করোনার উৎস অনুসন্ধানে ডব্লিউএইচওর পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান চীনের

করোনার উৎস অনুসন্ধানে ডব্লিউএইচওর পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান চীনের

করোনার উৎস ফের অনুসন্ধানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেন চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের উপমন্ত্রী জেং ইক্সিন। ছবি: এএফপি

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের উপমন্ত্রী জেং ইক্সিন বলেন, ‘আমরা আশা করি, চীনের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করবে ডব্লিউএইচও। বৈজ্ঞানিক বিষয় হিসেবে করোনার উৎস নিয়ে আন্তরিকভাবে গবেষণা করা উচিত। এর মধ্যে রাজনীতি ঢোকানোর প্রয়োজন নেই।’

চীনের উহান শহরের এক ল্যাব থেকে করোনাভাইরাস ছড়াতে পারে- এই অনুমানের জায়গা থেকে দ্বিতীয়বারের মতো শহরটিতে ভাইরাসের উৎস অনুসন্ধানের পরিকল্পনা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

তবে সংস্থাটির এ পরিকল্পনা বৃহস্পতিবার চীন প্রত্যাখ্যান করেছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের উপমন্ত্রী জেং ইক্সিন বলেন, ‘আমরা এ ধরনের উৎস অনুসন্ধানের পরিকল্পনা গ্রহণ করব না। এই পরিকল্পনা বিজ্ঞানকে অস্বীকার করে।’

জেং বলেন, ‘চীন ল্যাব প্রটোকল ভঙ্গ করায় গবেষণার সময় করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে, এ অনুমান থেকে ডব্লিউএইচও আবার করোনার উৎস নিয়ে গবেষণা করতে চায়। সংস্থাটির প্রস্তাবের এই অংশ পড়ে আমি বিস্মিত হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, চীনের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করবে ডব্লিউএইচও।

‘বৈজ্ঞানিক বিষয় হিসেবে করোনার উৎস নিয়ে আন্তরিকভাবে গবেষণা করা উচিত। এর মধ্যে রাজনীতি ঢোকানোর প্রয়োজন নেই।’

করোনার উৎস অনুসন্ধানে উহানের ল্যাব ও সামুদ্রিক খাবারের বাজারে গবেষণার পরিকল্পনার প্রস্তাব চলতি মাসে ডব্লিউএইচওর পক্ষ থেকে দেয়া হয়।

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভাইরাসটির উৎস অনুসন্ধানে ডব্লিউএইচওর এক বিশেষজ্ঞ দল চীনে যায়।

চার সপ্তাহ চীনে অবস্থানের পর মার্চে করোনার উৎসসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে ১৭ বিশেষজ্ঞ নিয়ে গঠিত দলটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ল্যাব থেকে করোনা ছড়িয়েছে, এমন সম্ভাবনা খুবই কম। মধ্যবর্তী প্রাণী বাহকের মাধ্যমে এটি মানবদেহে ছড়ানোর সম্ভাবনা বেশি।

ওই প্রতিবেদনকে সে সময় ‘অসম্পূর্ণ’ উল্লেখ করে উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দেয় যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়সহ ১৪টি দেশ।

বিবৃতিটিতে বলা হয়, ‘করোনার উৎস ও কীভাবে এটি ছড়িয়ে পড়ে, এসব বিষয় নিয়ে ডব্লিউএইচওর বিশেষজ্ঞ দলের চেষ্টাকে সমর্থন জানানো হচ্ছে।

‘তবে একই সঙ্গে এ বিষয়ে আমাদের উদ্বেগের কথা জানানোও জরুরি। সার্স-কোভ-২-এর উৎস নিয়ে বিশেষজ্ঞ মত উল্লেখযোগ্যভাবে বিলম্বিত এবং প্রতিবেদনে মৌলিক ডাটা ও নমুনার অভাব রয়েছে।’

পরে মে মাসে করোনার উৎসসংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন ছাপায় দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালের নভেম্বরে চীনের উহান ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজির তিন গবেষক অসুস্থ হন। হাসপাতালে তারা চিকিৎসাধীনও ছিলেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, করোনার প্রাদুর্ভাব নিয়ে চীন অফিশিয়ালি তথ্য প্রকাশের আগেই গবেষকদের অসুস্থতার ঘটনা ঘটে।

প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরপরই করোনার উৎস আরো গভীরভাবে অনুসন্ধানে জোর দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে করোনার উৎস নিয়ে উহানে ফের গবেষণার উদ্যোগ নেয় ডব্লিউএইচও।

আরও পড়ুন:
সীমান্ত সংঘাতে নিয়ে বৈঠকে চীন-ভার‍ত
উইঘুর নিয়ে কালো তালিকায় চীনা প্রতিষ্ঠান, বেইজিংয়ের হুমকি
ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল শীতল যুদ্ধ ফেরাচ্ছে: চীন
শাসন করতে এলে মাথা ভেঙে দেব: শি
চীনের মার্শাল আর্ট স্কুলে আগুনে মৃত্যু ১৮ শিশুর

শেয়ার করুন

মন্তব্য