বাস বিস্ফোরণ তদন্তে কাজ করছে চীনও: পাকিস্তান

বাস বিস্ফোরণ তদন্তে কাজ করছে চীনও: পাকিস্তান

বাস বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তে চীনের ১৫ কর্মকর্তাও রয়েছেন বলে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে জানান পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ। ছবি: উর্দুপয়েন্ট

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ বলেন, ‘আমরা চীন সরকারকে ফের আশ্বস্ত করছি, চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডরের (সিপিইসি) শত্রু ও চীন-পাকিস্তান বন্ধুত্বে ফাটল ধরানোর চেষ্টারত দুর্বৃত্তদের কোনোভাবেই ক্ষমা করা হবে না।’

বাস বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহতের ঘটনায় তদন্ত দলে চীনের ১৫ কর্মকর্তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ।

সংবাদ সম্মেলনে শনিবার তিনি এ তথ্য জানান বলে ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

রশিদ বলেন, ‘গতকাল (শুক্রবার) চীনের ১৫ সদস্যের তদন্তকারী দল পাকিস্তানে পৌঁছায়। তারা এরই মধ্যে দেশের নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।’

তিনি বলেন, ‘বাস বিস্ফোরণ ঘটনার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। পাকিস্তানের সর্বোচ্চ সংস্থা ওই ঘটনা তদন্তে কাজ করছে। তদন্ত দলে চীনের ১৫ কর্মকর্তাকেও যুক্ত করা হয়েছে।’

তদন্তের হালনাগাদ তথ্য চীনের সরকারকে জানানো হচ্ছে বলেও জানান পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমরা চীন সরকারকে ফের আশ্বস্ত করছি, চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডরের (সিপিইসি) শত্রু ও চীন-পাকিস্তান বন্ধুত্বে ফাটল ধরানোর চেষ্টারত দুর্বৃত্তদের কোনোভাবেই ক্ষমা করা হবে না।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনার মাধ্যমে চীন-পাকিস্তানের মৈত্রী ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না।

বুধবার সকালে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কোহিস্তান জেলায় যাত্রীবাহী বাস দাসু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে যাওয়ার পথে গিরিখাদে পড়ে যায়। খাদে পড়ার আগে বাসটিতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

ওই ঘটনায় প্রকল্পের ৯ চীনা প্রকৌশলীসহ ১৩ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন ২৮ জন।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা শুরুতে জানিয়েছিলেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গ্যাস লিক করায় বিস্ফোরণটি হয়।

তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাউ লিজিয়ান ওই ঘটনাকে ‘বোমা বিস্ফোরণ’ হিসেবে অভিহিত করেন।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশী চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইকে জানান, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, সন্ত্রাসী হামলার কারণে বাসে বিস্ফোরণ হয়নি।

তবে বৃহস্পতিবার রাতে দেশটির তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী বলেন, কোহিস্তানে বাস ট্র্যাজেডিতে সন্ত্রাসবাদের শঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। কারণ প্রাথমিক তদন্তে বিস্ফোরক পাওয়া গেছে।

শুক্রবার চীন জানায়, বাস বিস্ফোরণের ঘটনায় চীনের একটি দলকে পাকিস্তানে পাঠানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
পাকিস্তানকে দায়ী করা অন্যায্য: আফগান প্রেসিডেন্টকে ইমরান
বাস ট্র্যাজেডি: চীনকে তদন্তের আশ্বাস ইমরানের
আফগান সীমান্তে ৫ টেলিকম কর্মী উদ্ধার পাকিস্তানের
পাকিস্তানে বিস্ফোরণে ৬ চীনা নাগরিকসহ নিহত ৮
বাবরের রেকর্ডের দিনই ক্লিন সুইপ ইংল্যান্ডের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পশ্চিমবঙ্গে ফের বাড়ল করোনার বিধিনিষেধ

পশ্চিমবঙ্গে ফের বাড়ল করোনার বিধিনিষেধ

করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কায় কঠোরভাবে বিধিনিষেধ পালনের পরামর্শ দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ফাইল ছবি

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে নবান্নে নতুন নির্দেশিকা জারি করে বুধবার করোনা বিধিনিষেধের সময়সীমা বাড়ানো হয়। সেপ্টেম্বর মাসের পুরোটাই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। এ সময়ে রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত জারি থাকবে নাইট কার্ফিউ। স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

পশ্চিমবঙ্গে করোনার বিধিনিষেধ ফের বেড়েছে। করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আরও ১৫ দিন বাড়িয়ে তা করা হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে নবান্নে নতুন নির্দেশিকা জারি করে বুধবার করোনা বিধিনিষেধের সময়সীমা বাড়ানো হয়। সেপ্টেম্বর মাসের পুরোটাই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। এ সময়ে রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত জারি থাকবে নাইট কার্ফিউ। স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসায় পশ্চিমবঙ্গে বাস, ট্যাক্সি মেট্রোরেল, অটোর মতো গণপরিবহন চলাচলে আগেই ছাড় দেয়া হয়েছে। দাবির মুখে ছাড় দেয়া হয়েছে জিম, রেস্তোরাঁ, বিনোদন পার্ক, সিনেমা হল, চিড়িয়াখানার মতো স্থানে যাতায়াতে।

তবে দীর্ঘদিন ধরে লোকাল ট্রেন চালানোর দাবি উঠলেও বিধিনিষেধ বাড়ায় এটা স্পষ্ট, রাজ্যে এখনই লোকাল ট্রেন চলছে না। সরকারের নতুন নির্দেশিকায় লোকাল ট্রেনের বিষয়েও কিছু উল্লেখ নেই।

যদিও বর্তমানে স্টাফ স্পেশাল ট্রেন চলছে, কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট কম। তবে মেট্রোরেলের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কায় নতুন নির্দেশিকায় কঠোরভাবে করোনা বিধিনিষেধ পালনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বাধ্যতামূলকভাবে সামাজিক দূরত্ব মেনে মাস্ক ও স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। শর্ত মেনে যেসব প্রতিষ্ঠান খুলেছে সেখানে কঠোরভাবে কোভিড প্রটোকল পালন করতে বলা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ জোরদার করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। করোনা বিধিনিষেধ অবজ্ঞা করলে, বিপর্যয় মোকাবিলায় আইনানুসারে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে।

ওয়ার্ল্ডোমিটার্সের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৬৩ লাখের বেশি মানুষ। মৃত্যু হয়েছে প্রায় এক লাখ মানুষের। এর মাঝে পশ্চিমবঙ্গে অক্সিজেন সংকটসহ নানা কারণে চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে করোনা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছিল। করোনা সংকট অনেকটা কাটছে বলে ধারণা করা হলেও সতর্কতা বহাল রাখতে চাইছে রাজ্য সরকার।

পশ্চিমবঙ্গে লকডাউন চললেও অনেকেই মানছে না শারীরিক দূরত্ব। বিশেষ করে হাটবাজার বা গণপরিবহনে ভিড় নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশকে।

আরও পড়ুন:
পাকিস্তানকে দায়ী করা অন্যায্য: আফগান প্রেসিডেন্টকে ইমরান
বাস ট্র্যাজেডি: চীনকে তদন্তের আশ্বাস ইমরানের
আফগান সীমান্তে ৫ টেলিকম কর্মী উদ্ধার পাকিস্তানের
পাকিস্তানে বিস্ফোরণে ৬ চীনা নাগরিকসহ নিহত ৮
বাবরের রেকর্ডের দিনই ক্লিন সুইপ ইংল্যান্ডের

শেয়ার করুন

ভারতে রামলীলা-নবরাত্রীতে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা, আটক ৬

ভারতে রামলীলা-নবরাত্রীতে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা, আটক ৬

নাশকতার অভিযোগে ছয়জনকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে অভিযান চালিয়ে রাজস্থানের কোটা থেকে একজনকে আটক করা হয়। তিনজনকে আটক করেছে উত্তর প্রদেশের সন্ত্রাস দমন স্কোয়াড এটিএস। বাকি দুজন দিল্লিতে আটক হয়েছেন।

ভারতের কমপক্ষে তিনটি রাজ্যে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে কমপক্ষে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য।

জানা যায়, রামলীলা, নবরাত্রীর মতো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন উৎসব সামনে রেখে হামলার পরিকল্পনা চলছে বলে খবর পেয়েছে পুলিশ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে নেমে মঙ্গলবার কয়েকজনকে আটক ও জিনিসপত্র জব্দ করে দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেলের সদস্যরা।

আটককৃতদের কয়েকজন ছদ্ম নাম-পরিচয় ব্যবহার করছিলেন।

এদের মধ্যে জান মহম্মদ শেখের বাড়ি মহারাষ্ট্রে, ওসামা ওরফে শামির বাড়ি দিল্লির জামিয়া নগরে, মূলচন্দ ওরফে সাজু উত্তর প্রদেশের রায়বেরেলির বাসিন্দা, জিশান কামারের বাড়ি এলাহাবাদে, মোহাম্মদ আবু বকরের বাড়ি বাহরইচে এবং মোহাম্মদ আমির জাভেদের বাড়ি লক্ষ্নৌতে।

প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, দিল্লি, মহারাষ্ট্র ও উত্তর প্রদেশে হামলার পরিকল্পনা ছিল সন্ত্রাসীদের।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটককৃতদের মধ্যে ওসামা ও জিশান প্রতিবেশী পাকিস্তানের মদদপুষ্ট। পাকিস্তানের আন্তবাহিনী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন দুজনই।

অভিযোগ, আইএসআইয়ের নির্দেশেই এতদিন চলছিলেন তারা। তাদের ওপর নির্দেশ ছিল উত্তর প্রদেশ ও দিল্লির জনবহুল এলাকায় উৎসবের ভিড়ভাট্টার মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটানোর।

দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেলের ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত কমিশনার নীরজ ঠাকুর সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে আমরা নাশকতার পরিকল্পনার খবর জানতে পারি। পরে মঙ্গলবার সকালে অভিযান চালিয়ে রাজস্থানের কোটা থেকে একজনকে আটক করা হয়। তিনজনকে আটক করেছে উত্তর প্রদেশের সন্ত্রাস দমন স্কোয়াড এটিএস। বাকি দুজন দিল্লিতে আটক হয়েছেন।’

আটককৃতদের জঙ্গি আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এদের মধ্যে ওসামা ও জিশান কিছুদিন আগে ওমানের মাস্কটে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে নৌকায় চড়ে পাকিস্তানে গিয়ে ১৫ দিন অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ নের তারা। তাদের শক্তিশালী জঙ্গি হয়ে ওঠার শিক্ষাও দেয় আইএসআই। প্রশিক্ষণ শেষে তারা দুবাই হয়ে ভারতে ফিরে আসেন।’

নীরজ ঠাকুর বলেন, ‘এ চক্রান্তে পাকিস্তানি সন্ত্রাসী দাউদ ইব্রাহিমের ভাই আনিস ইব্রাহিমের হাত থাকতে পারে। কারণ সমীর নামে তার কাছের একজনকে পাকিস্তানের এক অজ্ঞাত ব্যক্তি ভাড়া করেছিল। তার ওপর বিস্ফোরকসহ গ্রেনেড ও আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল।’

ভারপ্রাপ্ত কমিশনার আরও বলেন, ‘জেরার মুখে আটককৃতরা স্বীকার করেছেন যে তাদের মধ্যে ইব্রাহিম নামে একজনের কাজ ছিল তহবিল জোগান দেয়া। আর লালা নামের একজনের দায়িত্ব ছিল আন্ডারওয়ার্ল্ডের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা। এ ছাড়া তাদের সঙ্গে আরও ১৪ থেকে ১৫ জন ছিল, যারা বাংলা ভাষায় কথা বলত।’

নীরজ ঠাকুর জানান, জঙ্গিরা ভারতে লুকিয়ে থাকলেও তাদের পরিচালনা করা হতো সীমান্তের ওপার থেকে।

আরও পড়ুন:
পাকিস্তানকে দায়ী করা অন্যায্য: আফগান প্রেসিডেন্টকে ইমরান
বাস ট্র্যাজেডি: চীনকে তদন্তের আশ্বাস ইমরানের
আফগান সীমান্তে ৫ টেলিকম কর্মী উদ্ধার পাকিস্তানের
পাকিস্তানে বিস্ফোরণে ৬ চীনা নাগরিকসহ নিহত ৮
বাবরের রেকর্ডের দিনই ক্লিন সুইপ ইংল্যান্ডের

শেয়ার করুন

পাঞ্জশিরে ২০ বেসামরিককে ‘হত্যা’ তালেবানের

পাঞ্জশিরে ২০ বেসামরিককে ‘হত্যা’ তালেবানের

পাঞ্জশির দখলের পর তালেবান যোদ্ধাদের টহল। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

সম্প্রতি এক ভিডিওতে দেখা যায়, সেনাবাহিনীর পোশাক পরা এক ব্যক্তিকে ঘিরে ধরেছে তালেবান যোদ্ধারা। বন্দুকের গুলিতে ওই ব্যক্তি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জোর দিয়ে জানান, ওই ব্যক্তি পাঞ্জশিরের বেসামরিক নাগরিক।

তালেবানের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের পাঞ্জশির প্রদেশে ২০ বেসামরিক নাগরিককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

বিবিসির বরাতে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, সম্প্রতি এক ভিডিওতে দেখা যায়, সেনাবাহিনীর পোশাক পরা এক ব্যক্তিকে ঘিরে ধরেছে তালেবান যোদ্ধারা। বন্দুকের গুলিতে ওই ব্যক্তি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জোর দিয়ে জানান, ওই ব্যক্তি পাঞ্জশিরের বেসামরিক নাগরিক।

বিবিসি জানিয়েছে, পাঞ্জশিরে এ ধরনের আরও ২০টি ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়।

নিহতদের একজন আব্দুল সামি, পেশায় দোকানদার। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, তালেবান হামলা চালালে পাঞ্জশির ছেড়ে পালাতে রাজি হননি সামি।

পাঞ্জশির তালেবানের দখলে যাওয়ার পর সামিকে গ্রেপ্তার করে তালেবান যোদ্ধারা। তালেবানবিরোধী যোদ্ধাদের কাছে সিম কার্ড বিক্রির অভিযোগ আনে তালেবান।

পরে নিজের বাড়ির কাছে সামির মরদেহ পাওয়া যায়।

আফগানিস্তানের সাবেক সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক নাসির আহমেদ আনদিশা মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে দেশটির বিপর্যস্ত মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

তিনি জানান, তালেবানের শাসনে নারী অধিকার ভূলুণ্ঠিত হয়েছে।

তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর দেশটির গজনি প্রদেশে জাতিগত সংখ্যালঘু হাজারা সম্প্রদায়ের ৯ ব্যক্তির নিহতের বিস্তারিত বিবরণ সম্প্রতি দেয় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

সোমবার জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাশেলেট জানান, আফগান জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর (এএনএসএফ) সদস্য, আগের প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তালেবান প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, ‘কয়েকটি ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের ছেড়ে দেয়া হলেও অনেককে মৃত উদ্ধার করা হয়।’

গত মাসে তালেবান আফগানিস্তানের সব প্রদেশ দখলে সক্ষম হলেও স্থানীয়দের তীব্র প্রতিরোধের মুখে পাঞ্জশিরের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি।

গত মাসের শেষে তালেবানের সঙ্গে পাঞ্জশিরের প্রতিরোধ বাহিনীর তীব্র লড়াইয়ের একপর্যায়ে প্রদেশটি দখলে নেয় সংগঠনটি।

আরও পড়ুন:
পাকিস্তানকে দায়ী করা অন্যায্য: আফগান প্রেসিডেন্টকে ইমরান
বাস ট্র্যাজেডি: চীনকে তদন্তের আশ্বাস ইমরানের
আফগান সীমান্তে ৫ টেলিকম কর্মী উদ্ধার পাকিস্তানের
পাকিস্তানে বিস্ফোরণে ৬ চীনা নাগরিকসহ নিহত ৮
বাবরের রেকর্ডের দিনই ক্লিন সুইপ ইংল্যান্ডের

শেয়ার করুন

বর্ণিল পোশাক পরে হিজাবের প্রতিবাদ আফগান নারীদের

বর্ণিল পোশাক পরে হিজাবের প্রতিবাদ আফগান নারীদের

ডয়চে ভেলের আফগান শাখার প্রধান ওয়াসলাত হাসরাত-নাজিমি (বামে) ও বিবিসির সাংবাদিক সানা সাফি। ছবি: সিএনএন

আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অফ আফগানিস্তানের সাবেক ফ্যাকাল্টি মেম্বার বাহার জালালি টুইটবার্তায় বলেন, ‘আফগানিস্তানের ইতিহাসে কেউ কখনো এমন পোশাক পরেনি। এটি পুরোপুরি বিদেশি পোশাক। আফগান সংস্কৃতিতে এ ধরনের পোশাক প্রতিনিধিত্ব করে না।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারীদের হিজাব পরা বাধ্যতামূলক করেছে তালেবান।

কট্টরপন্থি সংগঠনটির এ সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা আফগান নারীরা।

একই সঙ্গে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে আফগানিস্তানের ঐতিহ্যগত রঙিন পোশাক পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের ছবি পোস্টও করেছেন তারা।

সম্প্রতি নারী-পুরুষের একসঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস করা নিষিদ্ধ করে তালেবান।

পাশাপাশি তালেবানের শরিয়াহ আইনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী নারী শিক্ষার্থী, প্রভাষক ও কর্মচারীদের বাধ্যতামূলক হিজাব পরতে বলা হয়।

শনিবার সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে কাবুলের শহীদ রব্বানি বিশ্ববিদ্যালয়ে আপাদমস্তক ঢাকা পোশাকে তালেবানের পতাকা হাতে একদল শিক্ষার্থীকে ক্লাসে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

বর্ণিল পোশাক পরে হিজাবের প্রতিবাদ আফগান নারীদের

প্রতিবাদে উজ্জ্বল ও রংবেরঙের আফগান পোশাক পরে নারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মঙ্গলবার নিজেদের ছবি পোস্ট করেন।

কালো পোশাক ও পর্দা পরিহিত নারী শিক্ষার্থীদের বিষয়ে আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অফ আফগানিস্তানের সাবেক ফ্যাকাল্টি মেম্বার বাহার জালালি টুইটবার্তায় বলেন, ‘আফগানিস্তানের ইতিহাসে কেউ কখনো এমন পোশাক পরেনি।

‘এটি পুরোপুরি বিদেশি পোশাক। আফগান সংস্কৃতিতে এ ধরনের পোশাক প্রতিনিধিত্ব করে না।

‘আফগানিস্তানের ঐতিহ্যগত পোশাক পরে আমি বিশ্ববাসীর সামনে আমাদের প্রকৃত সংস্কৃতি তুলে ধরতে চাইছি।

‘তালেবান নারীদের যে পোশাক পরতে বাধ্য করছে, তা আফগান নারীদের পোশাক নয়।’

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, জালালির ওই টুইট উৎসাহিত করে বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা আরও আফগান নারীদের।

এদের মধ্যে রয়েছেন জার্মানিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের আফগান শাখার প্রধান ওয়াসলাত হাসরাত-নাজিমি।

ওয়াসলাতও উজ্জ্বল পোশাকে হাজির হয়ে টুইটবার্তায় বলেন, ‘এটিই আফগান সংস্কৃতি। আফগান নারীরা এভাবেই পোশাক পরেন।’

বর্ণিল পোশাক পরে হিজাবের প্রতিবাদ আফগান নারীদের

সোদাবা হাইদারি (বামে) ও পেয়মানা আসাদ। ছবি: সিএনএন

লন্ডনে বিবিসির আলোচিত সাংবাদিক সানা সাফি নিজের ছবি পোস্ট করে বলেন, ‘আফগানিস্তানে থাকলে আমার মাথায়ও কাপড় থাকত।’

বিবিসির আরেক সাংবাদিক সোদাবা হাইদারি নিজের পোশাক সম্পর্কে বলেন, ‘এটি আমাদের ঐতিহ্যগত পোশাক। আমাদের পোশাক অনেক বর্ণিল।

‘এমনকি আমাদের চাল ও পতাকায়ও অনেক রঙের সমাবেশ দেখা যায়।’

আফগান বংশোদ্ভূত যুক্তরাজ্যের স্থানীয় রাজনীতিক পেয়মানা আসাদ বলেন, ‘তালেবান নারীদের যে পোশাক পরতে বলছে, তা আফগানিস্তানের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নয়।’

আরও পড়ুন:
পাকিস্তানকে দায়ী করা অন্যায্য: আফগান প্রেসিডেন্টকে ইমরান
বাস ট্র্যাজেডি: চীনকে তদন্তের আশ্বাস ইমরানের
আফগান সীমান্তে ৫ টেলিকম কর্মী উদ্ধার পাকিস্তানের
পাকিস্তানে বিস্ফোরণে ৬ চীনা নাগরিকসহ নিহত ৮
বাবরের রেকর্ডের দিনই ক্লিন সুইপ ইংল্যান্ডের

শেয়ার করুন

উপপ্রধানমন্ত্রী বারাদার মারা যাননি, দাবি তালেবানের

উপপ্রধানমন্ত্রী বারাদার মারা যাননি, দাবি তালেবানের

আফগানিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী মোল্লা আব্দুল গনি বারাদারের নিহত হওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে তালেবান। ছবি: এএফপি

সরকার ঘোষণার পর জনসম্মুখে আফগানিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী মোল্লা আব্দুল গনি বারাদারকে দেখা যায়নি। রোববার কাবুলে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আফগান সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বৈঠকেও হাজির ছিলেন না বারাদার। এতে বারাদার আর বেঁচে নেই বলে দেশি ও আন্তর্জাতিক মহলে গুঞ্জন ওঠে।

অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে সংঘর্ষে তালেবানের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও আফগানিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী মোল্লা আব্দুল গনি বারাদারের নিহত হওয়ার দাবি নাকচ করেছেন সংগঠনটির মুখপাত্র।

১৫ আগস্ট কাবুল দখলের কয়েক সপ্তাহ পর মোল্লা বারাদারকে উপপ্রধানমন্ত্রী করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে তালেবান। এর পর থেকে জনসম্মুখে বারাদারকে দেখা যায়নি।

রোববার কাবুলে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল-থানির সঙ্গে আফগান সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বৈঠকেও হাজির ছিলেন না বারাদার।

এতে বারাদার আর বেঁচে নেই বলে দেশি ও আন্তর্জাতিক মহলে গুঞ্জন ওঠে। অসমর্থিত কয়েকটি সূত্রের দাবি, সংগঠনে অন্তর্কোন্দলের জেরে সংঘর্ষে তিনি নিহত হয়েছেন।

তবে মঙ্গলবার তালেবানের মুখপাত্র সুহেইল শাহীন জানান, মোল্লা বারাদার একটি ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে গুজব উড়িয়ে দিয়েছেন।

টুইটবার্তায় শাহীন বলেন, ‘বারাদার জানিয়েছেন, ওই দাবি মিথ্যা ও পুরোপুরি ভিত্তিহীন।’

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাজনৈতিক নিষ্পত্তিতে পৌঁছার চেষ্টারত আফগান উপপ্রধানমন্ত্রী বারাদারের একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে তালেবান।

আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কান্দাহার শহরে কিছুদিন আগে বারাদার বৈঠক করেন বলে ফুটেজটিতে দাবি করা হয়।

রয়টার্স ওই ভিডিও ফুটেজের দাবি তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারেনি।

এর আগে পাকিস্তান সীমান্তের কাছে বারাদারের সমর্থকদের সঙ্গে তালেবানে থাকা হাক্কানি নেটওয়ার্কের প্রধান সিরাজুদ্দিন হাক্কানির সমর্থকদের প্রবল সংঘর্ষ হয় বলে কানাঘুষা শোনা যাচ্ছিল।

আফগানিস্তানের সরকার গঠন নিয়ে হাক্কানির মতো তালেবানের মিলিটারি কমান্ডারদের সঙ্গে বারাদারের মতো দোহায় সংগঠনটির রাজনৈতিক কার্যালয়ের নেতাদের বিরোধ দেখা দিতে পারে বেশ কিছুদিন ধরে ধারণা করা হচ্ছিল।

দলীয় অন্তর্কোন্দলের জল্পনাকল্পনা বরবরই তালেবানের পক্ষ থেকে প্রত্যাখ্যান করা হয়।

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের পর ধারণা করা হয়েছিল, তালেবানের নতুন সরকারের প্রধান হচ্ছেন মোল্লা বারাদার।

পরে বারাদারের জায়গায় তালেবানের স্বল্প পরিচিত নেতা মোল্লা হাসান আখুন্দকে প্রধানমন্ত্রী করে তালেবান।

কাবুল পতনের পর তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা মোল্লা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদাকেও জনপরিসরে দেখা যায়নি।

তবে গত সপ্তাহে আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর জনগণের উদ্দেশে লিখিত বিবৃতি দেন আখুন্দজাদা।

আরও পড়ুন:
পাকিস্তানকে দায়ী করা অন্যায্য: আফগান প্রেসিডেন্টকে ইমরান
বাস ট্র্যাজেডি: চীনকে তদন্তের আশ্বাস ইমরানের
আফগান সীমান্তে ৫ টেলিকম কর্মী উদ্ধার পাকিস্তানের
পাকিস্তানে বিস্ফোরণে ৬ চীনা নাগরিকসহ নিহত ৮
বাবরের রেকর্ডের দিনই ক্লিন সুইপ ইংল্যান্ডের

শেয়ার করুন

তালেবানের হাতে ছোট্ট লুবনা প্রাণ হারায়?

তালেবানের হাতে ছোট্ট লুবনা প্রাণ হারায়?

২০১৯ সালে পাকিস্তানে সাপের কামড়ে লুবনার মৃত্যু হয়। ছবি: ইন্ডিয়া টুডে

লুবনার মৃত্যু ঘিরে পাকিস্তানজুড়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ে মানুষ। জাস্টিস ফর লুবনা হ্যাশট্যাগ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনের মুখে খাইবার পাখতুনখোয়ার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চার চিকিৎসককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে পাকিস্তান সরকার।

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল গত মাসে ঘিরে ফেলার একপর্যায়ে পুরো দেশের দখল নিয়ে নেয় তালেবান।

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের কয়েক সপ্তাহ পর ৩৩ জনকে নিয়ে সংগঠনটি গঠন করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

আফগানিস্তানের ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পর বিভিন্ন সময়ে তালেবান নেতারা অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশেষ করে নারী প্রতিনিধিসহ মন্ত্রিসভা গঠনের কথা বললেও আদতে তা হয়নি।

ওই ৩৩ জনের মধ্যে নারী বা জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কোনো প্রতিনিধিই নেই।

মন্ত্রিসভায় নারীর উপস্থিতি না দেখে কাবুলে বিক্ষোভও করেন আফগান নারীরা। পাশাপাশি নারী অধিকারের দাবিতে তারা রাস্তায়ও নামেন।

তালেবানের আগের শাসনামলে নারী অধিকার ব্যাপকভাবে খর্ব করা হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কর্মস্থলে যাওয়ার অনুমতি ওই শাসনামলে নারীদের ছিল না।

অধিকারের দাবিতে আফগান নারীদের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ দমন করে তালেবান, ছোড়া হয় গুলি। এ ছাড়া বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহের ‘অপরাধে’ নির্যাতনের শিকার হন সাংবাদিকরা।

কারাগারে বন্দি রেখে স্থানীয় দুই সাংবাদিককে নির্মমভাবে পেটানোর খবর প্রকাশ হয় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে।

এমন পরিপ্রেক্ষিতে এক শিশুর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছে।

এতে দাবি করা হয়, ঝলমলে পোশাক পরিহিত নিষ্প্রাণ পড়ে থাকা আফগান শিশুটিকে তালেবানের যোদ্ধারা হত্যা করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন ছবিটি পোস্ট করে শিরোনামে লিখেছেন, ‘ছবিটি দেখে আমার হৃদয় ভেঙে গিয়েছে।

‘ছোট্ট এই পরীটি কী এমন কাজ করেছে, যার জন্য তাকে প্রাণ দিতে হলো? তালেবান ও তাদের সমর্থকদের ধিক্কার জানাই!’

ইন্ডিয়া টুডের অ্যান্টি ফেইক নিউজ ওয়ার রুম (এএফডব্লিউএ) ছবিটির দাবি নিয়ে অনুসন্ধানে নামে।

জানা যায়, ছবিটি ছয় বছর বয়সী লুবনার। ২০১৯ সালে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে সাপের কামড়ে তার মৃত্য হয়।

পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে ২০১৯ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, খাইবার পাখতুনখোয়ার মোহমান্দ জেলার ইয়াক্কাঘুন্দ তেহসিল শহরের মেয়ে লুবনা।

সাপের কামড়ে অচেতন লুবনাকে স্থানীয় শাবকাদার হাসপাতালে নেয়া হয়।

তবে হাসপাতালে সাপের বিষ প্রতিরোধী ইঞ্জেকশন না থাকায় চিকিৎসকরা লুবনাকে পেশোয়ারের হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন।

পেশোয়ারে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় লুবনার।

হাসপাতালে ওষুধপত্রের অভাবে মেয়ের মৃত্যু হয়, এ অভিযোগ করেছিলেন লুবনার বাবা।

পেশোয়ারে যেতে হাসপাতাল থেকে যে অ্যাম্বুলেন্স দেয়া হয়েছিল, তাতে অক্সিজেন কিট ছিল না বলেও অভিযোগ লুবনার বাবার।

লুবনার মৃত্যু ঘিরে পাকিস্তানজুড়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ে মানুষ। জাস্টিস ফর লুবনা হ্যাশট্যাগ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলন শুরু হয়।

পাকিস্তানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্দোলনের মুখে খাইবার পাখতুনখোয়ার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চার চিকিৎসককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে পাকিস্তান সরকার।

দীর্ঘ দুই দশক পর ক্ষমতায় ফের এসে তালেবান এরই মধ্যে দমনমূলক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও লুবনার মৃত্যুর জন্য সংগঠনটি দায়ী নয়।

আরও পড়ুন:
পাকিস্তানকে দায়ী করা অন্যায্য: আফগান প্রেসিডেন্টকে ইমরান
বাস ট্র্যাজেডি: চীনকে তদন্তের আশ্বাস ইমরানের
আফগান সীমান্তে ৫ টেলিকম কর্মী উদ্ধার পাকিস্তানের
পাকিস্তানে বিস্ফোরণে ৬ চীনা নাগরিকসহ নিহত ৮
বাবরের রেকর্ডের দিনই ক্লিন সুইপ ইংল্যান্ডের

শেয়ার করুন

স্যাটেলাইটের ছবিতে পাক সীমান্তে হাজারো আফগান

স্যাটেলাইটের ছবিতে পাক সীমান্তে হাজারো আফগান

দেশ ছাড়তে মরিয়া হাজার হাজার আফগান পাকিস্তান সীমান্তে অপেক্ষা করেন বলে স্যাটেলাইটের ছবিতে দেখা যায়। ছবি: এনডিটিভি

স্যাটেলাইট ইমেজের মাধ্যমে এনডিটিভি জানিয়েছে, গত সপ্তাহেও আফগানিস্তানের স্পিন বলদাক শহরের পাকিস্তান সীমান্তে হাজার হাজার আফগান দেশ ছাড়ার উদ্দেশ্যে অসহায়ভাবে অপেক্ষা করেন।

দীর্ঘ দুই দশক পর গত মাসে ফের তালেবানের দখলে যায় আফগানিস্তান। এর পরই হাজার হাজার ভীতসন্ত্রস্ত আফগান কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভিড় করে।

কাঠফাটা রোদে তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন এই আশায়, কোনোমতে বিমানে চড়ে বিদেশে পাড়ি দিতে পারলেই দেখতে হবে না তালেবানের দমনমূলক শাসন।

কাবুল বিমানবন্দরে দেশ ছাড়তে মরিয়া আফগানদের ছবি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়।

তবে সম্প্রতি স্যাটেলাইটের ছবিতে দেখা যায়, শুধু কাবুল বিমানবন্দর নয়, পাকিস্তান, ইরান, উজবেকিস্তান ও তাজিকিস্তান সীমান্ত দিয়েও দেশ ছাড়তে মরিয়া ছিলেন হাজারো আফগান।

স্যাটেলাইট ইমেজের মাধ্যমে এনডিটিভি জানিয়েছে, গত সপ্তাহেও আফগানিস্তানের স্পিন বলদাক শহরের পাকিস্তান সীমান্তে হাজার হাজার আফগান দেশ ছাড়ার উদ্দেশ্যে অসহায়ভাবে অপেক্ষা করেন।

স্পিন বলদাকের চমন সীমান্ত আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম ক্রসিং।

পরিবারের সদস্য ও মালপত্র নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহে এই সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তানের উদ্দেশে দেশ ছাড়া আফগানদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে থাকে।

কাবুল এবং আফগানিস্তানের অন্যান্য শহরে পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি ছেড়ে এই আফগানরা প্রাণের মায়ায় সীমান্তের দিকে ছোটেন। সম্প্রতি ওই সীমান্ত বন্ধ করে দেয় পাকিস্তান সরকার।

৬ সেপ্টেম্বর স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তোলা ছবিগুলোতে দেখা যায়, চমন সীমান্তের আফগানিস্তান অংশে দেশটির বিপুল সংখ্যক নাগরিক জড়ো হয়েছেন।

সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আফগানদের এ ভিড় দেখে বোঝা যায়, ২০ বছর পর তালেবানের ফের ক্ষমতা দখলে কী পরিমাণ আতঙ্কে রয়েছেন আফগানরা।

তালেবানের ভয়ে পরদেশে শরণার্থী শিবিরে মানবেতর জীবন কাটাতেও রাজি তারা।

১৫ আগস্ট কাবুল ঘিরে ফেলার একপর্যায়ে পুরো আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান।

শুরুতে নারী ইস্যুসহ অন্যান্য ইস্যুতে নমনীয় অবস্থানের অঙ্গীকার করেছিল তালেবান। ২০ বছর আগের শাসনামলে পুরোপুরি ফিরবে না বলেও জানান সংগঠনটির নেতারা।

তবে তালেবানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে এ ধরনের কোনো ইঙ্গিত এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
পাকিস্তানকে দায়ী করা অন্যায্য: আফগান প্রেসিডেন্টকে ইমরান
বাস ট্র্যাজেডি: চীনকে তদন্তের আশ্বাস ইমরানের
আফগান সীমান্তে ৫ টেলিকম কর্মী উদ্ধার পাকিস্তানের
পাকিস্তানে বিস্ফোরণে ৬ চীনা নাগরিকসহ নিহত ৮
বাবরের রেকর্ডের দিনই ক্লিন সুইপ ইংল্যান্ডের

শেয়ার করুন