নিরস্ত্র ২২ আফগান কমান্ডোকে হত্যা করল তালেবান

নিরস্ত্র ২২ আফগান কমান্ডোকে হত্যা করল তালেবান

আফগানিস্তানের মিহতারলাম এলাকায় তালেবানের সঙ্গে লড়াইয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। ছবি: এএফপি

১৬ জুন ধারণ করা ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, দওলাত আবাদের দখল নিয়ে তালেবান ও আফগান স্পেশাল ফোর্সেস ইউনিটের মধ্যে তুমুল লড়াই শেষে বেশ কিছু আফগান সেনার মরদেহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে।

আফগানিস্তানের ফারিয়াব প্রদেশের দওলাত আবাদ এলাকায় তালেবান বাহিনী অন্তত ২২ জন নিরস্ত্র আফগান কমান্ডোকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।

সংগ্রহকৃত কয়েকটি ভিডিওর ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা যাচাই করেছে সিএনএন।

সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৬ জুন ধারণ করা ভিডিওগুলোতে দেখা যায় দওলাত আবাদের দখল নিয়ে তালেবান ও আফগান স্পেশাল ফোর্সেস ইউনিটের মধ্যে তুমুল লড়াই শেষে বেশ কিছু আফগান সেনার মরদেহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে।

আরেক ভিডিওতে দেখা যায়, এক পথচারী পশতু ভাষায় তালেবান সদস্যদের অনুরোধ করছেন, ‘ওদেরকে গুলি করো না, গুলি করো না। আমি অনুরোধ করছি গুলি করো না। তোমরা পশতুন হয়ে কেন আফগানদের মারছো?’

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, তালেবানের বিপক্ষে লড়াইয়ে আফগান বাহিনীর গোলাবারুদ শেষ হয়ে যায়। এরপর তালেবান সদস্যরা আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ঘিরে ফেলে।

একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক তালেবান যোদ্ধা আফগান সেনার গা থেকে যুদ্ধাস্ত্রগুলো খুলে ফেলেছে। রেড ক্রস ২২টি মরদেহ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে সিএনএনকে।

আফগান সেনাদের সাহায্য করার দাবির পর তালেবানের এমন ভিডিও প্রকাশ পেল। তালেবানের দাবি ছিল তারা আগেরবারের মতো নেই এবং সরকারি বাহিনী সদস্যদের ক্ষেত্রে অনেকটাই সহনশীল। অনেককে তারা বাড়ি ফিরে যাওয়ার টাকাও দিয়েছে।

ওই ঘটনার তিন দিন পর তালেবানের পক্ষ থেকে একটি ভিডিও ছাড়া হয় যেখানে দেখা যায় আটককৃত ট্রাক ও অস্ত্র।

ভিডিওতে তালেবানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ‘সিআইএর বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ওয়াশিংটনের রক্ষীদের (যারা ফারিয়াবের দওলাত আবাদে তালেবানের পেছনে লেগে ছিল) তালেবান সদস্যরা জীবিত আটক করার পর নিরস্ত্র করে হ্যান্ডকাফ পরিয়েছে।’

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত কঠোর হাতে আফগানিস্তান শাসন করে তালেবান।

যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো ২০০১ সালে তালেবানকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির ক্ষমতা থেকে সরায়।

এরপর থেকে গত ২০ বছর ধরে পশ্চিমা দেশ-সমর্থিত আফগানিস্তান সরকারকে পতনের মাধ্যমে দেশটিতে ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠার লড়াই করছে তালেবান।

সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুরোপুরি প্রত্যাহারের লক্ষ্য নিয়ে মাসখানেক ধরে বিদেশি সেনা আফগানিস্তান ছাড়তে শুরু করেছে। এমন পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানের বেশ কয়েকটি অঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে তালেবান।

শুক্রবার তালেবান দাবি করে, দেশটির ৮৫ শতাংশ এলাকা তাদের দখলে চলে গেছে।

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তানে কঠোর শাসন কায়েম করছে তালেবান
তালেবানের কবজায় যুক্তরাষ্ট্রের সমরাস্ত্র
তালেবান শাসন চলা এলাকায় ৫ দিন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ত্রিপুরা সীমান্তে জঙ্গি হামলা, ২ বিএসএফ জওয়ান নিহত

ত্রিপুরা সীমান্তে জঙ্গি হামলা, ২ বিএসএফ জওয়ান নিহত

সীমান্তে পাহারারত বিএসএফ সদস্য। ফাইল ছবি

‘জঙ্গিদের সঙ্গে বিএসএফের গুলি বিনিময় হয়। তখনই বিএসএফের দুজন জওয়ান জখম হন। পরে তাদের মৃত্যু হয়। তবে রক্তের দাগ যেটুকু পাওয়া গেছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে, জঙ্গিরাও জখম হয়েছে। তবে আমাদের জওয়ানরা বীরত্বের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন। জঙ্গিদের ধরতে ব্যাপক তল্লাশি চলছে।’

ভারতের স্বাধীনতা দিবসের আগে ত্রিপুরায় বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)। জঙ্গি হামলায় বিএসএফের ২ জওয়ান নিহত হয়েছেন।

বিএসএফ মনে করছে, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন এনএলএফটি এই হামলা চালিয়েছে। নিহত দুই জোয়ানের রাইফেল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

মঙ্গলবার সকালে ত্রিপুরার ধলাই জেলার ভারত-বালাদেশ সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের টহলদারির সময় জঙ্গিরা আচমকা হামলা চালালে ৬৪ নম্বর ব্যাটালিয়নের এএসআই দুরা রাম সিং ও কনস্টেবল রাজকুমারের মৃত্যু হয়।

এনএলএফটির ১০ জনের সশস্ত্র একটি দল এই হামলা চালিয়েছে বলে বিএসএফ সূত্রে খবর।

প্রতিদিন সকালে বিএসএফ জওয়ানরা ভারত-বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তের বেড়া পরীক্ষা করেন। কোথাও বেড়ার ক্ষতি হয়েছে কিনা দেখেন। এদিনও জওয়ানরা সীমান্তের চৌমানু পুলিশ স্টেশনের কাছে আরসিনাথ বর্ডার আউট পোস্টের বেড়ার ধারে পৌঁছলে জঙ্গিরা আচমকা গুলি চালাতে শুরু করে। জঙ্গিদের সঙ্গে গোলাগুলিতে দুই জওয়ানের মৃত্যু হয় বলে বিএসএফ কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে ৮৫৬ কিলোমিটারজুড়ে ত্রিপুরার আন্তর্জাতিক সীমান্ত, যার ৬৭ কিলোমিটার অংশে কোন প্রাচীর বা বেড়া নেই।

নিহত জওয়ানদের সার্ভিস রাইফেল পাওয়া যাচ্ছে না। মনে করা হচ্ছে, জঙ্গিরা সেগুলো নিয়ে পালিয়েছে।

এই ঘটনায় ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব টুইট করে জানিয়েছেন, ‘ধলাইতে বিএসএফের ওপর এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা করছি। তাদের এই আত্মত্যাগ ব্যর্থ হবে না। বীর শহীদদের পরিবারের পাশে আমাদের দেশ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে থাকবে।’

বিএসএফের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘জঙ্গিদের সঙ্গে বিএসএফের গুলি বিনিময় হয়। তখনই বিএসএফের দুজন জওয়ান জখম হন । পরে তাদের মৃত্যু হয়। তবে রক্তের দাগ যেটুকু পাওয়া গেছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে, জঙ্গিরাও জখম হয়েছে। তবে আমাদের জওয়ানরা বীরত্বের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন। জঙ্গিদের ধরতে ব্যাপক তল্লাশি চলছে।’

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তানে কঠোর শাসন কায়েম করছে তালেবান
তালেবানের কবজায় যুক্তরাষ্ট্রের সমরাস্ত্র
তালেবান শাসন চলা এলাকায় ৫ দিন

শেয়ার করুন

‘একজন তালেবানকেও জীবিত ছাড়ব না’

‘একজন তালেবানকেও জীবিত ছাড়ব না’

শুক্রবার আফগানিস্তানের হেরাত প্রদেশে তালেবানের বিরুদ্ধে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ও আফগান মিলিশিয়া অবস্থান নেয়। ছবি: এএফপি

লস্কর গাহর দুই লাখ বাসিন্দার উদ্দেশে জেনারেল সাদাত বলেন, ‘আপনারা যত তাড়াতাড়ি পারেন বাড়িঘর ছেড়ে চলে যান। আপনারা গেলেই আমরা অভিযান শুরু করব।’

আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হেলমান্দ প্রদেশের অবরুদ্ধ রাজধানী লস্কর গাহ থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।

তালেবানের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অভিযানের ঠিক আগমুহূর্তে এ আহ্বান জানানো হয় বলে জানিয়েছে বিবিসি ও বার্তা সংস্থা এএফপি

হেলমান্দে তালেবানের বিরুদ্ধে অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেনারেল সামি সাদাত।

জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়, গত কয়েক দিনে লড়াইয়ে লস্কর গাহ শহরে তালেবান ও আফগান বাহিনীর তীব্র লড়াইয়ে কমপক্ষে ৪০ বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়।

প্রাদেশিক রাজধানী শহরটির বেশির ভাগ অংশ তালেবান কবজা করে নিয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়।

তবে আফগানিস্তানের সেনাবাহিনী তালেবানের কাছে লস্কর গাহ না হারানোর প্রতিজ্ঞা করায় সেখানে এখনও সংঘর্ষ চলছে।

লস্কর গাহর দুই লাখ বাসিন্দার উদ্দেশে জেনারেল সাদাত বলেন, ‘আপনারা যত তাড়াতাড়ি পারেন বাড়িঘর ছেড়ে চলে যান। আপনারা গেলেই আমরা অভিযান শুরু করব।’

তিনি বলেন, ‘আমি জানি, আপনাদের পক্ষে বাড়িঘর ছাড়া কঠিন। আমাদের জন্যও এটা কঠিন।

‘আপনারা যদি কিছুদিনের জন্য বাস্তুচ্যুত হন, তাহলে দয়া করে আমাদের ক্ষমা করবেন।’

জেনারেল সাদাত আরও বলেন, ‘তালেবানরা যেখানেই রয়েছে, সেখানেই লড়াই হবে। তাদের কোনো সদস্যকে জীবিত ছাড়া হবে না।’

আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সামরিক অভিযানে হেলমান্দ ছিল কেন্দ্রস্থল।

ওই অঞ্চল কোনোভাবে তালেবানের দখলে গেলে তা হবে আফগান সরকারের বড় ধরনের কৌশলগত ও মনস্তাত্ত্বিক পরাজয়।

লস্কর গাহ তালেবান নিয়ে নিলে ২০১৬ সালের পর এটাই হবে সংগঠনটির প্রথম প্রাদেশিক রাজধানী দখল।

‘রাস্তায় লাশের পর লাশ’

লস্কর গাহর বাসিন্দাদের ভাষ্য, তালেবানের ভয়াবহ হামলায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

এক বাসিন্দা বিবিসিকে বলেন, ‘তালেবান আমাদের প্রতি সদয় হবে না। আর আফগান সরকারও বোমা হামলা থামাবে না।

‘রাস্তায় লাশের পর লাশ। আমরা জানি না, তারা তালেবান নাকি বেসামরিক নাগরিক।’

আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘শহরের সব প্রান্তেই লড়াই চলছে। আমি জানি না কোথায় যাব।’

প্রেক্ষাপট

আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সেনা সরে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকেই দেশটি দখলে মে মাসের শুরু থেকেই তৎপরতা চালায় তালেবান।

এ নিয়ে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে প্রতিদিনই তাদের সংঘর্ষ বাধছে।

এরই মধ্যে আফগানিস্তানের বেশ কয়েকটি জেলা এবং গুরুত্বপূর্ণ বর্ডার ক্রসিং নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে তালেবান।

২০০১ সালে টুইন টাওয়ারে হামলা চালানো জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার সঙ্গে তালেবানের সম্পর্কের জেরে আফগানিস্তানে সে সময় সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো।

মিত্র বাহিনীর সম্মিলিত অভিযানে ওই বছরই আফগানিস্তানের ক্ষমতা থেকে তালেবানকে উৎখাত করা হয়।

তালেবান উৎখাত হলেও আফগানিস্তানে দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর অবস্থান করে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোভুক্ত দেশের সেনারা।

চলতি বছরের ১১ সেপ্টেম্বরের আগেই আফগানিস্তান থেকে সব সেনা সরাতে নিজেদের সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

এপ্রিলে বাইডেনের ওই ঘোষণার পর ন্যাটোর অন্য সদস্যরাষ্ট্রগুলোও আফগানিস্তান থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহারের কথা বলে। ধীরে ধীরে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি থেকে বিদেশি সেনা সরতে শুরু করে, যা এখন প্রায় শেষের পথে।

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তানে কঠোর শাসন কায়েম করছে তালেবান
তালেবানের কবজায় যুক্তরাষ্ট্রের সমরাস্ত্র
তালেবান শাসন চলা এলাকায় ৫ দিন

শেয়ার করুন

অবশেষে বিচ্ছিন্ন বিল-মেলিন্ডা

অবশেষে বিচ্ছিন্ন বিল-মেলিন্ডা

বিল ও মেলিন্ডা গেটসের বিচ্ছেদ সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়। ছবি: ব্লুমবার্গ

গেটস দম্পতি জানান, নিজেদের বৈবাহিক সম্পদ কীভাবে ভাগ হবে, সে বিষয়ে তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছেছেন। অবশ্য ওই চুক্তির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল শহরের কিং কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচ্ছেদের চূড়ান্ত আদেশে কিছু বলা হয়নি।

মাইক্রোসফট করপোরেশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস ও তার স্ত্রী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটসের বিচ্ছেদ আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এক আদালতের নথিতে স্থানীয় সময় সোমবার এমনটাই বলা হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

৬৫ বছর বয়সী বিল গেটস বিশ্বের চতুর্থ শীর্ষ ধনী। অন্যদিকে মাইক্রোসফটের সাবেক ব্যবস্থাপক ৫৬ বছর বয়সী মেলিন্ডা বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ইস্যু ও নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার।

২৭ বছর বৈবাহিক জীবন কাটিয়ে চলতি বছরের ৩ মে বিচ্ছেদের আবেদন করেছিলেন বিল ও মেলিন্ডা।

বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিলেও নিজেদের জনহিতৈষীমূলক কর্মকাণ্ডে এর কোনো প্রভাব পড়বে না বলে সে সময়ই অঙ্গীকার করেন এই দম্পতি।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ব্যক্তিগত দাতব্য সংস্থা বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের কাজ আগের মতোই একসঙ্গে করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তারা।

গেটস দম্পতি জানান, নিজেদের বৈবাহিক সম্পদ কীভাবে ভাগ হবে, সে বিষয়ে তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছেছেন।

অবশ্য ওই চুক্তির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল শহরের কিং কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচ্ছেদের চূড়ান্ত আদেশে কিছু বলা হয়নি।

কোর্টের আদেশে বলা হয়, বিচ্ছেদ চুক্তির শর্ত অবশ্যই বিল-মেলিন্ডা দম্পতিকে মেনে চলতে হবে।

২০০০ সালে পথ চলতে শুরু করা সিয়াটলভিত্তিক বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য খাতে অল্প সময়ে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ও প্রভাবশালী দাতব্য সংস্থায় পরিণত হয়।

বিল ও মেলিন্ডার ম্যালেরিয়া ও পোলিও নির্মূল, শিশু পুষ্টি ও টিকাদান কর্মসূচি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা পায়।

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও নারী অধিকার প্রচারে বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন ৫ হাজার কোটি ডলারের বেশি অর্থ দান করে।

বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর যৌথ এক বিবৃতিতে এই দম্পতি বলেছিলেন, ‘অনেক ভেবে-চিন্তে এবং সম্পর্কের অনেক খুঁটিনাটি বিষয় খতিয়ে দেখে আমরা বৈবাহিক জীবনের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘গত ২৭ বছরে আমরা দুর্দান্ত তিন সন্তানকে বড় করেছি এবং একটি ফাউন্ডেশন গড়ে তুলেছি, যা বিশ্বব্যাপী সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে স্বাস্থ্যকর, কর্মক্ষম জীবনযাপনে সক্ষম করে তুলতে কাজ করছে।’

গেটস দম্পতির বিচ্ছেদ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ধনীদের বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টানার দ্বিতীয় ঘটনা।

ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার ইনডেক্স অনুযায়ী বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ধনী জেফ বেজোস ও ম্যাকেঞ্জি স্কট ২০১৯ সালে বিচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

এ দম্পতির বিচ্ছেদে সম্পদের ভাগাভাগিতে রাতারাতি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী বনে যান ম্যাকেঞ্জি।

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তানে কঠোর শাসন কায়েম করছে তালেবান
তালেবানের কবজায় যুক্তরাষ্ট্রের সমরাস্ত্র
তালেবান শাসন চলা এলাকায় ৫ দিন

শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা তোলার চেষ্টা করব: রাইসি

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা তোলার চেষ্টা করব: রাইসি

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তোলার চেষ্টার কথা জানান ইরানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সদ্য নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট রাইসি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নিষ্ঠুর নিষেধাজ্ঞা তোলার চেষ্টা আমরা অবশ্যই করব। আমরা ইরানের জনগণের জীবনযাত্রা এবং অর্থনীতি শর্তের ভেতর আটকে থাকতে দেব না। দেশের ভবিষ্যৎ পশ্চিমাদের মর্জির ওপর নির্ভর করবে না।’

ক্ষমতা গ্রহণের পর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা কঠোর নিষেধাজ্ঞা তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সদ্য নির্বাচিত কট্টরপন্থি প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি।

পাশাপাশি দেশের অসন্তুষ্ট বিরোধী মতাবলম্বীদের সঙ্গে দূরত্ব কমাতে উদ্যোগ নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

টেলিভিশনে দেয়া বক্তব্যে মঙ্গলবার রাইসি এসব মন্তব্য করেন বলে আল-জাজিরা ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এদিন ইরানের অষ্টম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইব্রাহিম রাইসিকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।

ওই অনুষ্ঠান শেষে রাইসি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নিষ্ঠুর নিষেধাজ্ঞা তোলার চেষ্টা আমরা অবশ্যই করব।

‘আমরা ইরানের জনগণের জীবনযাত্রা এবং অর্থনীতি শর্তের ভেতর আটকে থাকতে দেব না। দেশের ভবিষ্যৎ পশ্চিমাদের মর্জির ওপর নির্ভর করবে না।’

৬০ বছর বয়সী রাইসি জানান, ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে পরাশক্তি দেশগুলোর সঙ্গে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় চলমান আলোচনা অব্যাহত রাখবেন তিনি।

২০১৫ সালে চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জয়েন্ট কম্প্রেহেন্সিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশন (জেসিপিওএ) নামে পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষর করে ইরান।

এতে বলা হয়, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিতকরণের বিনিময়ে দেশটির ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হবে।

বারাক ওবামার আমলের সেই চুক্তি থেকে একতরফাভাবে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

এরপরই ইরানের ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন।

পরমাণু চুক্তিতে ফেরা নিয়ে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ভিয়েনায় ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসে চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশগুলো।

আর ওই আলোচনায় পরোক্ষ অংশগ্রহণ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।

ভিয়েনায় চলমান আলোচনার বিষয়ে ইরান ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ২০১৫ সালের চুক্তিতে ফেরা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনও ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়নি।

এপ্রিলে শুরু হওয়া আলোচনা ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কারণে জুনে মুলতবি হয়। ওই তিন মাসে ছয়বার ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসে পশ্চিমা দেশগুলো।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে রাইসি আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণের পর আলোচনা ফের শুরুর কথা জানিয়েছিল ইরান।

তবে বৈঠকের পরবর্তী তারিখ এখন পর্যন্ত ঘোষণা করেনি কোনো পক্ষ।

বৃহস্পতিবার ইরানের অষ্টম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন রাইসি।

১৮ জুন ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জয় পান দেশটির কট্টর রক্ষণশীল ধর্মীয় নেতা ও প্রধান বিচারপতি ইব্রাহিম রাইসি।

ইরানে চার বছরের মেয়াদে টানা দুবার ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির স্থলাভিষিক্ত হবেন রাইসি।

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তানে কঠোর শাসন কায়েম করছে তালেবান
তালেবানের কবজায় যুক্তরাষ্ট্রের সমরাস্ত্র
তালেবান শাসন চলা এলাকায় ৫ দিন

শেয়ার করুন

পশ্চিমবঙ্গে বন্যায় ১৬ জনের মৃত্যু

পশ্চিমবঙ্গে বন্যায় ১৬ জনের মৃত্যু

পশ্চিমে বাঁকুড়া থেকে পূর্বে হাওড়া-- সর্বত্র বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে নদী। ভেসে গেছে অসংখ্য গ্রাম। ছবি: সংগৃহীত

মুখ্যমন্ত্রী মমতা মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বলেন, ‘নিজের জেলায় বানভাসিদের পাশে থেকে কাজ করুন। ত্রাণ যেন সময়মতো পৌঁছে দেয়া হয়, সেটা দেখুন। সমস্যা হলে ত্রাণমন্ত্রী জাভেদ খান ও পানিসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী মানস ভুঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।’ এ ছাড়া মৃতদের পরিবারপ্রতি এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মমতা।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে নিম্নচাপের কারণে অতিবৃষ্টিতে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। দেয়াল ভেঙে ও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মৃতদের পরিবারপ্রতি লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।

সোমবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজ্যের বন্যায় মৃতদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত দুর্গতদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণ তুলে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন অন্য মন্ত্রীদের বলেন, ‘নিজের জেলায় বানভাসিদের পাশে থেকে কাজ করুন। ত্রাণ যেন সময়মতো পৌঁছে দেয়া হয়, সেটা দেখুন। সমস্যা হলে ত্রাণমন্ত্রী জাভেদ খান ও পানিসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী মানস ভুঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।’

বৃষ্টি কিছুটা কমলেও বন্যা নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা দামোদর ভ্যালি করপোরেশনের (ডিভিসি) একাধিক জলাধার থেকে পানি ছাড়ার ফলে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ডিভিসির পাঞ্চেত ও মাইথন জলাধার থেকে প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ কিউসেক পানি ছাড়ার ফলে দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে দেড় লাখ কিউসেক পানি ছাড়তে হচ্ছে। ফলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বিপদের আশঙ্কায় ৩৯ হাজার ৩৮০ জনকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তাদের রাজ্যে তৈরি ৩৫০টি ত্রাণশিবিরে রাখা হয়েছে।

সোমবার হাওড়ার আমতা ও উদয় নারায়ণপুরের ১৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা সম্পূর্ণ পানির তলায় চলে যায়। এই দুটি ব্লকের আড়াই লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। উদ্ধারকাজ শুরু করেছে সরকার। রূপনারায়ণ ও মুন্ডেশ্বরী নদীতে পানির স্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় খানাকুলের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।

এখানকার পানিবন্দি ৩০ জনকে বিমানবাহিনীর হেলকপ্টার উদ্ধার করেছে। কংসাবতী ব্যারাজ থেকে পানি ছাড়ায় পাঁশকুড়া রানিহাটি এলাকার নদী বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে।

সোমবার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, দুই বর্ধমানের বন্যা পরিস্থিতি দেখতে যান রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় এবং সেচমন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র।

অন্য মন্ত্রীদের বন্যা পরিস্থিতির ওপর নজরদারি করার নির্দেশ দেয়ার পাশাপাশি নিজেও বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে যাবেন বলে সোমবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হেলিকপ্টারে দুর্গতদের সাহায্যের সঙ্গে ড্রোন উড়িয়ে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে প্রশাসন।

মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘ঘাটালে অনেকবার বন্যা পরিস্থিতি দেখতে এসেছি। এবার দেখছি ১৯৭৮ সালের চেয়েও অনেক বেশি ভয়াবহ। এ রকম পরিস্থিতি আগে কখনও দেখেনি।’

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তানে কঠোর শাসন কায়েম করছে তালেবান
তালেবানের কবজায় যুক্তরাষ্ট্রের সমরাস্ত্র
তালেবান শাসন চলা এলাকায় ৫ দিন

শেয়ার করুন

টিকা না নিলে ক্যাম্পে আটকে রাখতে বলেননি বাইডেন

টিকা না নিলে ক্যাম্পে আটকে রাখতে বলেননি বাইডেন

ভাইরাল হওয়া এই বার্তা ব্যঙ্গাত্মক নিবন্ধ থেকে নেয়া হয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা যায়। ছবি: ইন্ডিয়া টুডে

ওয়েবসাইটের হোমপেজের নিচের অংশে বলা হয়েছে, ‘দ্যস্টঙ্কমার্কেট.কম আর্থিকবিষয়ক ব্যঙ্গাত্মক সাইট। আর্থিক শিল্প, শেয়ারবাজার, হেজ ফান্ড ও বৈশ্বিক বাজার নিয়ে ব্যঙ্গাত্মকধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করাই এই ওয়েবসাইটের লক্ষ্য।’

করোনার ডেল্টা ধরনের প্রভাবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভাইরাসটির ফের ব্যাপক সংক্রমণ দেখা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।

এমন পরিস্থিতিতে ভাইরাল হওয়া এক বার্তায় দাবি করা হয়েছে, টিকা না নিলে কোয়ারেন্টিন ক্যাম্পে বন্দি করে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

ইন্ডিয়া টুডের অ্যান্টি ফেইক নিউজ ওয়ার রুম (এএফডব্লিউএ) এ দাবির সত্যতা অনুসন্ধান করে।

এতে দেখা যায়, ভাইরাল বার্তাটি ব্যঙ্গাত্মক এক নিবন্ধ থেকে নেয়া হয়েছে।

চলতি বছরের ১৭ জুন ‘দ্য স্টঙ্ক মার্কেট’ নামের এক ওয়েবসাইটে নিবন্ধটি প্রথম প্রকাশ হয়।

নিবন্ধটির শিরোনাম ছিল, ‘২০২২ সালের মধ্যে টিকা না নেয়া ব্যক্তিদের ক্যাম্পে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন।’

নিবন্ধে আরও বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের যেসব নাগরিক টিকা না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাদের কোয়ারেন্টিন ক্যাম্পে পুরবেন বাইডেন।

‘অনির্দিষ্টকাল ধরে তাদের ক্যাম্পেই আটকে রাখা হবে। টিকা নিলে তাদের ছেড়ে দেয়া হবে।’

করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে জরুরি পদক্ষেপের অংশ হিসেবে বাইডেন এ সিদ্ধান্ত নেন বলেও নিবন্ধটিতে উল্লেখ করা হয়।

নিজেদের পরিষ্কারভাবে ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই দাবি করে দ্য স্টঙ্ক মার্কেট ওয়েবসাইট।

ওয়েবসাইটের হোমপেজের নিচের অংশে বলা হয়েছে, ‘দ্যস্টঙ্কমার্কেট.কম আর্থিকবিষয়ক ব্যঙ্গাত্মক সাইট।

‘আর্থিক শিল্প, শেয়ারবাজার, হেজ ফান্ড ও বৈশ্বিক বাজার নিয়ে ব্যঙ্গাত্মকধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করাই এ ওয়েবসাইটের লক্ষ্য।’

করোনার ডেল্টা ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের জনস্বাস্থ্য সংস্থা রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) দেশটির স্বাস্থ্যকর্মীদের টিকা নেয়া বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করেছে।

পাশাপাশি টিকা নেয়া ব্যক্তিদেরও চার দেয়ালের ভেতর যেকোনো জনসমাগমস্থলে মাস্ক পরার নির্দেশনা জারি করেছে সিডিসি।

এর আগে চার দেয়ালের ভেতর টিকা নেয়া ব্যক্তিদের মাস্ক পরার প্রয়োজন নেই বলে নিজেদের নির্দেশনায় বলেছিল সংস্থাটি।

তবে করোনার ডেল্টা ধরনের প্রকোপে নির্দেশনায় পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয় সিডিসি।

বিশেষজ্ঞদের বরাতে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে সম্প্রতি বলা হয়, করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় বাধ্যতামূলক টিকা নীতি যৌক্তিক পদক্ষেপ হতে পারে।

তবে এখন পর্যন্ত নাগরিকদের জন্য করোনা টিকা বাধ্যতামূলক করেনি যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন।

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তানে কঠোর শাসন কায়েম করছে তালেবান
তালেবানের কবজায় যুক্তরাষ্ট্রের সমরাস্ত্র
তালেবান শাসন চলা এলাকায় ৫ দিন

শেয়ার করুন

চীনে বন্যায় প্রাণহানি ৩ গুণ বেড়ে ৩০২

চীনে বন্যায় প্রাণহানি ৩ গুণ বেড়ে ৩০২

চীনের ঝেংঝৌতে বন্যার পানির তোড়ে উল্টেপাল্টে পড়ে আছে গাড়ি। ছবি: এএফপি

১৭ জুলাই থেকে মাত্র তিন দিনে ৬১৭ দশমিক ১ মিলিমিটার বা ২৪ দশমিক ৩ ইঞ্চি বৃষ্টি রেকর্ড করে ঝেংঝৌ। শহরটিতে বার্ষিক গড় বৃষ্টি ৬৪০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বা ২৫ দশমিক ২ ইঞ্চি। গত এক হাজার বছরে চীনে এত বৃষ্টি আর হয়নি বলে সে সময় জানায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

চীনের মধ্যাঞ্চলীয় হেনান প্রদেশে গত মাসের বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০২ জনে, যা গত সপ্তাহে হালনাগাদকৃত তথ্যের প্রায় তিন গুণ বেশি। এখনও নিখোঁজ অর্ধশতাধিক মানুষ।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, বন্যায় সবচেয়ে বিপর্যস্ত প্রাদেশিক রাজধানী ঝেংঝৌ। শহরটিতে বন্যায় মারা গেছে কমপক্ষে ২৯২ জন, নিখোঁজ ৪৭ জন। প্রদেশের অন্যান্য শহরে নিখোঁজ আরও তিনজন।

স্থানীয় সরকার সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, সোয়া এক কোটি বাসিন্দার শহর ঝেংঝৌতে অন্যান্য সময়ে সারা বছরে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়, জুলাইয়ে মাত্র তিন দিনেই সে পরিমাণ বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে সেখানে।

১৭ জুলাই থেকে মাত্র তিন দিনে ৬১৭ দশমিক ১ মিলিমিটার বা ২৪ দশমিক ৩ ইঞ্চি বৃষ্টি রেকর্ড করে ঝেংঝৌ। শহরটিতে বার্ষিক গড় বৃষ্টি ৬৪০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বা ২৫ দশমিক ২ ইঞ্চি।

গত এক হাজার বছরে চীনে এত বৃষ্টি আর হয়নি বলে সে সময় জানায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় পাতাল রেল, মাটির নিচে গাড়ি পার্কিং এলাকা আর সুড়ঙ্গ সড়ক ডুবে যায় পানিতে। আটকা পড়ে কয়েক হাজার মানুষ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে ডুবে যাওয়া রাস্তাঘাট, বন্যার পানির তোড়ে ভেসে আসা ধ্বংসস্তূপ, আর সাবওয়ে স্টেশনে গলা পানিতে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের উদ্ধারের অপেক্ষায় থাকার দৃশ্য দেখা গেছে।

মেয়র হৌ হং সাংবাদিকদের জানান, গাড়িং পার্কিংসহ বিভিন্ন বেজমেন্ট থেকে ৩৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পাতাল রেলে পানিতে আটকে প্রাণ গেছে ১৪ জনের।

কিছুদিন আগে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত লুওইয়াং শহরে একটি বাঁধ বন্যায় ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় সেনা মোতায়েন করা হয় সেখানে। বাঁধটিতে ৬৫ ফুট দীর্ঘ ফাটল সৃষ্টি হয়েছে।

অতিবৃষ্টি, বন্যা, খরাসহ সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতাকে দায়ী করেছেন পরিবেশবিদরা।

গত দুই সপ্তাহে বিরূপ আবহাওয়ার সাক্ষী হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল। ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চল, এশিয়ায় চীন, ভারত, আফগানিস্তান, আফ্রিকায় নাইজার বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দাবদাহ ও দাবানলে বিপর্যস্ত উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপ।

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তানে কঠোর শাসন কায়েম করছে তালেবান
তালেবানের কবজায় যুক্তরাষ্ট্রের সমরাস্ত্র
তালেবান শাসন চলা এলাকায় ৫ দিন

শেয়ার করুন