

১ মিনিট ৫১ সেকেন্ডের বক্তব্য শোনা যাচ্ছে, তিনি একজনকে বলছেন, ‘সিটি গেট আমার অংশে। ... ফার্মকে দিয়েছে তারা বিদেশি স্টাইলে সাজিয়ে দিবে; ফুটপাত, সাইকেল লেন টোটাল আমার অংশটা। কিন্তু একটু থেমে গেছি, গেটটা নিয়ে। একটু চেঞ্জ করতে হচ্ছে যে ম্যুরালটা দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর, সেটা ইসলামি শরিয়ত মতে সঠিক নয়। এ জন্য আমি ওটা থুব না (রাখব না), সব করব তবে শেষ মাথাতে যেটা ওটা (ম্যুরাল)।’

মেয়র আব্বাস আলী বলছেন, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি, ম্যুরালটা ঠিক হবে না দিলে। আমার পাপ হবে; তো কেন দিব, দিব না। আমি তো কানা না, যেভাবে বুঝাইছে তাতে আমার মনে হয়েছে, ম্যুরালটা হলে আমার ভুল করা হবে।

‘এ খবরটা যদি যায় তাহলে আমার রাজনীতির বারোটা বাজবে যে এই ম্যুরাল দিছে না। তাহলে বঙ্গবন্ধুকে খুশি করতে গিয়ে আল্লাহকে নারাজ করব নাকি। এ জন্য কিছু করার নাই। মানুষকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করা যাবে না।’

এই বক্তব্যের বিষয়ে ক্ষমা চেয়ে গত শুক্রবার বিকেলে ফেসবুক লাইভে মেয়র আব্বাস বলেন, ‘আমি তো মানুষ। আমি তো ভুল করতেই পারি। তার জন্য ক্ষমা চাই। তারপরও না হলে বহিষ্কার করবেন, আমার নামে মামলা দিবেন, যতটুকু ভুল করেছি, তার জন্য, কিন্তু একের পর এক অত্যাচার-জুলুম। আমার অসুস্থ মা তিন-চার দিন না খেয়ে আছে...

‘... আমি কী এত বড় অন্যায় করেছি? অন্যায় করলে তো আইন আছে। এভাবে এত কিছু করা কী ঠিক?... আমাকে বলা হচ্ছে, আমি দলের অনুপ্রবেশকারী। আমি যদি আওয়ামী লীগ ব্যতীত অন্য কোনো দল জীবনে করে থাকি, তাহলে সব শাস্তি মাথা পেত নেব... কেউ প্রমাণ করতে পারলে সুইসাইড করব।’

আরও পড়ুন:
ঈদের আগে বাগদাদে বোমায় নিহত ৩৫
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী কাধিমিকে আমন্ত্রণ বাইডেনের
ইরাকে হাসপাতালে আগুনে মৃত্যু বেড়ে ৯২
ইরাকে হাসপাতালে আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪
হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে আগুন, অর্ধশতাধিক মৃত্যু

শেয়ার করুন

২২ বছর পর সুনামগঞ্জের তেরা মিয়া হত্যার রায়

২২ বছর পর সুনামগঞ্জের তেরা মিয়া হত্যার রায়

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট বাদীপক্ষ। প্রতিপক্ষের গুলিতেই তেরা মিয়া মারা যান। আসামিদের একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং ৩১ জনকে খালাস দিয়েছে আদালত।’

সুনামগঞ্জের ছাতকে ২২ বছর পর আলোচিত তেরা মিয়া হত্যা মামলায় একজনকে যাবজ্জীবন ও ৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মহিউদ্দিন মুরাদ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন ২৭ জন আসামি।

রায়ে ৩১ জনকে খালাস দেয়া হয়েছে।

সাজাপ্রাপ্ত ৯ জনের মধ্যে আসামি ফারুক আহমদ ওরফে মধু মিয়াকে ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

এ ছাড়া তাকে ৩০৭ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। বাকি ৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয় আদালত।

এসব বিষয় নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম মোস্তফা বলেন, 'আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট বাদীপক্ষ।’

তিনি জানান, প্রতিপক্ষের গুলিতেই তেরা মিয়া মারা যান। আসামিদের একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং ৩১ জনকে খালাস দিয়েছে আদালত।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী সালেহ আহমদ বলেন, ‘রায়ে আমরা খুশি নই। আসামিপক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।’

আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালের ২২ নভেম্বর সকালে ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নে বলারপীরপুর গ্রামের তেতইখালী খালে সেতু নির্মাণের বিরোধকে কেন্দ্র করে আব্দুল হাই আজাদ মছকু মিয়া ও আরজু মিয়ার লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় প্রতিপক্ষের ছোড়া গুলিতে আরজু মিয়ার বড় ভাই তেরা মিয়া নিহত হন। আহত তেরা মিয়াকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৩০ জন আহত হন।

এ ঘটনায় নিহতের ভাতিজা সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে ওই বছরের ২৪ নভেম্বর ছাতক থানায় ৪৮ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলা চলাকালীন ৮ জন আসামি মারা যান। এখনও ১৩ জন আসামি পলাতক রয়েছেন। ছাতক থানার তৎকালীন ওসি ২০০৪ সালের ২১ এপ্রিল আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। মামলায় ২২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

আরও পড়ুন:
ঈদের আগে বাগদাদে বোমায় নিহত ৩৫
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী কাধিমিকে আমন্ত্রণ বাইডেনের
ইরাকে হাসপাতালে আগুনে মৃত্যু বেড়ে ৯২
ইরাকে হাসপাতালে আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪
হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে আগুন, অর্ধশতাধিক মৃত্যু

শেয়ার করুন