তিউনিসিয়া উপকূলে ১৭ বাংলাদেশির মৃত্যু

তিউনিসিয়া উপকূলে ১৭ বাংলাদেশির মৃত্যু

গত ২৪ জুন ভূমধ্যসাগরের তিউনিসিয়া উপকূলে উদ্ধারকৃত বাংলাদেশিসহ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের একাংশ। ছবি: এএফপি

গত কয়েক মাসে তিউনিসিয়া উপকূলে বেশ কয়েকটি নৌকাডুবি হয়েছে। আবহাওয়া স্থিতিশীল থাকায় সম্প্রতি তিউনিসিয়া ও লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে ইতালিগামী অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশীর সংখ্যাও বাড়ছে।

অবৈধভাবে বিপজ্জনক পথে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার সময় তিউনিসিয়া উপকূলে ডুবে প্রাণ গেছে কমপক্ষে ১৭ জন বাংলাদেশির।

আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা রেড ক্রিসেন্টের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে ইতালির উদ্দেশে যাচ্ছিলেন এসব অভিবাসনপ্রত্যাশী।

লিবিয়ার উত্তর-পশ্চিম উপকূলের জুওয়ারা থেকে ছেড়ে আসা নৌকাটির যাত্রীরা বাংলাদেশ ছাড়াও সিরিয়া, মিসর, সুদান, ইরিত্রিয়া ও মালির নাগরিক।

এ ঘটনায় ৩৮০ জনের বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে বুধবার নিশ্চিত করেছে রেড ক্রিসেন্টের তিউনিসিয়া শাখা।

রেড ক্রিসেন্ট কর্মকর্তা মোঙ্গি স্লিম বলেন, ‘১৭ বাংলাদেশি মারা গেছে। আরও ৩৮০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা সবাই একটি নৌকায় চড়ে ইউরোপের দিকে যাচ্ছিলেন।’

গত কয়েক মাসে তিউনিসিয়া উপকূলে বেশ কয়েকটি নৌকাডুবি হয়েছে। আবহাওয়া স্থিতিশীল থাকায় সম্প্রতি তিউনিসিয়া ও লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে ইতালিগামী অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশীর সংখ্যা বাড়ছে।

দারিদ্র্য ও সংঘাত থেকে বাঁচতে আর উন্নত জীবনের আশায় আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের লাখো মানুষ কয়েক বছর ধরেই অবৈধ ও বিপজ্জনক পথে ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

২০২০ সাল পর্যন্ত কয়েক বছর এ সংখ্যা কম থাকলেও চলতি বছর ইউরোপের অন্যতম প্রবেশপথ ইতালিতে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ভিড় বেড়েছে।

এদিকে একই দিন ভূমধ্যসাগরে ইউরোপগামী চারটি নৌকা আটকেছে লিবিয়ার কোস্টগার্ড। ওই চার নৌকার একটি থেকে ২০ জন মাঝপথে ডুবে গেছে বলে অভিবাসীদের সূত্রে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, কীভাবে তারা ডুবে গেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই হওয়ার কারণে তারা নৌকা থেকে পড়ে গিয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মুখপাত্র সাফা মেহলি জানান, গত দুই দিনে লিবিয়া উপকূলে প্রায় ৫০০ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে বহনকারী মোট সাতটি নৌকা আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৯টি শিশু ও ৪৩ জন নারী। তাদের সবাইকে ত্রিপলির একটি ডিটেনশন সেন্টারে নেয়া হয়েছে।

তাদের অনেকেই ভুগছে তীব্র পানিশূন্যতায়।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, চলতি বছর প্রথম ছয় মাসে সাগরে সাত হাজারের বেশি মানুষকে আটক করে লিবিয়ায় পাঠানো হয়েছে।

আইওএমের চলতি মাসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বছর প্রথম ছয় মাসে ২০২০ সালের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় ইউরোপগামী অভিবাসনপ্রত্যাশী ও শরণার্থীর সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরে প্রাণ গেছে কমপক্ষে ১ হাজার ১৪৬ জনের। তাদের মধ্যে শুধু লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয়েছে ৭৪১ জনের।

সবচেয়ে প্রাণঘাতী নৌকাডুবির ঘটনাটি ঘটে গত ২২ এপ্রিল, যাতে প্রাণ যায় ১৩০ জনের।

আরও পড়ুন:
ভূমধ্যসাগরে উদ্ধার ২৬৪ বাংলাদেশি

শেয়ার করুন

মন্তব্য