ভারতে বন্ধ হলো ২০ লাখ হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট

ভারতে বন্ধ হলো ২০ লাখ হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট

অত্যাধুনিক মেশিন লার্নিং প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৮০ লাখ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয় হোয়াটসঅ্যাপ। শুধু ভারতে এ সংখ্যা ২০ লাখ হওয়া অস্বাভাবিক বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

নীতিমালা লঙ্ঘন করায় ভারতে ২০ লাখ ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ। গত ১৫ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত এক মাসে এসব অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়।

হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৯৫ শতাংশ অ্যাকাউন্ট বন্ধের কারণ ছিল ম্যাসেজিং প্ল্যাটফর্মটিতে এক ব্যবহারীর কাছ থেকে পাওয়া বার্তা তৃতীয় কাউকে পাঠানোর, অর্থাৎ ‘ম্যাসেজ ফরোয়ার্ড’-এর সীমা অতিক্রম করা।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভারতের বিতর্কিত নতুন তথ্যপ্রযুক্তি আইনের আওতায় প্রথম মাসিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ।

ক্ষতিকর বা অনাকাঙ্ক্ষিত বার্তা আদান-প্রদান নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ভারতে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ভারতে ফেসবুক মালিকানাধীন হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৪০ কোটি।

অত্যাধুনিক মেশিন লার্নিং প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৮০ লাখ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয় হোয়াটসঅ্যাপ। শুধু ভারতে এ সংখ্যা ২০ লাখ হওয়া অস্বাভাবিক বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ভারতে যে কোনো তথ্যের অপপ্রচার বা ভুয়া খবরবিষয়ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় প্রায়ই হোয়াটসঅ্যাপের নাম উঠে আসে।

প্রতি ঘণ্টায় এসব ভুয়া খবর ও গুজব ফরোয়ার্ড হয় কয়েক লাখ বার, যা পুরোপুরি ঠেকানো কার্যত অসম্ভব।

গুজব সংক্রান্ত ক্ষুদে বার্তা ও ভিডিওর গণপ্রচারে সাম্প্রতিককালে ভারতে বেশ কয়েকবার দাঙ্গা পরিস্থিতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব ঘটনায় প্রাণও গেছে অনেকের।

এ ধরনের ঘটনা রোধে বিতর্কিত তথ্যপ্রযুক্তি আইন কার্যকরের দাবি ভারত সরকারের।

আরও পড়ুন:
ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইন বাকস্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করবে: টুইটার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ওয়ালটন ল্যাপটপ-অ্যাক্সেসরিজে ৫০% পর্যন্ত ছাড়

ওয়ালটন ল্যাপটপ-অ্যাক্সেসরিজে ৫০% পর্যন্ত ছাড়

ওয়ালটন ল্যাপটপ কেনায় অফার ক্যাম্পইন উদ্বোধনে অতিথিরা। ছবি: সৌজন্যে

নগদ মূল্যে কেনার ক্ষেত্রে পণ্য ও মডেলভেদে সর্বনিম্ন ৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট পাবেন ক্রেতারা।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী বা ৫০ বছর উদযাপন করছে বাংলাদেশ। এ উপলক্ষ্যে ‘ওয়ালটন ল্যাপটপ বিজয় উল্লাস’ ক্যাম্পেইন চালু করেছে। এর আওতায় ওয়ালটনের যে কোনো শোরুম কিংবা অনলাইনের ই-প্লাজা থেকে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ ও কম্পিউটার এক্সেসরিজ কেনায় সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ছাড় পাচ্ছেন গ্রাহকরা।

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর জুড়ে এ সুবিধা উপভোগ করা যাবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ওয়ালটন।

ঢাকায় ওয়ালটনের করপোরেট অফিসে সম্প্রতি এক প্রোগ্রামে এ ঘোষণা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে অনলাইনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম।

বিশেষ অতিথি ছিলেন ইন্টেলের কান্ট্রি বিজনেস ম্যানেজার হুসেইন ফকরুদ্দিন এবং মাইক্রোসফটের প্রতিনিধি কেনেডি গোহ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এস এম রেজাউল আলম।

বিশেষ অতিথিদের মধ্যে আরও ছিলেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও গোলাম মুর্শেদ। ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও এস এম মঞ্জুরুল আলম অভি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এন এম জিয়াউল আলম বলেন, ‘‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ায় ওয়ালটন বেশ বড় ভূমিকা রাখছে। ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ক্যাম্পেইনের বড় অংশীদার ওয়ালটন। আমরা বাংলাদশে তৈরি প্রযুক্তিপণ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। দেশে তৈরি পণ্যের জন্য আলাদা পলিসি প্রণয়ন করছি। দেশীয় আইটি পণ্যের বাজারে ওয়ালটনের বড় ভূমিকা রয়েছে এবং তাদের মার্কেট শেয়ার প্রতিনিয়ত বাড়ছে।’’

ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এস এম রেজাউল আলম বলেন, ‘বর্তমানে দেশের গ্রাহকদের চাহিদা অনুসায়ী বছরে ১৫ লাখ ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের সক্ষমতা ওয়ালটনের আছে। ওয়ালটন পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব প্রকল্পে সরকার ওয়ালটন পণ্য অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং আমরা এই চ্যালেঞ্জটি সফলভাবেই অতিক্রম করেছি।’

ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও গোলাম মুর্শেদ বলেন, ‘এখন একটি ল্যাপটপ কিংবা একটি মোবাইল ফোন একজন মানুষকে স্বশিক্ষিত এবং স্বাবলম্বী করে তোলার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এক্ষেত্রে ওয়ালটন নীরবে দেশের মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।’

ভার্চুয়াল মাধ্যমে বক্তব্যে ইন্টেল এবং মাইক্রোসফটের প্রতিনিধিগণ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষে সবাইকে অভিনন্দন জানান। তারা ওয়ালটন ল্যাপটপ বিজয় উল্লাস শীর্ষক ক্যাম্পেইনের সাফল্য কামনা করেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের লক্ষ্য নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী লিয়াকত আলী।

ক্যাম্পেইন সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন ওয়ালটন কম্পিউটার ও আইটি এক্সেসরিজের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান রাদ।

তিনি জানান, নগদ মূল্যে কেনার ক্ষেত্রে পণ্য ও মডেলভেদে সর্বনিম্ন ৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট পাবেন ক্রেতারা।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ডিমএডি নজরুল ইসলাম সরকার ও এমদাদুল হক সরকার, ওয়ালটন প্লাজা ট্রেডের সিইও মোহাম্মদ রায়হান, ওয়ালটন গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান এস এম জাহিদ হাসান, নির্বাহী পরিচালক আজিজুল হাকিম ও জিনাত হাকিম প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইন বাকস্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করবে: টুইটার

শেয়ার করুন

দেশজুড়ে রবির ভোল্টি চালু

দেশজুড়ে রবির ভোল্টি চালু

রবি চালু করেছে ভোল্টি সেবা। ছবি: সংগৃহীত

আইফোন, স্যামসাং, হুয়াওয়ে, রিয়েলমি, সিম্ফনি, ওপ্পো, ওয়ালটন, নকিয়ার মতো জনপ্রিয় ১৫৬টি স্মার্টফোন মডেলের মাধমে সেবাটি উপভোগ করা যাবে।

রবি ও এয়ারটেল গ্রাহকদের জন্য দেশজুড়ে ভয়েস ওভার এলটিই বা ভোল্টি সেবা চালু করেছে মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড।

মোবাইল অপারেটর দুটির গ্রাহকরা যেন সহজে সেবাটি পেতে পারেন এ জন্য সর্বোচ্চ সংখ্যক স্মার্টফোন মডেলে এটি চালু করেছে বলে জানায় অপারেটরটি। ২০২০ সালে দেশের প্রথম টেলিকম অপারেটর হিসেবে ভোল্টি সেবা চালু করে রবি।

আইফোন, স্যামসাং, হুয়াওয়ে, রিয়েলমি, সিম্ফনি, ওপ্পো, ওয়ালটন, নকিয়ার মতো জনপ্রিয় ১৫৬টি স্মার্টফোন মডেলের মাধ্যমে সেবাটি উপভোগ করা যাবে।

রবি ও এয়ারটেল গ্রাহকদের ভোল্টি সেবা ব্যবহার করার জন্য বাড়তি কোনো খরচ করতে হবে না।

সেবাটি উপভোগ করতে কল প্রেরক ও গ্রহীতা উভয়ের ভোল্টি সেবা ব্যবহার উপযোগী ফোরজি হ্যান্ডসেট এবং ভোল্টি অ্যাক্টিভেটেড ফোরজি সিম কার্ড লাগবে।

এ ছাড়া উভয়কে ভোল্টি কাভারেজ এলাকার মধ্যে থাকতে হবে।

ভোল্টি হচ্ছে আইপিভিত্তিক ভয়েস কল প্রযুক্তি; এই প্রযুক্তিটির মূল লক্ষ্য ফোরজি এলটিই নেটওয়ার্কে এইচডি (হাইডেফিনেশন) মানের ভয়েস সেবা নিশ্চিত করা। এলটিই ডেটা নেটওয়ার্কে ভয়েসকে আলাদা অ্যাপ্লিকেশন হিসেবে বিবেচনা করে ভোল্টি।

অত্যাধুনিক এই প্রযুক্তি ব্যবহারকারী গ্রাহকরা ২ থেকে ৩ সেকেন্ডের মধ্যে কল সংযোগ করতে পারবেন, যা প্রথাগত টুজি বা থ্রিজি নেটওয়ার্কের চেয়ে ৪০-৫০ শতাংশ দ্রুততর এবং একই সঙ্গে গ্রাহকরা উপভোগ করতে পারবেন ক্রিস্টাল ক্লিয়ার এইচডি মানের শব্দ।

আরও পড়ুন:
ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইন বাকস্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করবে: টুইটার

শেয়ার করুন

ফেসবুক-গুগলের অ্যালগরিদম খতিয়ে দেখবে অস্ট্রেলিয়া

ফেসবুক-গুগলের অ্যালগরিদম খতিয়ে দেখবে অস্ট্রেলিয়া

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর অ্যালগরিদমের ধরন, কীভাবে কোম্পানিগুলো একজন ব্যবহারকারীর পরিচয় ও বয়স নিশ্চিত হয়, কোন ধরনের বিধিনিষেধ তাদের উপর আরোপ করা যেতে পারে তাও খতিয়ে দেখবেন আইন প্রণেতারা।

বিশ্বের বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব হলো তাদের নিজেদের প্ল্যাটফর্ম নিরাপদ রাখা। এমনটাই মনে করেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন।

আল জাজিরা জানাচ্ছে, স্কট মরিসন বলেছেন, ‘বিশ্বের বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যাবলী পর্যবেক্ষণ ও সে সংক্রান্ত নতুন আইন প্রণয়নের জন্য শিগগির অস্ট্রেলিয়া বিস্তৃত পরিসরে সংসদীয় তদন্ত চালাবে।‘

তিনি জানান, তদন্ত এটি হবে বৃহৎ পরিসরে। গুগল, ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর অ্যালগরিদমের ধরন, কীভাবে কোম্পানিগুলো একজন ব্যবহারকারীর পরিচয় ও বয়স নিশ্চিত হয়, কোন ধরনের বিধিনিষেধ তাদের উপর আরোপ করা যেতে পারে, তাও খতিয়ে দেখবেন আইন প্রণেতারা।

মরিসন বলেন, ‘বৃহৎ কোম্পানিকে বৃহৎ প্রশ্নের উত্তরই দিতে হবে। বড় কোম্পানিগুলোই এই প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, তাদেরকেই এই প্ল্যাটফর্মগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’

নতুন তদন্তের এই ঘোষণা অস্ট্রেলিয়া ও ফেসবুকের মাঝে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। ফেসবুক ভবিষ্যতের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে নাম পরিবর্তন করে ‘মেটা’ করেছে।

এ বছরের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়া নতুন আইন বাস্তবায়ন করে, যেখানে ফেসবুকের মতো সামাজিক মাধ্যমগুলোকে স্থানীয় কনটেন্ট ব্যাবহারের জন্য টাকা দিতে হয়। নতুন আইনে সামাজিক মাধ্যমগুলোকে যেসব একাউন্টের বিরুদ্ধে মানহানির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে। সেসব বেনামী একাউন্টের পরিচয় প্রকাশে বাধ্য করা হয়।

যদিও শুরুর দিকে এইসব আইন মানতে চায়নি বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। আলফাবেটের সহপ্রতিষ্ঠান গুগল এমনকি হুমকিও দিয়েছিল যে, তারা অস্ট্রেলিয়ান সার্চ ইঞ্জিন বন্ধ করে দেবে। ফেসবুকও সে সময় অনেক কনটেন্ট বন্ধ করে দেয়।

ফেসবুকের বিরুদ্ধে অনুমতি না নিয়ে গ্রাহকের তথ্য ব্যবহারের বেশকিছু অভিযোগ আছে। যার জেরে ক্যামব্রিজ এনালিটিকার মতো পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। ফেসবুককে গুনতে হয় ৫ বিলিওন ডলার জরিমানা।

একই ধরনের অভিযোগে এর আগে আমেরিকান কংগ্রেসের মুখোমুখি হতে হয় ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গকে।

আরও পড়ুন:
ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইন বাকস্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করবে: টুইটার

শেয়ার করুন

প্রযুক্তি-বিপ্লব ভবিষ্যতের হুমকি: এমআই সিক্স

প্রযুক্তি-বিপ্লব ভবিষ্যতের হুমকি: এমআই সিক্স

এমআই সিক্স প্রধান রিচার্ড মোর। ছবি: এএফপি

কোয়ান্টাম ইঞ্জিনিয়ারিং ও জৈব প্রকৌশল শিল্প ব্যবস্থাকে পাল্টে দেবে জানিয়ে রিচার্ড আরও বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে তথ্যের এখন ছড়াছড়ি, যা কম্পিউটার ও তথ্য-বিজ্ঞানের ক্ষমতার নির্দেশক। এটা আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মিশ্রণ। যার প্রভাব পড়ছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে।’

আগামী দশ বছরে বিশ্ব ব্যবস্থায় (ওয়ার্ল্ড অর্ডার) প্রযুক্তি-বিপ্লব বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাজ্য সরকারের গুপ্তচর বিভাগের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান এমআই সিক্স প্রধান রিচার্ড মোর।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসকে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন এমআই সিক্স প্রধান।

এক ভাষণে সোমবার মোর বলেন, ‘কম্পিউটার ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অগ্রগতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যাপক ব্যবহার জীবনযাত্রাকে পুরোপুরি বদলে দেবে; যা কল্পনাতীত।’

এমআই৬ এর প্রধান হিসেবে ২০২০ সালের অক্টোবরে দায়িত্ব নেন ৫৮ বছরের রিচার্ড। এর আগে তিনি তুরস্কে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে ছিলেন। প্রযুক্তিগত এই পরিবর্তনকে তিনি ১৮ ও ১৯ শতাব্দীর শিল্প-বিপ্লবের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

বলেন, ‘এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের সংস্কৃতি ও নীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে হবে।’

যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দারা গোপনীয়তা রক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছেন উল্লেখ করে রিচার্ড বলেন, ‘তারা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বেশি যুক্ত হয়ে পড়ছেন।’

কোয়ান্টাম ইঞ্জিনিয়ারিং ও জৈব প্রকৌশল পুরো শিল্প ব্যবস্থাকে পাল্টে দেবে জানিয়ে রিচার্ড আরও বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে তথ্যের এখন ছড়াছড়ি, যা কম্পিউটার ও তথ্য-বিজ্ঞানের ক্ষমতার নির্দেশক। এটা আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মিশ্রণ। যার প্রভাব পড়ছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে।’

‘অন্যরা হয়তো এসবের ইতিবাচক দিকগুলোই আপনাদের কাছে তুলে ধরবে, কিন্তু আমার কাজই হচ্ছে এসবের নেতিবাচক দিকগুলো নিয়ে চিন্তা করা। পৃথিবী যেমন এমআই সিক্স ঠিক সেরকম আরচণ করে, নিজ থেকে কিছু করে না।’

আরও পড়ুন:
ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইন বাকস্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করবে: টুইটার

শেয়ার করুন

মিথ্যা বললে রক্ষা নেই

মিথ্যা বললে রক্ষা নেই

মিথ্যা বলার সময় মানুষের অজান্তেই সক্রিয় হয় মুখের বেশ কিছু পেশি। ছবি: নিউজবাংলা

মিথ্যাবাদীর চেহারায় তার মনের ভাবের ছাপ পড়ে এমন ধারণা নতুন নয়। চার্লস ডারউইনের আমল থেকে এ ধারণা চলে এসেছে। তিনি নিজেও বেশ কিছু মনোবিদ্যার পরীক্ষা করেছিলেন। ১৮৭২ সালে এক গবেষণায় তিনি দেখেন, ‘মুখের যে সব পেশি আমাদের ইচ্ছার অধীনে নেই সেগুলো কখনও কখনও নিজে থেকে কোনো অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তুলতে পারে।’

কিছু মানুষ অবলীলায় বলে যান একের পর এক মিথ্যা। তাদের ভাবলেশহীন চোখ-মুখ দেখে মিথ্যা ধরা কঠিন। তবে এসব চতুর মিথ্যাবাদীর সামনে আসছে দুঃসময়। বিজ্ঞানীরা এমন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন, যাতে মিথ্যা বলে পার পাওয়া হবে কঠিন।

এই প্রযুক্তির বিশেষ সেন্সর মুখের পেশির অতি ক্ষুদ্র কম্পনকেও ঠিক ধরে ফেলতে সক্ষম। আর এর মাধ্যমে বোঝা যাবে, মনের ভেতরে কথা লুকিয়ে রেখে বাইরে আপনি কতটা মিথ্যা বলছেন। বিজ্ঞান বিষয়ক সাইট সায়েন্স অ্যালার্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রযুক্তি গড়পড়তা যে কোনো ব্যক্তির চেয়ে মিথ্যা কথা শনাক্তে অনেক ভালো কাজ করে।

ইসরায়েলের তেল আভিভ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তৈরি এই সিস্টেম ৭৩ শতাংশ ক্ষেত্রে ঠিকঠাক মিথ্যা ধরতে পেরেছে। এই প্রক্রিয়ায় দুই ধরনের মিথ্যাবাদীকে ধরা গেছে।
বিহেভিওরাল নিওরোসায়েন্টিস্ট ডিনো লিভি বলেন, ‘এটি পুরোপুরি নিঁখুত নয়, কিন্তু অন্য অনেক ফেশিয়াল রেকগনিশন প্রযুক্তির চেয়ে বেশ ভালো।’

সত্যি ও মিথ্যা কথা বলা ৪০ জন স্বেচ্ছাসেবকের শরীরে লাগানো ইলেক্ট্রোড মুখের পেশির নড়াচড়া মেপে মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদমকে তথ্য দিয়েছে। এতে করে ওই অ্যালগরিদমে মানুষের মুখের ভাবভঙ্গী থেকে ইঙ্গিতগুলো চিনতে শিখেছে আর্টিফিসিয়াল প্রযুক্তি।

গবেষকেরা বলছেন, পলিগ্রাফের মতো প্রচলিত সাধারণ মিথ্যা ধরার যন্ত্রগুলো হৃৎকম্পন, রক্তচাপ ও নিঃশ্বাসের মাত্রার হেরফেরের মতো শরীরিক বৈশিষ্ট্যগুলোর ওপর নির্ভর করে। তবে যে কেউ এ বৈশিষ্ট্যগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পলিগ্রাফ মেশিন ব্যবহার করলেও এ থেকে পাওয়া ফলকে নিঁখুত বলার উপায় নেই।

মিথ্যাবাদীর চেহারায় তার মনের ভাবের ছাপ পড়ে এমন ধারণা নতুন নয়। চার্লস ডারউইনের আমল থেকে এ ধারণা চলে এসেছে। তিনি নিজেও বেশ কিছু মনোবিদ্যার পরীক্ষা করেছিলেন। ১৮৭২ সালে এক গবেষণায় তিনি দেখেন, ‘মুখের যে সব পেশি আমাদের ইচ্ছার অধীনে নেই সেগুলো কখনও কখনও নিজে থেকে কোনো অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তুলতে পারে।’

তবে এসব পেশির পরিমাপ, নিয়ন্ত্রণ বা চিহ্নিত করা সহজ নয়। অনিচ্ছাকৃত, অনিয়ন্ত্রিত ক্ষুদ্র-অভিব্যক্তিগুলো শুধু এক সেকেন্ডের ভগ্নাংশের জন্য দেখা যায়। ৪০ থেকে ৬০ মিলিসেকেন্ডের পরে অভিব্যক্তিগুলো অদৃশ্য হয়ে যায়।

অভিব্যক্তি তৈরি করে মুখের এমন নির্দিষ্ট পেশি শনাক্ত করার জন্য বেশিরভাগ গবেষণায় ফেসিয়াল সারফেস ইলেক্ট্রোমাইয়োগ্রাফি বা এসইএমজি নামের একটি কৌশল ব্যবহার করা হয়। এটি মুখের পেশির বৈদ্যুতিক কর্মকাণ্ড পরিমাপ করে এবং মানুষের পক্ষে শনাক্ত করা কঠিন এমন সব সূক্ষ্ম অভিব্যক্তি চিহ্নিত করতে পারে।

ইসরায়েলি বিজ্ঞানীদের গবেষণায় একটি নতুন ধরনের পরিধানযোগ্য ইলেক্ট্রোড পরীক্ষা করা হয়েছে। এটি এসইএমজি ডিভাইসের চেয়ে বেশি সংবেদনশীল ও আরামদায়ক। ভিডিও ফুটেজে মুখের অভিব্যক্তি পড়ার জন্য প্রশিক্ষিত একটি মেশিন লার্নিং টুলকেও গবেষণায় ব্যবহার করা হয়েছে।

লিভি ব্যাখ্যা করেন, ‘এটা শুরুর দিককার একটা গবেষণা ছিল, যে কারণে খুব সাধারণ মিথ্যা কথা দিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে।’

পরীক্ষায় দুই জন ব্যক্তিকে সামনাসামনি ইলেক্ট্রোড লাগিয়ে বসানো হয়। একজন হেডফোন লাগিয়ে কানে যা শুনছেন সেটা বলেন বা ভিন্ন কিছু বলেন। আর তার সামনে বসা ব্যক্তি ধরার চেষ্টা করেন কখন তিনি সঠিক কথা বলছেন।

দুই অংশগ্রহণকারী যখন অডিও শুনছে, কথা বলছে ও প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে সে সময় গবেষকেরা তাদের দুই ভ্রুর মাঝের পেশি (যাকে করুগেটর সুপারসিলিয়া বলা হয়) ও গালের পেশির (জাইগোম্যাটিকাস মেজর) কার্যকলাপ রেকর্ড করেন।

গবেষণায় ৪৮ জন অংশগ্রহণকারীর মিথ্যা বলার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন নিদর্শন বা ‘সূত্র’ পাওয়া গেছে। কিছু লোক মিথ্যা বলার সময় তাদের গালের পেশিগুলিকে সক্রিয় করে, কেউ বা তাদের ভ্রুর কাছে পেশি কুঁচকে ফেলে।

লিভি ও তার সহকর্মীরা গবেষণাপত্রে লিখেছেন, ‘আমরা সব অংশগ্রহণকারীর মিথ্যা সফলভাবে ধরতে পেরেছি। মানুষের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ পাওয়া যন্ত্রের চেয়ে এর সফলতা অনেক বেশি।’
মিথ্যা কথা ধরার অ্যালগরিদমটি দিয়ে লিভি ও তার দল ২২ থেকে ৭৩ শতাংশ সময় যথাযথভাবে মিথ্যা কথা ধরতে পেরেছে।
গবেষকেরা বলছেন, পরীক্ষামূলক অ্যালগরিদমটির আরও উন্নতি দরকার। কারণ দেখা গেছে, মানুষের যেসব পেশি তথ্য প্রকাশ করে সেগুলো বদলাতে থাকে।

তবে দুর্ভাবনার বিষয় হলো, যেসব ব্যক্তি সফলভাবে তাদের পার্টনারকে প্রতারিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন, তাদেরকে মেশিন-লার্নিং অ্যালগরিদমও খুব একটা শনাক্ত করতে পারেনি।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বাস্তব জীবনে বা জটিল পরিস্থিতিতে মিথ্যা শনাক্ত করা আরও চ্যালেঞ্জিং। মিথ্যাবাদীরা সাধারণত মিথ্যা ও অর্ধ-সত্য মেশানো দীর্ঘ গল্প শোনান। এছাড়া মিথ্যা বলার সময় অনেকে শব্দ বাদ দিয়ে দেন, এড়িয়ে যান বা সত্য ঢাকতে দুর্বোধ্যভাবে কথা বলেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

দ্য টাইমস অফ ইসরায়েলকে লিভি বলেন, ‘ আমরা আশা অরি আরও উন্নতি ও সফল পরীক্ষার পর এটি পলিগ্রাফের শক্ত বিকল্প হিসেবে দাঁড়াবে।’

লিভি ও তার সহকর্মীদের ধারণা, ইমেজ প্রসেস করার যে যন্ত্র সেটিকে আরও উন্নত করে কণ্ঠের পরিবর্তন নিয়ে যে সব প্রযুক্তি কাজ করে সেগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা যাবে।

আরও পড়ুন:
ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইন বাকস্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করবে: টুইটার

শেয়ার করুন

ভার্চুয়াল মিটিং সহজ করতে আসছে কনভে

ভার্চুয়াল মিটিং সহজ করতে আসছে কনভে

রূপায়ণ চৌধুরী বলেন, ‘ কনভে-এর ইনোভেশন অনেক সমস্যার সহজ সমাধান দেবে। এখন চার দেশের মানুষজন এই ইনোভেশনে কাজ করছে। কনভে একটি ভার্চুয়াল কোলাবরেশন প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ভিডিও কনফারেন্সিং, বিভিন্ন কোলাবরেশন টুলস ও ভিজ্যুয়াল বোর্ডের সমন্বয়ে কর্মীদের মধ্যে খুবই কার্যকর যোগাযোগ গড়ে তোলা যায়।’

ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়াতে দেশে তৈরি হয়েছে বিকল্প প্ল্যাটফর্ম ‘কনভে’। ভার্চুয়াল এ মিটিং প্ল্যাটফর্মটিতে একসঙ্গে ৩০০ জনের বৈঠকের ব্যবস্থা আছে।

সিনেসিস আইটি নামের প্রতিষ্ঠান আগামী বছরের শুরুতে ভার্চুয়াল অফিস কোলাবরেশন প্ল্যাটফর্ম ‘কনভে’ নিয়ে আসছে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী (সিইও) রূপায়ণ চৌধুরী বলেন, ‘২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়া গেলে সমস্যায় পড়ি টিম সদস্যদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে। একপর্যায়ে পুরো টিম বাধ্য হয়ে রিমোট কোলাবরেশন ব্যবহার শুরু করি। করোনা আগে থেকে সিনেসিস ভিডিও কনফারেন্সিং ব্যবহার শুরু হয়।

‘রিমোট কোলাবরেশন এখনো নতুন, এখানে অনেক কিছু দরকার। কনভে-এর ইনোভেশন অনেক সমস্যার সহজ সমাধান দেবে। এখন চার দেশের মানুষজন এই ইনোভেশনে কাজ করছে। কনভে একটি ভার্চুয়াল কোলাবরেশন প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ভিডিও কনফারেন্সিং, বিভিন্ন কোলাবরেশন টুলস ও ভিজ্যুয়াল বোর্ডের সমন্বয়ে কর্মীদের মধ্যে খুবই কার্যকর যোগাযোগ গড়ে তোলা যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি জোর দেয়া হয়েছে তথ্য নিরাপত্তায়, যা জুমের একটা বড় দুর্বলতা। কনভে তৈরি করা হয়েছে গ্লোবাল মার্কেটের জন্য। এটি প্রচলিত অন্য যে কোনও অ্যাপের চেয়ে বহুগুণে ভালো।

‘বর্তমানে অনায়াসে ৩০০ জনের মিটিং করা যাবে, যা আগামীতে ১২০০ জনে উন্নীত করার পরিকল্পনা আছে। সিনেসিসের কয়েকটি টিম এখন কনভে ব্যবহার করছে। আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিকে সীমিত কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য মার্কেটে আসবে কনভে।’

আরও পড়ুন:
ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইন বাকস্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করবে: টুইটার

শেয়ার করুন

পেগাসাস-নির্মাতা ইসরায়েলি ফার্মের বিরুদ্ধে অ্যাপলের মামলা

পেগাসাস-নির্মাতা ইসরায়েলি ফার্মের বিরুদ্ধে অ্যাপলের মামলা

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত এনএসও কুখ্যাত হ্যাকার। একবিংশ শতাব্দীর অনৈতিক কাজ সম্পাদনকারী এই সংস্থাটি অত্যন্ত উন্নতমানের সাইবার নজরদারি যন্ত্রপাতি তৈরি করেছে। যা অপব্যবহারের ইন্ধন জোগায়।

নিজেদের আইফোন ও অন্যান্য ডিভাইস ব্যবহার করা ব্যক্তিদের টার্গেট করার জন্য ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার পেগাসাসের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনএসও-এর বিরুদ্ধে মামলা করেছে অ্যাপল।

মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়ার মার্কিন ফেডারেল আদালতে এই মামলা দায়ের করা হয়। এর মাধ্যমে ১০ কোটি আইফোন ব্যবহারকারী যেন এনএসও গ্রুপের টার্গেট থেকে মুক্ত থাকে তার নিশ্চয়তা চাইছে অ্যাপল।

মামলার পর অ্যাপল জানায়, ব্যবহারকারীদের ক্ষতি রোধ করতে এনএসও গ্রুপকে নিজেদের কোনও সফ্টওয়্যার, পরিষেবা বা ডিভাইস ব্যবহারে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন জানিয়েছে তারা।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত এনএসও কুখ্যাত হ্যাকার। একবিংশ শতাব্দীর অনৈতিক কাজ সম্পাদনকারী এই সংস্থাটি অত্যন্ত উন্নতমানের সাইবার নজরদারি যন্ত্রপাতি তৈরি করেছে। যা অপব্যবহারের ইন্ধন জোগায়।

গত জুলাইয়ে ইসরায়েলি স্পাইওয়ার পেগাসাস ঘিরে হইচই শুরু হয় বিশ্বজুড়ে। দ্য গার্ডিয়ান দাবি করে, সারা বিশ্বের ১৮০ জনের বেশি সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, শিল্পপতি, ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের ফোন হ্যাক করা হয়েছে পেগাসাসের মাধ্যমে।

সম্প্রতি পেগাসাস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনএসও গ্রুপকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই বিষয়ে মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, মানবাধিকারের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে জো বাইডেন প্রশাসন।

তবে, এনএসও-এর বিরুদ্ধে মামলা করা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপলই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৯ সালে গুপ্তচর সরঞ্জাম তৈরি করা সংস্থাটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল ফেসবুক। সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী এবং অন্যদের ওপর সাইবার গুপ্তচরবৃত্তির জন্য হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে আঁড়িপাতার অভিযোগ দিয়েছিল সংস্থাটি।

আরও পড়ুন:
ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইন বাকস্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করবে: টুইটার

শেয়ার করুন