অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু জানা নেই, মন্ত্রীর বক্তব্যে ক্ষোভ

অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু জানা নেই, মন্ত্রীর বক্তব্যে ক্ষোভ

করোনা রোগীদের অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যুর খবর জানা নেই বলায় তোপের মুখে পড়েন ভারতের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ভারতী পাওয়ার। ছবি: পিটিআই

করোনার দ্বিতীয় ধাক্কায় ভারতে হাসপাতালে শয্যা, অক্সিজেন ও ওষুধের সংকটে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়ে। চরম অসহায় এ পরিস্থিতি কেটে যাওয়ার পরপরই ভারতের মন্ত্রীর এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই জনগণকে হতভম্ব ও ক্রুদ্ধ করেছে।

ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যুর খবর রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জানায়নি-এমন মন্তব্য করে তোপের মুখে পড়েছেন দেশটির স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ভারতী পাওয়ার।

এমন বক্তব্যে বিস্মিতও হয়েছেন অনেকে।

বুধবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কায় ভারতজুড়ে হাসপাতালে অক্সিজেনের তীব্র সংকট দেখা দেয়।

এ নিয়ে দেশ-বিদেশের সংবাদমাধ্যমে অনেক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

অথচ মঙ্গলবার ভারত সরকারের ওই মন্ত্রী বলেন, ‘অক্সিজেনের অভাবে রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি রাজ্যগুলো নির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রী ভারতী পাওয়ার বলেন, ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা রাজ্যের বিষয়। করোনায় মৃত্যু সংক্রান্ত তথ্যের বিস্তারিত নির্দেশনা সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পাঠায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

‘অক্সিজেন ঘাটতির কারণে করোনায় মৃত্যুর বিষয়টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আমাদের জানায়নি।’

গত বছর মহামারি শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ১৮ হাজার ভারতীয় করোনায় মারা গেছেন।

করোনার অতি সংক্রামক ডেল্টা ধরনের কারণে ওই সংখ্যার অর্ধেকের বেশি রোগীর মৃত্যু চলতি বছরের এপ্রিলের ১৬ তারিখের পর ঘটে।

রাজধানী দিল্লিতে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের পরিচালক ডা. গৌতম সিং বিবিসিকে বলেন, ‘এপ্রিল ও মে মাসে হাসপাতালে অক্সিজেনের তীব্র সংকট ছিল।

‘ওই সময় ঘণ্টাভিত্তিতে আমরা অক্সিজেনের বন্দোবস্ত করেছিলাম। অক্সিজেনের অভাবে রোগীরা প্রায় মরতে বসছিলেন।

‘রোগীর জীবন বাঁচাতে আমরা ভিক্ষা ও ধার করে অক্সিজেনের ব্যবস্থা করি। কিন্তু আমি জানি, অন্যান্য হাসপাতাল অক্সিজেন ঘাটতির কারণে রোগী হারিয়েছে।’

করোনার দ্বিতীয় ধাক্কায় ভারতে হাসপাতালে শয্যা, অক্সিজেন ও ওষুধের সংকটে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়ে।

সহায়তার জন্য রোগীর পরিবারই শুধু নয়, চিকিৎসকরাও সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্তি জানান।

চরম অসহায় এ পরিস্থিতি কেটে যাওয়ার পরপরই ভারতের মন্ত্রীর এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই দেশটির জনগণকে হতভম্ব ও ক্রুদ্ধ করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াও জানান।

আরও পড়ুন:
ভারতে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে মৃত্যু ৪,৩০০
টেইলএন্ডের দৃঢ়তায় সিরিজ ভারতের
ভারতে করোনায় মৃত্যু ৩৪ থেকে ৪৭ লাখ: গবেষণা
আসামে মুসলিমদের জন্মনিয়ন্ত্রণে নতুন বাহিনীর প্রস্তাব
নতুন শ্রীলঙ্কা পাত্তা পেল না ভারতের ‘দ্বিতীয় দলের’ কাছে

শেয়ার করুন

মন্তব্য