কলকাতা ও লখনৌতে আটক ৫ ‘জঙ্গি’

কলকাতা ও লখনৌতে আটক ৫ ‘জঙ্গি’

রোববার উত্তরপ্রদেশে পুলিশের অ্যান্টি টেরোরিস্ট স্কোয়ার্ডের (এটিএস) হাতে ধরা পড়ে দুই আল-কায়দা জঙ্গি। ছবি: সংগৃহীত

কলকাতা পুলিশের এসটিএফ সূত্রের খবরে জানা গেছে জেএমবি-র তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের অ্যান্টি টেরোরিস্ট স্কোয়ার্ডের হাতে ধরা পড়ে দুই আল-কায়দা জঙ্গি। আটকদের কাছ থেকে জেহাদি বই, রহস্যজনক ডায়েরি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সন্ত্রাসীরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশি। সোমবার আদালতে তোলা হবে তাদের।

ভারতের কলকাতা ও লখনৌতে একইসঙ্গে ধরা পড়েছে দুটি আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের পাঁচ সদস্য।

শনিবার রাতে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে জঙ্গিগোষ্ঠী জেএমবির একাধিক সদস্যকে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সন্ত্রাসীরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশি।

এদিকে, কলকাতা পুলিশের জালে যখন জেএমবি জঙ্গি, তখনই লখনৌতে বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল করেছে উত্তর প্রদেশ পুলিশ।

রোববার ছুটির দিনে শহরে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের অ্যান্টি টেরোরিস্ট স্কোয়ার্ডের (এটিএস) হাতে ধরা পড়ে দুই আল-কায়দা জঙ্গি। শহর সংলগ্ন কাকরিতে দুই সন্দেহভাজন জঙ্গি ঘাপটি মেরে আছে। স্থানীয় সূত্রে এই খবর পেয়েই এদিন সকালে অভিযান চালায় অ্যান্টি টেরোরিস্ট স্কোয়াড। আইপিএস এবং উত্তরপ্রদেশ পুলিশের আইজি জিকে গোস্বামী এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন। তাতেই এসেছে সাফল্য।

এদিকে, কলকাতা পুলিশের এসটিএফ সূত্রে খবরে জানা গেছে জেএমবি-র তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা প্রত্যেকেই ওই নিষিদ্ধ সংগঠনের বড় মাথা। তারা কীভাবে সীমান্ত পেরিয়ে শহরে ঢুকল? কী উদ্দেশে কলকাতায় ঘাঁটি গেড়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

জেএমবির এই মডিউলের সঙ্গে আল-কায়দার যোগাযোগ রয়েছে কিনা। সেটাও খতিয়ে দেখা হবে। আটকদের কাছ থেকে জেহাদি বই, রহস্যজনক ডায়েরি উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার আদালতে তোলা হবে তাদের।

স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফ সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ কলকাতার বেহালায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকছিলেন তিন যুবক। প্রায় এক বছর ধরে ওই বাড়িতে ভাড়া থাকছিলেন তারা। নিজেদের নাম পরিবর্তন করে ভারতীয় নাগরিক হিসাবে পরিচয়ও দেয়। এরই মধ্যে পুলিশ জানতে পারে তিন জেএমবি জঙ্গি শহরে পরিচয় আড়াল করে লুকিয়ে রয়েছে। এর পর শুরু হয় তল্লাশি। সেই সূত্র ধরেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিন যুবককে জেরা করে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে তদন্তকারীরা। আটকরা যে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করত, সেখানে জেহাদি তথ্য লেখা রয়েছে। একইসঙ্গে উদ্ধার হওয়া ডায়েরিতে রয়েছে জেএমবি নেতাদের নাম ও ফোন নম্বর। এমনকী ফেসবুক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আইএসআইএস (আইসিস)-এর সঙ্গেও এই যুবকরা যোগাযোগ রাখত বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

জেএমবি জঙ্গিগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরির পাঁয়তারা করছে। ৭ বছর আগে খাগড়াগড়ের ঘটনা তারই নিদর্শন।

বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা মালদহ ও মুর্শিদাবাদের বেশ কয়েকটি জায়গা থেকে এই জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের গ্রেপ্তার করেছে এসটিএফ।

পরপর একাধিক গ্রেপ্তারির জেরে পুলিশ কর্তাদের অনুমান, এই রাজ্যে বেশ সক্রিয় জেএমবি। তবে এদিন কলকাতা থেকে আটক জেএমবির নব্য না আদি গোষ্ঠীর সদস্য, তা এখনও পরিষ্কার নয়।

অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ সূত্রে খবরে জানান গেছে একসপ্তাহ ধরেই ওই দুই জঙ্গির খোঁজ চলছিল। তাদের আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে দু’টি প্রেসার কুকার বোমা, একটি ডেটোনেটর, ৬-৭ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা সিল করে কোথাও বিস্ফোরক পোঁতা কিনা, খতিয়ে দেখেছে বোম্ব স্কোয়ার্ড।

পুলিশের অনুমান, লখনৌ শহরে বড়সড় হামলার ছক ছিল জঙ্গিদের। এটিএস সূত্রে খবর, এক বিজেপি সাংসদ এবং লখনউয়ের কয়েকজন বিজেপি নেতার উপর হামলার পরিকল্পনা ছিল ওই দুই আলকায়দা জঙ্গির।

কাকোরি এলাকার একটি লেন পুরোপুলি সিল করে দেওয়া হয়েছে। কাউকেই সেখানে ঢুকে দেওয়া হচ্ছে না। লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের বাড়ির আশপাশের সমস্ত বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের সুরক্ষিত জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অভিযান এখনও চলছে, তবে তা নিয়ে এখনও কোনও তথ্য দেয়নি পুলিশ।

জানা গিয়েছে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে নির্দেশ দিয়ে এখানে বিস্ফোরণ ঘটানোর ছক কষা হয়েছে। রাজ্য-সহ লখনৌতে আরও কোনও জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে কিনা, খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
আস্তানায় বোমার বিপুল সরঞ্জাম, ‘সেকেন্ড অ্যাটাকের’ হুমকি
‌এক ‘জঙ্গি আস্তানা’য় অভিযান শেষ আরেকটির সন্ধান
‘জঙ্গি আস্তানা’য় ঢুকল সোয়াত টিম
জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে বাড়ি ঘিরে পুলিশ
‘জঙ্গি’ মনির খান ফের রিমান্ডে

শেয়ার করুন

মন্তব্য