ইরাকে হাসপাতালে আগুনে মৃত্যু বেড়ে ৯২

ইরাকে হাসপাতালে আগুনে মৃত্যু বেড়ে ৯২

ইরাকে হাসপাতালে আগুনে স্বজন হারানো মানুষের আর্তি। ছবি: এএফপি

ইরাকের প্রেসিডেন্ট মঙ্গলবার দুটি দুর্ঘটনার জন্যই দুর্নীতিকে দায়ী করেছেন। জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে।

ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাসিরিয়া শহরে হাসপাতালের করোনাভাইরাস আইসোলেশন ওয়ার্ডে আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২ জনে।

আল-হোসেন হাসপাতালে সোমবার রাতের আগুনে অগ্নিদগ্ধ ও আহত হয়েছে আরও শতাধিক মানুষ। প্রাণহানি বাড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রশাসনের।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, এ অবস্থায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন ক্ষুব্ধ স্বজনরা। এমনকি হাসপাতালটিতে কর্মরত এক চিকিৎসকও এই অভিযোগ করেছেন।

প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি অক্সিজেন ট্যাংকে ত্রুটি থেকে প্রথমে ট্যাংকটি বিদ্যুতায়িত ও পরে এটি বিস্ফোরণ হয়। সেখান থেকেই লাগে আগুন, যা দ্রুত ছড়িয়ে পরে পুরো ওয়ার্ডে।

তিন মাসের মধ্যে ইরাকে এটি এ ধরনের দ্বিতীয় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। দেশটির প্রেসিডেন্ট মঙ্গলবার দুটি দুর্ঘটনার জন্যই দুর্নীতিকে দায়ী করেছেন। জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে।

আল-হোসেন হাসপাতালের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক রয়টার্সকে বলেন, ‘হাসপাতালে আগুন নেভানোর যন্ত্র বা ফায়ার অ্যালার্ম কিছুই নেই। গত তিন মাসে অনেকবার বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছি আমরা যে, একটা সিগারেট থেকেও যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

‘প্রতিবার জবাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটা কথাই বলেছে যে, তাদের কাছে টাকা নেই। হাসপাতালে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব মানে দুর্ঘটনাকে হাতে ধরে স্বাগত জানানো হচ্ছে।’

কিছু মরদেহ দাফনের জন্য স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ২০টি মরদেহ এমনভাবে পুড়ে গেছে যে পরিচয় শনাক্তের জন্য ডিএনএ টেস্টের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

চলতি বছরের এপ্রিলে রাজধানী বাগদাদের একটি হাসপাতালে অক্সিজেন ট্যাংক বিস্ফোরণে প্রাণ যায় কমপক্ষে ৮২ জনের। ওই ঘটনার জেরে পদত্যাগ করেছিলেন ইরাকের তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসান আল-তামিমি।

ইরাকের আধা-সরকারি মানবাধিকার কমিশনের প্রধান আলি বায়াতি বলেন, ‘সোমবারের এ দুর্ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে যে যুদ্ধ আর নিষেধাজ্ঞায় বিপর্যস্ত ইরাকের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কতটা ভঙ্গুর। ন্যূনতম নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নেই বেশিরভাগ হাসপাতালে।

‘কয়েক মাস পরপর এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার অর্থ হলো এখনও পর্যাপ্ত প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা আমাদের নেই।’

হাসপাতালের একেকটি ওয়ার্ডকে আলাদা করতে ইট-পাথরের দেয়ালের বদলে হালকা প্যানেল ব্যবহার করা হয়। এতে আগুন আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের প্রধান সালাহ জব্বার।

আগুনের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী মুস্তাফা আল-খাদিমির নির্দেশের নাসিরিয়ার স্বাস্থ্য ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা আর আল-হোসেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপকদের সোমবার বরখাস্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সরকারি অনুসন্ধান কর্মকর্তারা মঙ্গলবার আল-হোসেন হাসপাতালে পৌঁছেছেন। এক সপ্তাহের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন তারা।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে স্থানীয় প্রশাসনের ১৩ জন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের আদেশ দিয়েছে নাসিরিয়ার একটি আদালত।

আরও পড়ুন:
ইরাকে হাসপাতালে আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪
হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে আগুন, অর্ধশতাধিক মৃত্যু
ইরাক-সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ওপর দফায় দফায় হামলা
বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কাছে ড্রোন ভূপাতিত
ইরাকে শরণার্থী শিবিরে তুরস্কের বিমান হামলা, নিহত ৩

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কলকাতায় শেখ কামালের জন্মদিন পালন

কলকাতায় শেখ কামালের জন্মদিন পালন

কলকাতায় পালন হয়েছে শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের জন্মদিন। ছবি: সংগৃহীত

উপহাইকমিশনার তৌফিক হাসান বলেন, ‘বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী, তারুণ্যের প্রতীক ছিলেন শেখ কামাল। প্রধানমন্ত্রীর ছেলে হলেও তার মধ্যে কোনো অহমিকা ছিল না। তিনি ছিলেন মার্জিত, বিনয়ী, বন্ধুবৎসল ও উপকারী। সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশের তরুণ সমাজের বিকাশে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি চর্চার উদ্বুদ্ধকরণে তার ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।’

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭২তম জন্মদিন পালন হয়েছে।

কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের বাংলাদেশ গ্যালারিতে বৃহস্পতিবার এই জন্মদিনের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

এদিন শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করেন বিশিষ্টজনেরা।

উপহাইকমিশনার তৌফিক হাসান তার স্বাগত ভাষণে বলেন, ‘বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী, তারুণ্যের প্রতীক ছিলেন শেখ কামাল। প্রধানমন্ত্রীর ছেলে হলেও তার মধ্যে কোনো অহমিকা ছিল না।

‘তিনি ছিলেন মার্জিত, বিনয়ী, বন্ধুবৎসল ও উপকারী। সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশের তরুণ সমাজের বিকাশে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি চর্চার উদ্বুদ্ধকরণে তার ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।’

প্রখ্যাত সাংবাদিক সুখরঞ্জন দাশগুপ্ত বলেন, ‘শেখ কামাল একজন সৌম্য, সজ্জন ব্যক্তি ছিলেন। সংস্কৃতির বিভিন্ন শাখায় তার অবাধ বিচরণ ছিল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানীর এডিসি ছিলেন তিনি। বসতেন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের অস্থায়ী কার্যালয় কলকাতার ৮ নম্বর থিয়েটার রোডে, বর্তমানে যা শেকসপিয়ার সরণি।’

কাউন্সিলর (শিক্ষা ও ক্রীড়া) রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল ছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর অন্যতম সংগঠক।’

উপহাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব (কাউন্সিলর) রাসেল জমাদার বলেন, ‘শেখ কামালের জন্ম ও কর্মময় জীবন আমাদের কাছে অতুলনীয়। কারণ সততার কষ্টিপাথরে তিনি ছিলেন অনন্য।’

কাউন্সিলর মোহাম্মদ বশির উদ্দিন বলেন, ‘শেখ কামাল ছিলেন মুক্তমনা। বঙ্গবন্ধুর সন্তান হওয়ায় স্বাধীনতা বিরোধী ঘাতকচক্রের নির্মম অত্যাচারের শিকার হন শেখ কামাল।’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকদের বুলেটের আঘাতে শেখ কামাল শহিদ হন।

শেখ কামালের রাজনৈতিক সহকর্মী সুবীর হোমরায় তার স্মৃতিচারণায় বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানের ছাত্র শেখ কামাল ছিলেন ভালো ক্রিকেটার, নাট্যকর্মী, সংগীত অনুরাগী এবং উজ্জ্বল ছাত্রনেতা। তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি একজন মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ ছিলেন।’

উপহাইকমিশনের বাংলাদেশ গ্যালারিতে শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের অবদান নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়।

আরও পড়ুন:
ইরাকে হাসপাতালে আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪
হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে আগুন, অর্ধশতাধিক মৃত্যু
ইরাক-সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ওপর দফায় দফায় হামলা
বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কাছে ড্রোন ভূপাতিত
ইরাকে শরণার্থী শিবিরে তুরস্কের বিমান হামলা, নিহত ৩

শেয়ার করুন

শপথ নিলেন ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট রাইসি

শপথ নিলেন ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট রাইসি

ইরানে চলতি বছরের জুনে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হন সাবেক বিচার বিভাগীয় প্রধান ইব্রাহিম রাইসি। ফাইল ছবি

গত জুনের নির্বাচনে জয়ী হন অতি রক্ষণশীল রাইসি। ওই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল উল্লেখযোগ্য রকমের কম। নানা নিষেধাজ্ঞায় নির্বাচন বর্জন করেছিলেন অনেক হেভিওয়েট ও সংস্কারপন্থি প্রার্থী।

ইরানের অষ্টম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন ইব্রাহিম রাইসি। ক্ষমতায় এসেই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় বিপর্যস্ত অর্থনীতি, ভঙ্গুর স্বাস্থ্যখাত আর ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তিতে ফেরা নিয়ে স্থবির আলোচনাসহ বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাকে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, পার্লামেন্টে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় শপথ নেন রাইসি। আগামী চার বছরের জন্য গ্রহণ করেন দেশের জনগণের নেতৃত্বভার।

দুই সপ্তাহের বেঁধে দেয়া সময় শেষের দিকে বলে একই দিন প্রস্তাবিত নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ঘোষণারও কথা রয়েছে তার।

ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়, রাইসির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকায় ছিলেন ইরাকের প্রেসিডেন্ট আর নাইজার, সিরিয়া, তাজিকিস্তান, তানজানিয়া ও উজবেকিস্তানের পার্লামেন্ট স্পিকারসহ দেশ-বিদেশের বেশ কয়েকজন পররাষ্ট্রবিষয়ক কর্মকর্তা।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি গত মঙ্গলবার সাবেক বিচার বিভাগীয় প্রধান রাইসিকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেন। এরপরই তার নিয়োগদান প্রক্রিয়া শুরু হয়।

চলতি বছরের জুনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়ী হন অতি রক্ষণশীল রাইসি। উল্লেখযোগ্য রকমের কম ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ওই নির্বাচনে। নানা নিষেধাজ্ঞায় নির্বাচন বর্জন করেছিলেন অনেক হেভিওয়েট ও সংস্কারপন্থি প্রার্থী।

যেসব চ্যালেঞ্জ নিয়ে ক্ষমতায় রাইসি

মধ্যপন্থি হাসান রুহানির উত্তরসূরী রাইসি। ২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে আট বছরের শাসনামলে রুহানির ঐতিহাসিক অর্জন ছিল ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি। ইসলামিক প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্রটির সঙ্গে ওই চুক্তির মাধ্যমে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছিল ছয় বিশ্বশক্তি।

কিন্তু ২০১৮ সালে একতরফা সিদ্ধান্তে চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাম প্রত্যাহার করেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, পুনর্বহাল করেন কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। এতে নতুন করে সংকট শুরু হয় ইরানের অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থায়।

আরব সাগরে গত এক সপ্তাহে ইসরায়েলের একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা ও পানামার পতাকাবাহী অপর একটি ট্যাংকার ছিনতাই হয়। এসব ঘটনায় এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের তোপের মুখে পড়েছেন ৬০ বছর বয়সী রাইসি।

দুটি ঘটনাতেই পশ্চিমা বিশ্বের সন্দেহের তির ইরানের দিকে হলেও অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে তেহরান।

পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনা

তেহরানে বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতিক ও পরমাণু চুক্তি আলোচনার অন্যতম প্রতিনিধি এনরিক মোরা।

রাইসির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনিও আমন্ত্রিত।

পরমাণু চুক্তি নতুন করে বাস্তবায়নের চেষ্টায় অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ইরান ও বিশ্বশক্তিগুলোর মধ্যে ছয় দফা আলোচনা হয়েছে। গত ২০ জুন শেষ বৈঠকের পর পরবর্তী বৈঠকের তারিখ এখনও অনির্ধারিত।

রাইসি জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের উপায় খুঁজবে তার সরকার। কিন্তু বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর ইচ্ছায় বাঁচবে না তার দেশ।

অর্থনীতি পুনরুদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে তেল রপ্তানি বাধার মুখে পড়ায় ২০১৮ ও ২০১৯ সালে ছয় শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হারিয়েছে ইরানের অর্থনীতি।

নজিরবিহীন মুদ্রাস্ফীতি, আকাশছোঁয়া আবাসন খরচ, বেসরকারি খাতে মন্দা ও দুর্নীতিতেও বিপর্যস্ত গোটা ইরান।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণেও কঠিন সময় পার করছে ইরান। ছোঁয়াচে এ ভাইরাসে মধ্যপ্রাচ্যের সবচয়ে বিপর্যস্ত দেশটিতে প্রাণহানি ৯২ হাজারের বেশি, শনাক্ত ৪০ লাখের বেশি। টিকা কার্যক্রমে গতি নিয়ে চাপের মুখে আছে ইরান সরকার।

পানি, বিদ্যুৎ আর নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে সম্প্রতি আবারও ফুঁসে উঠেছে ইরানের জনতা।

পানির তীব্র সংকটের মুখে গণবিক্ষোভের কারণেও সংবাদের শিরোনামে উঠে আসে ইরান। পানিবিদ্যুৎ প্রকল্পের কারণে সৃষ্ট খরায় পানির সংকট দেখা দিয়েছে বলে পরস্পরকে দুষছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারাই।

এসব সংকটের দ্রুত সমাধানই রাইসি প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শপথ অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো ঢাকার প্রতিনিধি

ইরানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সাইয়্যেদ ইব্রাহিম রাইসির শপথের মতো এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের ভ্রাতৃপ্রতিম অন্য রাষ্ট্রগুলোর মতো ইরানের সঙ্গেও স্বাভাবিক সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ। আর এ জন্যই দেশটির নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সাইয়্যেদ ইব্রাহিম রাইসির শপথ অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো তেহরানে প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে ঢাকা।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ৩ সদস্যের ওই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ইরানের নতুন নেতৃত্বের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ বার্তা নিয়ে গেছেন তারা।

আরও পড়ুন:
ইরাকে হাসপাতালে আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪
হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে আগুন, অর্ধশতাধিক মৃত্যু
ইরাক-সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ওপর দফায় দফায় হামলা
বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কাছে ড্রোন ভূপাতিত
ইরাকে শরণার্থী শিবিরে তুরস্কের বিমান হামলা, নিহত ৩

শেয়ার করুন

পেগাসাস নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

পেগাসাস নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

আইনজীবী কপিল সিবল আদালতে বলেন, ‘সংসদে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির প্রশ্নের উত্তরে সরকার জানিয়েছে, ভারতে ১২১ জনের টেলিফোনে আড়িপাতা হয়েছিল। কিন্তু আরও তথ্য জানতে হলে তদন্তের নির্দেশ দেয়া উচিত।’

ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার পেগাসাসের মাধ্যমে ফোনে আড়িপাতার অভিযোগ উঠেছে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে অভিযোগের স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়ে একাধিক মামলা হয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্টে।

বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতে ছিল ওই মামলার শুনানি। এদিন সুপ্রিম কোর্ট জানায়, যদি পেগাসাসকে নিয়ে প্রতিবেদন সত্য হয়, তাহলে অভিযোগ সত্যিই গুরুতর। আবেদনকারীদের আবেদনের কপি কেন্দ্রীয় সরকারকে দেয়ার কথা জানিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার আবার এই মামলার শুনানি হবে।

এদিন সাংবাদিক এন রামের পক্ষে শুনানি শুরু করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবল। প্রধান বিচারপতি এন ভি রমন মামলাকারী আইনজীবী এমএল শর্মাকে বলেন, ‘আপনি প্রথম মামলা করেছেন। কিন্তু প্রবীণ আইনজীবী হিসেবে সিবলকে প্রথম সুযোগ দেয়া হোক।’

সুপ্রিম কোর্টে পেগাসাস মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি এন ভি রমন এবং বিচারপতি সূর্য কান্তের ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, অভিযোগ অত্যন্ত মারাত্মক। সত্যিটা বের করে আনতে হবে। তবে ঠিক কাদের নাম ওই তালিকায় রয়েছে সেটি জানা নেই। শুধুমাত্র সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মামলা হয় না। কোথাও কোনো অপরাধীর বিরুদ্ধে অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে কী? যাদের নাম উঠে আসছে, তারা অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং ক্ষমতাবান মানুষ।

প্রধান বিচারপতি এনভি রমন বলেন, ‘মামলার নথিতে কোনো তথ্য নেই সেটি বলা যাবে না। কিন্তু আরও অনেক তথ্যের প্রয়োজন।’

এদিন সুপ্রিম কোর্টে মোট নয়টি আলাদা মামলার শুনানি হয়। আবেদনকারীদের মধ্যে ছিলেন সাংবাদিক এন রাম ও শশী কুমার। আবেদন করেছিল এডিটরস গিল্ড অফ ইন্ডিয়াও। প্রধান বিচারপতি এনভি রামণ ও বিচারপতি সূর্যকান্তের বেঞ্চে এদিন এই মামলার শুনানি হয়।

আইনজীবী কপিল সিবল আদালতকে বলেন, ‘শুধু একটি ফোনের মাধ্যমে যে কোনো মানুষের ব্যক্তিগত পরিসরে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। এটি ব্যক্তি সুরক্ষার পাশাপাশি জাতীয় সুরক্ষার বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘কারা এই স্পাইওয়্যার কিনেছে? কত টাকা খরচ হয়েছে? কোন হার্ডওয়ারে জমা হয়েছে তথ্য? গোটা বিষয়ে আদালতের নজরদারিতে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হোক।’

সাংবাদিক এন রাম ও শশী কুমারের আইনজীবী কপিল সিবল আদালতে আরও বলেন, ‘সংসদে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির প্রশ্নের উত্তরে সরকার জানিয়েছে, ভারতে ১২১ জনের টেলিফোনে আড়িপাতা হয়েছিল। কিন্তু আরও তথ্য জানতে হলে তদন্তের নির্দেশ দেয়া উচিত।’

এরপরই বিচারপতি দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলেন।

প্রথমত কেন আবেদনকারীরা কোনো এফআইআর করেননি? দ্বিতীয়ত যে পেগাসাস নিয়ে ২০১৯ সালে অভিযোগ সামনে এসেছে সেটি নিয়ে দুই বছর পর কেন মামলা হল? শুধুমাত্র সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে মামলা হয়েছে।

বিচারপতির দাবি, আবেদনকারীদের আরও বেশি তথ্য দিতে হবে।

কেন এফআইআর করা হয়নি ওই প্রশ্নের উত্তরে আইনজীবী কপিল সিবল বলেন, ‘যেহেতু পেগাসাস কোনো দেশের সরকারকেই শুধু বিক্রি করা হয়, তাই আলাদা কোনো ব্যক্তির কাছে এ সংক্রান্ত তথ্য নেই।’

দুই বছর পর কেন মামলা হল এ প্রসঙ্গে সিবল জানান, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই এ মামলা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘২০১৯ সালেই এই প্রতিবেদন এসেছিল।’

সিবলের জবাব, তখনও এই স্পাইওয়্যারের বিস্তৃতি সম্পর্কে জানা ছিল না। পরবর্তী শুনানির দিন কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ কাউকে হাজির হতে হবে।

ঘণ্টাখানেকের শুনানিতে এমনটাই জানিয়েছে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। বেশ কয়েকজন আবেদনকারী ইতোমধ্যেই কেন্দ্রীয় সংস্থাকে নোটিশ দিলেও এদিনের শুনানিতে সরকারের পক্ষ থেকে কেউ হাজির ছিলেন না।

আরও পড়ুন:
ইরাকে হাসপাতালে আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪
হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে আগুন, অর্ধশতাধিক মৃত্যু
ইরাক-সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ওপর দফায় দফায় হামলা
বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কাছে ড্রোন ভূপাতিত
ইরাকে শরণার্থী শিবিরে তুরস্কের বিমান হামলা, নিহত ৩

শেয়ার করুন

ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের কিডনি বিনিময়

ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের কিডনি বিনিময়

ফিলিস্তিনি শিশুকে কিডনি দিয়ে জীবন বাঁচানো ইসরায়েলি নারী ইদিত হারেল সেগাল। ছবি: আরব নিউজ

যেদিন সন্তানের দেহে এক ইসরায়েলির কিডনি প্রতিস্থাপিত হয়েছে, সেদিনই ফিলিস্তিনি বাবাও নিজের কিডনি দান করেন ২৫ বছর বয়সী এক ইসরায়েলি তরুণীকে। এ ঘটনাকে বিশ্বের সবচেয়ে বৈরী সম্পর্কের দুটি পক্ষের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইসরায়েলের নাগরিক ইদিত হারেল সেগাল বিশেষ কিছু করে নিজের ৫০তম জন্মদিন উদযাপন করতে চেয়েছিলেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, অপরিচিত কোনো মৃত্যুপথযাত্রীকে একটি কিডনি দান করবেন তিনি।

কিডনি প্রয়োজন, এমন একজন মানুষ খুঁজে বের করতে এবং তাকে কিডনি দানের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্নে প্রায় ৯ মাস সময় লেগেছে সেগালের।

আরব নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়, শেষ পর্যন্ত কিডনির প্রয়োজন এমন কাউকে খুঁজে পান সেগাল। তার কিডনি গ্রহীতা হলো ফিলিস্তিনি এক শিশু; যে ফিলিস্তিনের সঙ্গে ইসরায়েলের দ্বন্দ্ব-সহিংসতার ইতিহাস কয়েক দশকের।

সেগালের কিডনি নেয়া তিন বছরের ছোট্ট শিশুটি ইসরায়েল কর্তৃক অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার বাসিন্দা।

পেশায় কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষক সেগাল নিজেকে একজন গর্বিত ইসরায়েলি বলে জানান। জন্মলগ্ন থেকে সীমান্ত নিয়ে অব্যাহত বিতর্ক, সংঘাতে জড়িয়ে থাকা ইসরায়েলের এই নাগরিক উদারতার উদাহরণ দাঁড় করাতে চেয়েছিলেন, তা পেরেছেনও।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসিদের ইহুদিবিরোধী বর্বরতার শিকার প্রয়াত দাদার স্মৃতিতে উদ্দীপ্ত সেগাল। তাকে অর্থপূর্ণ জীবন গড়ে তোলার উপদেশ দিয়ে গিয়েছিলেন দাদাই। বলেছিলেন, ইহুদি ধর্মের শিক্ষায় অন্যের জীবন বাঁচানোর চেয়ে বড় কোনো দায়িত্ব হয় না। সেই উপদেশ আমলে নিয়েই কিডনিদাতা ও গ্রহীতাদের প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরু করেন তিনি। এর মাধ্যমেই খোঁজ পান ফিলিস্তিনি শিশুটির।

ইসরায়েলি নাগরিকের সাহায্য দেয়া-নেয়া স্পর্শকাতর বিষয় বলে শিশুটির নাম-পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ করেছেন তার মা-বাবা।

এই কিডনি বিনিময় প্রক্রিয়ায় সমন্বয়ে সহযোগিতা করেছে জেরুজালেমভিত্তিক বেসরকারি সাহায্য সংস্থা মাতনাত শাইম।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী শ্যারোনা শারম্যান জানান, গাজার শিশুটি ভীষণ অসুস্থ ছিল। তাকে বাঁচাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে ইসরায়েলি দাতার কাছ থেকে কিডনি নেয়ার বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বলে। শিশুটির সঙ্গে কিডনি ‘ম্যাচ’ না করায় নিজের কিডনি দিতে পারেননি বাবা।

তবে যেদিন সন্তানের দেহে এক ইসরায়েলির কিডনি প্রতিস্থাপিত হয়েছে, সেদিনই ফিলিস্তিনি শিশুটির বাবাও নিজের কিডনি দান করেন ২৫ বছর বয়সী এক ইসরায়েলি তরুণীকে। ওই তরুণীও দুই সন্তানের মা।

সেগালের কিডনিতে শিশুটির জীবন বেঁচে যাওয়ায় এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে শিশুটির বাবার এক ইসরায়েলিকে কিডনি দেয়ার ঘটনায় বিশ্বের সবচেয়ে বৈরী সম্পর্কের দুটি পক্ষের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ফিলিস্তিনি বাবার কিডনি দান করাকে বেশ ভালোভাবেই গ্রহণ করছেন ইসরায়েলিরা। ঘটনাটিকে তারা দেখছেন, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দানে অঞ্চল দুটির মানুষের উৎসাহ বৃদ্ধির সুযোগ হিসেবে।

অস্ত্রোপচারের আগে ফিলিস্তিনি শিশুটির মা-বাবার সঙ্গে দেখা করেছেন সেগাল, তাদের মধ্যে এখনও যোগাযোগও আছে।

ফিলিস্তিনি শিশুটিকে কিডনির সঙ্গে একটি চিঠিও দিয়েছেন সেগাল। হিব্রু ভাষায় লেখা চিঠিতে শিশুটির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তুমি আমাকে চিনবে না। কিন্তু খুব শিগগিরই এক সুতোয় বাঁধা পড়ব আমরা, তোমার শরীরে আমার কিডনি থাকবে যখন।

‘আমি মনেপ্রাণে চাই, এই অস্ত্রোপচার সফল হোক, তুমি বেঁচে যাও। তুমি দীর্ঘকাল বেঁচে থেকো, সুস্থ থেকো, অর্থবহুল জীবন হোক তোমার।’

চলতি বছরের মে মাসেই সবশেষ সহিংসতায় জড়ায় ইসরায়েল-ফিলিস্তিন। ইসরায়েলের ১১ দিনের বিমান হামলায় গাজা উপত্যকাসহ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাণ যায় আড়াই শর বেশি মানুষের, যাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন ও গাজার শাসক দল হামাসের রকেট হামলায় ইসরায়েলি ভূখণ্ডেও প্রাণ যায় ১৩ জনের।

ওই সহিংসতার পরপরই, গত ১৬ জুন ফিলিস্তিনি শিশুটির দেহে সেগালের কিডনি প্রতিস্থাপন হয়।

সেগাল লিখেছেন, ‘আমি আমার ক্ষোভ আর হতাশা বিসর্জন দিয়েছি। সামনে কেবল শান্তি আর ভালোবাসা দেখেছি। আমাদের মতো আরও অনেক মানুষ এগিয়ে এলে একসময় লড়াই করার জন্য আর কোনো কারণ পাব না আমরা।’

ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের রক্তক্ষয়ী ইতিহাসের কারণে ফিলিস্তিনি শিশুকে কিডনি দান করার সিদ্ধান্ত নেয়া খুব একটা সহজ ছিল না সেগালের জন্য। এ জন্য পরিবারের সদস্যদের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। তার স্বামী ও তিন সন্তানের মধ্যে বড় সন্তান সেগালের এ সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধী ছিলেন। সেগালের বাবাও মেয়ের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। অস্ত্রোপচারের আগ মুহূর্তে অবশ্য পুরো পরিবারকেই পাশে পেয়েছিলেন তিনি।

তাদের কাছে মনে হয়েছিল, অযথাই নিজের জীবন বিপণ্ন করছেন সেগাল। বিশেষ করে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংঘাতে সেগালের দাদা-দাদিসহ তিন স্বজনের মৃত্যুর ইতিহাস পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলেছিল।

সেগাল বলেন, ‘পরিবারের প্রতিটি মানুষ আমার বিরুদ্ধে ছিলেন। স্বামী, বোন, বোনের স্বামী। ন্যূনতম যেটুকু সমর্থন শেষ দিকে পেয়েছি, সেটা বাবাই দিয়েছেন। তারা ভয় পেয়েছিলেন।’

ইসরায়েলের উত্তরে ইশার এলাকায় একটি পাহাড়ের চূড়ায় নিজ বাড়িতে বসে সেগাল জানান, শিশুটির পরিচয় জানার পর কয়েক মাস কাউকে কিছু বলেননি তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়েছিল যে কিডনি দিচ্ছি জানার প্রতিক্রিয়াই যদি এমন হয়, তাহলে যে শিশুটি কিডনি নিচ্ছে, তার পরিবারের সদস্যদের জন্য হয়তো পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে যাবে।’

২০০৭ সালে গাজার নিয়ন্ত্রণ নেয় ইসরায়েলের অস্তিত্ববিরোধী হামাস। তখন থেকেই উপত্যকা অঞ্চলটি কঠোরভাবে অবরোধ করে রেখেছে ইসরায়েল। অবরোধের কারণে দারিদ্র্যে জর্জরিত ফিলিস্তিনিরা; ভঙ্গুর তাদের স্বাস্থ্য-শিক্ষাসহ প্রায় সব খাত। এ পর্যন্ত চারটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জড়িয়েছে চিরশত্রু পক্ষ দুটি।

দাতার স্বেচ্ছায় অঙ্গ দানের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্নের কারণে বিশ্বের অনেক দেশেই পারস্পরিক অঙ্গ প্রতিস্থাপনের অনুমতি নেই। একটি নীতিতেই অঙ্গ দানের পুরো প্রক্রিয়াটি ঘটে। আর তা হলো, দাতা স্বেচ্ছায় নিজের অঙ্গ দান করবেন, কিন্তু বিনিময়ে কিছু পাবেন না।

আরও পড়ুন:
ইরাকে হাসপাতালে আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪
হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে আগুন, অর্ধশতাধিক মৃত্যু
ইরাক-সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ওপর দফায় দফায় হামলা
বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কাছে ড্রোন ভূপাতিত
ইরাকে শরণার্থী শিবিরে তুরস্কের বিমান হামলা, নিহত ৩

শেয়ার করুন

সৌদি নারীদের হাতের মুঠোয় আকাশ জয়ের স্বপ্ন

সৌদি নারীদের হাতের মুঠোয় আকাশ জয়ের স্বপ্ন

উড়োজাহাজের কাজে দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন সৌদি নারীরা। ছবি: আরব নিউজ

সৌদি আরবের কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিয়াজি বলেন, ‘ছেলেবেলায় উড়োজাহাজে ওঠার পর প্রতিবার পাইলটের কেবিনে উঁকি দেয়ার চেষ্টা করতাম। একবার এক জাদুঘরে পাইলটের কেবিনে ঢুকেছিলাম। সেদিনই বুঝতে পারি, পাইলট হওয়াই আমার জীবনের লক্ষ্য।’

খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, যখন ক্যারিয়ার বাছাইয়ের চিন্তা করলে উড়োজাহাজে কাজ করা সবার তলানিতে রাখতেন সৌদি আরবের নারীরা।

এমন নয় যে উড়োজাহাজে ঘুরে দেশ-বিদেশ দেখতে ইচ্ছা করত না তাদের।

ইচ্ছা থাকলেও স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে পারতেন না সৌদি তরুণীরা, কারণ উড়োজাহাজের কাজে পুরুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ ও নারীর অংশগ্রহণে সমাজের প্রতিবন্ধকতা।

তবে দেশটির কার্যত নেতা যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) গত কয়েক বছরে নারীর ক্ষমতায়নসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে সংস্কারকাজ করায় সৌদি নারীরা আকাশ জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন।

ফ্লাইট ক্রু থেকে শুরু করে বিমান চালানো- কোনো ক্ষেত্রেই আজ পিছিয়ে নেই সৌদি নারীরা। তারা এখন পাইলট হওয়ার স্বপ্নে বিভোর।

এরই মধ্যে দেশ-বিদেশে দক্ষতার সঙ্গে বিমান চালাচ্ছেন হানাদি জাকারিয়া আল-হিন্দি, রাউইয়া আল-রিফি, ইয়াসমিন আল-মাইমানির মতো সৌদি নারীরা।

এই নামগুলো সৌদি আরবের অনেক তরুণীর অনুপ্রেরণার উৎস। তাদেরই একজন ১৭ বছর বয়সী আরওয়া নিয়াজি।

সৌদি আরবের কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিয়াজি আরব নিউজকে বলেন, ‘ছেলেবেলায় উড়োজাহাজে ওঠার পর প্রতিবার পাইলটের কেবিনে উঁকি দেয়ার চেষ্টা করতাম।

‘একবার এক জাদুঘরে পাইলটের কেবিনে ঢুকেছিলাম। সেদিনই বুঝতে পারি, পাইলট হওয়াই আমার জীবনের লক্ষ্য।’

পুরুষ সহকর্মীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এখন ফ্লাইট ক্রু হিসেবেও কাজ করছেন সৌদি নারীরা। ওই কাজ তাদের আগে নিষেধ ছিল।

দুই বছর আগে সৌদিয়া এয়ারলাইনসে যোগ দেন ফ্লাইট ক্রু আনহার তাশকান্দি।

তিনি বলেন, ‘যাত্রীদের স্বস্তি দেয়া ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ আমরা শেষ করেছি। এই চাকরি আমাকে বিভিন্ন দেশ দেখার সুযোগ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে অনেক সংস্কৃতিরও স্বাদ পাচ্ছি আমরা।’

ফ্লাইট ক্রু হিসেবে গর্ববোধ করা আশওয়াক নাসির বলেন, ‘আমার ফ্লাইট ক্রু হওয়ার স্বপ্নে বাবা-মা যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই।

‘পাশাপাশি এখানে কাজ করার সুযোগ দেয়ার জন্য সৌদিয়া এয়ারলাইনসের কাছেও কৃতজ্ঞ।’

নাসিরের সহকর্মী রেহাম বাহমিশান বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে খুব অবাক হতাম উড়োজাহাজে কোনো নারী ফ্লাইট ক্রু না দেখে।

‘পরে যখন দেখলাম সৌদিয়া এয়ারলাইনস এ পদে নারীদের কাছ থেকে আবেদনপত্র নিচ্ছে, তখন প্রচণ্ড খুশি হই। দেরি না করে আবেদন করে ফেলি।’

আরও পড়ুন:
ইরাকে হাসপাতালে আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪
হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে আগুন, অর্ধশতাধিক মৃত্যু
ইরাক-সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ওপর দফায় দফায় হামলা
বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কাছে ড্রোন ভূপাতিত
ইরাকে শরণার্থী শিবিরে তুরস্কের বিমান হামলা, নিহত ৩

শেয়ার করুন

কাকাবাবুর জন্মদিনে আত্মজিজ্ঞাসার পরামর্শ বিমান বসুর

কাকাবাবুর জন্মদিনে আত্মজিজ্ঞাসার পরামর্শ বিমান বসুর

ভারতের কম্যুনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত প্রয়াত কমরেড মুজাফফর আহমেদের ভবনে তার ভাস্কর্যে লাল সালাম জানাচ্ছেন সাবেক রাজ্য সম্পাদক বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা বিমান বসু। ছবি: সংগৃহীত

সপ্তাহ খানেক আগে প্রয়াত সিপিএম নেতা অনিল বিশ্বাসের কন্যা অজন্তা বিশ্বাস তৃণমূলের মুখপত্র দৈনিক জাগো বাংলায় উত্তর সম্পাদকীয়তে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করে দলকে বিড়ম্বনায় ফেলে দিয়েছেন। অজন্তা বিশ্বাসের লেখার পর বিমান বসুর এই লেখা, স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠতেই পারে, যারা পার্টির লাইনের বাইরে গিয়ে কথা বলছেন, প্রচার করছেন সেইসব অজান্তাদের উদ্দেশে বর্ষীয়ান সিপিএম নেতার এই পরামর্শ কিনা।

ভারতের কম্যুনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত প্রয়াত কমরেড মুজাফফর আহমেদের (কাকাবাবু) ১৩৩তম জন্মদিনে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীদল সিপিএমের দৈনিক মুখপত্র গণশক্তির উত্তর সম্পাদকীয়তে সহকর্মীদের আত্মজিজ্ঞাসার পরামর্শ দিয়েছেন দলের সাবেক রাজ্য সম্পাদক ও বর্ষীয়ান নেতা বিমান বসু।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএমের আসন শূন্য হয়ে যাওয়ার পর তা নিয়ে দলের ভিতরে-বাইরে জোর কাটাছেঁড়া, তর্ক বিতর্ক চলছে। এ নিয়ে দলের অনেক নেতাকর্মী দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন।

সপ্তাহ খানেক আগে প্রয়াত সিপিএম নেতা অনিল বিশ্বাসের কন্যা অজন্তা বিশ্বাস তৃণমূলের মুখপত্র দৈনিক জাগো বাংলায় উত্তর সম্পাদকীয়তে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করে দলকে বিড়ম্বনায় ফেলে দিয়েছেন।

আর এই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার প্রয়াত সিপিএম নেতা মুজাফফর আহমেদের জন্মদিনে দলের প্রতি তার অবদানের কথা স্মরণ করে বিমান বসু লেখেন, ‘আমরা যারা এখন ভারতের মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছি, আমিসহ তাদের সবাইকে জিজ্ঞাসা করা প্রয়োজন যে, আমরা দলের জন্য কত সময় ব্যয় করি?’

কাকাবাবুদের সময় নেতাকর্মীদের ধ্যান-জ্ঞান ছিল কি করে দল জনসাধারণের সমস্যার সমাধান করতে পারে। একাজে কত ভালোভাবে নিজেকে যুক্ত রাখা যায়। জনসাধারণের মধ্যে দলের বিস্তার ঘটাতে, পার্টি পরিচালিত বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিদিনের কার্যকলাপ পরিচালনা করতে, যা যা করা উচিত তা কি আমরা ঠিকঠাক মতো করতে না পারলে তার জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করি? কাকাবাবুরা তা করতেন।’

বিমান বসু লিখেছেন, ‘আজ আমাদের স্মরণ করতে হবে যে কাকাবাবুরা তৎকালীন সময়ে শোষিত বঞ্চিত মানুষের শোষণ মুক্তির লড়াই করার জন্য যে সংগঠিত প্রয়াস অব্যাহত রেখেছিলেন তার ফলশ্রুতিতে বিশের দশক ও তিরিশের দশকে অসংখ্য ছোট ছোট লড়াই সংগ্রামের পথ বেয়ে বড় লড়াইয়ের ভিত্তি গড়ে উঠেছে।

আমরা যেন ভুলে না যাই, আজকেও স্থানীয় ভিত্তিতে ছোট ছোট লড়াই সফলভাবে সংগঠিত করার ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে ভবিষ্যতে বড় লড়াই সংগঠিত করার দামামা বেজে উঠবে।

কমরেড মুজাফফর আহমেদ ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় সফল বলশেভিক বিপ্লবের বার্তা পাওয়ার পর থেকে আমাদের দেশে (বর্তমান ভারতে) শ্রমিক কৃষকদের সংগঠিত করা এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে পরিকল্পিতভাবে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি যুক্ত থাকার ফলশ্রুতিতে ইংরেজ পুলিশরা তার ওপর নজরদারি চালাতে থাকে। তাই তাকে অনেক সময় পুলিশের নজর এড়িয়ে আত্মগোপনে থেকেও আন্দোলন-সংগ্রাম ও সংগঠনের কাজ পরিচালনা করতে হয়েছে।

একবার আত্মগোপনে থাকার সময়েই তার পরিচয় গোপন করার উদ্দেশে তাকে সবাই কাকাবাবু নামে সম্বোধন করা শুরু করেন। আর এই থেকে কমরেড মুজাফফর আহমেদ সবার কাছে কাকাবাবু হয়ে ওঠেন।’

ভারতের কম্যুনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত প্রয়াত কমরেড মুজাফফর আহমেদের ১৩৩তম জন্মদিনে তারই সতীর্থ কমরেড বিমান বসুর এই উত্তর সম্পাদকীয়র সপ্তাহ খানেক আগে, তারই দলের আরেক সদস্য প্রয়াত অনিল বিশ্বাসের কন্যা অজন্তা বিশ্বাস তৃণমূলের দৈনিক মুখপত্র জাগো বাংলায় উত্তর সম্পাদকীয় লিখে দলকে বিড়ম্বনায় ফেলেছেন। ওই লেখায় দলের সময়োপযোগী না হয়ে উঠতে পারার ব্যর্থতা, রাজ্যের বিধানসভায় সিপিএমের আসন শূন্য হয়ে যাওয়া থেকে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয় গান পর্যন্ত করা হয়েছে।

অজন্তা বিশ্বাসের লেখার পর বিমান বসুর এই লেখা, স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠতেই পারে, যারা পার্টির লাইনের বাইরে গিয়ে কথা বলছেন, প্রচার করছেন সেইসব অজান্তাদের উদ্দেশ্যে বিমানের এই পরামর্শ কিনা।

আরও পড়ুন:
ইরাকে হাসপাতালে আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪
হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে আগুন, অর্ধশতাধিক মৃত্যু
ইরাক-সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ওপর দফায় দফায় হামলা
বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কাছে ড্রোন ভূপাতিত
ইরাকে শরণার্থী শিবিরে তুরস্কের বিমান হামলা, নিহত ৩

শেয়ার করুন

লোকসভার নিরাপত্তা কর্মীকে নিগ্রহের অভিযোগ তৃণমূল সাংসদদের বিরুদ্ধে

লোকসভার নিরাপত্তা কর্মীকে নিগ্রহের অভিযোগ তৃণমূল সাংসদদের বিরুদ্ধে

ভারতের সংসদ। ফাইল ছবি

রাজ্যসভার কাচের দরজা ভেঙে আহত হওয়ার ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ জানিয়ে লোকসভার সচিবকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নারী নিরাপত্তাকর্মী চন্দ্রকলা। এ ঘটনায় অল্পবিস্তর জখম হয়েছেন সাংসদ অর্পিতা ঘোষও।

রাজ্যসভা থেকে সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল সাংসদদের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহার এবং শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগ এনেছেন লোকসভার নারী নিরাপত্তাকর্মী চন্দ্রকলা।

রাজ্যসভার কাচের দরজা ভেঙে আহত হওয়ার ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ জানিয়ে লোকসভার সচিবকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় অল্পবিস্তর জখম হয়েছেন সাংসদ অর্পিতা ঘোষও।

সব মিলিয়ে বুধবার রাজ্যসভায় তৃণমূল সাংসদদের বরখাস্ত হওয়ার ঘটনার রেশ তো কাটলই না, বরং নতুন মাত্রা পেল।

তৃণমূল অবশ্য বুধবার থেকেই অন্য দাবি জানিয়ে আসছে। বৃহস্পতিবার সময় ধরে ধরে ওই দিনের ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন।

টুইটারে একটি ভিডিও তুলে দিয়ে ডেরেক লিখেছেন, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পেগাসাস কাণ্ডে আলোচনা করতে রাজি হয়নি সরকার। এরপর ৩০ জন বিরোধী সাংসদ ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। সকাল ১১টা ১৩ মিনিটের দিকে প্ল্যাকার্ড হাতে থাকার কারণে বরখাস্ত করা হয় ছয় সাংসদকে।

দুপুর ৩টা ৩৫ মিনিটের দিকে সেদিনের মতো স্থগিত হওয়ার পরই তিন তৃণমূল সাংসদকে সংসদ কক্ষে ঢুকতে বাধা দেন একজন পুরুষ মার্শাল। গোটা ঘটনা তুলে ধরে ডেরেকের প্রশ্ন, ‘এটা কী গণতন্ত্র চলছে?’

তৃণমূলের যুক্তি, সদনের মধ্যে রাজ্যসভায় সাংসদ দোলা সেনের ব্যাগ রয়ে গিয়েছিল। তিনি সেটি আনতে যেতে চাইলেও তাকে আনতে দেয়া হচ্ছিল না। অথচ অধিবেশন শেষ হয়ে গিয়েছিল সেদিনের মতো অর্থাৎ সাসপেনশান উঠেও গিয়েছিল।

পরে ডেরেক ও ব্রায়েন নিয়ম দেখিয়ে সুর চড়াতেই সুর নরম করে সরকার পক্ষ। ঘটনা পরম্পরা বলছে একদিনে পেগাসাস নিয়ে যেমন বিরোধী-সরকার দ্বন্দ্ব চরমে, তখন নিরাপত্তার প্রশ্নটি নতুন মাত্রা নিতে পারে।

তৃণমূল ছেড়ে কথা বলবে না। দেখার বিষয় সরকার কী অবস্থান নেয়। একটি সূত্রের খবর, চারদিক থেকে কোণঠাসা সরকার চাইছে যত দ্রুত সম্ভব লোকসভা অধিবেশন শেষ করতে।

আরও পড়ুন:
ইরাকে হাসপাতালে আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪
হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে আগুন, অর্ধশতাধিক মৃত্যু
ইরাক-সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ওপর দফায় দফায় হামলা
বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কাছে ড্রোন ভূপাতিত
ইরাকে শরণার্থী শিবিরে তুরস্কের বিমান হামলা, নিহত ৩

শেয়ার করুন