সীমান্ত সংঘাতে নিয়ে বৈঠকে চীন-ভার‍ত

সীমান্ত সংঘাতে নিয়ে বৈঠকে চীন-ভার‍ত

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের টুইটে বলা হয়েছে, ‘সীমান্তে একতরফা স্থিতাবস্থা পরিবর্তন গ্রহণযোগ্য নয়, এটা নির্দিষ্টভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। আমাদের সম্পর্কের বিকাশের জন্য সীমান্তবর্তী এলাকায় পুরনো ব্যবস্থা পুরোপুরি পুনরুদ্ধার এবং শান্তিপূর্ণ স্থিতি রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি।’

তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবেতে মিলিত হয়ে বৈঠক করেছেন ভারত ও চীন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। বুধবারের ওই বৈঠকে তারা দুই দেশের সীমান্ত এলাকার বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন।

এছাড়া দুই পক্ষই উভয় পক্ষের সিনিয়র সামরিক কমান্ডারদের মধ্যে বৈঠক আহ্বানের বিষয়ে একমত হয়েছেন।

এক টুইট বিষয়টি নিজেই জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

তিনি এবং চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই দুশানবেতে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) বৈঠকে অংশ নিতে গেছেন। এসসিও আটটি দেশের একটি আঞ্চলিক সংস্থা, যা মূলত সুরক্ষা এবং প্রতিরক্ষা ইস্যুতে পারস্পরিক বোঝাপড়া নিশ্চিত করতে কাজ করে।

বুধবার দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এক ঘণ্টার বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার সীমান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর অঞ্চলগুলোতে গত এক বছর ধরে যে বিবাদ চলছে সেটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠক শেষে এস জয়শঙ্কর টুইট বার্তায় বলেছেন, ‘দুশানবে এসসিও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পাশাপাশি চীনের স্টেট কাউন্সিলর এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াংইর সঙ্গে এক ঘণ্টার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষ হলো। ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় সেক্টরে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার পাশের অঞ্চলের বকেয়া ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর টুইটে বলা হয়েছে, ‘সীমান্তে একতরফা স্থিতাবস্থা পরিবর্তন গ্রহণযোগ্য নয়, এটা নির্দিষ্টভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। আমাদের সম্পর্কের বিকাশের জন্য সীমান্তবর্তী এলাকায় পুরনো ব্যবস্থা পুরোপুরি পুনরুদ্ধার এবং শান্তিপূর্ণ স্থিতি রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি। সিনিয়র মিলিটারি কমান্ডারদের প্রাথমিক বৈঠক আহ্বান করার বিষয়ে আমরা একমত পোষণ করছি।’

গত বছর জুনে পূর্ব ও লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় ও চীনা সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। এতে নিহত হয়েছিল দুই দেশের সেনা।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে মস্কোয় এসসিও বৈঠকের সময়েই ভারত-চীনের সীমান্তে দুই দেশের সেনাবাহিনীর উত্তেজনা কমাতে আলোচনায় বসেছিলেন দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ওই সময়ে পাঁচ দফা পরিকল্পনা নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছিলেন তারা।

গত বছরের মে মাসে লাদাখে সংঘাতের পর যাকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছিল ভারত ও চীন। দ্রুত সেনা সরানো, উত্তেজনা বেড়ে যায় এমন পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকা, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি মেনে চলা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সহমত হয়েছিলেন জয়শঙ্কর ও ওয়াং ই।

তবে গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্যানগং লেকের উত্তর ও দক্ষিণ থেকে দুই দেশ সেনা সরালেও হট স্পিং, গোগরা, দেপসাংয়ের মতো কয়েকটি জায়গায় এখনও সমস্যা থেকেই গেছে। এই এলাকাগুলো থেকে চীনা সেনা সরানোর জন্য কমান্ডার পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

আরও পড়ুন:
সেনাদের বীরত্ব নিয়ে প্রশ্ন, চীনে ব্লগার গ্রেপ্তার
লাদাখ থেকে সেনা সরাচ্ছে ভারত-চীন
ভারতের ৪ কিলোমিটার ভেতরে চীনের গ্রাম

শেয়ার করুন

মন্তব্য